সাতাশ বছরের যৌনতা
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪৯
আমার বয়স যখন সাতাশ তখন আমার মাথায় একটা ভূত চেপেছিল। তখন আমি ময়মনসিংহে থাকি। ময়মনসিংহ শহরের পাবলিক লাইব্রেরিতে এসে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের বই নিয়ে যাই। পাবলিক লাইব্রেরির তাক থেকে পছন্দের বইটা খুঁজে বের করা যে কী কঠিন তা ভুক্তভোগীরা জানেন।
তো, একদিন পাবলিক লাইব্রেরির সমাজ ও মনস্তত্ত্ব বিষয়ক বইয়ের তাকে কিছু বই দেখে আমার চোখ আটকে যায়। এখন সেই বইগুলোর সব কটির নামও মনে নেই।
ততদিনে আমার যৌনতা বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান (তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক) লাভ করা হয়ে গেছে। পড়ে ফেলেছি বিদুৎ মিত্রের `যৌন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান', জেবিএম জাফর সাদেকের `পুরুষের যৌন সমস্যা ও তার চিকিৎসা', ঋষি বাৎসায়নের কিছু আসনকলার সচিত্র বিবরণ এবং আবুল হাসনাতের `যৌনবিজ্ঞানে'র তিন খণ্ড। এসবের ফাঁকে ফাঁকে ভিসিডিতে পর্নোগ্রাফি দেখা, চটি পাঠ ইত্যাদিও হয়েছে। কিন্তু পাবলিক লাইব্রেরির তাকে সাজানো `সেক্স অ্যান্ড সোসাইটি'র মতো পুস্তকগুলো পড়া হয়নি তখনো। পাবলিক লাইব্রেরি থেকে সেই বইটি নিয়ে আমি গোগ্রাসে পড়তে চাইলাম। ইংরেজি জ্ঞান ভালো না হওয়ায় সেভাবে পড়া হল না। তবে ধৈর্য সহকারে পড়ে শেষ করলাম ঠিকই।
এরপরই আমারও একটি বই লেখার তীব্র ইচ্ছা জাগল। আমার সাতাশ বছরের জীবনে যৌনতার অভিজ্ঞতাগুলো সামাজিক প্রেক্ষাপটসহ একটি বইয়ে উপস্থাপনের ইচ্ছা থেকে বইটির নামও ঠিক করলাম: `সাতাশ বছরের যৌনতা'। কিছুদূর বইটি লেখাও হল। নিজের কাছে এই বই লেখার যুক্তি হচ্ছে, সাতাশ বছরের এক যুবকের যৌনতা ও সমাজকে একসঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক ও বিরোধের দিকগুলো ধরে উপস্থাপন করা। আমার কিছু লিখিয়ে বন্ধুর সঙ্গে এ নিয়ে পরামর্শও করলাম। তারা কেউই আমাকে উৎসাহিত করল না। তারা বলল, এই বই লিখলে সামাজিক জীবনে তুমি সমস্যায় পড়বে।
সাতাশ বছর পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু ওই বইটি লেখার ইচ্ছা থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সাতাশ বছরের যৌনতা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: দিনপঞ্জি বিভাগে ।
এরশাদ বাদশা বলেছেন:
লিখে ফেলুন.....+++
লেখক বলেছেন: খুবই সত্য কথা। তবে আমি কুমার ছিলাম না।
শাহারিয়ার আহমেদ বলেছেন:
লেখা উচিত, সবার মনে রাখতে হবে, এটা পর্ণের কোন বিষয় না। সমাজের জন্য এটা প্রয়োজন।
আজমান আন্দালিব বলেছেন:
একজন লেখকের চিন্তা-চেতনা থেকেই তো সাহিত্যের সৃষ্টি হয়।......তাই লিখে ফেলুন এবং পড়ার সুযোগ করে দিন........
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, বেশ উৎসাহিত বোধ করছি।
লেখক বলেছেন: কুমারই থাকুন। সতি থাকার মতো সৎ থাকারও আমাদের সমাজে মূল্য আছে।
দি বিডি নিউজ বলেছেন:
ভাই আপনে কি খুব বেশী হাত মারেন ?
নাজিম উদদীন বলেছেন:
এখনই সময়, লিখে ফেলেন।
মাহবুব মোর্শেদ বলেছেন:
লেখ। লিখে ফেল।
লেখক বলেছেন: আর্তনাদ শুনে মনে হচ্ছে বই নয়, বউ দরকার।
নজরুল কবীর বলেছেন:
ব্লগেই পর্ব পর্ব ভাগ করে লিখে ফেলুন। সামাজিকজীবন ব্যাহত হবে কেন? আপনি তো আর আপনার ব্যক্তিগত যৌন অিভজ্ঞতার রগরগে বর্ণনা লিখছেন না!
আপনার কী জানা আছে , আলেক্সজান্দ্রা কল্লোনতাই 'সেক্সুয়াল রিলেশন
এন্ড ক্লাস স্ট্রাগল' শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। এবং তিনি সোভিযেত কমিউনিষ্ট পার্টির একমাত্র মহিলা, যিনি সাধারন সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
লেখক বলেছেন: না, জানতাম না, ধন্যবাদ আপনার পরামর্শের জন্য। আবারো ঋণি থাকব, যদি বইটাই দেন।
হেলাল খান বলেছেন:
সন্তান এটা ভাবতে পছন্দ করে তার বাবা মা রাতে ঘুমিয়েছে একসাথে, সেক্স-টেক্স করেনি!সেক্স সম্পর্কে খুব নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বড় হয়েছি বলে অনেকেই আমরা তা মনে করি্।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই, আপনার মন্তব্য পরিপূরক।
মুজিব মেহদী বলেছেন:
বন্ধুদের কথা কানে নিচ্ছ কেন মিয়া? ঠেসে লিখে ফেল। কোনো লেখা লিখে সামাজিক জীবনে অসুবিধা হবে কি হবে না এটা জানতে বন্ধুদের কাছে কান পাততে হচ্ছে কেন তোমার? তুমি কি শিশু নাকি? যদি তাই হও, তাইলে তো তোমার এসব বই পড়াই অন্যায় হইছে।
যা যখন লিখতে চাও তা তখনই লিখে ফেল। অসুবিধা মনে হলে ছেপো না। তোমার পোলা টাকার সমস্যায় পড়লে ওইটা কোনো প্রকাশককে গছিয়ে দিয়ে উদ্ধার পাবে। এটা কম কী বলো!
লেখক বলেছেন: আসুন না, আপনার অভিজ্ঞতা আর আমার অভিজ্ঞতা মিলিয়ে লিখি। প্রকাশকের দেওয়া টাকাটা না হয় ভাগাভাগি করেই নিলাম।
মুর্তজা হাসান খালিদ বলেছেন:
লিখে ফেলুন ! যা বাস্তব তাই করে দেখানো তো সৎ সাহস !!
ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ বলেছেন:
ধন্যবাদ, উৎসাহিত বোধ করছি।
সার্কিট বলেছেন:
বন্ধুদের কথা ভেবে নয়, লিখুন নিজের আনন্দের জন্য। যদি আপনার মন চায় অবশ্যই লিখুন। অপেক্ষায় রইলাম।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, ধন্যবাদ।
ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ বলেছেন:
ধন্যবাদ, ধন্যবাদ।


















