উনি নিজ এলাকায় যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভোট দিতে।
ফেরার পথে একটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল মনে।
এইমাত্র সামুতে সেফ স্ট্যাটাস পেয়ে সেটা সবার সাথে শেয়ার করতে চাই।
১৯৭১ এ আমার বাবা ছিলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ৯ ভাই ও ৭ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।
যুদ্ধ শুরু সাথে সাথে আমার বাবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে হিলি-আমবাড়ি সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যান।
একমাস গেরিলা যুদ্ধের ট্রেনিং নিয়ে তিনি আবার নিজ ভুখন্ডে ঢুকে পড়েন এবং সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থানা কমান্ডে বাবার বীরত্বের কথা শুনে গর্বিত হয়েছি।
যাহোক, মূল কথায় আসি।
আমাদের গ্রামটি উক্ত থানার সবচেয়ে বড় গ্রাম। ১৯৭১ লোকসংখ্যা ছিল মাত্র ৩০০-৩৫০ জনের মত।
এর মধ্যে যুদ্ধে অংশ নেয়ার মত সুযোগ ও সামর্থ্য ছিল আমার ধারণা কমপক্ষে ৫০ জনের।
এর মধ্যে আমার বাবা ও তার চাচাতো ভাইয়েরাই ছিলেন প্রায় ২০ জন।
অথচ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন আমার বাবা এবং তার একজন চাচাতো বড় ভাই সহ বড়জোড় ৫-৬ জন।
বাকী যাদের সামর্থ্য ছিল তারা হয় বেশিরভাগই পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং দু একজন হয়ত পাকিস্তানী বাহিনীর দোসর হয়ে নিজেদের জান বাঁচিয়েছেন।
এখন আমরা ঢাকার একটি জনবহুল এলাকায় বসবাস করি।
আমাদের বাড়ির আশেপাশে বাবার বয়েসী অনেক 'আঙ্কেল'দের চিনি যাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা শতকরা ৫ জনও হবে কিনা সন্দেহ।
ব্লগে দেখি, বিশেষ এক শ্রেণীর ব্লগার মুক্তিযুদ্ধ কিংবা যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে কীবোর্ডে ঝড় তোলে। স্বাধীনতা যুদ্ধের বাস্তব ও জীবন্ত ইতিহাস বাদ দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণায় ব্যস্ত হয়।
আমার জিজ্ঞাসা, নিজের বাবার কাছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কথা কখনও জানতে চেয়েছেন? কখনও প্রশ্ন করেছেন, সুযোগ এবং সামর্থ্য থাকার সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন কিনা? তাঁর এলাকায় কারা কারা পাকিস্তানি বাহিনী দোসর তথা আল-বদর, রাজাকারদের হয়ে কাজ করেছে?
এভাবে যাদের বাবা-মা বেঁচে আছেন এবং কাছে আছেন, আমরা যদি প্রত্যেকে তাদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা জেনে নিয়ে ব্লগে শেয়ার করি তাহলে বাংলা ব্লগিং জগতে এক ইতিহাস তৈরি হবে।
আমরা কি সবাই পারি না সেই ইতিহাসের অংশ হতে?
তখন রাজাকারদের সন্তানরা কি সামহোয়ার ইনে ব্লগিং করার সাহস পাবে?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১০ রাত ৮:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



