somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... এই মাত্র শুনলাম<img src="http://cdn.somewhereinblog.net/smileys/emot-slices_09.gif" width="23" height="22" alt=";)" style="border:0;" /> সেই পথের এক পথিক লোকটির কাছে এসে জানতে চাইলো
: কাঁদছেন কেন?
ক্রন্দনরত লোকটি উত্তর দিলো
: বাবা মেরেছে
:বাবা মেরেছে! আপনি কী করেছিলেন?
: দাদার পিঠ চুলকে দিইনি, তাই........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29354462 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29354462 2011-03-31 19:06:28
হাটের হাটুরে চৈত্রের এক দুপরে আমি সেই হাটে। হাটের মাঝখানে আছে বড় বট আর পাকুড়ের গাছ এখনো আছে। নেই কেবল সেই সময়, ভালো লাগা। বদলে গেছে সব।

ছেলেবেলায় সেই গাছের দিকে তাকিয়ে থাকতাম আমি। গাছ দুটি এক হয়ে দারুণ এক দৃশ্য রচনা করেছে। শত শত জট সেই উপর থেকে নীচের দিকে নেমে এসেছে। আমি ভাবতাম, এই গাছে এতো পাখি কেন। কখনো সেই জট ধরে ঝুলে এক ধার থেকে অন্য ধারে যেতে ইচ্ছে হতো। এই ইচ্ছেটা কোন দিনই পূরণ হয়নি। হয়তো হবেও না।

হাটে ছিল অনেক দোকান। মুদির দোকানগুলো সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকতো। আর অন্য দোকানগুলো খুলতো কেবল সপ্তাহের দুই দিনের হাটবারে।

হাটের হাটুরে হবার মজাই ছিল আলাদা। আমাদের বাড়ি থেকে সপ্তাহের দুই দিন বিকালে সেই হাটবারে হাটে যেতে হতো খাজা কেনার জন্য। নানা রকম খাজা। আমার অবশ্য ভালো লাগতো সন্দেশ। আর একটি জিনিস বেশ লাগতো। সেটা হলো সিদ্ধ ডিম। সবাই সেই খাজা ওয়ালা যিনি সিদ্ধ ডিম ভেজে বিক্রি করতেন, তাকে ডাকতো কাহা বলে। কেন কাকা না বলে কাহা বলতো? উত্তর জানি না। তবে লোকটি হিন্দু ছিল বলেই নাকি কাকা না বলে কাহা বলা হতো।

হাটের এক কোণে বসতো জেলেরা নিয়ে আসতো মাছ। রুপালি সব মাছ। পদ্মা নদী থেকে, যমুনা নদী থেকে আসতো সেই মাছ। কুচো চিংড়ি, ইলিশ মাছ, রুই মাছ, বোয়াল, শোল, পুটি আরও কত কী! সেই মাছ কিনে, বড় হলে তার গলায় কলা গাছের বাকলের দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হতো বাড়িতে। আর সেই মাছের দাম যদি পথে মানুষ জিজ্ঞাস না করতো তাহলে কী আর ইজ্জত থাকে! মানুষ ইজ্জত রাখত।

হাটের ঠিক পূর্ব প্রান্তে বসতো কামার আর নাপিতের দোকান। সবই ভ্রাম্যমান। পাশেই সবুজ বাঁশ নিয়ে আসতো মানুষ। সেই বাঁশ বেঁচে মাছ কিনতো, চাল কিনতো, কিনতো আনাজ পাতি, কাঁচা মরিচ, লবন, গুড়।

একটা অদ্ভুত গন্ধ থাকতো সেই হাটে। শশি মালতীর গন্ধ। ঠোট ফাটা দূর করতে ঐ শশি মালতি ঠোটে লাগাতাম আমরা। দক্ষিণ দিকে লিয়াকত ডাক্তারের দোকান। ভিড় লেগে থাকতো হাটবারে।

.....
অনেকদিন বাদে সেই হাটে হাট বারেই গিয়েছি আমি।

না সেই ছেলেবেলার কিছুই নেই। আছে কেবল সেই জটাধারী বট গাছটি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29353299 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29353299 2011-03-29 18:20:20
মাটির মানবী কথাগুলো একটানেই বললো সে৷ কাকডুবি নামের একটি গ্রামের মেয়ে নয়না৷ সেই মেয়ে আর ছেলেটি, যার নাম মহিন, ঢাকা শহরের পাশে যে নদী আছে, বালু নদী, সেই নদীতে ডিঙ্গি ভাসিয়ে দুজন কথা বলছে৷
: কাকডুবি তে আর যাওনি?
: না
:এরপর
এর কোন পর নেই৷ তুমি আমাকে ফেলে এসেছিলে সেই কাশ ফুলের কাছে৷ হোগলা গাছে সুন্দর ছোট্ট টুনটুনির বাসার কাছে, কোকিলের কষ্টের ডাকের কাছে৷ আমি থেকে গেছি৷ পরে ঢাকায় ভায়ের বাসায়৷ এরপর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়৷ অনেক খুঁজেছি তোমায়৷ কত যে কষ্ট৷ না ছিলে তুমি, না ছিল অন্য কেউ৷ আর এখন পড়াচ্ছি একটি কলেজে৷ ভালোই৷ তোমার কথা বলো?
: আমার কোন গল্প নেই৷
: গল্প নয়, সত্যটা বলো?
বালু নদীর পানির রঙ কালো৷ একেই কি বলে কাক চক্ষু জল? টঙ্গী থেকে অনেকটা দূরে গাড়ি নিয়ে এসে দুই জনে নেমে এসেছে৷ দুজনের দেখা কতদিন পর, দুই, চার বছর? না আরও অনেক বেশি৷ হতে পারে বাইশ কিংবা তেইশ৷ কলেজের শিক্ষক বলে নয়নার ভারিক্কি এক চেহারা হয়েছে৷ একটু মুটিয়েও গেছে৷ ঘরে দুই সন্তান৷ আর মহিনের? ছেলে নেই, মেয়ে নেই৷ বৌ আছে৷ থাকে অনেক দূরে৷ মার্কিন মুল্লুকে৷ অর্থনীতি কপচায় একটি প্রতিষ্ঠানে৷
: তোমার গল্প বললে না?
: কাকডুবি থেকে চলে আসার পর সরাসরি বিদেশে৷ আস্তে আস্তে সেখানেই ডক্টরেট নামক ডিগ্রি৷ নামের শেষে ড. লাগাতে আমার ভালো লাগে না৷ বৌ-এর বড় শখ ড. লাগাই৷ সে আছে একই প্রতিষ্ঠানে৷ বিদেশিনী৷ ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম!
: ভালোবেসে?
: হ্যা সত্যিই ভালোবেসে৷
: পারলে?
: সময়, নদীর স্রোত আর ভালোবাসা কী কারও জন্য অপেক্ষা করে?
: করে, কারও কারও ভালোবাসা করে৷
: কী যে বলো না!
: যাহা বলি সত্য বলি৷ দেখো অনেকে বিয়ে করে৷ অনেকে করে না৷ কেন করে না? ঘর বাঁধে না, ঘর ভাঙবে বলে৷ নাকি নিজের মন নিজে ভাঙ্তে চায় না! তুমি আমাকে ভালোবাসতে?
: বাসতাম৷
: পাস্ট টেন্স!
: ব্যাপারটা ঠিক হলো না৷ আসলে এই হৃদয়ের কোথাও একটি ছোট্ট জায়গা রয়েছে৷ সেখানে কেউ একজন থাকে৷
: কে সে?
: তুমি৷
: বাজে বকছো৷ সত্যি্ই যদি তা হতো তাহলে তুমি ফিরে আসতে৷ আমার কাছে৷ আমি অপেক্ষায় ছিলাম৷
: বাদ দাও৷ যা হবার তা হয়েছে৷
: ঠিক বলেছো৷ আচ্ছা আমাকে মনে পড়ে না৷
: পড়ে৷ খুব৷
নৌকাটি চলছে না৷ এই নৌকায় একটি মাত্র বৈঠা৷ নৌকার মালিকের কাছ থেকে বলে কয়ে নৌকাটি নেয়া হয়েছে৷ না এ জন্য কোন পয়সা দিতে হয়নি৷ লোকটি প্রথমে ভেবেছিল এরা কি নৌকা চালাতে পারবে? শহুরে বাবু-বিবি৷ পরে কাকডুবির শৈশব, সদ্য যৌবনে কাঁকন নদীতে সাঁতার....ইত্যাদি কথা শুনে লোকটি বুঝেছে ওদের দিয়ে হবে৷
নয়নাকে মাঝে মাঝে মনে পড়ে মহিনের৷ এই তো কয়েকদিন আগে এক রাতে সে দেখলো সাত সমুদ্র আর হাজার নদী পেরিয়ে মহিনের বাসায় এসে উপস্থিত মেয়েটি৷ আছে ঠিক আগের মতোই৷ লাস্যময়ী৷ বিছানায় শুয়ে চোখ বুজে রয়েছে সে৷ ঘরে কীভাবে ঢুকলো মেয়েটি, কে জানে! চমৎকার এক ভালোবাসার হাসি হেসে বললো
: বাবুর যে এখনো ঘুম ভাঙছে না৷ কখন উঠবেন জানতে পারি৷ লেবু চা তো জুড়িয়ে যাচ্ছে৷ মহিন বিছানা থেকে উঠে হাত বাড়িয়ে চা নিতে যাবার সময় দেখলো তার পাশে শুয়ে আছে এপিক্স, তার স্ত্রী৷
না এই গল্পটা নয়নাকে বলা না৷ ও হয়তো ভাবতে পারে বানিয়ে বানিয়ে বলছে৷ এটা অনেকটা বানানো বলে মনে হয় না! নিজেকেই জিজ্ঞাস করে মহিন৷ বিপরিত পাশে বসে তারদিকে অপলকে তাকিয়ে আছে নয়না৷ যাকে সে ডাকতো মাটির মানবী বলে৷
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29332161 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29332161 2011-02-22 20:49:39
এম এন লারমা-কে নিয়ে লেখা উপন্যাস ‘কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি’ প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছি, ভালো হয় পড়ে দেখলে৷ তারপরেও বলি এই উপন্যাসে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের লৌহ মানব জুম্ম জাতির পিতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা কী করে বেড়ে উঠলেন, কি করে শুরু হলো তাঁর আন্দোলন, তাঁর জীবন, ছোট ভাই সন্তু লারমার বেড়ে ওঠা, শান্তিবাহিনী গঠন, সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং শান্তিবাহিনীর এগিয়ে যাওয়ার কথামালাও রয়েছে৷ এছাড়া এই উপন্যাসে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণদের চাওয়া পাওয়াও প্রতিফলিত হয়েছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই চলে এসেছে জনসংহতি সমিতি এবং ইউপিডিএফের সংঘাত৷ এসেছে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পরবর্তী অবস্থার বিভিন্ন কথা৷ রয়েছে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর বিভিন্ন গ্রুপকে দেয়া সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয়ের নানা কাহিনী৷ সব কাহিনী এক সঙ্গে এক সূতায় গেঁথে জন্ম হয়েছে ‘কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি’ নামক উপন্যাসের৷ পাওয়া যাচ্ছে বই মেলায়৷ প্রকাশ করেছে ভাষাচিত্র৷ যাদের স্টল নম্বর ৯৩-৯৪।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29330862 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29330862 2011-02-20 21:04:52 শুক্রবার বই মেলায় আসছে ‘কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি’ এই বইটির কয়েক কিস্তি লিখেছিলাম সামুতে৷ আর তাই বইটির খবর দিলাম সামুতেই৷
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29323209 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29323209 2011-02-09 15:47:33
ছুঁয়ে জোছনার ছায়া এবং কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি আমার লেখালেখির শুরুটা হয়েছিল অনেকদিন আগে৷ সেই ছেলেবেলায়৷ দৈনিক পত্রপত্রিকার ছোটদের পাতায় ছড়া লেখার মাধ্যমে৷ এরপর আস্তে আস্তে কিশোর সাহিত্য, তারপর শুরু হলো বড়দের জন্য লেখা৷
মাঝে মাঝে গল্প লিখি৷
সাংবাদিকতা করে লেখালেখি করাটা শক্ত৷ সারাক্ষণ চোখ আরমাথা আর হাতের আঙ্গুলগুলো ব্যস্ত থাকে ফাইভ ডব্লিউ ওয়ান এইচের ছকে৷ তারপরও লিখি৷ সময় পেলে বসে যাই, এক কাপ চা খাই, দুটো লাইন লিখি...
একসময় এই লাইনগুলোর সংখ্যা বাড়তে থাকে৷ কোনটা রূপ নেয় গল্পের আর কোনটা উপন্যাসের৷
গত বছরে লেখা গল্পগুলো নিয়ে এবারে আমার বই ‘ছুঁয়ে জোছনার ছায়া’ প্রকাশ করলো সাম্প্রতিক৷ আর উপন্যাসটি, যেটি সামুতে ধারাবাহিকভাবে বেশ কয়েক কিস্তি বেরিয়েছিল, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে সেই রাজনৈতিক উপন্যাস ‘কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি’ বের করছে ভাষাচিত্র৷
বইমেলায় খুব যেতে ইচ্ছে করছে৷
মানুষের সব আশা পুরণ হয় না, আমিও সেই কাতারের একজন৷
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29322574 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29322574 2011-02-08 14:02:21
কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি- ৭ কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি- ৬
এই দুপুরটা অন্যরকম। অন্যরকম এই জন্য বলছি যে কালো সকাল, ধলা হলো। বৃষ্টি এলো। আকাশে মেঘ কেটে না গিয়ে আরও গাঢ় হতে শুরু করলো। আচ্ছা মেঘের কি কোনো রকম ফের আছে? মোস্তাফিজ ভাই আমার সঙ্গে। তিনিও বৃষ্টি ভালোবাসেন। তাঁর একটি ছবির সিরিজ আছে। নাম বৃষ্টি। তাকেই জিজ্ঞাস করলাম—
: আচ্ছা মোস্তাফিজ ভাই আপনার জানা আছে কী মেঘ কত ধরনের?
: সঠিকভাবে জানি না। তবে কয়েক ধরনের হয় বলে আমার জানা আছে। অলক মেঘ, বাদল মেঘ, স্তূপ অলক মেঘ, স্তূপ স্তর মেঘ, স্তর অলক মেঘ, স্তর মেঘ, মধ্য স্তূপ মেঘ। তারপর একটু দম নিলেন। আর একটা মেঘের নাম জানি। কিন্তু এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। সম্ভাবত অলক বাদল মেঘ।
আমি বিমোহিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। কত কিছু আমার জানা নেই। ভাবি আমি। বলি—
: এত মেঘের নাম জানলেন কী করে?
প্রশ্নের কোন উত্তর দিলেন না। কেবল মুচকি হাসি হাসলেন।
বিডিআর ব্যারাকের বাইরে একটা ছাউনিতে দাঁড়িয়ে চলছিল আমাদের বৃষ্টি আলাপ। সেখানেই পান বিড়ির দোকান আমাদের দেখছিলেন অনেকক্ষণ ধরে, বেচা বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে। আমি দুই-একবার লক্ষ করেছি। চোখে চোখ পড়বার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। আমি ভাবি কেন এই দৃষ্টি—?
আমরা চলে যাবার জন্য চলতে শুরু করতেই সেই পানওয়ালা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
: আপনারা কাঁচা সুপারিওয়ালা পান...।
অবাক আমি, আমি তো কোনো পান চাইনি! পান আমি খাই না—একথা ঠিক নয়। একটি কাঁচা সুপারিওয়ালা পান সঙ্গে একটি সিগারেট আমি খাই—রাতের খাবারের পর। মাঝে মাঝে। কিন্তু এই সদ্য দুপুরে আমি পান খাবো! আমার মনে জিজ্ঞাসা। এগিয়ে গেলাম। আধাপাকা বয়সের মানুষটির নাকের নীচেও আধপাকা গোফ। কয়েকদিনের না কামানো দাড়ি।
: কোনো ভনিতা না করে বললেন—
: যা খুঁজতে এসেছেন, তা খুঁজে পেতে হলে সন্ধ্যায় ঐ হোটেলটিতে এসে পড়–ন। সামনের দিকে আঙুলি হেলালেন। সামনে যে হোটেলটি তার নাম— ‘বিসমিল্লাহ হোটেল’।
আমি কোনো কথা বাড়ালাম না। কোনো কথাও দিলাম না। কেবল তার হাতের পানটি নিয়ে বলে গেলাম। সারাটি দিন আমার হাতে। অজানা কিছু জানার গন্ধ পাচ্ছি। নতুন কোনো তথ্য খুঁজে পাবার ক্ষমতা সকলের যাবে না। কারও কারও থাকে। আমার আছে।
দিনের প্রথম ভাগেই আমার আধ খাস্তা সাক্ষাৎকার আর সেই পানওয়ালার কথা মাথার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছে। মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে।

*** *** ***

পৃথিবীতে একমাত্র বোধহয় পাহাড়ই পারে সূর্যের আলোকে দু’ভাগ করতে। কালা পাহাড় সেই কাজটিই করছে। ভাবছে সন্তু। আর কদিন পরেই মেজভাই থাকবে রাঙামাটি শহরে। তখন কী এই আদিম সুন্দর পাহাড়টি সে প্রতিদিন দেখতে পারবে! ভাবে সন্তু।
মানবেন্দ্রের সঙ্গেই পাহাড়ি ছড়ায় ছোট কোষা নৌকা বেয়ে তারা এসেছে পুনংটি নামের একটি এলাকায়। পাহাড়ের ঠিক কোলে সভা। পাহাড়কে বাঁচাবার সভা। সুন্দর গোলগাল ভরাট মুখের মানবেন্দ্রের জন্য সকলের অপেক্ষা।
এখানে সন্তু দর্শক। জনা দশেক ছেলে এসেছে। সকলেই মানবেন্দ্রের বয়সী। কোনো ভূমিকা না রেখে বাঁশের মাচাং দিয়ে তৈরি ঘরটিতে কথা বলতে শুরু করলেন তিনি। মানবেন্দ্র, যার ডাক নাম মঞ্জু।
আজ আমাদের সামনে বিরাট সমস্যা পাকিস্তান সরকার আমাদের নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। পাহাড়ে অশান্তি আসছে। কিন্তু এই অশান্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজন সকলের একনিষ্ঠতা। একাগ্রতা। আর সময়ের সিদ্ধান্ত সময়ে নেয়া। আজ থেকে আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করবো। ১৯৫৬ সালে আমরা স্কুল ছাত্ররা যেভাবে আন্দোলন করেছিলাম, ঠিক একই ভাবে সংগ্রাম করে নিজেদের অধিকার আদায় করতে হবে। নিজের বন্ধুদের ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করে বলতে শুরু করলেন আবার।
বন্ধুরা আপনারা হয়তো জানেন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাণ কাপ্তাই হ্রদে বাধ দেবার চেষ্টা করছে। এখন চলছে জরিপের কাজ। আমরা জানি না কি হতে যাচ্ছে!
যদি খারাপ কিছু হয়, তাহলে তার দায় কিন্তু সকলের উপর বর্তাবে। যদি আমরা কোনো কিছু না করি। তাহলে আসুন আমরা এমন একটা কিছু করি, যা আমাদের জাতিকে বাঁচায়। কি করা যায়—সেই সিদ্ধান্ত আপনাদের। সময় নিন, চিন্তা করুন। আবার আমরা বসবো। বলতে হলে সকলকে এক সঙ্গে বসতেই হবে।
সুন্দর করে কথা বলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ। এই ছোট্ট বয়সেও তার কথা বরার ঢঙ অন্যরকম। মানুষকে বুঝতে শেখায়। বোঝায়।
সেদিনকার মতো সভা শেষ। ছোট ছড়াকে লগি দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে দুই ভাই-এর কথা। সন্তু অবাক! দাদা এত সুন্দর করে কথা বলে কি করে?
: দাদা আমি একটা কথা বলবো?
: বল
: আমরা যদি একটি ছাত্র সমিতি গঠন করি, সকলে এক সংগঠনের তলে। তাহলে তো বেশ হয়, তাই না? পাহাড়ি ছড়ার ছোট ছোট পাথরের উপর স্বচ্ছ কলকলিয়ে চলা হাটু পানির দিকে তাকিয়ে কথাটি বলে সন্তু।

দাদা অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়।
: ঠিক বলেছিস। তবে এই সংগঠন কেবল আমাদের দশ-বার জনকে নিয়ে গড়লে চলবে না। গড়তে হবে পাহাড়ের সব ছাত্রকে নিয়ে কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন আরো কিছুটা সময়। অবশ্য এর আগে যে ছাত্র সম্মেলনটি হলো তাতে খুব বেশি কাজ হয়নি। প্রয়োজন শক্ত নেতৃত্ব। তাকে বাড়ি ফিরে আসতে আসতে আঁধার নেমেছে পাহাড়ে। মহাপুরানের পাহাড়ে পাখির কলতান। সন্ধ্যা পাখির। আচ্ছা সন্ধ্যায় সব পাখিরা এত ডাকে কেন? নিজের কাছেই প্রশ্ন নিজের সন্তুর।
ঘরে ফেরার আগে দুই ভাই হাত মুখ ধুয়ে নেয়। মা বসে আছে খাবার নিয়ে। বাবাও। সকলে এক সঙ্গে খাবে।
জুম থেকে আনা শাক আর কয়েকটি সব্জির এক অসাধারণ তরকারি রেখেছে মা। একটু লেবুর রস তাতে ছিটিয়ে দিয়ে ভাত খেতে খেতে বাবা বলে ওঠেন—
: মঞ্জু রাঙামাটি স্কুল থেকে খবর এসেছে। তোর ভর্তির সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সেখানে যেতে হবে। থাকা-খাওয়া হস্টেলে। সিটও পাওয়া গেছে। তুই চলে যা।
সন্তুর বুক ভেঙে যাচ্ছে। দাদা সত্যিই চলে যাবে? না গেলে কী হয়!
পরদিন ভোর হলো। সন্তু স্কুল সেরে সরাসরি পাহাড়ি ছড়ায় চিংড়ি মাছ ধরবে। চিংড়ি মাছের গুড়োর সঙ্গে শাক খেতে বেশ লাগে তার। মাকে বলবে কাল রান্না করতে।
ছড়ায় একটার পর একটা পাথর তুলে ধরছে সে। চিংড়িগুলো এখানেই লুকিয়ে লুকিয়ে শ্যাওলা খায়। অনেক মাছ পাচ্ছে আজ। হঠাৎ শ্যাওলা ধরা সবুজ থেকে গাঢ় সবুজ হয়ে প্রায় কালো হয়ে যাওয়া একটি বড় পাথরের চাঁই এর কাছে সে দেখলো একটি বেশ বড় মাছ। মাছটিকে বেশ চেনা চেনা লাগছে। স্বচ্ছ পানি ভেদ করে তাকিয়ে আছে সে সন্তুর দিকে...।
মানবেন্দ্র। সন্তুকে দেখে বললো
: বাবু কাল রাঙামাটি যাবো। সব ঠিকঠাক। তোর সঙ্গে অনেক কথা আছে। তাড়াতাড়ি চলে আয়।
কী কথা বলতে চায়—দাদা? ভাবে সন্তু।

এই দুপুরটা অন্যরকম। অন্যরকম এই জন্য বলছি যে কালো সকাল, ধলা হলো। বৃষ্টি এলো। আকাশে মেঘ কেটে না গিয়ে আরও গাঢ় হতে শুরু করলো। আচ্ছা মেঘের কি কোনো রকম ফের আছে? মোস্তাফিজ ভাই আমার সঙ্গে। তিনিও বৃষ্টি ভালোবাসেন। তাঁর একটি ছবির সিরিজ আছে। নাম বৃষ্টি। তাকেই জিজ্ঞাস করলাম—
: আচ্ছা মোস্তাফিজ ভাই আপনার জানা আছে কী মেঘ কত ধরনের?
: সঠিকভাবে জানি না। তবে কয়েক ধরনের হয় বলে আমার জানা আছে। অলক মেঘ, বাদল মেঘ, স্তূপ অলক মেঘ, স্তূপ স্তর মেঘ, স্তর অলক মেঘ, স্তর মেঘ, মধ্য স্তূপ মেঘ। তারপর একটু দম নিলেন। আর একটা মেঘের নাম জানি। কিন্তু এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। সম্ভাবত অলক বাদল মেঘ।
আমি বিমোহিত হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। কত কিছু আমার জানা নেই। ভাবি আমি। বলি—
: এত মেঘের নাম জানলেন কী করে?
প্রশ্নের কোন উত্তর দিলেন না। কেবল মুচকি হাসি হাসলেন।
বিডিআর ব্যারাকের বাইরে একটা ছাউনিতে দাঁড়িয়ে চলছিল আমাদের বৃষ্টি আলাপ। সেখানেই পান বিড়ির দোকান আমাদের দেখছিলেন অনেকক্ষণ ধরে, বেচা বিক্রির ফাঁকে ফাঁকে। আমি দুই-একবার লক্ষ করেছি। চোখে চোখ পড়বার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। আমি ভাবি কেন এই দৃষ্টি—?
আমরা চলে যাবার জন্য চলতে শুরু করতেই সেই পানওয়ালা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
: আপনারা কাঁচা সুপারিওয়ালা পান...।
অবাক আমি, আমি তো কোনো পান চাইনি! পান আমি খাই না—একথা ঠিক নয়। একটি কাঁচা সুপারিওয়ালা পান সঙ্গে একটি সিগারেট আমি খাই—রাতের খাবারের পর। মাঝে মাঝে। কিন্তু এই সদ্য দুপুরে আমি পান খাবো! আমার মনে জিজ্ঞাসা। এগিয়ে গেলাম। আধাপাকা বয়সের মানুষটির নাকের নীচেও আধপাকা গোফ। কয়েকদিনের না কামানো দাড়ি।
: কোনো ভনিতা না করে বললেন—
: যা খুঁজতে এসেছেন, তা খুঁজে পেতে হলে সন্ধ্যায় ঐ হোটেলটিতে এসে পড়–ন। সামনের দিকে আঙুলি হেলালেন। সামনে যে হোটেলটি তার নাম— ‘বিসমিল্লাহ হোটেল’।

আমি কোনো কথা বাড়ালাম না। কোনো কথাও দিলাম না। কেবল তার হাতের পানটি নিয়ে বলে গেলাম। সারাটি দিন আমার হাতে। অজানা কিছু জানার গন্ধ পাচ্ছি। নতুন কোনো তথ্য খুঁজে পাবার ক্ষমতা সকলের যাবে না। কারও কারও থাকে। আমার আছে।
দিনের প্রথম ভাগেই আমার আধ খাস্তা সাক্ষাৎকার আর সেই পানওয়ালার কথা মাথার মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছে। মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হবে।

*** *** ***

পৃথিবীতে একমাত্র বোধহয় পাহাড়ই পারে সূর্যের আলোকে দু’ভাগ করতে। কালা পাহাড় সেই কাজটিই করছে। ভাবছে সন্তু। আর কদিন পরেই মেজভাই থাকবে রাঙামাটি শহরে। তখন কী এই আদিম সুন্দর পাহাড়টি সে প্রতিদিন দেখতে পারবে! ভাবে সন্তু।
মানবেন্দ্রের সঙ্গেই পাহাড়ি ছড়ায় ছোট কোষা নৌকা বেয়ে তারা এসেছে পুনংটি নামের একটি এলাকায়। পাহাড়ের ঠিক কোলে সভা। পাহাড়কে বাঁচাবার সভা। সুন্দর গোলগাল ভরাট মুখের মানবেন্দ্রের জন্য সকলের অপেক্ষা।
এখানে সন্তু দর্শক। জনা দশেক ছেলে এসেছে। সকলেই মানবেন্দ্রের বয়সী। কোনো ভূমিকা না রেখে বাঁশের মাচাং দিয়ে তৈরি ঘরটিতে কথা বলতে শুরু করলেন তিনি। মানবেন্দ্র, যার ডাক নাম মঞ্জু।
আজ আমাদের সামনে বিরাট সমস্যা পাকিস্তান সরকার আমাদের নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে। পাহাড়ে অশান্তি আসছে। কিন্তু এই অশান্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজন সকলের একনিষ্ঠতা। একাগ্রতা। আর সময়ের সিদ্ধান্ত সময়ে নেয়া। আজ থেকে আমরা এক হয়ে দেশের জন্য কাজ করবো। ১৯৫৬ সালে আমরা স্কুল ছাত্ররা যেভাবে আন্দোলন করেছিলাম, ঠিক একই ভাবে সংগ্রাম করে নিজেদের অধিকার আদায় করতে হবে। নিজের বন্ধুদের ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করে বলতে শুরু করলেন আবার।
বন্ধুরা আপনারা হয়তো জানেন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাণ কাপ্তাই হ্রদে বাধ দেবার চেষ্টা করছে। এখন চলছে জরিপের কাজ। আমরা জানি না কি হতে যাচ্ছে!
যদি খারাপ কিছু হয়, তাহলে তার দায় কিন্তু সকলের উপর বর্তাবে। যদি আমরা কোনো কিছু না করি। তাহলে আসুন আমরা এমন একটা কিছু করি, যা আমাদের জাতিকে বাঁচায়। কি করা যায়—সেই সিদ্ধান্ত আপনাদের। সময় নিন, চিন্তা করুন। আবার আমরা বসবো। বলতে হলে সকলকে এক সঙ্গে বসতেই হবে।
সুন্দর করে কথা বলেন মানবেন্দ্র নারায়ণ। এই ছোট্ট বয়সেও তার কথা বরার ঢঙ অন্যরকম। মানুষকে বুঝতে শেখায়। বোঝায়।
সেদিনকার মতো সভা শেষ। ছোট ছড়াকে লগি দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে দুই ভাই-এর কথা। সন্তু অবাক! দাদা এত সুন্দর করে কথা বলে কি করে?
: দাদা আমি একটা কথা বলবো?
: বল
: আমরা যদি একটি ছাত্র সমিতি গঠন করি, সকলে এক সংগঠনের তলে। তাহলে তো বেশ হয়, তাই না? পাহাড়ি ছড়ার ছোট ছোট পাথরের উপর স্বচ্ছ কলকলিয়ে চলা হাটু পানির দিকে তাকিয়ে কথাটি বলে সন্তু।

দাদা অবাক হয়ে তার দিকে তাকায়।
: ঠিক বলেছিস। তবে এই সংগঠন কেবল আমাদের দশ-বার জনকে নিয়ে গড়লে চলবে না। গড়তে হবে পাহাড়ের সব ছাত্রকে নিয়ে কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন আরো কিছুটা সময়। অবশ্য এর আগে যে ছাত্র সম্মেলনটি হলো তাতে খুব বেশি কাজ হয়নি। প্রয়োজন শক্ত নেতৃত্ব। তাকে বাড়ি ফিরে আসতে আসতে আঁধার নেমেছে পাহাড়ে। মহাপুরানের পাহাড়ে পাখির কলতান। সন্ধ্যা পাখির। আচ্ছা সন্ধ্যায় সব পাখিরা এত ডাকে কেন? নিজের কাছেই প্রশ্ন নিজের সন্তুর।
ঘরে ফেরার আগে দুই ভাই হাত মুখ ধুয়ে নেয়। মা বসে আছে খাবার নিয়ে। বাবাও। সকলে এক সঙ্গে খাবে।
জুম থেকে আনা শাক আর কয়েকটি সব্জির এক অসাধারণ তরকারি রেখেছে মা। একটু লেবুর রস তাতে ছিটিয়ে দিয়ে ভাত খেতে খেতে বাবা বলে ওঠেন—
: মঞ্জু রাঙামাটি স্কুল থেকে খবর এসেছে। তোর ভর্তির সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সেখানে যেতে হবে। থাকা-খাওয়া হস্টেলে। সিটও পাওয়া গেছে। তুই চলে যা।
সন্তুর বুক ভেঙে যাচ্ছে। দাদা সত্যিই চলে যাবে? না গেলে কী হয়!
পরদিন ভোর হলো। সন্তু স্কুল সেরে সরাসরি পাহাড়ি ছড়ায় চিংড়ি মাছ ধরবে। চিংড়ি মাছের গুড়োর সঙ্গে শাক খেতে বেশ লাগে তার। মাকে বলবে কাল রান্না করতে।
ছড়ায় একটার পর একটা পাথর তুলে ধরছে সে। চিংড়িগুলো এখানেই লুকিয়ে লুকিয়ে শ্যাওলা খায়। অনেক মাছ পাচ্ছে আজ। হঠাৎ শ্যাওলা ধরা সবুজ থেকে গাঢ় সবুজ হয়ে প্রায় কালো হয়ে যাওয়া একটি বড় পাথরের চাঁই এর কাছে সে দেখলো একটি বেশ বড় মাছ। মাছটিকে বেশ চেনা চেনা লাগছে। স্বচ্ছ পানি ভেদ করে তাকিয়ে আছে সে সন্তুর দিকে...।
মানবেন্দ্র। সন্তুকে দেখে বললো
: বাবু কাল রাঙামাটি যাবো। সব ঠিকঠাক। তোর সঙ্গে অনেক কথা আছে। তাড়াতাড়ি চলে আয়।
কী কথা বলতে চায়—দাদা? ভাবে সন্তু।

(এটি একটি উপন্যাসের অংশ)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29301145 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29301145 2011-01-03 10:16:03
আবারো দিলাম গল্প....শেষের একটু আগে শেষের একটু আগে ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29265537 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29265537 2010-11-02 12:25:30 শেষের একটু আগে কথাগুলো আরশাদকে বললো রূপরেখা৷ আরশাদ গ্রামের ছেলে ৷ সে জানে চরের বালুকাবেলায় কি করে পানি আনতে হয়, জানে নৌকার পাল কখন উড়াতে হয়, আর গুণ বাইতে হয় কখন৷ কিন্তু এখন সে এ সবের অনেক কিছুই ভুলে বসে আছে৷ ভুলে বসে থাকার চেয়েছে ভালো হবে বোধ হয় যদি বলা যায়, ধূলোর আস্তর জমেছে, বেশ মোটা করে, সেটা বলা হলে৷
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
সব কিছু ভুলা যায় না৷ যেমন ভুলা যায় না আকাশের মেঘ, কালো রং৷ ভুলা যায় না নীলচে পাহাড়, কারও কারও মুখ৷
এই পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই বয়সে আরশাদ ভুলে গেছে অনেক কিছুই৷ বিদেশে থাকতে থাকতে তাকে ভুলে যেতে হয়েছে রূপ, গন্ধ, রং৷ ফরাসিদের দেশেই সে আছে অনেক দিন৷ প্যারিসের পার্শ্বে ছোট্ট একটি শহরে তাদের বড় অফিস৷ কৃষিকাজে সহায়তার জন্য কম্পিউটার ভিত্তিক সফটওয়্যার বানায় তাদের কোম্পানি৷ সেই কোমলসম্ভার কিনে নেয় ইউরোপ অ্যামেরিকার কৃষকরা৷ কখন বৃষ্টি হলে কী করতে হবে, না হলে কী , পোকার আক্রমণ, মাটির আদ্রতা, জলের কণা- সব কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল দিয়ে চালিয়ে রাখো কিছুক্ষণ, কিছুক্ষণ পর বলে দেবে কত হতে পারে এই মৌসুমের সম্ভাব্য উৎপাদন! ডিজিটাল কৃষি! এই ধরণের কাণ্ড-কারখানা করে বেশ কামাচ্ছে তারা৷
বছর বিশেক আগে যখন তার বয়স ত্রিশের খুব কাছে, তখন সে এসেছিল প্যারিসে৷ তারপর দিন গেছে অনেক৷ অনেক রাত দেখেছে সে একা একা ঘুরে৷ কিন্তু খুঁজে পায়নি ঢাকাকে, দিনের ঢাকা রাতের ঢাকা৷
বাড়িতে কেউ ছিল না৷ ছিল না বাবা মা, ভাই কিংবা বোন৷ সেই ছেলেবেলা বাবা-মা মারা যাবার পর বড় হয়েছে সে এক মামার কাছে৷ সেই মামাও আজ নেই৷ তাহলে কার কাছে যাবে সে৷ দিনে রাতে ভাবে আরশাদ৷ ভাবতে ভাবতে সময় গেছে কিন্তু দেশে যাওয়া হয়নি৷ ফেসবুক নামক সামাজিক নেটওয়ার্ক তাকে টানে না কখনো৷ অফিসের দ্বিতীয় প্রধান বলে তাকে কিছু কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হয়৷ এর মধ্যে ফেসবুক একটি৷ এ জন্য একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়েছে৷ সেই ফেসবুক দিয়ে তারা জানায় তাদের নিজেদের পণ্যের কথা৷ আলোচনা সমালোচনার জবাবও দেয়৷ স্রেফ অফিসিয়াল৷ তারপরও প্রতিদিন সেই ফেসবুকের পাতায় জমা হয় বন্ধুত্বের আহ্বান, লিঙ্ক, আর হাই- হ্যালো৷
অফিসে সেদিন একটু আগেই এসেছে আরশাদ৷ স্বভাবমত একটি বড় মগে কালো মিশমিশে কফি নিয়ে কম্পিউটারের সামনে বসে খুলে দেয় বদনগ্রন্থ, মানে ফেসবুক৷ ইনবক্সে একটি চিঠি...
‘‘আরশাদ, কেমন আছো? আমাকে চিনতে পারছো? কোথায় হারিয়ে গেলে?’’
শেষ নাম দেয়া নেই৷ প্রয়োজনও নেই৷ প্রেরকের নাম তো আগেই দেয়া আছে৷ একবার দুইবার তিনবার আরও কয়েকবার সে পড়ে চিঠিটি৷ কফি নিয়েছিল আগে, সেটি টেবিলেই পড়ে রইলো৷ হতে থাকলো ঠান্ডা৷ ঠান্ডা কফি আর বিষ- দুটোই সমান আরশাদের কাছে৷
÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
সেই রূপরেখাকে নিয়েই পদ্মার চরে হাটছিল আরশাদ৷ হালকা শীতের রোদ৷ সেই শীতের রোদে পিঠটাকে পেতে দিয়ে চরের বালিতে পানি উঠাবার কথা আরশাদকে বলেছিল রূপরেখা৷ এদিকটার বাতাস বেশ হালকা, মোলায়েম৷ আরিচার এই চরটি আসলেও সুন্দর৷ আলুক্ষেত সবুজ হয়ে আছে৷ মৌমাছি ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ আকাশে পাখি, মনে হয় পানকৌড়ি৷ নদীতে হঠাৎ লাফ দিয়ে ডিগবাজী খাচ্ছে শুষক৷ ছেলেবেলায় এরা এই গঙ্গা ডলফিনকে বলতো শিশু!
: তুমি কি জানতে আমি কোথায় আছি? ফেসবুকে কীভাবে খুঁজে পেলে আমাকে? নিরবতা ভেঙ্গে আরশাদ প্রশ্ন করলো রূপরেখা কে৷ রূপরেখা চৌধুরী৷ বছর খানিকের ছোট হবে আরশাদের চেয়ে৷ কিংবা সমান৷ কিন্তু আশ্চার্য, রূপরেখাকে দেখাচ্ছে তার চেয়েও অনেক বড়৷ মেয়েরা নাকি এমনি! জীবন আর সংসার দেখতে দেখতে বুদ্ধি যখন খুব বেড়ে যায়, তখন তারা যায় বুড়িয়ে৷
: সুলেখার জন্য খুলেছি৷ আমার মেয়ে৷ দারুন দারুন সব ছবি আপলোড করে৷ সেগুলি দেখতে পেতাম না৷ অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় থাকে সে৷ খুললাম ফেসবুক৷ তারপর একদিন কীভেবে খুঁজতে থাকলাম তোমাকে, যদি পেয়ে যাই৷
: এই বয়সে পেয়ে কী হবে?
: বয়স হলেই কি সব ফুরিয়ে যায়?
: বয়স থাকতেও তো অনেক কিছু ফুরিয়ে যেতে পারে!
: সেটাই তো হয়েছে৷ না হলে সেই রাতে তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে কেন?
: আমি তো ছেড়ে যাইনি৷ তুমি বাধ্য করেছো৷
কথাটি বলেই একটু আনমনা হয়ে যায় আরশাদ৷
ঝড় বাদলের রাত নয়৷ নয় গরম গুমটের রাত৷ তারপরেও সেই রাতটি ছিল অন্যরকম৷ আলো-আঁধারির রাত৷ হালকা বাতাস বইছিল৷ গ্রুপ স্টাডিতে তারা এসেছে চট্টগ্রামের একটি গ্রামে৷ আরশাদ আর রূপরেখা, দুই জনই সেই দলে৷ উদ্ভিদ বিদ্যা নিয়ে তারা পড়ছে৷ গাছ-গাছড়া খুঁজতে খুঁজতেই তারা চলে এসেছে এখানে৷ ছোট্ট টিলা ঘেরা গ্রাম৷ দিনে কাজ শেষ করে সকলে একটু ক্লান্ত৷ গ্রামের একটি স্কুলে থাকবার ব্যবস্থা৷ তখনই ছেলেরা নেমে পড়লো স্কুলের শান বাঁধানো পুরানো পুকুরে৷ সাঁতার প্রতিযোগিতা৷ না আরশাদ তাতে প্রথম হয়নি৷ শেষের একটু আগে ছিল৷ মেয়েরা হেসেছিল ওদের কাজ কারবার দেখে৷ রাতের খাবার পর আড্ডা৷ হাটাহাটি৷
আরশাদের বরাবরই ভালো লাগতো রূপরেখাকে৷ বলতে পারেনি৷ সময় ছিল না বলার৷ নিজের পড়ালেখা আর খরচাপাতি যোগাড় করতেই যার যায় যায় দিন, তার আবার প্রেম৷
সে রাতে গ্রামের পথে রূপরেখার সঙ্গে হাটছিল আরশাদ৷ গ্রামের পথগুলোতে অন্ধকারের মধ্যেও বেশ আলোর দেখা মেলে৷ আলো তারা পেয়েছিল৷ এই কথা ঐ কথা, নানা কথার মাঝে রূপরেখা জিজ্ঞাস করেছিল, কেন আরশাদ তার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে৷ আরশাদ এই প্রশ্নে লজ্জা পেয়েছিল৷ বলছিল, ‘তাকিয়েই তো থাকি৷ কিন্তু অন্য কিছু তো করি না, বলি না কিছুই৷ তুমি কি আমার চোখের ভাষায় কোন বাজে ইঙ্গিত পেয়েছিলে?’
এই প্রশ্নের কোন উত্তর দেয় না রূপ৷ তারপর তারা হাটতে থাকে৷ বাতাসে বুনো গন্ধ৷ সেই গন্ধে মাতাল রূপরেখা আলতো করে নিজের হাতটি ছুঁইয়ে দিয়েছিল আরশাদের হাতে৷ আরশাদ সেটিকে অস্বাভাবিক ভাবেনি৷ তারপর এই কথা, সেই কথা৷ ক্লাশের অন্যরা অনেকটাই এগিয়ে ছিল তাদের কাছ থেকে৷ এই আলো-আঁধারের রাতে কি যেন থাকে বাতাসে, গাছে, অন্ধকারে৷ দুরে কোথাও কিছু দেখতে পেলো রূপ, ধোঁয়া ধোঁয়া, ঠিক সময়ই ডেকে উঠলো একটি খেকশেয়াল৷ ভয় পেয়ে রূপরেখা জড়িয়ে ধরলো আরশাদকে৷ আরশাদের বুকে গন্ধ আছে, আশ্চার্য গন্ধ৷ কিছুক্ষণ সেই গন্ধে মিশে যেতে চাইলো সে৷ তারপর খুব কাছ থেকে নিজের ঠোটটি ছুঁইয়ে দিল আরশাদের ঠোটে....৷
না , লেপ্টে ধরে থাকলো না আরশাদ রূপরেখাকে৷ এক ঝটকায় তাকে সরিয়ে দিলো৷ যুবক আরশাদ৷ প্রেম যার বুকে, মনে ভয়, বললো, ‘না, এটা ঠিক নয়৷’ তারপর হাটতে থাকলো সে৷ যতটা দ্রুত সম্ভব৷
আস্তানায় পৌঁছে কোন কথা নয়৷ সকালে উঠেই এক অযুহাতে চলে গেলো সে দ্রুত, ঢাকায়৷ রূপরেখাও জানতো না এই চলে যাবার কথা৷
: কেন তুমি এমন করেছিলে সেদিন? সেই রাতের কথা মনে করে জিজ্ঞাসা করলো সে আরশাদ কে৷
: এই মধ্য বয়সে, কিংবা বয়সের শেষার্ধে এসে বলি, আমি জানি না৷ কেবল এইটুকু জানি, আমি তোমাকে সেভাবে নয়, চেয়েছিলাম অন্যরকম করে৷ চাওয়া এবং তখনকার পাবার মধ্যে হয়তো তফাৎ ছিল৷
: বিয়ে করোনি কেন?
: তোমাকে পাইনি বলে৷
: আমাকে তুমি চাওনি৷ পদ্মার ঘোলা পানির দিকে তাকিয়ে রূপরেখা৷ তারপর বলে, আমাকে চাও না এখন?
অকস্মাৎ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায় না আরশাদ৷ ভাবে, রূপের জন্য সে বসে আছে এতদিন৷ কিছু ভালো লাগা স্মৃতি নিয়ে সে আছে এখনো৷ এই স্মৃতিটুকু রূপরেখাকে কেন্দ্র করে৷ মেয়েটি তার সঙ্গে দেখা করতে চায়, তাই সরাসরি প্যারিস থেকে ঢাকা৷ একটি মাত্র ইমেলের আহ্বানে সে উড়েছে হাজার হাজার মাইল৷ এই বয়সেও কী সে তাকে আগের মতোই, না বলা প্রেমের মতোই ভালোবাসে সে? রূপরেখার স্বামী গত হয়েছেন অনেকদিন৷ তার সংসার আছে৷ সন্তান আছে৷ কীভাবে পাবে তাকে? এটাও কী সম্ভব! তারপর সাহস করে বলে
: সেই আলো আঁধারের রাতে তুমি আমাকে যেটা দিয়েছিলে, সেটা দেবে....?
ভাবে রূপরেখা৷ পদ্মা আর যমুনা এক সঙ্গ বইছে এখানেই একটু দূরে৷ এক নদীর পানি নীল, আরেকটার ঘোলা৷ মিলছে, আবার মিলছে না৷ সেদিকেই তাকিয়ে সে বলে
: যদি দেই, নেবে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29265256 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29265256 2010-11-01 22:13:23
সে এবং রুশ মেয়েটি অমি আমাকে গল্প বলে৷ ওর জীবনের নানা গল্প৷শুরার পাত্রে চুমুক দিতে দিতে আমি সেই গল্প শুনে যাই৷ শুরা মহলের তীব্র ঝলমলে আলোয় (এখানকার বারে বেশ আলো থাকে৷ বাংলাদেশের সাকুরা বা অন্য বারগুলোতে যেমন অন্ধকারে ভরা থাকে এখানে ঠিক তার উল্টো) আমি গল্প শুনি৷ অমির গল্প৷

‘‘ওর নাম জেনেছি অনেক পরে৷ তাতায়ানা৷ বন শহরে এক রুমের স্টুডিও এপার্টমেন্টে তখন থাকি৷ একা৷ বাংলাদেশ থেকে এসেছি কিছুদিন হলো৷ কেবল বাড়ির কথা মনে পড়ে৷ ঢাকার কথা মনে পড়ে৷ মনে পড়ে আড্ডার কথা৷ মুখ ভার করে বসে থাকি ছুটির দিনে৷ বন্ধু-বান্ধব বিশেষ কেউ নেই এই শহরে, তাই একা একা ঘুরে বেড়াতে আর কাহাতক ভালো লাগে৷ সে সময় আমার একমাত্র কাজ বাসায় ফিরে নানা ধরণের রান্না করা৷ এটা ওটা রান্না করি, আর খাই৷ ভালোই লাগে!
একদিন এমনি রান্না করছিলাম৷ বাঙালি রান্না মানেই তো নানা মশলাপাতি৷ এক রুমের ঘর৷ ফলে প্রথমে জানালা খুলে দিই৷ তাতেও গন্ধ (আমার কাছে সুগন্ধ) দুর হয় না, তাই খুলে দিই দরজা৷ ঐ দিন আমার একই ফ্লোরে থাকা চশমা পরা মেয়েটি এসে খোলা দরজা দিয়ে গলা বাড়িয়ে ভাঙা ভাঙা জার্মানে বললো
: তুমি কি রান্না করছো?
: হ্যাঁ৷
: দারুণ গন্ধ৷ আমাদের খাবারে এমনটা হয় না৷ শুনেছি ভারতীয়রা নাকি বেশ মশলা খায়৷ তোমাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে৷
: আমি ভারতীয় নই৷ বাংলাদেশি৷ বাঙালি৷
: দুঃখিত৷ আমি বুঝতে পারিনি৷
: না না ঠিক আছে৷ এই ভুল প্রায় সকলেই করে৷ তুমিও সকলের মধ্যে একজন৷ তা তুমি কি আমার করা রান্না একটু চেখে দেখতে চাও?
আমার আহ্বানে অনেকটা লাজশরমে লাল হয়ে মেয়েটি হ্যাঁ বললো৷ রান্না করছিলাম গরুর মাংস৷ বেশ আদা রসুন আর মশলাপাতি দিয়ে ঠেসে কষাচ্ছিলাম৷ কষানো মাংসের কয়েক টুকরো একটা ছোট্ট বাটিতে তুলে দিয়ে বললাম
: চেখে দেখো৷
মেয়েটি খেতে খেতেই সার্টিফিকেট দিয়ে দিল৷ এ প্লাস৷ সঙ্গে ঝালে লেটার মার্ক৷
আমি জানালাম, আমরা এমনই খাই৷
খেতে খেতে নিজের নাম বললো মেয়েটি৷ রাশিয়া থেকে এসেছে৷ পড়ালেখা করছে৷
আমাদের এই ডর্মিটরিটা আজব৷ নানা পেশার মানুষ থাকে৷ বদ্ধ এক উন্মাদও থাকে৷ যে সারাক্ষণ বই পড়ে৷ আর অবসরে করে গালাগালি৷ আমরা লোকটিকে যতটা পারি এড়িয়ে চলি৷ কখন যে গালি দিয়ে বসে!
তাতায়ানা চেয়ারে বসে খেতে খেতে বললো
: আচ্ছা তোমাদের দেশেও কি তোমরা নিজেরাই রান্না করো? মানে ছেলেরা?
: না করিনা৷ ছোট সময় মায়ের হোটেলে, বিয়ের আগে কিছুটা নিজের হোটেলে, কিছুটা বুয়ার হোটেলে৷ আর বিয়ের পর স্ত্রীর হোটেলে৷
: তাহলে তোমরা সকলে হোটেল ব্যবসা করো৷ তাই তো বলি লন্ডনে এত ভালো কারি কি করে রান্না করে বাংলাদেশের মানুষ!
আমি তো এই মেয়ের কথা শুনে অবাক৷ বললাম কি, আর বুঝলো কি!
ওকে বুঝিয়ে বললাম৷ শুনে মেয়েটিতো হেসেই কুটিকুটি৷
সেবার জানলাম ওর প্রেমিকের কথা৷ ছেলেটি বেশ ভালো৷ ওকে খুব ভালোবাসে৷ ওকে পাস্তা রান্না করে খাওয়ায়৷ জিজ্ঞাস করলাম, তার প্রেমিক ইতালির কিনা? প্রশ্নের উত্তরে বললো তুমি একটা বুদ্ধু৷ ইতালি হলেই পাস্তা খাবে, আর কেউ খাবে না!
ছেলেটি জর্জিয়ার৷
ওই পর্যন্তই এগুলো৷ নিজে খাবারের বাসনটি ধুয়ে দিয়ে গেলো৷ আর যাবার আগে সোনালি চুলের তাতায়ানাকে দেখলাম.. মুখ লাল, যেন একটু টোকা লাগলেই রক্ত টুপ করে নিচে পড়বে৷ (আমি টোকা দিইনি)৷

এরপর সপ্তাহে দুই একবার কড়িডোরে ওর সঙ্গে দেখা হয়েছে৷ হাই হ্যালো হয়েছে৷ মেয়েটির প্রেমিককেও দেখেছি৷ দুজনে হাতে হাত ধরে হয়তো কোন পথে ঘুরে বেড়াতে৷ এদেরকে আমার বেশ ভালো লেগেছে৷ হিংসে হয়নি যে, তা কিন্তু বলছি না৷
বেশ কয়েকটি ট্রেনিং, আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ আর অ্যাসাইমেন্টে জার্মানির বাইরে থাকতে হয়েছে কয়েক মাস৷ আজ এখানে থাকো তো কাল সেখানে যাও- এমন অবস্থা৷ বনে থাকলে খুব ভোরে বের হও, আর ফিরো অনেক রাতে৷ অদ্ভুত একটা সময় গিয়েছে৷
তাতায়ানার দেখা পাইনি৷ বারবার ভেবেছি ওকে যদি একবার দেখতে পেতাম৷ কেন ভেবেছি জানি না৷ মেয়েটির মধ্যে একটা সারল্য দেখেছি৷ ওর প্রেমিক আছে তো কি হয়েছে, থোরাই কেয়ার৷ তবুও দেখা হয় না৷
এরও মাস খানিক পর এক উইকএন্ডের বিকালে আমি ফিরতেই দেখি কড়িডোরে এক ছেলের সঙ্গে বেশ রাগত গলায় কথা বলছে তাতায়ানা৷ আমি হ্যালো বলতেও সাহস করলাম না৷

এর কয়েকদিন পর তাতায়ানাকে আবার দেখলাম৷ এবার কথা হলো৷ অনেক কথা৷ আমি বললাম, চলো আজ খাবে৷ মেয়েটি রাজি হলো না৷ আমি পরে খাওয়াবো বললাম৷ মেয়েটি কিছু বললো না৷ সে তার প্রেমিকের কথা কিছু বললো না৷ তবে জানালো কয়েকদিন আগে কড়িডোরে দেখা ছেলেটি তাকে খুব জ্বালাচ্ছে৷ ছেলেটি স্পেনিশ৷ ওদের এক ক্লাশ উপরে পড়ে৷ চাইলে সে পুলিশকে জানাতে পারে৷ জানাতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়কে৷ কিন্তু ও এই সব করতে চায় না৷ হঠাৎ সে আমাকে জিজ্ঞাস করলো..
: অমি, তোমাদের দেশের মেয়েদেরও কি এভাবে ত্যক্ত করা হয়? আমি অকপটে বলে দিলাম৷ ও বললো, পুলিশ নেই৷ পুলিশকে বললে তো ঠেঙ্গাবে!
আমি বললাম, এসব আমাদের দেশে সাধারণত পুলিশের কাছে যেতে চায়না অনেকে৷ পুলিশকে বললে ঝামেলা আরও বেড়ে যায়৷ উল্টো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি৷
দীর্ঘশ্বাস ছাঁড়লো তাতায়ানা৷ বললো, স্পেনিশ ছেলেটির বিষয়ে তাকে কিছু একটা করতে হবে৷ আমি আর দাঁড়ালাম না৷ বুকের ভেতরের কথা, সেখানেই রয়ে গেলো৷ তাতায়ানাকে আর বলাও হলো না৷
**********************
নাইট ডিউটি ছিল৷ রাতে কাজ সেরে বাসার কাছে পৌঁছালাম ভোরে৷ শনিবার সকাল৷ এক সপ্তাহের নাইট শেষ৷ আহা....শান্তি৷ ডর্মিটরির সদর দরজার আগে কয়েক ধাপ সিঁড়ি৷ একটু দুর থেকে দেখালাম সেখানে লাল গোলাপ ফুল, সঙ্গে বড় বড় ডাটা৷ তাজা৷ কে রেখেছে রে ভাই! কাছে যেতেই দেখলাম প্রতিটি ফুলের সঙ্গে একটি কাগজ লেখা৷ তাতে লেখা তাতায়ানা, তাতায়ানা....৷ ইশ লিবে ডিশ৷ মানে আমি তোমাকে ভালোবাসি, জার্মানে৷ কেবল সিঁড়িতে হতো; এই ফুল বিছিয়ে দেয়া হয়েছে একেবারে লিফটের গোড়া অবধি৷ ফুলকে পাশ কাটিয়ে লিফটে চড়তেই দেখলাম সেখানেও একই গোলাপকান্ড৷ দারুণ! ঘরে গিয়ে বসতেই চিন্তা এলো আচ্ছা এর ছবি তুললে কেমন হয়? দারুণ হবে৷ যা ভাবা তাই কাজ৷ ক্যামেরা বের করে দ্রুত লিফটের কাছে৷ বোতাম চাপার পর কয়েক মিনিট৷ তারপর লিফটের দরজা খুলে যেতেই তাকিয়ে অবাক৷ কি হলো? ফুলগুলো নেই! নিচে নেমে এলাম৷ লিফট থেকে নামতেই সামনে তাতায়ানা৷ ফুল কুঁড়োচ্ছে৷ আঁটি বাঁধছে৷ আর আমাকে দেখে এক রহস্যময় হাসি মুখে এঁকে বললো
: ল্যুবটা যা করে না!

ল্যুব সেই স্পেনিশ ছেলেটির নাম৷’’



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29254732 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29254732 2010-10-14 11:56:03
পনের মিনিটের গল্প একটু পরেই পত্রিকার সাহিত্য পাতার শেষ কাজটি সম্পন্ন হবে, মানে কম্পিউটার থেকে পুরো ট্রেসিং বের হয়ে যাবে৷ কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ালো আব্দুস শাকুরের গল্পটি৷ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গল্প৷ সম্পাদকের বিশেষ পছন্দ হয়নি৷ তিনি শেষ মূহুর্তে ধরতে পেরেছেন যে গল্পটির মধ্যে এমন একটা মেসেজ সুক্ষ্ণভাবে দেয়া আছে, যাতে বড় ধরণের ক্যাঁচাল পড়ে যেতে পারে৷ সম্পাদক সাহেব এখন এ ধরণের ক্যাঁচালে যেতে চান না৷
ঘর্মাক্ত অবস্থায় সচিবালয় থেকে কিছু খবরা-খবর আর দুই তিনটি চোথা নিয়ে অফিসে ফেরা মাত্র মুকুল মালথি, সাহিত্য সম্পাদক, সরাসরি কাদিরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো, সময় নেই পনের মিনিটের মধ্যে একটি গল্প চাই৷ সম্পাদকের নির্দেশ৷
কাদির গল্প লেখে৷ মাঝে মাঝে সেগুলো কিছু পত্রিকায় ছাপাও হয়৷ বেশিরভাগ সময়ে এই সকল গল্প লিখেই দিয়ে দেন ব্লগে৷ কিন্তু এভাবে সময় বেধে দিয়ে এক্ষুনি গল্প লিখে দেবার ফরমায়েশ কেউ জানায়নি, কখনো৷
কম্পিউটারের মাই ডক্যুইমেন্ট ঘেঁটেই একটিও অপ্রকাশিত গল্প পাওয়া গেল না৷ তাকে লিখতেই হবে, সম্পাদকের কথা সে ফেলতে পারবে না৷
‘ সদরঘাটের সদর দরজা দিয়েই দলটি ভিতরে ঢুকলো৷ এখানে নানা পথে পন্টুনে ওঠায় যায়৷ যাওয়া যায় নৌকা দিয়ে৷ মাঝিরা ময়লা পানি সরিয়ে বৈঠা দিয়ে ধীরে ধীরে বয়ে নিয়ে যায় নৌকা৷ তারপর আনা দুই আনা মানে জনপ্রতি পাঁচ টাকা দিয়ে তাদের তুলে দেয় লঞ্চে৷ কিন্তু সেই কাজটি এবার করলো না কয়েকটি দৈনিকের সাংবাদিক৷ তাদের জন্য বুকিং দেয়া আছে ক্যাবিনের৷ ফলে থার্ড ক্লাসের জায়গা পাবার মতো এবার আর হুটোপুটি নয়৷ লঞ্চের নাম সোনারতরী৷ সন্ধ্যায় যাত্রা৷ একসময় সত্যিই নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘন্টা পর ছাড়লো লঞ্চটি৷ সাংবাদিকের দল ভেসে যাচ্ছে৷ সদরঘাট, গেন্ডারিয়া, পাগলা এরপর ধীরে ধীরে নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ৷
এখানেই নদীর বাতাস নির্মল৷ গায়ে গেঞ্জির উপর একটি সার্ট চাপিয়ে রহমান সিগারেট ফুঁকছে৷ নদীর নির্জ্জলা বাতাসে সিগারেট খেতে নাকি বেশ মজা৷ তবে এর প্রিয়জনেরা এটা মোটেই পছন্দ করে না৷ এই জিনিসের নাকি কোন বাপভাই নাই৷
: কেন সিগারেট খান?
প্রশ্ন শুনে একটু ভিমরি খেলো রহমান৷ খেয়ালই করেনি তাদের দলের এক মেয়ে এসে পাশে দাঁড়িয়েছে৷ নতুন এসেছে এই লাইনে৷ মানে সাংবাদিকতার লাইনে৷
: ভালো লাগে তাই খাই৷
: এটা কোন কথা হলো না৷ আপনার মতো সিনিয়র সাংবাদিকরা যদি এই সব পঁচা জিনিস খান, তো জুনিয়র মানে আমরা কি শিখবো?
: এর উত্তর দিতে পারবো না৷ আচ্ছা কি যেন নাম আপনার?
: নি৷
: এটা কোন নাম হলো!
: হয়তো নয়, আবার এর মধ্যে ভালোবাসা আছে৷
: ভালোবাসা?
: আমার মামা আমার নাম রেখেছিল৷ সে নেই৷
: নেই মানে? কোথায় গেছে?
দূরে তাকিয়ে মেয়েটি বললো...
: নেই ৷ মারা গেছে৷
: স্যরি৷
: ঠিক আছে৷ এবার বলুন সিগারেট ছাড়বেন কি না?
: কেন আপনি বললেই আমি ছাড়বো কেন?
: উত্তর দিতে গিয়েও কোন কথা বললো না সে৷
রহমান বললো
: কি হলো? উত্তর দিলেন না?
: আচ্ছা আপনার বয়স তো বাড়ছে? বিয়ে থা করছে না কেন?
: করিনি কে বললো?
: জুনায়েদ ভাই৷
জুনায়েদ তার খুবই কাছের এক বন্ধু৷ এই মেয়েটি তাদেরই অফিসের৷ জুনায়েদেরই আসার কথা ছিল৷ কিন্তু আসতে পারেনি৷ পাবনা যাবে এক রাজনৈতিক দলের সভা কাভার করতে৷ ফলে মেয়েটি এসেছে৷
: কি বলেছে জুনায়েদ?
: নাম রহমান৷ বয়স আটাশ৷ গায়ের রঙ হালকা কালো৷ লম্বা তেমন আহামরি নয়৷ বাড়ি কাপাসিয়া৷ টঙ্গির বাসা থেকে দৈনিক সকালে আগমন রাজধানী ঢাকাতে৷ নিজের ছোট্ট স্টারলেট গাড়ি৷ বাড়িতে কেউ নেই৷ মা, বাবা, বোন বা ভাই৷ নেই বান্ধবী৷ জোটেনি নয়, জোটাননি৷
: অনেক কিছুই তো জেনে গেছেন৷
: জানতে হয়৷
: কেন?
রাতের কালো রঙ ছড়িয়ে পড়েছে৷ লঞ্চের সার্চ লাইটের আলোতে দেখা গেল দুটি পাখি, জোড়া, উড়ে যাচ্ছে৷ রহমান হঠাৎ সরাসরি তাকালো নি এর দিকে৷ মেয়েটিও তার দিকে তাকিয়ে আছে৷ বন্ধু জুনায়েদ কয়েকদিন আগে বলেছিল তাদের অফিসের এক মেয়ে নাকি তার বেশ ফ্যান৷ বলে রহমান ভাইয়ের রির্পোটে নাকি কোন ফাঁক থাকে না৷ এক টানে খরবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যায়৷
: কারণ আপনি বুঝবেন না৷
রেলিঙে হাত ছিল দুই জনের৷ রহমানের ডান হাতের পাশে নি’র বাম হাত৷ হ্ঠাৎ এক ঢেউ এর কাঁপুনি তে লঞ্চটি দুলে উঠলো৷ তখনই ডান আর বাম হাতের স্পর্শ, সামান্য৷ বিদ্যুত কি এভাবেই সৃষ্টি হয়.....’

কাদিরের গল্পটি শেষ৷ আরও কিছু শব্দের খেলা জড়িয়ে দিয়ে লেখাটি সরাসরি সাহিত্য সম্পাদকের কম্পিউটারে৷
পনের মিনিটের গল্পটিতে শেষ আচড় বোলাতে বোলাতে নিজের ইন্টারকম থেকে ফোন করলেন সাহিত্য সম্পাদক৷
কাদির জানতো ফোন আসবে এটা নিশ্চিত৷ কিন্তু কি যে বলেন!
না, সমালোচনা, আলোচনা, ভালোচনা...কিছুই করলেন না সাহিত্য সম্পাদক৷ কেবল জিজ্ঞাস করলেন
‘‘কাদির তুমি তো গত মাসে ভোলা গিয়েছিলে, তাই না!’’
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29246015 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29246015 2010-09-27 13:55:29
গোপন প্রিয়ার প্রেমপত্র
নবাবপুরে আমাদের বাসা। পুরোনো ঢাকা। কান্দুপট্টির খুব কাছে আমাদের সেই বাসা। সেই কান্দুপট্টি আজ নেই। ভয়ে ভয়ে সকলের অগোচরে সেই কিশোরকালে কত যে কান্নি মেরে সেই পতিতালয়ের মেয়েদের দেখেছি, তা হিসাব করে বলতে পারবো না। এক সময় সেটি আমাদের কাছে ডাল ভাত হয়ে গেলো, সেদিকে আমি বা আমরা চেয়েও দেখতাম না। তারপরও তো এক সময় সেটি উঠে গেলো, সেই স্থানে হলো স্টিলের দোকান, খাবার হোটেল, হার্ডওয়ার আর রঙের দোকান। পতিতালয়টি নেই, স্মৃতি আছে, থাকে।

যাহোক ক্লাশ এইটে পড়ার সময় স্কুলের সময়ের পর আমার সময় কাটতো ওসমানি উদ্যানের মহানগর লাইব্রেরিতে। আর যখন স্কুল থাকতো না, তখন বাংলাবাজার। বাংলাবাজারে ঢোকার আগেই জগন্নাথ কলেজের উল্টোদিকেই পুরানো বই এর বাজার। এখন আছে কি? জানা নেই। সেখানেই আমি কাটাতাম অদিকাঙম সময়। কম দামে ভালো বই। মাঝে মাঝে মনে হত অনেক দামী বই কেবল অনেক সময ধরে দেখছি বলে, আমাকে কম দামেই দিয়ে দিত দোকানিরা্ এদের কেউ ছিল আমার মামা, কেউ ভাই আবার কেউবা দাদা। সেই মামা, ভাই আর দাদারা এখনো কেমন আছি জানিনা।
এতো লোকের মধ্যেও একজন আমার বেশ কাছের ছিল। জগন্নাথের গেটের ঠিক উল্টোদিকে দুটি পত্রিকার দোকান। একটি সামনে, আরেকটি পাশের হোটেলের সঙ্গে লাগোয়া। দ্বিতীয় দোকানটি চালাতো এক বৃদ্ধ লোক। শুকনো কাঠির মতো। চোয়ালের হাড় হাড্ডি কেবল চামড়ার সঙ্গে লেগে আছে। স্কুল থেকে কলেজ, তারপর জগন্নাথ। অনেকে টিপ্পনি কেটে বলতো, আমি নাকি বই পড়তেই বাংলাবাজারের পাশে জগন্নাথে ভর্তি হয়েছিলাম।
বেশ কয়েক বছরে সেই লোকটির সঙ্গে আমার দারুন সখ্যতা হয়ে গেলেো। আমার চাচা হয়ে গেলো সে। সেই পত্রিকার দোকানে একটা বই বেশ ভালো বিক্রি হতো। বইটির নাম গোপন প্রিয়ার প্রেমপত্র। ইচ্ছে ছিল চাচার দোকান থেকে সেই বইটি একবার পড়ে নেবো। কিন্তু পারিনি, পড়িনি। আচ্ছা কি আছে সেই বই এ। চাচাকে জিজ্ঞাস করলে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া সেই যুবক কখনোই সেই প্রশ্ন করতে পারেনি দোকানি চাচাকে।
আজ সেই বই, সেই দোকানি চাচার কথা খুব মনে পড়ছে। সেই চাচার নাম যেন কি? নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন করলাম...

উত্তর এলো, সাগর তুমি সেই চাচার নাম জানো না। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29206072 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29206072 2010-07-24 00:07:41
একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ আবেদন: বদনগ্রন্থ খুলিয়া দিন দুই একদিন পূর্বে যখন দৈনিক সংবাদে এ সংক্রান্ত খবরটি প্রকাশিত হইয়াছিল যে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ক্যারিকেচার প্রকাশ করা হইতেছে, তখনি আমি ভাবিয়াছিলাম .. ইংরেজি ফেসবুক বা বাংলায় বদনগ্রন্থটির দফা রফা হইতে যাইতেছে। কেন ভাবিলাম সে বিষয়টি বোধ করি আপনাদের কৌতুহলের কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। তাহা হইলে বলি
সাংবাদিকবৃন্দের নানা ধরণের, রকমের পরিচিত মহল থাকে। যেই সব মহল হইতে মাঝে মধ্যে নানা খবর দিয়া বলিয়া দেয়া হয়, যদি ছাপানো যায় তো মন্দ হয় না। প্রথমত সংবাদে প্রকাশিত খরবটি বিশ্লেষন করিয়া আমার মনে হইলো এটা উচ্চ পদস্থ মহলের খায়েশি প্রতিবেদন। কারণ খবরটি ছাপাইয়া বাজার পরীক্ষা করিবার মতোন অবস্থা সৃষ্টি করা হইয়াছে। খবরটি প্রকাশিত হইবার পর যখন তাহা নিয়া কোন ধরণের র্কণপাত কেহ করিলো না, তাহার দুই একদিন বাদেই সরকার বাহাদুর তাহাদের সিদ্ধান্তটি লইয়া লইলেন। বন্ধ করিয়া দিলেন ফেসবুক নামক অর্ন্তরজালের এক ক্ষুদ্র অথচ শক্তিশালী মাধ্যমটিকে।
যাহোক তাহাদের কে মসনদে বসানো হইয়াছে, কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবার জন্য। তাহারা তাহাদের কার্য করিতেছেন। আর আমরা তাহার ফলাফল ভোগ করিতেছি।
আহারে বাছা.. যদি কেহ একজন তাহার বদন গ্রন্থের পাতায় কিছু অপর্কম করিয়া থাকে, তাহা হইলে, ঐ দায় দায়িত্ব র্বতাবে ঐ ব্যক্তিটির ওপর। সমগ্র মানব জাতির উপর নয়।
আবেদন নিবেদন জানাইবার সময় হইয়াছে। একদিন বয়স হইয়া গিয়াছে বদনগ্রন্থটি বন্ধ করিবার। অনেক হইয়াছে। এইবার তাহাদের সদবুদ্ধির উদয় হোক। খুলিয়া দিক সমাজিক যোগাযোগের ঘটাইবার জন্য অতিব গুরুত্বপূর্ণ এই বাহনটি। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29165964 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29165964 2010-05-30 14:35:40
কাশফুলের কন্যা
আকাশের দিকে তাকিয়ে কি হাটা যায়? ব্রক্ষ্ণপূত্র নদের পাড়ে সেইভাবেই হাটার চেষ্টা করছিল নীল৷ ওর নামটি শুনে অনেকেই জিজ্ঞাস করে কেন ওর নাম নীল? প্রশ্নের উত্তর দেয় প্রশ্ন দিয়েই... কারও নাম যদি লাল হয়, আপনি কি জিজ্ঞাস করেন কেন তার নাম লাল? এ কথা শুনে অনেকেই চিমসে যায়, কেউ কেউ মুখ বাঁকা করে, ভাবে কি উদ্ধত ছেলেটা!
নীল এমনি৷ ও জানে ওর নামের রহস্য৷ মা বলেছে৷
নীলেরা থাকে ময়মনসিংহে৷ শহরের পাশ দিয়ে যে নদী গেছে তারই নাম ব্রক্ষ্ণপূত্র৷ নদী পুরুষ না নারী, নদ না নদী এই প্রশ্ন কুঁড়ে খায় নীল কে৷ ভালো লাগে না৷ নদী তো নদী৷ রিভারকে -কে মেয়ে বানাবে, কে বানাবে পুরুষ? এই নদীতে এক সময় গভীর পানি ছিল৷ আকাশের রঙ সাদা না কালো , না ধূসর... যাই থাকুক না কেন সেই নদী থাকতো নীল রঙে৷ নীলচে কঁচের গ্লাসের মতো সেই পানির রঙ৷ এখন নেই সেই রঙ ৷ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে৷ যে নদীতে পানি থাকে না, তার আবার রঙ!
সেই হাটুজলের নদীতে এখনো কাশফুল জন্মায়৷ বাতাস বয়ে যায়। দূরে শম্ভুগঞ্জ মিলের সাইরেন এখনো বাজে৷ সেই কাশফুলের চরেই মাঝে মাঝে হাটতে যায় নীল৷ নীল কাশফুল ভালোবাসে৷
আজ এমনি একদিন৷ সুন্দর হালকা গোলাপী রঙের টি শার্ট পড়ে হেটে বেড়াচ্ছে নীল৷ খালি পা৷ হাটতে হাটতেই হঠাৎ তার চোখে পড়লো মেয়েটিকে৷ মেয়েটি পরেছে সবুজ শাড়ি৷ বাতাসে ফুরফুর করে উড়ছিল শাড়ির আঁচল, মাথার চুল...৷ নীল অবাক৷ একা একা কোন মেয়ে সাধারণত এই নির্জন মরা নদীর চরে ঘুরে বেড়ায় না৷ মেয়েটি ঘুরছে৷
ছেলেটিকেও দেখে মেয়েটি৷
এগিয়ে যায় নীল৷
: আপনি?
: হ্যা আমি৷ কেন
: না, এমনি৷ আপনি কি ঘুরতে এসেছেন? নীলের প্রশ্ন৷
: না এখানে বড় একটা ভোজসভা হবে৷ সেই ভোজ সভায় নানা খাবার আছে৷ মোগলাই পরোটা আছে, চটপটি আছে, ফুঁচকা আছে৷ টক তেতুলের খাট্টা দেওয়া৷ আমি নিমন্ত্রিত তাই এসেছি৷
কিছুটা অপ্রস্তুত নীল৷ বলে কি মেয়েটা৷ ঠোটকাটা কি একেই বলে৷ নীল ভাবে৷ হঠাৎ মেয়েটির প্রশ্ন
: আচ্ছা মোগলরা কি চটপটি খেতো, ফুঁচকা?
: জানি না৷ আমার মনে হয় না৷ তারা মাংস পোলাও খেতো বলে শুনেছি৷
: তাহলে তো মোগল মেয়েরা আসল মজাটি পায়নি৷ যদি পেতো তাহলে ফুচকার নাম কি হতো জানেন?
: জানি না৷
: নাম হতো মোচকা৷ মোগল এবং ফুচকা এই দুই নামের একরূপ৷ আচ্ছা এই চরের কি নাম?
: এই চরের কোন নাম নেই৷ কাশবনের চর বলতে পারেন৷ সারা বছর এখানে কাশ থাকে৷ সময়ে ফুল ফোটে৷
: এখানে পাখি নেই? টুনটুনি?
: আছে তো৷ আমি তো প্রায়ই দেখি৷
: আমাকে দেখাবেন৷ আমি কখনো টুনটুনির বাসা দেখিনি৷
নীল টুনটুনির বাসা খোঁজে৷ কাশ সরিয়ে তাকায় এদিকে, ওদিকে৷ পেয়েও যায়৷
: দেখুন এই যে টুনটুনির বাসা৷ ছোট্ট বাসা৷ কাশের ঝাড়ের দুটি গাছের সঙ্গে কি সুন্দর করে বাসাটি বানানো৷
: আচ্ছা ওরা এতো সুন্দর করে বাসা বানায় কেন?
: থাকার জন্য, জন্য ভালোবাসার জন্য৷ প্রিয়ার জন্য, প্রিয়‘র জন্য৷
: ওরা কি ভালোবাসা বোঝে?
: বোঝে তো! তা না হলে এতো কিছু কেন?
: ভালোবাসলেই কি সব কিছু করা যায়?
: যায়৷
: আপনি করেছেন কখনো?
: আমি...দ্বিধায় পড়ে যায় নীল৷ নীল তার জীবনে কাউকে জড়ায়নি৷ কিংবা তাকে কেউ টানেনি৷ কথাগুলো অনেকটা গুছিয়ে বললো সে৷ মেয়েটি শুনলো৷ মেয়েরা নাকি ভালো শ্রোতা নয়, ভালো বক্তা, কে যেন বলেছিল৷ এই মেয়েটি তেমন নয়৷
: প্রেমে পড়েননি... তাহলে তো কবিতাও লিখেন নি৷
: তা লিখেছি৷
: তাই! কাকে নিয়ে?
: আকাশ, এই নদী৷ কালো রাত, সবুজ ঘাস..রঙ্গিন পাখি৷
: বাহ, খুব ভালো৷ এই প্রথম পেলাম, যে কোন মেয়েকে নিয়ে কবিতা লিখেনি৷
: আপনি, মানে আপনি কখনো কবিতা লিখেছেন?
: জানতে চাইছেন প্রেমে পড়েছি কি না?
: ঠিক তাই৷
: মেয়েরা প্রেমে পড়লে কবিতা লিখে না৷ শোনে৷ নিজেকে নিয়ে অন্যকেও কবিতা লিখবে, সেই কবিতা সে শুনবে৷ এটি দারুন মজার ব্যাপার৷
ওরা হাটতে থাকে৷ কথা বলতে থাকে৷ মেয়েটির সবুজ শাড়ি উড়ে ফিরে, কপাল বেয়ে পড়ে কালো চুল৷ ওরা শামুক দেখে৷ দেখে হাটুজল নদীর কুলকুল চলে যাওয়া৷ দূরে আকাশে সাদা বক উড়ে যায় তাও দেখে৷ আজ আকাশে হালকা কালো মেঘ করেছে৷ বকটিকে মনে হয় মেয়েটির কপালের সাদা টিপ৷
মেয়েটি হাটুজলে হাটতে থাকে৷ দাঁড়িয়ে যায় নীল৷ নীল এখনি পানিতে পা ডোবাবে না৷ সন্ধ্যা হবে, জোনাকিরা বাতি জ্বালাবে, তারপর ফিরে যাবে সে৷
মেয়েটি চলে যাচ্ছে৷ একবারের জন্য পিছনে তাকালো কেবল৷ বললো
: ভালো থাকবেন৷

ঝিরঝিরে বাতাস৷ কোথাও একটা নাম না জানা পাখি ডেকে বেড়াচ্ছে৷ হয়তো সে তার সঙ্গীকে খুঁজছে৷ সঙ্গীটি কি হারিয়ে গেছে? ভাবে নীল৷
শাড়িটিকে সামান্য তুলে হাতে স্যান্ডেলটি ঝুলিয়ে চলে যাচ্ছে মেয়েটি৷ বেশ খানিকটা হাটতে হবে তাকে৷ হাটতে হাটতে এক সময় হারিয়ে যাবে সে৷
হারিয়ে যাওয়া এ মেয়েটির নাম জানে না নীল....
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29164157 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29164157 2010-05-28 09:39:39
আমারও ইচ্ছে ছিল এভারেস্ট ছোঁয়ার.. না সেই ইচ্ছে আমার কোনদিনই পূরণ হয়নি।
একবার ঘর পালিয়েছিলাম। পাঁচ ছয় ঘন্টার জন্য। স্কুল পড়ুয়া পূঁচকে ছেলে আমি, ভেবেছিলাম...দূরে চলে যাবো। সদরঘাট থেকে লঞ্চে চড়ে সোজা বরিশাল। তারপর সেখানে একটা হোটেল মোটেলে চাকরি নিয়ে কোন রকম জীবন যাপন করবো। একটা নৈশ স্কুলে পড়া গেলে মন্দ হয় না। আবার মনে হলো যদি, আশানসোলে রুটির দোকানে কাজ করতে করতে যেমন এক দারোগাকে পেয়েছিল নজরুল, তারপর তাকে নিয়ে গিয়েছিল মংমনসিংহ..তেমন যদি কাউকে পাওয়া যায়, তো বেশ হয়....
না এসবের কিছুই হলো না। আমার ইচ্ছে পূরণ হলো না।
কয়েক ঘন্টা পর আমায় চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাওয়া হলো বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে। ঐ একবারই তারপর একটু একটু করে যতই বড় হই ততই প্রথমে পুরানো রাজপথ কানাগলি, সব মুখেস্ত.. এরপর আর একটু বাদেই দেশ দেখা, এরপর বিদেশ...
......
প্রথমবার যখন নেপালে যাই, তখন আমার ইচ্ছে ছিল হিমালয়ে হামলে পড়বো। হলো না। ঢাকা ইন্টারনাশনাল বিমান বন্দর থেকে কাঠমান্ডু। বিমান এসে পৌছাচ্ছে নেপালের কাছে। ঘন কালো মেঘে ঢাকা সব। কিচ্ছুই দেখতে পাচ্ছি না। এক সহযাত্রী জানালো বিমান থেকে নাকি এভারেস্ট দেখা যায়, দেখা যায় কে টু..অন্নপুন্না... কাঞ্চনজঙ্ঘা...কিন্তু আমার কিছু্ই দেখা হলো না।
হোটেলে পৌছালাম। বাহ একটা বেশ ভালো নাম হোটেলটির। এভারেস্ট। বাংলাদেশের মানুষ নাকি গেলেই সেখানে ওঠে । আমরাও উঠলাম। কিন্তু হোটেল থেকে দেখা যায় না হিমালয়....

সাংবাদিকতা করি। তাই সেখানে নানা কাজ। মাওবাদীদের উপর রিপোর্ট করছি। কাজ শেষ করে আবার যখন দেশের দিকে ফিরছি..তখন রোদ জ্বলজলে অবস্থা। আমাদের বিমান উড়ে যাচ্ছে। উপরে নীল আকাশ। নীচে মাটি, দেখা যাচ্ছে না। আকাশ আর ভূমির মাঝে আছে সাদা পেজা তুলোর মতো মেঘ। সাদা... অসম্ভব সুন্দর সাদা। জানালার পাশে আমার বসার জায়গা। হঠাৎ চোখ গিয়ে পড়লো কিছু দূরে... যেখানে মেঘ ফুড়ে আকাশ ছুইতে চাইছে বেশ কয়েকটি শৃঙ্গ। কি এগুলো... সোনালি রং। ঝিলিক ঝিলিক...। আমি অবাক হচ্ছি প্রকৃতির এই সুন্দর উপহার দেখে। আমার ভালো লাগছে... খুব ভালো লাগছে... মনে হচ্ছে বিমানের দরজা খুলে ঝাঁপ দিই । দূরে হারিয়ে যাই... উড়ে যাই। কিন্তু সব কিছু চাইলেই তো সম্ভব নয়..
দূরে সূর্যটা একটু একটু করে অন্য পৃথিবীকে আলো দিকে যাচ্ছে। সেই চুরিয়ে যাওয়া আলোতে সোনার পর্বত... আমার সে পাহাড় ছোঁয়া হয়নি। যাওয়া হয়নি এভারেস্টে... দেখা হয়নি সেই বরফ শীতল হিম....
সবাই সব কিছু পারে না। কেউ কেউ পারে। আমি সেই দলের নয়...
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29161903 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29161903 2010-05-24 15:53:27
একটি কাহিনীর খোঁজে...
রাতে অফিসে রিপোর্টটি জমা দিয়েই আর অপেক্ষা না করে বেরিয়ে যাবো। সরাসরি গাবতলি। সেখান থেকে একটা বাসে উঠে চলে যাবো আরিচা। সেখান থেকে একটি চরে গিয়ে উঠবো। চিফকে বলে এলাম কয়েকদিন ফিরবো না। আমার বিষয়গুলোই এমন। কেন জানি অফিসকে কিছু বললে তা মেনেই নেয়। ভালোবাসা কি একেই বলে!

আরিচার রাত। ঘন কালো নিকশ অন্ধকার নদীটাকে ঘিরে। আমি কোথায় যাবো। উদ্দেশ্য নেই। নেই বিধেয়। আমি গল্পের মাল-মসলা খুঁজছি। নদীটা নাচছে। শব্দ হচ্ছে। এই অন্ধকারের নদীর পাড়ে ঢিমে আলোকে লক্ষ্য করে হাটতে থাকলাম। টিমটিমে আলো জ্বলছে যে নৌকায়, আমার আপাতত ওটাই লক্ষ্য।
ছিপছিপে নৌকা। ছই এর নিচে শুয়ে থাকা মানুষটাকে ডাকলাম। সে উঠলো। কত আর বয়স হবে ২৪ কি ছাব্বিশ। ঘুম জড়ানো চোখ।
: তোমরা কোথায় যাবে?
: আমরা এখন যাবো না। দেরি হবে। অন্যরা মাছ বিক্রি করতে গেছে। আসলে নিশুথে ভোরে আমাদের যাওয়া।
: আমাকে সাথে নেবে? আমার আঁকুতি।
: অপেক্ষা করেন। ওরা আসলে বলতে পারবো।
আমি নৌকায় উঠে বসলাম। নৌকা দুলছে। পানির সঙ্গে নৌকার কথা ...ছলাৎ ছল.. ছলাৎ ছল....চিলতে বাতাস, বুক ভরে নিশ্বাস নেয়ার।
আমার চোখ জুড়িয়ে আসছে। আমি নৌকার পাটাতনে ঘুমিয়ে গেলাম। যখন ঘুম ভাঙ্গলো তখন চারিদিকে পাখির আওয়াজ। শহুরে সাংবাদিকের নাকে আলকাতরার গন্ধ আসছে। পাশে বসে থাকা মানুষদের কয়েক জোড়া উৎসুক চোখ আমাকে দেখছে। আমি উঠে বসলাম।
একটু বয়সি লোকটি, যার চোখে মুখে ক্লান্তির চিহ্ন, চোয়ালের হার উপরে উঠে গেছে, সেই লোকটি কারিকর বিড়ির অধের্কাংশে টান দিতে দিতে বললো
: আপনি নাকি আমাদের সঙ্গে যেতে চেয়েছেন?
: জ্বি , আমি আপনাদের সঙ্গে যেতে চাই।
: কিন্তু আপনাকে নিয়ে আমরা আবার কি না কি বিপদে পড়ি, খুন ...টুন..
আমি বুড়োর মুখের কথা টেনে নিয়ে বললাম...
: না, না ওমন কিছু নয়। আমি ঘুরতে বেরিয়েছি।
: তাইলে ফেরিতে বা লঞ্চে চড়ে যে কোন জায়গায় চলে যান। আমরা যাবো দূরের চরে..।
আমি ধু ধু আবছা আবছা দূরের চরটিকে দেখলাম। ওই চরে যেতে আমার ইচ্ছে করছে। কিন্তু লোকগুলোর একে অপরের দিকে তাকানো দেখে আমার সন্দেহ ওরা আমাকে নিতে চাইছে না। আমি যাবোই। শেষ উপায়টি আমার কাছে আছে। সেটাই বললাম, মানে নিজের পরিচয় দিলাম। ছোট্ট ব্যগ থেকে বের করলাম, ক্যামেরা এবং নোট প‌্যাড। ওদের মনে হয় বিশ্বাস হলো।


আমাদের নৌকা ভেসে চলছে। উপরে নীল আকাশ। নীচে ঘোলা জলের শব্দ। প্রথম আমার সঙ্গে যে ছেলেটির পরিচয় হয়েছিল ওর নাম হালিম। আমাকে হালিম দেখিয়ে দিচ্ছে যমুনার বুকের জেগে ওঠা চরগুলোর নাম। একটি চরের নাম ডাকাতের চর। শান্তু পুরোনে এক চর । যতদূর দেখতে পাচ্ছি ভাঙ্গা সব ঘর। রোদে বিছানো জেলেদের বড় জাল।
ঐ চরের মেয়ে নিলুফার। কত আর বয়স হবে.. আঠারো বা উনিশ। ওকেই ভালোবাসতো হালিম। কিন্তু ওর বাবা মা মেনে নিল না। মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে দিলো অন্যখানে। আমাকে ছোট্ট করে গল্পটি বললো সে।

আমি শুনছি। নতিবপুর চরের কোল ঘেষে যাচ্ছে আমাদের নৌকা। দুপুর হয় হয়। থামলো এক জায়গায়। নৌকার পাটাতনের নিচ থেকে বের হলো আস্ত এক রুই মাছ। নিচে নেমে কয়লা আর খর কুটোর আগুনো জ্বলে উঠলো দুটো চুলো, সদ্য বানানো। প্রথমটাতে লাল চালের ভাত। অন্যটাকে নদী থেকে নেয়া পানিতে আধভর্তি পাতিল। আমি চুলোর পাশে বসে বসে রান্না দেখছি। গরম পানির মধ্যে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে লবন, হলুদ, খোসাওয়ালা আলু, মরিচের গুড়ো, পেয়াজ। আমি অন্য রকম এক রান্না দেখছি। মাছটাকে পরিস্কার করে কয়েক টুকরো করে ছেড়ে দেয়া হলো ফুটন্ত নুন-মরিচের পানিতে। এরপর অপেক্ষা। হালিম রান্না করছে। এর নাকি রান্নার হাত ভালো।
মিনিট পনের বিশ পর রান্না শেষের ঘোষণা। নদীতে গোসল সেরে বসলাম। নৌকার পাটাতনে রোদ এসে পড়ছে। সেই তাতানো রোদে লাল চালের ভাতে ধোয়া উঠছে। সবার সামনে থালায় ভাত। এরপর এক হাতা করে রুই মাছের ঘন্ট। আমি মুখে দিলাম। এক দুই তিন... করে ভাত চালিয়ে দিচ্ছি মুখে। আর কেবল ভাবছি.... খাবার এতো স্বাদের হয়!

খাওয়া শেষে আবার যাত্রা শুরু। আমাদের নৌকা ভেসে চলছে। আমি একটি গল্পের কাহিনী খুঁজছি......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29153655 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29153655 2010-05-12 14:40:32
পপর্কণ প্রজন্ম কি জানে নীল আকাশ, বাদাম ভাজা... ঘরে মেঘের নানা দুষ্টমি চলছে। এরই মধ্যে মজার দুষ্টমিটা হলো বাদাম বিক্রি। বেতের একটা ছোট্ট সাজি নিয়ে সে বললো
: এই বাদাম, বাদাম নেবেন বাদাম।
আমি তার কাছ থেকে মিথ্যে বাদাম কিনলাম। মিথ্যে মিথ্যে বাদাম সকলে কিনতে পারে না। কেউ কেউ পারে।
মেঘের বাদাম বাদাম বিক্রি খেলা দেখে আমার মনটা বেশ ভালো হয়ে গেলো। ভাবলাম...যাক এই সুদুর প্রবাসে এসেও আমার প্রায় চার বছরের ছেলে দেশের এই বাদাম বিক্রি ভুলেনি।
আমার ভালো লাগছে। কিন্তু ভালো লাগা সব সময় বেশিক্ষণ থাকে না। মিথ্যে বাদাম বিক্রির দুই মিনিটের মাথায় এবার তার কাছ থেকে আমায় কিনতে হলো পপর্কণ!
: বাবা পপর্কণ নাও। আমি নিলাম সেই মিথ্যে পপর্কণ।
বদলে যাচ্ছে সময়... বদলে যায় সময়.. বদলে যায় প্রজম্ম।
এটাকে কি পপর্কণ প্রজন্ম বলবো?
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::

স্কুল ছুটি। শীতের দিন। গুলিস্তান থেকে সকালে বিআরটিসি বাসে উঠে বিকাল নাগাদ পৌঁছলাম পাবনা। আমাদের গ্রামের বাড়ি। প্রতি শীতে বাড়ি যাবো এটা একটা বাধা বিষয়। সেবারও গেছি। বিকালে বিকালে বাড়ি গিয়েই সমবয়সী গ্রামের বন্ধুদের নিয়ে দে ছুট। একছুটে যমুনার পাড়ে। আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যমুনার একটি শাখা। এক পাশে চর। একপাশে আমাদের গ্রাম। মাঝে সেই নদী। আহা আমার সেই স্বপ্নের নদী। ভালোবাসা। ঘোলা পানি, বালির চরে আটকে থাকা নীল পানি। আমি সেই নদীর পাড়ে। নদীর কোল ঘেষে থাকা বালুমাটি সবুজ। ছোট ছোট গাছ। দারুন সবুজ।
আমার বন্ধুরা সেই গাছ তুলে নিলো কয়েকটি। গাছের মূলের সঙ্গে সাদাটে রঙের ফল। আমি এই থোকা থোকা ফলকে চিনলাম। এটা বাদাম। এখনো সেই বাদাম পাকেনি।
দারুন এক বাতাস এসে লাগছে শরীরে। বালক মন আমার চলে যাচ্ছে দূরে। বহুদূরে। ঐখানে আকাশের রঙ নীল। নীচে নীলচে নদীর পানি।
আচ্ছা এই পানি এত নীল কেন?
..::::::::::::::::::::::::::::::
মেঘ এই নীলচে নদী দেখেনি কখনো.....]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29133162 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29133162 2010-04-12 01:07:11
কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি- ৬ কর্নেলকে আমি মনে রেখেছি- ৫ এখন সময়টা ঝড় বাদলের নয়। কিন্তু প্রকৃতির মনটা কে বোঝে? আমি নিজের মনই বুঝিনা! আবার প্রকৃতি! মোস্তাফিজ ভাই পটাপট ছবি তুলে যাচ্ছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি বিডিআর রিজিওনের কমান্ডার কর্নেল আওয়ালের ছবি, অফিসের জানালা ভেদ করে আকাশে এই সাত সকালে জমা মেঘের ছবি।
আমার সাক্ষাতকার নেয়া চলছে। নানা কথামালা। তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর সযতনে এড়িয়ে গেলেন। বললেন, যদি কেউ আঘাত করে, তাহলে আমরা তো আর বসে থাকতে পারি না। আমাদের আঘাত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের উপর আঘাত। আর তাই সন্ত্রাসীদের মরতে হয়েছে। কিন্তু দেখুন সব পাহাড়ী কিন্তু এক নয়, সবাই কি মরেছে?
: আপনি কি ধরণের কথা বলছেন, আপনি জানেন?
: আমি জেনেশুনেই কথা বলছি। আপনার কি জানা আছে কেবল কয়েক জোড়া বুটের জন্য মারা হয়েছিল আমাদের সেনাদের, অফিসারদের। তারপর পা কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল... এ সব আজ ইতিহাস। আপনাদের মত সাংবাদিকরা আজ কেবল আমাদের দোষ দেখছেন। আমরা যা করেছি সব দেশের জন্য করেছি।
আমি কোন কথা বললাম না। আমি সাক্ষাতকার নিতে এসেছি। আমার মনেরভাব তার কাছে প্রকাশ করতে আসিনি। তাহলে বলতাম.. সেই সব কথা। নাক বোঁচা মানুষগুলোকে দেখলেই বলা হতো তারা সন্ত্রাসী। শান্তিবাহিনী। দিন নেই রাত নেই যখন তখন বাড়িঘরে হামলা, সহজ সরল পাহাড়ী নিরীহ মানুষগুলোর ঘরে ঢুকে প্রথমেই বুটের আঘাতে ভেঙ্গে ফেলা হতো পানির কলস, তারপর নির্যাতন। বল কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস অস্ত্র, দিনের পর দিন গ্রামের পর গ্রামের পুরুষ মানুষদের নিয়ে বন জঙ্গল সাফ করার জন্য ব্যাগার খাটানো। আমি বলতে পারতাম... সেই সব ক্যাম্পের কথা। যেখান থেকে পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হতো বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার। নির্যাতনের পর প্রাণহীন নিথর দেহ....
আমি বললাম না। কারণ আমি জানি আমার কথা নয়, আমার পাঠকরা জানতে চায় তাদের মনের কথা। শান্তিচুক্তির পর সেনাবাহিনীর অবস্থান।
হঠ্যাৎ মেজর মাহাবুব ঢুকলেন। বললেন, তার স্যারের পরর্বতী এপয়েনমেন্টের কথা।
: আমাকে উঠতে হবে.. আপনি কি এ এলাকায় আরো কয়েকদিন আছেন? কর্নেল আওয়াল জিজ্ঞাস করলেন। বললাম
: হ্যা, কাজ চলছে। দুই একদিন আরো থাকতে হবে।
: আপনাকে একটা জিপ দিয়ে দিই। বিভিন্ন জায়গায় যেতে কাজে লাগবে। আর নিরাপত্তার বিষয়টিও তো আছে। তাই দুজন জোয়ান থাকবে আপনার সঙ্গে।
আমি দু:খ প্রকাশ করে বললাম... প্রয়োজন নেই। এই দেশ আমার । আমি এর মাটিতে আকাশে জলে.. নিজের মতোই চলতে পারি, চলতে জানি।আমার অহংকার ভাবটা ফুটে উঠলো।
: ঠিক আছে? তবে এই অফারটা কিন্তু ওপেন। কাল ডিনার করুন আমার সঙ্গে। আরো কথা বলা যাবে। আমি রাজী হলাম।
বাইরে এসে দেখলাম গুমট গরমের একটা সুন্দর বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আকাশে মেঘ একপস্ত দুই পস্ত করে জমে গাঢ় হচ্ছে। দূরে যে পাহাড়টা রয়েছে, সেই পাহাড়ের মাথায় এসে ঠেকেছে কালো মেঘ। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি সেই পাহাড়ী মেঘের দিকে....
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে সন্তু। বাবা আদর করে স্কুলের খাতায় ওর নাম লিখেছেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। বাবা চিত্ত বিকাশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে এই ছোট ছেলেটি। পাহাড়ের মুখ আলো করে সে হয়ে উঠবে সত্যিকারের একজন মানুষ। তার জ্যোতি ছড়িয়ে পড়বে সবখানে। খানিক ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে তামাকের তৈরি হাতে বানানো চুরুটে আগুন দিয়ে, আয়েসে ধোয়া ছেড়ে ভাবেন তিনি। বড় ছেলে বুলুটার কথা ভেবে বাবা এখনো একটু চিন্তিত। শুভেন্দু প্রভাষ লারমা হচ্ছে বুলুর আসল নাম,। কি যে করছে সে.... পাহাড়ের মানুষকে কেবল কি কথা বলে অধিকারের জন্য আন্দোলনে নামানো সম্ভব! বুলু সেই কাজটিই করছে। আর মানবেন্দ্রের কথা বেশি ভাবেন না বাবা।
একটু খুশ খুশ কেশে আবারো চুরুটে টান দিয়ে চিত্ত বিকাশ তার স্ত্রী সুভাষিনীর দিকে তাকান। বলেন,
: আমি জানি মানু অনেক দূর এগুবো।
: ঠিক বলেছো। যেন একটু আগে স্বামী কি ভাবছিল তা স্পষ্ট চোখের সামনে দেখছিলেন সুভাষিনী।
বাবা মায়ের কথার মাঝেই বাড়ি ফিরে সন্তু। আজ ঢিঙ্গা পাহাড়ের উপরে একটা ত্রিপুরা গ্রামে গিয়েছিল সে। কিশোর সন্তুর ঘুরে বেড়াতে খুব ভালো লাগে। পাহাড়ের ছড়া দিয়ে নৌকা চালাতে চালাতে তার চোখে পড়েছিল বিশাল ঠোটের মদনটাক পাখি। অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে ছিল সে। হলদে ঠোটের এত বড় পাখির এই পাহাড় জঙ্গল তারও। নিজের অধিকারের কথা মনে মনে আওরেছিল সন্তু।
: মা ভাত দাও।
: হাতমুখ ধুয়ে আয়। আমি সব ঠিক করছি।
কচি বাশের কোড়ল দিয়ে নাপ্পি রেধেছে সুভাষিনী। সবার প্রিয় খাবার। খেতে খেতে ভাবে সন্তু আর কয়েকদিন পরই তাকে চলে যেতে হবে রাঙ্গামাটি। সেখান থেকেই মেট্টিক পরীক্ষা দেবে। বাবা কথা বলেছে রাঙ্গামাটি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে। থাকার একটা ব্যবস্থাও হয়েছে, স্কুলের হোস্টেলে..
দুপুরের খাবার খেয়ে একটু ঘুমুনোর চেষ্টা করছে সন্তু্। চারিদিকে শুনশান। বাতাস বইছে । বাতালে চাপা ফুলের ঘ্রান। পাশের বাড়ির মেয়ে সুনয়না লাগিয়েছে ঐ চাপা ফুল। আচ্ছা সুনয়না এতো সুন্দর কেন?
চাপাফুল ওয়ালা বাড়ির সুনয়না কে একদিন বলতে হবে সেই কথা, ভাবে সন্তু।
: এই সন্তু ওঠ... বিকেল হয়ে গেছে, আমাদের যেতে হবে, ধল পাহাড়ের নীচে সভা। আমাদের কি করে বাচতে হবে সেই সভা..
দাদা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার ডাকে সাড়া দিয়ে উঠে পড়ে সন্তু। তাদের অনেকটা পথ হাটতে হবে, কিশোর তরুন যুবকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। রাজনীতির পথে হাটা শুরু হলো সন্তুর...

( এটি একটি উপন্যাসের অংশ। তবে এতে অনেক ঘটনাই সত্য। কিছু নাম কারও কারও সঙ্গে মিলে যেতে পারে। এরা সকলেই উপন্যাসের চরিত্র
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29123817 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29123817 2010-03-26 16:29:42
খাবনামা এবং আমি আর সে.... ভেবেছিলাম ব্লগে এ বিষয়ে কোন কিছু লিখবো না। কিন্তু সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে মন পরির্বতন। লিখবো। ঘুমটা ভাঙ্গলো একটা স্বপ্ন দেখে। ...পুরানো ঢাকার টিপু সুলতান রোডে একটা পুরির দোকানে আমি। সঙ্গে শাহনেওয়াজ ভাই। বিশিষ্ট সাংবাদিক। সেই হোটেলে বসে পুরি খাচ্ছি। উনি বলছেন.. খান সাগর, খান। পৃতিবির সবচেয়ে মজার জিনিস হচ্ছে গরম গরম পুরি!! আমি গোগ্রাসে পুরি খাচ্ছি। আশেপাশের লোক দেখছে বুবুক্ষ আমাকে...
ঘুম ভেঙ্গেই মনে হলো একটা খাবনামা দরকার। ছোট্টবেলায় একটা খাবনামা পড়েছিলাম। কি দেখিলে কি হয়! আচ্ছা পুরি খাওয়া দেখলে কি হয়? জানি না। এতটুকো শুধু জানি ..আমি আজ এক বছর পর ঢাকায় যাচ্ছি। আমার ভালোলাগার ভালোবাসার শহরে। তাই হয়তো মস্তৃস্কের মধ্যে এই সব চিন্তা কিলবিলিয়ে উঠছিল! পরে স্বপ্ন হয়ে ধরা দেয়।
কি করবো ঢাকা গিয়ে? প্রথমেই যাবো বই মেলা। বই রেরিয়েছে। দেখিনি। এটাকে দেখবো। তারপর... আমার সাড়ে তিন বছরের একটু বেশী বয়সের পূত্র মেঘ কে নিয়ে এখানে ওখানে ঘুরবো। আলু পুরি খাবো, ডার পুরি। এরপর..ইচ্ছে আছে গ্রামে যাবার। যাবো সৈকতে.. অথবা ... অন্য কোথাও! রুনি, আমার ভালোবাসা.. এলোমেলো বাতাসে উড়া তার চুলে একটু আলতো ছুয়ে দেবো আমার হাত।

আচ্ছা এখন কি কাঁচা আম প্‌ওযা যাবে...একটু আমের র্ভতা খাবো, শুকনো মরিচ পুড়িয়ে..খুব করে ঝাল দিয়ে।
.......
সেদিন আকাশ ভেঙ্গে তুষার পড়ছিল। খুবই খারাপ অবস্থা। আমার বাসা জার্মানির বনের খুব কাছের কুনিগস উইন্টার। ভাবছি ঐ বাসা থেকে যে পাহাড়টি দেখা যায সেখানে একন কেমন রবফ পড়ছে? ভাবা মাত্রই সার্চ দিলাম। লাইভ ওয়েবক্যামে দেখলাম সাতপাহাড়ের চুড়ো।
......
মাঝে মাঝে ঢাকাকে দেখতে ইচ্ছে করে...কোন ওয়েবক্যাম নেই। লাইভ দেখা যায় না। হলে বেশ হতো। কাল সকালে পৌছেই ঢাকাকে দেখবো লাইভ...স্বচক্ষে।
.......
মেয়েটিকে আমার বেশ লাগতো। মনে মনে ভাবতাম যদি সে আমার হতো? মুখ ফুটে কখনো বলতে পারিনি। ভেবেছিলাম একদিন না একদিন বলবোই...আমার সে কথা কখনোই বলা হয়নি..বলা হবেও না...
ডাগর কালো চোখের ঐ মেয়েটি এখন কেমন আছে? এক বন্ধুর কাছে জানতে চেয়েছিলাম ...
: ধুর ..বিয়ে থা করে তুই তো বেশ আছিস.. তাও আবার প্রেমের বিয়ে। অন্য মেয়ের খবর নিচ্ছিস কেন?
: জানি না।
: তুই ভালো হলি না।
আমি ভালো হইনি। আমার স্মৃতিপট থেকে হারিয়ে যায় না ঢাকা.. বাংলাদেশ... হারিয়ে যায় না ... পদ্মা নদী...পুরির দোকান.. আর সেই মেয়েটি... ভালো আমি হইনি..
রুনিকেও বলেছিলাম একবার এই কথা। ও তো হেসেই কুটি কুটি। বলেছিল..
ভুলে যেয়ো না, তবে কাছেও যেয়ো না।
আমি যাইনি। আমার যাওয়া হয় না........
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29098211 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/29098211 2010-02-15 12:36:21
কর্ণেলকে আমি মনে রেখেছি-৫ কর্ণেলকে আমি মনে রেখেছি-৪ লিপি চলে গিয়েছিল। আমার দিকে একবার কেবল তাকিয়ে ছিল অদ্ভুত চোখে। আমার জানা নেই সেই চোখের চাহনির মানে। পাহাড়ী দোকানের চা খেয়ে আমি আর মুস্তাফিজ ভাই আবার হাটতে শুরু করলাম। বান্দরবানের সন্ধ্যা রাতে কোন রিকশা নেই। কোমল বাতাস বইছে। দূর থেকে কোন এক অজানা পাখির আওয়াজ আসছে। দূর পাহাড় থেকে ভেসে আসছে বুনো গয়ালের ডাক। হাটতে হাটতে মনে পড়ছে একটি হরিণের কথা।
সেবার রাতে একটি জিপ নিয়ে বেরিয়েছি। রাঙ্গামাটির পর্যটন এলাকায় একটা হোটেল আছে। সেখানে খাবো। টেলিফোনে আগেই বলা ছিল, মানে খাবারের র্অডার দেয়া ছিল। একটি বন পাহাড়ের পাশ দিয়ে যেতে হবে। হঠাৎ আমার গাড়ি থেমে গেলো। ড্রাইভার বললো, একটু অপেক্ষা করেন। এখান দিয়ে হরিণের পাল যাবে। এই সময়ে তারা এই রাস্তা পাড় হয়। আমরা গাড়ির ষ্টার্ট বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছি। চুপচাপ। মিনিট পাঁচেক পর একের পর এক হরিণ। অন্ধকারের আলো থাকে, সেই আলোতে তাদের চলে যাওয়া দেখলাম। আহা এমন দৃশ্য আমি আগে কোনদিন দেখিনি।
আবার গাড়ি চালু করলাম। হেড লাইট জ্বলে উঠলো। ঠিক তখনই তার সঙ্গে দেখা সে পিছিয়ে পড়েছিল। হেড লাইটের তীব্র ঝলসানো আলো তার চোখে .... সে দাঁড়িয়ে গেল। তার চোখ চকচক করছে। অবাক। কি করবে বুঝতে পারছে না। মায়াবি ঐ চোখকে পিছনে ফেলে আমরা চলে গেলাম। ওর ওই চোখকে আমি কোনদিন ভুলতে পারিনি। পারবোও না....

কাল আমাকে কর্ণেল আওয়ালের সঙ্গে দেখা করতেই হবে। হোটলেটি ছেড়ে দিয়েছি আগেই। এরপর আমাদের থাকার জায়গাটি ঠিক করে রাখা হয়েছে আগেই। বন বিভাগের একটি রেষ্ট হাউজ। বড় বড় ঘর। ভালোই লাগলো। একটিই সমস্যা গরম পানি নেই। চুলোয় কিছুটা পানি গরম করে শান্তি চুক্তি পরর্বতী পার্বত্য চট্টগ্রামের কথা ভাবতে ভাবতে গোসল সেরে নিলাম। মুস্তাফিজ ভাই কোথা থেকে যেন এক বোতল দোচোয়ানি যোগাড় করেছেন। আমি গরুর মাংসের সঙ্গে সেই পানীয়তে চুমুক লাগালাম। রেষ্ট হাউজের বাবুর্চি হালিম ব্যাপারি দারুন রেধেছে। সবচেয়ে ভালো হয়েছে ঘন ডাল। খেয়ে দেয়ে ঘুম।
..................................................
সকালে আমার দরজায় কড়া নাড়লো। মুস্তাফিজ ভাই তার খাট থেকে নেমে নিজেই গিয়ে দরজা খুললেন। ঘড়িতে সকাল সাড়ে সাতটা। ঢাকায় থাকতে কখনো এত সকালে ঘুম থেকে উঠিনা। আমি উঠিনা .. মানে উঠতে চাই না।
: সাগর সাহেব আছেন?
:আছেন:
আমি উঠে এলাম। দেখি উর্দি পরা এক লোক দাড়িয়ে আছে। আমাকে দেখেই বললেন....
: আমি মেজর মাহবুব। স্যরি আপনাকে এত সকালে ঘুম থেকে উঠালাম বলে। কমান্ডার স্যার আপনাকে নিতে আমাকে পাঠিয়েছেন। আপনার সঙ্গে নাস্তা করবেন। আমি বসার ঘরে বসছি। দয়া করে রেডি হয়ে নিন।
আমরা ঝটপট রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বিডিআরের জিপে চড়ে সোজা নাইক্ষ্যংছড়ি রিজিওন ক্যাম্পে।
গেট দিয়ে ঢোকবার সঙ্গে সঙ্গেই বোধ হয় কর্ণেল আওয়াল জেনে গিয়েছিলেন। তার কোর্য়াটারের সামেন আমাদের অভিবাদন জানালেন এই বীরপ্রতিক।
: কেমন আছেন?
: ভালো, আপনি...
: ভালো... আবার দেখা হলো। চলুন খেতে খেতে কথা বলি।
সাদা লালের পোশাক পরা, হাতে গ্লোভস পরা এক লোক আমাদের খাবার পরিবেশন করছে।
: আমি আসলে আপনার একটি সাক্ষাৎকার নিতে চাই।
: আমি জানি। হেড অফিসের সঙ্গে আপনার বিষয়ে অনুমতি নিয়েও নিয়েছি।
: আপনি জানলেন কি করে এ কথা, যে আমি আপনার ইন্টারভ্যু নেব
: সাগর সাহেব... আপনাকে আমি চিনি। আপনি এখানে এসেছেন, আমার সঙ্গে এমুনি এমুনি পরোটা খাবেন .. তা আপনি করবেন না। আমি জানি । কাল আপনার সঙ্গে সেই পাহাড়ী মেয়েটির দেখা..এর আগে এখানকার পদ্ম পুকুরের ছবি তোলা.. সন্ধ্যায় রিকশা না পাোয়া... বন বিভাগের বাংলো..... আমাকে সব খবর রাখতে হয় সাগর সাহেব।
: ধন্যবাদ। আপনি আমাদের খবর রাখছেন বলে। এভাবে সকলের খবর রাখেন?
: চেষ্টা করি।
: তাহলে শুরু করি....
: একটু পরে ... ব্রেকফাষ্ট শেষ করুন। তারপর চলুন আমার অফিসে। সেখানেই কথা হবে।
.................................................................

তাগড়া গুফো কর্ণেল আওয়াল বীরপ্রতিক। বয়স পঞ্চাশ এর কাছাকাছি। অফিসে বসলেন। দু তিনটি ফাইল সই করলেন। তার পর তিন কাপ কফি এলো। আমি আমার রেকডার রের করলাম। উনার সাক্ষাৎকারের পর আমাকে আরেক জনের সাক্ষাৎকার নিতে হবে।
................................................................
:কেমন আছেন?
: ভালো
: শান্তি চুক্তিতে আপনারা খুশি?
: এটা শান্তি চুক্তি নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর এটি সই হয়। সেখানে এর নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। শান্তি চুক্তি নয়...
: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে আপনারা খুশি.....
: আমি ভাঁড় নই, যে হাসবো বা হাসাবো...
: আপনারা কি হাসতে ভুলে গেছেন?
: না ভুলে যাইনি। তবে আমাদের কে সেই পথেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
: কি করেছেন আপনারা এখানে?
: দেখুন...পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম ৩ আগস্ট ১৯৭৩ সালে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়৷ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘সন্ত্রাস' দমনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে ৷ ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটে৷আপনারা তো তাই বলছেন। আমরা এ এলাকার সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি৷
১৯৭১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন অপারেশনে সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য পার্বত্য এলাকায় কর্মরত ১ জনকে বীরউত্তম, ১১ জনকে বীরবিক্রম, ৬৮ জনকে বীরপ্রতীক পদকদেয়া হয় এবং ৮৫ জন সেনাসদস্য সেনাপ্রধানের প্রশংসাপত্র অর্জন করেন৷ চুক্তির পর বর্তমান ‘অপারেশন-উত্তরণ' এর আওতায় আমরা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে সরকার এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোকে সহায়তা করছি৷
এই সময় ‘সন্ত্রাসীদের' সাথে যুদ্ধে এ পর্যন্ত আমাদরে ১৭৮ জন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন মোট ২১১ জন, এ হিসাব সরকারের৷
: যাদের কে সন্ত্রাসি বলছেন... সেই পাহাড়ীদের কত জনকে হত্যা করেছেন...?
এই প্রশ্নের উত্তরের আগে প্রায় ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কফিতে চুমুক দিলেন কর্নেল আওয়াল...ঠান্ডা তেঁতো কফির মতো তার চেহারাও কেমন যেনো তেঁতো দেখালো.......
( এটি একটি উপন্যাসের অংশ। তবে এতে অনেক ঘটনাই সত্য। কিছু নাম কারও কারও সঙ্গে মিলে যেতে পারে। এরা সকলেই উপন্যাসের চরিত্র)

ফুট নোট: কর্ণেলকে আমি মনে রেখেছি উপন্যাসটির পঞ্চম পর্ব অনেকদিন পর লিখতে পারছি। প্রায় ছয় মাস পর.....


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28992815 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28992815 2009-08-12 18:20:17
ঐ বান্দর ...কেমন আছিস...????
.....আমরা চাঁদ দেখতে গিয়েছিলাম। গায়ে আলুথালু করে মেখেছিলাম জোসনা......
............................................................
গতকাল নাইট ডিউটি ছিল। আজও থাকবে। শেষ হবে সপ্তাহটা যেদিন বুড়ো হবে...সেই শুক্রবার রাত অবধি। কাল রান্না বান্না শেষে খেয়ে দেয়ে বাসা থেকে বেরুলাম। রাইনের পাড় দিয়ে হাটছি। বয়ে যাচ্ছে রাইন। আমি চাঁদ খুঁজি। আকাশে মেঘকে আড়াল করে এক টুকরো চাঁদ দেখি।

আচ্ছা মেঘেরা এমন ক্যানো..চাঁদকে লুকিয়ে রাখে। ট্রামে চড়ে বসি। ২৩ মিনিট বাদে এই ট্রামটি হয়সালী পৌছবে। আমার অফিসের স্টেশণ। কুনিগসউইনটার থেকে হয়সালী। রাতের নিকষ কালো। চাদের আলোরা ট্রামের জানালা গলিয়ে আসে না। কেবল গন্ধ আসছে....বুনো গন্ধ ... সাত পাহাড়ের গা থেকে আসে সে গন্ধ। আমি সেই গন্ধ আকন্ঠ গিলে খাই।
...............................................
সেবার লিপি আমার হাত ছুয়ে বলেছিলো
: এই যে গন্ধ পাচ্ছেন?
: কিসের
: বনের, পাহাড়ের ... একে বলে পাহাড়ের বুনো গন্ধ। যারা পাহাড় ভালোবাসে তারা এই গন্ধ পায়... আপনি পাহাড় ভালোবাসেন?
: হ্যাঁ.. ভালোবাসি
: আর আমাকে.......
.......................................................

আমি এই পথে যাই, সেই পথে যাই। খুঁজি জোসনা, চাঁদ, বুনো গন্ধ...
সারা রাত কাজ শেষে ঘুম থেকে উঠি। ঘুম জড়ানো চোখেই ল্যাপটপের ঢাকনাটা তুলে দিই।
খুলি বেশ কটি জানালা।
ফেসবুক...
সামহোয়ার...
বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদের ওয়েবসাইট....
.........................................................

শিয়রের পাশে রাখা জগ থেকে পানি ঢালি। মাঝে মাঝে পানি খেতেও বেশ লাগে। বড় জানালা দিয়ে গলিয়ে আসে রোদের ঝিলিক। আমি শুয়ে থাকি। চোখটা খানিক বন্ধ হয়ে আসে।
চোখ খুলতেই ফেসবুকের ম্যাসেজ। কিরণ আপার। ঢাকা থেকে
: ঐ বান্দর, কেমন আছিস.....
তারপর অফলাইন...
.........................................................
অফ...লাইন আর অনলাইন হয় না। আমি অপেক্ষায় থাকি...ঘুঘু পাখিরা ডেকে যায়। উড়ে যায় এক ঝাক কালো পাখি। আকাশে সাদা সাদা মেঘেরা পাহাড়ের গায়ে ঢলে পড়ছে। আমি বন্ধুত্ব দেখি.. পাখির সাথে আকাশের, নদীর সাথে জোসনার, পাহাড়ের সাথে মেঘের....
.... আর আমার সাথে?

লিপির প্রশ্নের উত্তরটা এখনো দেয়া হয়নি.......]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28978231 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28978231 2009-07-14 18:24:31
তিতিরমুখীর চৈতা----- ফিরে যেতে চাই সেই শৈশবে তখন আমি নবাবপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। বৃহস্পতিবার হাফ বেলা স্কুল। কড়কড়ে রোদের দুপুরে ফুটবল নিয়ে আমার বন্ধুরা ছুটতো আউটার ষ্ট্রেডিয়ামে। আমিও যেতাম ওদের সঙ্গে। তবে কিছুক্ষণ পর বদলে যেতো পথ। গুলিস্তান সিনেমা হলকে হাতের বায়ে রেখে যেতাম ঢাকার ওসমানি উদ্যানে। সেখানে মহানগর পাঠাগার ছিল। লাল রংয়ের একট দোতলা ভবন। আমার স্বপ্নের জায়গা।
সেই পাঠাগারের দুই তলাতে অসংখ্য বই। আমি ফি বৃহস্পতিবার সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত পড়তাম। সেখানেই আমি পড়ি আলী ইমামের দ্বীপের নাম মধুবুনিয়া, অপারেশন কাঁকনপুর, তিতিরমুখীর চৈতা,শাদা পরি ......

আজ কয়েকদিন ধরে সেই বইগুলোর কোন একটা পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে। প্রচন্ড ইচ্ছে করছে। এই বিদেশ বিভূইএ আমি কোথায় পাই সেই বই।

আপনার কাছে কি ঐ লেখকের কোন বই এর স্ক্যান কপি আছে, বা কোন লিংক... যেখানে গিয়ে আমি পড়তে পারি। আবার হারিয়ে যেতে পারি সেই শৈশবে.....

সেই ছেলেবেলায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28972658 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28972658 2009-07-02 17:19:03
হাওর জলাভূমির পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে, কমে যাচ্ছে মৎস সম্পদ, হচ্ছে আগাম বন্যা
বৃহত্তর সিলেট এবং বৃহত্তর মসয়মনসিংহ এবং ব্রাক্ষন্যবাড়িয়ার কিছু কিছু এলাকায় দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হাওর এবং জলাভূমিগুলোর অবস্থান। এগুলোয় বছরের প্রায় সাত মাস থাকে পানি, সে সময় ঐ এলাকার মানুষ মৎস আহরণ করে এবং পাঁচ মাস এখানকার কৃষকরা চাষ করে বোরো ধানের। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর যাবত এই সকল এলাকায় নানা কৃষক এবং জেলেদের চলছে চরম দূরদিন। একদিকে পরিবেশের উপর নানা ধরনের অত্যাচারের কারণে এখানে মৎস সম্পদ দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতি বছর আগাম বন্যার কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যাবার ফলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়ছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া এক হিসাবে দেখা গেছে, এই এলাকায় প্রতি বছর সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ধান উৎপাদন হয়। এবারে আগাম বন্যার কারণে তা প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে। এ এলাকার সুনামগঞ্জের মাত্র দুটি হাওর ছাড়া বাকি সবগুলোর সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগাম বন্যার কবলে পড়েছিল।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক শাহ ফতেহ আলী মিয়া জানান, অত্যান্ত সম্ভাবনাময়ী এবং ঘোলা মাছের খনি নামে পরিচিত উত্তর পূর্বাঞ্চলের হাওর ও জলাভূমিগুলোর অবস্থা এখন দিন খারাপ পর্যায়ে যাচ্ছে। এখন এখানকার মৎস সম্পদ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এখানকার অনেক জলজ উদ্বিদ এবং প্রাণীর আবাসস্থলও নাজুক হয়ে পড়েছে। পুরা প্রতিবেশ ক্রমে হয়ে উঠছে অসামঞ্জস্যপূর্ন। তিনি জানান, মূলত আসাম থেকে এ এলাকায় পানি নেমে আসে, সেখানেও নানা ধরনের পবিবেশ বিধ্বংশী কার্যকলাপের কারণে এখানকার পানি দূষিত হচ্ছে। পানি দিয়ে ধেয়ে আসছে পলি এবং বালি এগুলোও ভরাট করে দিচ্ছে হাওর জলাধারগুলোকে। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে পরিবেশের কথা বিবেচনা না করেই হাওর এলাকায় বাঁধ কালভার্টের মত নানা অবকাঠামো গড়ে তুলছে। এ কারণেও প্রাকৃতিক হাওরগুলো ধবংশ হচ্ছে।

হাওর সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞরা বলছেন, হাওরের ওয়াটার রেজিম সংরক্ষননার্থে সুরমা নদীর মূখ সহ আসেপাশের এলাকায় ডেজিং শুরু করা দরকার। পাশাপাশি কালনি, কুশিয়ারা, সুরমা, বৌলাই, মনু ,যদুকাটা, রক্তি সহ বিভিন্ন ছোট বড় নদী এবং এর আশেপাশের খালগুলোর পর্যায়ক্রমিক খনন করা দরকার। তাতে ঐ এলাকায় বর্ষার সময পানি আসবে এবং বর্ষার পর তা আবার চলেরও যাবে। তখন সেখানে কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28953526 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28953526 2009-05-21 02:26:13
রাজধানীর এক গ্রাম .... রাতে এখানে দেখা যায় পূর্ণিমার চাঁদ গ্রামের নাম বাইকদিয়া। বৃহত্তর ঢাকার জন্য যে মাষ্টার প্লান বাস্তবায়ন চলছে, সেই মাষ্টার প্লানের আওতায় এই গ্রাম একদিন শহরে রুপ নেবে। এই গ্রামে বিদ্যুৎ আছে, কিন্তু বেশীর ভাগ সময় বাতি জ্বলেনা। পুতি দূর্গন্ধময় ময়লা পানি শহর থেকে নেমে আসছে এখানে। গ্রামে যে স্কুল আছে সেটির কোন রেজিষ্ট্রেশন নেই। তবুও সেখানে পড়ছে প্রায় ২০০ ছেলে মেয়ে। পানি ওঠেনা অনেক টিউব ওয়েলে। রাস্তা ঘাটে চলা দুস্কর। ভেঙ্গে চুরমার। জায়গায় জায়গায় রয়েছে পুল। এই পুলগুলো সরকার করে দেয়নি। নিজেরা চাঁদা দিয়ে বাশের এই পুল ঠিকঠাক করা হয় প্রতি বছর। এখানকার ভাঙ্গা টিনের বাড়ির জানালা দিয়ে স্পষ্ট দেখা যায় মতিঝিলের সুরম্য সব অট্টালিকা। বাসিন্দাদের কেউবা কৃষিজীবী আবার কেউবা করেন ছোট খাট ব্যবসা। সেই গ্রামেই গিয়েছিলাম একদিন। তপ্ত দুপুর বেলা।

যেভাবে যেতে হয়
কমলাপুর রেল স্ট্রেশনের পিছনের রাস্তা দিযে বাসাবোর মূল রাস্তা ধরে পূর্ব দিক ধরে চলে যেতে যেতে সামনে পড়বে ত্রিমোহনী। সেখান থেকে নন্দীপাড়া এর পর উত্তর দিকের ইট বিছানো ভাঙ্গা রাস্তা দিয়ে এগুতে এগুতেই যে গ্রাম পড়বে তার নামই বাইকদয়িা গ্রাম। ঢাকার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের আ্ওতায় এই গ্রাম। আশে পাশের রয়েছে আরও ১৪টি গ্রাম। সবগুলোর অবস্থা একই রকম। ইট বিছানো রাস্তার পাশে পাশে অনেকস্থানেই দেখতে পাওয়া যাবে ঘামের বুক মাড়ানো পথ।

চলুন সেই গ্রামে
বাইকদিয়া গ্রামে সেদিন ছিল বেশ গরম। সূর্য মাথার উপর খাড়া হয়ে আছে। এখানকার মানুষ শহরের মানুষের মত সারাক্ষন গায়ে জামা চড়িয়ে থাকে না। উদোম গায়ে এগিয়ে চলে অনেকে। এদের কাছ থেকে জানা গেল গ্রামের আদ্যপান্ত।
এক সময় এখানে ছিল ধুঁ ধুঁ মাঠ। গ্রামের লোকেরা প্রায় সকলেই এখানকার আদিবাসী। ধান হতো। গম হতো। এই আশির দশকের পর এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসতে থাকে। তবে সেই হার একেবারই কম। এই গ্রামের একজন অন্য জনের আত্মীয়। গ্রামে একটি ভালো পানির জলাশয় আছে সেখানেই গোসল সারে মানুষ। এলাকার মাটি একটু উঁচু বলে এখানে খাবার পানির সংকট লেগেই আছে। যে বাড়ির টিউব ওয়েলে পানি ওঠে সেখানে লাগানো আছে পানির পাইপ। সেটির সাথে অন্যপ্রান্তে লাগানো পানির পাম্পের সাহায্যে পানি টেনে সরবরাহ নেয়া হয়। এভাবেই চলে পানির প্রয়োজন মেটানো।

সেই পথে খড়ের পালা
গ্রামের মাঝ দিয়ে যে রাস্তা চলে গিয়েছে বর্ষায় সে পথে দিয়ে চলা যায় না। এখনও বৃষ্টি আসেনি বলে রাস্তার পাশে ধানের খড়ের পালা এখনো সরানো হয়নি। আক্ষেপের স্বরে বললেন, এলাকার ছেলে ইসমাইল হোসেন বললেন, এলাকার রাস্তা মেরামতের জন্য সরকার কিছু টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সেই অর্র্থ ভাগাভাগি করে খেয়েছে সরকারী দলের লোকেরা। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তিনি জানান, কেবল ভালো রাস্তার অভাবে এখানকার মানুষ ঢাকার সাথে কোন যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছে না। বাইকদিয়া থেকে আমুলিয়া পর্যন্ত মাঠের মধ্য দিয়ে একটি অর্ধ-সমাপ্ত রাস্তা হয়েছে। মাটির সেই রাস্তার পরবর্তী উন্নয়ন হয়নি। জানা গেল, এলাকার বেগুনবাড়ি ব্রীজটিও ভাঙ্গা অবস্থা। কোনাপাড়া - মানিকদির যে রাস্তা তৈরী হয়েছে তারও অবস্থা তথৈবচ।

ভাঙ্গা পুলের এধারে ওধারে
গ্রামের একটি ভাঙ্গা পুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শাহীনুর বেগম। জানালেন, গ্যাস নেই বলে লাকড়ি দিয়েই চলে রান্ন্ বান্না। এখানে জ্বালানি লাকড়ির খুব দাম। তিনি জানালেন, বর্ষায় এখানে নৌকা ছাড়া অন্য কোন বাহন নেই। তখন ণৌকাই একমাত্র ভরসা।
মেঠো পথ পেরিয়ে একটি বাড়িতে দেখা গেল এক বালিকাকে। যে বালিকা তার ঘরের বাইরে একটি গাছের নীচে বসে স্কুল থেকে দেয়া বাড়ির কাজ তৈরী করছে। জানালো, রাতে বিদ্যুৎ থাকে না বলে দিনেই পড়া শেষ করে ফেলছে।
এলাকার বেসরকারী একমাত্র প্রাথমিক স্কুলের এক শিক্ষক জানালেন, তারা বর্ষা এলেই স্কুল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তাদের স্কুলের রেজিষ্ট্রেশন এখনো না হলেও এখানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।
গ্রামের মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানালেন, এই এটিযেনো গ্রাম নয় বড় ধরনের ড্রেন। রাজধানীর যত ময়লা আবর্জনার পানি গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতটাই খারাপ অবস্থা যে দূর্গন্ধে মাঝে মাঝে টেকা যায় না। এই পানি গিয়ে পড়ে বালি নদীর মাধ্যমে শীতলক্ষèায়। তিনি জানালেন, এলাকার নীচু জমিতে জমে থাকা পানিতে একবার হাত দিলে সেই হাতে খোশ পাচরা না হয়েই যায় না।
জানা গেল, এই গ্রামে কোন স্বাস্থ্য কর্মী আসে না। এলাকায় রেজিষ্টার্ড চিকিৎসকের খোঁজ পাওয়া দায়। মানুষ জনের অসুখ হলে ঢাকাতে দৌড়াতে হয়। আর রাজধানী ঢাকা, সে যত কাছেই হোক না কেন যেতে লাগে দুই ঘন্টা।
বাইকদিয়া গ্রামের বেকার যুবক মোস্তফা কামাল জানালেন, তাদের এলাকায় একন লোকেরা বসে থাকলেও বর্ষায় মাছ ব্যবসা চলবে। আর গ্রামের বিস্তির্ণ জমিতে ধান চাষ শেষে ছোট ছোট জলা তৈরী করা হযেছে। সেখানে মাছের পোনা ছাড়া হয়েছে। বর্ষায় পুরো এলাকা জাল দিয়ে ঘিরে দেয়া হবে। তার পর পানিতে বাড়বে মাছ , হবে বিক্রি, আসবে টাকা। সেই টাকায় চলবে সংসার। এছাড়া ইদানিং এখানে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট মুরগীর খামার। সেখানেও কাজ করছে অনেকে।
কেউ কি আছেন?

রাতে এখানে দেখা যায় পূর্ণিমার চাঁদ
বাইকদিয়া গ্রামের পাশে শেখের জায়গা, আমুলিয়া, মেন্দিপুর, ঠুলঠুলিয়া, নাগদারপাড়, নারিাবাদ, গৌর নগর, বালুর পাড়া, ঈদের কান্দি, ফকিরখালী, বাবুর জায়গা, দামের কান্দি, ত্রিমোহনী এবং লায়ন হাটি গ্রাম। এই গ্রাম গুলোর অবস্থাও একই রকম। এলাকাবাসী জানালেন, আমরা ঢাকায় বাস করি। বাপ দাদার জায়গা এটি। কিন্তু আজ আমরা খুবই দুঃশ্চিন্তাগ্রন্থ। আজ শ্যামল সবুজ গ্রামে জমির দালালদের দৌরাতœ বেড়ে গেছে। তারা নানা ভাবে নিয়ে নিচ্ছে জমি। গ্রামবাসীর প্রশ্ন এভাবে কি এখানে টেকা যাবে? ঢাকায় থেকেও আমরা কি রাজধানীর সুবিধা পাবো না? প্রশ্ন জানায় প্রদীপের নীচে অন্ধকারের বাসিন্দারা। যাদের বিকাল শেষ হয় গোধূলীর রঙে, রাতে জ্বলে জোনাকির আলো অথবা হঠাৎ কোন কোন রাতে দেখা যায় পূর্নিমার সোনালী চাঁদ। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28947643 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28947643 2009-05-07 20:13:39
“আমরা আর বন্দি থাকতে চাই না’- কাঁদে পাহাড়ের বাঙালীরা
খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটির অভিবাসী বাঙ্গালীরা রয়েছেন চরম দূর্দশার মধ্যে। তিন পার্বত্য জেলার গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারি রেশননির্ভর বাঙালী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোন পরিকল্পনা না থাকায় তারা এখন কর্মহীন অলস জীবনযাপন করছে। অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে ভূগছে তারা। বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেককে দিয়ে জোড় করে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করিয়ে্যে একটি মহল।

বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় সরেজমিনে বেশ কয়েকটি বাঙ্গালী গুচ্ছগ্রাম পরির্দশনে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখেছি, কর্মহীন গুচ্ছগ্রামবাসীর কঠিন ও কষ্টকর জীবনচিত্র। তৎকালীন আমল থেকে রেশনিং ব্যবস্থা এবং বিরাজিত পরিস্থিতির কারণে গুচ্ছগ্রামের সীমাবদ্ধ জীবনযাপন ও জীবন মানের অনুন্নত একগুয়েঁমি ধারার সৃষ্টি করেছে। পাহাড়ী এলাকায় নির্ধারিত কর্মসংস্থানের অভাবে খয়রাতি রেশন নির্ভর পরিবারগুলি অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিক্ষা সংস্কৃতিসহ নানাভাবে সামাজিক সচেতনতা হারাচ্ছে ক্রমান্বয়ে।

সেনা ক্যাম্পের সঙ্গে থাকে অবরুদ্ধ জীবন
প্রতিটি গুচ্ছগ্রাম গড়ে উঠেছে সেনাবাহিনীর স্থায়ী বা অস্থায়ী ক্যাম্প কে কেন্দ্র করে। নিরাপত্তা প্রশ্নেই এই ব্যবস্থা করেছে সরকার। অনুসন্ধানে জানতে পারলাম, গুচ্ছগ্রামের অধিবাসীরা এখন রয়েছেন এক অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে। ১৯৮০ থেকে ৮৩ সালের দিকে ব্যাপক হারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাঙ্গালীদের এ এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এ সময়ের মধ্যে তাদের কে বিভিন্ন পাহাড়ী খাস জমি দেযা হলেও ১৯৮৬ সালের দিকে দাঙ্গা শুরু হওয়ার পর তাদের কে নিয়ে আসা হয় সেনা ক্যাম্প কেন্দ্রিক পাহাড়গুলোতে। তখন থেকেই এ গুচ্ছগ্রামের অধিবাসী বাঙ্গালীদের দেযা হচ্ছে সরকারি রেশন। এখন পরিবার প্রতি প্রতি মাসে তারা রেশন পাচ্ছেন ৮৫ কেজি চাল। তবে অনিয়মিত এ রেশন নিয়ে গুচ্ছ গ্রামের শতকরা ৮০ভাগ লোক রয়েছেন চরম সমস্যার মধ্যে। বাকী ২০ ভাগ লোক এই রেশনিং ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলেছে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভের রেশন ব্যবসা। ভুয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রাজশাহী টিলার অধিবাসী বৃদ্ধ আয়েশউদ্দিন আমাকে জানালেন, “এ ব্যবসায়িক কর্মকান্ড যারা করছেন তাদের মধ্যে গুচ্ছগ্রামের লিডার মাতব্বররাই রয়েছেন বেশী। দরিদ্র গুচ্ছগ্রামবাসীর দৈন্যতার সুযোগে এরা উপকারের নামে হাত বাড়ায় এবং রেশন কার্ডের মাসিক বরাদ্ধকৃত ৮৫ কেজি হতে প্রতি কেজি চাউল কিনে নেয় সাত টাকা কিংবা ৮ টাকায়। লিডার মাতবররাই নিরীহ রেশন কার্ডধারীদের বেচা কেনা করে পুঁজিপতি হচ্ছে। রেশন ব্যবসা বন্ধের আশংকায় এদের অনেকেই চাননা গুচ্ছগ্রামবাসীর জীবন মান উন্নত হোক।” তবে এ কথা স্বীকার করেন না শালবন গুচ্ছগ্রামের প্রজেক্ট চেয়ারম্যান ওয়ার্ড কমিশনার হোসেনের । তার বক্তব্য, “অনিয়মিত ভাবে রেশন আসায় প্রায় সকলে আর্থিক অসুবিধার কারণে আগাম রেশন বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে বড় ধরনের কোন ব্যবসা হয় না। বরঞ্চ গুচ্ছগ্রামবাসীর উপকার হয়।” জানা গেছে, গুচ্ছগ্রামবাসীর জন্য সরকার প্রদত্ত খয়রাতি রেশনের মাসিক বরাদ্ধ ২২৩০ দশমিক ৫৮৬ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য। সর্বসাকুল্যে এইখাতে সরকারের বাৎসরিক ব্যয় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।

তাহাদের শিক্ষা
আমি যখন সেখানে গেলাম, সেখানে দেখা হলো আরেকজনের সঙ্গে । ভুয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের এসএসসি পাশ করা শামিম আহমেদ তখন একটি এনজিওর স্যাটেলাইট স্কুল চালাচ্ছে। ওয়ান ম্যান শো। একাই শিক্ষক, আরদালি, পিয়ন হেড মাস্টার। সে জানালো, “এই গ্রামে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা খুব কম। প্রাথমিক শিক্ষা এখন বাধ্যতামুলক হওয়ায় আমরা বিশেষ স্কুলের আওতায় ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে শিক্ষা দিচ্ছে সে। এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া করাতে পারছেনা। এখানে কর্মসংস্থানের কোন সুযোগ নেই। আয়ের উৎস নেই, একমাত্র সরকার প্রদত্ত রেশনই সবকিছু।”

এ এক বন্দি জীবন
শালবন জিয়ানগর গুচ্ছগ্রামের অধিবাসী মোহাম্মদ হানিফ জানান, “সরকার পার্বত্য শান্তিচুক্তি করার পর আমরা ভেবেছিলাম নিজ নিজ ভিটায় ফিরে যাবো । কিন্তু তা হচ্ছেনা। গুচ্ছগ্রামগুলোয় এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগচ্ছে না। চুক্তির পর দরিদ্রগ্রামবাসীর অর্থনৈতিক সমস্যা এখনো কাটেনি।” কথা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম যিনি বাস করেন খাগড়াছড়ির বরিশাল টিলা গুচ্ছগ্রামে, তিনি জানান, “তারা তাদের পাশ্ববর্তী পাহাড়ী ঢালে থাকা চিলতে জমি উপজাতীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাৎসরিক বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করে প্রাপ্ত ফসল বিক্রি করে পরিবার চালানোর অর্থ যোগান। কিন্ত পাহাড়ে আমাদের নিজস্ব জমি আছে সেখানে গিয়ে আমরা চাষাবাদ করতে পারিনা। গন্ডগোলের ভয়ে আমরা সেখানে যেতে পারি না।”

চোঙ্গরাছড়ি গুচ্ছগ্রামের করিম মিয়া, আবদুল হক, পাবলাখালির সাবের উদ্দিন, সাদেক আলী , নাজিমউদ্দিন সহ অনেক গুচ্ছগ্রামবাসী জানান, “তারা সরকার প্রদত্ত রেশনিং ব্যবস্থার পরিবর্তন পূর্বক কর্মসংস্থানের সুযোগ চান। তারা বলেছে, এ গুচ্ছগ্রামে তারা রয়েছেন বন্দি অবস্থায়। এক সাথে অনেক লোক বাস করছেন এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এই বন্দিদশা থেকে তারা মুক্তি চান। সরকারের এই রেশনিং ব্যবস্থায় বিকল্প কিছু করা হোক ;আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হোক। গুচ্ছগ্রাম নামক এলাকাটি সকলের কাছেই এক অসহনীয় নাম। এ অবস্থায় বেঁচে থাকা যায় না। ”

যেখান থেকে শুরু
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ব্রিটিশ বা পাকিস্তান আমলে যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম ‘বিশেষ’ বা ‘উপজাতীয় এলাকা’র মর্যাদা ভোগ করত, তখনও এই পাহাড়ী অঞ্চলে বাঙালী বসতি ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৪১ সালে ছিল ৯৭ দশমিক পাঁচ শতাংশ পাহাড়ী ও দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ বাঙালী। পাকিস্তান আমলে ১৯৫১ সালে জনসংখ্যার হার ছিল ৯১:৯ এবং ১৯৬১ সালে ৮৮:১২। কিন্তু পাকিস্তান আমলেই (১৯৬৪) সংবিধান পরিবর্তন করে বিশেষ বা উপজাতীয় মর্যাদা বাতিল এবং বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিশেষ সুবিধা’ নিশ্চিত না করায় বাঙালীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৭৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতি ছিল ৭৭ শতাংশ ও বাঙালী ২৩ শতাংশ। শান্তিবাহিনীর বিদ্রোহ দমনের লক্ষ্যে সত্তুর দশকের শেষ দিক (১৯৭৯) থেকে আশির দশকের প্রথম (১৯৮২) পর্যন্ত তিন বছরে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় সমতল এলাকা থেকে বাঙালীদের নিয়ে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার ৮৮টি গ্রামে ৩১ হাজার ৬২০ পরিবারের এক লক্ষ ৩৬ হাজার ২৫৭ ব্যক্তিকে জায়গা-জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়। এখন পরিবারগুলোর সংখ্যা আরও কয়েক হাজার বেড়ে গেছে। খাগড়াছড়ি জেলার মেরুং, মানিকছড়ি, পানছড়ি, রামগড়, আলুটিলা, মুসলিম পাড়া, অভ্যা, গৌরাঙ্গ পাড়া, লক্ষ্মীছড়ি, কমলছড়ি, বাবুছড়া ও সিন্দুকছড়ি, রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী, লংগদু , ঘাগড়া, বরকল, কাউখালী, বিলাইছড়ি, রাঙামাটি সদর, মারিশ্যা ও নানিয়াচর এবং বান্দরবান জেলার লামা ও আলীকদম প্রভৃতি এলাকায় তারা বসতি স্থাপন করে। এই বাঙালীরা ছিল মূলতঃ সমতল এলাকায় দরিদ্র ও নদীভাঙ্গা ভূমিহীন পরিবার। ১৯৮১ সালে পাহাড়ী ছিল ৫৮ দশমিক ছয় শতাংশ এবং বাঙালী ৪১ দশমিক চার শতাংশ। বর্তমানে সর্বশেষ আদম শুমারি অনুসাবে এ এলাকায় রয়েছে ৫১ শতাংশ বাঙ্গালী এবং ৪৯ শতাংশ পাহাড়ী।

বিরোধ এবং তীব্র বিরোধ
পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারী উদ্যোগে বাঙালী পুনর্বাসন জনসংহতি সমিতি কখনও মেনে নেয়নি এবং এখনো তীব্র বিরোধী। সমিতি এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে বাঙালীদের যথা সম্মানে পার্বত্য এলাকার বাইরে পুনর্বাসনের দাবী জানান। তবে তাদের বক্তব্য হচ্ছে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেছেন, “অনুপ্রবেশ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে বগুড়া, নোয়াখালী, চাঁদপুর ইত্যাদি জেলাসহ বিভিন্ন সমতল জেলাগুলোর সাথে খাগড়াছড়ির সরাসরি বাস সার্ভিস চালূ করা হয়েছে। এ সকল জেলাগুলো থেকে পরিবারের কর্মক্ষম লোকেরা প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রামে আসে। আর তাদের জন্য প্রত্যেক উপজেলা সদরে রিক্সা চালানো, রাস্তা-ঘাট মেরামত ও নির্মাণ কাজ, দিন মজুরী সহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানের নানা ব্যবস্থা করা হয়। কিছুদিন কাজ করার পর কিছু অর্থ সঞ্চিত হলে এবং এলাকার সাথে পরিচিত হলে পরবর্তীতে সমতল জেলা থেকে স্ব-স্ব পরিবার আনার ব্যবস্থা করা হয়।” এ প্রসঙ্গে খাগড়াছড়ির সাবেক এক সংসদ সদস্য ,বিএনপির , আমাকে বলেছিলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে একজন নাগরিক দেশের ভোগলিক সীমা রেখার ভিতর যেকোন স্থানে অবাধ বসবাস ও জমি ক্রয়-বিক্রয়ে অধিকার সংরক্ষণ করেন। যেমনিভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাশাপাশি দেশের অন্য যেকোন স্থানে অবাধে এই নাগরিক অধিকার ভোগ করছে।” তার মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালী অনুপ্রবেশ ঘটনোর জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে পরিবহন যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করার তীব্র ক্ষোভও প্রতিবাদ জানান। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন “জোট সরকারের সময়ে যোগাযোগ ও পরিবহন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় আজ পার্বত্য চট্টগ্রামে অর্থনৈতিক পরিমন্ডলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। পাহাড়ের উপজাতীয়রা উৎপাদিত পন্যের অপ্রত্যাশিত মূল্য লাভ করছে।”

{হায় রাজনীতিবিদ, আজ আপনাদের জন্যই আজ সাধারণ মানুষের এই হাল!}

পুনর্বাসিত বাঙালীরা পাহাড়ীদের জায়গা-জমি দখল করায় তাদের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে উল্লেখ করে ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয়রা আমাকে বলেন, ১৯৭৯ সালের পর পাহাড়ের টিলা ভূমিসহ তাহাদের দখলীয় বহু খাস জমি বাঙালীদের বন্দোবস্ত দেয়া হয়। সরকারী কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পূর্ণবার্সিত বাঙালীরা দলিল তৈরী করে জায়গা জমি দখল করে। এ প্রকৃয়া এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন রামগড় উপজেলার ২২৫ নং এবং ২০৯ নং বড় পিলাক মৌজার মংপসু মার্মা কারবারি এবং সাপ্রূ মার্মা। কিছুদিন আগে তারা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কাছে এক লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তারা দীর্ঘদিন থেকে যে জায়গা জমি ভোগ দখল করতো এবং চাষবাস করে জীবন জীবিকা চালাতো তা এ বছরের মাঝামাঝিতে পূর্ণবাসিত বাঙ্গালীরা দখল করে নিয়েছে।এ প্রসঙ্গে জেলার একজন ভূমি কর্মকর্তা জানান, যে ভুমি প্রসঙ্গে এ অভিযোগ আনা হয়েছে সে ভুমি প্রকৃত অর্থে খাস এবং খালি ছিল। এখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বাঙালী গুচ্ছগ্রামবাসীদের জীবণ জীবিকা প্রশ্নে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ করে জানা গেছে, প্রতিকূল অবস্থার কারণে তাদের ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনি সেখানে বসবাস করা এখন তাদের জন্য জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তারা এখন ফিরে যেতে চান তাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজস্ব জায়গায়; যেখান থেকে তারা এসেছেন ১৯৮৮ সালে গড়ে তোলা গুচ্ছগ্রামে।

কবে হবে এই কষ্টের শেষ
এই ধরনের রাজনৈতিক এবং সামরিক সিদ্ধান্তের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে সাধারণ মানুষরা রয়েছেন, খুবই কষ্টের মধ্যে। মনের মাঝে কষ্ট, বুকে কষ্ট, জীবন চালাতে কষ্ট... এই কষ্টের কি শেষ নেই?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28945411 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28945411 2009-05-02 16:07:49
উত্তরহীন হারিয়ে যাওয়া সাত সকালে, দাও না খুঁজে প্রিয়া আমার
: খুঁজতে পারি জামার বোতাম, নীল সাদা বা হলুদ রঙের
শর্ত কেবল সব সময়ে, সুখ দেবে কি নানান ঢঙ্গের?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28944628 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28944628 2009-04-30 16:31:25
জলের তলে নীল আমি খুঁজি শুরু....
;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;

জলের তলে সন্ধ্যা নামে
জলের তলে নীল
জলের তলেই মিলাই আমি
তোমার অন্তমিল

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
শেষ রাতে কেউ শেষ খোঁজে
আমি খুঁজি শুরু....
কাছে যদি নাই বা আসে
কী আর করি গুরু!

জীবনটা যে শেষ আমার, তোমার হলো শুরু..........]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28937329 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28937329 2009-04-13 05:41:52
বালিকা তুমি দুঃখ খুঁজো না : অন্ধকার
আর দূরে থাকা?
: ভালোবাসা

বালিকা তুমি দুঃখ খুঁজো না
কষ্ট পাবে...
কে ভাবে, কেউ ভাবে?

পাখি খোঁজো গান পাবে
ফুল খোঁজো রূপ পাবে
কে ভাবে, কেউ ভাবে?

ভালোবাসা
: অন্ধকার
আর দূরে থাকা
: ভালোবাসা

সে ভালোবাসা জানে না
সে ভালোবাসা মানে না
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28936073 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28936073 2009-04-10 07:54:07
বিডিআর বিদ্রোহে নিহত অন্তত ৫০ ছবিসহ আরো সংবাদ বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এখানে ... ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28916605 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28916605 2009-02-26 05:16:05 বিডিআর বিদ্রোহীদের অস্ত্র সর্মপণ শুরু ছবিসহ আরো বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন এখানে ...]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28916582 http://www.somewhereinblog.net/blog/ssarowarblog/28916582 2009-02-26 03:12:09