গল্পের প্রতিটা লাইন সত্যি। পড়ুন করণীয় ব্যক্ত করুন.......................
ফরিদ সাহেবর মনটা খুবই বিষন্ন। ব্যবসার অবস্থাটা কয়েকমাস ধওে ভাল যাচ্ছেনা। বেশ কয়েকটা ছোট খাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও লাভের অবস্থা তেমন না। এর মধ্যে গ্রামের বাড়িতে টাকা পাঠানো, স্ত্রী-সন্তান, ঢাকায় দু ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ, কর্মচারিদের বিল, বাজার সদাই সবকিছু মিলে কয়েকদিন ধরে হাফিয়ে উঠেছেন তিনি। তবে সংসার নিয়ে খুব একটা ভাববার সুযোগ নেই তার। দোকানের মালিক হওয়া সত্ত্বেও কর্মচারিদের মত খাটুনি করেন তিনি। সপ্তাহের মধ্যে মাত্র একদিন এই শুক্রবারে কয়েক ঘন্টার জন্য অবসর পান তিনি।
আজ সেরকমই একটি শুক্রবার। সকাল থেকেই তার মনটা বিষন্ন। ঘুম থেকে উঠে টানা দুই ঘন্টা পত্রিকা পড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ের রাতের নোংরা করা কাথাঁ নিজ হাতে পরিষ্কার করেন। যাতে স্ত্রীর কষ্ট না হয়। প্রায় এক মাস ধরে বাসায় কোন কাজের মেয়ে নেই তো তাই। একটু একটু ক্ষুধা লাগতে থাকে তার। সকালে এখনো নাস্তা করা হয়নি। অবশ্য নাস্তা তৈরীও হয়নি। স্ত্রী রাতে শোবার সময় ঘোষণা দিয়েছে ‘কাল থেকে বাসায় কোন চুলা জ্বলবেনা।’ অর্থ্যাৎ রান্না হবেনা তাই সবার খাওয়াও বন্ধ। অবশ্য এর পেছনে একটি কারণও ছিল। কারণটি হলো গত কয়েকদিন আগে একটি পত্রিকার বিনোদন পাতায় স্ত্রী দেখতে পান, আগামী ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসছেন বলিউড হার্টথ্রব শাহরুখ খান ও তার পাচঁজন সেলিব্রেটি সতীর্থ। সে সময় তার স্ত্রী বায়না ধরেছে তাকে সেই অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতে হবে। একে তো স্ত্রীর কোন ইচ্ছায় অপূর্ণ রাখেন না ফরিদ সাহেব। নিজের রক্ত বিক্রি করে হলেও মা-বাবা, স্ত্রী-কন্যা, ভাই-বোনদের শখ-আহ্লাদ পূরণ করেন। তাই মনে মনে তারও ইচ্ছা ছিল বৌকে সাথে নিয়ে দেখে আসি শাহরুখকে। কিন্তু সে সাধ্যতো সবসময় থাকেনা। পরদিন পত্রিকায় দেখতে পান প্রতি কমপক্ষে পাঁচ হাজার। সুতরাং কন্যাসহ মোট তিনটি টিকিটের জন্য ১৫ হাজার টাকা যাবে তার। এই মুহুর্তে একটু বিলাসিতার জন্য ১৫ হাজার খরচ করার একেবারে অসম্ভব ছিল তার কাছে। তাছাড়া কিছুদিন আগে রোজার ঈদে সব আতœীয় স্বজনদের বাজার করে ও পারিবারিক খরচ নিয়ে প্রায় লাখ খানেক টাকা খরচ হয়েছে তার। তাই সেদিন থেকেই স্ত্রীকে বোঝাচ্ছিলেন অনুষ্ঠানে না যাওয়ার জন্য। কিন্তু স্ত্রী তা শুনতে একেবারে নারাজ। কয়েকদিন এ নিয়ে কথা কাটাকাটি-বকাবকির পর বৃহস্পতিবার রাতে না পেরে একতরফা কথা শোনান স্ত্রীকে। তার স্ত্রীও দমবার পাত্র নয়। শুরু করল পাল্টা ঝগড়া। উল্টা বকা দিতে দিতে নিজের স্বামীকে অথর্ব করে ছাড়ল সে। শেষমেষ স্ত্রীর ঘোষণা “ তুমি যদি না নিয়ে যাও, তবে কাল থেকে আর রান্ন হবেনা।”
একারণেই সকালে নাস্তা হয়নি তার। কিন্তু ক্ষুধাতো আর কারো কথা শোনেনা। তাই সকালে বেশ আদর করে স্ত্রীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেন একটু নাস্তা তৈরী করার জন্য। স্ত্রী ঘুম থেকে ওঠার পরপরই আবার শুরু হয় শাহরুখ বিতর্ক। একসময় স্ত্রীকে বলতে থাকেন, “তুমি আমাকে কী দিয়েছো! কখনো স্ত্রীর কোন ইচ্ছা পূরণ করেছ তুমি! দাওনি একটু শান্তি দাওনি একটু বিলাসিতা!!! তোমার মতো ছোটলোকের সাথে বিয়ে করায় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে!!! নিজের বৌকে খাওয়াতে পরাতে পারেনা, কোথাও নিয়ে যেতে পারেনা!!! তোমার তোমার মতো স্বামী থাকার চেয়ে না থাকায় ভালো!!! আরো অনেক অনেক কথা................!!!” এতক্ষণ এসব কথা শুনছিলেন ফরিদ সাহেব। আর নিজের কানকে বিশ্বাস করাতে পারছেন না তিনি এসব কী শুনছেন! যার একটু সুখের জন্য নিজের দোকানে কলুর বলদের মতো খাটেন তিনি তার এই প্রতিদান। হায়রে বলে বড় এক নিশ্বাস ছাড়েন তিনি। করার কিচ্ছু নেই দেখে মনে মনে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন বাতাসে, হায়রে শাহরুখ হালায়, তুই ঐ দেশে না মরে আমার দেশে মরতে আসছিস কেন???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



