somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধের ময়দানে গ্রেনেড বক্স, থালা, চামুচ দিয়ে গান গাইতাম : আজম খান

১২ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের মাটি আর প্রাণের মানুষদের কাছে নিজেকে উজার করে দিয়েছেন যিনি, তার নাম আজম খান। হঠাৎ করেই একদিন চলে গেলাম আজম ভাইয়ের ভাষায়। কমলাপুরের বাসার সিড়িতে আজম ভাই দাড়িয়ে। ঘরের ভেতরে ঢুকতেই আজম ভাই বিছানায় ডেকে বসালেন। বললেন বস, শরীরটা ভালো না, শুয়ে শুয়ে গল্প বলি শোন,,,,,এরপর আজম ভাইয়ের সাথে কিছুক্ষন কথা..তারপর স্মৃতি। মুক্তিযোদ্ধা আজম খান শুরু করলেন....গান আর অস্ত্র নিয়ে তার যুদ্ধের কিছু কথা,,,,,,,

একাত্তরে যখন যুদ্ধ শুরু হলে তখনতো আমাদের ছাত্রজীবন। আমরা বন্ধুরা সবাই তরুন। মেলেটারীদের জন্য তথন বাসায় থাকা যাচ্ছিল না। সব বন্ধুরা মিলে চিন্তা করলাম, মরব যখন তাহলে যুদ্ধ করেই মরি। আমি আর আমার দুই বন্ধু কচি আর শফি সকালের দিকে আম্মাকে বললাম যুদ্ধ যাব। আম্মা আব্বার অনুমতি নিতে বললেন। ভয় পেয়েছিলাম আব্বা মনে হয় এখনই চড় মারবেন। কিন্তু না আব্বা বললেন, যুদ্ধে যাবি ভালো কথা যা, কিন্তু দেশ স্বাধীন না করে ঘরে ফিরবি না। আব্বাকে সালাম করে বের হলাম দেশ স্বাধীন করতে।এরপর হাটতে হাটতে নরসিংদী, নবীনগরের উপর দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে সেই আগরতলায়। এরপর মেলাগর ক্যাম্পে গেলাম। ওখান থেকে ট্রেনিং নেই।টেনিং নেওয়ার পর সাহস বাড়ানোর জন্য আমাদের কুমিল্লা সালদা ফ্রন্টে পাঠানো হলো। আমরা গ্রামবাসীর সাথে মিশে থাকতাম। গ্রামবাসীরাও আমাদের অনেক সাহায্য করেছে। আমি সেক্টর দুইতে ছিলাম। খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে।তখনও আমি মেলাগর ক্যাম্পে ছিলাম। অনেকগুলো অপারেশন করেছি। একটি অপারেশনের কথা খুব মনে পড়ে।পাকিস্তানী আর্মিরা তো যুদ্ধ করতে করতে তাদের রেশন, আর্মস এগুলো ফুরিয়ে আসছিল। তখন আমাদের অফিসাররা বললেন. লক্ষ্য রাখবেন তাদের নতুন রেশন আসার সময় এসেছে। যদি কোন নৌকা দেখেন আমাকে ডাকবেন। তখন আমি সালদা নদীর দিয়ে ব্রিজের তল দিয়ে আসছিলাম। একটি পুরান বাড়ি ছিল সামনে। সেসময় কয়েকটে নৌকা আসছিল । প্রায় ১২ থেকে ১৩টা নৌকা। ওস্তাদ বললেন, আপনারা আগে ফায়ার করবেন না। আমি ফায়ার করলে তারপর আপনারা ফায়ার করবেন। শুরু হলো ফায়ার । নৌকাগুলো টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। পরে আমরা খবর পেলাম যে ওই অপারেশনে প্রায় ৮১ জন আর্মি মারা গেছে। ওস্তাদ বললেন :এবার পাল্টা আক্রমন আসবে। এরপর পাকিস্তানীরাও পরে বৃষ্টির মতো গুলি শুরু করে। আমরাতো তখন মাটির বাড়িতে লুকিয়ে ছিলাম। খালের কিনার দিয়ে সড়ে যাই। ঘটনাটি মনে পড়লে এখনও আমার গায়ে শিউরে দিয়ে উঠে। মনে হয়, কেয়ামতের ময়দানে ছিলাম। মনে হয় জানটা হাতের তালুতে ছিল। বিজয় দিবসের দিন আমি লক্ষা নদী আর বালু নদীর কিনারে ছিলাম। খবর পেলাম দেশ স্বাধীন হয়েছে। সন্ধ্যার পর ঢাকায় ঢুকি। আমরা বিজয় পেলাম। এখন ছেলে মেয়েরা দিন বদলের চেষ্টা করছে। আশা করি একটি সোনার বাংলাদেশ হবে। নিশ্চয়ই আমিও একটা স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশ দেখব।

এর আগে আইয়ুব গানের বিপক্ষে গনসঙ্গীত গাইতাম। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী থেকে। আমরা অনেকেই তখন গনসঙ্গীত গাইতাম। এরপরতো শুরু হলো যুদ্ধ।যুদ্ধের ময়াদানে যখনই সময় পেতাম গান বাজনা করতাম। থালা, গ্রেনেড বক্স, চামুচ দিয়ে গান গাইতাম। অন্যান্য ব্যারাকের ছেলেরাতো আসতোই ওস্তাদরা পর্যন্ত চলে আসতো। অনেকেই বলতো কিরে তুই এখন গান গাচ্ছিন কেন : আমি ওদেরকে বললাম : গান গাইলেও মরবি না গাইলেও মরবি । মরব যখন গান গাইয়াই মরি। প্রতিদিন দুই ঘন্টা তিন ঘন্টা আসর বসত। মানুষ গান শুনে কান্না করতো। (স্মৃতিচারন)

সুদীপ দে। [email protected]
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×