যা হোক, গতকাল কাকতলীয়ভাবে 'খোঁজ- দ্য সার্চ' নামে আজ মুক্তি পাওয়া একটি ঢাকাই ছবির দুটি টিকেট আমার হাতে আসে এবং যে কোন কারণেই হোক (বলতে চাচ্ছি না আরকি!) এই ছবিটি না দেখে কোন উপায় ছিল না। তবে এই ছবিটির বিশালাকার বিজ্ঞাপন বিলবোর্ডে দেখে এবং ব্লগার আমড়া কাঠের ঢেকির এই পোস্ট Click This Link পড়ে ছবিটি সম্পর্কে কৌতুককর কৌতুহল ছিল অবশ্য।
গতকাল জানতে পারলাম, এই ছবির নায়ক অনন্ত সাহেব একটি বৃহৎ পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং সেই কারণে যথেষ্ট পয়সাওয়ালাও বটে। কোন ধরণের মিডিয়াতে পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া ৪৫+ বয়সের একজন 'মালদার' ব্যক্তি যদি হঠাৎ সিনেমার 'নায়ক' হওয়ার খায়েশ পোষণ করেন (তাও আবার অ্যাকশন সিনেমা) তাহলে সেই সিনেমাটি কেমন হতে পারে তা আম জনতা সহজেই উপলদ্ধি করতে পারেন।
গতকাল এই বিষয়ে একটি পোস্ট দেয়ায় অনেক ব্লগার আমাকে ছবিটি দেখে রিভিউ দেয়ার অনুরোধ করেন। চক্ষুলজ্জার খাতিরে তাদের এই অনুরোধ রাখতে আজ নির্দিষ্ট সময়ে বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্সে হাজির হই যাতে সিনেমাটির কোন অংশ মিস না হয়!
সিনেমার রিভিউ লিখতে হলে সিনেমার কাহিনী/চিত্রনাট্য নিয়ে এগোতে হয়। কিন্তু দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, এই সিনেমাটির কাহিনীর কোন আগা-মাথা-লেজ নেই, আসলে কোন কাহিনীই নেই। বাংলাদেশের পটভূমিতে হলিউডি ধাঁচের একটি সিনেমা তৈরির বৃথাচেষ্টা; তাও আবার আনকোরা, বয়স্ক এক নায়ক কাম প্রযোজকের শখ মেটাতে কেমন হতে পারে সেটা ভাবলে সিনেমা প্রেমীদের চোখ কপালে উঠতে বাধ্য! ২ ঘন্টা ধৈর্য্য ধরে এই সিনেমাটি দেখে এবং অনেক কাটছাট করে এর কাহিনী যে টুকু উদ্ধার করতে পেরেছি তা শুধুমাত্র ধৈর্য্যশীল পাঠকদের জন্য নিচে বর্ণনা করলামঃ
ছবির শুরুতে দেখা যাচ্ছে আমাদের নায়ক মহাশয় তার গ্রামের বাড়িতে ফিজিক্যাল ট্রেনিং/প্র্যাকটিস করছেন, সেখানে তার বিধবা মায়ের চুড়ি হাতে আগমন এবং নায়কের বিয়ের কথা বলা এবং যথারীতি নায়কের অস্বীকৃতি জ্ঞাপন। এরপর পর্দায় বাংলাদেশ সিক্রেট সার্ভিস (বিএসএস)-এর প্রধান হিসেবে সোহেল রানার আবির্ভাব (মাসুদ রানা সিরিজের রাহাত খানের মত আরকি!) । এখানে এক জরুরী সভায় সোহেল রানার নির্দেশে এজেন্ট মেজর মাহমুদ হাসান ওরফে অনন্তকে নিউইয়র্ক থেকে তলব করে আনা হল অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের নেতা জনৈক 'নিনো' কে খুঁজে বের করার জন্য। ছবির প্রথম নায়িকা ববি নায়কের সহকর্মী হিসেবে নিনোর ব্যাপারে নায়ককে ব্রিফিং দিলেন এবং তারপর নায়ক মহাশয় গলফ খেলতে গেলেন
To Be Continued…..
অর্থাৎ এই সিনেমাটির আরও পর্ব আছে।
শুনেছি এই সিনেমার দ্বিতীয় পর্বের নায়িকা মিস মালয়েশিয়া পারভীন এবং পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান।
পুরো ছবিতে আসলে যেটা দেখবেন সেটা হচ্ছে উক্ত পয়তাল্লিশোর্দ্ধ থলথলে শরীরওয়ালা অনন্ত মিয়া এক বা একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কখনও আশুলিয়ার মেঠোপথে, কখনও নদীর ধারে, কখনও বিল্ডিংয়ের সিঁড়িতে, কখন সানশেডে, কখন ছাদে,কখনও স্পিডবোটে, কখনও খোলা ময়দানে ভিলেন তাড়া করে ফিরছেন।
ছবির উদ্ভট কাহিনীর পর যে কথা বলতে হয় সেটা হল নায়কের হাস্যকর, ক্ষেতমার্কা বাংলা ও ইংরেজী সংলাপ উচ্চারণ। নায়কের সংলাপগুলো কেন অন্য কাউকে দিয়ে ডাবিং করা হল না আল্লাহই মালুম!
এই ছবি নিয়ে লেখার মত আর কিছু নাই। তবে কাহিনী ও নায়ক এই দুটি উদ্ভট, বিস্ময়কর ও হাস্যকর বিষয় বাদ দিলে যে বিষয়গুলো চোখে পড়ে সেগুলো হল-
১. ছবিটিতে কোন অশ্লীলতা চোখে পড়েনি যেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক ধরে নিয়েছিলাম।
২. ছবির গানগুলো একবারে খারাপ না।
৩. ডাঃ এজাজ ও সোহেল খানের অভিনয় যথারীতি ভাল হওয়ায় দর্শকরা কিছুটা বিনোদিত হয়েছেন।
৪. ছবির আবহ সঙ্গীত একঘেয়ে হলেও বিরক্তিকর নয়।
৫. ছবিটির চিত্রগ্রহণ, সংলাপ এবং সম্পাদনা গতানুগতিক ঢাকাই সিনেমার চেয়ে ভাল হয়েছে।
সিনেমা হলে আমার পিছনে যারা বসে ছিলেন তারা একটু পর পর পর্দায় উপস্থিত হওয়া বিভিন্ন চরিত্রাভিনেতাকে দেখে উল্লসিত হচ্ছিলেন। যেমন যখন 'রুস্তম শের' নামক চরিত্রটি পর্দায় আসে তখন পিছন থেকে কয়েকজন এমডি স্যার বলে চেচিঁয়ে উঠলেন, তাতে ধারণা করলাম- উক্ত ব্যক্তিটি অনন্ত সাহেবের কোম্পানীর একজন কর্মকর্তা এবং পিছনের দর্শকবৃন্দ...... আর বলার দরকার আছে?
সবশেষে যেটা বলতে চাই, ছবিটির কাহিনী/চিত্রনাট্য যদি একটু গোছানো হত, তাহলে প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে উৎরে যেতে পারত। এবং যে পরিমাণ অর্থ এই ছবিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে তা দিয়ে যথেষ্ট ভাল ছবি নির্মাণ করা যেত...... আফসোস
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


