somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্নেহ, ভালবাসা, মমতা

২৪ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্তানের জন্য বাবামায়ের স্নেহ ভালবাসাকে বুঝি অন্য কোন উপমা দিয়ে তুলনা করা সম্ভব না। এ এক অদ্ভুত স্নেহ মমতার বন্ধন। বলা বাহুল্য বাবামায়েরা যেভাবে সন্তানকে ভালবাসেন সন্তানের দিক থেকে সাড়া অথবা ভালবাসার ধরনটা সম্পূর্ণ আলাদা থাকে।

আমার বসের দু সন্তানের মধ্যে মেয়েটিকে তিনি প্রাইভেট মেডিকেলে পড়িয়েছেন, অথচ ছেলেকে সাফ জানিয়েছিলেন তাকে তিনি কোনভাবেই প্রাইভেটে পড়াবেন না। নিজ যোগ্যতায় সরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চান্স পেলে ভাল। ছেলে মাশাল্লাহ খুবই মেধাবী, ইন্জিনিয়ারিং কলেজ এবং মেডিকেল দুটোতেই চান্স পেল। মায়ের ইচ্ছায় ছেলে মেডিকেল এ পড়তে শুরু করলো। আমাদের বস ও অনেক খুশি, গর্ব মেশানো আনন্দ উপচে পড়ে তার চোখে মুখে। একদিন এক দুর্ঘটনায় দুদলের মারামারির মাঝখানে পড়ে গেল অতিভাল এই ছেলেটি। মারের চোটে তার নাকের হাড় ভেঙ্গে গেল। তখন দেখেছিলাম স্নেহশীল পিতার বাঁধভাঙ্গা কান্না। অবাক হয়ে দেখেছিলাম শুধু............আগে মনে হোত মেয়েটিকে তিনি বেশি ভালবাসেন, তখন দেখলাম তিনি শুধুই পিতা, ছেলে বা মেয়ে তার শুধুই সন্তান।
......................................

আমার অন্য এক কলিগ অথবা বসের একমাত্র ছেলের বিয়ে হল সেদিন। ছেলে চাকরীটা খুব সুবিধা মতন করছে না। তাই বিয়ের যাবতীয় খরচ সামলাচ্ছেন বস এবং ভাবী অর্থাৎ বরের বাবা এবং মা। প্রতিদিন অফিসে তাঁর ছেলের বিয়ের বাজার অথবা বিয়ে সংক্রান্ত সব ঘটনার আপডেট জানান আনন্দচিত্তে। উনার আনন্দ দেখে আমার কি যে শান্তি লাগল! এটা জানাতেই তিনি আরো জানালেন নবদম্পতির হানিমুনের খরচ ও তিনি দিচ্ছেন। শুনে আমি উচ্ছসিত হলাম। মনে হল সন্তানের সব আনন্দে বাবা-মা ই এমন আনন্দ পেতে পারেন। কত ভাগ্যবান এই ছেলেটি! কারণ এর ব্যতিক্রম ও তো আছে!

...................................


সন্তান হল আমাদের বাবা মায়েদের আনন্দের একটি উপকরন। যেন এক খেলার পুতুল। তাই আমার কন্যাটির সাথে আমার জীবন যাপন আমার কাছে একরকম পুতুল খেলার মতনই। ছেলেবেলায় নকল পুতুল নিয়ে খেলতাম, এখন জ্যান্ত পুতুল নিয়ে খেলি। আমার বিদ্যা কম, তাই এই বুড়ো বয়সেও পড়ালেখা শেষ হচ্ছে না। আর মায়ের পড়াশোনার চাপে পড়ে কন্যাটির পড়াশোনা শিকেয় উঠেছিল এদ্দিন। সেদিন আমার কলিগ আপুরা একসাথে হয়েছিলাম একটা কারনে। একজন জিজ্ঞেস করলেন, শ্রাবণসন্ধ্যা তোমার লেখাপড়ার কতদূর? আমি বললাম, আপু, আমি লক্ষ্য করলাম মা বেশি শিক্ষিত হতে যেয়ে আমার মেয়েটা মূর্খ হয়ে যাচ্ছে:(। তাই আমি এখন আমারটা আপাতত মুলতবী রেখে তাকে একটু মূর্খতার অভিশাপ থেকে বাঁচানোর প্রচেষ্টায় আছি।
বলা বাহুল্য এ কথা ক্যাস্পাসে ছড়াতে সময় লাগলো না। এবং বেশ মার্কেট ও পেয়ে গেল। :):) এ প্রসঙ্গে বলে রাখি জাফনা পাঁচ বছর বয়স হয়ে গেল, এখনো তার স্কুলে হাতে খড়ি হয়নি। যেখানে শহুরে বাচ্চারা তিন বছর বয়স থেক্বেই পরিপাটি হয়ে স্কুলে যায়। জাফনা তো আর খাঁটি শহুরে বাচ্চা নয় যে তিন বছর থেকে স্কুলে যাবে । সে হল শহর-গ্রাম এর খিচুড়ি টাইপ এক শিশু। মাসের অর্ধেক কাটে তার বদ্ধগ্রামে ছাগল ছানার পেছনে ছুটে, খড়ের গাদার উপর লাফিয়ে, আর তিনটাকা দামের আইসক্রিম খেয়ে। অবশ্য তার এ আনন্দ অথবা বেদনা দুটোর জন্যই তার মা দায়ী। তাই যে দুটো বছর বিদ্বান হবার বদলে গেরাইম্যা হবার জন্য খরচ হল, সে দুবছর দুমাসে পুরো করার চেষ্টা চলছিল, বলা যায় সফলও হয়েছি আমরা মা মেয়ে।

জাফনা আগামীকাল জীবনে প্রথম স্কুলে যাবে। অবশ্য প্রথম বলাটা ঠিক হল কিনা জানিনা, কারন ঐ পাড়াগাঁয়ে একটা স্কুলে কালে ভদ্রে সে যেত। যাই হোক বর্তমান স্কুলে যাবার আয়োজনে ওর চাইতে আমার উৎসাহ আনন্দই যেন বেশী। মাস খানেক ধরে আমি বই এর লিস্টি মিলিয়ে বই কিনছি, নানা রকম রঙ বেরঙের কাগজ কিনছি। জামা, জুতো, স্কুল ব্যাগ, পানির বোতল আরো কত কি! অবশ্য সে ও উৎসুক কবে সে স্কুলে যাবে........কারন মা তাকে নতুন কেনা রঙ পেন্সিল আর ক্রেয়নটা যে স্কুলে না গেলে ধরতেই দিচ্ছে না! আজ সাত তাড়াতাড়ি ঘুমুতে গেল...........কাল যে তার স্কুল! আমার পুতুল থেলার আরেকটা ধাপ শুরু হল। ঈদের আনন্দের মতই এক আনন্দ আজ আমাদের পরিবারে।

জীবন এক অতি সুন্দর বিষয়। পরতে পরতে সুখ! দুঃখ ও আছে, অনেক অনেক কষ্ট আছে; তারপরও সুখ গুলো যখন ছুঁয়ে থাকে শুধু মনে হয়, এত সুখ চারিদিকে!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩২
৪২টি মন্তব্য ৪১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×