আবার এসেছে ঈদ। ঈদকে জাতীয় উৎসবের বাইরে ভাবার সুযোগ নেই। শুধু ধর্ম দিয়ে একে দেখারও দরকারও নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে ঈদ একটা উৎসব, সামাজিক উৎসব। কোনো দেশে যেমন যুদ্ধ লাগলে সবাই আক্রান্ত হয়, তেমনি উৎসব লাগলেও কেউ বাকি থাকে না। কথাগুলো এভাবে বলার কারণ আছে। অনেকেই ঈদকে একটা ধর্মীয় ব্যাপারে মধ্যে সীমাবদ্ধ দেখতে চান। তারা হয়ত প্রগতিশীল, কিন্তু তারাও চরমপন্থি_ চরম প্রগতিশীল।
বাংলাদেশের অনেক অনেক মানুষ ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরবে, গ্রামের বাড়ি। বিশ্বের অনেক দেশেই ঐতিহ্যিক উৎসবে বাড়ি ফেরার প্রবণতা আছে। বাংলাদেশের মানুষও গ্রামে ফিরছে। নগর ফাঁকা হয়ে গেছে। নগর এই সুযোগে একটু হাঁফ ছেড়ে নেবে। কয়েকদিনে একটু দম নেবে। গায়ে একটু হাওয়া লাগাবে।
গ্রামগুলো মুখর হয়ে উঠবে। হৈহুল্লোর আর আনন্দের সীমা থাকবে না গ্রামগুলোর। গ্রাম ও গ্রামের মানুষ তাদের আপনজনদের ফিরে পাবে। বছরে একবা দুই বারের বেশি গ্রাম ও গ্রামের মানুষ এ সুযোগ পায় না। এই আনন্দে গ্রাম আপনাকে নিসর্গ দিয়ে চোখ জুড়িয়ে দেবে। তাজা খাবার দিয়ে পেট ভরিয়ে দেবে। ভালবাসা আর আদর দিয়ে মন ভরিয়ে দেবে।
এই উৎসবে গ্রাম আপনাকে তার দুঃখ, কষ্ট ও ক্ষত দেখাবে না। যতটা সম্ভব এগুলো আপনার থেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে।
আপনারা যারা বছরে এক আধবার গ্রামে যান। তারা অন্তত এবার গিয়ে গ্রামগুলোর দুঃখের খবর নেবেন। গ্রামের হারানো মাঠ, বন, বিল, গোপাট রাস্তা, মানুষ_ এদের খবর নেবেন। কীভাবে গ্রামগুলোর ভালো করা যায়, কয়েকদিনের অবসরে গ্রামে থেকে তা একটু ভেবে দেখবেন। শুধু ভাবা নয় কিছু কাজও করে আসার চেষ্টা করবেন। আগামীতে গ্রামে গেলে যাতে গ্রামের উন্নয়নে আপনার করা কাজ দেখেই আপনার মন জুড়ায়। আগামীতে যাতে গ্রাম যেন আপনাকে আরও আদরে বুকে জড়িয়ে নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকে।
ঈদে গ্রামে যাবেন, ঘুরবেন ফিরবেন চলে আসবেন। এটা কেমন একটা বেইমান বেইমান ব্যাপার হয়ে যায়। আপনি শুধু আপনার আনন্দটুকু নেওয়ার জন্য গ্রামে যাবেন না। গ্রামকেও কিছু আনন্দ দিয়ে আসবেন। আপনার আত্মীয়-স্বজনের মতো গ্রামও কিন্তু এক পরমাত্মীয়, তাকে বঞ্চিত রাখাটা বিবেচকের কাজ হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



