জ্বর কাশি নিয়ে ছাদে রোদ পোহাচ্ছিলাম। রোদ আমার চোখে সয় না। রোদ চশমা পড়া ছিল, তবে রোদে পেপার পড়তে পারছিলাম না। কাজেই মুঠোফোনটা নিয়ে একে ওকে ফুনাইয়া গ্রামীণ এর দেয়া কম রেট এ গপাচ্ছিলাম। এক বন্ধুকে বহুদ্দিন ফুনাই না, তারে ফুনাইলাম......... সে বলে আমি কি ভুল দেখি....:
অবেশেষে বাড়ী থেকে রওনা হলাম, পথে সঙ্গীরে তুলে নিলাম। অনেক দিন পর দেখা...হুলাস্থুল গপ্প করতে করতে চললাম। যাবার আগে এক দোস্তকে বলেছিলাম........আজকের মিশনের কথা........হিহিহি .......যাচ্ছি ছবি দেখতে! সেই দোস্ত বলল......যাও, শুনলাম ছবিটা তে একটু এডাল্ট ফ্লেভার আছে
ছবিটা শুরু হয় একটি মেয়ে একা চলতে গেলে কি কি সমস্যা হয় তা নিয়ে। চারপাশে হাজারো সমস্যা, সে রাতে পথে পথে ঘুরছে..........মায়ের বাড়ী থেকে চলে এসেছে..........রাতের শহরে একা একটা মেয়ে মানেই যেন নিষিদ্ধ নারী। সবাই হাত বাড়ায় তার দিকে। গৃহিনী এক বোন তার বাড়ীতে আশ্রয় দেয ভয়ে ভয়ে, প্রতি মুহুর্তে শাশুড়ির হুমকি শুনতে হয়..........এক সময় সে আশ্রয়টি ও হারাতে হয়। বাড়ী ভাড়া পায় না........একা এই শহরে কি ছেলে কি মেয়ে কেউই বাড়ী ভাড়া পায় না। আমার এক সময় মনে হয়......আচ্ছা মেয়েটা যদি বাড়ী ভাড়া পেয়েও যায় ভাড়া দেবে কোথ্থেকে? খাবে কি, এই বাজারে সবকিছুর তো অনেক দাম! পাশের বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করি.......সে বলে চাকরী খুঁজে নেবে একটা। আমি বলি বাহ, ডিরেক্টর সাহেব আগে মেয়েটারে একটা চাকরী দিয়া পথে বাইর করতো! কোন মানুষ নিজের পায়ের নীচে মাটি ঠিক না করে রাগ করে মায়ের আশ্রয় ছাড়ে না.........যতই দন্দ্ব থাকুক। যা হোক নানা ঘটনার পর মেয়েটা একটা চাকরী পায়। পুরোনো এক বন্ধুকে স্বামী সাজিয়ে ভাল একটা বাড়ী ভাড়াও নেয়।এরপর থেকে শুরু হয় অন্য ঘটনা। মেয়েটার জেলে থাকা স্বামী আর মেয়েটার মাঝে চলে আসে সেই উপকারী বন্ধুটা। আমার কাছে এই মানসিক দন্দ্বের চেয়ে সামাজিক সমস্যাগুলোই বেশী ভালো লেগেছে, অকপট মনে হয়েছে । কদর্য এবং নির্মম বাস্তব সব ঘটনা।
অনেক দিন আগে ডেইলী স্টারের শুক্রবারের সংখ্যাতে এই শহরে একাকী থাকা স্বাবলম্বী মেয়েদের নিয়ে লেখা একটি আর্টিক্যালের কথা বারবার মনে হল। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল অনেক নারী, যারা হয়তো কোন না কোন কারনে সে রকম ভাবে স্বামী সংসার নিয়ে নেই। যাদের ইচ্ছে নিজের একটা একান্ত গৃহকোন থাকবে........বাবার বাড়ীর সেই পরম আশ্রয়টিতে সে এখন আর ততটা স্বস্তি পায় না। সময় যখন বদলায়, সম্পর্কগুলোর ধরনও তখন বদলায়। দুরত্ব তখন একটি ভাল উপায় সম্পর্কটিকে একটি স্বাভাবিক রূপ দেয়ার জন্য । সেই সব নারীরা স্বাবলম্বী হয়েও একাকী তার নির্জন গৃহকোণের শান্তি ধরে রাখতে কত শত সামাজিক চোখ রাঙানীর মুখোমুখি হয়.......কত শত উটকো ঝামেলা তার ঘারে এসে পড়ে.........এসব ছিল সেই লেখাটিতে। ছবিটিতে তার একটি অংশ দেখতে পেলাম।
এই শহরে.........অতি পছন্দের এই শহরে, অথবা এই সুন্দর দেশটিতে নারী হয়ে বারবার কতবার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে নিরাপত্তাহীণতায় ভুগী। নিজের মতন করে আমরা কিছুই করতে পারিনা। চাইলেই পাহাড়ে অথবা সাগরে চলে যেতে পারিনা। আর একা একা জীবন যুদ্ধ করা সে তো অনেক কঠিন কাজ। একসময় সাহায্য করা বন্ধুটিও বলবে চাইলেই তুমি তোমার ঋন শোধ করতে পারো! ঋন শোধ করার বেশ এক সহজ সমীকরণ। ঘুরে ফিরে সেই একই কথা, নারী তোমার একটি শরীর আছে; বিনিময়ের এক সহজ মাধ্যম। আমার সমবয়সী ভাইটি কিশোর বয়সে আমাকে সাবধান করে বলত.......মানুষ লাভ ছাড়া তুলার বোঝাও নেয় না। সেই কথাটা মনে পড়লো। নাথিং ইজ ফ্রি!
ফেরার পথে বন্ধুটির সাথে এইগুলিই আগড়ম বাগড়ম প্যাঁচাল পাড়লাম। সে আমার অনেক কথাই স্বীকারও করে নিল। তাকে বললাম,তুমি আমাকে ছবি দেখতে নিয়ে গেছ, সেজন্য কৃতজ্ঞতা/ধন্যবাদ কিছুই দিলাম না......যদি আবার তোমার ও মনে হয় ঋন শোধ করা যায়
এদিকে আমি বাসা তালা দিয়ে গেছি, যার আগে আসবার কথা সে আগে আসে নাই। জাফনার আব্বা আগে এসে একঘন্টা পাশের বাসায় বসেছিল। বাসায় পৌঁছার আগেই মুঠোফোনে ক্রমাগত ঝাড়ি খেলাম, বাসায় আর না আসলেও চলবে এমন কথাও শুনলাম
তবে বাড়ী না ফেরার রিস্ক নিতে পারলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১১ রাত ১২:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


