দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু কোনো না কোনো ইনজুরিতে মারা যায়। আর এর মধ্যে ১৮ হাজার শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে।
ইন্টারন্যাশনাল ড্রউনিং রিচার্স সেন্টার- বাংলাদেশ (আইডিআরসি-বি) স�প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আমিনুর রহমান এ বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "পানিতে ডুবে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি শিশু মৃত্যু ঘটে। গত তিন বছর ধরে এক গবেষণার ফলাফলে আমরা দেখেছি� দেশে যে কোনো ধরনের ইনজুরিজনিত মারা যাওয়ার ঘটনা এক তৃতীয়াংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা কমানো সম্ভব হয়েছে ৪৫ শতাংশ"।
ইনজুরিজনিত এসব ঘটনা সাধারণত ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঘটে।
আমিনুর রহমান জানান, ২০০৫ সাল থেকে দেশের চারটি উপজেলায় ইনজুরিজনিত মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। ইউনিসেফের আর্থিক সহায়তায় সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিচার্স বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) এ কার্যক্রম চালায়।
এ বছর সিআইপিআরবি'র একটি স্বতন্ত্র শাখা আইডিআরসি-বি খোলা হয়েছে শুধু পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গবেষণার জন্য।
"আগে মনে করা হতো শিশুদের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা প্রতিরোধযোগ্য নয়। কিন্তু নিরাপদ বাড়ি, নিরাপদ স্কুল, কমিউনিটি প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা তৈরির মতো কর্মসূচি নেওয়ার পর এ ধরনের ইনজুরিতে মারা যাওয়ার ঘটনা কমানো সম্ভব হয়েছে", বলেন আমিনুর রহমান।
আইডিআরসি-বি'র পরিচালক জানান, আগামী ৪ ডিসেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।
সিআইপিআরবি'র তথ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবে যাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণীর কামড়, আত্মহত্যা, পড়ে যাওয়া, শ্বাসরোধ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, সহিংসতা, পুড়ে যাওয়া-এইসব ইনজুরিজনিত কারণে শিশুদের মৃত্যু ঘটে।
পানিতে ডুবে মৃত্যু
বাংলাদেশে এক বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ হচ্ছে পানিতে ডুবে ডাওয়া। হাঁটতে শেখার আগে ৪ বছরের কম বয়সী শিশু সবচেয়ে বেশি পানিতে ডুবে মারা যায়।
গ্রামাঞ্চলে মায়েরা শিশুদের উপর নজর রাখতে না পারায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পানিতে ডুবে মৃত তিন চতুর্থাংশ শিশু বাড়ি থেকে মাত্র ২০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত জলাশয়ে ডুবে মারা যায়।
আমিনুর রহমান জানান, ৫ বছর বা তদুর্ধ্ব সাঁতার জানা শিশুরা সাধারণ পানিতে ডুবে মারা যায় না। আর ৯ বছরের মধ্যেই অনেক শিশু সাঁতার শিখে যায়।
"পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু কমাতে উদ্যোগী হয়ে শিশুকে সাঁতার শেখাতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্করা শিশুদের তত্ত্বাবধান করবে এবং বাড়ির কাছাকাছি জলাশয়ের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে হবে। আমরা এই প্রশিক্ষণটাই দিচিছ", বলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, শেরপুর সদর, নরসিংদীর মনোহরদী ও মিরপুরে দুই লাখ করে প্রায় আট লাখ লোককে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংস্থাটি জানায়, প্রতিদিন পানিতে ডুবে অন্তত ৪৬ জন, সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন, প্রাণীর কামড়ে ৭ জন, আত্মহত্যায় ৬ জন, পড়ে গিয়ে ৫ জন, শ্বাসরোধে ৩ জন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজন, সহিংসতায় একজন, পুড়ে গিয়ে একজন এবং অন্যান্য ইনজুরিতে একজন শিশুর মৃত্যু হয়।
"মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে অনুর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার দুই তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনাই লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ইনজুরি প্রতিরোধ কার্যক্রম স্বাস্থ্য কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা প্রয়োজন", বলেন আইডিআরসি-বি পরিচালক আমিনুর রহমান।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



