নৈতিকতার চরম বিপর্যয়: সুইপার-বাবুর্চি নিয়োগেও মন্ত্রী-এম.পি দের ঢালাও সুপারিশ
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৫৮
এসব চর্বিত-চর্বণ টপিক, এগুলো নিয়ে আর আমরা মাথা ঘামায়ও না তেমন, যেন সয়ে গেছে আমাদের। তবু রক্ত মাংসের শরীর তাই হয়তো হটাৎ চোখ আটকে যায় সংবাদপত্রের পাতায়, কখনও বা নিজ জীবনের অভিজ্ঞতায়, কখনও বা বন্ধু, আত্মীয় বা পরিচিত জনের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনায়।
দেশ নিয়ে আশা দেখি যতবার নিরাশ হয় তার চাইতে বেশি বার, তাতে কিই বা আসে যায় তাদের। কিছুদিন আগে আমরা জেনেছিলাম স্কুলে ভর্তির জন্য মন্ত্রী-এম.পি দের সুপারিশ/অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। সেই সব মন্ত্রী-এম.পিদের মধ্যে ছিলেন অনেকেই যেমন হাসানুল হক ইনু, দিলীপ বড়ুয়া। অথচ এই লোকগুলো কি মুখোশ না পরে আছে বাস্তব সমাজে। কি বড় বড় কথা। আদর্শে ভরপুর!
একটি নিস্পাপ শিশু, জগৎ সম্পর্কে যে কোন ধারণাই রাখে না তার মেধাকে চাপা দিয়ে মন্ত্রীর সুপারিশ কাম অর্ডারের ছেলেটিকে স্কুলে ভর্তি করানো হলো। এতে করে যে শিশুটিকে তার ন্যয্য অধিকার থেকে বন্চিত করা হলো তার সাথে যে বেইমানিটা করা হলো তা কি ঐ শিশুটি বুঝতে পারলো? এটা কি কোন ক্ষমার্হ অপরাধ!
এই সব সংবাদের মধ্য দিয়ে মনে করেছিলাম, সবই মুখের বলি আসলে পরিবর্তন কোন কিছুই হবে না, বরং নীতি নৈতিকতাকে কিভাবে গলা টিপে হত্যা করা যায় তার নয়া কৌশলে ব্যস্ত থাকবে ঐ সব পাপিষ্ঠ মানুষ রুপি পশুগুলো। এদের মুখে আর যায় হোক শিশু অধিকার রক্ষা, মানব উন্নয়ন এসব কিছু হতে পারে না।
আজকে আবার একটা নিউজ দেখলাম পত্রিকাতে। জানলাম আজ দেশের কোথায় বাবুর্চি, সুইপার নিয়োগ হবে সেটাও মন্ত্রীদের নখ-দর্পনে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বটে, কি সুন্দর পরিবর্তনের হাওয়া, ভাবতে ভালোই লাগে!
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে বাবুর্চি, সুইপার এসব পদের জন্য সুপারিশ করেছেন স্বয়ং মন্ত্রী, এম.পি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন, স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ।
কারা এই সব মন্ত্রী এম.পি?
বাণিজ্যমন্ত্রী ফারক খান (কি সুন্দর বাণিজ্য), আঈন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম (কি সুন্দর আইনের শাষণ), শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া (কি সুন্দর আদর্শ), সাংসদ ফজলে নূর তাপস (কালের আইনজীবি!)।
আরো রয়ছেন: নৌ-মন্ত্রী শাজাহান (দলের প্রতীককে রক্ষা করছেন বটে), পশু-মন্ত্রী আব্দল লতিফ (পশু বটে), পানি প্রতিমন্ত্রী মাহবুব, পরিকল্পনা মন্ত্রী খন্দকার (এরা নাকি দেশ গড়ার পরিকল্পনা তৈরি করে!)।
এছাড়া আরো অনেক বড় বড় পদে আসিন ব্যাক্তিবর্গ এসব সুপারিশ কাম অর্ডার দিয়েছেন তার মধ্যে আছেন স্বয়ং ঢাকা মেডিকেল কলেজের অদ্যক্ষ দীন মোহাম্মদ (নিজের বাড়ি বলে কথা)। যতজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে সুপারিশকৃত আবেদনের সংখ্যায় তার চাইতে বেশি। চেইনহীন কৃষকের ছেলেটা চাকরি পাবে কিভাবে?
না কোন বিদ্বেষ থেকে লেখাটা নয়, শ্রেফ মনের মধ্যে ভেষে ওঠা একটা দীর্ঘশ্বাস ব্লগের পাতায় রেখে যাওয়া ছাড়া কিই বা মুল্য আছে এসব কথার। আমরা সবাই তো ভন্ড, সামনের মুখটা দেখায়, আর পিছনের টা লুকিয়ে রাখি। আশার তরি তীরে ভেড়ার কি আদৌও কোন সম্ভাবনা দেখা যায়?
সুত্র: ঢামেক নিয়োগ সংবাদ
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): রাষ্ট্রীয় দূর্নীতি ;
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৪৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অলস ছেলে বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: গৃহিত।
নতুন গগন বলেছেন:
্ওরে ভাই আ্ওয়ামীলীগ........................দুনিয়ার সব শব্দই এদের কাছে বিপরীতার্থক..........যেমন সত্য তাদের কাছে মিথ্যা আর মিথ্যাটা সত্য...............তাই নৈতিকতা তাদের কাছে অনৈতিকতা আর অনৈতিকতাই তাদের কাছে নৈতিকতা...................................................আর এরই নাম আ্ওয়ামী লীীীীীীীীীীীীীীীীীীীীীীীীগগগগগগগগগলেখক বলেছেন: ঠিক আওয়ামি লীগ বলে নয়, এসব এখন জাতির জেনেটিকসে এসে গেছে।
তবে ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্ব অনেক বেশি।
এস এইচ খান বলেছেন:
+ + + + + + + + + + +
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ খান সাহেব।
ও.জামান বলেছেন:
এরা অকপট। তাই যা করে তা অকপটে করে।
লেখক বলেছেন: পড়লাম, একজন মন্ত্রী বলেছে তিনি এখন থেকে পরিচিতজনদের জন্য সুপারিশ করবেন। ![]()
ভাবুন এবার।
লেখক বলেছেন: জ্বী ভালোই বলছেন, মাঝে মাঝে দেখি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দিতে।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ ফিরোজ ভাই।
বিডি আইডল বলেছেন:
তারাও তো আওয়ামী লীগ করে!
লেখক বলেছেন: তা তো অবশ্যই করে।
ধ্রুব তারা বলেছেন:
আমার জানা মতে প্রতিটি সরকারের আমলেই এটি হয়। আমি নিজে দেখেছি ৯৬এর আওয়ামীলীগ এবং ০১এর বিএনপি সরকারের আমলে এসব ঘটতে। পক্ষপাতিত্বপূর্ণ পোস্টে মাইনাস। আমার বিশ্বাস আপনি শিক্ষকতাও পেয়েছেন ২০০৫ কি ২০০৬ এ। ২০০৬ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদে ৩জন ওভার স্টাফ থাকার পরেও ৯জন নতুন নিয়োগ পান। যাদের একজন ছিলেন 2nd class 3rd যে বছর ৬জন ফার্স্ট ক্লাস ছিল। উল্লেখ্য তিনি একা জব পেয়েছিলেন।
সরকারের বদনাম না করে এই পদ্ধতির বদনাম করি। দেশের যেখানে রাজনীতিবিদেরাই সুপারিশে (পারিবারিক পরিচয়ে) অবস্থানে পৌছুচ্ছে সেখানে এগুলো নিয়ে আর বলার কী আছে!
লেখক বলেছেন: আমি কি কোথাও বলেছি বিএনপি বা অন্যান্য সরকারগুলো ফেয়ার ছিল? পোষ্টের মুল বিষয় বস্তুটি কি বর্তমান সরকার ও পূর্ব সরকরারের কার্যক্রমগুলো কমপেয়ার করা? মোটেও না।
বর্তমান সরকারে যে-ই ক্ষমতায় থাকতো তার উপরই কিন্ত লেখাটা যেত।
দেখুন আমি উল্লেখ করেছি, এসব চর্বিত-চর্বণ টপিক তার মানে এটা অনেক আগে থেকেই আমাদের দেশে হয়ে আসছে। এখন সব লেখাতে যদি সব কিছু নিয়ে আসতে বলেন তাহলে ভিন্ন কথা। আমরা তো তারেক জিয়াকে চোর প্রমান করে ছেড়েছি। এখন যদি নিজেরাও সেই চুরিই করি তাহলে লাভ কি হলো? পরিবর্তনটা আসলে কোথায়?
বিএনপি খারাপ অসৎ কর্মকান্ড করেছে এই যুক্তিতে আওয়ামীলীগও করতে পারে এটাই আপনার যুক্তি দেখলাম। হাস্যকর।
জ্বী আমি ২০০৫ সাল জয়েন করেছি। ঢাবির ইতিহাসে গর্ব করার মত একটি বিভাগে (Applied Physics, Electronics & Communication Engineering), যে বিভাগে এখনও পর্যন্ত কোন সরকারের আমলেই কোন দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ সম্ভব হয়নি। তবে ২/১ বার চেষ্টা যে চলেনি তা নয়, আমরা সেগুলো মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।
আপনার মন্তব্যটিতে অপরাধ এড়িয়ে যাওয়ের প্রবনতা লক্ষ্য করলাম। তারপরও সমালোচনা রেখে যাওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
কোর আই সেভেন বলেছেন:
লেখক বলেছেন: জ্বী আমি ২০০৫ সাল জয়েন করেছি। ঢাবির ইতিহাসে গর্ব করার মত একটি বিভাগে (Applied Physics, Electronics & Communication Engineering), যে বিভাগে এখনও পর্যন্ত কোন সরকারের আমলেই কোন দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ সম্ভব হয়নি। তবে ২/১ বার চেষ্টা যে চলেনি তা নয়, আমরা সেগুলো মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।++++
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
বাই দা ওয়ে, তোমাদের আনিস (জুনিয়র) স্যার তো এপ্রিলে জাপান চলে যাচ্ছে শুনলাম।
আসিফ রেজা রাজ বলেছেন:
@ধ্রবুতারা হায়রে তোমার আসল চেহারা এখানে ধরা পড়লো। আওয়ামী লিগ রে কিছু কইলেই তোমার চান্দিতে গিয়া লাগে দেখি....................
মুখোশ খুলে বাইরে এসো।
কতটাকা পাও মাসে?
লেখক বলেছেন: নানা জনের নানা মত সেটাই তো স্বাভাবিক।
সামছুল আরেফিন বলেছেন:
+
লেখক বলেছেন: কমন বিষয়, পড়েছেন সে জন্য ধন্যবাদ। একবার হলেও রিভিউ হওয়ার মত!
লালসালু বলেছেন:
এটা এদেশের কমন চরিত্র
লেখক বলেছেন: ![]()
আশিক১১৪ বলেছেন:
!!!বদলে যাও বদলে দাও!!!
লেখক বলেছেন: বদল হবে তবে এ হাত আর ও হাত। আমরা আমজনতা কিছুই না।
কোর আই সেভেন বলেছেন:
পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় উত্তর দিতে দেরী হয়ে গেল। স্যার বাইরে যাবার চেষ্টা করছিলেন জানি, কিন্তু শেষ খবরটা জানতাম না।এবার কোন রকম দেরী ছাড়াই এক নোটিসে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল....
লেখক বলেছেন: এবার কোন রকম দেরী ছাড়াই এক নোটিসে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল
খুবই ভালো খবর।
লেখক বলেছেন: ভালো আছি। অনলাইন/অফলাইনে লেখা/তথ্য পড়লেও নিজের আর লেখা হয়ে ওঠে না। ক্লাসের লেখাপড়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকাতে সময় বের করতে পারি না; অনেকেই দুটোই খুব ভালোভাবে পারে। আশা রাখি লিখব। ভালো থাকুন।
দুরন্ত ইসলাম বলেছেন:
শেখ শাহরিয়ার জামান
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
ঢাকা, জুলাই ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- নারী কেলেঙ্কারি, স্কলারশিপ দিতে ঘুষ, অন্য দেশের পতাকা নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণের মতো ঘটনার জন্ম দিয়েও নেপালের রাষ্ট্রদূতের পদে বহাল রয়েছেন নিমচন্দ্র ভৌমিক।
নিমচন্দ্রের এ ধরনের ভূমিকা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করলেও মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত তাকে সরায়নি, যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত হয়েছে।
গত মে মাসে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর কাছে এসেছে। তাতে অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে বলেও দেখা যায়। কিন্তু দুই মাসেও কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
নিমচন্দ্রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিও স্বীকার করেছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো।"
কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্রসচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমরা জানি, আমাদের কী করতে হবে।"
তবে নিমচন্দ্র তার বিরুদ্ধে ওঠা এ সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক নিমচন্দ্র বর্তমান সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালে নেপালের রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ পান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক নীল দলের শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের গত সরকার আমলে টাঙ্গাইলের মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ছাত্র বিক্ষোভের সময় তিন জন শিক্ষকের সঙ্গে নিমচন্দ্রও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
গাড়িতে ভারতের পতাকা তোলা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিমচন্দ্র ভৌমিকের কূটনৈতিক হিসেবে অপেশাদার আচরণ দেশে নেপালে দেশের ভাবমূর্তি বেশ ক্ষুণœ করেছে।
কাঠমান্ডুতে ভারতের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জ্যাকবের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠকে নিমচন্দ্র তার গাড়িতে ভারতের পতাকা তোলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
২০১০ সালের ১৭ মার্চ কাঠমান্ডুর ইয়াক অ্যান্ড ইয়েতি হোটেলে মুজিবনগর দিবসের অনুষ্ঠানে নিমচন্দ্রের নির্দেশে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও নেপালের জাতীয় সঙ্গীতও বাজানো হয়।
নারী কেলেঙ্কারি
নিমচন্দ্র ভৌমিকের অসংখ্য নারী কেলেঙ্কারির মধ্যে বলিউড তারকা মনীষা কৈরালার সঙ্গে দেখা করতে অকূটনীতিকসুলভ আচরণের কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে এসেছে।
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি পাঁচ তরুণের একটি চিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছিলেন নেপালের প্রভাবশালী কৈরালা পরিবারের সদস্য মনীষা। অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর সন্ধ্যায় মনীষা দেখা পেতে তার বাড়িতেও ধরনা দিয়েছিলেন নিমচন্দ্র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করে জেনেছে, মনীষার বাড়িতে ঢুকতে আধা ঘণ্টা ধরে ফটকে দাঁড়িয়ে দেনদরবার চালিয়েছিলেন নিমচন্দ্র। তবে ফটক খোলেনি।
২০০৯ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের মুখপাত্র অপূর্ব শ্রীবাস্তবকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করেছিলেন বলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া বাংলাদেশি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে নেপালের বেশ কয়েকজন নারীও রাষ্ট্রদূতের কাছে হয়রানির স্বীকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বেশ কয়েকজন নারীকে দূতাবাসেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিচ্ছেন নিমচন্দ্র। রাষ্ট্রদূতের আচরণের মধ্য দিয়ে আত্মমর্যাদা বোধ বিসর্জন ও দায়িত্বনিষ্ঠার অভাব প্রকাশ পেয়েছে।
নিমচন্দ্রের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির সরাসরি অভিযোগ গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তোলেন কাঠমান্ডু দূতাবাসের সাবেক ফার্স্ট সেক্রেটারি নাসরিন জাহান লিপি। ওই মাসেরই মধ্যভাগে চার বাংলাদেশি তরুণীকে জড়িয়ে দূতাবাসে নিমচন্দ্রের কেলেঙ্কারির তিনি প্রত্যক্ষ সাক্ষী বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৃত্তির জন্য ঘুষ
২০০৯ ও ২০১০ সালে নেপালি শিক্ষার্থীদের দেওয়া বাংলাদেশি বৃত্তির ক্ষেত্রে 'নয়-ছয়' হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষাভিসা দেওয়ার নজিরও খুঁজে পেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃত্তির ক্ষেত্রে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তি এমনকি সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশও উপেক্ষা করেছেন নিমচন্দ্র।
নেপালের যে সব শিক্ষার্থী সরাসরি শিক্ষা ভিসার আবেদন করে, নানা টালবাহানা করে তাদের আটকে পরে 'জটিলতার' অবসানের জন্য বিভিন্ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা তাদের ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো, যে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূতাবাস তথা নিমচন্দ্রের সম্পর্ক ছিলো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তদন্ত দল জানতে পেরেছে, অন্তত ছয়টি সরকারি বৃত্তি নিয়ে 'ঘুষবাণিজ্য' করেছেন নিমচন্দ্র, যার প্রতিটি ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারের।
শিক্ষাবৃত্তির এ ধরনের অপব্যবহারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি হিমালয়ের পাদদেশের দেশটিতে বেশ নাজুক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নেপালের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো
নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে বিশেষ করে মাওবাদীদের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য রেখে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করার অভিযোগও উঠেছে নিমচন্দ্রের বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন প্রকাশ্য সভায়ও নেপালের এখনকার বিরোধী দল মাওবাদীদের সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। মাওবাদীদের কীভাবে ঠেকাতে হবে সে পরামর্শও তাকে দিতে দেখা গেছে।
নেপালের সরকারি মহলে নিমচন্দ্র গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন বলে তদন্ত দল প্রমাণ পেয়েছে। তার ব্যবহার ও অকূটনৈতিকসুলভ আচরণই এর জন্য দায়ী। কাঠমান্ডুর কূটনৈতিক মহলেও তার অবস্থান খুব নাজুক।
নিমচন্দ্রকে সরিয়ে একজন পেশাদার কূটনীতিককে রাষ্ট্রদূতের পদে নিয়োগ দিতে নেপালের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের সচিবকে অনুরোধের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
নিমচন্দ্রের বক্তব্য
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিমচন্দ্র ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোমবার টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কেউ কেউ তার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
নেপাল সরকার তথা দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তার সময়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
ঢাকা-কাঠমান্ডু ফ্লাইট এক বছর আগে সপ্তাহে সাত থেকে আটটি হলেও এখন তা ১৮টিতে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে এতে নিজের সক্রিয়তার কথাও তুলে ধরেন নিমচন্দ্র।
লেখক বলেছেন: বুঝলাম, সংবাদটি অনেকবার পড়েছি, আপনার আগেই পড়েছি। সত্য মিথ্যা বা মাঝামাঝি যাই হোক না কেন বিভিন্ন প্লাটফর্মে এ নিয়ে মন্তব্যও করেছি।
আপনি কেন এখানে এবং আমার অন্য পোষ্টে এই নিউজটি দিচ্ছেন? আপনি কি চান আমার কাছে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কোন অপকর্ম করলে বিশ্ববিদ্যালের একজন শিক্ষক হিসাবে আমার বিশেষভাবে কিছুই করার নেই। এটা কি আপনার মাথায় কাজ করে??
যাই হোক, এরকম অপ্রসাংগিক নিউজ বা লিংক আমার পোষ্টে দেওয়া আমি পছন্দ করি না। ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















