somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তগদ্য :: আমি জোনাক রোডের পাশের গ্রামে থাকি

২৬ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামনে পেছনে জোনাক জ্বালিয়ে চলা গাড়িসহ ওই রাস্তার পাশের ধানের খেতের আইল চষে দৌড়াতে থাকা যুবককে হঠাৎ দাঁড় করিয়ে বলেছিলাম- না’গো, এদিকে এখন আর অষ্টাদশের কুঁচি মেলানো শাড়ি পরা নায়িকারা আসে না, আপনি ডান পাশের শ্বেতপথ ধরে নেমে যান জলাশয়ের ঢালে; একটু এগুলেই নিরন্তর জ্বলতে থাকা মাঝ রাতের চাঁদের ছায়া পাবেন সামান্য জিরিয়ে নেয়ার জন্য... আপনি সুখী হবেন। দরজা বন্ধ কারাগারের খোলা জানালার ভেতরে বন্দী আমি তখনো চিৎকার করছিলাম আর যুবকটি হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছিলো একটু একটু করে ওই জলাশয়ের কিণারে, যেখান থেকে উড়েছিলো এ গ্রামের সম্ভাবনাময়ী কিছু বালিকার পায়ের নুপুর এবং নুপুরের নেশানীল জোছনার যৌবন পুরো আকাশে আকাশে। এখন একদল বালিকা শরীর থেকে কামপুরুষের প্রেমদৃষ্টি খুল খুলে রাখছে আর অন্য একদল বালিকা আগেই খুলে রাখা পায়ের নুপুরে আগুন লাগিয়ে পাশে পছন্দসই গল্পের পুস্তক আর গত শরতের বিখ্যাত সব স্থিরচিত্র মেলে রেখে শীত পোহাচ্ছে একশ একটি স্ত্রী মাড়কসার সাথে; তাদের মনে কুয়াশা নেই এবং আংগুলের ডগায় অভিমান নেই, বরং একই সাথে জাল ও সংসার বুনতে পারে বলে শরীর বেয়ে সুখ ছড়িয়ে পড়ছে জোনাক রোডের দু’ধারে। জোনাকরা এমনই ধারালো সুরে শব্দ করে, যেন আলোয় গলে গলে লোহারঙা শক্তকাঠিগুলো জানালা থেকে সরে শীতপোহানো বালিকাদের দেশে চলে যাবে, তারপর সুখে শান্তিতে বসবাসের কোন এক নিশ্চুপ অমাবশ্যায় ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাওয়া যুবকের জন্য ব্যাথা অনুভব করবে আর আমাকে অভিশাপ দেবে দু’হাত মাটিতে গেঁড়ে চোখ বন্ধ করে জোনাকের সুরে সুরে। অথচ শেষ নেই এই কারাগারের! শেষ নেই শারিরীক অন্ধকারের রাগ ক্ষোভের মিশ্রণে তৈরি সাদামাটা সকালের প্রথম দোয়েলের নাচের দূরত্বে আমার উদাস চাহনির অহেতুক পরিশ্রম; যার পরই ঘুমিয়ে পড়ি সামান্য সামান্য করে দোয়েলের পায়ের দাগে পরবর্তী নৃত্যের আনন্দসহ কারাগারময় নি:সঙ্গতায়।

যদি এ যুবকই আবার ফিরে আসে অপ্রাপ্তির খেরোখাতায় আমার নামের অংশে লালমার্ক সহ এক অপরিচিত অথচ সুন্দর অন্যকোন সময়ে জোছনার ফাঁকগলা ফর্সা পথের মাঝখানে বাকিসব পথিককে পেছনে ফেলে কেবল আমার জন্যই অকথ্য সব কবিতার অত্যাচারে পুড়ে যাওয়া তার একাধিক নি:শ্বাস সহ!
যদি সে প্রশ্ন তোলে- হে জানালাপাশী, কি নাম তোমার?
ওড়নায় কামড়ের তুফান তুলে রাক্ষুসী এক চাহনি এনে বলবো- পারু গো... ছোট্ট নাম আমার।
তারপর যদি প্রশ্ন তোলে জানালার পাশে কি বেশি সুখ?
– এ যুবক সুখ চেনে...! এমন আনন্দে আমার হা হা হা হাসির শব্দ শুয়ে থাকা জলাশয় পেরিয়ে প্রেমগামী যুবককে পাশ কাটিয়ে অন্যান্য যত্তোসব কাশ কেয়া ছুঁয়ে ছুঁয়ে মাথাভাঙা মন্দির ছাড়িয়ে মূর্ছা খাবে সাধু পুকুরের চার পাড়ে; যেখানে ক’দিন আগেও জারজ শিশুদের উৎসবে বাউল গানের আসর জমতো আর অর্বাচীন পথিকেরা জলে ডুব দিয়ে ফিরে না আসলে আমরা পাখি বলে গুনে নিতাম মানুষের শুমারীতে। হয়তো তারা এ যুবককে চেনে না বা চিনেও অস্বীকার করবে ঠিক ধরতে না পারা কোন ভয় থেকে; কারণ আগেও জোছনাক্রান্ত বড়পাখির শরীরে ভয় পেয়ে মোটাগাছের ছায়ার অমাবশ্যায় লুকিয়ে যেতে আরাম পেতো এবং চোখ বন্ধ করে শয্যা সংগীর পাশে গিয়ে শুয়ে পড়তো অন্ধকার ভালোবেসে- তারা একে অপরকে ভালোবাসতো বলেই পাশাপাশি শুয়ে থাকতো এবং পূর্ণিমা খুঁজে পেতো এবং মিথ্যাচার করতো।

এখনও আমি জানালার পাশে স্থির। আর যুবকটি ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে জলাশয়ের পাশে ধান উঠে যাওয়া প্রাচীন চরের মতো হাহাকারের উৎসবে; যার বুক ভরে চিৎকার করে হাসে আমার ঘরের কোণ থেকে পালিয়ে যাওয়া এক জোড়া কবুতর, ওরা আবারও চৌচির ফাঁকে খুঁজতে থাকে সম্ভাবনার ধান অথবা শান্তনার পরিচ্ছন্ন বৃষ্টি ভেজা জোনাকের সংসার। আসার পথে ঝনঝন বেজে ওঠবে জামিনপ্রাপ্ত বালিকার নুপুর এবং পুনরায় মানুষ হওয়া পাখিদের গল্পগুজব। আজ একটি গাড়িতেও কোন লাশ যাবে না এবং কোন প্রসবমুখী নারী যাবে না অথবা স্ত্রীগামী পুরুষ যাবে না। জোনাকরোডে হাসতে হাসতে দুলতে দুলতে স্বপ্নবান মানুষেরা বকেয়া গল্প আদায় করবে আর কেবল ওই যুবকটিই ফিরে আসবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০১২ রাত ১:৫৪
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×