একটি বিভৎস বাস্তবতা উপলব্ধি করতে কতটুকু সাহসের প্রয়োজন তা আমার জানা নেই। সেই ধরনের বাস্তবতার স্বীকার হলে হয়তো বুঝতাম। মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে এসে ঘুরে যাওয়ার বাস্তবতা কতটা নির্মম হতে পারে। কতটা হৃদয় বিদারক, কষ্ট ও দুঃখের স্মৃতিমাখা একটি বাস্তব হতে পারে! সেই বাস্তবতা নিয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে বেঁচে থাকা। যে মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রতিটি ক্ষন, সময় পেরিয়ে যায়.......! চোখ বন্ধ করলেই মৃত্যুর হাতছানি এসে ডাকে। কান্নার করালঘ্রাস কেড়ে নিতে চায় মায়ারবন্ধন।
কিছু উপাখ্যান এমনি হয়। কিছু গল্পের চরিত্র এমন! কিছু বাস্তবতাও এমনি........!
প্রতিদিনই প্রতিকার পাতায় ভেসে উঠছে কত ধরনের ঘটনা। ক'জনই জানে। জানতে পারে। পত্রিকায় ছবি ও সংবাদ সময়ের তাগিদে প্রকাশ হয়। আবার সময়ের তাগিদে ভূলে যায় সেই দৃশ্য। যেন অদৃশ্যের মতো হারিয়ে যাওয়া........!
এরচেয়ে হৃদয়বিধারক কিছু ছবি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু চোখের সাহসের সীমানা খোঁজে পাইনি........!
উপেরের ছবিটির বাস্তবতা কতটুকু নির্মম তা স্বচক্ষে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। একটি সামান্য অপরাধাদের কারণে ১১ বছর বয়সী শিপার জীবনে এরকম বাস্তবিক নির্মম, হৃদয়বিধারক ঘটনা ঘটতে পারে......!
আমি বলার ভাষা পাচ্ছি না পাঠকের কাছে এর ঘটনার বৃত্তান্ত বলতে.....!
ছোট্ট একটি অপরাধ! হয়তো বাড়ির মালিকের প্রিয় একটি জিনিস নষ্ট না হয়..........তার শাস্তি স্বরুপ......শিপার হাত-পা ও মুখে কস্টিপ লাগিয়ে গৃহকর্তী স্টিলের হাতা দিয়ে নাভির নীচ থেকে গোপনাঙ্গ পর্যন্ত ছ্যাকা দেয়।
মানুষ কতটুকু নির্মম হতে পারে.....? কতটুকু হিংস্রতা তার মধ্যে জন্ম নিলে ১১ বছরের একটি নিষ্পাপ মূখে আগুন জ্বালাতে পারে। আমার তা জানা নেই......! কিন্তু বাচ্চাটির সামনে গিয়ে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি দেখার সাহস না থাকলেও বাধ্য হয়েই চোখের কিছু অশ্রুকে সাক্ষী রেখে অপলক দৃষ্টিতেই দেখতে হলো নিষ্পাপ মূখের কষ্টগুলো।
এইতো কয়েকদিন আগে একটি লেখা আমাদের বেশ নাড়া দিয়েছিল। মনে আছে কি রুবী ও জনির কথা। সেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কথা............এই নির্মম সংবাদটিও মেয়ের বাড়ি ঐ কমলগঞ্জে। কিন্তু মেয়েটি কাজ করতো সিলেটের জকিগঞ্জে। ঘটনাটি ঘটে ঐ বাড়িতেই। বদমেজাজী গৃহকর্তী রানু বেগমের কথা মতো পানি আনতে বিলম্ব হওয়ায় এই নির্মম ঘটনার স্বীকার হয় শিপা। কিন্তু বাস্তব ও বাস্তবতার কাছে হার মেনে যায় শিপার পরিবার। সংবাদটি আনতে যাই মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে।
হাজারো সংবাদের ভীড়ে এই সংবাদটি হারিয়ে যাবে........মধ্যযুগীয় বর্বরতায় এভাবেই বছরের পর বছর স্বীকার হবে আমাদের শিপারা। জনি হারাবে তাদের মায়েদের। বাস্তব আর বাস্তবতাকে স্বাক্ষী রেখে আমরাও লিখে যাবো বেঁচে থাকার আগ পর্য্ন্ত। একদিন আমরা ও আমাদের কলমও হারিয়ে যাবে........!
সা.ইন কর্তৃপক্ষকে বলবো কিছু সময়ের জন্য হলেও আমার কিছু কষ্টের শব্দ সময়ের তাগিদে হারিয়ে না যায়। শিপার একরাশ কষ্ট যাতে আমরা ভাগ করে নিতে পারি। শিপাকে বাচাঁতে এগিয়ে আসতে পারি। শিপাকে বাঁচানো দরকার।
শিপাকে বাঁচাতে হবে.............!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

