somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... আড়াল বিষয়ক এলার্জি মরা ঘাসের উপর লেপ্টে রইলো ফিগার সর্বস্ব পৌরষ।
ঝোপের আড়ালের আন্ধারে মোটেও স্বচ্ছতা ছিলো না-
এখনো যুবকের বুকের চিনচিনে ব্যাথায় যুবতির অস্তিত্ব!

অবিশ্বাস্যভাবে রেস্তরার রঙচটা বেঞ্চিতে সততা ছিলো না,
ছিলো না - লাল ফিতে অথবা সংগীত নির্ভর বহুগামী যন্ত্রগুলোয়-
আমরা মূহর্মূহ করতালিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
সম্বল ছিলো পেলব যৌনাঙ্গের সুড়সুড়িতে, যেখানে
মাঘের মতো আরাম নেমে আসে অদৃশ্য স্পর্শে
মুঠোফোনের বিরক্তি নেমে আসে রাত্রিবিলাসী আত্মার বক্ষে।
এখনো যুবতির সিক্ত হওয়ায় পৌরষের ফসিল!

জৈবজ লালা, রস ইত্যাদিতে উর্বরতা ফিরে পায় ঘাসমূল,
আবারো লুটিয়ে পড়ে পৌরষ... ধারাবাহিক সুখ নামে বহুমূখী পতনে!

২১.১১.০৮
দুপুর ০২.২২ মি.

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28872109 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28872109 2008-11-21 14:26:21
অসতী ফাগুন কিংবা নগ্ন শীত স্থবিরতা আসে নষ্ট মানুষদের মস্তিষ্ক বিক্রিয়ায়-
প্রতুল সৃষ্টি শব্দের কামার্ত সুড়সুড়ি...।
অথচ জীবনবোধের চিরাচরিত গাম্ভীর্যতায়
শব্দগুলো আফসোস বনে যায়!
বখে যাওয়া মস্তিষ্করা তখনো সুগন্ধি এড়িয়ে চলে।

এগিয়ে থাকা নষ্ট মগজে সভ্যতার ক্ষত শুকায়-
সেখানেই সুনসান পবিত্রতায় পিঠের কোথাও
স্ট্যাম্প ভায়োলেন্স জ্বলে উঠে না,
যদিও সমস্ত ফর্সা চেহারাগুলো বাধ্য জ্বলনে অভ্যস্ত!
তকমাগুলো প্রেয়সীর ডানগালের তিল চিহ্নের মতো-
একান্তই নিজস্ব পুরো গাল। পুরো গাল!
সারিবদ্ধ সাধারন দেহগুলো ছায়ার পরিবর্তন দেখে।

তোমাদের সোনার মেডেলগুলো ফর্সা মিউজিয়ামে স্থান নেয়, আর
কতগুলো নষ্ট মস্তিষ্ক বুঁদ হয়ে থাকে সৃষ্টির শব্দে।

১৯.১১.০৮
রাত ১১.৪৫ মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28871418 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28871418 2008-11-19 23:49:18
ঘুরে ফিরে ভালোবাসার কথা বলি একটি টেবিল, টেবিলের কাটা পেট, প্রচুর দিয়াশলাই, গুটানো কাগজের ফুল
ছাইদানির ঠাঁসা মগজ, পকেটভর্তি কাব্য, মানিব্যাগে ভাঁজ করা সুখ... ইত্যাদি
আমাকে প্রেম দিতো শেষরাত পর্যন্ত
খিলখিল করে হেসে উঠতো নিরানন্দ জ্যোৎস্নার শরীর, সুখ ছিলো-
জিহ্বার ডগায় চকলেটের স্বাদে খসে পড়া মেঘরস...।
কুয়াশায় জমে থাকা বিষাদগুলো একটি গর্ভবতী আষাঢ়ের আশায়
চৈত্রের আগুনে চুমু খেতো গভীর মনযোগে-
ধুয়ে দেয়ার কথা ছিলো বিচ্ছিরি সব ভালোবাসা।

"আমরা", "আমাদের" শব্দগুলো মরে যেতে শিখেছে
পরিত্যক্ত প্রেমজ ফসিলের রুগ্ন কাঁঠিগুলোয়
পিঁপড়েরাও বিশ্রাম নিতে ভুলে গেছে।

দোল খাওয়া সবুজের আইলে
অহংকারী বালিকার মতো কালো সড়কে
লাইন বেঁধে প্রেমসত্ত্বার আসা যাওয়া-
কোথায় যেন শেষকৃত্যের আয়োজন।

আমি নিয়মিত সূর্যাস্ত দেখতে ভালোবাসি।

১৭.১১.০৮
রাত ১.২৪ মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28870003 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28870003 2008-11-17 01:26:31
কসম লাগে নজর ঘুরিয়ে নে...!!! অলিম্পিয়াস মশালের মধ্য লালাংকন দৃষ্টি জুড়ে,
একটি আস্ত বিকেল খালি খালি পুড়ে ছাই!
আমি নীরিহ মধ্যবিত্ত নাগরিক, অসীম চাহিদা-
অল্পতে পোষায় না।
আত্মা চিবিয়ে খেলেও তিয়াসের জল ঘোলা হয় না!
পুরো দৃষ্টিতে তোর রাতপুরুষের ঘামের গন্ধ-
কামের বেদম নৃত্য তোর নেইল পলিশের গায়ে-
রিমুভার ভায়োলেন্স কাঁধে নেতিয়ে পড়া তুলোর আঁশে।

কসম লাগে তোর নজর ঘুরিয়ে নে-
প্রেম পাই না খুঁজে, তোর চোখে স্বপ্ন ভাসে সেলুলয়েডে-
শিনা টানটান লোমশ বুকের মতো তাজা উপত্যাকা-
মাংসাশী মদনকুমারের দেহের কোথাও কোথাও ঘুম নামে।
মধ্যবিত্তের ঘুম নামে চাহিদার রাগচুম্বনে!
আমি চিরন্তন মধ্যবিত্ত বলে
লিপস্টিকের দাগ মুঠোফোনেই লেগে থাক-
জীবনের বর্ণিল খুচরো রোদের কার্পেট উপহাস মাত্র।

অতটা সুবিধে হবে না...
তোর স্বার্থপর সুখের উর্বরতায় দারিদ্রতা হাই তোলে-
মাংসাশী মদনকুমারের দেহের কোথাও কোথাও ঘুম নামে।
মধ্যবিত্তের ঘুম নামে চাহিদার রাগচুম্বনে!
আমি চিরন্তন মধ্যবিত্ত বলে
দৃষ্টি তোর চোখেই উঠিয়ে নে-
কসম লাগে তোর নজর ঘুরিয়ে নে।


১০.১১.০৮
সন্ধ্যে ০৭.৩০মি.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28867331 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28867331 2008-11-10 19:50:43
রাত বিষয়ক প্রথমা
তখনো ইরোটিকের ভার বইতে থাকে জড়পদার্থগুলো,
হয়তো নেশার আসর বসে আলো বিরহী দালানের ফাঁকে
চুনকাম চলে মুক্ত জীবনের ফসিলে-
তীক্ষ্ণ হতে শুরু করে খদ্দের দৃষ্টি।
লৌহখন্ডের বাসর প্রস্তুতির আগে পরে
রাতের শুরুটা কিসের যেন জানান দেয়!

লাইন বেঁধে মুখোশ পরে ঈশ্বরের রাতচর।

মধ্যমা
বাতিদন্ডের একাকীত্ব সপ্তমাসী গর্ভের মতো অ্যামবুস।
একই দৃশ্য স্থুল বারান্দায়, ইটগাঁথুনির উদাম বুকে,
স্নানঘরের আধখোলা জানালায়, দূরের রাজপথে জোনাকির চোখে-
এখানে সেখানে, অথবা দেহের কোথাও স্ট্যাচুর মতো সুপুরুষ হয়ে উঠে।
ঈশ্বরের রাতচর হাত বুলায় ক্ষধার্তের প্রেমাঞ্চলে।

মাখনের শরীরে কাম আসে খুনতৃপ্তির পূর্বাভাস।

বিজয়া
স্বাস্থ্যবতী শয্যালয়ে বহুমূখী পতনে গ্রহীতা পূর্ণতা লাভ করে।
একজীবন ক্লান্তি নিয়ে সুখের চলমান স্টোররুমের ধারাবাহিক হেরে যাওয়া
যুতসই হতে শুরু করে ঈশ্বরের বিজয়া সুরশব্দে।
ঈশ্বর নেমে আসে আমাদের উঠোনে...!
উচ্চকিত ধর্মবাণীর সাথে টেকে না নববধুর কামধোয়া জলপতনের শব্দ,
অথচ অবিশ্বাস্যভাবে সুখী হতে থাকে মৃনাল রক্ষীতা মাখনের টুকরোরা।

দূষিত হয় জলশরীর পরাজিত ঈশ্বরের কুলকুচিতে।

০৫.১১.০৮
রাত ১১.৪০মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28866569 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28866569 2008-11-09 02:06:27
একটি শব্দও ভালোবাসাকে এড়িয়ে নয় একাগ্রতা এসেছে খসে পড়া কেশগুচ্ছের বিলাপ শ্রবনে...।
সে ঢের আগের শুরু। যদিও সমস্ত আকাশে পর্যাপ্ত নীল ছিলো,
মেঘও ছিলো বৃষ্টি প্রসব করার মতো।
কবিগানের আসর বসেছিলো অবলার বাসরে,
সমস্ত সুখ সুড়সুড় করে নেমেছিলো মৃণাল সুড়ঙ্গে।
মূহুর্তে মূহুর্তে আমার ছুটে চলা নতুন প্রেম আসা ডাহুকের শরীরে,
মাছানঘরের টিকে থাকার সৌন্দর্যে, সুখ নিতে নিতে ক্লান্ত চোখে
ছিটিয়েছি তোমারই চুলধোয়া জল।
তারও অনেক পরে অবলার অসহ্য সুখের জলাশয়ে স্নান সেরে
আবার ছুটে যাই তোমার একেকটি হেয়ালী সময় কুড়িয়ে আনতে-
যেখানে মৌনতা সেখানেই ছুটে চলা। ঝেড়ে ফেলা, ছুড়ে ফেলা,
খসে পড়া ইত্যাদির আগে পরে আমি ছিলাম দেবতার মতো সত্য।
সাদৃশ্যতা ছিলো না এপথে আর ওপথে, অথচ আমি মাঝখানেই ছিলাম।
সে সময় তুমি কতিপয় নতুন শরীরের ঘাম সাঁতরাতে ব্যস্ত ছিলে !
সত্যি সেখানে সুখ ছিলো দন্তরোগীর মাড়ির সুখের সমার্থক।
আহ! উহ! শব্দগুলো জ্যোৎস্না এনেছিলো
তোমার শরীরের মতো লুটিয়ে পড়া বাগানের অন্ধকার কোনে,
যেখানে দৃষ্টি খোঁজে নিষিদ্ধ কিছু।
আজো আমি সিদ্ধ রই তোমার ডানে বাঁয়ে মাথা নাড়ানোর দৃশ্যে,
যেদিন আঁচল টেনেছিলো মাটির গালের মেছতার মতো পাপ।
তুলির গায়ে লেগেছিলো কুয়াশা, বাতাসের গায়ে অঘোষিত মৃত্যুর শেষ নি:শ্বাস।

ভালোবাসা বলে যা ছিলো-
তোমার বুকের উচ্চতায় কোন পরিবর্তন আনেনি, দেহের কোথাও ঘুম নামেনি,
স্বাস্থ্যবান আঙ্গুলেরা রচেনি একটি উন্নত রতিরত্তির সুখপ্রপাতে পিপিলিকা ভ্রমন,
একবারও তোমার হাঁপিয়ে ওঠা হয়নি, দেখোনি একটিও আঁধার কোলাহল, যদিও
নুপুরসহ অন্যান্যরা বেজেছিলো কোন আগমনীর বরনোৎসবে।
তারপর একটি উৎসবও তোমাকে হারাতে চায়নি, একাই ভুগেছিলে সে সুখে,
আমি ছিলাম নতুন দেহগুলোর উত্তেজনার দু:খ হয়ে।
পুরো বন্যপথে লেগেছিলো সবুজের আবেদন- আমি বিরতিহীন চেটেছি সে সুখ।

এখনো এ পথ ধরে অবলারা বাসরে হেঁটে যায়
ডাহুক ফেলে যায় পরিত্যক্ত রতিসুখ
মাছানঘরের দিকে ছুটে চলা দীর্ঘাযু ছাপ রাখে পায়ের তালুর
স্বাস্থ্যবান নতুন দেহগুলোর ভারে কোথাও কোথাও জন্ম নেয় প্রশস্ত গর্ভ...।
ঢের স্থুল পথ, তাজা ঘাস, পথের সোনাধুলির চিকচিকে রোদ্দুর গাল
তবুও কোথা কোথা শ্বেতঘাসের থোকপড়া দাগ পুরো পথ ধরে, হয়তো
আমার মতো কেউ বিছায়েছিলো অপেক্ষার প্রহর-
এক দেহ অস্থিরতা ঘাসের বুকের ওপর ঋনী হতে থাকে।
... এসব ক'দিন আগের কথা! এখন ভালোবাসতে শুরু করেছি
সুড়ৎ করে সরে পড়া নখের ডগা, আঙ্গুল কর। একাগ্রতা এসেছে
খসে পড়া কেশগুচ্ছের বিলাপ শ্রবনে...।

প্রচুর সুখগন্ধ নাকে এসে ঝাপটায়।

০৭.১১.০৮
রাত ১১.৫০ মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28866137 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28866137 2008-11-08 00:45:08
বিষয়গুলো ভিত্তিহীন বটে অবিশ্বস্ত বিশ্বাস ঠাঁই খোজে...।
ডাহুক বেজায় কেঁদেছিলো গাদার নলের কাছে
শুয়েছে সিদ্দজলে প্রজাতি রক্ষার্থে,
নুয়েছে স্থুল ডানা, ঝরা পালক- বৃথাসব মেঘ, ছাই ইত্যাদি।
অসহায়ের কোমল পেটে ইশ্বরের হাতের ছাপ-
আমরা আশ্রয় খুঁজি শত্রুর উঠোনঘরে!

আমাদের নগরে ভেসেছিলো ক্ষারীয় পরিষ্কারক।
মহামানবের মগজে মলম বানাই ক্ষতরোগে-
আমরা সবাই ব্যস্ত রই আশ্রয়ের খোঁজে।
মাটির গর্ভে পরাশ্রয়ী অবেলার গান,
সম্ভ্রম হারিয়ে ধ্রুপদী গীত বিবস্ত্র হয়েছে কয়েকবার-
ধেই ধেই নাচে কন্ঠের কম্পনে।
আমরা আশ্রয় খুঁজি শত্রুর উঠোনঘরে!

মৃত স্তনে জীবন খোঁজে মানুষের মতো শিশু-
ঈশ্বরপুত্ররা তন্ত্র বোনে নাগরিক ঘুমমন্ত্রে, তখন
নি:সাঢ় দেহ জীবন খোঁজে মাটির স্তন্যপায়।
অমানুষ বনে যাই, পশুত্বের আবরনে ঢাকি লজ্জা-
কপাল, হাঁটু, কনুই... ইত্যাদিতে ফেলি জন্মের মতো ধর্মদাগ-
আমরা আশ্রয় খুঁজি শত্রুর উঠোনঘরে!

০৬.১১.০৮
রাত ১১.০০ মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28865710 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28865710 2008-11-06 23:19:01
মাঝরাতের স্নান খুবই বিচ্ছিরি সুগন্ধিগুলো দেয়ালের দাগ হলো

কবিতাঘরের পুরোনো বালুর আস্তর ক্ষমা চায়

মেঝেতে ঘুম নামলো কুসুম কুসুম গরম জলে

মাঝরাতের স্নান খুবই বিচ্ছিরি !

বিশুদ্ধ
প্রচুর আলো এসেছিলো বিকেলের শেষার্ধে...
মেঝেতে লেপ্টে রইলো রোদ্দুর উচ্ছিষ্ট-
বুকের নালায় উষ্ণ প্রেমের গড়াগড়ি।
গা ধোয়ার আবেদন সনাতন হতে চায় না বলে
কবিতাঘরের গোপন কোণগুলোয় পুরোনো বালু জমে।

এ পথে...
স্নানঘরের সরুগলিটায় একবার সমাপ্তি আসার কথা
আমার হাঁফ ছেড়ে বাঁচার কথাও ছিলো।

স্তনের মতো উর্বর কিছু কাঁচামাল ...
স্নানজলের লুটিয়ে পড়ার শব্দের মতো তাগাদা ছিলো;
গর্ভের প্রশস্ততার বেড়ে ওঠা দৃশ্যমান!

প্রাকৃতিক
পুরো মধ্যরাত জুড়ে ছিলো সনাতন ধুয়ে ফেলার ব্যস্ততা
মাঝরাতের স্নান খুবই বিচ্ছিরি !

(আমার "ঘুমরোচক নৈশগীত" কবিতায় করা উত্তরাধিকারের মন্তব্য পড়ে এ কবিতার কাঁচামাল জোগাড় করি। উত্তরাধিকারে বিনয় <img src=" style="border:0;" />)

০২.১১.০৮
রাত ০১.০৫মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28863224 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28863224 2008-11-02 01:11:02
ঘুমরোচক নৈশগীত নিশ্চিত অবহেলায় হিম জমাচ্ছে শয়নোচিত নৈঃশব্দে।
আহা! কতোই না কামার্ত তুষারপালকের পেলব গা...।

আঙ্গুলের ভাঁজে নক্ষত্রের কাঠি জ্বলেছিলো বলে
তামাটে বর্ণের রাতের গায়ে এক আধটু উষ্ণতার নড়াছড়া
ভীষন ঠেকেছিলো নৈ:শব্দের ক্ষতদাগে।

অনির্বাচিত রাতে প্রেম এসেছিলো ঘুমের মতো নিরবতায়,
অথচ তখনো কাঠের বুনন গোগ্রাসে উষ্ণতা গিলতে ব্যস্ত।

৩১.১০.০৮
রাত ২.৩০ মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28862356 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28862356 2008-10-31 02:31:47
আলোচনা হতে পারে প্রেমের এফোঁড় ওফোঁড়,
কালোর্ত্তীর্ণ হতে থাকে অবমর্শ প্রেমিক হৃদস্পন্দন-
সরলতার পলায়ন!
আমাকেও সাথে নিলো বিভ্রান্তির সরীসৃপ
তাজা ঘাসের ফোঁকর ছেদনে,
আমার অবস্থান মূলক নয় বলেই
আলোচনা জমতে থাকে বরফ বাঁধার মতো।

যাবতীয় সংলাপ অহেতুক বটে

ফ্রিকোয়েন্সি তখনো ব্যস্ত ছিলো প্রেমের ট্রান্সপোর্টে-
বেচারা দায়িত্বশীল বটে!
জমে যেতে যেতে হিমকাতর-হিমশীতল...
ইত্যাদি শূণ্যস্থান পূরণ করতে লাগলো এ্যালজেব্রার বুকে।
জ্যা-ব্যাস-ব্যাসার্ধ তত্ত্বে তখন সমস্ত সরলতা...
যেমন "আমি তোমাকে ভালোবাসি"র মতো সংলাপগুলো
অর্থ হারাচ্ছে।

"কেন্দ্রাতিক নয় মোটেও, আলোচনা গতানুগতিক"

চিড়া গুড়ের বৈয়াম উল্টে আছে লালন-হাছনের মতো!
কলমের বায়োগ্রাফি সাদামাটা বলে ভাবের অভিমান।
ক্ষুধার্ত আলোচকের মগজে কার্বলিক দ্রবনে
বুদবুদের কৈশোর ক্রিড়াশৈলী রোমান্স বিধৌত?
ফ্রিকোয়েন্সি হেতুবিশেষ ব্যস্ত বলে
আমার জমে যাওয়া রতি ত্যাগের সুখের মতো!
দেশি সুতার বুনন বিরতিতে পুরো জামা জুড়ে শীত নেমেছে
অলখেই আত্মার অধিকাংশ জামার সমার্থক।

টেবিলের সেগুন কাঠে শীত দখল নিলো

আগুনের বরসিটা কোথায় যেন তাপ দিচ্ছে-
ফ্রিকোয়েন্সির ক্ষমতা বলে কথা!
উষ্ণতা সব ত্যাগের সুখে ভাস্মর
শীত নেমে আসতেই সেগুনকাঠের
সুতোর জামার সমান্তরালে পদ্মাসনারোহন।

সুযোগ বুঝে আমিও বাসর চৌকির নিচে
বিলাপরত কুনো ব্যাঙের মতো।

আমার অবস্থান নিয়ে অল্পবিস্তর আলোচনা হতে পারে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28860239 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28860239 2008-10-26 23:06:24
এইবার তবে বেঁচে থাকা যাবে তার কোনেই ঘাসগুলো কেবলই সাদা হতো।
শুনলাম শোবার ঘরে ছাই'র স্ট্রে এখনো আছে।
তবে সেখানটায়...
ওই বাড়ির মতো ঘরগুলোয়
স্বর্গ ছিলো না...।
বাবার আদেশে 'না' উচ্চারণ নিত্যকর্ম মেনে নিতাম-
সেখানে স্থির ছিলাম না কখোনোই।

অসম্ভব টানাটানি-
ছুটতে পারিনি;
ভীঁড়তাম কেবল
হরিজনের ঘাটে-
জীবন খুঁজেছিলাম,
জীবনটা বড্ড জরুরী হয়ে গেলো!

কয়েক ঘা জুটেছে
স্নান সেরে আসা বালিকার প্রভায়-
সত্যি অনাকাঙ্খিত নয়!
এখনো টানে।
ভীষন টানাপোড়ন
জীবনের কামরায় কামরায়
জীবনটা বড্ড জরুরী হয়ে গেলো!

এইবার তবে বেঁচে থাকা যাবে

ঘন্টা বাজার আগেই ছুটি!
তুমুল মরণদৌড়ে জীবনকে তুলে আনি-
জীবনের সংলাপ শৈল্পিকতা বিবর্জিত বলে
সাদামাটা প্রস্থানে সাবলীল কলমের ময়লা।
আমি কেবলই মুক্তি চেয়েছি।
ছিঁড়েছি
ভেঙেছি
দুর ছাই! দূরে ফেলেছি!!
জীবনটা জরুরী হয়েও হলো না।
এইবার তবে বেঁচে থাকা যাবে!

২৬.১০.০৮
রাত : ২.৩০ মি.

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28859781 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28859781 2008-10-26 02:36:27
হিমাঞ্চলে ঘাম ছাড়ে জীবন দিনলিপির মধ্যবিত্ত পৃষ্ঠাগুলোয় ঠেসে দেয়া
পথের কোণ, খালের বাঁক, ধমনী, শিরা-উপশিরা
ঝরা পাতার মাঝপথে স্বাস্থ্যবান পায়ের তালু...
ইত্যাদি অপ্রস্তুত বিষয়াদি-
গত্যন্তরে "না" উচ্চারণ।

নক্ষত্র জ্বলেছিলো আগামির কোথাও

পরিত্যক্ত স্নানঘরের মাটির ত্বক-
স্যাঁতস্যাঁতে হতে দেয়নি নক্ষত্রের প্রতারনা।
অথচ পুরো পথ জুড়ে রাস্তার ক্রন্দনে
রাতের মতো আঁধার জ্বলেছিলো!

জলজ দাগগুলো শুকিয়ে গেলো!

পৃথিবীর ম্যারাথন হামাগুড়ি
জীবনের বুকে চুম্বনের দাগ রেখে;
পুরো জীবনের সুন্দর ক্ষতদাগ-
হিমাঞ্চলে ঘাম ছেড়ে দেয় জীবন!

অস্বস্তি চেপেছিলো বাহুবন্ধনে

জীবন, এখানে তুমি পরাজিত।
ক্রমশ: অবিন্যস্ত হেয়ালীর বিস্তার-
তখনো আমি আশাবাদী!
অথচ, তুমি শয়ন নিলে
একটুকরো অস্বস্তির মাদুরে!

২৪.১০.২০০৮
রাত ১০.৩৫ মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28859216 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28859216 2008-10-24 22:43:33
জামাতী আর আমিনীরা এখন বেহেশতে ।। দেখে আসুন তারা কি করছে ?? (রম্য লেখা)
বহু হাঙ্গামা করে স্বর্গের ভেতর গিয়ে চোখ হলো আরো ছানাবড়ো। রুমের ভিতর ওয়াইফাই নেট কানেকশনযুক্ত হেডটপ, ফ্লাইং বেড, টেবিল, কিন্তু চেয়ার নেই। গোলাম আজম তখনো ঘাঁড় বাঁকিয়ে হুরপরী খুঁজতে ব্যস্ত। মুখখানা শুকিয়ে পোড়া রুটির মতো হয়ে গেছে। কনিষ্ঠদের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলেন, " নারে আমার কাছে ভালো ঠেকতেছে না, মওদূদী মনে হয় আমাগো লগে দালালী করছে, নইলে বেহেশতেতো এইগুলি থাকার কথা না! হুরপরী কই? আমার ফুল বাগান কই? শরাবের নহরও দেখতেছিনা? আজব কারবার! এইগুলো শুনে সাঈদী গেলো গরম হয়ে। -"আমি কখনোই মাহফিলে জিহাদের কথা বলতে চাইতাম না, তোমরা জোর করে আমারে দিয়া কওয়াইয়া এখন ৭০টা হুরপরী হাতছাড়া করলাম"। একে একে নিজামী, মুজাহিদ আর আমিনীও গরম হয়ে গেলো। তাদের চেচামেচিতে কন্ট্রোলরের পিএস আবারো এলো। তার কাছে হুরপরী বিষয়ক নালিশ করতেই সে জানালো, " স্বর্গের কিছু লোকের ৭০টা হুরপরী থাকা সত্ত্বেও অন্যের জন্য বরাদ্ধকৃত হুরপরীদের নিয়ে টানাটানি করে। তাই তারা "ওইমেন রাইটস ফর পিস" নামক সংগঠনের ব্যানারে মানব বন্ধন করতে গেছে। আপনাদের জন্য বরাদ্ধকৃতরাও তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। কিছু আবার বিউটি পার্লার আর ফ্যাশন হাউজ খুলে বসে হুরপরীর চাকুরী ছেড়ে দিয়েছে। অধৈর্য হবেন না, দেখি কি ব্যবস্থা করা যায়।

বিউটি পার্লার আর ফ্যাশন হাউজের কথা শুনে আমিনীর তলপেটে চাপ পড়ে। দৌড়ে টয়লেটে গিয়ে দেখে সর্বনাশ, কমোডের এ কি দশা, হাতলওয়ালা একটি ঝুড়ির মতো কি যেন ছাদের ওপর থেকে ঝুলে আছে, ওখানেই বুঝি কাজ সারতে হবে? কিন্তু ওটাতো খানিকটা ওপরে, তবে কি করা? জোর করে কোন মনে জায়গামতো এনে কাজ সারলো। কিন্তু আবারো বিপত্তি, ঢিলাকুলুখের ঝুড়িটা খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এবার সে কি করবে? না এখানেতো এমন হওয়ার কথা নয়। স্বর্গতো ভিন্ন জিনিস। যা হোক কোনমতে পরিষ্কার হয়ে বেরিয়ে এসে সবার সামনে শুকনো মুখে দাঁড়ালো। আস্তে আস্তে বলতে থাকলো, " আমি এখানে থাকবো না। চলে যাবো।" সবাই মিলে বুঝাতে লাগলে, " আরে অপেক্ষা করো, দেখি কি হয়? নইলে মওদূদীরে খুঁজে বের করে তার অন্ডকোষের উপর ২টা ক্ষুরের আঁছড় বসাবো। তুমি অধৈর্য হইও না।"

বিকেলে দিকে সবাই ঘুরতে বেরুলো। বড়ো একটি উদ্যান পেরিয়ে গেলো বেহেশতের এ শাখার যাদুঘর দেখতে। ভেতরে ঢুকতেই ডারউইনের মূর্তি দেখে আতকে ওঠলো আমিনী। এই এই এসব কি ???? বলে খালি চিৎকার করতে লাগলো। আর বিড়বিড় করে বলতে লাগলো, "নাহ এটা নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করতে হবে, বেহেশতকে কোনভাবেই মূর্তির আখড়া বানানো যাবে না।" উত্তেজিত আমিনীকে অনেক কষ্টে অপর সদস্যরা থামালো।" কিছুদূর এগুতেই সামনে অপরূপ এক সুন্দরীকে দেখতে পেলো। জিন্স আর টিশার্ট পরা মেয়েটিকে দেখেই নিজামী বলে ওঠলেন "আলহামিদুলিল্লাহ"। পরিচয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশী শুনেই মেয়েটি যাদুঘরের বাংলাদেশ অংশের পথ দেখিয়ে দিলো। বাংলাদেশের অংশের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথের ভাস্কর্য দেখেই গোলাম আজম বললো, " নিশ্চয় এখানকার প্রশাসক আ লীগকে সমর্থন করে।" তার কথা শুনে রবীন্দ্রনাথ মুচকি হেসে দেয়, যা তাদের অগোচরে থাকলো। একে একে বাংলাদেশের অনেক নিদর্শন দেখতে দেখতে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ কানে একটি গানের সুর এসে লাগলো। " আশা পূর্ণ হলো না............. আমার মনের বাসনা......। শুনেই আমিনীর কান খাড়া হয়ে গেলো। চিৎকার করে বলে ওঠলো " দাঁড়াও সবাই, বুঝতে পারছি, এখানেও জিহাদ করতে হবে। লালনের গান বাজায় কোন শালায়! যতোসব বেশরিয়তি কাম কাইজ"। হঠাৎ খেয়াল করলো নিজামী তাদের সাথে নেই। থাকবে কোত্থেকে? নিজামীতো ওই সুন্দরী কইন্যার পিছে গিয়ে লাগছে।

চিৎকার চেঁচামেচি করে মোড় ঘুরতেই দেখলো স্বয়ং লালন ফকিরের ভাস্কর্য তার পেছনে। রক্তে জাগলো জিহাদী আগুন। ভেঙ্গে ফেলবে, গুঁড়িয়ে ফেলবে। পৃথিবীর মটিতে লালনের মূর্তি থাকতে দেয়নি, এখাসে কি করে থাকে। যখনি মূর্তি ভঙ্গে ফেলার জন্য লালনের ডান হাত ধরে টান মারলো তখনই লালনও তাঁর বাঁ হাত দিয়ে আমিনীর গালে বসালো চড়। অবিশ্বাস্য এ দৃশ্য দেখে সবাই মিলে পড়লো "সুবহান আল্লাহ"। লালন এবার ক্ষেপে গিয়ে আমিনীর গায়ের জামা কাপড় খুলতে শুরু করলো। আর দু'গালে খালি ছড় মারতে থাকলো। একে একে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, আব্বাস উদ্দীন, জসিম উদ্দিন, আবদুল আলীমসহ অন্যান্য রোবটিক ভাস্কর্যগুলোও এগিয়ে এলো, যারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে পারে। বিশৃঙ্খলা টের পেয়ে বেহেশতের এলিট ফোর্স চলে আসলো। গ্রেফতার করলো সবাইকে। ফোর্সের প্রধান বললো, আমরা আগেই জানতাম বিশেষ অনুরোধে কিছু মৌলবাদী স্বর্গে আসবে, তাই স্বর্গের এ অংশকে ঢেলে সাজানো হয়েছিলো। তারই অংশ এ রোবটিক ভাস্কর্যগুলো।

গ্রেফতারের পর নিজামীদের বিচার হলো। বিচারের রায়ে তাদেরকে স্বর্গে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হলো এবং নরকে প্রেরণ করা হলো। সাথে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মওদূদীকেও পাঠানো হলো।

নরকের যে অংশে তাদেরকে রাখা হলো সে অংশে পৃথিবীর যতো নাস্তিক এবং জ্ঞানীদের রাখা হয়েছে। যাতে করে নিজামীদের কষ্টের পরিমান বহুল্যাংশে বেড়ে যায়। এখানে এসে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু দৃশ্য দেখতে থাকলো। নারী পুরুষের সহাবস্থান দেখে তাদের চোখে সর্ষের ফুল ফটলো যেন। আবার সবাই এখানে খুব ব্যস্ত। কেউ লেখালিখি করছে, কেউ গভীর ভাবনায় মশগুল আছে, কেউবা গবেষনা করছে, কেমিষ্ট আর বায়োলজিস্টরা রাসায়নিক এবং উদ্ভিজ আবিষ্কারে মশগুল। কিছু প্রগতিশীল নেতাকে দেখা গেলো হতদরিদ্রদের সাথে আলোচনারত অবস্থায়। কি করে তাদের অভাব দূর করা যায়, এ বিষয়ে কথা কলতে। অশিক্ষিতদের লেখা পড়া শেখাচ্ছে কয়েকজন। এসব দেখে মস্তিষ্ক অনেকটা ঠান্ডা হয়ে এলো।

কিন্তু ক'দিন থাকতে না থাকতেই হাঁপিয়ে ওঠলো তারা। কারণ তাদের সাথে কেউ কথা বলে না, মোলাকাত কর না, আমিনীর জন্য তামাক নেই, সাঈদীর জন্য মাহফিলের আয়োজন নেই, গোলামের জন্য গণিমতের মাল নেই, নিজামীর জন্য কচি কচি বালকের বন্দোবস্ত নেই। যদিও মাঝে মাঝে তসলিমার মতো মেয়েদের দেখা যায়, কিন্তু তারাও আসে না। অবশেষে তারা ঠিক করলো এখানেও থাকবে না। স্বর্গ আর নরকের মাঝামঝি গহীন অরণ্যে চলে যাবে। এখানে থাকার চাইতে ওখানে থাকাই ভালো হবে।

অনেক কষ্ট করে খুঁজে বের করলো ডারউইনকে। সবাই মিলে পা ধরে বসে আছে। আবেদন একটাই - " যে বিবর্তনের পথ ধরে বানর মানুষ হয়েছে, সে বিবর্তনকে পেছনে সরিয়ে নিয়ে এখন আবার মানুষকে বানর বানানো যায় কিনা, তার উপায় বের করতে। স্বর্গ বা নরকে থাকার চাইতে বানর হয়ে বনে জঙ্গলে থাকাটাই শ্রেয়।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28857943 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28857943 2008-10-22 00:15:11
এখন আর আঙুল চোষার বয়স নেই এক লালনের লুটিয়ে পড়ায় জোরসে করতালি
জয়ের শিঙা ফুঁকে শয়তানের দল।
চেহারায় নূরের ঝলক দ্যাখে বেহেশতী ভেলকী!
মূর্তি করেছে ধ্বংস
বেহেশত হচ্ছে পোক্ত;
কোরাস কন্ঠে উল্লম্পের গান
বাংলা হবে আফগান।
রবীন্দ্র-নজরুল, মিনার-স্তম্ব, শিখা চিরন্তন
এটেনশান! এটেনশান!!

মুদ্রার এ পিঠ
সরে যাবে অপরাজেয়, শিখা চিরন্তন
মুছে যাবে দেয়ালিকা যতো বুকের মাটিতে
মিনার, স্তম্বসব মাথা খেয়ে পড়লো...
অত:পর ?
সাদা সাদা শয়তান কাকতাড়ুয়ার মতো
এখানে সেখানে মোড়ে, কোণে
চৌমুহনা, তেমোহনায় দাঁড়িয়ে থাকলো!
ধর্ষক শ্বাপদের গোরের পাশে মুসাফির ডাকলো-
আসসালামুআইলাইকুম ইহ আহলাল কবুর
বেহেশতী ফুলে ভরলো রাজাকার মাজার।
শরাবাতরের আশ্রাফী ঘ্রানে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের
কোথাও লালন-হাসন-আব্বাস-আলীম নেই!
... সাদা সাদা শয়তান স্বপ্নে বিভোর।

মু্দ্রার ওপিঠ
শানপাথরে শানের শব্দ হাঁতির ডাকের মতো
আকাশ ধরছে- দিনের শুরু থেকে শেষ
কেবলই ঝড়ের প্রস্তুতি। রক্তচাপ উর্দ্ধমূখী
নভোজানের মতো; অসহায়ের ঘৃনার জমিন
উর্বরতা ফিরে পাচ্ছে...
অশ্বগতির শাণিত যুবা ছুটে আসছে,
নিভে যাচ্ছে অমাবস্যার চাঁদ।

এখন কি আর আঙ্গুল চোষার সময় আছে!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28856579 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28856579 2008-10-18 22:00:19
রাজাকারমুক্ত ব্লগ বনাম A-TEAM
আমি যখন ব্লগে আসি তখন এক্সিমো এবং রাশেদভাইয়ের ব্যান নিয়ে ব্লগ খুব উত্তপ্ত। আমি পরিচিত কয়েকজন ব্লগার থেকে বিষয়টির খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম রাজাকার ব্লগাররা এখানে খুব সক্রিয়। তাদেরকে হটানোর জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে উনারা ব্যান হোন। শুনে আমিও প্রতিবাদ করি। এরই মাধ্যমে সম্পৃক্ত হয়ে গেলাম রাজাকার মুক্ত ব্লগ আন্দোলনে। প্রথম প্রথম দু'একটি ধর্মান্ধতা বিষয়ক লেখা দিই। পরে ভাবলাম এভাবে চলবে না। কিন্তু কিভাবে চলবে? যেভাবে আমার বেশিরভাগ পূর্বসূরীরা চালাচ্ছে, সেখানে শুধু গালিবাজি ছাড়া আর কিছুই নেই। এভাবে চলবে না। আমি কয়েকজন পূর্বসূরীর ধারা বহন করে তথ্যভিত্তিক লেখা দিতে থাকি। এবং এ লেখাগুলোর মাধ্যমেই আমি ব্লগে ব্যাপক পরিচিতি পাই। পরে আবার ভাবলাম বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু লেখা দিই।

আমার অনেক আগে থেকেই ব্লগে A-TEAM নামের একটি গ্রুপের অবস্থান। তাদের কার্যকলাপ দেখে প্রথমে কিছুই বুঝিনি। পরে সহ ব্লগারদের সাহায্য নিয়ে বুঝার চেষ্টা করি। তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করি। কিন্তু তাদের কর্মপন্থা আমার পছন্দ হয়নি। কারণ তারা জামাতী চেতনাধারীদের চাইতেও নিকৃষ্ট হয়ে জামাতী চেতনা নির্মূল করতে চায়। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। পুরো ব্লগঝুড়ে অশ্লীলতা আর গালাগালির ছড়াছড়ি, যাকে তাকে অপমান করার মাধ্যমেই তাদের প্রয়াস নিহিত ছিলো। তাদের পুরো সক্রিয়তা ছিলো কিছু সদস্য কেন্দ্রিক। তার বাইরে তারা কাউকে সাপোর্ট দিতো না। হতাশায় ভুগে আমি সাধারণ ব্লগারদের সাপোর্ট নিয়ে "ব্লগ আদালত" এর প্রস্তাব করি। যার মডারেটর হিসেবে অমি রহমান পিয়ালকে আহবান করি। কিন্তু অবিস্বাশ্যভাবে তিনি বিনয়ের সাথে নাকচ করে দেন। তবুও আমি সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। এমনকি তা মাইনুল গংদের খুব বিচলিত করতে শুরু করে। আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে অনেক জামাতী ব্লগার পোস্ট দিয়ে আবাল বনে গিয়ে ব্লগ ছেড়েছে। কিন্তু আমি A-TEAM ব্লগারদের কোন সাপোর্ট পাইনি।

আসলে A-TEAM চায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ব্লগকে তাদের ভাড়ামোর খোয়াড়ে পরিণত করতে। আলতু ফালতু পোস্ট দিয়ে ব্লগের পাতাকে আবর্জনায় ভরাতে। আমি মনে করি এটিমের ব্লগাররা যেভাবে গালিগালাজ করে ব্লগের শান্তমনা ব্লগারদেরকে ধর্ষন করে তা কোনভাবেই জামাতিদের চাইতে কম নয়। গালাগালি করে যদি এসব কিছুর সমাধান করা যেতো তবে চে গুয়েভারা, মাও সেতুং, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, হুগো শ্যাভেজরা জন্ম না নিয়ে বিশ্ব গালিবাজরাই প্রগতিশীলতার নেতৃত্ব দিতো। যেমন করে বুশ, ব্লেয়াররা িকছু একটার নেতৃত্ব দিচ্ছে।

ব্লগে এর বাইরেও কিছু অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। এটিমের বাইরে আরেক ব্লগার লোকালটক (নার্ভাস নাইন্টিজ) ফিরে দেখা একাত্তরের মতো সমৃদ্ধ ই-বুকের প্রকাশে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আদৌ তা ভালো কাজ করার প্রয়াসে নয়। স্রেফ বাহবা কুড়ানোর জন্য। যেখানে কাজ করেছে তীব্র অহমিকা। সেই ব্যক্তিই কিছুদিন আগে কবি এবং কবিতাকে কেন্দ্র করে ব্লগে চরম অস্থিরতা নিয়ে এসেছেন। আমিতো মনে করি A-TEAM মেম্বারদের কিছু লেখার চাইতে মেহেদীর কবিতা আরো শ্রুতি মধুর।

A-TEAM এর ওপর ক্ষোভের কারণে এখন আর রাজাকার বিরোধী লেখা লিখি না। কারণ তারাই যেন ব্লগ রক্ষা আর দেশ রক্ষার দ্বায়িত্ব ইজারা নিয়ে নিয়েছেন। আমরা তাদের দয়ার ওপর এখানে থাকবো! আমার খুব হাসি পায় যখন সাধারণ ব্লগারদের কাছ থেকে অসম বিরক্তি নিয়ে A-TEAM মেম্বাররা নিজেদেরকে বীরশ্রেষ্ঠ বানানোর স্বপ্ন দেখে। বাংলাদেশের মুক্তিবাহীনীর বীরশ্রেষ্ঠরা বীরশ্যেষ্ঠ হওয়ার স্বপ্ন দেখে যুদ্ধ করেনি। যুদ্ধের পর আমরাই তাদেরকে শ্রেষ্ঠবীরের খেতাব দিয়েছে। তারা স্রেফ দেশের জন্য কাজ করেছে। সে কাজ করার প্রয়াসে আপামর জনসাধারণের সাথে সম্পৃক্ততাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলো। অথচ A-TEAM মেম্বাররা সাধারণ ব্লগারদের মতামতের তোয়াক্কা না করেই তাদের "মিশন গালাগালি" দুর্বার গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে তাদের গালাগালির মোক্ষম জবাব দিতে জামাতি ব্লগাররা একের পর এক নিক খুলে যাচ্ছে।

A-TEAM আর জামাতিদের অত্যাচারে ব্লগ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সৃজনশীল অনেক ব্লগার। এ চলে যাওয়াতে A-TEAM বা জামাতীদের কিচ্ছুই আসছে যাচ্ছে না। কারণ তাতে করে তাদের উগ্রতা আরো বেশি করে ফলাও করা যাবে। ফকিরে ফকিরে মারামারি করে মসজিদবাড়ি ধোলা হওয়ার মতো A-TEAM আর জামাতিদের লড়াইয়ে অনেক সক্রিয় ব্লগার নিষ্ক্রিয় হতে যাচ্ছে। কারণ গালাগালি কোন বিপ্লবের সহায়ক নয়।

এ লেখার জবাবে যে আমারো কেপি টেষ্ট করা হবে না তার কোন গ্যারন্টি নাই। তবুও দিলাম। একটা ঘেন্না জমে গেছে মনের ভেতর আজ তা ছুড়ে ফেলে দিলাম।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28854789 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28854789 2008-10-15 01:16:36
অদৃষ্টে উড়োচিঠি - ২ কেমন আছিস তুই? অনেক দিন হলো তোকে লিখি না। পুরোনো কিছু বিষয়ের সাথে নতুন কিছু আশয়ের মিশ্রনে লেখা চিঠিখানা শুরু করলাম-

আমি ঘুঘু চরা মাঠেই চরতে যেতাম। হাঁটতাম, মাঝে মাঝে দৌড়ানোর চেষ্টাও করতাম। কখনো পারতাম, আবার কখনো পারতাম না। তুই তখন আমাকে খুব জ্বালাতন করতি। একা থাকতে দিতে চাইতি না। কতো অনুনয় বিনয় করেও তোর থেকে আলাদা হতে পারতাম না। অথচ আমি প্রাণপনে চাইতাম ঘাসের সাথে একা থাকতে। ঘাসের প্রতি আমার দুর্বলতা ছোটকাল থেকেই, যখন আমাদের কাজের ছেলে ফকিরা গরুর জন্য সবুজ ঘাস কেটে আনতো। আনমনা হয়ে গরুর সেই ঘাস গ্রহণ খেয়াল করতাম। সৌন্দর্যকে কেমন করে ছিবিয়ে ছিবিয়ে খায়! গরুর প্রতি জন্ম নেয়া রাগ থেকে গরুর দুধ পর্যন্ত দুধ খেতাম না। তুই সেটাও বুঝতে চাইতি না। চাইতি শুধু বারবার জন্ম নিতে।

মাঠে আসতাম ঘাঁসকে বাঁচিয়ে রাখতে। কেউ যেন তাকে হত্যা করতে না পারে। অথচ তুই আসতি পঙতি নির্মাণ করতে। আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিতে এক একটি নতুন চরণ। দারুন বিরক্ত হতাম। বিচ্ছিরি লাগতো তোর সুড়সুড়ি। একদিন গভীর রাতে তোকে ঘুমিয়ে রেখে মাঠে গিয়েছিলাম। রাতদুপুরে ঘাসের ওপর সাপের সঙ্গম দেখে ভয় পেতেই পেছন থেকে গলা জড়িয়ে বললি, "ভয় পাসনে, আমি তোর সাথে"। খুব কৃতজ্ঞতা জানাতে ইচ্ছে হওয়ার আগেই ভাবলাম, "কবিতা বোধহয় ঘুমায় না, মরেও না! জেগে থাকার জন্যই বুঝি তার জনম!" সেদিন তোর সঙ্গ পেয়ে আমি কবি হয়েছিলাম। তখন মগজের ভিতর তোর জন্ম হচ্ছিলো একটু একটু করে। আমি যখন তোকে একটি আস্ত রূপ ধরাতে পারলাম, ততক্ষণে সাপগুলো চলে গিয়েছিলো। তাদের চলে যাবার পর আবার তোর প্রতি বিরক্তি এসে গেলো। আবারও তোকে বোঝা মনে হলো।

সে মাঠে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম তারও অনেক পর। গ্রামে তখন মানুষরা দলবেঁধে পায়রা পুষতো। এক কবিরাজ বাড়িতেই ছিলো কয়েকশ পায়রা। মোল্লাবাড়ির জালালী কবুতরগুলো আমার ভালো লাগতে না। কারণ সেগুলো সাদা ছিলো না। সাদা কবুতর দেখলেই আমি কামার্ত হতাম। খুব প্রেম এসে যেতো মনের ভিতর। সাদা পায়রাকে শক্তহাতের নরম মুঠে পুরে খসখসে গালে লাগাতেই আমি মরে যেতে থাকতাম প্রেমে প্রেমে। ঘুমে থেকে থেকে স্বপ্নও দেখতাম পায়রার সঙ্গ নিয়ে।

সেদিন বোধহয় খুব রোদ ছিলো। রোদেলা দিনের পড়ন্ত বিকেল খুব যৌবনাবতী হয়। সেই বিকেলে মাঠ থেকে গবাধিপশু তাড়াতে গিয়ে আমি সর্বনাশ দেখেছিলাম। সাদা পায়রাকে দেখেছিলাম ঘাসের গায়ে আলপনা আঁকতে। আচ্ছা, সাদা পায়রার রক্তের রঙ সাদা নয় কেন? ইস যদি তা সাদা হতো! সাদার গায়ে লালের অংকনে আমি শৈল্পিকতা খোঁজার সময় পাইনি। তার আগেই আমি শিশু হয়ে গিয়েছিলাম। চোখের পানি মুছতে মুছতে মাঠ থেকে দৌড়ে পালিয়ে ছিলাম। কবিতা, সেদিন তোকে প্রশ্রয় দিইনি। একটি শব্দও জন্ম দেয়ার সুযোগন তোমাকে দিইনি।

দৌড়ের ওপর থেকে থেকে আজ আবার পথ ভুলে সেই মাঠে এসে গেছি। যেখানে তোর অবয়বের শুভ্রতার আবরণ এঁটে দেয়া বিশেষ কিছুর লুটোপুটি ঘাসের ওপর সাদা মরা লালের আলপনার চাইতেও বিদঘুটে দু:খ জড়ানো। এতক্ষনে আমার পিঠ চাপড়ে বলার প্রস্তুতি নিচ্ছিস। বুনে যাচ্ছিস কিছু অম্লশ্রুতির কথামালা। "কবিদের ভাঙতে নেই" // "কবিরা ভাঙে না" // "তোমার জেগে থাকা দরকার" // "সামনে অনেক সম্ভাবনা" ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ আমি যখন বলবো, "আমিতো কবি নই, তবেতো আমার ভেঙে পড়াতে দোষ নেই"; তখনো তুই ধানাই পানাই করেই যাবি। আমি জানি তুই তা করবিই। কারণ কবিতাতো জেগে থাকার জন্য সৃষ্ট। মৃত মানুষের মাঝে বসত করার জন্য নয়, বখাটে কথনে খৈ ফোটার জন্যও নয়।

ভালো থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করিস।

তোর যাবতীয় কষ্টের অস্তিত্ব
বখাটে
১৪.১০.০৮
রাত : ১২.২০মি.
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28854391 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28854391 2008-10-14 00:26:56
জলসা ঘর আমাকে নিশ্চিত জানান দিলো-
আর যাই হোক সেখানে অন্তত রমণীর অস্তিত্ব ছিলো।
স্নানঘরের জলপাত্রের ভগ্নাংশের উপর উঁচু উঁইয়ের ডিবি ভেদ করে আসা
সুগন্ধির ভারে নস্টালজিয়া কি বিরাম নিতে পারে!
সনাতন ভাবনায় হাড্ডি গলা চিরুণির ভাঙা কাঁটায়
পা বিদ্ধ হওয়ার খানিক আগেও কাঁচের টুকরো খুঁজেছি-
আয়নার শরীরে কিশোরীর লেপ্টে থাকা গাল।
মেঘনাচনী ময়ূরীর পরিত্যক্ত পালকে যতোটা শিহরণ ছিলো
ততোটা অবহেলায় কিশোরীর প্রেমপত্রের ভাঁজে ভাঁজে...

শুকনো পাতার ভাঙা আওয়াজে
ভুলে যাওয়া নিক্কনসন্ধ্যার কিছু আগের
নৃত্যের সমস্ত প্রস্তুতি, ব্যস্ততা লেপ্টে ছিলো
বালু খসে পড়া আস্তরের মেদহীন শরীরে।
ততক্ষণে নিজের অস্তিত্বকে প্রত্নতাত্বিক মনে হলো!

খুঁজেছি চুলধোয়া জলের একটুখানি শীতলতা-
আঁধার ছিলো মহাসমারেহে।
ফ্যাকাশে সুতোর মধ্যিখানে উষ্ণতা ছিলো বৈকি,
বুক ছোঁয়া উর্বতায়-
সংকোচ ঢেকে রাখার কষ্টে!
শিকারী চোখে খোঁজা পায়ের চিহ্নে মুক্তির
নোনতা স্বাদে পালানোর চেষ্টা ছিলো।
কার্ণিশের ফাঁক গলে আসা সূর্যের করুণায়
আলোর অস্তিত্বে কার্পণ্যই দেখি।

লোবানের কাঠিগুলো শরাবপাত্রে দাড়িয়ে ছিলো
বাঈজির ফিঙ্গারপ্রিন্টে নেশার ভরাডুবি।
শিমুল তুলার রাজ বালিশের গায়ে
সুগন্ধি ভেজা ঘামের গন্ধ স্যাঁতস্যাঁতে হয়েছে বটে!
কামার্তা দেহের সে ভাঁজগুলো হারিয়ে যেতে পারতো
দেহসর্বস্বীনীর সাথে, যদিও তা বেঁচে থাকে
প্রত্নতত্বের খোঁজে আসা অন্বেষনের ভাবুক দৃষ্টিতে
যখন অসংখ্য প্রেমের অপচয় চোখের সামনে শুয়ে পড়ে
ধর্ষনের আহবানে বেঁচে থাকার প্রত্যয়ে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28852862 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28852862 2008-10-10 00:19:28
নৈরাশ্যবাদী একান্তই আমার আকাশ, আকাশের অলংকার
নির্বাক না হলে বলতো- তুমি নৈরাশ্যবাদী বলে
আমি অমাবস্যায় থাকি।
যা কিছু আমার-
নদীর ঢেউ, ফুলের রেণু, পাখির সদ্য গজা পালকসহ
রত্তি রত্তি প্রকৃতির দানের নিত্য কোরাস অভিযোগে
ত্যক্ত বিরক্ত আমি এখনো না পাওয়ার হিসেব কষি।
কালের অস্থিরস, বর্তমান ফসিলের অস্তিত্ব-
আমার সমস্ত
কম্পমান জানান দিলো - না- না- না;
সবিতে ডানে বাঁয়ে মাথা নাড়ানাড়ি।

অথচ পায়ে ঠেলেছি
অবহেলিত সময়ের শুভংকরের ফাঁকি-
যার গায়ে ছিলো মাটিরঙা বিরহী আব্রু;
অনুভবে খেঁচেছি মহাজাগতিক বীর্য-
রসে ছিলো আত্মা ছিবানো আফিম।
চোখে রাখা নক্ষত্রে ঝলসে নিলাম
মার্বেল পাথরের দৃষ্টি...

দূরে সরে যায়-
একান্তই আমার আকাশ, আকাশের অলংকার
নদীর ঢেউ, ফুলের রেণু, পাখির সদ্য গজা পালকসহ
রত্তি রত্তি প্রকৃতির দান।


০৭.১০.০৮
সন্ধ্যে ৭.১০ মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28852017 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28852017 2008-10-07 19:13:02
চলো দল বেঁধে ইতিহাস হই হরিৎ ঘাসের চোখে মুখে-
ভাগ্যিস পুড়ে যাওয়া ঘাসের গোড়ালি
ইতিহাস হয়ে যায়নি!
নথিভূক্ত হয়নি সার্বেয়ারের বলপয়েন্টে...
আমরাতো দল বেঁধে ইতিহাস হয়ে যাচ্ছি।
শীতের জমে যাওয়ায়
পেঙ্গুইন বরপ পথের দ্রোহী।
তাড়িয়ে চলছে আমাদের আদিঅন্ত
পাঠশালার ভাঙা শ্লেট, রঙ ইত্যাদি
সেখানেই নেতিয়ে পড়ে-
কুমড়ো ডগার মতো বর্তমান,
বলিকার অন্তর্বাসের মত গুপ্ত হচ্ছে
ধাবমান প্রয়োজনগুলো।
নিরর্থক যান্ত্রিক হাড্ডি মাংসে শিহরণ দুষ্প্রাপ্য বটে।

চারিদিকে সোডিয়ামের মতো আলো
চোখ বন্ধ করার মতো আঁধার

মুদ্রার উল্টোপিঠে আমার চাহিদা খচিত হয়
জোৎস্নার মতো পূর্ণিমা
অমাবস্যার মতো আঁধার

০৫.১০.০৮
বিকেল ৪.৩০মি. ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28851224 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28851224 2008-10-05 17:04:57
দেহনোনার হাড্ডিটোনা অন্বেষন
পলাশী থেকে রমনার বটমূল-
রক্ত ছাড়া কিছুই দেখিনি
খুঁজেছি স্বাধীনতা-
মুক্তির ভায়োলিনের নিরাশ সুরের অনুরনে
তোমাদেরই গ্রামে গঞ্জে যাযাবর এক প্রাণ।

আমাদেরই ছুটে চলা
চর্যাপদ থেকে বাংলাপিডিয়া
চাতুর্যের লুকোচুরি এখানে সেখানে
ধর্ষিত হয় আমাদের অবসর।

সেলুলয়েড সন্ত্রাসে রূপালী আলোয়
যৎসামান্য আশার ঝিলিক
অপূর্ণ রয় সময়ের ফাঁকফোকর;
নৈরাশ্যের সমুদ্র সমেত কাতরতায়
তিলাংকের প্রবাল কেবলই ক্ষুধার্ত করে।

ছাপার হরফের বিমাতা বনে যাওয়া
বানিজ্যিক পিছুটানে কলমের ক্ষুধিত ভাবনায়
পাঠক আমি'র শোরচিৎকারে কলমধারীর কর্ণপাতের
বিরামহীম এড়িয়ে চলা-
তখনও আমি আলোর খোঁজে তোমাদেরই মতো।

প্রাপ্তি
নকশী কাঁথার মাঠে, সৌজনবাঈদার ঘাটে
শকুন্তলার বৈঠকখানার জলচৌকিতে আসন পেতে
ধ্যানাগ্ন আলোর সন্যাসী ভীতিকর গিতীকার অলিগলি
মাড়িয়ে কৃষাণীর আঁচলে ঘামের চুষে মরার সুখে
আলো খুঁজে ফিরি ফসলের মাঠে কৃষাণীর স্বপ্ন ফেরীর
লোকসুরের মাদকতায় কৃষকেরই পাশে।
তখনই আমি আলোর আবিষ্কারে বিহঙ্গসম উচ্ছ্বাসে
ফেটে পড়ি শ্রমের প্রেমে, শ্রমিকের দেহ নোনার
হাড্ডিটোনার শব্দে। কাটা পড়ি শক্তি বিক্রেতার
শাণিত প্রয়াসকালীন আকর্ষনে।

আমি নিরন্তন সুখে ভুগি।


০৫.১০.০৮
রাত ০১:৪০মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28851033 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28851033 2008-10-05 01:49:25
দহনকালের প্রলাপকথন আস্ত একটি সন্ধ্যেসময় ধরে রেখেছি
তোমার গায়ে জড়িয়ে বিশেষ পাটাতনে।
তুমি চাইলে সেদিন হাতের তালুতে
আগামি আঁকতে পারতে-ঢের স্বপ্ন ছিলো।
আমিতো ধুয়ে রেখেছিলাম-
একেকটি আনাড়ি তুলির স্পর্ধার কামনা,
অত:পর বয়ো:সন্ধির মাতম তুলে
চাঁদ থালার মতো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে গেলো!
সময় ভালোই ছিলো-
চাইলেই উপাসনার সেই ক্ষণ আরো কামাতুর
উশৃঙ্খল হতে পারতো-সৃষ্টির ভাগ নিতে!
পথ অথবা নদীর মতো লম্বা ঢেউগুলো
সুন্দর বেয়ে বেয়ে আছড়ে পড়ছিলো
দেহের কৌনিক ভাঁজকে উপেক্ষা করে-
অথচ সে আটকে যেতে পারতো ভাঁজে ভাঁজে।

আমি-
এখন আর হাতের নখ দাঁতে কাটি না...
আনমনা হই না একদমই...
ভাবতে অপছন্দ করি-
একেকটি ফুলের পরিপূরক তোমার অবিন্যস্ত কথামালা।

০৩.১০.০৮
রাত ৮.৫০ মি.


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28850754 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28850754 2008-10-04 01:46:38
কোথাও আনন্দ নেই সব আনন্দ কুক্ষিগত করে রেখেছে বিশ্বাসীদের দল।
পুরো কাঁচারাস্তা জুড়ে কাদা আর সুড়কির সহবাস-
আগের রাত্তিরে বিছানায় গড়াগড়ি এখানে সেখানে
সমস্ত ব্যাথা নিয়ে সন্যাসীর আনন্দ অন্বেষন!
কোথাও আনন্দ নেই!
আকাশও সুযোগ বুঝে বিধবার মতো যাবতীয় শোক নিয়ে
একখানা ফোকলা নাকের গোমরা মুখ টাঙ্গিয়ে রেখে
দায়সারা গোছের চাঁদ দেখিয়ে আমাকে খুশি হতে বলে গেলো।
আশ্চর্য!... তুমি বললেই হলো?
আলো দিলে না, ভালো দিলে না;
অমনিই আমি নাচবো! গাইবো!
অনুর্বর বুক ঘষে ঘষে খসখসে করে
অপচয় করবো কষ্টিপাথরের ন্যায় প্রত্নতাত্বিক অস্তিত্ব!
অত:পর তুমি চাইলে আর খোশ আমদেদ-খোশ আমদেদ
রবে পক্ষীকূলের পলায়নে বিশ্বাসীরা আনন্দ পেতে থাকবে।
অথচ সারাদিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি প্রেয়সীর হাত ধরতে
সাক্ষাত সতীন হয়ে গেলো; আকাশও নির্বিবাদে বৃষ্টি দিলো।
বাবার সময় ঘনিয়ে এসে চেহারায় মৃত্যুভয় স্পষ্ট-
মাতো নামের আগে মরহুমা বসিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চেষ্টা করছেন।
অবিকল শ্মশাণের বুকে দাড়িয়ে মৃত, অর্ধমৃত স্বজনেরা
কুঁড়ে কুঁড়ে আনন্দ বার করে আনে কফিনের কোণগুলো থেকে।
চারপাশের কুঁড়ে ঘরের চালের ছুঁইয়ে পড়া পানির সাথে
কিঞ্চিত হাহাকার, সামান্য রোধন, তিলাবরণ বুক পুঁফানো যে ঝরেনি
তা কি কেউ বলে দিবে?

বিশ্বাসীরা জানে, ঈদ মানে আনন্দ-ঈদ মানে খুশি
এ দিন আনন্দ করতেই হয়! অথচ-
আনন্দ বা খুশি পায়ে হেঁটে আসে না
বরাবরই অলৌকিক নয়, নিশ্চিত নয়!
না খুঁজে পাওয়া(!) আনন্দ খুঁজতে গিয়ে তিলাংকও পাইনি-
বিরক্ত হয়ে ছুটে আসা শাশ্বত বাস্তবতায়
যেখানে সৃষ্টির পুতুল নাচে প্রতিনিয়তই আসর কাঁপে।

০২.১০.০৮
রাত ১০.৩০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28850486 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28850486 2008-10-02 22:36:53
স্মৃতির নিলাম শবযাত্রায়ায় নিলাম হাঁকে স্মৃতির যাদুঘর

শবযাত্রায়ায় নিলাম হাঁকে স্মৃতির যাদুঘর।
অশ্লীল দ্রুততায় দরপতন নষ্ট বালিকার বুকের স্পন্দনে
লোমকূপে জমা বালুও গর্জে ওঠে ইতিহাসের দাবিতে
দর হাঁকে দেদারচে... কেনে দু'এক।

অথচ তোমার নির্মম ঘুম

অথচ তোমার নির্মম ঘুম
নগ্ন অবহেলায় ধ্রুপদী গীতের ক্লান্ত সুরে
প্রকাশ করো ধীরে জ্বলার সাদৃশ্যতা।
এখানেই নির্মম হয়ে যায় বর্তমান
তুমি জানো... জানতে... কণাংশ স্মৃতিও নিজস্ব নয়;
এড়িয়ে চলো- মোড় নাও- বাঁক ধরো
আর আমি... আমরা চিৎকারে রই গলা ছেড়ে
শবযাত্রায় নিলাম হাঁকে স্মৃতির যাদুঘর!

২৭.০৯.০৮
রাত ০১.৩৫ মি.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28848364 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28848364 2008-09-27 01:45:34
গলা ছেড়ে বলতে চাই
কোন দেশের মানুষ ফিস ফিস করে বেশি কথা বলে? এমন প্রশ্নের উপর বিশ্বে কোন জরিপ হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। তবে যদি হয় তাহলে জরিপের ফলাফলে বাংলাদেশের নাম নিশ্চিন্তেই অগ্রভাগে থাকবে। এখানে কথা বলার মাঝে সবচে’ বেশি ভয় কাজ করে। সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার এবং বিরোধীদলই মূলত দেশের মা বাপ। তাদের কৃতকর্মের ওপর দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে। এ নির্ভরতায় নাগরিকগণ নিশ্চিন্ত হতে চায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ নিশ্চিন্ত হওয়ার নিশ্চয়তা কতটুকু আছে? যতটুকুই থাকুক না কেন, আমি নিশ্চিন্ত হতে চাই কারণ এটা আমার নাগরিক অধিকার। নিশ্চিন্ত হওয়ার আগে আমি দেখতে পাই, সরকার নামক বটবৃক্ষের ডালপালায় বসে থাকা সরকারি কর্মকর্তা এবং পাশাপাশি সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের শোষন, অনৈতিক, অবৈধ অথবা রাষ্ট্রের পক্ষে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তগুলো। আমি তার প্রতিবাদ করতে চাই। কারো কাছে একটু মনের দু:খ প্রকাশ করতে চাই। কিন্তু কতটুকুই বা করতে পারি। করতে গিয়ে ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বলতে হয় প্রতিবাদের শব্দগুলো বা দু:খের উক্তিগুলো। বিরোধী দলের বিষয়েও একই পরিস্থিতি। এর বাইরে মহল্লার বড়ভাই, গ্রাম্য মোড়ল অথবা ক্ষমতাধর ব্যক্তিবর্গ আছেনই।

মানুষ তার যে যে অধিকার শতভাগ ভোগ করতে চায় এবং সে ভোগে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা পেতে চায় তার মধ্যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা অন্যতম। বর্তমানে মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি শুধু উন্নত রাষ্ট্রসমূহে নয় বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতেও আলোচিত। অবশ্য এ বিষয়টি মানুষের সৃষ্টির পর থেকেই সম্যক আলোচিত। পৃথিবীজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নামক অধিকারটির জন্য মানুষ বরাবরই সোচ্ছার। জাতিসংঘ সনদের ফ্রিডম অব স্পীচ (freedom of speech), ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন (freedom of expression) ইস্যু অথবা টার্মগুলো এ ক্ষেত্রে ব্যাপক আলোচিত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে ফ্রিডম অব থট (freedom of thought) এবং ফ্রিডম অব কনসায়েন্স (freedom of conscience) নামের আলাদা দু’টো টার্মস আছে। বাংলাদেশের সংবিধানে উল্লেখিত ফ্রিডম অব স্পীচ বলতে বোঝানো হয়েছে বাক প্রকাশের স্বাধীনতা মানে মৌখিক কথা বলার স্বাধীনতা, ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন বলতে বোঝানো হয়েছে ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা। চিন্তার স্বাধীনতা বলতে ফ্রিডম অব থট বোঝানো হয়েছে এবং ফ্রিডম অব কনসায়েন্সকে বিবেকের স্বাধীনতা বোঝানো হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধানের ব্যাখ্যা ধরে পাওয়া শব্দগুলোর বিশ্লেষনে বোঝা গেলো একটি মানুষের বাক, ভাব, চিন্তা এবং বিবেকের মাধ্যমেই তার মতের প্রকাশ ঘটে। সুতরাং মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্বাভাবিকের চাইতেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। যে রাষ্ট্রের মৌলিক বৈশিষ্টগুলোর দিকে তাকালে আমরা সন্তুষ্টচিত্তে দৃষ্টি ফেরাতে পারি না। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা, শিক্ষার হার অত্যন্ত কম, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নাজুক, যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভঙ্গুর। তার উপর রয়েছে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার এবং সর্বোপরি ধর্মীয় মৌলবাদের ভয়ানক বিস্তার। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়গুলো আমাদের অপ্রিয়। তবুও আমাদেরকে এ দেশেই বসবাস করতে হবে। বসবাস করতে চাই এবং তা নূন্যতম একটি অধিকারকে আঁকড়ে ধরে হলেও। আমি খাওয়ার কথা বলতে লজ্জিত, বাসস্থানের কথা বলতে সংকুচিত, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসার কথা বলতে শংকিত। কারণ আমাকে দ্রারিদ্র্যতা চুষে খাচ্ছে জোঁকের মতো। তাই আমি নিরখচায় বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেই বেছে নিতে পারি।

যদিও অবস্থাদৃষ্টে আমাকে আশাহত হতে হয়। আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনো সরকারের হাতে, নয়তোবা বিরোধী দলের হাতে আবার কখনো সামরিক শাসক বা তার স্বরূপের হাতে। আমি পরাধীনতার কথা বলছি এই কারণেই যে, সরকারের সমালোচনা করলে স্থানীয়ভাবেই আমকে দু’চার ঘা খেতে হয়, সরকারের নিজের করে নেয়া প্রশাসনতো আছেই। বিরোধী দলের সমালোচনা করলেও তাই। আর সামরিক শাসকতো সমালোচনা করার আগেই মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। এ পরিবেশে আমাকে যদি শান্তিপ্রিয় নাগরিক হতে হয় তবে যাবতীয় নিগৃহতাকে মেনে নিয়ে নিজের মুখে নিজেই স্কচটেপ লাগাতে হয়। কারণ আমি জানি যে আমার দিকে তাক করে আছে অস্ত্র, মাদক, এসিড, ধর্ষন অথবা মানসিক এবং শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার কামানগুলো। আমার সরকার ৫টি মৌলিক চাহিদার দায়ভার নিতে রাজি নয়। তবে সুশাসনের মতো তকমানির্ভর বিষয় কোন পথে ধাবিত হবে। আমি সরকারের অক্ষমতা মেনে নিলাম। কিন্তু নাগরিক হিসেবে অন্তত একটি সাদৃশ্য অধিকার আদায়ের দাবি আমি করতেই পারি। আগেই বলেছি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি শুধু আলোচিতই নয়, বরং এ স্বাধীনতা আদায়ে পৃথিবীর মানুষেরা বরাবরই সোচ্চার। Universal Declaration of Human Rights এর আর্টিকেল ১৯ এ আছে- Everyone has the right to freedom of opinion and expression; this right includes freedom to hold opinions without interference and to seek, receive and impart information and ideas through any media and regardless of frontiers.

একইভাবে International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR) এর আর্টিকেল ১৯ ও কথাবলার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
“the right to hold opinions without interference. Everyone shall have the right to freedom of expression.”
‘উইদাউট ইন্টারফেয়ারেন্স’ শটি কোন প্রকার বাধাবিপত্তি ছাড়াই মতপ্রকাশের অধিকারটি কার্য্যকর করার দ্বায়িত্ব স্বীকার করে নেয়। এই চুক্তিটি গৃহীত হয় ১৯৬৬ সালে কিন্তু কার্যকর হয় ১৯৭৬ সালের ২৩ মার্চ। চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী যে সকল দেশ এতে স্বাক্ষর করেছে তারা এটি মানতে বাধ্য। উল্লেখ্য বাংলাদেশ এতে স্বাক্ষর করেছে।(চীন অবশ্য স্বাক্ষর করেনি)
বাংলাদেশের আইনের দিকে তাকালে দেখতে পারি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসাবে স্বীকৃত সংবিধানে এই অধিকারটির কথা বলা আছে। আর্টিকেল ৩৯ এ বলা হয়েছে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতা প্রসঙ্গে।
আর্টিকেল ৩৯ এ বলা হয়েছে-
“Freedom of thought and conscience is guaranteed”
“চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইলো”
এই অনুচ্ছেদটি সংবিধানের তুতীয় ভাগ মৌলিক অধিকার অংশে রযেছে। উল্লেখ্য এই অনুচ্ছেদ ৩৯(১) এ কোন রকমের রেস্ট্রিকশনের (বাধানিষেধ) কথা বলা হয় নি।
এবার আর্টিকেল ৩৯ (২) এর দিকে লক্ষ্য করি-
Subject to any reasonable restrictions imposed by law in the interests of the security of the State, friendly relations with foreign relations with foreign states, public order, desency or morality, or in relation to contempt of court, defamation or incitement to an offence-
(a) the right of every citizen to freedom of speech and expression
( b) freedom of press
are guaranteed.
“রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলতা, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানী বা অপরাধ, সংগঠনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে-
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের
এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার
নিশ্চয়তা দান করা হলো।

আর্টিকেল ৩৯ (২) তে যে যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধের কথা বলা হয়েছে তা আরো ভালোভাবে বুঝতে হলে লক্ষ্য করতে হবে ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস, ১৯৪৮ এর আর্টিকেল ২৯(২) এর দিকে-
“In the exercise of his rights and freedoms, everyone shall be subject only to such limitations as are determined by law solely for the purpose of securing due recognition and respect for the rights and freedoms of others and of meeting the just requirements of morality, public order and the general welfare in a democratic society.”
এই পর্যায়ে দৃঢ়ভাবে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের সংবিধানের মাধ্যমেই চিন্তা, বিবেক, বাক এবং ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রতি এই অধিকারগুলো দিতে বাধ্য।

এখন প্রশ্ন হলো, মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেন প্রয়োজনীয়? আমি মনে করি শাসকগোষ্ঠির জন্য জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে কোনভাবেই একটি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। যখনই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যাবো তখনই উম্মুক্ত নাগরিক ভাবনার আওতায় আসতে হবে। আর তখনই প্রয়োজন নাগরিকদের ভাবনাসমূহ বা মতামত প্রকাশের জন্য ভীতিহীন একটি কাঠামো নির্মাণের, যে কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট নাগরিক নির্ভয়ে তার মতামত প্রকাশ করতে পারবে। নাগরিকের সে ভাবনা আলোচনা কিংবা সমালোচনা নির্ভর হতে পারে। মিঠে হোক আর তেতোই হোক নাগরিকগণের ভাবনা, দাবি বা পরামর্শসমূহ গ্রহন করার মতো মানসিকতা সরকারের থাকতে হবে। কারণ সরকার প্রণীত সংবিধানই নাগরিক হিসেবে আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার বৈধতা দেয় এবং সে সুবাধে সরকার আমার সে অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য।

কৃতজ্ঞতা : একরামুল হক শামীম ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28848177 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28848177 2008-09-26 15:50:07
প্রৌঢ় প্রধান ফটকে প্রহরীর পিঠ চুলকায়। নিয়মিত প্রত্নতাত্বিক
হয়ে যাচ্ছো - বাঁশের খিলাইল, বেতের লাঠি,
পানের বাটাসহ প্রবেশ করছো ইতিহাসের কাল সুড়ঙ্গে।
প্রথম বন্ধনী কুঁজো শরীরটার ক্লান্ত হামাগুড়ি টেনে
নিয়ে যাচ্ছে উপাসনালয়ের দু'এক সিঁড়ি, তসবীহ,
নামাজ চৌকি, পুঁজোর প্রসাদ বাটি, গীর্জার সামনে শুয়ে থাকা
এককেটি ইতিহাসের ক্রুশ চিহ্নে টান পড়া চাহনীসুদ্ধ তুমি
গমন করছো ইতিহাসে; খুঁজে চলছো সন্ধির শেষবর্ণ।
মিশে যাওয়া অবান্তর সব দর্শন তোমার কাছে ঠেকেছিলো
ধর্মগ্রন্থের অন্ধকার হরফের মতো পবিত্র। তুমিও নির্বিচারে
যৌবনের প্রেমাংশের কামসূত্র গা পোষাকে ঢেকে ঢেকে
যত্নে থুয়ে যাও মৃত্যু ভয় -

উত্তরাধিকারের তিয়াস মেটাতে বাহবা পাওয়া প্রচেষ্টা!

কালোর মাঝে পূত খুঁজে সাদায় ভাবো শুদ্ধতা
আলো হয়েছিলো আঁধার বৈকি!
মিথ্যে হলো লালার স্রোত, কামনার হাওয়া-
পুন:রায় তুমি শুদ্ধ হও
মৃত্যু ভয়
স্বর্গ
নরক ইত্যাদি
রেখে যাও বিশ্বাসের কোর্তা-
নবজাতক পরবে বলে।

প্রৌঢ়-
তুমি প্রৌঢ়ই থেকে গেলে!
এক অবয়বে শুরু থেকে শেষ;
তরুণ হলে না কভু!
যুবা হলে না কভু!


২৫.০৯.০৮
রাত ১২.৩৫]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28847555 http://www.somewhereinblog.net/blog/sobak/28847555 2008-09-25 00:45:49
বাজি
সপ্তাহ টানা না খেয়ে থাকা ক্লান্ত নাবিকের হঠাৎ দ্বীপ খুজে পাওয়ার সুখের মতোই সুখী হয়েছিলাম কোন একসময়। যখন আমি সত্যিই পথভ্রষ্ট ছিলাম বা দিশায় ছিলাম না। দিব্যি নিজেকে সুখী ভাবতে শুরু করলাম। কয়েক মিনিটে এভারেস্ট জয়ের মতো আত্মবিশ্বাসী হয়ে অবস্থাদৃষ্টে মনে হওয়া অনেক অসাধ্য সাধন করেছিলাম। আজ সত্যিই বিস্মিত হই ওসব ভেবে। মুখ ফসকে বেরিয়ে যায় .......ধ্যাততেরি! আমি স্পষ্ট বলতে চাই আমার কোন দোষ ছিলো না, যখন সে আমাকে স্রেফ জানিয়ে দিলো... আমি তোমার আগেও নেই পাছেও নেই! সেদিন আমার মোটেও অবাক হওয়ার কিছু ছিলো না, যদিও আমি ভাঙতে চেয়েছি প্রাণের সুখে। ভীষণ ভেঙেছিও, একেবারে নুয়ে পড়েছিলাম ভাঙতে ভাঙতে। আশ্চর্য অবিশ্বাসে অশ্রুপাত করেছিলাম নির্বিকার ভঙ্গিতে। নাহ আমার মোটেও তা উচিত হয়নি, মোটেই না। আমার উপলব্ধির মাঝে ছিলো শুভংকরের ফাঁকি। বুঝা উচিত ছিলো সদ্য পৃথিবীকে চেনার চেষ্টায় থাকা একটি বালিকার ভুল হবে পদে পদে। বুঝা উচিত ছিলো............. ইত্যাদি ইত্যাদি।

সবই ছিলো, যা অতীত। তবে আছে কি? যাকে বর্তমান ভাববো? ওরেব্ব্যাস! যা আছে তাও কম কিসের? দুনিয়াসুদ্ধ অবহেলার খঞ্জরাঘাতে সৃষ্ট কিছু মাটিরঙা দাগ কিন্তু পাজরটা ফেঁড়ে নিলেই দেখতে পারবে। কয়জনেরইবা এমন দাগ থাকে? আমার আছে বলে আমি ভাবি হয়তোবা জীবনের এই একটি দিক দিয়ে আমি কিঞ্চিত অভিজ্ঞ। বিষয়টিকে আমার বাবা যেভাবে দেখে আমি সেভাবে দেখতে পারি না। বাবাতো আমাকে বলেই দিয়েছে, টুসি তোকে এভাবে ছ্যাকা দিতে পারলো? আমি ছাক্যা বলি না। তাতে তৃপ্তি পাওয়া যায় না। তবে তৃপ্ত হওয়ার মতো কিছু খুঁজে বার করতে পারিনি।

অনেকদিন পর আবার আমার সাথে যোগাযোগ করে অনুশোচনায় গলাটাকে ভারী করার চেষ্টা করেছিলো। আমি বুঝলাম একটু পর কান্না করার চেষ্টাও করতে পারে। এটা যে তার জন্য খুবই কঠিন হবে, তা বুঝতে পেরে আমি রাগ ওঠিয়ে নিয়ে দুধের বাচ্চার মতো বলে দিলাম ‘খুবইতো ভালোবাসি, সত্যি বাসি!’ তার হাঁফ ছেড়ে বেঁচে যাওয়াতে আমিও দায়িত্ব পালন করার তৃপ্তিতে ভুগতে থাকলাম। একবেলা সময়ের কিয়দাংশ হলেও শিহরিত হয়েছিলো তাকে বুকে জড়ানোর কাল্পনিক সুখে অথবা স্বাস্থ্যবতী ঠোটগুলোর কেবল নড়াছড়াতেই। তাতেই আমার ঋণী হওয়ার কারণ ঘটে গেলো। ঋণ শোধের প্রয়াসে কলুর বলদ হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা জেনেও খোশ মেজাজেই তার জীবন্ত অভিনয়ের সমর্থনে আমিও তাকে ভেবে অযথা হাসতে জানি, মন খারাপ করতে পারি। এর চাইতেও বেশিভাবে কি মানুষ নষ্ট হতে পারে? অথচ বন্ধু মহলে সবসময় এমন একটা ভাব ধরে থাকি যে, আমার ব্যক্তিত্ব কি আর একটি মেয়ের হাতে জিম্মি থাকে! তারাও এমনভাবে তাকায় যে খুবই ব্যক্তিত্বশীল এক পুরুষের মুখোমুখি বসে আছে বা দাড়িয়ে আছে। আর ওইদিকে কতগুলো মেয়ের উচ্চকিত বলাবলি ‘ছেলেটা নিশ্চিত গোবেচারা টাইপের, কেমন গাধা বানাচ্ছি তাকে!’ এমন গাধার্থ বিশেষন স্ব-ইচ্ছায় বরণ করে নেয়ার মাঝে যদি বিন্দুমাত্র সুখও না থাকতো তবে কি আর আমি তা মেনে নিতাম?

ভালোই চলছিলো। প্রেম আর প্রেম। আমিতো প্রায়ই বৌ বলে ডাকি। আহারে... তার হাসিতে যে পাড়ায় পাড়ায় ডাক পড়ে, কতোই না কলরোল। আমিও খুব মুগ্ধ হতে শিখে গেছি। অভস্ত্য হয়ে গেছি শিহরণে। কিন্তু বাজিতে সে বোধ হয় হেরে যাচ্ছে। আবার তার মনের গতি ভিন্নধারায় প্রবাহিত হওয়ার প্রানান্তকর চেষ্টায় খালি বাঁক নিচ্ছে। আমিও কোমর পেঁছিয়ে নেমেছি নদীকে সাগরেই মেশাতে। আর কতো, হারতো মানতেই হবেই। খালি তাকে ফেরানোর চেষ্টায় থেকে ভরাপেট শূন্য করে আমি ক্ষুদার্ত হচ্ছি নির্বিবাদে। শক্তিহীণ হতে মোটেও দেরি নেই। আরে বাবা- আমি ক্ষুদাকেতো অস্বীকার করতে পারি না।

হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা করে সে এখন আমাকে বলে ‘এখানে খালি প্রেম আর প্রেম, সারারাত রুমমেটরা ছেলেদের সাথে ফোনালাপে ব্যস্ত, প্রেমের অফার পেতে পেতে আমি ক্লান্ত, খুব ভয়ে আছি- যদি না আবার মন আমার মোড় নিয়ে নেয়, তবেতো সব শেষ’। সারারাত ধরে ভেবেছি। বিশ্বাস করুন, সারারাত খালি ভেবেছি কেন মোড় নেবে? আমারতো সবই ঠিকঠাক আছে। শরীরটা একটু স্বাস্থ্যহীণ হলেও যৌনভাবে সক্ষম আছি। চেহারাটাও আগের চাইতে ভালোই রোমান্টিক হচ্ছে বলে কলিগেরা বলে থাকে। তবে কেন তার এভাবে মোড় নেয়ার কথা আসে? তা কি শুধু দেহের জ্বালার জন্য? তবেতো সেই দেহের রহস্য আবিষ্কার করার দরকার হয়ে পড়েছে। দরকারী ভেবে সারা রাত জেগে এক্স রেটেড সাইটে নগ্ন নারীর দেহ দর্শনে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। একেকটা মডেলের দেহের ভাষার কাছে আমার রুচিবোধ জয়ী হতে থাকল স্বাভাবিকভাবেই। তবুও দেখছি আর ভাবছি, প্রতিটি মনের রাণীই যদি এমনটি ভাবতে থাকে তবে কষ্ট করে পাত্রী দেখে, লোক লাগিয়ে খবর নেয়ার কোন দরকার পড়ে না- মেয়েটা আদৌ সতী কি না! রাতে হাতে হাতে বদল হওয়া মেয়েদের শরণাপন্ন হওয়াই শ্রেয় এবং নিরখচায় শাদী মোবারক সম্পন্ন করা যায়।

তবুও তাকে জয়ী করার প্রচেষ্টায় আমার সততার কথা না ভাবলেই নয়। আমি বলছি না যে, শুধু তাকে জয়ী করতেই আমি এতো সময় ব্যয় করি না। এতো মহৎ হাতেম এখনো হতে পারিনি। সরল স্বীকারেই বলছি, তাকে নিয়ে দেখা সেই এক বালিশে ঘুমানোর স্বপ্ন আমার মাঝে ভালোই আন্দোলিত হয়। এখানেই আমি বেশ্যা হয়ে গেলাম আর সে হলো স্বাতী। তবুও অধিকতর সংশয় নিয়ে আমি নাখুশিই রইলাম। কারণ তার হাবভাব বলে সে বাজিতে জিততে পারবে না। অদূর কালেই সে মোড়