মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আপনার অবস্থান পরিষ্কার করুন
০৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ৮:০৫
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গড়াই নদীর উপর দিয়ে কখনও গিয়েছেন কি? ও আপনি তো আবার আকাশ দিয়ে চলেন তাই গড়াই নদী দেখার কথা অবান্তর বটে। আবার সড়কে গেলেও থাকেন কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে। তাই ঐ নদী দেখার কথা একেবারেই অবাস্তব। শুধু এতটুকু বলতে চাই, গড়াই নদীর উপর দিয়ে যতবার গেছি মনের অজান্তে চোখের কোনে এক ফোটা জল জমেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ আইবাঁধ বা টিবাঁধে কখনও গেছেন কি? কি সব আবোল তাবোল লিখছি। শুধু জেনে রাখুন যে কয়েকবার ঐ আইবাঁধ বা টিবাঁধে গেছি বুকটার ভিতর হাহা কার করে উঠেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে পরামর্শ তো দুরের কথা আপনার নাম নেওয়া ও আমার মত সাধারণ জনগনের জন্য পাপ। শধু আজ আপনাকে একটা অনুরোধ জানাতে চাই। আপনি জানেন টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ভারত। তাই জাতির মনে আপনার সরকারকে নিয়ে যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে তা খোলাসা করতে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে আপনার অবস্থান পরিষ্কার করুন। জাতির এই ক্রান্তিকালে অনতিবিলম্বে তাদের উদ্দেশ্যে ভাষন দিন। আপনার সরকার বা বাংলাদেশের কোন দুর্বলতা থাকলে তাও জাতিকে সত্য ও সরল ভাষায় প্রকাশ করে যান।
পরিশেষে বলি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলার মাটি এবং জনগনের সাথে বেইমানি করবেন না। তারা বড় আশা নিয়ে আপনাকে দেশের নেতা নির্বাচিত করেছিল। আপনি না বললে ভারত কেন ভারতের বাবার ও ক্ষমতা নেই টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ করার।
ভেবে দেখুন এটা তো শত সিডরের চাইতে ও ভয়াবহ!! জনগনকে সাথে নিয়ে দেশের এই দুর্যোগ মোকাবেলা করুন। আর তা যদি না করেন ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে না।
তাই দয়া করে টিপাইমুখ বাঁধ ঠেকাতে অতিসত্তর নিম্নে উল্লেখিত ব্যবস্থাগুলো সহ যত ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা গ্রহন করুন। আপনি জানেন হাতে সময় খুব কম...................রোগী যেন আই সি ইউ তে:
১) ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলো জরুরিভাবে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ধারাবাহিক প্রচার শুরু করুক।
২) টিপাইমুখ বাঁধের উপর সর্বত্র গনসচেতনতা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে যথাযথ ভাবে উপস্হাপনের জন্য আসন্ন বাজেটে বরাদ্ধ দেওয়া হোক।
৩) বিদেশ অধ্যায়ণরত ছাত্র-ছাত্রী সহ সমস্ত প্রবাসিরা প্রতিবাদে অংশ নিক এবং প্রয়োজনে বিশ্বের সকল দেশের ভারতীয় দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করুক।
৪) বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে তলব করা হোক এবং কড়াভাষায় ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণের সমালোচনা করা হোক।
৫) বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো সহ সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের প্রতিবাদ সভা করা হোক।
৬) জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন পলিটিক্যাল পার্টির যে সব সংগঠন ও অংগসংগঠন রয়েছে তারা স্ব স্ব জেলা/ উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করুক।
৭) বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশে অবস্হিত সমস্ত রাষ্ট্রদূতকে আমন্ত্রণের মাধ্যমে একটি জায়গায় ডাকুন এবং টিপাইমুখ বাঁধের ভয়াবহতা তাদেরকে অবহিত করুক এবং দেশী বিদেশী এক্সপার্টদেরকে সেখানে হাজির করিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করানো হোক।
৮) বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো বিশ্বের সমস্ত সংবাদ মাধ্যমগুলোকে টিপাইমুখ বাঁধের ভয়াবহতা নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করতে অনুরোধ করুক।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): টিপাইমুখ বাঁধ ;
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: আমাদের যার যা/যতটুকু সুযোগ আ আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। হ্যাঁ আমরা পারি।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আমরা তো এখনও শুরু-ই করলাম না। সামর্থ্য তো পরের কথা।
মুহাম্মদ শাহাদত হাসান বলেছেন:
ভাল প্রস্তাব।
বাংলাদেশ যেন আরেকটি ফারাক্কার কবলে না পড়ে সে ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই।
লেখক বলেছেন: জি সেটাই বলছি..............সরকার তো শুনছে না..........
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
+। আপনার বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি সহমত।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। সরকারের কানে যদি পৌঁছা..............।
হিটলারের সাগরেদ বলেছেন:
একমত
লেখক বলেছেন: মিডিয়া গুলো কিন্ত তেমন কোন ভূমিকা নিচ্ছে না। মিডিয়াগুলো নিশ্চয় জনগনের কথা পরিষ্কার বুঝতে পারে। এমনকি এই ব্লগে ও অনেক সাংবাদিকের ঘোরাফেরা আছে তারা ও বেশিরভাগ নিশ্চুপ।
বাবু>বাবুয়া>বাবুই বলেছেন:
গন সচেতনা বৃদ্ধি করতে হবে। এটা ষ্পষ্ট যে সরকার কোন উদ্যোগ নিবে না যতক্ষন না তাকে বাধ্য করা হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মহল থেকে যথেষ্ট চাপ দেওয়া হচ্ছে তবে সর্বোচ্চ পতিষ্ঠান সংসদে এখন বিষয়টা তেমনভাবে আলোচনা হয়নি। বিরোধী দলকে আরও সক্রিয় ভুমিকা পালন করতে হবে।
লেখক বলেছেন: সরকার বাধ্য হতে বাধ্য। তবে একটা ব্যাপর দেখবেন যখন আমরা বিভিন্নভাবে সরকারকে চাপে ফেলে দিব, তখন তারা রাজনৈতিক ফয়দাটা ঠিকই লুফে নিবে। যে তারাই স্বপ্রণোদিত হয়ে টিপাইমুখ নিয়ে কাজ করেছে।
আর তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা ও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে যাই হোক না কেন আমরা জনগন কোন ক্রেডিট পেতে চাই না, আমরা চাই আমাদের মোটা ভাত মোটা কাপড়। তাই এক বিন্দু রক্ত আমাদের শরিরে থাকা পর্যন্ত এই মারণ বাঁধ হতে দেওয়া যাবে না।
আর এটা ঠিক শুধু সরকারি দল কেন সব রাজনৈতিক দলগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে।
মাসুদ১৯২৪ বলেছেন:
ধন্যবাদ, পোষ্টের সাথে একমত। গন সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই হবে
হীরণ্ময় বলেছেন:
আমি খুবই চিন্তিত ।
লেখক বলেছেন: আমাদের শাষকশ্রেনী কিন্ত মোটেও চিন্তিত নন.........
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
প্রধানমন্ত্রী নিজে 'রা'টি করবেন না । আর ততক্ষণে আমাদের বিশাল ক্ষতিটা ঠিকই হয়ে যাবে । ততক্ষণে আমরা জানতে পারবো, নিশ্চিত করেই জানতে পাবো, কারা একুশ শতকের মীরজাফর ।
লেখক বলেছেন: এ যেন মহারাজাকার ভাইডি.............আমরা নাকি ফারাক্কা থেকে ঠিক ঠাক মত পানি পাই, ভারত নাকি আমাদের কোন ক্ষতি করবে না! এরা কি দেশের মন্ত্রী হবার যোগ্যতা রাখে?? গড আমাদের রক্ষা কর।
ধীবর বলেছেন:
রিয়াজুল ভাই, প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, এমন চমৎকার এবং তথ্য সমৃদ্ধ লেখায় মন্তব্যে বিলম্বের জন্য। আপনার সাজেসনের প্রত্যেকটিই অত্যন্ত বাস্তবসম্মত এবং কার্যকরি। এ পর্যন্ত এ সরকারের বডি ল্যাঙ্গগুয়েজ দেখে মনে হচ্ছে, ইনারা এই ইস্যুটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাচ্ছেন না। তাই আপনার প্রধানমন্ত্রিকে উদ্দেশ্য করে প্রস্তাবিত, যৌক্তিক কথাগুলি অরণ্য রোদন বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতি বিন্দুমাত্র দেশপ্রেম থাকলেই, একথাগুলি পালন খুব সহজই হবে। লোকে বলে তার কান নস্ট, কিন্ত কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, মতলব বিশেষে চোখ আর কান দুটিই নস্ট তার। তবে ঠ্যালায় পড়লে যেমন বাঘে মহিষে এক ঘাটে পানি খায়, তেমনি সাধারণ মানুষের ঠায়লায় পড়লে উনার কান ও চোখ দুইই সমান শক্তিতে কাজ করবে। সেই ঠ্যালাটা দেওয়াই আমাদের কাজ হবে।
চমৎকার একটি লেখা উপহার দেবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা নিন। +++++
(যে দুই ভারতের দালাল এই লেখায় মাইনাস দিলো, ওদেরকে বলি, ইন্ডিয়ায় গিয়া মর)
লেখক বলেছেন: সাংবিদক মানুষ তো তাই এত বড় বড় মন্তব্য খুব সহজেই লিখে ফেলেন। লেখাটি প্রথমদিকেই, আর তখনও আমি ব্লগার হিসাবে জেনারেল ছিলাম কারণ নীতিমালার কারণে নতুনদেরকে নিরাপদ লিষ্টে রাখা হয় না।
ফারাক্কা বাঁধের ভয়াবহ ক্ষতি অনেকের মতো আমি দেখেছি এবং দেখছি, তাই মনের গভীর থেকে ঐ কথাগুলো লিখেছিলাম।
শেখ হাসিনা অনেক প্যাঁচের মানুষ, দিক না একটা প্যাঁচ তৈরি করে, যাতে ভারত ঐ বাংলাদেশের জন্য মরণথাবাটি না তৈরি করতে পারে। চামচামি করতে যাদের দিন যায় তারা ঐ টা নিয়ে ভাববে কেন? আজ থেকে ৫০ বছর পরে শেখ হাসিনা বেঁচে থাকবেন না, সেটা তিনি ভালোভাবেই জানেন, তাই হয়তো চুপচাপ।
মনজুরুল হক বলেছেন:
আপনার প্রস্তাবনাগুলোর সাথে সহমত। কার্যকর করতে হবে এটাই লক্ষ্য হওয়া উচিৎ
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















আমার শুধু ভয় হচ্ছে প্রমত্তা পদ্মার মতো মেঘনাকেও না আমরা হারিয়ে ফেলি।