চাই জিযিয়ানের গল্প
অনুবাদ: ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ
প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষে কিংবা অক্টোবরের শুরুর কোনো সন্ধ্যায় ‘কাঁদুনে’ মাছেরা শাইচ্যুয়ান নদীর উজান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ভাটির দিকে নেমে আসে। সারাটা পথ রোদন করতে করতে আসে তারা।
কচ্ছপের মৌসুমের উত্তেজনা আর ক্লান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই শীতের প্রথম তুষারপাতের আভাস পাওয়া মাত্রই জেলেরা তাদের জালযন্তর নিয়ে আবার নতুন উদ্যোমে প্রস্তুত হতে থাকে: কিছু না কিছু কিছু কাঁদুনে মাছ তাদের ধরতেই হবে, কেননা এ মাছ ধরার ওপরই নির্ভর করে তাদের সারা বছরের ফসল ও স্ত্রী-সন্তানের ভাগ্য।
শাইচ্যুয়ান নদীতেই কেবল কাঁদুনে মাছ পাওয়া যায়। এদের শরীর কমলার মতো গোলগাল, ডানাগুলো লাল আর আঁশগুলো নীল। প্রতি বছর প্রথম তুষারপাতের সময় এরা নদীতে আসে আর সাথে নিয়ে সহজাত বিলাপ, যা নদীময় অনুরণিত হতে থাকে।
কাঁদুনে মাছ ধরার পর সত্যি সত্যি তাদের চোখ থেকে কান্না ঝরতে দেখা যায়। লাল লেজ নাড়তে নাড়তে তারা কাঁদে। তাদের আঁশের গভীর নীল দ্যুতিকে ফুলের পাপড়ির মতোই মনে হয়। নরম কানকোগুলো হাঁপরের মতো উঠানামা করে। জেলেবৌরা এই মাছগুলোকে তাড়াতাড়ি বড় একটা কাঠের গামলার পানিতে রেখে পরম মাতৃস্নেহে সান্ত্বনা দেয়: ‘কাঁদে না, কাঁদে না লক্ষ্মী সোনা, এখানে থাকো, কেঁদো না, কেঁদো না।
সত্যি সত্যি তারা তখন কান্না ভুলে মানুষের দেয়া অপ্রত্যাশিত আদর ও উষ্ণতা উপভোগ করে। গামলার ভেতরে জিইয়ে রেখে কান্নার স্বর পাওয়া যায়_ এমন মাছ আর দ্বিতীয়টি নেই। কাঁদুনে মাছেরা সচরাচর প্রথম তুষার দিনের প্রথম সন্ধ্যার প্রথম অন্ধকারে ভাটির দিকে ছুটে আসে। জেলেরা বিকেলের মধ্যেই নদীর তীরে তীরে তাদের অগ্নিকুণ্ড সাজিয়ে ফেলে। দূর থেকে সেসব অগ্নিকুণ্ডকে এক একটা বিশাল জ্বলজ্বলে সোনার পাত্রের মতো মনে হয়।
...চলবে...
[চীনের খ্যাতিমান নারী লেখকদের একজন চাই জিযিয়ান। জন্ম ১৯৬৪ সালে চীনের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় হেইলংযিয়াং প্রদেশের মোহে শহরে। এখনো সেখানেই তার স্থায়ী বসবাস। পড়াশোনা করেছেন লু সুন একাডেমিতে। চীনা লেখক সমিতির সদস্য তিনি। হেইলংযিয়াং লেখক সমিতির ভাইস-চেয়ারম্যান চাই জিযিয়ানের নারীবাদী লেখকের তকমা খাটে না। প্রায়ই তার লেখার বিষয়বস্তু হয় প্রতিদিনের গতানুগতিক জীবন। বর্ণনার অসাধারণ ক্ষমতায় সাধারণ জিনিসকে অসাধারণ করে তোলেন তিনি। চীনের শীতপ্রধান উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, পরিবেশ ও জলবায়ুর চিত্র তিনি তুলে আনেন একেবারে নিখুঁতভাবে।
পশ্চিমা মানদণ্ডে তার লেখায় আবেগের বাড়াবাড়ি আছে বলে মনে হতে পারে। লু সুন সাহিত্য পদক পেয়েছেন তিনবার। এছাড়া দেশে আরো বেশকিছু পুরস্কার পেয়েছেন। দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়ায় পুরস্কৃত হয়েছেন। লিখছেন ১৯৮৩ সাল থেকে। প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য নারী লেখকের তুলনায় বয়সেও তরুণ। লেখালেখির সময়ের বিবেচনায় উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ ও সম্পাদনা মিলিয়ে তার গ্রন্থের সংখ্যাও কম নয়। ইতোমধ্যে তার লেখা ইংরেজি, ফরাসি ও জাপানি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। চীনা সাহিত্যে ১৯৭০ ও ১৯৮০ দশকে একটা বিরাট পরিবর্তন এসেছে। লেখার আঙ্গিক ও বিষয় বৈচিত্র্যে এ সময়ের চীনা সাহিত্য আগের চেয়ে অনেক বদলে গেছে। বলা হয়ে থাকে, এ সময়ের মধ্যেই চীনের লেখকরা বিশ্বের দিকে ধাবিত হতে শুরু করেন। সমসাময়িক চীনা নারী লেখক তো অবশ্যই চীনা লেখদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম চাই জিযিয়ান।]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


