somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুদ্দুসের বাপের মিয়া ভাইরে বাজারে উঠন নিষিদ্ধ করছে বাজার কমিটি | পুরোনো জামা আর খুচরা পয়সার জন্য চরম উৎকন্ঠা | জলশূন্য হাজারো নয়ন

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৩:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কুদ্দুসের বাপ... সকাল থেইক্যা কইতাছি বাপের বাড়ি যামু , তোমার তাতে কোন খেয়ালই নাই। আইজ না গেলেতো সুমিরে পাওন যাইবো না। বইনটারে কতোদিন দেখি না। ... কথা শুইনা কুদ্দুসের বাপ মহা ক্ষ্যাপা। এই ব্যস্ততার মইধ্যে তোমার বাপের বাড়ি বাপের বাড়ি শুনতে ভালা লাগে না। পাড়ার মিয়া ভাইরে বাজারে উঠন নিষিদ্ধ করছে। বাজারের লন্ড্রীতে রাখা তার জামা কাপড়, ছোটইন্নার দোকানে জমা রাখা খুচরা পয়সা- সব জব্দ করেছে। এই দু:সময়ে যদি তার পাশে না থাকি, তাইলে আমার দুর্দিনেও সে পাশে থাকবো না। আফটার অল আমরা একই গ্র“পের।

: ক্যান, তোমরা না আরেকটা বাজার বানাইছো। ওইখানেতো তোমরাই কমিটি তোমরাই সব। নিজের বাজার ছাইড়া ওই বাজারে যাও কেন? খালি গ্যাঞ্জাম করো। ওই দিন কইলা সংসারে নাকি হিট কইমা যাইতাছে। আবার মেজো পোলারে কইলা টিভি রুমে ব্যান। কথার আগাগোড়া কিছ্ছু বুঝি না। ওসব বাজারী ভাষা ঘরে আর কইও না। কোথাকার কোন মিয়া ভাইরে বাজারে নিষিদ্ধ করলে তোমার কি? তিন তিনবার চাক্রি হারানোর পরও আক্কেল হয় নাই।

: শুনো বৌ, ক্যারিয়ার বইলা কথা। তা ছাড়া এ গেরামে আমরাই প্রথম গ্র“প বানাই। আমরাতো ইতিহাসের পাতায় থাকমু। ইতিহাসের কাছে একটা দায়বদ্ধতা আছে না। তুমিতো লাটভাই’রে চেনোই না। খুবই দিলখোশ পাবলিক। জটিল এক নেতা আমাগো লাটভাই। গ্র“প বানানোর সময় গেরামের ম্যালা মেধাবী পোলারে দলে ভিঁড়াইছেন। ঠিক কইরা দিছেন কে মসজিদের টয়লেট সাফ করবো, কে উঁচানিচা রাস্তায় মাটি দিবো আর কে রাইতে চোর পাহারা দিবো। আবার কে কারোরে ন্যাংটা করার সময় সবাই এক হইবো। তখন আবার গেরামে বাইজ্জা বেজগন্নিগো উৎপীড়ন। সুগোটা কামে লাগাইতে ভুলি নাই। সভাপতি সেক্রেটারি মিইল্যা একটা কমিটিও কর্চেন। পোলাপানতো পদ পাইয়া যে খুশি। শুনো... তোমরা মাইয়াগো মাথায় ঘিলু নাই। লাটভাইয়ের মতো কোন মাইয়া যদি তোমাগো কমিউনিটিতে থাকতো, তাইলে তারে তোমরা বেণীতে বাইন্ধা রাখতা।

: ক্যাঁচাল থামাও। তুমি না গেলে আমিই যাইতাছি। তুমি তোমার হিট বাড়ানোর তালে থাকো, আর মিয়া ভাইরে সেফ করো।

: ধুর! সেফ নিয়াতো ভাবি না। পুরাণ জামা আর খুচরা পয়সাগুলাও কোন ব্যাপার না। এগুলা কপি করা আছে। আমাদের যে বিশাল গোলাঘর। এইটা হইলো একটা চান্স। এই চান্সে আমাগো বাজারে আরো কয়টা দোকানদার আর খরিদ্দার বাড়াইতে হবে।

: এটা ছাড়া আর কোন বুদ্ধি নাই? তোমরা বিভিন্ন প্যাকেজ ছাড়ো। যেমন বন্ধু নিয়া বাজারে গেলে একটা ছাগল ফ্রি। বা সহ-পরিবারে গেলে একটা গাধা ফ্রি। বান্ধবীরে নিয়া গেলে পুচকা দোকানে ৩ বছরের জন্য টক আর ঝাল ফ্রি। তাইলেই দেখবা বাজার গরম হইয়া গেছে।

: তোমার মাথায় যে হিট কম তা আমি জানি। সা¤প্রতিক ভাবনার লিস্টেতো বাপের বাড়ি ছাড়া আর কিচ্ছু নাই। আমাদের বাজারে বর্ষাকালে পানি উঠে যায়। ক্যান জানি মাছি ভনভন করে। মানুষজন যাইতে চায় না। পুরান বাজারটার বুক থেইকা যদি মাটি কিছু সরানো যায়, তাইলে তাগো বাজারেও পানি উঠবো। এসব ধান্ধা যদি তুমি বুঝতা, তাইলে আর আমারে বিয়া করতা না।

: দলাদলিতে যারা নাই, তারা কি তোমাগোরে চড় থাপ্পর কিছু দেয় না? তুমিতো একটা মাতব্বরের চাইতেও খারাপ। দাড়াও তোমার বাজারে যাওনের খায়েশ আমি মিটাইতাছি।

: দেখো বৌ ক্যারিয়ারটা নষ্ট কইরা দিও না। সেক্রেটারি হওনের একটা চান্স আছে। আরো হিটের দর্কার। বহু আগেই ব্যান বা হিটের মতো বিষয়গুলারে একটা স্ট্যান্ডার্ডে নিয়া গেছি। বাজারে উঠলেই মাইনষের অনুভূতি নাইচা নাইচা উঠে। সেটারে কামে লাগাই। আমারওতো ইচ্ছা আছে একটা বাজারের মালিক হওয়া। তুমি কি চাওনা তোমার জামাই বিখ্যাত কেউ হোক?

... ডাইনে তাকাইয়া দেখে কুদ্দুসের মা আর নাই। হতাশ হয় নাই। কিন্তু বৌয়ের লগে বাজার নিয়া কথা কইতে আরাম পায়। না, ম্যালা কাম বাকি। সাধারণ পাবলিকরে বুঝাইতে হইবো মিয়া ভাই’র জমজমের পানিতে ধোয়া জামাগুলান গেরামের ম্যালা কামে আইবো। এই জামা উদ্ধার করন লাগবো। জামা ফিরাইয়া দিলেই কারবার শ্যাষ। অত্যাচারে জর্জরিত হওয়ার আর কোন ইচ্ছা নাই। এই বাজারের পেশাব খোলায়ও আর কোনদিন পেশাব করুম না। দরকার হইলে কাপড় ভিজাইয়া ফেলুম।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১২ দুপুর ১২:৫০
২৯টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×