সন্তানের জন্য বাবামায়ের স্নেহ ভালবাসাকে বুঝি অন্য কোন উপমা দিয়ে তুলনা করা সম্ভব না। এ এক অদ্ভুত স্নেহ মমতার বন্ধন। বলা বাহুল্য বাবামায়েরা যেভাবে সন্তানকে ভালবাসেন সন্তানের দিক থেকে সাড়া অথবা ভালবাসার ধরনটা সম্পূর্ণ আলাদা থাকে।
আমার বসের দু সন্তানের মধ্যে মেয়েটিকে তিনি প্রাইভেট মেডিকেলে পড়িয়েছেন, অথচ ছেলেকে সাফ জানিয়েছিলেন তাকে তিনি কোনভাবেই প্রাইভেটে পড়াবেন না। নিজ যোগ্যতায় সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চান্স পেলে ভাল। ছেলে মাশাল্লাহ খুবই মেধাবী, ইন্জিনিয়ারিং কলেজ এবং মেডিকেল দুটোতেই চান্স পেল। মায়ের ইচ্ছায় ছেলে মেডিকেল এ পড়তে শুরু করলো। আমাদের বস ও অনেক খুশি, গর্ব মেশানো আনন্দ উপচে পড়ে তার চোখে মুখে। একদিন এক দুর্ঘটনায় দুদলের মারামারির মাঝখানে পড়ে গেল অতিভাল এই ছেলেটি। মারের চোটে তার নাকের হাড় ভেঙ্গে গেল। তখন দেখেছিলাম স্নেহশীল পিতার বাঁধভাঙ্গা কান্না। অবাক হয়ে দেখেছিলাম শুধু............আগে মনে হোত মেয়েটিকে তিনি বেশি ভালবাসেন, তখন দেখলাম তিনি শুধুই পিতা, ছেলে বা মেয়ে তার শুধুই সন্তান।
......................................
আমার অন্য এক কলিগ অথবা বসের একমাত্র ছেলের বিয়ে হল সেদিন। ছেলে চাকরীটা খুব সুবিধা মতন করছে না। তাই বিয়ের যাবতীয় খরচ সামলাচ্ছেন বস এবং ভাবী অর্থাৎ বরের বাবা এবং মা। প্রতিদিন অফিসে তাঁর ছেলের বিয়ের বাজার অথবা বিয়ে সংক্রান্ত সব ঘটনার আপডেট জানান আনন্দচিত্তে। উনার আনন্দ দেখে আমার কি যে শান্তি লাগল! এটা জানাতেই তিনি আরো জানালেন নবদম্পতির হানিমুনের খরচ ও তিনি দিচ্ছেন। শুনে আমি উচ্ছসিত হলাম। মনে হল সন্তানের সব আনন্দে বাবা-মা ই এমন আনন্দ পেতে পারেন। কত ভাগ্যবান এই ছেলেটি! কারণ এর ব্যতিক্রম ও তো আছে!
...................................
সন্তান হল আমাদের বাবা মায়েদের আনন্দের একটি উপকরন। যেন এক খেলার পুতুল। তাই আমার কন্যাটির সাথে আমার জীবন যাপন আমার কাছে একরকম পুতুল খেলার মতনই। ছেলেবেলায় নকল পুতুল নিয়ে খেলতাম, এখন জ্যান্ত পুতুল নিয়ে খেলি। আমার বিদ্যা কম, তাই এই বুড়ো বয়সেও পড়ালেখা শেষ হচ্ছে না। আর মায়ের পড়াশোনার চাপে পড়ে কন্যাটির পড়াশোনা শিকেয় উঠেছিল এদ্দিন। সেদিন আমার কলিগ আপুরা একসাথে হয়েছিলাম একটা কারনে। একজন জিজ্ঞেস করলেন, শ্রাবণসন্ধ্যা তোমার লেখাপড়ার কতদূর? আমি বললাম, আপু, আমি লক্ষ্য করলাম মা বেশি শিক্ষিত হতে যেয়ে আমার মেয়েটা মূর্খ হয়ে যাচ্ছে
বলা বাহুল্য এ কথা ক্যাস্পাসে ছড়াতে সময় লাগলো না। এবং বেশ মার্কেট ও পেয়ে গেল।
জাফনা আগামীকাল জীবনে প্রথম স্কুলে যাবে। অবশ্য প্রথম বলাটা ঠিক হল কিনা জানিনা, কারন ঐ পাড়াগাঁয়ে একটা স্কুলে কালে ভদ্রে সে যেত। যাই হোক বর্তমান স্কুলে যাবার আয়োজনে ওর চাইতে আমার উৎসাহ আনন্দই যেন বেশী। মাস খানেক ধরে আমি বই এর লিস্টি মিলিয়ে বই কিনছি, নানা রকম রঙ বেরঙের কাগজ কিনছি। জামা, জুতো, স্কুল ব্যাগ, পানির বোতল আরো কত কি! অবশ্য সে ও উৎসুক কবে সে স্কুলে যাবে........কারন মা তাকে নতুন কেনা রঙ পেন্সিল আর ক্রেয়নটা যে স্কুলে না গেলে ধরতেই দিচ্ছে না! আজ সাত তাড়াতাড়ি ঘুমুতে গেল...........কাল যে তার স্কুল! আমার পুতুল থেলার আরেকটা ধাপ শুরু হল। ঈদের আনন্দের মতই এক আনন্দ আজ আমাদের পরিবারে।
জীবন এক অতি সুন্দর বিষয়। পরতে পরতে সুখ! দুঃখ ও আছে, অনেক অনেক কষ্ট আছে; তারপরও সুখ গুলো যখন ছুঁয়ে থাকে শুধু মনে হয়, এত সুখ চারিদিকে!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


