পৃথিবীর নগরে নগরে ঘুরি
অলিতে গলিতে পাড়ায় পাড়ায়
দেখি ,শুনি, বুঝি না কিছুই
মহামান্য ঈশ্বর আর আমি
আমাদের দারুন চলছে এখন।
মাঝে মাঝে আমরা নগর দর্শনে বের হই
হাভাতে মানুষের পাঁজরের হাড় গুণি
এক দুই তিন করে একদম নির্ভুল গুণতে পারি
এখানে ঈশ্বরের একদম ভালো লাগেনা
উঁনার দারিদ্রভীতি কাজ করে।
আমরা মাঝে মাঝে নগর দর্শনে বের হই রাতে
ঈশ্বর আর আমার সম্মুখে হাজির হয় কতিপয় বেশ্যা
ঈশ্বর আৎকে ওঠেন।
আমি তাকে অভয় দিয়ে বলি
চলুন একজন বেশ্যার জীবন উপভোগ করি
রাত্রিভর বেশ্যার ডাকাডাকি শুনি ওয়ে ওয়ে..
হেই লাগা লাগা লাগা লাগা লাগারে...
নগরের মোড়ে সিনেমা হলের পাশে
বেশ্যার রিকসা গুণে গুণে দেয় ষোলটি চক্কর
ঈশ্বরের মাথা ঘুরতে থাকে।
আমাদের চোখের সামনে বেশ্যার লাল ঠোঁট
চেটে চেটে খায় একদল চেটে খাওয়া প্রাণী।
বেশ্যাদের রাত অন্ধকারময়
দিনে অন্দকারময় বেঘোর ঘুম
লাইটের আলো জোঁনাকের আলো এদের নিত্য সঙ্গী
অসূর্যস্পর্শা বেশ্যার জীবন দেখে ঈশ্বর
শরমে মরমে গিয়ে পৌছেন
আমিও হাসি লাজুক হাসি!
ঈশ্বর আর আমি
আমি আর ঈশ্বর
দু'জনে মিলে দামি বেশ্যাদের ঘরে যাই
তাদের কথা,হাসি,হাঁটা চলা
সব বিক্রি হতে দেখে ঈশ্বর তাজ্জব বনে যান
আমি ঈশ্বরের পিঠ চাপড়িয়ে সামনে তাকাই
দামী বেশ্যাদের দেখে ঈশ্বর আর আমি
আমাদের কেমন কেমন লাগে!
আমরা তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসি।
তারপর আমরা, ঈশ্বর আর আমি
উপরের তল্লাটের মানুষের কাছে যাই
ঐখানে যেতে অবশ্য আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়,
আলো এত আলো! ঝলমলে আলো !
আমরা তাকাতে পারিনা
আমাদের চোখে ঝলক লাগে।
আমরা চলে আসি।
আমি আর ঈশ্বর
ঈশ্বর আর আমি
ক্লান্ত হয়ে একটি বৃক্ষের নীচে বসি
বিশ্রাম নিই ,মানুষের কথা বলি
মানুষের বৈষম্যের কথা বলি।
আমি ঈশ্বরের দিকে আঙ্গুল তাক করি
ঈশ্বর আমার দিকে আঙ্গুল তাক করেন
ঈশ্বর আর আমি
আমি আর ঈশ্বর
খুনাখুনি করি,রক্তারক্তি করি।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



