গত দুইদিন ধরে ট্যাবলেট পিসি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করছি। কারণ হলো, খুব শীঘ্রই ওরকম একটি যন্ত্র কেনার জন্য মনটা আকুপাকু করছে। টেকনোলজি বের হবে, আর তা ব্যবহার করতে পারবোনা, এর চাইতে দু:খের আর কি হতে পারে?
তবে এটাও ঠিক, বাংলাদেশে বসে ভালো কিছু ব্যবহারের আশা করাটাও বোকামী। কেননা, প্রথমত: ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড দেশগুলোতে নতুন টেকনোলজীগুলো পুরনো হয়ে গেলে সেগুলো বাংলাদেশে তখন নতুন এবং সুলভে প্রাপ্ত। দ্বিতীয়ত: বাইরে থেকে নতুন রিলিজ হওয়া কোন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র আনতে গেলে দেশের বাইরে নিজের লোক দিয়ে আনাতে হবে। অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কিনতে হবে। তৃতীয়ত: নতুন রিলিজ হওয়া কোন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র বাংলাদেশ থেকে অত্যধিক দাম দিয়ে কিনতে হবে। আবার অনেক যন্ত্র ব্যবহারে টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রয়োজন হয়, যেটা বাংলাদেশে পাওয়াটা কতটুকু নিশ্চিত তা বলা মুশকিল।
পরিচিত একজনের হাতে দেখলাম স্যামসাং গ্যালাক্সী ট্যাব-১ । তার মুখেই শুনলাম, স্যামসাং-ই প্রথম এনড্রয়েড ট্যাবলেট পিসি বাজারে নিয়ে এসেছে যা বাংলাদেশে ট্রান্সকম কোম্পানী বাজারজাত করছে। দাম ১ বছরের ওয়ারেন্টি সহ প্রায় ৪৯,০০০ টাকা যা ব্র্যাক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থাকলে মাসিক প্রায় ৩০০০ টাকার ১৮ মাসের কিস্তিতেও কেনা সম্ভব। তবে স্যামসাং গ্যালাক্সী ট্যাব-২ টাও বাজারে আসবে খুব শীঘ্রই। ট্রান্সকম থেকে না কিনে অন্য কোন ভালো স্টোর থেকে কিনলে ৪২,০০০ এর মধ্যে পাওয়া যাবে ওয়ারেন্টি ছাড়া। আমার পরিচিত সেই মানুষটিকে দেখলাম ওই স্যামসাং গ্যালাক্সী ট্যাব-১-এর ভেতরে বাংলালিংকের সিম কার্ড ভরে সুন্দর ইন্টারনেট ব্যবহার করছে।
তবে ব্যাপক গবেষণা করে এবং বিভিন্ন অভিজ্ঞ মানুষের সাথে কথা বলে জানলাম, গত ২৫ মার্চ, ২০১১ ক্যানাডাতে এবং ১১ মার্চ, ২০১১ আমেরিকাতে অ্যাপলের আই প্যাড-২ রিলিজ হয়েছে। কাড়াকাড়ি অবস্থা। ১৬, ৩২ এবং ৬৪ গিগাবাইটের ৩ টি রং - কালো, লাল এবং সাদাতে পাওয়া যাচ্ছে।
চিন্তা করে দেখলাম 16 GB iPad 2 with Wi-Fi + 3G, Silver with black color - এটা কেনাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এটার দাম ক্যানাডার অ্যাপলের স্টোরে ৬৪৯ ডলার+ ৮৪ ডলার ট্যাক্স (১৩% ট্যাক্স ধরে ক্যানাডায় যেটা আমেরিকাতে ৪ %)+আরও ১৫ ডলার (এনভায়রনমেন্টাল ট্যাক্স) = মোট প্রায় ৭৫০ ক্যানাডিয়ান ডলার বা ৫৩,০০০ টাকার মতো পড়ে যাবে।
তাই অবশেষে ইনশাল্লাহ সুদূর ক্যানাডা থেকে বন্ধু মারফত একটি অ্যপলের 16 GB iPad 2 with Wi-Fi + 3G, Silver with black color কেনার নিয়্যত করেছি। ঢাকাতে দু'-একজন আই প্যাড বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে জানলাম, যেটি কিনতে যাচ্ছি, সেটিতে আমি গ্রামীণ ফোন বা বাংলালিঙ্কের সিম কার্ড ভরে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবো।
আমার উপরের সব তথ্যগুলো নিজস্ব গবেষণা এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে প্রাপ্ত। কাজেই ভুল-ভ্রান্তি থাকতেই পারে। সম্মানিত ব্লগার ভাই এবং বোন, খালাম্মা এবং খালু, চাচা এবং চাচী, ফুফা এবং ফুফুদের নিকট আকুল আবেদন এই যে, যারা আই প্যাড ১ অথবা আই প্যাড ২ ব্যবহার করছেন অথবা করেছেন, তাঁরা তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রদান করে বাধিত করবেন।
সব শেষে আপনাদের জন্য আমার নতুন যে আই প্যাড ২ টি কিনতে যাচ্ছি তার একটা ফটুক দিয়ে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১১ সকাল ৭:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


