আমার প্রিয় পোস্ট

There is only one good, knowledge, and one evil, ignorance.

হন্নে ছাগল: কোরবানী এলে তোমার কথা মনে তো পড়বেই (কোরবানি: পশুহত্যা না সেক্রিফাইস?)

২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৫

শেয়ারঃ
0 0 0

আমি তখন ছোট, স্কুলে পড়ি।

আমাদের একটা ছাগলের বাচ্চা ছিল, ছাগলটার গায়ের রং সোনালি কালারের মত ছিল, আমরা গ্রাম্য ভাষায় বলতাম হন্নে ছাগল। আমাদের সবার সাথেই ছাগলটার দারুণ ভাব ছিল, আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠলো, লাফালাফি করতো, আমাদের গায়ের সাথে গা ঘেঁষতো, শরীরের মধ্যে মুখ ভরে দিত, আমাদের হাত থেকে খাবার খেত, আমাদের পিছনে পিছনে ঘুরে বেড়াতো। সত্যি কথা ছাগলটি আমাদের চোখের আড়াল হলেই আমরা হয়তো একসাথেই বলে উঠতাম হন্নে গেল কই? তাকে আবার খুঁজে পাওয়া যেত। কাছে এসেই মনে হয় যেন বলতো "না আমি বেশি দূরে যাইনি"। আমার মা তো একদিন বলেই ফেললো ছাগল তো নয় ও যেন আমাদের পরিবারেই এক সদস্য। আমার আব্বা ওকে গোষল করিয়ে দিত। নিজে হাতে করে খাওয়াতো। এমনকি অনেক সময় নিজের প্লেটের ভাতও ২/১ মুঠো ছাগলটার জন্য বরাদ্ধ হতো। শীতের সময়, ও আমাদের লেপের মধ্যে ঘুমিয়েও যেত।

অবশেষে, ঐ হন্নেকেই কোরবানির দেওয়া হবে বলে নিয়ত করা হলো। যথারীতি কোরবানি হলো। সবার মন খুব খারাপ হয়েছিল। আমার মা-বাবা সহ আমাদের বাড়ীর কয়েকজন সদস্য হন্নের মাংস খেতে পেরেছিল না। সেদিন আমার চোখে তো বটেই, মা-বাবার চোখেও হন্নের জন্য চোখে জল দেখেছিলাম।

কোরবানির বেশ কয়েকদিন পরে, একা ঘরে বসে আমার মা ঐ হন্নের জন্য হাউ-মাউ করে কেঁদেই ফেলেছিল!

আজও হন্নে আমার স্মৃতিতে জেগে ওঠে। এটা কি শ্রেফ পশু কোরবানি, নাকি প্রকৃতপক্ষেই সেক্রিফাইস?

কালের বিবর্তনে আজ হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে পশু কোরবানি না হয়ে পশু হত্যাই হচ্ছে। কিন্ত কোরবানির আসল উদ্দেশ্য কিন্ত প্রিয় জিনিষকেই সেক্রিফাইস করা।
তাই কোরবানিকে যারা শ্রেফ পশুহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চান, আমি তাদের সাথে একমত নই।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): কোরবানী: পশুহত্যা না সেক্রিফাইসকোরবানি: পশুহত্যা না সেক্রিফাইস ;
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১০ বিকাল ৪:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৮
লালসালু বলেছেন: কোরবানি মানে সেক্রিফাইস। ব্লগের এক ছাগু কোরবানির বিরুদ্ধে লিখেছে। রিপোর্ট করেন।
২. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২২
লালসালু বলেছেন: আমি আপনার ওই পোষ্টের লিঙ্ক পেয়ে এই পোষ্টে এসেছি। আমিও একটা পোষ্ট করেছি Click This Link
ছাগুরা সেখানেও মাইনাস দিচ্ছে
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:২৫

লেখক বলেছেন: ছাগুকে কোরবানি নয়, বরং সুন্দর লেখা দিয়ে জবাব দিন তাহলে আর কখনও ছাগলামি করবে না।

৩. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৩৬
অতন্দ্র তওসিফ বলেছেন: আমার ধারণা মতে, শুরুতে ক্বুরবানির মূল ধারা ছিল আপনার জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনাটির মতই। তখন প্রায় সবাই পশু পালন করতো। এবং পালিত পশুদের প্রতি মমত্ববোধ যে কতটুকু থাকে, তা যারা কোনদিন কোন প্রাণী পালেননি, তারা কখনওই বুঝবে না।

সময়ের বিবর্তনে আজও ত্যাগের শিক্ষাটুকু ঠিকই আছে। বর্তমান বাস্তবতায় অধিকাংশের পক্ষেই পশুপালন সম্ভব না। তারপরও এটা ত্যাগ, তবে কিছুটা অন্যভাবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষের সবচেয়ে প্রিয় জাগতিক সম্পত্তি হচ্ছে তার কষ্টার্জিত টাকা। সে টাকা দিয়ে একজন বা কয়েকজন মিলে একটি প্রাণী কিনছে। কিন্তু খেতে পারছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। দুই-তৃতীয়াংশ সে বিতরণ করছে। এটাও কিন্তু ত্যাগ হিসেবে কম না।

এই ত্যাগের সামাজিক গুরুত্বও কিন্তু কম না। দেশের বহু মানুষ একটু মাংস খেতে পারেন এ উপলক্ষে, যা তথাকথিত সাম্যবাদীদের ভাষায় বর্বরতা। সিডর আক্রান্তদের জন্য এ দেশবাসীর দান, সারা বিশ্বে হাজ্বীদের ক্বুরবানির মাংস বিতরণ, চামড়ার টাকা কোন দরিদ্রকে দান এসব না হয় বাদ-ই দিলাম।

এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে আমাদের দেশে ক্বুরবানি আজ এক প্রদর্শনীতে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু কিছু মানুষের কারণে ধর্মীয় অনুশাসনগুলো, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যসমূহ বা প্রচারিত শিক্ষাতো আর মিথ্যা হয়ে যায় না।
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪০

লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্টটি খুবই পরিষ্কার এবং তাৎপর্যপূর্ণ। আমিও ঠিক এভাবেই ভাবি। আমার এই ঘটনাটি এখনও নাড়া দেয় তাই এটা দিয়েই বুঝাতে চেয়েছি, কোরবানি শ্রেফ পশু হত্যা নয়।


"বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানুষের সবচেয়ে প্রিয় জাগতিক সম্পত্তি হচ্ছে তার কষ্টার্জিত টাকা। সে টাকা দিয়ে একজন বা কয়েকজন মিলে একটি প্রাণী কিনছে। কিন্তু খেতে পারছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। দুই-তৃতীয়াংশ সে বিতরণ করছে। এটাও কিন্তু ত্যাগ হিসেবে কম না।"

দারুণ লিখেছেন।


"কিছু মানুষের কারণে ধর্মীয় অনুশাসনগুলো, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যসমূহ বা প্রচারিত শিক্ষাতো আর মিথ্যা হয়ে যায় না। "

এখানেও একমত।

ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

৪. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৮
জাকি ফারহান বলেছেন: একদম খাটি কথা, নিজের সব চেয়ে প্রিয় জিনিস টিকেই কুরবানি দেয়া উচিত!
তাই প্রতি বছর কুরবানি ঈদের পর একটি ছাগল কিনে আমার দাদী সারা বছর সেটা কে অতি মায়া-যত্নে বড় করে, এবং পরের বছর কুরবানীর জন্য দেন। কোন বছরই দাদী সেই ছাগলের মাংস খেতে পারেন না।
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৭

লেখক বলেছেন: আমিও তাই মনে করি, যাদের সুযোগ আছে তাদের আদর যত্ন দিয়ে পশুপালন করেই সেটার কোরবানি দেওয়া উচিৎ। এর মধ্য দিয়ে কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্যটা ব্যক্তি নিজেই বুঝতে পারে।

৫. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৫১
তূর্য্য বলেছেন: লেখাটা ভালো লেগেছে খুব ।
শুধু এতটুকু বলার জন্যেই লগিন করলাম।
ঈদের শুভেচছা রইলো। ভালো থাকুন।
২৭ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: আপনার কমেন্টটি আমার মন ছুঁয়ে গেল। সত্যি বলছি।



আজকে আমাদের এখানে ঈদ হলো। আপনাকে ঈদের শুভেচ্ছা রইল।

দোয়া করবেন। ভালো থাকবেন।

২৯ শে নভেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৭

লেখক বলেছেন: আপনাকেও। ধন্যবাদ।

৭. ১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪২
আশিক১১৪ বলেছেন: লেখাটা খুবই ভাল হইছে।
আর অতন্দ্র তওসিফের কমেন্টে পুরটাই পরিস্কার।

দু'জনকেই ধন্যবাদ।
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৮

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ আশিক।

৮. ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৪
সায়েমুজজ্জামান বলেছেন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি।@@@@
কোন ডিপার্টমেন্টএ? ভর্তির সেশন কত ছিল আপনার ? জান্তে মঞ্চায়।
০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫৭

লেখক বলেছেন: বিশেষ কোন উদ্দেশ্য আছে নাকি!

ভর্তি সেশন: ১৯৯৬-৯৭।

বিস্তারিত এখানে

৯. ০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫৪
সায়েমুজজ্জামান বলেছেন: তাইলে আপনি আমার সিনিয়র। আমি ভর্তি হইছিলাম ৯৮-৯৯ সেশনে। ক্যাম্পাসে সাংবাদিকতা করতাম তো। এখনো তাই। এই কারনেই সব কিছুতেই জান্তে মঞ্চায়।
যাক দক্ষণ কোরিয়া সম্পর্কে আপনার কাছ থেকে কোন সময় তথ্য নেয়া যাবে। একমাত্র বাংলাদেশী শ্রমিক যারা ওই দেশে আছে তারা কোন বিপদে পড়লেই আপনার শরণাপন্ন হতে পারি। আর তা রিপোর্ট হওয়ার মতো ঘটনা হতে হবে। তবে ওই দেশের অবস্থা মনে হয় ভালোই।
০২ রা জানুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৮

লেখক বলেছেন: এই সব ব্যাপারে আইন, মানবাধিকার সংগঠন এবং/অথবা রিলেটেড সংস্থা বেশ শক্তিশালী হওয়ায় এখানকার বৈধ শ্রমিকরা তুলনামুলক অনেক অনেক ভালো আছে।



প্রয়োজনে আমরা সবাই সবার কাছ থেকে তথ্য আদান-প্রদান এবং সম্ভাব্য সহায়তা তো করতেই হবে। ইমেইলে যোগাযোগ হবে। ধন্যবাদ।

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৮

লেখক বলেছেন: এইটাতে ডাবল প্লাস দিলেন যে। :)

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৭৭১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এটা ওটা নিয়ে একটা পোষ্ট লেখা আসলেই অনেক কঠিন কাজ। সময় পাই না বলে চালিয়ে দিলেও আসল ঘটনা হলো অলসতা...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই