আমার প্রিয় পোস্ট

হিন্দু না ওরা মুসলিম ঐ জিজ্ঞাসে কোনজন, কান্ডারি বলো ডুবিছে মানুষ সন্তান মোর মা'র

ইভটিজিং লইয়া ইহা কোন আলগা আলোচনা না। অপ্রিয় সত্যের আঘাতে আহত হইতে পারেন। (পর্ব-৩)

১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:২৯

শেয়ারঃ
0 1 0

বর্তমান সময়ে দর্শন এবং সমাজতত্ত্বের দুনিয়ায় সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রভাবশালী বাঙালি কে? আপনি চিনেন বা না চিনেন এই ব্যাক্তির নাম "গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক"। কলিকাতায় জন্ম নেয়া এই বর্ষিয়ান নারী বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ফরাসি দার্শনিক জাক দেরিদার "অফ গ্রামাটোলজি"র ইংরেজি অনুবাদক এবং সাব অল্টার্ন এক্সপার্ট হিসাবে বেশি খ্যাতিমান হলেও তাঁর প্রতি আমার আগ্রহ একটু ভিন্ন কারণে। আর তা হলো তার নিজস্ব "নারীবাদি" চিন্তা ভাবনা, যেই চিন্তা ভাবনাকে অধুনা "পোস্ট কলোনিয়াল ফেমিনিজম" বলে চিহ্নিত করা হয়। তসলিমা নাসরিনের মতো আলগা এবং উটকো খ্যাতি আকর্ষক আলোচনা তিনি করেন না, প্রকৃত গবেষনা করেন। এই কারণে "নারীবাদ" নিয়া অত্যন্ত মৌলিক একজন গবেষক হওয়া সত্ত্বেও আমরা অনেকেই তাকে চিনিনা। এক্ষনে, ইভটিজিং নিয়া আলোচনায় গায়ত্রী চক্রবর্তীকে কেন টেনে আনলাম? এর উত্তরের জন্য পাঠককে মনযোগ দিয়া পরবর্তি আলোচনাটুকু অনুসরণ করতে হবে।

ক্ষমতা ও ক্ষমতা কাঠামোঃ
ক্ষমতা কাঠামো শব্দটার সাথে যাদের পরিচয় নাই তাদের এই বিষয়ে কিঞ্চিত ধারণা দেই। প্রতিটা সমাজে ব্যাক্তি এবং শ্রেণীর মধ্যে একধরণের ক্ষমতা সম্পর্ক বিরাজমান। মানুষে মানুষে এবং শ্রেণীতে শ্রেণীতে এই ক্ষমতা সম্পর্কের বেশকিছু স্তর আছে। একটা গোটা সমাজের প্রতিটা মানুষ এবং শ্রেণীর তাই ক্ষমতার স্তর বিন্যাস সাজিয়ে একটা ক্ষমতা কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব। মার্ক্সিস্ট সমাজ বিজ্ঞান এই ক্ষমতা সম্পর্কের সহজ সরল একটা ব্যাখ্যা দেয়। বুর্জোয়া, পাতি বুর্জ়োয়া, প্রলেতারিয়েত এহেন কিছু বৃহত শ্রেনীর মধ্যে ক্ষমতা সম্পর্ক ব্যাখ্যার মাধ্যমে মার্ক্সিস্ট আলোচনায় একটা সমাজে ক্ষমতা কাঠামোর ব্যাখ্যা করা হয়। তবে, বর্তমান যুগে এসে ক্ষমতা কাঠামোর মার্ক্সিস্ট ব্যাখ্যাকে অতি সরলীকরণের দোষে অভিযুক্ত করা হয়। প্রথমত, এই জাতীয় ক্ষমতা কাঠমোতে শ্রেণী যত গুরুত্ব পেয়েছে, ব্যাক্তি তত গুরুত্ব পায় নাই। গুরুত্ব পায় নাই নারী, বেকার, হিজরা এহেন আরো নানাবিধ শ্রেণী। আর এছাড়াও সমাজে বৃহত ২/৩ টা শ্রেণীই শুধু নাই, বরং শ্রেণীর সংখ্যা অনেক এবং শ্রেণীগুলোর মধ্যে সম্পর্কও অনেক বেশি জটিল। একটা সমাজে তাই এক না বরং একাধিক ক্ষমতা কাঠামো বিদ্যমান। অবশ্য এইসব একাধিক ক্ষমতা কাঠামো মিলিয়ে একটা বৃহত কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। একটা ক্ষমতা কাঠামোতে দুইজন ব্যাক্তি বা দুইটা শ্রেণীর মধ্যে ক্ষমতা সম্পর্ক মূলত প্রভু-দাস, শোষক-শোষিত, নেতা-অনুসারী এইরকম সম্পর্কের মাধ্যমে বিচার করা যায়।
ক্ষমতা কাঠামো বিষয়টা ভালোমতো বুঝতে হলে এবং আমাদের পরবর্তি আলোচনায় অগ্রসর হতে গেলে “ক্ষমতা” নামক জিনিসটা নিয়া কিঞ্চিত আলোচনা করা প্রয়োজন। কন্টেম্পরারি ফিলোসফিতে “পাওয়ার ফিলোসফি” খুবি গুরুত্বপূর্ণ যায়গা দখল করে রাখলেও এই বিষয় নিয়া এই প্রবন্ধে ব্যাপক আলোচনার অবকাশ নাই। “ক্ষমতা দর্শন” ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে গেলে ফ্রেডেরিক নিৎসে এবং মিশেল ফুকোর মতো দুইজন অত্যন্ত ভিন্ন ধাচের দার্শনিকএর বক্তব্য বোঝা জরুরি। এহেন কষ্টসাধ্য কাজ বাদ দিয়া আমরা শুধুমাত্র ক্ষমতা দর্শনের সামান্য “সার” বক্তব্যকে এইখানে গুরুত্ব দেব। সেই সার বক্তব্য হলো, “ক্ষমতা” শব্দটাকে আমরা যতই নেগেটিভ শব্দ হিসাবে ব্যাবহার করি না কেন এবং যতই একে শোষনের মূল হাতিয়ার হিসাবে চিহ্নিত করি না কেন আমাদের সমাজ কাঠামোতে “ক্ষমতা”কে এড়ানোর কোন উপায় নাই। ক্ষমতাই বর্তমান সমাজকে এর বর্তমান চেহারা দিয়েছে। আর “ক্ষমতা” মাত্রই খারাপ না। উদাহরণ স্বরুপ শোষক-শোষিত ক্ষমতা সম্পর্ককে আমরা খারাপ বলে চিহ্নিত করলেও নেতা-অনুসারী ক্ষমতা সম্পর্ককে আমরা ঠিক খারাপ বলে চিহ্নিত করতে পারি না। বরং সমাজ জীবনে জরুরি বলেই চিহ্নিত করি, যদিও নেতা-অনুসারী সম্পর্কেও “শোষন” পুরাপুরি অনুপস্থিত থাকে না। একটা সমাজের যে কোন শ্রেণী এবং সেই শ্রেণীর উপর সমাজের অন্য কোন শ্রেণীর “অন্যায় শোষন” নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সেই সমাজের ক্ষমতা কাঠামো এবং সেই ক্ষমতা কাঠামোতে সেই শ্রেণীর অবস্থান তাই পরিস্কার ভাবে বোঝা বাঞ্চনীয়। ইভ টিজিং মহামারি নিয়া আলোচনা করতে গেলে তাই বাঙালি সমাজের ক্ষমতা কাঠামো এবং সেই ক্ষমতা কাঠামোতে “নারী” নামক শ্রেণীর অবস্থানটা পরিস্কারভাবে বোঝা বাঞ্চনিয়।
এছাড়াও বাঙালি সমাজে ক্ষমতা কাঠামো এবং সেই ক্ষমতা কাঠামোতে নারীর অবস্থান খোজ়ার আগে ক্ষমতার রুপ এবং প্রকাশভঙ্গি নিয়া সামান্য আলোচনা করা দরকার। ক্ষমতার সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, এবং প্রকাশভঙ্গি নিয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ আছে। এই বিষয়ে আমার নিজস্ব কিছু চিন্তা ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যেহেতু আমি কোন স্বিকৃত বিশেষজ্ঞ না, তাই একেবারে নিজস্ব ধারণা প্রকাশ করা থেকে বিরত হচ্ছি। ক্ষমতা প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে বিশেষজ্ঞরা ভায়োলেন্স, সম্পদ, জ্ঞান এহেন আরো বেশ কিছু মাধ্যমের কথা বলেন। তবে ভায়োলেন্স বা উৎপিড়ন যে ক্ষমতা প্রকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই বিষয়ে সকল বিশেষজ্ঞই একমত। আগের যুগে ভায়োলেন্স প্রধানত শারীরিক আগ্রাসন বা উৎপিড়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমান যুগে শারীরিক প্রতিদ্বন্দিতা, দৈহিক শক্তি প্রদর্শন ইত্যাদিকে বর্বর এবং অসভ্য হিসাবে চিহ্নিত করায় ভায়োল্যান্স প্রকাশে ভাষার ব্যাবহার এমন একটা অবস্থানে পৌছেছে যার কোন উদাহরণ মানবেতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। অনেকেই হয়তো এরি মধ্যে বুঝে গেছেন যে ইভটিজিং এর পেছনে শ্রেফ যৌন চেতনা বা যৌন বিকারই কাজ করে না বরং ক্ষমতা প্রকাশের তাড়নাও বিশাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই প্রবন্ধের প্রথম পর্বেই আমি ইভটিজিং আর যৌন নির্যাতনের মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও পার্থক্য টেনেছি মূলত এই ভাষিক উৎপিড়নের উপর ভিত্তী করেই। এখন আমাদের প্রশ্ন হলো, হঠাৎ করেই একেবারে ইদানিং কালে এসে বাঙালি পুরুষ বিশেষ করে নারী জাতির উপরই ভাষিক উৎপিড়নের মাধ্যমে ক্ষমতা প্রকাশ করার জন্য ব্যাপারোয়া হয়ে উঠলো কেন? এর উত্তরটা খুঁজতে গেলে আমাদের আধুনিক বাঙালি সমাজের ক্ষমতা কাঠামো এবং সেই কাঠামোতে নারীর অবস্থানটা বুঝতে হবে সবার আগে।

আমাদের ক্ষমতা কাঠামো ও নারীর অবস্থানঃ
এই বিষয়ে আলোচনা যাতে দীর্ঘায়িত না করতে হয় তাই ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই। “গরু একটি গৃহপালিত পশু। ইহা তৃণভোজী। ইহার চারটি পা, দুইটি কান, দুইটি চোখ, দুইটি শিং এবং একটি লেজ আছে”। ছোট বেলার এই গরু’র রচনা একেবারে ঠিক এইরকম শব্দ বা বাক্য আকাড়ে আমরা বাঙালিরা সবাই পড়েছি, পূর্ব পশ্চিম দুই বাঙলাতেই। এখন ঘটনা হলো, গরু জিনিসটার যে ৪টা পা আর ২টা শিং আছে তা আমরা অনেকেই রচনা পড়ার আগে থেকেই জানি। আর গরু সম্বন্ধে জানতে হলে যে ঐ রচনার বাক্য, শব্দ, দাড়ি, কমা বইয়ে যেমন আছে তেমনি একেবারে মাথার ভেতরে ছবি তুলে রাখার মতো মুখস্ত করে রাখতে হবে এমন কোন কথা তো নাই। তাহলে আমরা কেন এই কাজ করেছি। আসলে আমরা তো করি নাই, আমাদের করতে বাধ্য করা হয়েছে। কেন করা হয়েছে? এর মাধ্যমে কি আমরা গরু সম্বন্ধে বাড়তি কোন জ্ঞান লাভ করেছি? যেই ভাবসম্প্রসারণগুলো পরীক্ষার খাতায় মুখস্ত লিখে দিয়ে এসেছি সেগুলোতে যেই নৈতিকতার শিক্ষা আছে তা নিয়া চিন্তা করতে আমাদের কেউ শেখায় নাই। সেই ছোটবেলা থেকেই আমাদের মাথা খাটানো থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। আমাদের শেখানো হচ্ছে কিভাবে অনুসরণ করতে হবে, অনুকরণ করতে হবে। এই ধরণের শিক্ষাপদ্ধতি ব্রিটিশ উপনিবেশিক শক্তি সেই ব্রিটিশ আমলে আমাদের জন্য তৈরি করেছিল। কারণ, চিন্তা করতে সক্ষম বাঙালি তাদের দরকার ছিল না। তাদের দরকার ছিল মাছি মারা কেরানি, যেই কেরানি দেখে দেখে কপি করতে গিয়ে খাতায় লেগে থাকা মরা মাছিটা পর্যন্ত কপি করে। যেই কেরানির কোন প্রভু বা নেতাসূলভ অস্তিত্ব নাই, যে নেহায়েতই অনুকরণ এবং অনুসরণপ্রিয় দাস। ব্রিটিশ উপনিবেশের সৈন্য সামন্ত এই দেশ ত্যাগ করলেও আধুনিক মুক্তবাজার অর্থ ব্যাবস্থা এবং উপনিবেশিক শিক্ষা কাঠামো এখনো প্রাক উপনিবেশি অঞ্চলেরমানুষদের দাস বানিয়ে রেখেছে। বিষয়টা আরো ভালোভাবে বুঝতে গেলে আধুনিক যুগে ক্ষমতার একটা প্রয়োগ পদ্ধতি ভালোভাবে বুঝতে হবে। মিশেল ফুকো এর নাম দিয়েছেন “ডিসিপ্লিনারি পাওয়ার”। ফুকোর মতে আধুনিক দুনিয়ার শাসক শ্রেণী অথবা আধিপত্ববাদী শ্রেণী গণমানুষকে শাসন এবং শোষন করে একধরণের ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটিয়ে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পত্রিকা, টিভি, চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষের ওপর ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতার প্রয়োগ করা হয়। এই ক্ষমতার এক পাশে থাকে শাসক আর আরেক পাশে থাকে শাসিত। এই শাসক আর শাসিতের মধ্যে যদি নেতা এবং অনুসারির সম্পর্ক না থাকে তাহলে এই সম্পর্ক হয়ে দাঁড়ায় পুরোপুরি শোষনের সম্পর্ক। এই অবস্থায় ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতা হয়ে ওঠে শোষনের হাতিয়ার। আমাদের ছোট বেলায় “গরুর রচনা” দিয়ে শুরু হয় ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে এই শোষনের শুরু। তারপর থেকে তা চলতেই থাকে ভর্তি যুদ্ধ, ভালো সাবজেক্ট, ভালো ক্যারিয়ারের প্রচারিত ধারণা, ডিজুস কালচার, কর্পোরেট কালচার এহেন নানাবিধ ডিসিপ্লিনারি ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে। যার ফলাফল অনুকরণ এবং অনুসরণপ্রিয় দাস জাতি, যে জাতি চিন্তা করতে পারে না, বুদ্ধি খাটাতে পারেনা। এ জাতির পুরুষ প্রজাতি সাফল্য বলতে বোঝে প্রভুসম পশ্চিমা পুরুষের অনুসরণ এবং অনুকরণ করা, তাতেও এই দাসত্বের আনন্দ পুরাপুরি নেয়া হয় না, শতভাগ হয় সেই প্রভুর দেশে গিয়ে সরাসরি প্রভুর কামলা খাটলে। এই ব্যাবস্থা এবং অবস্থা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তাদের ক্ষমতার ভাগিদার এদেশিয় সরকার নিজেদের সুবিধার্থেই টিকিয়ে রেখেছে। “বাঙালি পুরুষ”কে যদি একটা শ্রেণী বলা হয় তাহলে বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতা কাঠামোতে সেই শ্রেণী নেহায়েতই একটা দাস শ্রেণী।
এখন এই দাস "বাঙালি পুরুষ" শ্রেণী যে কিনা নিজেই নিজের দাসত্বের খবর রাখে না সে সেই ছোট বেলা থেকে বড় হতে হতে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছে উৎপিড়ন আর আগ্রাসনের, তার সুস্থ্য সাভাবিক জীবনের উপায় নাই, দাস হিসাবে টিকে থাকতে গিয়েও তাকে প্রতিদিন মানবেতর সংগ্রাম করতে হচ্ছে । একজন দাসের জীবন অবশ্য এই শোষন উৎপিড়ন স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এই ঘটনার ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। প্রতিরোধহীন শোষন এবং উৎপিড়নের গভীর মনস্তাত্বিক প্রভাব আছে, এই ধরণের পরিস্থিতি জন্ম দেয় জটিল কিছু মনোবিকারএর। এই মনস্তাত্বিক প্রভাব এবং ভায়োল্যান্সের জবাবে ভায়োল্যান্স প্রয়োগ করার ব্যার্থতার বিষয়টা আমরা পরবর্তি পর্বে আলোচনা করবো।
এক্ষনে বোঝা দরকার, "বাঙালি নারী" বলতে যদি আমরা একটা শ্রেণী ধরে নেই তবে সেই শ্রেণীর অবস্থান আমাদের সমাজের ক্ষমতা কাঠামোতে কেমন হবে? এই ক্ষেত্রে গোটা পুরুষতান্ত্রিক বিশ্ব ব্যাবস্থায় নারীর অবস্থান এবং তারপর বাঙালি সমাজের ক্ষমতা কাঠামোয় নারীর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা দরকার। এক্ষেত্রে আমি মার্ক্সবাদী এবং নারীবাদি লেখিকা মিশেল ব্যারেটের মতামত প্রনিধানযোগ্য মনে করি। মিশেল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ক্ষমতা কাঠামোতে নারীর অবস্থান বোঝাতে "রিসার্ভ আর্মি অফ লেবার" বলে একটি টার্ম ব্যাবহার করেন। এর অর্থ হচ্ছে, পুরুষতান্ত্রিক পূজিবাদী সমাজে নারী এমন একটা ব্যাকআপ বা রিসার্ভ শ্রমশক্তি যাকে উৎপাদন ব্যাবস্থার বিচারে বেকার বলে অভিহিত করা যায়। উল্লেখ্য, মার্ক্স "রিসার্ভ আর্মি অফ লেবার" টার্মটা পূজিবাদী সমাজে বেকারদের ক্ষেত্রে ব্যাবহার করেছেন। ব্যারেট উদাহরণ দেন যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে যেমন যুদ্ধাবস্থায় নারীদের কাজের গন্ডি পরিবর্তিত হয়ে যায়। এসময় নারীদের পুরুষালী কাজ করানো হয় এবং এটা বেশ স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ থেমে গেলেই নারীকে ফিরে যেতে হয় আগের অবস্থানে। Women's Oppression Today: The Marxist/Feminist Encounter নামক পুস্তকে মিশেল ব্যারেট এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তার শেষ বক্তব্য ছিল এই যে এমনকি মার্ক্সবাদি কায়দায় সমাজতান্ত্র কায়েম করলেও নারীমুক্তি সম্ভব না, কারণ পুরুষ প্রলেতারিয়েত আর নারীর মাঝেও বৈষম্য আছে। ১৯৮০ সালে এই পুস্তক প্রথম প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি এই পুস্তকের সর্বশেষ প্রকাশনায় নতুন এক অধ্যায় যুক্ত হয়েছে যেখানে মিশেল দাবি করেন তার পুস্তকের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল এই যে তিনি শুধু "নারী" শব্দটা ব্যাবহার করেছেন, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। জাতি, বর্ণ, স্থান এইরকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যে বিভিন্ন অঞ্চলের নারীদের মধ্যে ক্ষমতা কাঠামোয় বিরাট পার্থক্য তৈরি করে এটা তার বইয়ে অনুপস্থিত। মিশেলের এই উপলদ্ধি সঠিক। আর এইখানেই আমাদের জন্য হাজির হন গায়ত্রী চক্রবর্তী।
গায়ত্রী চক্রবর্তীর দেরিদা প্রেম আমার পছন্দ না, “সাব অল্টার্ণ” নিয়া তার চিন্তাতেও আমার আপত্তি আছে। কিন্তু পোস্ট কলোনিয়াল কায়দায় পশ্চিমা নারীবাদের সমালোচনা করে তিনি আমাদের ভূখন্ডের নারীদের বোঝার ক্ষেত্রে বলতে গেলে একেবারেই নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছেন। গায়ত্রীর মতে “পশ্চিমা নারীবাদ” পুরোপুরি তথাকথিত নারীবাদ। কারণ, আমাদের ভুখন্ডের নারী যে শুধুমাত্র পুরুষদের হাতেই নির্যাতিত তাই না, বরং আমাদের ভুখন্ডের পুরষদের মতোই উপনিবেশিক শোষনের শিকার। পশ্চিমের নারীদের উপনিবেশের শোষন সহ্য করতে হয় না, বরং তারা উপনিবেশের লাভের ভাগিদার। এহেন উপনিবেশী নারী যখন নারীবাদের নামে আমাদের ভুখন্ডের অত্যাচারিত এবং নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়ায় তখন তাতে অনেক ফাক থাকে, গলদ থাকে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, বাংলাদেশে বিভিন্ন নারীবাদি এনজিও নারীদের উপর পুরুষদের দৈহিক এবং মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিয়মিত কাজ করে গেলেও এই দেশের সাহিত্য, টিভি, বিজ্ঞাপনে এদেশের নারীদের গায়ের রঙ নিয়ে যে বর্বর বর্ণবাদী প্রথা নারীদের প্রতিনিয়ত মানসিক ভাবে নির্যাতন করছে, বিভিন্ন রাসায়নিক ভাবে ক্ষতিকর কসমিউটিক পণ্য ব্যাবহার করতে বাধ্য করছে, সেসব ক্ষেত্রে তাদের পুরোপুরি নিশ্চুপ দেখা যায়।
এই অবস্থায়, বাঙালি নারীর অবস্থান বিচার করতে গেলে একি সাথে বিশ্ব অর্থ ব্যাবস্থার ক্ষমতা কাঠামোতে বাঙালি নারীর অবস্থান এবং বাঙালি সমাজের ক্ষমতা কাঠামোতে তার অবস্থান এই দুইটাই বিচার করতে হবে। মিশেল ব্যারেটকে মাথায় রাখলে বর্তমান বিশ্বের ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল অর্থ ব্যাবস্থায় বাঙালি গৃহবধু নেহায়েতই “বেকার” বা রিসার্ভ আর্মি। এই রিসার্ভ আর্মি যখন “বেকার” না থেকে উৎপাদন ব্যাবস্থায় অংশগ্রহন করতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে তখন একটা মজার ব্যাপার হয়। পশ্চিমা উপনিবেশের নির্ধারিত এবং নির্দেশিত প্রতিযোগিতায় হাপিয়ে ওঠা ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত বাঙালি পুরুষের কাছে তখন স্কুলগামী, অফিসগামী নারী হয়ে দাঁড়ায় অনাকাঙ্খিত প্রতিযোগী, প্রতিদ্বন্দী। এই প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি যুদ্ধাংদেহী মনোভাবের সাথে যুক্ত হয় নারী এবং যৌনতা বিষয়ে ভিক্টোরিয়ান মন মানসিকতা আর তার বিরুদ্ধে আক্রমনের প্রকাশ ঘটায় সে তার অবদমিত যৌন আবেগের ফলে তৈরি হওয়া যৌন বিকারের মধ্য দিয়ে। পুরো ব্যাপারটা যা দাঁড়ায় তাকে আমরা বলছি ইভটিজিং। কিন্তু ভিক্টোরিয়ান মনমানসিকতা, যৌন বিকার আর কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার যুগপত যোগফলই ইভটিজিংএর পেছনে প্রভাব ফেলে না। এর বাইরেও একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় প্রভাবক কাজ করে। ঠিক কি কারণে নানারকম ভাষিক ভায়োল্যন্সকেই আজকের বাঙালি পুরুষ নারীদের ওপর নির্যাতনের জন্য ব্যাবহার করছে তা বুঝতে গেলে সেই প্রভাবককে খুঁজতে হবে। এক্ষেত্রে তাই আমাদের বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতা কাঠামোয় বাঙালি নারীর অবস্থান খুঁজলেই হবে না। বরং আমাদের বাঙালি সমাজের ক্ষমতা কাঠামোতে একজন পুরুষ একজন নারীর উপর কিভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করে তা বোঝ খুব জরুরি। উপনিবেশের নির্যাতনের শিকার বাঙালি পুরুষ ঠিক কিভাবে নারীর উপর নিজের ক্ষমতার চর্চা করে এবং ঠিক কি কারণে এই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সে মরিয়া হয়ে ওঠে, এবং ঠিক কি কারণে এই ক্ষমতার চর্চা “ভাষিক ভায়োল্যান্স” বা ইভটিজিং এর রুপ নেয় তা বুঝতে হলে পাঠকদের পরবর্তি পর্ব অনুসরণ করার অনুরোধ করছি।

(চলবে)

 

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩৮
জোকার৬৬৬ বলেছেন: বিশালবড়পোস্টপেলাসদিয়াগেলাম
১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪৩

লেখক বলেছেন: না পইড়াই :(

২. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৩৯
কেউটে সাপ বলেছেন: এই পর্ব একটু জটিল হয়ে গিয়েছে . :(
১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: কথা সত্য। জটিলতা কমাইতে কাল এই পোস্ট দেই নাই। আজকে সারাদিন চেষ্টা করলাম জটিলতা কমাইতে, আর পারতাছিনা।

৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪১
রুদ্রপ্রতাপ বলেছেন: জোকার৬৬৬ বলেছেন: বিশালবড়পোস্টপেলাসদিয়াগেলাম
১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪৭

লেখক বলেছেন: তাতো বটেই।

৫. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৪
েভােরর স্বপ্‌ন বলেছেন: বিশাল পোস্ট । কষ্ট কইরা লেখার জন্য না পইড়া পেলাচ দিলাম
৬. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৮
নৈশচারী বলেছেন: আসলে আপনি যতটা গভীরে ঢুকে জিনিসটাকে এক্সপ্লেইন করার চেষ্টা করছেন তাতে এটুকু জটিলতা থাকবেই! এটাকে উপেক্ষা করার কোনো উপায় নাই! যেহেতু অনেক বেশি টার্মস এবং কন্ডিশনস আসছে এবং তার আলাদা আলাদা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাও করতে হচ্ছে সেজন্য একটাকে আরেকটার সাথে রিলেট করে সামগ্রিক ব্যাপারটা বুঝে নেয়াটা একটু কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে হয়ত অনেকের কাছেই! তবে মনযোগ দিয়ে পড়লে ব্যাপারগুলি মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যাবে বলেই আমার মনে হয়! ক্ষমতা ও ক্ষমতা কাঠামো বিষয়ক ব্যাখ্যাগুলি প্রথম দিকে একটু জটিল লাগলেও শেষের দিকে এসে বুঝতে আর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি! এই পর্বটাকে জাস্ট আসন্ন একটা বিশাল আলোচনার প্রাক-ভূমিকা পর্ব মনে হলো! সুতরাং নেক্সট পর্বটা জলদি দিয়ে দেবার চেষ্টা করবেন! নইলে এটা ভুলে যাবার সম্ভাবনা আছে!
১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:০৬

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ। এই মন্তব্যটা থেকে আশ্বস্ত হলাম। আমি আসলেই একেবারে গভীরে ঢুকে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করছি। আগেই বলেছি, এটা আলগা আলোচনা হবে না। তবে মনযোগ দিয়ে পড়লে যেহেতু বোঝা যাচ্ছে সুতরাং খুব বেশি জটিল হয় নাই, এটাই আসল কথা।
পরবর্তি আলোচনাটা অবশ্য খুব বেশি বিশাল হবে না, তবে সেই আলোচনায় যাওয়ার আগে এই আলোচনাটা দরকার ছিল। পরের পর্বটা যতটা দ্রুত সম্ভব দিয়ে দেবো। আর মন্তব্যের জন্য আবারো ধন্যবাদ।

১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১০

লেখক বলেছেন: অনেক আগেই। সপ্তাহখানেক আনসেফ ছিলাম।

৮. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১৪
প্রজন্ম একুশ বলেছেন: েভােরর স্বপ্‌ন বলেছেন: বিশাল পোস্ট । কষ্ট কইরা লেখার জন্য না পইড়া পেলাচ দিলাম
৯. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:২২
হোরাস্‌ বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম। পরে সময় করে আরো মনযোগ দিয়ে পড়ব।
১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:২৫

লেখক বলেছেন: অবশ্যই। মতামত জানাইয়েন।

১০. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৩৭
েতজস্বিনী বলেছেন: হমম। অসম্পুর্ণ আলোচনা, তাই আগ্রহটা ও বেড়ে গেল। পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।
১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। পূর্ববর্তী পোস্টগুলাও যদি পড়েন তাইলে আরেকটু ভালো হবে।

১১. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৩৯
ফিরোজ খাঁন তুষার বলেছেন: সেফ হওয়ার জন্যে আলদা একটা প্লাস। :)

নারীর ক্ষমতায়ন আমাদের এইখানে খুব একটা সোজা না, হাসিনা, খালেদা ক্ষমতায় গেছে সত্য, কিন্তু তাদেরকে নারী হিসেবে কতটা ক্ষমতা দেয়া হইছে প্রশ্ন থাকতে পারে।

আর গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক যেই দেশে অধ্যাপনা করেন সেই দেশেও নারীর ক্ষমতায়ন অতটা আছে বইলা মনে হয় না।

তবে একটা জাতি গঠনে নারীদের ক্ষমতা দেয়া উচিৎ, দিতে হবেই।
১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৩৬

লেখক বলেছেন: পশ্চিমা সভ্যতায় নারীকে ততটুকু ক্ষমতাই দেয়া হয় যতটুকু কর্পোরেট স্বার্থের পক্ষে যায়।
ক্ষমতায়নের বিষয়টা আমরা যত সহজে বলি বাস্তবে তারচেয়ে অনেক জটিল। এদেশের নারী প্রধানমন্ত্রীকেও পুরুষতান্ত্রিক পার্টি আর সমাজের মর্জি অনুযায়িই চলতে হয়।
নারীদের আসলে ক্ষমতা দেয়া সম্ভব না পুরুষের পক্ষে। আমরা যারা নিজেদের প্রগতিশিল এবং নারীবাদী দাবি করি আমরাও এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজেই বেরে উঠেছি এবং পুরুষতান্ত্রিক মনমানসিকতা কম বেশি ধারণ করি। ক্ষমতা নারীদের নিজেদেরই ছিনিয়ে নিতে হবে।

১২. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৩৯
েতজস্বিনী বলেছেন: হমম। অসম্পুর্ণ আলোচনা, তাই আগ্রহটা ও বেড়ে গেল। পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।
১৩. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৪৬
রুদ্রপ্রতাপ বলেছেন: জতিল মানুশ্রাই জতিল জিনিশ বুঝে!@নইশ্চারী
১৪. ১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:৫০
পরিবেশবাদী ঈগলপাখি বলেছেন: এই সিরিজটা সময় নিয়ে নিয়মিত পড়ছি , চালিয়ে যান ++
১৩ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৩৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। মূল্যবান মতামত আশা করছি আপনাদের কাছে।

১৫. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১০
নাজনীন১ বলেছেন: এ পর্বটা আমার বোঝা-বুঝির সাথে অনেকটা মিলে গেল। আপনার অনেক বড় পোস্ট থেকে কিছু কথা আলাদাভাবে হাইলাইট করি,


"একটা ক্ষমতা কাঠামোতে দুইজন ব্যাক্তি বা দুইটা শ্রেণীর মধ্যে ক্ষমতা সম্পর্ক মূলত প্রভু-দাস, শোষক-শোষিত, নেতা-অনুসারী এইরকম সম্পর্কের মাধ্যমে বিচার করা যায়। "

---- এটা কি গায়ত্রী চক্রবর্তীর কথা? চমৎকার বলেছেন। আমাদের সমাজে বা সারাবিশ্বে পুরুষ-নারীর সম্পর্কটা আমার কাছে এমনই মনে হয়েছে।



"উদাহরণ স্বরুপ শোষক-শোষিত ক্ষমতা সম্পর্ককে আমরা খারাপ বলে চিহ্নিত করলেও নেতা-অনুসারী ক্ষমতা সম্পর্ককে আমরা ঠিক খারাপ বলে চিহ্নিত করতে পারি না। বরং সমাজ জীবনে জরুরি বলেই চিহ্নিত করি, যদিও নেতা-অনুসারী সম্পর্কেও “শোষন” পুরাপুরি অনুপস্থিত থাকে না। "


--- এখানে আমি ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে একটু বলবো, আমার অবস্থান যেখানে। ইসলামে নারী-পুরুষের সম্পর্কটা মূলত নেতা-অনুসারীর মতোই, তবে অন্ধ অনুসারী নয়, বিবেক-বুদ্ধি খাটানো অনুসারী এবং একটা পরিবারে গণতান্ত্রিক অবস্থাকেই সমর্থন করে। এখানে আপনি কোন অফিসের কোন প্রজেক্ট মিটিং-এর কথা মাথায় আনতে পারেন। সেখানে মিটিং-এ সবার আলোচনা শুনেই বস একটা ডিসিশান নেয়ার ক্ষমতা রাখেন, তা না হলে বিপর্যয় অনিবার্য, তবে বসের কোন ক্ষমতা নাই এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত তার অধীনস্তদের উপরে চাপিয়ে দিতে সেটা নিয়ম-নীতির ভিতরে থাকলেও। আবার কোন অন্যায় সিদ্ধান্ত হলে অধীনস্তরা সেটা সরাসরি প্রত্যাখান করার অধিকার রাখে এবং করাই উচিত। মানে কোন রকমের শোষণের সুযোগ সেখানে নাই।




"মিশেল ব্যারেটকে মাথায় রাখলে বর্তমান বিশ্বের ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল অর্থ ব্যাবস্থায় বাঙালি গৃহবধু নেহায়েতই “বেকার” বা রিসার্ভ আর্মি। এই রিসার্ভ আর্মি যখন “বেকার” না থেকে উৎপাদন ব্যাবস্থায় অংশগ্রহন করতে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে তখন একটা মজার ব্যাপার হয়। পশ্চিমা উপনিবেশের নির্ধারিত এবং নির্দেশিত প্রতিযোগিতায় হাপিয়ে ওঠা ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত বাঙালি পুরুষের কাছে তখন স্কুলগামী, অফিসগামী নারী হয়ে দাঁড়ায় অনাকাঙ্খিত প্রতিযোগী, প্রতিদ্বন্দী।"


--- এটা ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গীতে ভুল। আমি এখানে মূলত ইসলামের আলোকেই আলোচনা করতে চাচ্ছি, জাস্ট সমাজতন্ত্রের অপর পক্ষে কেমন মতবাদ আছে সেটা বোঝানোর জন্য।

মিশেলের "বেকার" শব্দটার যে অর্থ, মানে গৃহিনী হওয়া মানেই বেকার, এটা সম্পূর্ণভাবে একটা ভুল ধারণা বা ভিন্ন ধারণা। ইসলামে "অর্থের মালিকানা" দিয়ে কোন মর্যাদা বা পেশা নির্ধারণ হয় না সেভাবে। সংসারের একজন উপার্জিত পুরুষের যে মর্যাদা, একজন হোম ম্যানেজারের মানে ঘরে অবস্থিত নারীর একই রকম মর্যাদা। বরঞ্চ মা হবার কারণে নারীর মর্যাদা আলাদাভাবে আরো বেশি। শুধুমাত্র শ্রমবিভাগই এতে আছে, আর কিছু নয়।

"উৎপাদন ব্যবস্থা" বলতে সমাজতন্ত্রে যা বোঝায়, ইসলামে সেভাবে বোঝায় না। একজন নারীর গৃহুভ্যন্তরে থেকে গৃহকে সুন্দরভাবে দেখভাল করবেন, রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, সন্তানকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলবেন একাজ ঘরের পুরুষটি বাইরে গিয়ে যে অর্থউপার্জন করছেন, তার থেকে কোন অংশে মর্যাদায় কম নয়। সমান সমান। লক্ষ্য করুন আমি এখানে নারীর রান্না-বান্না, শিশুকে স্তন্যপান, মেহমানদারী করা, আত্মীয়-স্বজনদের দেখভাল করা -- এজাতীয় কাজকে নারীর "অত্যাবশ্যকীয় কাজ" বা "দায়িত্ব" বলছি না, এগুলো নারীরা করলে সেটা হবে "চ্যারিটি" বা "অপশনাল কাজ"।


এখন কথা হলো এরপরও কেন নারীদের বাহিরে আসতে হচ্ছে? কারণ জ্ঞানার্জনের বেশিরভাগ উপকরণই ঘরের বাইরে। আবার আমরা এমন ভুল সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছি যে অর্থ দিয়ে মর্যাদা নির্ধারণ করছি। তাই বর্তমান যুগে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন না হলে পরিবারে সে ডিসিশান মেকিং-এ কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না। কি বলবো খোদ ধার্মিক পুরুষেরাও এব্যাপারে ভুল বোঝে, ভুল আচরণ করে। একজন গৃহিনী তার গৃহকর্মের কোন বিনিময় পাচ্ছে না বিধায় তাকে আমরা "বেকার" ভাবছি, কোন ধরণের সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় আলোচনায় বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার অংশগ্রহণ আমরা নিশ্চিত করছি না -- এটা অবশ্যই একটা ভুল প্রথা। তাই তো আজ নারীদের কর্মসংস্থানের কথা বলতে বা ভাবতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। যে কেবল "গৃহিণী" থেকে এ ভুল সমাজব্যবস্থায় যেহেতু কোন ভূমিকা রাখা যাচ্ছে না, অতএব নারীদের তথাকথিত সামাজিক স্ট্যাটাস বাড়াও, আপনার ভাষায় যেটা "উপনিবেশিক দাসত্ব", "মাছি মারা কেরাণী" হওয়া।

তবে এখানেও ভুল থেকে যাচ্ছে, যেটা আপনিও বলেছেন, নিজস্ব চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তোলা হচ্ছে না। পুরুষদের জন্য তো বটেই, নারীর জন্যো এটা খুবই জরুরী, অবশ্যই দাসত্বপনার শৃংখল থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।
১৪ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:৫৩

লেখক বলেছেন: না, প্রথম বোল্ড করা অংশটুকু গায়ত্রীর কথা না। এটা মোটামুটি ক্ষমতা সম্পর্ক বোঝানোর জন্য আমার ভাষায় বললাম আর কি। লেখায় চেষ্টা করেছি থিওরেটিকাল ক্ষেত্রে নিজের বক্তব্য কম আনতে, কিন্তু কিছু এসে গেছে। ইংরেজিতে মাস্টার-স্লেভ ক্ষমতা সম্পর্কের আলোচনা করা হলেও নেতা-অনুসারী নিয়ে একেবারে স্পষ্ট আলোচনা আমি এখনো পাই নাই। এই বিষয়ে আমার নিজস্ব কিছু চিন্তা ভাবনা আছে।

আপনার পুরো মন্তব্যের উত্তর পরে দেবো। এখন আমাকে বাইরে যেতে হবে।

১৪ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:১৩

লেখক বলেছেন: ইসলামে স্বামী-স্ত্রী'র সম্পর্কটা আপনি যেমন বলেছেন আসলেই কি তেমন? হাজার বছর ধরে আরব মুসলিমরা কিন্তু স্বামী-স্ত্রীএর সম্পর্কটাকে প্রভু-দাস সম্পর্ক হিসাবেই দেখেছে, কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া। একজন বাঙালি নারী হওয়ায় আরবদের এই মনমানসিকতা আপনি মেনে নিতে পারবেন না এটাই স্বাভাবিক। আরবদের এই মনমানসিকতার জন্য কি ইসলাম দায়ি, আপনি প্রশ্ন করতে পারেন। সেই উত্তরটা আপাতত এই পোস্টে হাদিস কোরআনের আয়াত থেকে খুঁজতে চাচ্ছিনা। অন্য আরেকদিন খোজা যাবে। আর, নেতা সবসময় পুরুষই হবে এটাও সঠিক মনে করি না। যোগ্যতা বেশি থাকলে পরিবারের নেতার দায়িত্বটাতো স্ত্রীও নিতে পারে, তাই না। বাংলাদেশেই কিছু কিছু পরিবারে পিতার চেয়ে "মাতা" বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন, ক্ষমতাবান এবং পরিবারের নেতার ভুমিকায় অবতির্ণ হতে দেখেছি। সেই পরিবার তো ভালোই চলে।
আর মিশেল ব্যারেটএর বক্তব্যটা "ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্থ ব্যাবস্থা"কে কেন্দ্র করে। ইসলামে "অর্থের মালিকানা" বিষয়টা দিয়ে যা বোঝাতে চেয়েছেন তা একান্তই ইসলামের বিষয় না। কৃষিজীবী সমাজে এখনো গৃহিনীদের "বেকার" মনে করা হয় না, আগেও মনে করা হতো না। আরবের নম্যাডিক সমাজের ক্ষেত্রেও একি কথা খাটে। "বেকার" শব্দের ব্যাবহারটা দেখলেই আপনার বুঝতে সুবিধা হবে। এটা ইংরেজি "আনএম্পলয়েড" শব্দের প্রতিশব্দ। এই আনএম্পলয়েড শব্দটা একটা নেহায়েতই আধুনিক শব্দ, ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর এই শব্দের উৎপত্তি। "বেকার" বলতে আমরা যা বুঝি তাও পূজিবাদী অর্থনীতির সাথে জড়িত। এই অর্থনীতির বিচারে গৃহবধুরা "বেকার"। বাংলাদেশে ইউরোপের মতো শিল্প বিপ্লব না হওয়ায় "গৃহবধু মাত্রই বেকার" ধারণাটা এখনো তেমন প্রসার পায় নাই। তবে উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত সমাজে এবং গাজিপুর, সাভার, নারায়নগঞ্জে টেক্সটাইল শিল্প এলাকাগুলোর প্রান্তিক এবং নিন্মমধ্যবিত্ত জনগোষ্টিতে এখন এই ধারণা গড়ে উঠেছে।
অসংখ্য ধন্যবাদ মূল্যবান আলোচনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

১৬. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১৯
নাজনীন১ বলেছেন: মজার ব্যাপার হলো আপনি যে গায়ত্রীর প্রশংসা করছেন, তিনিও কিন্তু সেই পশ্চিমেই চাকরীরত, তাদেরই দাসত্বপনা করছেন।

মার্ক্স বা মিশেল কেউও এদেশী নন, আপনাকে চিন্তা করতে হলেও তাদের চিন্তা-ভাবনার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। তার মানে আমরা হঠাৎ করেই দাসত্বের শৃংখল থেকে বেরিয়ে আসা যাবে না, যেটা হতে পারে নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রেখে জ্ঞানের প্রবাহ চালু রাখা বা আহরণ বা আত্মস্থ করা।
১৪ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:৪৮

লেখক বলেছেন: পশ্চিমে চাকুরি করা দাসত্বের বহিঃপ্রকাশ এটা গায়ত্রী চক্রবর্তীর কথা না, আমার নিজস্ব মতামত। গায়ত্রী পোস্ট কলোনিয়ালিস্টদের শুরুর দিকের একজন। তার অনেক চিন্তার সাথেই আমার মিলবে না। তবে পশ্চিমে চাকুরি করা আর শিক্ষকতা করায় মনে হয় খানিকটা পার্থক্য আছে, এক্ষেত্রে ক্ষমতা সম্পর্কে আপনার অবস্থানটা ওপরের দিকেই থাকবে।
আপনার কথা সত্য, চিন্তার ক্ষেত্রে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসা কষ্ট। এর প্রধান কারণ, অনেক বিষয় আছে যা নিয়া আমাদের দেশে আমাদের ভাষায় আগে কাজ হয় নাই। নিজস্ব চিন্তা আর স্বকিয়তা হারিয়েছি আমরা সেই ব্রিটিশ আমলের প্রথম থেকেই, ধিরে ধিরে। নিজেদের চিন্তার মুক্তি তাই একটা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের মতো। আমি যখন প্রথম সামাজিক/রাজনৈতিক কাজ কর্ম শুরু করি চিন্তার মুক্তির লক্ষ্যে তখন শুরুতে আমার টার্গেট ছিল ধর্ম। পরে দেখেছি, বর্তমান যুগে ধর্মের শক্তি অনেক কম। আমাদের ভুখন্ডে মানুষের চিন্তাকে শৃঙ্খলিত করে রেখেছে উপনিবেশ। আমার মতই বাঙলাদেশে অনেকে এখন ইতিহাস নিয়ে কাজ করছে, অজানা ইতিহাস খুঁজছে। ভাষায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে কেউ, কেউবা ভাষা থেকে দাসত্বের উপাদান ছেটে ফেলার কাজ করছে। আমি মুসলমান এবং বাঙালিদের মুক্তবুদ্ধি চর্চার ইতিহাস নিয়ে কাজ করছি, যাতে এই অঞ্চলের মানুষ মুক্তবুদ্ধি চর্চাকে একচেটিয়া পশ্চিমের সম্পত্তি না মনে করে। অনেকের প্রচেষ্টায় এই কাজ অবশ্যই আগাবে। তখন আমাদের নিজেদের মনিষীদের রেফারেন্সই আমরা দিতে পারবো, পশ্চিমের মুখাপেক্ষি হতে হবে না।
তবে, পশ্চিমের সব কিছুই অস্বিকার করা ভুল হবে। সারা পৃথিবীতে এমন কিছু মনিষির জন্ম হয় যারা পরবর্তিযুগে সারা বিশ্বের মানুষের চিন্তার জন্য কিছু না কিছু দিয়ে যান। মার্কস এমন একজন ব্যাক্তি যিনি স্বর্বপ্রথম সমাজ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে পূঁজিবাদী সমাজের একটা সমালোচনাধর্মি ডিসকোর্স তৈরি করেছিলেন, তাকে একেবারেই ফেলে রেখে সামনে যাওয়া সম্ভব না।

১৭. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১:২৫
শিমুল আহমেদ বলেছেন: এই পর্বটাও পড়লাম যদিও একটু কঠিন লাগছে, একবার পড়ে ভাল করে বুঝতে পাড়িনি তাই দুইবার পড়তে হল। আবারো ভাল লাগা জানিয়ে গেলাম। সত্যিই আপনি অসাধারন লোক অনেক কিছু জানেন! পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম। ভাল থাকবেন সব সময়।
১৪ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:১৮

লেখক বলেছেন: হা: হা:, অনেক বেশি প্রশংসা করে ফেললেন। ধৈর্য্য ধরে এবং কষ্ট করে যে পড়ছেন, তাতেই নিজের সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছি। এই লেখা আপনাদের জন্যই, ম্যাসেজ গুলো পৌছে দেয়ার দরকার।
পরবর্তী পর্ব দ্রুতই আসবে। আপনিও ভালো থাকুন।

১৮. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:৪২
সজীব আকিব বলেছেন: পারভেজ ভাই, এই পর্বটাও বেশ ভালো লাগলো। চালিয়ে যান। আমার ব্যাক্তিগত অনুরোধ- যতটা সম্ভব সহজ আর সাইজে বড় করে লেখেন।
+
(নাজনীন আপু অবশ্য ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে চমৎকার বিবরণ দিয়েছেন :D)
১৪ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সজীব। একি সাথে সাইজে বড় আর সহজ :), এতো কঠিন ঝামেলায় ফেললেন ভাই।

১৯. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:৩৪
নাজনীন১ বলেছেন: "নেতা সবসময় পুরুষই হবে এটাও সঠিক মনে করি না। যোগ্যতা বেশি থাকলে পরিবারের নেতার দায়িত্বটাতো স্ত্রীও নিতে পারে, তাই না। বাংলাদেশেই কিছু কিছু পরিবারে পিতার চেয়ে "মাতা" বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন, ক্ষমতাবান এবং পরিবারের নেতার ভুমিকায় অবতির্ণ হতে দেখেছি। সেই পরিবার তো ভালোই চলে। "

--- ঠিক বলেছেন। নেতা হতে গেলে যোগ্যতা লাগে, যে বেশি যোগ্য সেই নেতা হবে। যদিও আমার এ কথার সাথে কোন কোন কঠোর ধার্মিকেরা বিরোধীতা করে।
১৪ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:২০

লেখক বলেছেন: দেখেন, আব্রাহামিক ধর্মগুলা মূলত পুরুষতান্ত্রিক, মোল্লা মাওলানারাও পুরুষ। আপনার এই কথায় তারা বিরোধীতা করবেই। আজকালতো কিছু কাঠমোল্লা পুরুষের শ্রেষ্টত্ব প্রমান করতে "বড় মগজ"এর থিওরীও দেয়। কয়েকদিন আগে একটা বই পড়ছিলাম যেখানে লেখক প্রমান করতে চেয়েছেন ঠিক কি কি কারণে পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

২০. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:৩৬
নাজনীন১ বলেছেন: মূল কথা এটাই যে স্বামী-স্ত্রী বা নারী-পুরুষের মাঝে পারস্পরিক সমঝোতার ব্যাপার থাকতে হয়, খুব রিজিডলী এটা হবে, ওইটা হবে এভাবে বলা যায় না। কিছু জেনারেল নিয়ম আছে, ব্যতিক্রমও চলে, এভাবেই।

আলোচনা মনে হয় ইভ টিজিং থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, আমি এবার অফ যাই।
১৪ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:২৩

লেখক বলেছেন: নারী পুরুষ দুইজনের জন্যই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলে যোগ্যতা অনুযায়িই পারিবারিক কাজের বন্টনটা স্বাভাবিক নিয়মেই তৈরি হবে। আর ইভটিজিং থেকে দূরে সরে গেলেও সমস্যা নাই। ইভটিজিংএর বর্তমান মহামারি রুপ সমাজের অন্য আরো বহু বিষয়ের সাথেই রিলেটেড। আলোচনা আসতে থাকলে আসতে দেয়া উচিত। তবে, ভিন্ন কোন বিষয় প্রমান বা অপ্রমান নিয়া আপাতত তর্ক না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

২১. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭
সন্যাসী বলেছেন: আমার কাছে মনে হয় নারীর আরো বেশি ক্ষমতায়নই নারীকে ইভটিজিং থেকে অনেকাংশে রক্ষা করতে পারে। একই সাথে নারীকে আরো বেশি সাহসী করে তুলতে হবে।

নারীকে পুরুষের প্রতিদ্বন্ধী ভাবার যে কারণটা বললেন আমার কাছে তা গুরু্ত্বপূর্ন বলে মনে হচ্ছে না।
১৪ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:৩১

লেখক বলেছেন: হু। কিন্তু ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়াটা পশ্চিমের মতো হলে লাভ নাই, ঐটা অনেকক্ষেত্রেই ফাকা।
বাইরে থেকে অনেক কিছুই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না, কারণ মনস্তত্ব নিয়া আমরা ঘাটাঘাটি করি কম। আপনার অনেক রিয়্যাকশনের পেছনে লুকিয়ে থাকা অনেক কারণই আপনার কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, সামনে আসলে। আপনার কি মনে হয়, বাঙালি পুরুষ নিজের স্ত্রীর চাকরিকে সহজে মেনে নিতে চায় না কেনো? এখানে কি শুধু স্ত্রীকে নিয়ে সেক্সুয়াল ইনসিকিউরিটি কাজ করে? "ইগো"র একটা ব্যাপার আছে কিন্তু। স্ত্রীকে সে নিজের প্রতিদ্বন্দী হিসাবে পছন্দ করে না। এখানে শুধু আপনি "অর্থ উপার্যনের প্রতিদ্বন্দী" ভাবলে ভুল করবেন। চাকরি শুধু অর্থের উৎস না, সামাজিক স্ট্যাটাসএরও উৎস। চাকরিজীবী নারী বাঙালি পুরুষের সাথে শুধু অর্থ না এই স্ট্যাটাসএর প্রতিযোগিতায়ও লিপ্ত। খুব সচেতন ভাবে ব্যাপারটা হয়তো অনেকেই উপলোদ্ধি করে না, কিন্তু এর একটা মনস্তাত্বিক প্রভাবও আছে। আর আপনি তো ইভটিজার না, তাই আপনার কাছে এই ধরণের মনমানসিকতা অস্বাভাবিক ঠেকছে।

২২. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৯
মিরাশদার১০ বলেছেন: পোস্ট ভালো লাগছে, তবে এটা মনে হয় নতুন টপিকের স্টার্টিং।

কিছু কমেন্ট ও উত্তর পড়ে ভালো লাগলো।
১৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১:২২

লেখক বলেছেন: ঠিক স্টার্টিং না, প্রথম অর্ধেক বলা যেতে পারে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২৩. ১৪ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১৬
শামীম আরা সনি বলেছেন: হমমম Translation is an intimate act of reading:)
একটা বাছুর মাইনাস দিছে।
১৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১:২৩

লেখক বলেছেন: বাছুর না, মাইনাস দিছে এক ছাগু।

২৪. ১৫ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:০৪
কালীদাস বলেছেন: অনেক টার্মস এসেছে এই পার্টে, তবে পরের পর্বে বাকি আলোচনাটুকু দেখে কমেন্ট করাটাই শ্রেয় মনে করছি! ক্ষমতায়নের সাথে ইভটিজিং-এর রিলেশনটা ভালই শুরু করেছেন, অনেক না বলা কথা উঠে আসবে!

পরের পার্টের অপেক্ষায় রইলাম+++++
১৫ ই আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:০৯

লেখক বলেছেন: হু, এই পর্বের আলোচনাটা পরের পর্বে আরো পরিস্কার হবে। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

২৫. ১৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৪
শামীম আরা সনি বলেছেন: বাছুর বলছি কারন,কোন এক মূর্খ যার মাথায় এইসব বিষয় ঢোকার কথানা সে না বুঝে মাইনাস দিছে।
*বাছুর শব্দটা ব্যবহার করাটা কি আমার স্বতত্রতা হোলোনা?:)
*গায়ত্রী স্পিভাক অনার্সে পাঠ্য ছিল আমার।
১৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:০০

লেখক বলেছেন: ঐটারে আপনে চিনতে পারেন। তার নাম ডান্সটোন। আমারে কোন পোস্ট করতে দেখলেই দৌঁড়াইয়া আইসা মাইনাস দিয়া যায়, কি লিখছি এইটা বিষয় না। আমার অনেক পোস্টে দেখবেন একটা মাত্র মাইনাস, ঐটাও তার দেয়া উপহার। সে অবশ্য এই কাম একা আমার লগেই করে না, অনেকের লগেই করে। বাছুর বলেন বা ছাগু বলেন, ঐ মিয়া আসলেই একটা জিনিস।

গায়ত্রী স্পিভাক পাঠ্য ছিল আপনের? ভালো তো। আমার ধারণা ছিল বাংলাদেশে এখনো তিনি একাডেমিক দুনিয়ায় পাঠ্য হন নাই। আপনে কোন সাবজেক্টে পড়ছেন? কোথায়?

২৬. ১৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:০৮
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: খুবই কামের একটা পোষ্ট। প্রিয়তে গেল আর গেল পঠনে।
১৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১৮

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শরৎ ভাই।

২৭. ১৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:২৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: বুকমার্কড । এবং শুকরিয়া
১৬ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৮. ১৫ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৩৪
শামীম আরা সনি বলেছেন: আমি ঐ ব্লগারকে চিনিনা।:(
আমার এই পোষ্টটা দেখতে পারেন
Click This Link
২৯. ১৬ ই আগস্ট, ২০১০ ভোর ৪:৩৩
আমি উঠে এসেছি সৎকারবিহীন বলেছেন: আরো কয়বার পড়তে হবে...পারভেজ ভাই, জানি খুবই কম। আলোচনায় অংশ নেয়ার ক্যাপাবিলিটি নেই একেবারেই। আমার পক্ষ থেকে নাজনীন১-কে ধন্যবাদ দেয়া যেতে পারে খানিক। উনার পারস্পেক্টিভ আর ভিউপয়েন্টগুলো অন্যমাত্রা যোগ করেছে মনে হয়।

৪ নং পর্বটা পড়ি...
১৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: আরে কি যে বলেন, আলোচনা করতে পারে সবাই। প্রত্যেকের নিজস্ব মতামতগুলোতো খুবি জরুরি। নাজনিন কে অবশ্যই ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

১৭ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৪

লেখক বলেছেন: জবাব দিছি।

৩১. ২৩ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:১৬
আর্চিবল্ড বলেছেন: ভালো আলোচনা, খুবই গোছানো আলোচনা, পাওয়ার ওভার পাওয়ার উইথ ইত্যাদি বিষয় গুলি সম্পর্কে কি কিছু বলতে পারেন? কিভাবে নারী পাওয়ার ওভার অর্জন করবে? করলে সেটা কি প্যাট্রিয়ার্কির মত করেই? মনে হয় আমি একাধিক থিওরি মিলিয়ে ফেলছি - বিষয়গুলি খুব কমপ্লিকেটেড লাগে।
২৩ শে অক্টোবর, ২০১০ রাত ১০:১১

লেখক বলেছেন: এবিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব এমন মনে করি না। আদীম যুগে ধর্মিয় চেতনা বা বিশ্ব সম্বন্ধে ধারণা থেকে প্রিস্টেস নির্ভর ধর্ম বা মাতৃতান্ত্রিক দুনিয়ায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টা সেই সমাজ বাস্তবতার সাথে সাযূজ্যপূর্ণ ছিল। বর্তমান দুনিয়ায় আমরা যেই ধরোনের সভ্যতা ধারণ করি তাতে সবদিক থেকে পুরুষদের সমান সুযোগ সুবিধা পেলে একজন নারীও পুরুষের সমান ক্ষমতা অর্জন করতে পারবে বলেই মনে করি। ভবিষ্যত দুনিয়া জেন্ডার পাওয়ার বলতে কিছু নাও থাকতে পারে।

৩২. ২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১০:৫৬
দু-পেয়ে গাধ বলেছেন: ভাল হইছে। তবে প্রত্যেক পর্বের সাথে আগের আর পরের পর্বের লিঙ্ক দিয়া দিলে ভাল হয়।
২২ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:১৯

লেখক বলেছেন: হুম। তা ঠিক। দেখি, একদিন বসে বসে আমার সব পর্ব লেখা গুলার লিংক ধারাবাহিক করে দেবো।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১৬৬৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
এককোষী জীবটা আবির্ভুত হওয়ার পর চিন্তা করলো "Cogito ergo sum"
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই