somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এ থার্টি ফাইভ ইয়ার্স ওল্ড পলিটিকাল ভার্জিন..........
বেরসিক ঘুম এমন সময় ভেঙ্গে গেল । দেখলাম আমি আমার বিছানায় শুয়ে আছি আর আমার লুঙ্গিটা ফুলের মালার মত করে আমার গলায় পেচিয়ে আছে .. .. ..<img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/28889128 http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/28889128 2008-12-28 12:50:01
কৌশিকের কলিগ ওপি ওয়ানে আমেরিকা গেছিল...........১৮+ http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/28855065 http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/28855065 2008-10-15 17:18:10 দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাব আল্লাহর দেয়া জিহবাটাকে পঞ্চ ব্যঞ্জনের স্বাদে অভ্যস্থ করে তুলেছিলেন বাবা আর মা কিন্তু এই আক্রার বাজারে যে পরিমান চাকতির দরকার তাত তারা যোগান দিতে পারছেন না । আমি নিজে যা কিছু রোজগার করছি তাতেও কুলাচেছ না। কুলাবে কি করে বলুন? সব জিনিসের দাম বেড়েছে। দ্বিগুন, তিনগুন, চারগুন তারও বেশি কোন কোন ক্ষেত্রে। তাই মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে রোজগার বাড়েনি বলে তাল সামলাতে পারছি না ।

আগেই তো বলেছি খাওয়ার শখ আমার সেই ছোট বেলা হতে আর এক শখ বাজার করার। এ দুটো আমার উত্তরাধিকার সুত্রে পাওয়া । বাবা বলতেন- নিজের হাতে বাজার না করলে খেয়ে সুখ নেই। তাইত আজও আমি বাজারে যাই । রোজই একবার যাই । আগের মত কিনতে পারিনা, তবুও বাজারের এমাথা সেমাথা বার কয়েক ঘুরে ঘুরে দেখি । বিভিন্ন জিনিসের দর দস্তর করি । কিনতে সাধ্যে না কুলালে সে সব জিনিসের গায়ে হাত বুলিয়ে দেখি । খাওয়ার সাধ না মিটলেও কিছুক্ষন উত্তাপ অনুভব করি । মনে মনে তৃপ্তি পাবার চেষ্টা করি । তারপর দেহে ও মনে ক্লান্তি অনুভব করলে বাসায় ফিরি । কোনদিন শুণ্য হাতে, কোনদিন অখাদ্য কুখাদ্য কিছু একটা নিয়ে।

অনেকেই থলে ভরে কিনছেন । তাই দেখে মনে হয় আমিও কিনব, কিনতে পারব । সেই আশায়ইতো রোজ বাজারে যাই।

এইতো সে দিন বাজারে গিয়ে দুর থেকে রূপালী ইলিশ চকচক করতে দেখে মনে পড়ল অনেক দিন ইলিশ খাওয়া হয়নি । ভাবলাম এগিয়ে গিয়ে দেখি কিনতে পারি কিনা । কাছে এগোতেই দেখলাম মেছোর ডালার সব কয়টি ইলিশই যেন আমার পানে তাকিয়ে আছে । আর মিটি মিটি হাসছে । ভাবখানা এই যে - রূপালী ইলিশ কিনবে, রূপোর চাকতি আছে তো? না থাকলে কেটে পড়, মানে মানে সরে দাড়াও । ওদের মিটি মিটি হাসি যেন আমাকে পাগল করে তুলল । কানে বাজছে ছোট ছেলেটির মুখের সেই আধো আধো কথা "বাবা ইলিশ খাবো । সম্বিত ফিরে পেতেই মেছোকে জিজ্ঞেস করে জানলাম সব চেয়ে ছোট ইলিশটির দাম দুইশত ষাট টাকা। ভাবছি অতটুকু ইলিশের এত দাম! কষ্টে সৃষ্টে কিনতে পারলেও ত তা ছয় জনের পাতে পড়বে না। কিনে কি করব? মেছোর সাথে দরাদরি করতে যেতেই ব্যাটা আমাকে একটি চকচকে চাকতি ধরিয়ে দিয়ে বলল আপনি সাহেব ইলিশ খাইবার পারবেন না । দেখলাম চাকতির একপাশে এক ইলিশ আকা আর অন্য পাশে লেখা ২৫ পয়সা । ছেলেকে গিয়ে এই ইলিশটাই দেব ভেবে চাকতিটা পকেটে পুরে রাখলাম। পাশ কেটে সামনে এগোতেই দেখলাম এক মেছোর ডালায় বোয়াল হাঁ করে আছে । ভাবখানা এই - পছন্দমত লোক না হলে কাছে এলেই গিলে খাবে। টাকার ঝন ঝনানি থাকেত এগোও, নাহলে খবরদার এগিয়ো না যেন। সাহস পেলাম না । নিরাপদ দুরত্বে গিয়ে দাড়ালাম। দেখলাম সামনের ডালায় ছোট ছোট পুটি নিয়ে সাত আটজন গলা ধরাধরি করে বসে আছে, কোন দিকে খেয়াল নেই । আপনমনে গল্পে মশগুল। জিজ্ঞেস করে শুনলাম দর্শনী পচিশ টাকা পেলে ওনারা থলেতে চড়ে আমার বাড়ীতে তশরীফ আনতে রাজি। হঠাত পুটিগুলি ফরফর করে নড়ে উঠল যেন বলতে চাইল যাদের এতদিন ছোট ভেবেছ তাদের দিন বদলেছে, মান বেড়েছে যা তা দাম বলে অপমান কোরনা যেন। ফিরে এলাম।

ছোটদের বইতে সেই গল্পটা পড়েছেন? নাকের ডগায় মূলো বেধে রেখে এক ব্যবসায়ী তার গাধাকে দিয়ে বোঝা টানাত । আমার অবস্থাও অনেকটা সেইমত হয়েছিল । তরকারীর বাজারে ঢুকতেই দেখলাম দোকানীরা মূলো নিয়ে বসে আছে দাম জিজ্ঞেস করতেই শুনলাম কেজি তিরিশ টাকা। ভাবলাম সামনের দোকানে দেখি, তারটা আরও দু টাকা বেশী । এ দোকান সে দোকান ঘোরা হল । কিন্তু মূলো কেনা আর হলনা। পাশের ডালায় দেখলাম নব বধুর লজ্জায় ঘোমটা টেনে বসে আছে পাতা কপিরা । ভাবলাম পাতা কপিই কেনা যাক। ও বাব্বা হাতে তুলতেই দেখলাম যাকে এতন নব বধু ভাবছিলাম আসলে সে নব বধু নয় । ঘোমটা খুলতেই বেড়িয়ে পড়ল ফোকলা দাতের থুত্থুরী এক বুড়ী । দোকানী বলল অনেক দূর থেকে আনতে হয় বলে ওর চামড়া শুকিয়ে অমন হয়েছে। দাম কিন্তু কমেনি - কনে কনে গন্ধ এখনও পাওয়া যায় । আর একটু এগিয়ে যেতেই দেখলাম লজ্জাবতী নারীর রক্তিমাভ গালের মত লাল টুকটুকে এক ঝাকা টমেটো, কিনতে মন চাইলো। দোকানী দাম হাকল আশি টাকা কেজি। মনে হল রাস্তায় দেখা ষোড়শী সুন্দরী যুবতীর মত ইহাও নাগালের বাইরে। বুক চাপা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে সামনে এগোলাম। দেখলাম অন্য এক দোকানী বসেছে বেগুন নিয়ে। আগুনে ঝলসে চটকিয়ে খেতে খুব স্বাদ। মনে করলাম বেগুনের দাম নিশ্চয়ই কম হবে। কিন্তু ওরও যে হঠাত গুন বেড়েছে তাত বুঝিনি। দোকানীকে জিজ্ঞেস করতে দাম হাকল চল্লিশ টাকা কেজি। ও জিনিসটার প্রতি আমার একটু ঝোক আছে । আমারও কোন গুন নাই অর্থাত আমিও বেগুন। সে কারনেই ঝোকটা একটু বেশি কিনা জানিনা, এক কেজি কিনেই ফেললাম । সামনের দোকানে কাচ কলা দেখে কিনতে গেলাম কিন্তু ও যে দশ টাকা দাম হেকে আমাকে কাচ কলা দেখাবে তাত ভাবিনি ।

মশলার বাজারে ঢুকে তো আমার আক্কেল গুড়ুম। আপনি কোনদিন পিয়াজের ছোবড়া ছাড়িয়েছেন বা শিল নোড়ায় ঘষেছেন? যদি এ কাজ করে থাকেন তবেই বুঝবেন যে ওর রসে কি ভাবে চোখ জ্বালা করে । কিন্তু বিশ্বাস করেন ওর দাম শুনেই আমার চোখ জ্বালা শুরু হয়েছিল । দোকানী দাম হাকল ষাট টাকা । জিজ্ঞেস করলাম হঠাত দাম বৃদ্ধির কারন। দোকানী হেসে বলল মওকা বুঝে আড়তদাররা দাম বাড়িয়েছে আমরা খুচরা দোকানীরা কি করতে পারি বলুন? সত্যিইতো, ওরা কি করতে পারে। যা কিছু পারি আমরা খদ্দেররা।

চোখ ঘসতে ঘসতে বাসার পথে পা চালালাম । রাস্তার পাশে ফলের দোকান। মনে হল যেন অভিমানী মেয়ের মত গাল ফুলিয়ে সূতোয় ঝুলে দোল খাচ্ছে আপেলগুলো। ইচ্ছে হল একটু পরশ পেতে। এগিয়ে গিয়ে গায়ে হাত বুলিয়ে ওর মধুর পরশ অনুভব করলাম। দোকনীকে জিজ্ঞেস করে শুনলাম মূল্য একশত ষাট টাকা কেজি। আঁতকে উঠে হাত সরিয়ে নিলাম । পাশেই আঙ্গুর ফল ঝুলছিল 'আঙ্গুর ফল টক' প্রবাদটি মনে পড়তেই আস্তে করে একটি ঢোক গিলে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম । ফিরাতেই দেখলাম গুটিকতক কমলা। প্রতিটির দাম দশ টাকা, বড়টি বার টাকা । ভাবলাম খাওয়া যাবেনা । আফসোস হল, হঠাত মনে পড়ল কবিরা কমলার কোয়াগুলিকে যেন কিসের সাথে তুলনা করেছেন না? ভাবছি বাসায় ফিরে তাই খাব । দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/28739233 http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/28739233 2007-10-23 13:34:14
বড়ভাই

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। হল এ থাকি। আমার পাশের রুমে থাকতেন দীর্ঘদেহী আকর্ষনীয় চেহারার এম, এ চুড়ান্ত পর্বের একজন ছাত্র। সবাই তাকে বড়ভাই বলে ডাকতাম। বড়ভাই যেমন আপদে বিপদে সকলের খোজ নিতেন, সহযোগিতা করতেন তেমনি প্রায়ই আসর জমিয়ে রাখতেন। সুন্দর সুন্দর ও চমকপ্রদ অনেক গল্পও করতেন। মোটকথা, আমরা সবাই তাকে ভালবাসতাম বিশেষ করে তার সুন্দর মনের জন্য।

তেমনি একদিন গল্প করতে করতে বড়ভাই বললেন যে জীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখিন তিনি হয়েছেন কিন্তু কখনো ঘাবড়াননি কোন সমস্যার সমাধান হয়েছে, আবার অনেক গুলোর হয়নি বলে অনেক ঝড় ঝাপটার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু কখনো তিনি বিব্রত হননি, বিচলিত বোধ করেননি, এটা তার গর্ব।

রুমমেট রেজাউল বলল যে একবার চেষ্টা করে দেখা যাক না বড়ভাইকে বিব্রত করা যায় কিনা? বিচলিত হন কিনা?

যে কথা সে কাজ। আমরা কয়েকজন মিলে শলা-পরামর্শ করলাম। স্থির হল... গোছল খানা, ডাইনিং হল, ক্যাফেটেরিয়া, কমনরুমে যে যেখানে যার সঙ্গে দেখা হবে, বড়ভাই কথা বলতে শুরু করলেই আমরা সবাই বলব, বড়ভাই বলছেন কি? আপনার কথার তো কোন আগামাথা পাচ্ছিনা। আপনার কি মাথা খারাপ হল নাকি? এভাবে চলল তিন চারদিন। বড়ভাই হয়ত জিজ্ঞেস করছেন - ডাইনিং হলে খেতে যাব কিনা? অমনি জিজ্ঞেস করে বসলাম বড়ভাই আপনি কি অসুস্থ, আপনি না মাত্র খেয়ে এলেন? কি আবোল তাবোল বকছেন। মাথা ঠিক আছে তো? দুপা এগিয়ে অন্যকে বড়ভাই জিজ্ঞেস করলেন- ওরা আমার সঙ্গে অমন করে কথা বলে কেন, বলতে পার? অমনি সেও উত্তর দিল - বড়ভাই বলছেন কি? আপনার কথার মাথা - মুন্ডু তো কিছুই বুঝতে পারছি না। আপনার নিজের মাথা ঠিক আছে তো? এভাবে উনি যেখানে যার সঙ্গে কথা বলছেন সবার সেই এক কথা। যারা এই শলা পরামর্শের কথা জানেন না তারা নিজেরাই এগিয়ে হয়ত জিজ্ঞেস করছে - বড়ভাই কেমন আছেন? বড়ভাই ভাল আছি বলতে গিয়েও থমকে গেলেন এই ভেবে যে হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন?

এভাবে চলল। চারদিনের মাথায় এসে বড়ভাই সত্যি চিন্তিত হলেন। সত্যিই অসুস্থ হয়েছেন কিনা নিজের মধ্যেই বিরাট প্রশ্নবোধক চিহৃ হয়ে দেখা দিল। তিনি একটু বিমর্ষ হলেন। কিছুটা ভীতও হলেন বোধহয়। পঞ্চম দিনে তার অবয়বে ভীতভাব ফুটে উঠল। যাকে সামনে পান তাকেই জিজ্ঞেস করেন - তাকে সুস্থ দেখাচ্ছে কিনা । তার কথায় কোন অসংলগ্নতা লক্ষ্য করছেন কিনা? খাওয়া দাওয়া প্রায় ছেড়ে দিলেন। তার রুমমেটের কাছে জানা গেল যে রাতের ঘুমও তার নষ্ট হয়েছে। প্রায় সারারাতই রুমে ও বারান্দায় পায়চারী করে কাটিয়েছেন।

আমরা যারা এ ঘটনার হোতা তারা একটু ভড়কে গেলাম। সত্যিই কি অমন হাসি খুশি দিলখোলা মানুষটাকে পাগল বানিয়ে ছাড়লাম! সত্যিই যদি বড়ভাই পাগল হয়ে যায় তবে সে অপরাধের প্রতিকার কি হবে? এত জঘন্য অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।

আবারও শলা-পরামর্শ হলো। বড়ভাইর অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আগেই কিছু একটা ব্যাবস্থা করতে হবে। বড়ভাইকে আরও অসুস্থ হতে দেয়া যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে তিন চার জন মিলে ছুটলাম ডাক্তারের কাছে। তাকে সবকথা খুলে বলতে তিনি ভয়ানক রেগে গেলেন। বললেন, আপনাদের লেখাপড়া করা উচিৎ হয়নি। আপনারা শুধু বিবেক বর্জিতই নন আপনারা অমানুষ। একবারও কি চিন্তা করেছেন যে আপনাদের এ অবিবেচকের মত কাজটি শুধুমাত্র একটা সম্ভাবনাময় জীবনকে ধ্বংস করার উপক্রম করেন নি, একটি পরিবারকেও হয়তবা অশেষ দুঃখ -দুর্দশার মধ্যে ঠেলে দেবে। বন্ধুর চিকিৎসার জন্য এসেছেন, আসলে চিকিৎসা হওয়া উচিৎ আপনাদের কজনার। আমরা এতক্ষন অধবোদনে দাড়িয়ে ছিলাম, পরে ক্ষমা চেয়ে ডাক্তার সাহেবকে অনুরোধ করলাম বড়ভাইএর চিকিৎসার জন্য আমাদের সাথে আসতে।

ডাক্তার সাহেব এলেন। দেখেশুনে কিছু ঔষধ দিলেন। এবং তাৎক্ষনিক ভাবে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে গেলেন। ঘুম ভাঙ্গলে আবার ঘুম পাড়াবার জন্য ঔষধ ব্যবস্থা করতে বলে গেলেন। তার ধারনা অন্তত চব্বিশ ঘন্টা একটানা ঘুম তার দরকার।

আমরা কজন পালা করে বড়ভাইয়ের কাছে থাকলাম। লক্ষ্য রাখলাম, ডাক্তারের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টায় রত থাকলাম। প্রায় ত্রিশ ঘন্টা একটানা ঘুমের পর বড়ভাই জাগলেন। আমরা কাছেই ছিলাম। আমাদের দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার তোমরা সবাই! রেজাউল বলল, বড়ভাই আজ না আন্তঃ হল ফুটবল ফাইনাল খেলা। মাঠে যাবেন না? বড়ভাইএর যেন সম্বিত ফিরে এল , বললেন- তাইত, চল যাই। কিন্তু আমার যে খুব ক্ষুধা পেয়েছে। একসঙ্গে তিন-চারজন বলে উঠলাম – চলুন, মাঠে যাওয়ার পথে ক্যাফেটেরিয়ায় খেয়ে চলে যাব।

এরপর লক্ষ্য করলাম, বড়ভাইএর সে অবস্থাটা কেটে গেছে বটে কিন্তু পূর্বের সেই উচ্ছলতা যেন হারিয়ে গেছে। কেমন যেন একটু গম্ভির হয়ে গেছেন।

সেইদিন প্রতিবেশী বন্ধুকে এ ঘটনার কথা শুনিয়েছিলাম, শুনেই সে বলল - তোমরা কজন মিলে একটি সম্ভাবনাময় জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছিলে প্রায়। তবুও শেষ মুহুর্তে বোধদয় হওয়ায় চুড়ান্ত ধ্বংস এড়ানো গেছে কিন্তু আমাদের দেশেরও প্রায় একই অবস্থা। কিছু সংখ্যক লোক মিলে দেশের সমগ্র মানুষকে পাগল বানিয়ে ছাড়বে বলে মনে হচ্ছে। একই সুরে সবাই একই কথা বলছে, পক্ষ - বিপক্ষ সবাই। কিন্তু এতে করে সাধারন মানুষের কোন কল্যান নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছিনা।

তাইত ভাবি চুড়ান্ত অমঙ্গলের আগে সবার বোধদয় হোক। দেশ ও সাধারন মানুষের মঙ্গল আনুক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/28709485 http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/28709485 2007-05-07 15:10:55
তুমি না আপনি
আর আপনি বলে সম্বোধন করি কাদের? যারা আমার চেয়ে বয়সে বড়, শিক্ষাগত যোগ্যতা আমার চেয়ে বেশী, সামাজিক পদমযর্াদায় আমার চেয়ে উচু আসনের দাবীদার কিংবা কর্মক্ষেত্রে আমার চেয়ে অধিক সফলকাম। তাদেরকেও আপনি বলে সম্বোধন করি যাদের প্রচুর ধন-দৌলত আছে ।

যাদের শ্রদ্ধা করি, সমীহ করি , ভয় করি বা সংকোচ করি তাদেরকেও আমরা হর-রোজ আপনি বলি । কিন্তু তাদের মধ্যে যারা আমার একান্ত আপন তাদেরকে আবার তুমিও বলি । এই ধরুন বাবা মাকে আমরা তুমি বলি । তুমি বললাম বলে কি তাদের অশ্রদ্ধা/ অসম্মান করা হল ? কিংবা সমাজের অন্যান্য ব্যক্তির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করলাম ? না নিশ্চয়ই নয় , বরং আদর-সোহাগের নিদর্শনই প্রকাশ করা হল । প্রকাশ করা হল নৈকট্য ।

তবুও এই তুমি আর আপনি নিয়েই আমার যত ঝামেলা । কাকে তুমি বলব আর কাকে আপনি বলতে হবে অনেক সময় ঠিক করতে পারিনা । আর সে কারনে আমাকে বহুবার হোচট খেতে হয়েছে । এবং এ রকম যতবার ঘটেছে ততবারই তওবা করেছি ভবিষ্যতে সাবধান হবো, এমন নাজেহাল আর যাতে না হতে হয় । কিন্তু ধুত্তুরী, এখন পথে বেড়োনোই দায়।

করি মাষ্টারী । কত ছেলেকেইত পড়িয়েছি । ছাত্রদের অনেকে জীবনে সু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । কেউ জজ-ম্যাজিষ্ট্রেট হয়েছে। কেউবা হয়েছে অফিসের বড় সাহেব আবার কেউ হয়েছে রাজনৈতিক নেতা। মুস্কিল কি আমার শুধু অচেনা লোককে নিয়ে? না! এসব কৃতি ছাত্রদের নিয়েও আমার দুশ্চিন্তা কম নয়।

1972 সনের একদিন ফুড অফিসে গিয়েছিলাম একখানা চিনির পারমিটের জন্য। নিয়ন্ত্রকের রুমে ঢুকে দেখলাম এককালে সে আমার ছাত্র ছিল । কতদিন তাকে পড়িয়েছি। আদর করে অনেক সময় তুই ও বলে ফেলেছি। তাই আজ তাকে তুমি বলে সম্বোধন করলাম । সাহেব একবার আমার দিকে তাকিয়ে আবার মাথা নিচু করলেন, আর তাকালেননা । কিন্তু আমার তো চিনি না হলেই নয়, চিনি নিয়ে বাসায় ফিরলে ছোট বাচ্চাটা দুধ খাবে । রূগ্না স্ত্রী খাবে পথ্য । মরিয়া হয়ে আবার বললাম বাবা, তুমি বোধহয় আমাকে চিনতে পারনি, আমি তোমার কলেজ জীবনের সেই এহসান স্যার । চিনির পারমিটের জন্য তোমার কাছে এসেছি। ভদ্রলোক আর একবার চোখ তুলে চাইলেন এবং ছোট্ট করে বললেন -আপনার বোধহয় ভূল হচ্ছে, আপনি মাষ্টার মানুষ , ছাত্রদেরকে এত শেখান আর একটা অফিসে এসে সেখানকার বড় সাহেবকে কি বলে সম্বোধন করতে হয়, কিভাবে সম্মান দিতে হয় তা'ত শেখেননি। কি বলব বলুন - আমার ছাত্রটির গোস্বা দেখে ভড়কিয়ে গিয়ে ফিরে এলাম, চিনির পারমিট আর হলনা ।

কোরবানীর ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছি । আমাদের গ্রামে সপ্তাহে দুদিন হাট বসে । হাটে গিয়েছি একদিন, দেখা হল রতনের সাথে । জিজ্ঞেস করলাম - কেমন আছ? উত্তর দিলনা । আমার হাত ধরে একপাশে নিয়ে গিয়ে দাড়াল । আমার মুখের দিকে কিছু সময় তাকিয়ে থাকল পরে বলল আমাকে কেন তুমি বলে সম্বোধন করছ? আমি তো তোমার চেয়ে বয়সে বড়, তোমার মত আমিও এম,এ পাশ করেছি, চাকরীও একটা ভালই করছি । তবুও আমাকে কেন তুমি বলছ? আমার বাবা তোমার বাবার কর্মচারী ছিল সে জন্যই কি ? তা সে সম্পর্ক তো চুকে গেছে, তবে? জিজ্ঞেস করলাম তবে কি? সে বলল আপনি বলে কি সম্বোধন করতে পারনা? যদি না পার তবে আমার সাথে কথা বলবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি তাকে বোঝাতে চেয়েছিলাম বয়সে সামান্য বড় হলেও আমরা একই গ্রামে ছোটবেলা থেকে বসবাস করছি, একই স্কুলে পড়াশোনা করেছি, পূর্ব থেকে একে অন্যকে তুমি বলেছি। তাই আজও তুমি বলেছিলাম, যাহোক তোমার আপত্তি থাকলে নিশ্চয়ই বলবনা। আমারতো এমন কিছু লোকসান হবেনা 'আপনি' বলতে। তবুও যেন তার রাগ কমলনা, যেতে যেতে বলে গেল - দিনকাল পাল্টেছে , খেয়াল রাখলে খুশি হব।

রতন চলে গেল, কিন্তু আমাকে ভাবিয়ে রেখে গেল। ভাবলাম সে ত ঠিক কথাই বলেছে, দিন কালের পরিবর্তন হয়েছে। মানীর মান কমেছে। কমেছে বাবার কাশ্মীরী শালের দাম।

ভেবে ভেবে স্থির করলাম - কে কোথায় গোস্বা হবে, কে কি ভাববে বা বলে ফেলবে, কাজেই সময় থাকতে সাবধান। রতন লেখাপড়া শিখেছে, ভদ্রতা করে খারাপ ব্যবহার করেনি। শুধুমাত্র ওর আপত্তিটা জানিয়ে গেছে। কিন্তু এমনও তো হতে পারে যে আর কেউ শুধু আপত্তিই করবে না, উল্টো লোকজনের সামনে অপমান করবে। তারচেয়ে আজ থেকে সবাইকে আপনি বলব - তাই ভাল। সবাই খুশি হবে। আমার এমন কিছু লোকসান হবেনা। এবং সেই দিন থেকে সবাইকে আপনি বলা শুরু করলাম। বয়সে ছোট বড় সকলকে(শুধু মাত্র বালক বালিকাদের বাদ দিয়ে) মাছওয়ালা, দুধ ওয়ালা, রিক্সাওয়ালা - সবাইকে । কিন্তু তখন কি জানতাম যে এই আপনি সম্বোধনও একদিন আমাকে বেকায়দায় ফেলে নাস্তা-নাবুদ করবে?

অন্য একদিন আমাদের গ্রামের বাড়ীতে এসেছে গ্রামেরই লোক হাতেম। বাড়ীতে গিয়েছি শুনে দেখা করতে এসেছে। এককালে আমাদের প্রজা ছিল। জিজ্ঞেস করলাম - হাতেম ভাই কেমন আছেন? আপনার বাড়ীর সকলে ভালতো? সে কোন উত্তর দিলনা। আবার জিজ্ঞেস করলাম - কি ভাই কথা বলছেননা কেন? এবার সে মুখ খুলল, বলল - সাহেব লেখাপড়া শিখে আপনাদের মত বড় হতে পারিনি, আপনাদের মত চাকুরী করিনা বা পোষাক পরতে পারিনা বলে কি আপনারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলবেন? বললাম, আপনি বলে কথা বললে বুঝি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়? আপনিত আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়, আপনিই তো বলা উচিৎ। এতে দোষ কোথায় ? সে আমার মুখেরপানে একদৃষ্টে কিছু সময় তাকিয়ে থেকে চলে গেল এই বলে যে - এমন অপমান করবেন জানলে আপনার সঙ্গে দেখা করতে আসতাম না সাহেব।

হাতেম চলে গেল আমাকে হতভম্ব করে । আমি ভেবে পাইনা রতনকে তুমি বললে রাগ করবে আর হাতেম রাগ করবে আপনি বললে! তাইত আমার ভাবনা - কাকে তুমি বলব,কাকে আপনি । এটাই আমার সামপ্রতিক কালের সবচেয়ে বড় ভাবনা। এ ভাবনার যেন শেষ নেই । তাইত আজ আমি পরিচিত অপরিচিত কারো সাথেই স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারিনা-পাছে কে অসন্তুষ্ট হয় এই ভেবে ।

লেখাটি সাকিব আল মাহমুদের "আপনি বলতেই ভালো লাগে" থেকে অনুপ্রানিত
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/22733 http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/22733 2006-11-01 01:38:15
এই দিন দিন নয়
ভদ্রলোক চড় কষিয়েই ক্ষান্ত থাকলেন না। অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে শুরু করলেন। তার মুখে উচ্চারিত শব্দগুলোর সাথে তার চেহারা ও পোষাকের সাথে মিল ছিলনা। অমন ভাষায় গালাগালি সাধারনতঃ আমরা শুনে থাকি অশিতি কুলি মজুরদের মুখে। তাই উপস্থিত সকলে না হলেও বেশ কিছু সংখ্যক অবাক বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।

ঐ ভদ্রলোক গিয়েছিলেন শহর থেকে কিছু দুরে। বন্ধু বান্ধব ও পরিচিত কিছু লোক নিয়ে গাড়ি সাজিয়ে দিনভর আনন্দ ফুর্তি করার জন্য। নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে আমোদ- প্রমোদে যদি বাঁধা আসে তবে কে না রাগ করে? কার না মেজাজ খারাপ হয়, বলুন তো?

শহুরে লোকগুলো যখন গাড়ি হাকিয়ে, ঢাক ঢোল বাজিয়ে আমোদ ফুর্তি করার কারনে স্বল্পক্ষন হাজির হয় তখন তাদের দেখতে গ্রামের সাধারন মানুষগুলোর দৃষ্টি কাড়াই তো স্বাভাবিক। তাদের হৈ -হুল্লোর, খানাপিনার তেজী ঘ্রান ঐ অনাহার কিষ্ট, পান্ডুর চেহারার লোকগুলোকে ত আকৃষ্ট করারই কথা। ওরা অংশগ্রহনের জন্য নয়, নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার কারনেও নয়, নিছক কৌতুহল বশত: এবং কিয়দাংশ হয়তবা আহারের সুঘ্রানে নিজের রসনাকে তৃপ্ত করতে সেখানে এসে ভীড় করে। কেউ দাড়িয়ে থেকে তামাশা দেখে। বেলেল্লাপনায় আহত হয়ে কিম্বা অধিক্ষন দেখে দেখে কান্ত হয়ে এক সময় ফিরে যায় বেশীরভাগ দর্শক। আর অনাহার যাদের নিত্য সাথী সেই সব পরিবারের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা খাবারের মৌ মৌ গন্ধে যেন জায়গা ছেড়ে যেতে পারেনা। ওদের রসনা সজীব হয়ে ওঠে। আমাদের পরিচিত জীব বিশেষের মত কুঁই কুঁই করে ওরই আশে পাশে রসনা তৃপ্তির আশায় ঘুর ঘুর করতে শুরু করে। তাদের এ বেহায়াপনা বিরক্তির উদ্রেক করে ঐ সব শহুরে লোকদের - ক্রোধান্বিত করে। কোন কোন সময়বা হিংস্র হয়ে উঠতে বাধ্য করে।

এমন এক ঘটনাই ঘটেছিল সেদিন ঐ ভদ্রলোককে ঘিরে। রোজকার মত শহরের বাসার ছিমছাম পরিবেশে টেবিলে সাজানো পঞ্চব্যাঞ্জনে রসনা তৃপ্ত না করে শহরতলীতে গিয়েছিলেন ছায়াঘেরা, পাখির কল-কাকলীতে মুখর কোন জায়গায় কিছুনের জন্য ব্যতিক্রম খুঁজতে। অনেকগুলি মুরগী ও খাসীর জীবনাবসান ঘটিয়ে নামকরা বাবুর্চি সাথে নিয়ে ঐ ভদ্রলোক গিয়েছিলেন পিকনিক খেতে।

মাইকে গানের আওয়াজ আর তাদের হৈ-হুল্লোরে পাখিরা ভয়ে উড়ে পালালেও একদল লোক এসে উপস্থিত হয়েছিল তাদের রং তামাশা দেখতে এক সময় ভীড় পাতলাও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কিছু সংখ্যক দর্শককে আকৃষ্ট করে ধরে রেখেছিল খাবারের মৌ মৌ গন্ধ।

পড়ন্ত বেলায় খাবার পরিবেশন হচ্ছে। দলের সবাই নিজ নিজ প্লেটে সুগন্ধি খাবার নিয়ে গ্রাস তুলেছে আর ঐ হাভাতেরা দূরে দাড়িয়ে থেকে ঘ্রান শুকছে আর দেখছে। অদৃশ্য আকর্ষনে পা পা করে খাবার পরিবেশনের জায়গায় এসে দাড়িয়েছে বেশ কয়েকজন। ব্যাস শুরু হল ধমকানি, গালাগালি, দু একজন তেঁেড়ও এলেন। ওরা দূরে সরে গেল। পরক্ষনেই আবার কি এক দুর্বার আকর্ষনে কাছাকাছি এগিয়ে গেল।

ওরা জানে এসব খাবার ওদের জন্য নয়। শবে বরাতের রাতে ওদের ভাগ্যে পান্তা ভাত আর মরিচ পোড়াই বরাদ্দ হয়েছে, তাই আফসোস থাকলেও কেড়ে খাবার ইচ্ছে নেই। তাই বলে ভদ্রলোকদের মাটিতে ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট হাড্ডি গুলো একটু চেখে দেখতে দোষ কোথায়?

আপত্তি নেই ভেবেই ছোট ছেলেটি ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্টে হাত লাগিয়েছিল। কিন্তু ভদ্রলোকের যে খাওয়া শেষ হয়নি তখনও। প্লেটের পাশে অমন নোংরা চেহারা আর জামা-কাপড় পরা ছেলেটির হাত পরবে ভাবা অসহ্য। তাইত ভদ্রলোক চড় কষিয়েছিলেন।

ছেলেটিরই বা দোষ কি বলুন? ভদ্রলোকেরা ত মাংস খেয়ে হাড্ডি ফেলে দিচ্ছেন। সেগুলি তুলে নিলে তাদের আপত্তি কোথায় - ছেলেটির মনে সেই প্রশ্ন। যাহোক হাড্ডি খেতে গিয়ে উপরি হিসেবে থাপ্পড়ও খেল। মন্দ কি?

সুধী পাঠক এমনটা হয় কেন বলতে পারবেন?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/18862 http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/18862 2006-09-12 03:02:36
জন্মদিন
কিছুক্ষন পরে আমার দরজার কড়া নড়ে উঠল । দরজা খুলে দেখলাম সেই বাড়ির এক ভদ্রলোক দাড়িয়ে । সম্ভা্সন বিনিময়ের পর তিনি ভিতরে এসে বসলেন, বসেই বললেন তিনি খুব ব্যস্ত, বেশীক্ষন বসবার সময় নেই । তাদের বাড়িতে সামান্য আয়োজন। গুটিকয়েক লোকজনের খানা পিনার ব্যবস্থা করা হয়েছে । বাড়ির কর্তা আমাকে আগেই খুজেছিলেন, দেখা হয়নি । আমি যেন তাদের সঙ্গে রাতে খাবার টেবিলে শরীক হই । ভাবলাম দাওয়াত খাব, কি সুখবর! বাড়ীতে যা খাই আজকাল, যাক অনেকদিন পর ভাল খাবার একটা সুযোগ এলো । এসব ভেবেই বললাম -এতো আমার সৌভাগ্য, নিশ্চয়ই যাব । ভদ্রলোক চলে গেলেন । আমি কিন্তু তখনই উঠতে পারলাম না । চিন্তায় পেয়ে বসল, আমি তো না হয় খাব , হয়ত পেট পুর্ইে খাব । ভাল ভাল জিনিস খাব । কিন্তু ছেলে মেয়ে গুলো? কতদিন ওদের ভাল মাছ খাওয়াতে পারিনি । খাসী , মুরগী যে খাবার বস্তু তা হয়ত ভূলেই গেছে । এইত সেদিন ছোট ছেলেটা খেতে বসে থালায় খানিকটা্ শব্জী দেখে গোস্বা করল । ওর মাকে বলল - কত দিন শুধু শব্জীই খাচ্ছি, এর কোন রকমফের হবেনা মা? - - - যা দেয়া হয়েছে তাই খেতে বলা হল । ছেলে কিন্তু রাজি নয় , বলল মাসের পর মাস শুধু শাক-পাতা খেতে ভাল লাগেনা । বাবাকে বলো মাসে অন্তত : একদিন মাছ গোস্ত খাওয়াতে। ওর কন্ঠে মিনতি ঝরল। কোন উত্তর না পেয়ে ছেলেটি অগত্যা সেগুলো গল:ধকরন করে উঠে পড়েছিল ।
হঠাৎ মনে পড়ল , হাতে অনেক কাজ , বসে থাকলে তো হবেনা , তার চেয়ে কাজে মন দেই গিয়ে । এই যা: ! উৎসব টা কিসের ? এত খানাপিনার আয়োজনই বা কেন? কিছু্ই জিজ্ঞেস করা হল না । যাকগে , সময়মত গিয়ে খেয়ে আসব , আর কি?

বেলা বাড়তে লাগল । উৎসব বাড়ীর উৎসবের পরিমান বাড়তে লাগল, লোকজন বাড়ল , বাড়ল হৈ চৈ। বাড়ী-ঘরকে সুন্দর করে তোলা হল । প্যান্ডেল পড়ল । রঙ্গীন বালবের আলোয় সমস্ত বাড়ী ঝলমল করে উঠল । যথাসময়ে টেবিলে খাবার পরিবেশিত হলো । রকমারী খাবার , প্রচুর খুশবু, খেয়ে সবাই তৃপ্ত। আমিও খেয়েছি খুব। অনেকদিন পর ভাল খাবার খেয়ে যেন একটু বেশী পরিমানেই খেয়েছি । এবার বিদায়ের পালা ।একে একে সকলে বিদায় নিয়ে চলতে শুরু করল । হঠাৎ কে একজন জিজ্ঞেস করল - অনেক খেলাম , প্রচুর আনন্দ পেলাম কিন্তু উৎসব টা কিসের তাতো জানা হলনা । যেন হঠাৎ মনে পড়েছে এভাবেই সকলেই বাড়ির কতর্াকে ধরে বসলেন । ভদ্রলোক নম্র ও লাজুক হেসে বললেন , এমন কিছুনা । জানেন তো আমার কোন ছেলে মেয়ে নেই । তাই গিনি্নর নানা শখ নানা বায়না । তেমনি একটা বায়না মিটাতেই আজকের এই আয়োজন । গিনি্ন একটা বিড়াল পোষেন , আজ তারই জন্মদিন । সকলে একবাক্যে গিনি্নর প্রতি কতর্ার ভালবাসা এবং দরাজ দিলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বিদায় নিল । আমিও বাসায় ফিরলাম।

ফিরে এসেই যত ঝামেলা, অমন সুন্দর খাবারটাও যেন আর হজম হবেনা । আমার সাত বছরের মেয়েটি তখনও ঘুমায়নি। ঢুকতেই জিজ্ঞেস করল , আব্বু কি খেয়েছ ? সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিতে পারলাম না । কেমন যেন একটা সংকোচ আমার গলা চেপে ধরল । আপনারা না জানলেও আমার তো জানা আছে পুঁইয়ের ডাটা চিবিয়েই আজ ওদের রাতের খাবার শেষ হয়েছে । আমাকে ইতস্তত: করতে দেখে অতটুকু মেয়েও বুঝিবা ওর বাবার অসুবিধাটা বুঝতে পারল । সে তার প্রশ্নের জন্য চাপ সৃষ্টি না করে অন্য একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিল ।ওদের বাড়ীতে উৎসব কিসের ? বললাম - ও বাড়ীতে আজ বেড়ালের জন্মদিন। মেয়েটি জিজ্ঞেস করল জন্মদিন কি আব্বু? উত্তর দিলাম, কিন্তু তাতে ফ্যাসাদ বাড়ল । আমাদের তো ছেলে মেয়ে আছে , তবে আমরা ওদের জন্মদিন পালন করিনা কেন? সহৃদয় পাঠক , এ প্রশ্নের সদুত্তর কিসে হবে? ছোট ছেলেটি তখন ঘুমিয়ে , নইলে আরও কত প্রশ্নের উত্তর দিতে হত খোদাই জানেন।

তখনকার মত ঝামেলা থামল বটে । কিন্তু তার পরের দিন থেকে আর এক নতুন ফ্যাসাদ । কতন পর পর আমার মেয়ের প্রশ্ন সাতই সেপটেম্বর কবে? আর কদিন বাকি ? ও: বুঝতে পারছেন নাতো ! ওটা্ই আমার মেয়ের জন্মতারিখ । হাতের কড় গুনে সে যখন বুঝে ফেলল আর মাত্র চার দিন বাকি তার জন্মদিনের তখন এক নতুন প্রশ্ন করে বসল । আব্বু আমার জন্মদিন পালন করবে? আমাকে চুপ করে াকতে দেখে বলল - আব্বু , ওরা বেড়ালের জন্মদিন পালন করে আর তুমি আমাদের জন্মদিন পালন করনা কেন? আপনারাই বলেন - আমার এই অবোধ শিশুকে কেমনে বোঝাবো যে ওদের অনেক আছে , ওরা কথায় কথায় টাকা খরচ করতে পারে । কিন্তু আমরা ? আমরা যারা মাসে একবার বেতন পাই, উপড়ি প্রাপ্তিও যাদেও ভাগ্যে জোটেনা, তাদের ত দুবেলা মুখে পোরাই দায় তাদের এই সব উটকো কাজ করার সঙ্গতি কোথায়? ওসব ভাগ্যবানদের সাথে চলবার মতা আমাদের কতটুকু ? দুর থেকে ওদের জৌলস দেখে থমকে তাকানো, নিদেন পক্ষে ঈর্ষা করা ছাড়া আর কিইবা করতে পারি ? এসব আমি বুঝলেও আমার ছেলে মেয়েরা বুঝবে কেন? বিশেষ করে আমার সাত বছরের শিশু কন্যা । কাজেই তার আবদার চলতেই থাকল । মেয়ে আমার কেঁদে ফেলল । মেয়ের কান্না দেখে মেয়ের মা অর্থাৎ আমার গিনি্নও এগিয়ে এল বলল , মেয়েটি আজ কয়েকদিন থেকে বায়না করছে , আর এমন কিছু অন্যায্য বায়নাও নয়, করই না ওর জন্মদিনটা এবার। জীবনে তো কিছু করলে না, না করলে নিজের জন্মদিন না করলে আমার । নিদেন পক্ষে বিবাহ - বার্ষিকিটাও তো করতে পারতে এক আধবার। এই দশ বছর হতে না হতেই দিন তারিখ টা পর্যন্ত ভূলতে বসেছি। বললাম তথাস্থ , হবে। মা মেয়ে উভয়ই দেখি খুশি। ওদের মুখ দেখে আমিও খুশি হয়েছিলাম। মেয়েকে বললাম, মা-মনি তোমার জন্মদিন পালন করব ঠিকই তবে ওদের মত পারবনা । বাড়ি ঘর সাজানো হবেনা আর অনেক লোককেও দাওয়াত দিতে পারব না । আমরা নিজেরাই উৎসব করব, মাইক বাজবে না কিন্তু আমরা নিজেরাই গান করব । মেয়ে তাতেই খুশি। কি হবে না হবে তাতে তার ভ্রুপে নেই , ওর জন্মদিন পালন হবে এটাই ওর আনন্দ। দৌড়ে গিয়ে ছোট ভাই টাকে জড়িয়ে ধরল। জান ভাইয়া ! আমার জন্মদিন হবে। আমরা পেট ভরে খাব । কত মজা ! পোলাও কোরমার কথা শুনে ছেলেটাও খুশি । দুই ভাই বোনের সে কি আনন্দ ! দেখে আমারও খানিকটা তৃপ্তি লাগল ।

সাতই সেপটেম্বর এল। অনাড়ম্বর শুধু নয়, নিরাভরন আয়োজন করলাম। কোন অতিথি থাকলনা। মাইক বাজলনা। লাইট জ্বলল না। প্যান্ডেল হল না। বাবুর্চি এলো না। স্রেফ একটি মুরগী পোলাওয়ের ব্যবস্থা। ছেলে মেয়ে গিনি্ন আর আমি মিলে এই ব্যবস্থা। আর তাতে আমরা সবাই মেতে থাকলাম। পাকানো শেষে সবাই মিলে খেতে বসলাম। গিনি্ন ছেলে মেয়ে দুজনার পাতে দুটি রান উঠিয়ে দিতেই মেয়েটি ছোট ভাইকে বলল , আজতো আমার জন্মদিন, কোন মেহমান নেই , তুমিই যেন আমাদের মেহমান। আম্মু , ওকে একটু বেশী বেশী খেতে দিও । মেহমানদের যে আদর যত্ন করে খাওয়াতে হয়। আমি ওর মুখের দিকে চেয়ে থাকলাম। ও লজ্জা পেয়ে মুখ নিচু করল। পরক্ষনেই মুখ তুলে বলল আব্বু খাও, পোলাউ ঠান্ডা হয়ে গেল । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/18745 http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/18745 2006-09-10 07:39:09
প্রোগ্রাম করে চলছি........
আমার জীবনটাও যেন হুবহু বাংলাদেশ রেডিও। দিনভর আমিও প্রোগ্রাম করে চলছি। বিভিন্ন লোকের মনোরঞ্জনের জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম । রেডিওর মত আমার সে সব প্রোগ্রামের কোন মাথা মুন্ডু নাই । শুধু লোকদের খুশি করার জন্য প্রোগ্রাম করছি । কখোনো হাসির, কখোনো কান্নার, কখোনো মিলনের আবার কখোনো বিচ্ছেদের । একের পর এক অনুষ্ঠান, হররোজ অনুষ্ঠান. হর হামেশা অনুষ্ঠান। তবে একঘেয়েমি অনুষ্ঠান নয়। সে সব অনুষ্ঠানে বৈচিত্র আছে। কিছু অনুষ্ঠান বাংলাদেশ রেডিওর মত নিত্তনৈমিত্তিক কিছুবা ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে সাজানো।

রেডিও বাংলাদেশের মত আমিও ঘুম থেকে জেগেই আসসালামু আলাইকুম বলে অনুষ্ঠান শুরু করি । তবে পার্থক্য এইযে ওদের ঘোষক ও শিল্পিরা আলাদা আলাদা, কিন্তু আমি একাধারে ঘোষক ও শিল্পি দুইই । শুধু কি তাই ? মাঝে মাঝে পরিচালকের ভূমিকায় অভিনয় করতে হয় । যদিও প্রোযোজক হিসাবে কখনো নয় ।

প্রাত:কালীন কার্যাদি সম্পন্ন করে আল্লাহ-রসুলের নাম নিতে কেবলমাত্র শুরু করেছি , অমনি গিন্নির গায়ে সূচ ফুটতে আরম্ভ করলো। নেপথ্য কন্ঠে ভেসে এল বিদ্রুপ-বানী, ভক্ত হইছে রাধার মায়.. .. . ইত্যাদি ইত্যাদি। তার গায়ে জ্বালা ধরার কারন তার ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছে । ছেলে মেয়ে গুলো ততক্ষনে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়েছে । ওদের না সামলালে সে যে ঘুমাতে পারছে না । কাজেই তার সন্তুষ্টি বিধানের জন্য আল্লাহ রসুলের নাম বন্ধ করে ছেলে মেয়ে আগলাতে বসলাম । সে আগলানোও কি চাট্টিখানি কথা! এক একটা এক এক স্বভাবের ।

আমাকে উঠতে দেখেই হৈ হুল্লোর করে এক দঙ্গল ছেলে মেয়ে এগিয়ে এল ক্ষুধা লেগেছে , খেতে দাও। হাতের কাছে যা আছে তাই খেতে দিলাম, সেখানেও বিপত্তি। একটা খাবে রুটি তো অন্যটায় পাউরুটি। একটার জন্য মুড়ি তো অন্যটার জন্য মোয়া। সবার পছন্দ আলাদা । কারো সাথে কারো মিল নেই। আর সে গুলো সামাল দিতে আমি খাচ্ছি হিমশিম । কিন্তু আমার দুরাবস্থা ওদের কৃপাদৃষ্টি আকর্ষনে ব্যর্থ। ওদের এক কথা পিতা হয়ে পিতার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আপনারা বলুনতো ছেড়ে দাও বললেই কি আর ছেড়ে দেয়া যায়? ওদের পছন্দমাফিক খাবার দিতে পারিনি বলে ওরা ততোক্ষনে মহা হৈচৈ শুরু করে দিয়েছে। তাতে গিন্নির ঘুমে ব্যঘাত, অগত্যা ফুসতে ফুসতে বিছানা থেকে উঠলেন। বয়লারের জমাকৃত বাস্প ঢাকনা খুলে একসঙ্গে বেরোতে শুরু করল, আর তার সামনে পরে আমার অবস্থা তখন চুপসে যাওয়া বেলুনের মত । খালি কলসি ডুবানের শব্দ শুনেছেন কখোনো? সে রকম ফট ফট করতে করতে পায়ের চটির শব্দ তুলে তষনকার মত তিনি প্রস্থান করলেন , আমিও হাফ ছেড়ে বাচলাম।

কিন্তু সে আর কতক্ষন। পরবতী প্রোগ্রাম শুরু হয়ে গেল । হেঁসেলে ঢুকেই তিনি মানে আমার গিন্নি বেরিয়ে এলেন, বোমার মত ফেটে পড়লেন । থুরি থুরি বোমার মত নয় , বর্তমানে যে রকম বাদ্যযন্ত্রের ( অনেকগুলি একসাথে) কনসার্ট শোনা যায় অনেকটা সেই রকম। তারা বাজির মত তার মুখ থেকে অঝোর বর্ষন শুরু হল । ঘি নেই , ময়দা প্রায় শেষ । ছেলে মেয়ে দের পরোটা হবে কিসে ? তবু সাহস সঞ্চয় করে বললাম আজ একদিন আটার রুটি হোক । ব্যাস! স্তুপীকৃত বারুদে যেন দেশলাই কাঠি ছোয়ানো হল, এবারে গগন বিদারী শব্দে ফেটে পড়লেন , সার সংক্ষেপে- বিয়ে করেছি , বাপ হয়েছি , জায়া পুত্র কন্যার প্রতি কর্তব্য পালন আমাকে করতেই হবে। সে যে ভাবেই হোক । মিনমিনে গলায় অনুরোধ করলাম, আমার আয় রোজগারের গন্ডির মধ্যে বাস করতে , তা শুনতে রাজি নন । তাদের চাহিদা পূরন করতেই হবে, প্রয়োজনে চুরি করে হলেও । গিন্নি তার রায় জানিয়ে চলে গেলেন , ভাবলাম বাঁচা গেল । না বাঁচব কেমনে! প্রথম অধিবেশনের অনেক প্রোগ্রাম যে তখনও বাকি । ঘি ময়দা যতটুকু ছিল তা থেকে নাস্তা তৈরী করে ছেলে মেয়েদের দেয়া হল । গিন্নির তৈরী করতে করতে খেয়েছেন কিনা জানিনা , তবে আমার ভাগ্যে উচ্ছিষ্টও জুটলনা । পরবতী অনুষ্ঠানের কথা ভাবছি। গিন্নি স্বমুর্তিতে সামনে দাড়িয়ে বাজারের থলেটা ছুড়ে দিয়ে বললেন তাড়াতাড়ি বাজারটা সেরে আসতে , মহিলা ক্লাবে অনুষ্ঠান আছে । তাকে সেখানে যেতে হবে। বাজারের একখানা ফর্দও তুলে দিলেন । দেখেতো আমার চক্ষু স্থির। তিন রকমের মাছ , গোস্ত , শবজী ,ডিম ,ঘি , ময়দা অনেককিছু। যেন পুরো বাজারটাই কিনে আনতে হবে। কিন্তু আমার সঙ্গতি কোথায় ? মাসে সবমিলিয়ে দশ হাজার সাত শত টাকা আয় , পূষ্যি গন্ডা দুয়েক , কুলাবে কেন? এতগুলো জিনিস কিনবার পয়সা কোথায়। কিন্তু সে কথা পুষ্যিদের বলা যাবেনা , বলতে গেলে বিড়ম্বনা বাড়বে বই কমবে না। তাই কিছু না বলে পা বাড়ালাম, সাধ্যমত জিনিস কিনলাম কিন্তু গিন্নির দেয়া ফর্দের অনেক কিছুই হলনা । বাসায় ফিরে , গিন্নি থলের মুখ খুলবার আগেই ব্যস্ততার ভাব দেখিয়ে , মাথায় দু মগ পানি ঢেলে , জামা কাপড় পরে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

অফিসে পৌছে শুরু হল আর এক অনুষ্ঠান । পৌছানোর সাথে সাথে তলব এল বড় সাহেবের । দুরু দুরু বুকে সাহেবের কামরায় পৌছে আক্কেল গুড়ুম, সাহেব কড়া মেজাজে চিবিয়ে চিবিয়ে যা বললেন তার মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝতে পারিনি, শুধু এইটুকু বুঝতে পারলাম আমার নামে কেউ কিছু লাগিয়েছে। কি হতে পারে- ঠিক অনুমান করতে না পারলেও বুঝতে বাকি রইলোনা যে ইহা পরশ্রীকাতরতা। বড় সাহেব আমাকে ভালবাসেন , আমার কাজের তারিফ করেন । বিভিন্ন কাজে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আমার সাথে আলাপ করেন । অনেক কাজের দায়িত্ব দেন।এসব সহকর্মীদের অনেকের পছন্দ নয় ।

বড় সাহেবকে চটানো যায়না । তার দেয়া দায়িত্ব পালন করতে হয় । অন্যদিকে সহকর্মীদের সাথেও সৌহার্দ বজায় রাখতে হয় একই সময়ে দুদিক সামলে চলা, উভয়কেই সন্তুষ্ট রাখা যে কি ঝামেলা তা ভূক্তভুগিরাই ভাল বুঝবেন, অন্য কেউ নয় । ভাল কাজ করলে সহকর্মীদের অসুবিধা , কাজে ফাঁকি দিলে বড় সাহেবের ধমকানি , চাকুরী খোয়াবার ভয় । এসব ঝামেলা আমাকে হররোজ পোহাতে হয় । আপনারা কে কি করেন জানিনা।

কাজের ফাকে ফাকে মনে হয় পেটটা চোঁ চোঁ করছে । দানা পানি চাই । কিন্তু সঙ্গতি কই ? বারবার গেলাস ভর্তি পানি খেয়ে ঠেকা দেই । অগত্যা যে দিন আর না পারা যায় তখন একখানা টোষ্ট আর এক সিঙ্গেল চা ক্ষুধা নামক দানবটাকে ঘুষ দিয়ে রেহাই পাবার চেষ্টা করি।

কখনো বড় সাহেবের ধমকানি, কখোনো সহকর্মীদের সহানুভুতি কখোনো বা বাইরের লোকের তাড়া খেয়ে অফিসের সময়টা শেষ হয়ে যায়। তখন আবার বাসায় ফেরা ।

বাসায় ঢুকতে না ঢুকতেই ছেলে মেয়েদের বায়না, হাজার রকমের আবদার , গিন্নির গোমরা মুখ আমায় ভাবিয়ে তোলে। গিন্নিকে মাঝে মধ্যে বোঝাতে পারলেও ছেলে মেয়েদের বায়নার যেন আর শেষ নেই। একটার জামা নেই , অন্যটার প্যান্ট নেই বড় মেয়েটার শাড়ী চাই তো বড় ছেলের চাই .... শুধু নাই আর নাইয়ের তান্ডব নৃত্য।

হাত মুখ ধুয়ে নাস্তার জন্য অপো করতে করতে যখন ঝিমুনী আসছে তখন হয়ত কোনদিন কিছু নাস্তা এলো , কোনদিন বা কিছুই না । কিন্তু যে দিন গুলোতে এল তাও সারাদিন পথ হেঁটে আমার পেটের দরজায় ঢুকবার আগেই হয়ত বাচ্চাদের কেউ এগিয়ে এল , বুঝতেই পারছেন পিতৃদেব হয়ে তখন আমার কর্তব্য পালন করা ছাড়া আর গত্যান্তর থাকে না ।

যা হোক শেষ পর্যন্ত রাতের খাবারটা কোনরকমে গলঃধকরন করে যে যার মত বিছানায় শুতে যায় । তখন নিরিবিলি গিন্নির সঙ্গে এক- আধটু আলাপ সেরে আমারও শোবার ব্যবস্থা । অর্থাৎ শেষ অধিবেশনে খেয়াল অথবা রাগপ্রধান গান গেয়ে সেদিনকারমত অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

পৃথিবীর রং বদলায় , বদলায় বাংলাদেশেরও । ছয় ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখি বাংলাকে । গ্রীষ্মের পরে আসে বর্ষা , বষর্ার শেষে শরত। শরতের পর হেমন্ত তারপরে শীত ও যথাক্রমে বসন্ত। আর এই এক এক ঋতুতে বাংলার এক এক রূপ । কিন্তু আমার জীবনের রং বদলের , পট পরিবর্তনের কোন নিয়ম নেই । ঠিক যেন বাংলাদেশ রেডিওর প্রোগ্রামের মত । নানা জনের অনুরোধে নানা সুর বাজিয়ে চলছি ।

একই ঔষধ বিভিন্ন কোম্পানী ভিন্ন ভিন্ন নামে বিক্রি করে । রং আলাদা , চেহারা আলাদা । কিন্তু দোষ গুন একই । কাজেই আশা করছি আমার সারাদিনের প্রোগ্রাম শুনে নিশ্চই আপনারা বিরক্ত হননি । কেননা আপনাকেও অনেকের মনোরঞ্জনের জন্য প্রোগ্রাম করতে হচ্ছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/13699 http://www.somewhereinblog.net/blog/srijonblog/13699 2006-07-15 07:45:22