অসাধু দালাল চক্রের ভর্তি ফর্ম জালিয়াতি: হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন অনিশ্চিত
২৩ শে অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৯
অসাধু দালাল চক্রের ভর্তি ফর্ম জালিয়াতির কথা ইতোমধ্যে পত্র-পত্রিকাতে এসেছে। এরা নকল ভর্তি ফর্ম তৈরি করে তাদের লোকজনের মাধ্যমে (বলা যায় গুপ্ত(!) মার্কেটিং পলিসি) দেশের বিভিন্ন জায়গায় অল্প দামে পাইকারি ভাবে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের কাছে বিক্রি করে। অল্প দামে পাওয়া যায় দেখে দেশের আনাচে-কানাচে সহ বড় বড় কোচিং সেন্টারগুলোও এই ফর্ম কিনে এবং কোমলমতি ছাত-ছাত্রীদের কাছে ঢাবি নির্ধারিত আসলে দামের চাইতেও কিছু বেশি দামে বিক্রি করে। দেশের দূর-দূরান্তের ছাত্র-ছাত্রী সহ ঢাকা শহরের অনেক ছাত-ছাত্রীও ভোগান্তি কমানোর লাঘবের আশায় এই সমস্ত ফর্ম কিনেছে। ঢাবি কর্তৃপক্ষ কোনভাবে জেনে ফেলার পর পুলিশ নিয়ে ঢাকা শহরের ২/১ জায়গায় অভিযানও চালিয়েছে। কিন্ত প্রশ্ন হলো: এই সব হাজার হাজার প্রতারিত ছাত-ছাত্রীদের কি হবে? তারা তো ভর্তি পরীক্ষাটাই দিতে পারবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু ছাত্র-ছাত্রী বিক্ষিপ্তভাবে ঢাকা শহরে মিছিলও করেছে। সেখানে সেইসব নিরপরাধ ছাত-ছাত্রীরা আমাদের তথাকথিত রক্ষকদের কাছে থেকে কি ধরনের ব্যবহার পেয়েছে সেটাও টেলিভিশনের মাধ্যমে আপনারা অনেকেই দেখেছেন (http://www.youtube.com/watch?v=E4V_m9Aa6V4)। নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।
ঢাবি কর্তৃপক্ষ কি ঘটনা এড়িয়ে যেতে পারে?
অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি, বিভিন্ন কোচিং সেন্টার এক সাথে হাজার হাজর ফর্ম কিনে থাকে। তারা এই ফর্মগুলো কোথা থেকে পায়? নিশ্চিৎ বলা যায় ঢাবি/অগ্রনী-জনতা ব্যাংক থেকে। একসাথে এতগুলো ফর্ম কারা কিনছে কেন কিনছে তা নিশ্চয় ঢাবির অজানা নয় (যদি অজানা হয়ে থাকে কেন তাদের এই প্রশ্ন আসেনি যে এত ফর্ম কোথায় যায়!)। তার মানে ঢাবির গোচরেই এই ফর্মগুলো দালাল চক্রের হাতে গিয়ে পড়ছে এবং মুলদামের চাইতে বেশি দামেই ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এখানেই কিন্ত সমষ্যার শুরু। কারণ যারা নকল ভর্তি ফর্ম তৈরি করেছে তারা জানে যে এই ফর্মগুলো তারা বিক্রি করতে পারবে। কেন বিক্রি করতে পারবে? কারণ, ঢাবি এবং এর অথোরাইজড প্রতিষ্ঠান ছাড়াও কিছু দালাল কোচিং সেন্টারগুলো কোন রকম জবাবদিহিতা ছাড়াই ভর্তি ফর্ম বিক্রি করে চলেছে অনায়াসেই। সেই সুযোগে তারা তাদের নকল ফর্ম গুলো বাজারে ছেড়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। আর এর ফলে এবার প্রতারিত হয়েছে হাজার হাজার নিরপরাধ ছাত্র-ছাত্রী এবং হতাশ হয়ছেন তাদের অভিভাবকরাও। ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকদের কে কি দোষ দেওয়া যাবে? মোটেও না, কারণ ঢাবি কর্তৃপক্ষ কোথাও ঘোষনা দেয়নি যে শুধুমাত্র লিষ্টেড প্রতিষ্ঠান থেকেই ভর্তি ফর্ম কিনতে হবে। সুতরাং আজ এই হাজার হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের গতিধারাকে ধংশের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য ঢাবিকে দায়ী করা যায় বৈকি।
এখন করণীয়?
১) ঢাবি নতুন করে অন্তত ২/১ সপ্তাহের জন্য আবার ভর্তি ফর্ম বিক্রি করুক যাতে করে প্রতারিত হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী আবার ভর্তি ফর্ম কিনতে পারে এবং ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ পায়। এতে করে নিশ্চয় মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না।
২) এই হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যত গুরুত্বসহকারে চিন্তা করে তারা যেন আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারে সেই ব্যাপারে সংবাদ মাধ্যমেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ঢাবি ভর্তি ফর্ম জালিয়াতি, ঢাবি ভর্তি ফর্ম জালিয়াতি ;
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১১ দুপুর ২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: সময় খুবই কম, সবাইকে তড়িৎগতিতে এগিয়ে আসা উচিৎ। আমি দেশের বাইরে আছি নতুবা নিজেই আমার অন্যান্য কলিগদেরকে সাথে নিয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতাম এবং এ ব্যাপারে যেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার জন্যে চেষ্টা করতাম। যদিও আমার করণীয় খুব সামান্যই।
বিবর্তনবাদী বলেছেন:
ঢাবি কর্তৃপক্ষকেও থাপড়ানো উচিত। সেই মান্ধাতার আমলের সিস্টেম এখনও ছাগলগুলা ধরে রেখেছে।
লেখক বলেছেন: সিস্টেম হয়তো পরিবর্তন হবে, কিন্ত এই সব নিরীহ হাজার হাজর ছাত্র-ছাত্রীদের এবং তাদের অভিভাবকদের মনের কথা ভাবতেই আমার বুকের ভিতর অনেক কষ্ট হচ্ছে। আসলেই!
মন মানে না বলেছেন:
বিবর্তনবাদী বলেছেন: ঢাবি কর্তৃপক্ষকেও থাপড়ানো উচিত। সেই মান্ধাতার আমলের সিস্টেম এখনও ছাগলগুলা ধরে রেখেছে। আমার নামেও কয়েকটা থাপ্পড় দিয়েন ।
লেখক বলেছেন: আপনার পোষ্টটি আমি পড়েছিলাম। ঐ পোষ্ট থেকেই পুলিশ অফিসারের ব্যবহারটা দেখলাম।
কিন্ত আমার খারাপ লাগছে শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে।
এটাই এখন একমাত্র উপায়।
লেখক বলেছেন: সহমত।
ওসমানজি২ বলেছেন:
মাহমুদ সিএসই বলেছেন: শাবিপ্রবিকে অনুসরন করে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত এসএমএস বেইজড রেজিস্ট্রেশন চালু করা। এটাই এখন একমাত্র উপায়।
উপরন্তু কোচিং সেন্টারের ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া উচিত এক্ষুনি।
লেখক বলেছেন: কোচিং সেন্টারের ব্যবসা বন্ধ করার পক্ষে বিপক্ষে অবশ্য মত রয়েছে। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক কোচিং বন্ধ হলে বাসা বাড়ীতে প্রাইভাট কোচিং শুরু হবে। তখন গরীব ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তারপরও আপনার প্রস্তাব ভেবে দেখার মত।
তানিয়া কবির লিজা বলেছেন:
যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসনের ব্যবস্হা নেওয়া উচিত।নিরীহ হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতের মত এ রকম একটি বিষয়েও মাইনাস যে দেয় তাকে আমার মানুষ বলে মনে হচ্ছে না।
লেখক বলেছেন: প্রশাষণ এখন কোন ব্যবস্থা নিবে না, অথচ ২০০৭ সালে তারাই একের পর এক ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়েছে। কারণ তখন তাদের স্বার্থ ছিল, তাদের কয়েকজন শিক্ষক জেল বন্দি ছিল।
কয়েকজনের জন্য লাখ লাখ লোককে বিপদে ফেলতে তাদের সমষ্যা হয় নাই, কিন্ত এখন লাখ লাখ লোকের হতাশা দূর করতে তারা ২/১ সপ্তাহ সময় বাড়াবে কিনা সন্দেহ বা আদৌ তাদের কাছে এটার গুরুত্ব আছে কিনা তাই বা কে জানে!!
বিডি আইডল বলেছেন:
হাস্যকর....পুরো বিষয়টাই...ছাত্ররাও কোচিং থেকে ফরম কেন কিনে কে জানে!?
লেখক বলেছেন: যে ছাত্রটি খুলনা শহরে থাকে সে যদি খুলনা শহর থেকে ফর্ম কিনতে পারে তাহলে সে সেটা কিনবে বৈকি। কারণ এতে করে তার সময় ও কষ্ট দুটোই বাঁচে।
এখন যদি বলেন বাইরে থেকে ফর্ম কিনলে এর দায়ভার ঐ ছাত্রের উপরেই পড়বে তাহলে সেখানে আমি বলতে চাই এত বছর ধরে ব্লাকে কিভাবে ফর্মগুলো বাইরে গেল? এই পয়েন্টের উপর ভিত্তি করেই আমার লেখা।
যেহেতু এবারই প্রথম এরকম ব্যাপকভাবে জাল ফর্ম কিনে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই ঢাবি বিষয়টা ভেবে দেখতে পারে যে নতুন করে ফর্ম ছাড়া যায় কিনা। তাতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক ক্ষতি হলেও ভর্তি পরীক্ষাটা দিতে পারবে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
অলস ছেলে বলেছেন:
এইটা আমব্লগার জনতা ইতোমধ্যে অবগত। এছাড়া সবাই এটা্ও জানে যে, এ উপলক্ষে মাননীয় পুলিশ কর্মকর্তা লেখাপড়া *** দিয়ে ঢুকিয়ে দেবেন বলেছেন।
লেখক বলেছেন: হুমম
দুরন্ত ইসলাম বলেছেন:
এত কাণ্ডের পরও নিমচন্দ্র বহাল Mon, Jul 18th, 2011 12:22 pm BdST Dial 2000 from your GP mobile for latest news
শেখ শাহরিয়ার জামান
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ঢাকা, জুলাই ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নারী কেলেঙ্কারি, স্কলারশিপ দিতে ঘুষ, অন্য দেশের পতাকা নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণের মতো ঘটনার জন্ম দিয়েও নেপালের রাষ্ট্রদূতের পদে বহাল রয়েছেন নিমচন্দ্র ভৌমিক।
নিমচন্দ্রের এ ধরনের ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করলেও মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত তাকে সরায়নি, যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত হয়েছে।
গত মে মাসে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর কাছে এসেছে। তাতে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে বলেও দেখা যায়। কিন্তু দুই মাসেও কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
নিমচন্দ্রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিও স্বীকার করেছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।"
কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা জানি, আমাদের কী করতে হবে।"
তবে নিমচন্দ্র তার বিরুদ্ধে ওঠা এ সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নিমচন্দ্র বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালে নেপালের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ পান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক নীল দলের শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের গত সরকার আমলে টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ছাত্র বিক্ষোভের সময় তিন জন শিক্ষকের সঙ্গে নিমচন্দ্রও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
গাড়িতে ভারতের পতাকা তোলা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিমচন্দ্র ভৌমিকের কূটনৈতিক হিসেবে অপেশাদার আচরণ দেশে নেপালে দেশের ভাবমূর্তি বেশ ক্ষুণœ করেছে।
কাঠমান্ডুতে ভারতের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জ্যাকবের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠকে নিমচন্দ্র তার গাড়িতে ভারতের পতাকা তোলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
২০১০ সালের ১৭ মার্চ কাঠমান্ডুর ইয়াক অ্যান্ড ইয়েতি হোটেলে মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে নিমচন্দ্রের নির্দেশে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও নেপালের জাতীয় সঙ্গীতও বাজানো হয়।
নারী কেলেঙ্কারি
নিমচন্দ্র ভৌমিকের অসংখ্য নারী কেলেঙ্কারির মধ্যে বলিউড তারকা মনীষা কৈরালার সঙ্গে দেখা করতে অকূটনীতিকসুলভ আচরণের কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে।
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি পাঁচ তরুণের একটি চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছিলেন নেপালের প্রভাবশালী কৈরালা পরিবারের সদস্য মনীষা। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর সন্ধ্যায় মনীষা দেখা পেতে তার বাড়িতেও ধরনা দিয়েছিলেন নিমচন্দ্র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করে জেনেছে, মনীষার বাড়িতে ঢুকতে আধা ঘণ্টা ধরে ফটকে দাঁড়িয়ে দেনদরবার চালিয়েছিলেন নিমচন্দ্র। তবে ফটক খোলেনি।
২০০৯ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের মুখপাত্র অপূর্ব শ্রীবাস্তবকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করেছিলেন বলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া বাংলাদেশি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে নেপালের বেশ কয়েকজন নারীও রাষ্ট্রদূতের কাছে হয়রানির স্বীকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বেশ কয়েকজন নারীকে দূতাবাসেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিচ্ছেন নিমচন্দ্র। রাষ্ট্রদূতের আচরণের মধ্য দিয়ে আত্মমর্যাদা বোধ বিসর্জন ও দায়িত্বনিষ্ঠার অভাব প্রকাশ পেয়েছে।
নিমচন্দ্রের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির সরাসরি অভিযোগ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তোলেন কাঠমান্ডু দূতাবাসের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি নাসরিন জাহান লিপি। ওই মাসেরই মধ্যভাগে চার বাংলাদেশি তরুণীকে জড়িয়ে দূতাবাসে নিমচন্দ্রের কেলেঙ্কারির তিনি প্রত্যক্ষ সাক্ষী বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৃত্তির জন্য ঘুষ
২০০৯ ও ২০১০ সালে নেপালি শিক্ষার্থীদের দেওয়া বাংলাদেশি বৃত্তির ক্ষেত্রে 'নয়-ছয়' হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষাভিসা দেওয়ার নজিরও খুঁজে পেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃত্তির ক্ষেত্রে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তি এমনকি সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশও উপেক্ষা করেছেন নিমচন্দ্র।
নেপালের যে সব শিক্ষার্থী সরাসরি শিক্ষা ভিসার আবেদন করে, নানা টালবাহানা করে তাদের আটকে পরে 'জটিলতার' অবসানের জন্য বিভিন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা তাদের ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো, যে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূতাবাস তথা নিমচন্দ্রের সম্পর্ক ছিলো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্ত দল জানতে পেরেছে, অন্তত ছয়টি সরকারি বৃত্তি নিয়ে 'ঘুষবাণিজ্য' করেছেন নিমচন্দ্র, যার প্রতিটি ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারের।
শিক্ষাবৃত্তির এ ধরনের অপব্যবহারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি হিমালয়ের পাদদেশের দেশটিতে বেশ নাজুক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নেপালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো
নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে বিশেষ করে মাওবাদীদের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য রেখে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করার অভিযোগও উঠেছে নিমচন্দ্রের বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন প্রকাশ্য সভায়ও নেপালের এখনকার বিরোধী দল মাওবাদীদের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। মাওবাদীদের কীভাবে ঠেকাতে হবে সে পরামর্শও তাকে দিতে দেখা গেছে।
নেপালের সরকারি মহলে নিমচন্দ্র গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে তদন্ত দল প্রমাণ পেয়েছে। তার ব্যবহার ও অকূটনৈতিকসুলভ আচরণই এর জন্য দায়ী। কাঠমান্ডুর কূটনৈতিক মহলেও তার অবস্থান খুব নাজুক।
নিমচন্দ্রকে সরিয়ে একজন পেশাদার কূটনীতিককে রাষ্ট্রদূতের পদে নিয়োগ দিতে নেপালের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের সচিবকে অনুরোধের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
নিমচন্দ্রের বক্তব্য
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিমচন্দ্র ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোমবার টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কেউ কেউ তার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
নেপাল সরকার তথা দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তার সময়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইট এক বছর আগে সপ্তাহে সাত থেকে আটটি হলেও এখন তা ১৮টিতে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে এতে নিজের সক্রিয়তার কথাও তুলে ধরেন নিমচন্দ্র।
লেখক বলেছেন: বুঝলাম, সংবাদটি অনেকবার পড়েছি, আপনার আগেই পড়েছি। সত্য মিথ্যা বা মাঝামাঝি যাই হোক না কেন বিভিন্ন প্লাটফর্মে এ নিয়ে মন্তব্যও করেছি।
আপনি কেন এখানে এবং আমার অন্য পোষ্টে এই নিউজটি দিচ্ছেন? আপনি কি চান আমার কাছে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কোন অপকর্ম করলে বিশ্ববিদ্যালের একজন শিক্ষক হিসাবে আমার বিশেষভাবে কিছুই করার নেই। এটা কি আপনার মাথায় কাজ করে??
যাই হোক, এরকম অপ্রসাংগিক নিউজ বা লিংক আমার পোষ্টে দেওয়া আমি পছন্দ করি না। ধন্যবাদ।
বিষাদ বর্ণন বলেছেন:
হাজার হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের গতিধারাকে ধংশের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য ঢাবিকে দায়ী করা যায় বৈকি আমার মতে ঢা.বিই পরোক্ষভাবে দায়ি
লেখক বলেছেন: আপনার মতামতের জন্য ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















অতি দ্রুত এ ব্যাপারে প্রশাসন কে ব্যবস্থা নিতে হবে ।