somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একাকী যাবো না অসময়ে

১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শক্তির একটি কবিতা আমি মাঝে মাঝেই পড়ি৷ আজও পড়ছিলাম৷ ঠিক সেই সময়ই দরজায় কড়া নড়ার শব্দ৷ এই ঘন বৃষ্টির রাতে আমার কাছে কেউ আসতে পারে না৷ এটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু যখন চলেই এল... তখন দরজা তো খুলতেই হয়৷
সবুজ পাহাড়ে একটা ঘর বানানোর শখ ছিল অনেক দিন ধরে৷ সেই শখ মেটাতে বান্দরবান শহরের একটু দুরে একটা জমি লীজ নিয়ে তাতে একটা ঘর বানিয়েছি৷ তিন মাস পরপর দিন চারেকের জন্য আসি৷ আসতে হয়৷ শহরে আমার কেউ নেই৷ মানে এখন নেই৷ নিশিতা চলে যাবার পর আমার আর কেউ থাকলো না৷ ...... এই কথাটি মিথ্যে আমার একটি ছেলে আছে৷ নীল৷ সাত আট বছর বয়স৷ থাকে আমার বোনের কাছে৷ বোনই ওকে মানুষ করছে৷ নীল এখন মা বলতে জানে তাকেই৷ আর আমাকে.....নীল কী... আমাকে ভালোবাসে? এই উত্তর খুজতে আমায় হয়তো আরও অপেক্ষা করতে হবে৷ ঐ যে যেদিন নিশিতার সঙ্গে আমার বেশ কথা কাটাকাটি হলো.... সেদিন আমি একটু রেগে গিয়েছিলাম... তখন নীলের বয়স চার৷ পুচকে এই ছেলে বেশ বুঝতে পারে৷ মাথা ভালো৷ আমি নিশিতাকে শুধু বলেছিলাম..
: দেখ আমার মনে হয় অফিসের আরিফ সাহেবের সঙ্গে তুমি একটু বেশী মেলা মেশা করছো৷
: মেলা মেশা মানে কি...?
: মানে মেলা মেশা৷
: তুমি কি বলতে চাইছো আমি তার সঙ্গে ফস্টিনষ্টি করছি...
: আমার মুখ এতটা খারাপ নয়৷
: তোমার মনটা খারাপ৷
: তুমি বাজে বকছো৷ আমি কেবল তোমাকে সাবধান করে দিচ্ছি৷
: তুমি আমাকে সাবধান করার কে...আমি তোমার খাই না পরি... নিজের আয়ে চলি৷ তুমি তো কেবল আমার সাথে আছো শরীরের জন্য৷ শরীরটা পেরেই তোমার চলে৷ অসভ্য, জানোয়ার৷ আমাকে বুঝেছো কখনো৷ আর আরিফ আমার বস৷
: আরিফ! ভালো, এভাবেই ডাকো নাকি ? আর ডাকবেই না কেন ? ডাকতে হয়! না হলে এক সঙ্গে রিকশায় লেপ্টে যাওয়ার মানে কি৷ বৃহস্পতিবার৷ সন্ধ্যা সাতটা৷ গোপিবাগ ফাষ্ট লেন৷ মনে পড়ে নিশিতা..... তুমি বাসায় ফিরলে অনেক রাতে৷ ক্লান্ত৷ বললে অফিসের বেশ কাজ৷ কি কাজ নিশিতা? অফিসের ফোন নো রিপ্লাই৷ সেল বন্ধ৷ কি কাজ নিশিতা?
: বুঝেই যখন ফেলেছো তখন ...
: তখন আর কি
: একটা সিরিয়াস কথা তোমাকে বলতে চাই৷ আমি তোমার সঙ্গে ঘর করতে চাই না৷ খুব ঠান্ডা মাথায় বলছি৷ আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়াই ভালো৷
: আর নীল?
: নীল আমার ছেলে, আমার কাছে থাকবে৷
: নীল আমারও ছেলে৷ আমার কাছেই থাকবে৷ তুমি চলে যেতে পারো৷
: আমি চলে যাবো? তুমি হয়তো ভুলে গেছো এই বাড়িটা আমার ভাড়া করা৷ আমি এই বাড়ি ভাড়া দিই৷ তাছাড়া .....
: আমিই যাচ্ছি৷
: একা যাবে৷ নীলকে নেবে না৷
নীল কয়েকদিন ছিল নিশিতার সঙ্গে৷ তারপর এক সকালে আমার অফিসে নিশিতার ড্রাইভার পৌছে দিল নীল কে৷ আর সঙ্গে একটা চিঠি৷
" নীল তোমার কাছেই থাকুক"৷
আমি চাদ পেলাম... পেলাম সূর্য, মাটি, জল আরও অনেক কিছু৷ বেশী দিন অপেক্ষা করতে পারেনি নিশিতা৷ মাস ছয়েক পর বিয়ে করেছে৷ সে এখন মিসেস আরিফ৷
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
একবার অফিস থেকে বলা হলো হাউজ বিল্ডিং লোনের একটা ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ কম সুদে ঋণ৷ ভালো৷ আমি ভালোই পাবো৷ পেয়েও গেলাম৷ বান্দরবানে একটা জমি লীজ নিয়ে সেখানে বাড়ি বানালাম৷ এক তলা৷ লাল রঙ্গের টালির ছাদ৷ আশেপাশের পাহাড়গুলোর চেয়ে আমারটি একটু বড়৷ এরই একটি ঢালে এই বাড়ি বানালাম৷ যখন আসি নিজেই খাবার তৈরী করি৷ আর ভাবি৷ আমার ভাবতে ভালো লাগে৷ আমি যখন থাকি না তখন এটি খালি থাকে৷ পরিচিত এক লোক থাকে বান্দরবান শহরে৷ সে সপ্তাহে এসে একটু গোছগাছ করে দেয়৷ পাহাড়ে চুরি হয় না৷ আমার বাড়িতেও হয় না৷
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে৷ আমার বাড়ির টালিতে বৃষ্টির শব্দ হচ্ছে৷ কড়া নড়ার শব্দ বাড়ছে৷ হাতে দোচোয়ানির গ্লাস৷ টেবিলে ছড়ানো চিপস আর কাজু বাদাম৷
জানালায় বাতাস আঘাত করছে৷ আমার শীত লাগছে৷ দরজায় শব্দ বাড়ছে৷ দরজাটা খুলতে হবে৷
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
: কে?
না কোন শব্দ নেই৷ মানে আমার কোন কথা সে শুনতে পারছে না৷ দরজা খুলে দিলাম
: কে
: বাবা আমাকে চিনতে পারছো না৷
নীল৷ সাথে কে? রেইন কোটে জড়ানো শরীর!
নিশিতা!


:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
শক্তির কবিতাটি আমি মাঝে মাঝে পড়ি.........

ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো৷

এতো কালো মেখেছি দু হাতে
এতোকাল ধরে!
কখনো তোমার করে, তোমাকে ভাবিনি৷

এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ ডাকে : আয় আয় আয়
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতাকাঠ ডাকে : আয় আয়

যেতে পারি
যে-কোন দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু, কেন যাবো?

সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো

যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
একাকী যাবো না অসময়ে৷

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১১
১৪টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×