somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... ‘সাংবাদিকতা-অপসাংবাদিকতা’র সূত্র ধরে মেহেরুল হাসান সুজন

বগুড়া অঞ্চলে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে- ‘তাওয়া (কড়াই) গরম থাকতে থাকতে রুটি ভেজে নিতে হয়’। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রবাদটি বেশ সত্যই বটে। কোনো ইস্যু টাটকা থাকতে থাকতেই সে বিষয়ে কথা বলা জরুরি। তাওয়া ঠা-া হয়ে গেলে আটার খামির যতই নরম করি না কেন তা আর রুটি বানানোর অবস্থায় থাকবে না। সাংবাদিকতা-অপসাংবাদিকতা নিয়ে গত কয়েকদিনে সোনার দেশে প্রতিবেদন-উপসম্পাদকীয়তে বেশ আলোচনা চলছে। এই আলাপ তোলাটা বেশ জরুরি হয়ে পড়েছিলো। তাই শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক আনু মোস্তফা ও রাশেদ রিপনকে বিন¤্র অভিনন্দন। আলোচনার সূত্রপাত করার কারণে তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাবার যোগ্য। তাদের আলোচনার রেশ ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কিছু বলার দুঃসাহস দেখানোর জন্য শুরুতেই তাদের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নিচ্ছি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার পাট চুকিয়ে অতি সম্প্রতি রাজশাহী মহানগরে সাংবাদিকতা চর্চা শুরু করেছি। তাই নগর সাংবাদিকতা নিয়ে বলার মতো বয়স এখনো আমার হয় নি বলেই বোধ করছি। আমার আলোচনার ক্ষেত্র তাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই রাখবো। বিষয় কিন্তু একই থাকবে। সাংবাদিকতা-অপসাংবাদিকতা কিংবা সাংবাদিক-সাংঘাতিক। পাশাপাশি মতিহারের সবুজ চত্বরে সাংবাদিকতার অস্তিত্বের যে নড়বড়ে দশা তাতেও খানিকটা আঁচ পড়তে পারে এই লেখায়।

সাংবাদিকতা করার মানসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দামি’ বিভাগ বলে পরিচিত বেশ কয়েকটি বিভাগে ভর্তির সুযোগ এড়িয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়েছিলাম। সাংবাদিকতা চর্চার শুরু সেই প্রথম বর্ষ থেকেই। মাসখানেক হলো অ্যাকাডেমিক পাঠ শেষ হয়েছে। এই সাত বছরে সাংবাদিকতা চর্চা করতে গিয়ে রাজশাহীর সাংবাদিকতার স্বরূপ কিছুটা দেখেছি অল্প জ্ঞানে সমৃদ্ধ চোখে। অপসাংবাদিকতার যে বিষয়গুলো অগ্রজ রাশেদ রিপন ও আনু মোস্তফা তুলে ধরেছেন তার সঙ্গে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার চালচিত্রটার বেশ মিল পেয়েছি বলেই আজ এই লেখার জন্ম দিতে উৎসুক হয়েছি।

আমার বেশ ভালোই মনে আছে ২০০৫ সালের মার্চ মাসে যখন সাংবাদিকতা শুরু করি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাত্র কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতায় জড়িত ছিলেন। তাদের সংখ্যা তখন বড়জোর ১০ জন হবে। ভাবতে বেশ ভালোই লাগে এখন সেই সংখ্যা ৪০ এর কোঠায়। ক্যাম্পাসে এখন সাংবাদিকের সংখ্যা কিন্তু এর দ্বিগুণ। তাহলে বাকিরা কারা? কলা অনুষদ আর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা সাংবাদিক ছিলেন অনেক আগে থেকেই। এখন বিজ্ঞানের বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীরাও এই চর্চায় যুক্ত হয়েছেন। একে আমি কখনোই নেতিবাচক হিসেবে দেখি নি। কিন্তু নেতিবাচকতা ঘটে গেছে এর ভেতরেই। আবার ওই যে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা চর্চার সংখ্যা বললাম, ওই সংখ্যার ভেতরেও কিন্তু নেতিবাচকতা রয়েছে। হয়তো এবার ছোট মুখে বড় কথাটা লিখেই ফেলবো-সবমিলিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন নেতিবাচক সাংবাদিকতার পাল্লাই ভারি।

কথাটি একেবারেই আমার নিজস্ব মতামত। কোনো পরিসংখ্যান বা গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য নয়। শুধু নিজে এই মতিহারে সাংবাদিকতায় জড়িত থাকার অভিজ্ঞতা থেকে যেটুকু পর্যবেক্ষণ করেছি তা-ই এই লেখায় তুলে ধরছি। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতায় এই নেতিবাচকতার জের বা সূত্র কোথা থেকে? সেটি মোটামুটি গবেষণার বিষয় হতে পারে। শুধু মোটাদাগে বলতে পারি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকদের সংগঠন তৈরির ঝোঁক আর বিভক্তি থেকেই এই নেতিবাচক সাংবাদিকতার সূত্রপাত। তবে আজ সেদিকে যাবার ইচ্ছে নেই। নেতিবাচক সাংবাদিকতার অন্য দিকে একটু নজর দেবার ইচ্ছেটাই আজ বেশি। কারণ, রাশেদ রিপনের প্রতিবেদন এবং আনু মোস্তফার উপসম্পাদকীয় আমাকে সেদিকেই টেনেছে। এখন প্রসঙ্গে আসি। এই যে প্রায় ৮০ জন সাংবাদিক এই ক্যাম্পাসে, এরা কোন গণমাধ্যমে কাজ করেন? বাংলাদেশের জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর যেগুলো বেশ প্রচলিত তেমন সংবাদপত্রের সংখ্যা ৮০ হবে বলে তো মনে হয় না। তাহলে এরা কোথাকার পরিচয় দিয়ে বেড়ান? অনেকের তো বেশ শক্তপোক্ত পরিচয়পত্রও রয়েছে। বাস্তবতা হলো এই ৮০ জনের বেশিরভাগই অনলাইন সাংবাদিকতায় যুক্ত বলে জানি আমরা। তারা বিভিন্ন অনলাইন সংবাদপত্রের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। এদের সংখ্যা এতোটাই বেড়ে গেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুষ্ঠানে গেলে অনলাইন সাংবাদিকদের পরিচয় দেয়ার বহরে আমরা কাগজে কাজ করি তারা বেশ আতঙ্কেই থাকি। অনলাইন সাংবাদিকতা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই। দেশের সাংবাদিকতায় গতি আনতে এই সাংবাদিকতা বেশ জরুরিই ছিলো। কিন্তু এসব অনলাইনের ঠিকানা নিয়ে ইন্টারনেটে ক্লিকের পর ক্লিক করে যদি বারবার ‘ব্রাউজার ক্যান নট ফাইন্ড দ্য সার্ভার’ লেখাটাই চলে আসে, তাহলে আর কী বলার আছে! কিংবা যদি সাইটে ঢুকে দেখা যায় আমার সহকর্মীটির অনলাইন সংবাদপত্রটি সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে বছর দেড়েক আগে বা এখনো ‘আন্ডার কন্সট্রাকশন’ লেখা দেখা যায়-তবে আর কী বলবো! বাস্তবতা হলো এ ধরনের সাংবাদিকে ভরে গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার এই শেষ বয়সে শিক্ষকদের কাছ থেকে আমাদের শুনতে হয়- ‘তোমাদের পেছনে দুদিন ঘুরলেই তো এখন একটা সাংবাদিকতার কার্ড পাওয়া যায়। আমাকেও দিও একটা।’ শিক্ষক আমার হাসতে হাসতে কথাটুকু বললেও এটি হজম করতে কতখানি কষ্ট হয় তা আমার অন্তরই জানে। তবে ঘটনা কিন্তু সত্য। আমার শিক্ষক কিন্তু একটুও বাড়িয়ে বলেন নি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো সাংবাদিকরা এতোটাই উৎপাদনক্ষম যে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সংখ্যা দ্বিগুণ করে ফেলেছি।

আমাদের উৎপাদিত সাংবাদিকের সংখ্যা এতোটাই বেশি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সংবাদ সম্মেলনে এখন আয়োজকরা বেশ বিব্রত হয়ে পড়েন। খুব সম্প্রতি একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় করি। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংগঠন সাংবাদিকদের নিয়ে কর্মশালার আয়োজন করে। প্রথমে তারা সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে বেশ সংশয়ে পড়েছিলেন। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তারা। আমি বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেও কর্মশালায় যোগ দেয়ার মতো তেমন সাংবাদিক পাচ্ছিলাম না। কিন্তু অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবার পরই টের পেলাম এবার আমি নই, আয়োজকরাই বিব্রত হয়ে পড়বেন। জানি না তারা শেষ পর্যন্ত বিব্রত হয়েছিলেন কি না, কিন্তু আমি শেষতক চরম বিড়ম্বনায় পড়ে গেলাম। কারণ, একেকজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি এমন সব অনলাইন সংবাদপত্রের পরিচয় দিচ্ছেন তাতে আমি লজ্জায় পড়ে গেলাম।

এ তো গেলো একটা দিক। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঘটনার খবর যোগাড় করতে গিয়েও এমন বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় আমাদের। সেদিন একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘ভাই, আপনার হলে তো দেখি সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক।’ এই বিবরণও সত্য। মোটামুটি ১৪ জন সাংবাদিক থাকেন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলেই। রাজনৈতিক সরকারের আমলে আমরা আগে হলে থাকাকে নিরাপদ মনে করতাম না। আর এখন প্রথম বর্ষ-দ্বিতীয় বর্ষে পড়া সাংবাদিকরা প্রায় সবাই হলে থাকেন। হলে তাদের দাপট নিয়েও শোনা যায় বেশ চটকদার গল্পও। আমি বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্র হলেও ডাইনিংয়ে খুব একটা নিয়মিত না। দু-চারজন কর্মচারী ছাড়া অন্যরা তেমন চেনেও না আমাকে। অনেক দিন পর সেদিন ডাইনিংয়ে খেতে গেলাম। পানি দিতে এসে একজন কর্মচারী একজন সাংবাদিকের নাম করে জানতে চাইলেন, ‘ভাই উনি খুব বড় সম্বাদিক না?’ আমি হেসে কারণটা জানতে চাইলাম। বললেন, ‘না কয়েকদিন আগে ডাইনিংয়ে ওনাকে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় আমাদের একজনকে যা তা বুলে গালি দিয়েছে।’ আমি কিছু বলতে পারলাম না। কারণ, সম্ভবত যে সাংবাদিকের কথা বলা হচ্ছিলো তিনি প্রথম বষ (পুরাতন) বা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হবেন। তার ব্যাপারে হলের একজন কর্মচারীর এমন অভিযোগ আমাকে ব্যথিত করলো। বাস্তবতা হচ্ছে, সাংবাদিকতার জোরে হলে হলে এখন সাংবাদিকদের নামে এমন ক্ষমতাচর্চাকারীও ঢুকে পড়ছে। এর পরিণতি খুব একটা ভালো হবে বলে মনে হয় না।

কিছুদিন আগে সতীর্থ সাংবাদিক আনিসুজ্জামান উজ্জল তার ব্লগে লিখেছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন নতুন এক ধারার সাংবাদিকতার চল শুরু হয়েছে। সেটি হলো ‘সিসি’ (ই-মেইলে একই ফাইলের কপি একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠানো) সাংবাদিকতা। এই সিসি সাংবাদিকতা এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। দু-চারজন এখন নিউজ লেখেন। এরপর তা সিসির মাধ্যমে কপির পর কপি চলে যায় অন্যের কাছে। সেগুলোতে ওপরে খানিক বদল করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন অন্যরা। এভাবেই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ সাংবাদিকের সাংবাদিকতা। আশ্চর্যের একটি ঘটনা গত জানুয়ারির দিকে ঘটেছে। আলোচিত ফেলানী সীমান্ত হত্যা নিয়ে সোনার দেশে আমার একটি উপসম্পাদকীয় ছাপা হয় সে সময়। এর কয়েকদিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাংবাদিক ওই লেখাটির শিরোনাম ও প্রথম প্যারা বদল করে বাকিটা হুবহু রেখে সোনার দেশেই পাঠিয়ে দেন উপসম্পাদকীয় হিসেবে। কত অযোগ্য সংবাদকর্মী এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় ঢুকে পড়েছে তা এই উদাহরণেই স্পষ্ট হয়। ওসব প্রমাণপত্র আমার কাছে সংরক্ষণ করা আছে। কেউ প্রয়োজন মনে করলে মিলিয়ে নিতে পারবেন সে আশায় লেখা দুটো রেখে দিয়েছি যতœ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতা নিয়ে লিখতে গেলে অনেক প্রসঙ্গই আসে। কিন্তু পাঠকের ধৈর্য আর কাগজের কলেবরের দিকেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। তবুও সবকিছু ছাপিয়ে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ। একসময় ক্যাম্পাসে দেখেছি কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতা বা ক্যাডার মোবাইল ফোনেও যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিককের হুমকি বা গালাগালি দিতো, তাহলে পরদিন অন্তত মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল করে প্রতিবাদ জানাতাম আমরা। আর এখন দিনের আলোয় আমাদের দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ও মুখে অশ্রাব্য ‘গোষ্ঠীউদ্ধার করা’ বাক্য নিয়ে কেউ তেড়ে আসলেও আমরা ‘না ঠিক আছে, কোনো ব্যাপার না’ বলে মৌন থাকি। খুব অবাক শোনালো যখন জানলাম, কয়েকদিন আগে একটি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাংবাদিকের জামার কলার ধরে কয়েক ইঞ্চি শূন্যে তুলে হুমকি দিয়েছে ছাত্রসংগঠনের কয়েকজন ক্যাডার। রাতের সে ঘটনা ওই সাংবাদিক বেমালুম চেপে গেছে। জানি না কী কারণে তার এমন মৌনতা অথবা ‘কিল খেয়ে কিল হজম করা’র সংস্কৃতি। তবে ঘটনাগুলো সামগ্রিক অর্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার জন্য অশনিসংকেতের বার্তাই দেয়। টান পড়ে অস্তিত রক্ষার সংগ্রামেও।

আসলে রাজশাহী মহানগরীর সাংবাদিকতার যে নেতিবাচক দশা তার সঙ্গে অনেকাংশেই এখন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকতার চিত্র সমান হয়ে গেছে। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে চাঁদাবাজির রমরমা সংস্কৃতি যে চালু হবে না-তা বলা থেকে বিরত থাকবই বা কী করে! ‘কিল খেয়ে কিল হজম করা’র সংস্কৃতি যখন প্রতিবাদী মতিহারের সাংবাদিকদের অন্তরে ঢুকে পড়েছে তখন আগামীতে এর চেয়ে ভালো পরিস্থতি আশা করাও যে দুষ্কর। বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিকদের সংবাদ তৈরির বিষয়বস্তু এমন অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেছে যে, আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের জনসংযোগ দফতরটি বিলুপ্ত ঘোষণা করবে। কারণ, তাদের যুক্তি হবে-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরাই তো দফতরটির ভূমিকা পালন করছে, এখন আর টাকা খরচ করে আলাদা দফতর রাখার দরকার কী!

সোনার দেশ
০২ নভেম্বর ২০১১
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29476653 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29476653 2011-11-02 01:32:12
বন্ধুর সঙ্গে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের বিয়ে !!!
সোনার দেশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29476649 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29476649 2011-11-02 01:28:27
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতে শুরু করেছে, জেনে নিন
সোনার দেশ-এ ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29472592 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29472592 2011-10-26 02:18:16
হাজীসাহেবদের স্মৃতির চাষাবাদ : আমার এমসিজে-১৪ বন্ধুদের জন্য (১)
কেন এসেছিলাম ব্লগে? প্রথম বরষে এসে সাংবাদিকতা করতে শুরু করে এসে গত সাত বছরে বন্ধু বেশি হয় নি। আমার ক্যাম্পাসকালীন বন্ধু একসময় ছিলো এই ব্লগিং। শেষ বরষের শুরু থেকে আমরা বন্ধু হলাম। আমি হাজী সাহেব, লিডার, কার্টুন, গেদা, ল্যাংড়া, ভাঙ্গা, টম, জেরি মাঝে মাঝে তানিয়া. অ্যানি ও সিফাত, আর একেবারে শেষে যোগ হলো অমি। অবশ্য রুনাও ছিলো রাব্বানীর জন্য!

আমার নিজের আমিকে চিনেছি সাংবাদিকতা করে নয়, আমার এই বন্ধুদের সঙ্গে মিশে। গনির আর আমার পরিকল্পনা হয়তো আকাশ কুসুম। কখনো মিডিয়া হাউস, কখনো এনজিও আবার কখনো বিজনেস। কতরাত ছোট্ট একটি বেডে আমি, গনি আর পলাশ গায়ে গায়ে লাগিয়ে মুভি দেখেছি। বাংলা আর্ট ফিল্ম আর বিখ্যাত সব ছবি। কাজলার আকাশ ভিলা, আমার আবু গারিব কারাগার, সোহেলের এমএস ছাত্রাবাস আর দীপার বাড়ি। দীপার বাড়ির কথা মনে আছে বন্ধুরা? সেই কোন একদিন রোজার একদিন আগে আমরা শেষ পিকনিক করলাম। সবাই ছিলাম। এরপর আর আমাদের নিজস্ব পিকনিকটা হয় নি। যা হয়েছে তা ডিপার্টমেন্টের পিকনিক। সেই পিকনিকগুলোতের আমরা ছিলাম সবার আগে। শেষ পিকনিকের কান্নার শব্দ আজো আমার কানে বাজে। হয়তো যমুনার পাড়ে গিয়েছিলাম বলে এমন কান্না এসেছিলো সেদিন চোখে।

শেষ পিকনিকে কাজী মামুন স্যারের গান-প্রানো পাখি উড়ে যাবে পিঞ্জরও ছেড়ে...ধরাধামে সবি রবে তুমি যাবে চলে... গানটির মাধ্যমেই আমাদের ক্যাম্পাস লাইফ শেষ হয়ে গেলো। বিভাগ নামের এই পিঞ্জর ছেড়ে আমরা উড়ে গেছি বন্ধু, ভাবতে পারো? জানো, আজ সোমবার বিভাগের ফুটবল খেলা। সোহেলকে আজ মাঠে পাওয়া যাবে না। আজ মাঠে থাকবে মিঠ-মামুনরা। তোমাদের মতো রাজধানীর মায়ার প্রতি অবজ্ঞা করার দুঃসাহস করে এই মতিহারে পড়ে থাকার কারণে আমি আজ মাঠে আমাদের খেলা দেখতে পাবো। হয়তো আগের মতো আমার ‘নিজস্ব নৃত্য’টি দেখাতে পারবো না। কারণ গনি-রাব্বানী-সোহেল-টম-জেরি-গ্যাদা-কার্টুন-অ্যানি না থাকলে হবেই না।

আজ আর নয় বন্ধুরা। আমি তো ফেইসবুকের স্ট্যাটাসে বলে দিয়েছি আমি হাজী সাহেবদের স্মৃতির চাষাবাদ করবো এই মতিহারেই বসে। হাজী সাহেবদের স্মৃতির চাষাবাদ মানে আমার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগযোগ ও সাংবাদিকতা (১৪ শ ব্যাচ, ২০০৪-২০০৫) বিভাগের সব বন্ধু।


তোমাদের পীর সাহেব

আবার আসবে
রাজশাহী, ১৬ অক্টোবর ২০১১
সোমবার]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29466991 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29466991 2011-10-16 01:35:41
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের কাণ্ড!!!
এখানে ক্লিক করুন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29466337 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29466337 2011-10-15 03:07:38
এই বাবা কেন দড়িতে বেঁধেছেন তার ছেলেকে?
পড়ুন এখানে

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29459153 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29459153 2011-10-03 02:15:35
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার রুটিন
Click Here ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29438954 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29438954 2011-08-26 17:20:40
মিনুর মাথাব্যাথা এখন রিজভী
বিস্তারিত পড়ুন নিচের লিংকে-

েসানার েদশ, রাজশাহী অেঞ্চলের কাগজ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29436428 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29436428 2011-08-22 03:43:11
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জুতা চালাচালি খেলা!!! লজ্জায় ডুবি স্যার লজ্জায়!!!

বিস্তারিত পড়ুন এখানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29421132 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29421132 2011-07-27 22:54:55
রাজশাহীতে তেলাপোকার তেলে মচমচে খাবার খাই!!! রাজশাহীতে তেলাপোকার তেলে মচমচে খাবার খাই!!

বিস্তারিত এখানে
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29417176 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29417176 2011-07-21 15:21:41
দারোগার বাড়িতে সাইকেল চোর!!!
বিস্তারিত পড়ুন এখানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29415629 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29415629 2011-07-19 01:17:56
সাংবাদিকদের পিটিয়ে গাছে ঝোলানোর হুমকি রাজশাহী পুলিশের
প্রথম ক্লিক


দ্বিতীয় ক্লিক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29413041 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29413041 2011-07-14 21:23:52
রাবি প্রক্টরিয়াল বডির কাণ্ড
বিস্তারিত এখানে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29412587 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29412587 2011-07-14 02:46:05
রাজশাহী কলেজে ফের ছাত্রী বিক্ষোভ এদিকে রাতের ঘটনায় পুলিশ মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন বাবলুসহ ২ জনকে আটক করেছে। রাতেই শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ ৬০ জন ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

বিস্তারিত পড়ুন নিচের লিংকে
সোনার দেশ ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29405266 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29405266 2011-07-01 01:57:44
রাজশাহী অঞ্চলকে জানতে পড়ুন সোনার দেশ সোনার দেশ ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29404107 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29404107 2011-06-29 00:57:58 কেমনে তোমায় ভুলবো বাবা কেমন জানি মনটা বলে তোমার যাওয়া সত্য নয়।

তোমার আদর-ভালোবাসা এবং মায়ার দানগুলি
মনের জমিন জুড়ে আমার খেলছে কেবল ডাংগুলি।

ডাংগুলিটার আঘাত পেয়ে বুকটা ভেঙে খানখান
তাইতো বাবা দেখতে তোমায় এ মন করে আনচান।

শুনিনা আর কণ্ঠে তোমার আদর ভরা মধুর ডাক
কেমন যেনো থমকে গেছে আমার জীবন নদীর বাঁক।

সাইকেলটার বেল শুনি যেই পড়ার টেবিল ছেড়ে
বাজার করা সওদাপাতি নিতাম দুহাত বেড়ে।

এখন বাবা কান পেতে রই বেলটি শোনার আশায়
সাইকেল আছে বেলও বাজে ফেরোনা আর বাসায়।

আমায় ছেড়ে কেমন করে একলা তুমি থাকো
একবারও কি হয়না মনে মানিক বলে ডাকো?

আমায় তুমি বকতে বাবা লিখলে আমি ছড়া
'ওদিক যে সব রইলো পড়ে তোমার যত পড়া!'

তবুও তুমি ছাপলে ছড়া নামটি আমার দেখে
গর্ব হাসি হাসতে বাবা আদর-সোহাগ মেখে।

কেমনে তোমায় ভুলবো বাবা তাই কি ভোলা যায়?
তুমিই আমায় উঠিয়ে দিলে জীবন চলার নায়।

আজ ২২ ফেব্রুয়ারি আমার বাবার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। বাবার জন্য দোয়া করছি, দোয়া চাইছি।

পুনঃপ্রকাশ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29331713 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29331713 2011-02-21 23:57:42
একজন ফেলানী, আমাদের সীমান্ত এবং মানুষের মানবিকতা খবরের কাগজে কাজ করার আগে মানুষের দুর্বিষহ জীবনের খবর পড়ে আহা, ইস্, আহারে ইত্যকার নানা শব্দ আওড়াতাম। খবরের কাগজের কর্মী হিসেবে নাম লেখানোর পর ধীরে ধীরে যেনো সেই আফসোসমাখা শব্দগুলো পেটের ভেতরেই আটকে ছিলো। মনে হতো, সব সময় তো এমনই হয়। এ আর নতুন কী। কিন্তু গত শুক্রবার রাতে ফেলানীর সংবাদটি যখন কাগজে ছাপার উপযোগী করে গড়বার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তখন থেকেই কেনো যেনো বুকের ভেতরটা খচখচ করছিলো। একটি মেয়ে পেটের দায়ে বাবার সঙ্গে ভীনদেশে থাকে। তার বিয়ে। পাত্র-পাত্রী দেখার পর্ব হয়েছিলো কি না জানি না। তবে বিয়ের ক্ষণটা ঠিক হয়েছিলো শুক্রবার সন্ধ্যায়। তাই বাবা নুরুল ইসলাম নুরুর সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লুকিয়ে পার হচ্ছিলো ফেলানী। বাবা নুরুর জীবনের বহু সময় কেটেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এপার-ওপার যাতায়াতে। তাই কন্যাদায়গ্রস্থ মানুষটি শুক্রবারেও নিমিষেই পার হয়েছিলেন কাঁটাতারের বেড়াটি। বিয়ের খবরে লাজুক ফেলানীও বাবাকে অনুসরণ করছিলো। বিএসএফ তখনো টের পায়নি বিষয়টি। কিন্তু হায় ফেলানী! তোমার কাপড়টাই যে সব নষ্টের গোড়া! কাঁটাতারে আটকে যায় ওর জামা। বিয়ের কথা পাকাপাকি বটে, কিন্তু কিশোরী ফেলানী যে জগত সংসার নিয়ে অতটা অভিজ্ঞ নয়। তাইতো সেই পিঁপড়ার মতো এক ফোঁটা পানিতে পড়ে সেটিকে সমুদ্র ভেবে আতঙ্কে-চিৎকারে দিগি¦দিক নিজেকে জানান দেয় ফেলানী। চোখে যা-ই হোক কানে নিশ্চয় খাটো ছিলো না বিএসএফ সদস্যরা। ঠিকই বুঝে গেছে। যেনো শিকারও আয়ত্বে। তাই তাদের আর দেরি হয়নি কিশোরীটির ছোট্ট দেহটা বুলেটে ঝাঁঝড়া করে দিতে। এবার ভয়ার্ত কিশোরীটির চিৎকার বিএসএফ’র ভয়ে নয়; যমদূতের ভয়ে। একদিকে বিএসএফ আর তার গুলি অন্যদিকে যমরাজ। ছোট্ট কিশোরীটি আর নড়তে পারে না।
এটুটু পড়ে হয়তো ভাবছেন-আহারে কী বেদনাদায়ক বর্ণনা। কিন্তু একবার ভাবুন তো এপারে আগেই পার হয়ে আসা বাবা নুরুর মনের অবস্থাটি তখন কেমন ছিলো! চোখের সামনে মেয়েরে শরীরের বুলেট। মাত্র ক’হাত দূরে মেয়েটি ঝুলছে এক ঠুনকো বেড়ায়। অথচ বাবার সাধ্য নেই মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করা মেয়েটিকে অন্তত øেহের হাত বুলিয়ে কিছুটা আশ্বস্ত করতে। সেই øেহটুকু করতে গেলেই যে তারও প্রাণ যায়। ওদিকে পরিবারের আরো মানুষ। সংসার। এতসব ভেবে তো আর øেহ নিয়ে এগুতে পারেন না তিনি। ততক্ষণে সীমান্তের কাছাকাছি চলে এসেছে বিএসএফ সদস্যরাও। নুরু হয়তো তখন একটু আড়াল হয়ে যন্ত্রনাকে বুকে অনেক কষ্টে চাপা দিয়ে নীরবে চোখের পানি গড়াচ্ছেন।
ভয়াবহতার এখানেই শেষ নয়। খবরের কাগজগুলোতে খবর এসেছে শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে এই গুলির ঘটনার পর প্রায় আধা ঘন্টা বেঁচেছিলো ফেলানী। কাগজগুলো বলছে, এই সময়টাতে আর্তচিৎকারের সঙ্গে ফেলানীর মুখ দিয়ে বারবার একটি শব্দই বের হচ্ছিলো-‘পানি’, ‘পানি’। হায়রে অভাগী, তোমার জন্য এক ফোঁটা পানি নিয়ে কেউ যেতে পারেনি তোর কাছে। এমনকি তোমার বাবাও। একবার কল্পনা করুন তো, আপনার মেয়ে বা আপনার বোন আধাঘন্টা ধরে মৃত্যুযন্ত্রনায় ছটফট করে পানি চাচ্ছে, আপনি ক’হাত দূরে থেকেও তা দিতে পারছেন না। এর চেয়ে একজন বাবার কষ্টটা আর কত বড় হতে পারে? নুরুল ইসলাম নুরু সেই কষ্টটি হজম করে ফেলেছেন। ফেলেছেন বললে ভুল বলা হবে। ফেলতে বাধ্য হয়েছেন।
এভাবে বর্ণনা দিলে বহুপাতা লিখে ভরিয়ে ফেলা যাবে। তাই সেদিকে না যাওয়াটা মন্দ হবে না। আমি আইন-কানুন খুব একটা বুঝি না। সীমান্তের বিষয়তো আরো বুঝিনা। মানবকিতা যে খুব বেশি বুঝি তাও নয়। কিন্তু ফেলানীর এই মর্মন্তুদ ঘটনা আমার কাছে কিছু জিজ্ঞাসাকে হাজির করিয়ে দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বলা হয়েছে এবং আমরাও ধরে নিচ্ছি নুরু আর ফেলানী অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছিলো। কিন্তু তার শাস্তি কি মৃত্যুদ-? তার শাস্তি কি গুলিবিদ্ধ হয়ে পাখির মতো সাড়ে ৪ঘন্টা ঝুলে থাকা? যদি তা-ই হয় তাহলে সেই আইন আমি মানিনা। আপনাদেরও মানা উচিত বলে মনে করি না। বিএসএফ তো ফেলানীকে তার বাবাসহ অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়া সংক্রান্ত আইনী জটিলতায় আটকিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু এমন অবৈধ কাজ করলেই তাকে গুলি করতে হবে-এমন অধিকার কোন দেশ তার কোন অস্ত্রধারী বাহিনীকে দিয়েছে? অবস্থাদৃষ্টে মেনে নিলাম গুলিটা তারা করেই ফেললেন। কিন্তু গুলি করার পরও যে মেয়েটি আধাঘন্টা বেঁচেছিলো তাকে বাঁচাতে কেনো বিএসএফ এগিয়ে এলো না? সে বাংলাদেশী না ভারতীয় সেটিই কি তাহলে ভারতীয়দের কাছে বড় বিষয়? সে যে একজন মানুষ এই বিষয়টি কি একবারও ভাবা যেতো না? আগেই বলেছি, সীমান্তের কালা-কানুন আমি ভালো বুঝিনা। তাই বলি-ধরেই নিলাম মৃত্যু পথযাত্রী কাউকে পানি দেয়ার কোন বিধান বিএসএফ’র আইনে নেই। সেকারণে এক ফোঁটা পানিও জোটেনি ফেলানীর জিহ্বায়। কিন্তু এরপরও কেনো একটি কিশোরীর লাশ সাড়ে ৪ঘন্টা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হলো? গল্প শুনেছি, আগের যুগে ধনী ব্যক্তিরা হরিণ মেরে তার চামড়া বাড়ির বসার ঘরে টানিয়ে দিতো বীরত্ব জানাতে। তাহলে কি ধরে নেবো এক নিরীহ কিশোরীকে হত্যা করে তার লাশটি ঝুলিয়ে রেখে বিএসএফ সেই বীরত্ব দেখালো? নাকি লাশটি নামানো যাবে কি না এজন্য তাদের উর্ধ্বতন কারো অনুমতি আনতে ঘন্টাচারেক সময় লেগেছে? যদি সেটিও হয় তাহলেও তো জিজ্ঞাসা পিছু ছাড়ে না-গুলি করার অনুমতি অস্ত্রে গুলি ভরার সময়ই মগজে ভরে যায়, আর লাশ নামানোর অনুমতি প্যান্টের গোপন পকেট থেকে বের করতে হয় বিএসএফ’র?
এত জিজ্ঞাসার জবাব দেয়ার সময় বিএসএফ’র নেই। কিন্তু আমাদের কি জানার অধিকার নেই নাকি সেটিও ওই কাঁটাতারেই আটকে আছে? আমাদের দেশে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত নেই। কিন্তু দেশীয় আর বিদেশী অর্থে পরিচালিত অনেক সংগঠনই তো র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ার’কে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড’ বলে ব্যাপক ফিরিস্তি দেন, তদন্তের দাবি করেন। কিন্তু একজন ফেলানী যে বিনা বিচারে বিয়ের স্বপ্ন, নতুন সংসারের স্বপ্ন থেকে চিরতরে হারিয়ে গেলো তাকে নিয়ে তো ওই সংগঠনগুলো গত দুদিনে কিছু বললনা। অবৈধ উপায়ে দেশের আসছিলো বলেই কি তবে এই কিশোরীটির জন্য তাদের মানবাধিকার-মানবতা সব চাপা পড়ে গেলো? আমাদের স্বভাব আজো সেই কুকুরের মতোই থেকে গেলো, যে কুকুর নিজের পাড়ায় ঘেউ ঘেউ করে পাড়াটাকে মাথায় তুলে নাচে। আর অন্য পাড়ায় কামড় খেয়ে লেজ গুটিয়ে মৃদু আওয়াজে কিউ কিউ করে পালিয়ে আসে।
লেখাটাকে ‘কুকুরে’র পর্যায়ে নিয়ে যাবার জন্য হয়তো মনে মনে একটু কই পেলেন। কিন্তু ভাবুন তো একটি কিশোরী বাংলাদেশীকে কুকুরের মতো গুলি করে মারলো আর আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র, শাসনযন্ত্র, রাজনীতিবিদ-সবাই সেদিকে না তাকিয়ে উন্নয়ন কতটুকু হলো-ধ্বংস কতুটুকু হলো সেই পরিমাণ নিয়েই বাটখারা হাতে ব্যস্ত। আমাদেরও সীমান্ত রক্ষী আছে। বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-বিজিবি। সীমান্ত নিয়েই তারা থাকেন। কই তাদের পক্ষ থেকে লাশ ফেরতের আহ্বান সম্বলিত তীব্র প্রতিবাদের একটি পত্র ছাড়া আর তো কিছু নেই। রাগ করবেন না, ছোট মুখে বড় কথা বলে ফেলি। আজ যদি ওটি ফেলানী না হয়ে ধরুন হরিদাসী বা গঙ্গা নামের কোন কিশোরী হতো, আর বিএসএফ’র ভূমিকায় বিজিবি থাকতো-তাহলে দেখতেন এই দুদিনে কতগুলো পতাকা বৈঠক হতো সীমান্তে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও কেঁদে নয়ন ভাসাতো। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোও ফুঁসে উঠতো একজন কিশোরীর এমন মৃত্যু নিয়ে। আর আমরা? ভেতরের পাতায় এক কলামের একটি সংবাদ ছেপে ফেলানীর শেষকৃত্যানুষ্ঠান সেড়ে ফেলেছি।
খবরের কাগজে কয়েকদিন ধরেই খবর আসছে গত বছরে সীমান্ত এলাকায় ৭৪ জন বাংলাদেশীকে গুলি করে মেরেছে বিএসএফ। এবছর সেই মিছিলে প্রথম আর্তনাদ ফেলানীর। বিয়ে বাড়িতে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর ফেলানীর লাশ পৌঁছেছে। কুড়িগ্রামের সেই বাড়িটির দৃশ্য কল্পনা করুন। বেশি সময় নিবেন না কল্পনা করতে। কারণ, ওই কান্নার আওয়াজ বাতাসে মিলিয়ে যাবার আগেই রাজশাহী সীমান্তে দুই যুবকের পরিবারে উঠেছে কান্নার রোল। ফেলানীর মিছিলে ওরাও যে আর্তনাদের স্লোগান তুলেছে গত শনিবার রাতে। জানিনা এই মিছিল আরো কত লম্বা হবে। আরো কত ফেলানীর বিয়ের রক্তরং আলতা হাতে-পায়ে না লেপে ছিটকে পড়বে বুকে। ততদিন লাশ ফিরিয়ে দেয়ার মতো ন্যুনতম মানবিকতা থাকবে তো ওপারের সীমান্ত রক্ষীদের?

মেহেরুল হাসান সুজন
জানার জন্য সংবাদপত্রের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক তার শুরুর সময়টা দিনক্ষণ হিসেবে মনে নেই বটে; তবে ১৯৯৭ সালের শীতের দিনগুলো মনে পড়ে। ক্লাশের ফাইনাল পরীক্ষা শেষে লম্বা ছুটি। তাই সকাল বেলা মিষ্টি রোদে বসে ৭৫ পার করা নানাকে খবরের কাগজ পড়িয়ে শোনানোর একটা দায়িত্ব তাই কাঁধে চাপলো। মনে হয় তখন থেকেই খবরেরকাগজ পড়া শুরু। আর খবরের কাগজ দিয়ে মানুষকে খবর জানানোর ব্যাপ্তিকাল আমার খুব বেশি নয়, ৬ বছর। এই সময়কালে কত ঘটনা জেনেছি, কত ঘটনা পড়েছি, কত ঘটনা জানিয়েছি। কোন কোনটি যে মনে দাগ কাটে নি বা ব্যথিত করেনি তা কিন্তু নয়। তবে ফেলানী বোধহয় একটু বেশিই জ্বালাচ্ছে। নামটা খুবই ছোট। কারো কারো কাছে নামটি ফেলনাও বটে। কিন্তু এই ফেলনা ফেলানীই যেনো বুকের ভেতর আঙুল নাড়িয়ে জানিয়ে দিচ্ছে আমাদের সীমান্ত আর আমাদের মানবিতকার বাস্তবতাকে।
খবরের কাগজে কাজ করার আগে মানুষের দুর্বিষহ জীবনের খবর পড়ে আহা, ইস্, আহারে ইত্যকার নানা শব্দ আওড়াতাম। খবরের কাগজের কর্মী হিসেবে নাম লেখানোর পর ধীরে ধীরে যেনো সেই আফসোসমাখা শব্দগুলো পেটের ভেতরেই আটকে ছিলো। মনে হতো, সব সময় তো এমনই হয়। এ আর নতুন কী। কিন্তু গত শুক্রবার রাতে ফেলানীর সংবাদটি যখন কাগজে ছাপার উপযোগী করে গড়বার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, তখন থেকেই কেনো যেনো বুকের ভেতরটা খচখচ করছিলো। একটি মেয়ে পেটের দায়ে বাবার সঙ্গে ভীনদেশে থাকে। তার বিয়ে। পাত্র-পাত্রী দেখার পর্ব হয়েছিলো কি না জানি না। তবে বিয়ের ক্ষণটা ঠিক হয়েছিলো শুক্রবার সন্ধ্যায়। তাই বাবা নুরুল ইসলাম নুরুর সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লুকিয়ে পার হচ্ছিলো ফেলানী। বাবা নুরুর জীবনের বহু সময় কেটেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এপার-ওপার যাতায়াতে। তাই কন্যাদায়গ্রস্থ মানুষটি শুক্রবারেও নিমিষেই পার হয়েছিলেন কাঁটাতারের বেড়াটি। বিয়ের খবরে লাজুক ফেলানীও বাবাকে অনুসরণ করছিলো। বিএসএফ তখনো টের পায়নি বিষয়টি। কিন্তু হায় ফেলানী! তোমার কাপড়টাই যে সব নষ্টের গোড়া! কাঁটাতারে আটকে যায় ওর জামা। বিয়ের কথা পাকাপাকি বটে, কিন্তু কিশোরী ফেলানী যে জগত সংসার নিয়ে অতটা অভিজ্ঞ নয়। তাইতো সেই পিঁপড়ার মতো এক ফোঁটা পানিতে পড়ে সেটিকে সমুদ্র ভেবে আতঙ্কে-চিৎকারে দিগি¦দিক নিজেকে জানান দেয় ফেলানী। চোখে যা-ই হোক কানে নিশ্চয় খাটো ছিলো না বিএসএফ সদস্যরা। ঠিকই বুঝে গেছে। যেনো শিকারও আয়ত্বে। তাই তাদের আর দেরি হয়নি কিশোরীটির ছোট্ট দেহটা বুলেটে ঝাঁঝড়া করে দিতে। এবার ভয়ার্ত কিশোরীটির চিৎকার বিএসএফ’র ভয়ে নয়; যমদূতের ভয়ে। একদিকে বিএসএফ আর তার গুলি অন্যদিকে যমরাজ। ছোট্ট কিশোরীটি আর নড়তে পারে না।
এটুটু পড়ে হয়তো ভাবছেন-আহারে কী বেদনাদায়ক বর্ণনা। কিন্তু একবার ভাবুন তো এপারে আগেই পার হয়ে আসা বাবা নুরুর মনের অবস্থাটি তখন কেমন ছিলো! চোখের সামনে মেয়েরে শরীরের বুলেট। মাত্র ক’হাত দূরে মেয়েটি ঝুলছে এক ঠুনকো বেড়ায়। অথচ বাবার সাধ্য নেই মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করা মেয়েটিকে অন্তত øেহের হাত বুলিয়ে কিছুটা আশ্বস্ত করতে। সেই øেহটুকু করতে গেলেই যে তারও প্রাণ যায়। ওদিকে পরিবারের আরো মানুষ। সংসার। এতসব ভেবে তো আর øেহ নিয়ে এগুতে পারেন না তিনি। ততক্ষণে সীমান্তের কাছাকাছি চলে এসেছে বিএসএফ সদস্যরাও। নুরু হয়তো তখন একটু আড়াল হয়ে যন্ত্রনাকে বুকে অনেক কষ্টে চাপা দিয়ে নীরবে চোখের পানি গড়াচ্ছেন।
ভয়াবহতার এখানেই শেষ নয়। খবরের কাগজগুলোতে খবর এসেছে শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে এই গুলির ঘটনার পর প্রায় আধা ঘন্টা বেঁচেছিলো ফেলানী। কাগজগুলো বলছে, এই সময়টাতে আর্তচিৎকারের সঙ্গে ফেলানীর মুখ দিয়ে বারবার একটি শব্দই বের হচ্ছিলো-‘পানি’, ‘পানি’। হায়রে অভাগী, তোমার জন্য এক ফোঁটা পানি নিয়ে কেউ যেতে পারেনি তোর কাছে। এমনকি তোমার বাবাও। একবার কল্পনা করুন তো, আপনার মেয়ে বা আপনার বোন আধাঘন্টা ধরে মৃত্যুযন্ত্রনায় ছটফট করে পানি চাচ্ছে, আপনি ক’হাত দূরে থেকেও তা দিতে পারছেন না। এর চেয়ে একজন বাবার কষ্টটা আর কত বড় হতে পারে? নুরুল ইসলাম নুরু সেই কষ্টটি হজম করে ফেলেছেন। ফেলেছেন বললে ভুল বলা হবে। ফেলতে বাধ্য হয়েছেন।
এভাবে বর্ণনা দিলে বহুপাতা লিখে ভরিয়ে ফেলা যাবে। তাই সেদিকে না যাওয়াটা মন্দ হবে না। আমি আইন-কানুন খুব একটা বুঝি না। সীমান্তের বিষয়তো আরো বুঝিনা। মানবকিতা যে খুব বেশি বুঝি তাও নয়। কিন্তু ফেলানীর এই মর্মন্তুদ ঘটনা আমার কাছে কিছু জিজ্ঞাসাকে হাজির করিয়ে দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বলা হয়েছে এবং আমরাও ধরে নিচ্ছি নুরু আর ফেলানী অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছিলো। কিন্তু তার শাস্তি কি মৃত্যুদ-? তার শাস্তি কি গুলিবিদ্ধ হয়ে পাখির মতো সাড়ে ৪ঘন্টা ঝুলে থাকা? যদি তা-ই হয় তাহলে সেই আইন আমি মানিনা। আপনাদেরও মানা উচিত বলে মনে করি না। বিএসএফ তো ফেলানীকে তার বাবাসহ অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেয়া সংক্রান্ত আইনী জটিলতায় আটকিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু এমন অবৈধ কাজ করলেই তাকে গুলি করতে হবে-এমন অধিকার কোন দেশ তার কোন অস্ত্রধারী বাহিনীকে দিয়েছে? অবস্থাদৃষ্টে মেনে নিলাম গুলিটা তারা করেই ফেললেন। কিন্তু গুলি করার পরও যে মেয়েটি আধাঘন্টা বেঁচেছিলো তাকে বাঁচাতে কেনো বিএসএফ এগিয়ে এলো না? সে বাংলাদেশী না ভারতীয় সেটিই কি তাহলে ভারতীয়দের কাছে বড় বিষয়? সে যে একজন মানুষ এই বিষয়টি কি একবারও ভাবা যেতো না? আগেই বলেছি, সীমান্তের কালা-কানুন আমি ভালো বুঝিনা। তাই বলি-ধরেই নিলাম মৃত্যু পথযাত্রী কাউকে পানি দেয়ার কোন বিধান বিএসএফ’র আইনে নেই। সেকারণে এক ফোঁটা পানিও জোটেনি ফেলানীর জিহ্বায়। কিন্তু এরপরও কেনো একটি কিশোরীর লাশ সাড়ে ৪ঘন্টা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হলো? গল্প শুনেছি, আগের যুগে ধনী ব্যক্তিরা হরিণ মেরে তার চামড়া বাড়ির বসার ঘরে টানিয়ে দিতো বীরত্ব জানাতে। তাহলে কি ধরে নেবো এক নিরীহ কিশোরীকে হত্যা করে তার লাশটি ঝুলিয়ে রেখে বিএসএফ সেই বীরত্ব দেখালো? নাকি লাশটি নামানো যাবে কি না এজন্য তাদের উর্ধ্বতন কারো অনুমতি আনতে ঘন্টাচারেক সময় লেগেছে? যদি সেটিও হয় তাহলেও তো জিজ্ঞাসা পিছু ছাড়ে না-গুলি করার অনুমতি অস্ত্রে গুলি ভরার সময়ই মগজে ভরে যায়, আর লাশ নামানোর অনুমতি প্যান্টের গোপন পকেট থেকে বের করতে হয় বিএসএফ’র?
এত জিজ্ঞাসার জবাব দেয়ার সময় বিএসএফ’র নেই। কিন্তু আমাদের কি জানার অধিকার নেই নাকি সেটিও ওই কাঁটাতারেই আটকে আছে? আমাদের দেশে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মতামত নেই। কিন্তু দেশীয় আর বিদেশী অর্থে পরিচালিত অনেক সংগঠনই তো র‌্যাবের ‘ক্রসফায়ার’কে ‘বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড’ বলে ব্যাপক ফিরিস্তি দেন, তদন্তের দাবি করেন। কিন্তু একজন ফেলানী যে বিনা বিচারে বিয়ের স্বপ্ন, নতুন সংসারের স্বপ্ন থেকে চিরতরে হারিয়ে গেলো তাকে নিয়ে তো ওই সংগঠনগুলো গত দুদিনে কিছু বললনা। অবৈধ উপায়ে দেশের আসছিলো বলেই কি তবে এই কিশোরীটির জন্য তাদের মানবাধিকার-মানবতা সব চাপা পড়ে গেলো? আমাদের স্বভাব আজো সেই কুকুরের মতোই থেকে গেলো, যে কুকুর নিজের পাড়ায় ঘেউ ঘেউ করে পাড়াটাকে মাথায় তুলে নাচে। আর অন্য পাড়ায় কামড় খেয়ে লেজ গুটিয়ে মৃদু আওয়াজে কিউ কিউ করে পালিয়ে আসে।
লেখাটাকে ‘কুকুরে’র পর্যায়ে নিয়ে যাবার জন্য হয়তো মনে মনে একটু কই পেলেন। কিন্তু ভাবুন তো একটি কিশোরী বাংলাদেশীকে কুকুরের মতো গুলি করে মারলো আর আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র, শাসনযন্ত্র, রাজনীতিবিদ-সবাই সেদিকে না তাকিয়ে উন্নয়ন কতটুকু হলো-ধ্বংস কতুটুকু হলো সেই পরিমাণ নিয়েই বাটখারা হাতে ব্যস্ত। আমাদেরও সীমান্ত রক্ষী আছে। বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ-বিজিবি। সীমান্ত নিয়েই তারা থাকেন। কই তাদের পক্ষ থেকে লাশ ফেরতের আহ্বান সম্বলিত তীব্র প্রতিবাদের একটি পত্র ছাড়া আর তো কিছু নেই। রাগ করবেন না, ছোট মুখে বড় কথা বলে ফেলি। আজ যদি ওটি ফেলানী না হয়ে ধরুন হরিদাসী বা গঙ্গা নামের কোন কিশোরী হতো, আর বিএসএফ’র ভূমিকায় বিজিবি থাকতো-তাহলে দেখতেন এই দুদিনে কতগুলো পতাকা বৈঠক হতো সীমান্তে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও কেঁদে নয়ন ভাসাতো। ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোও ফুঁসে উঠতো একজন কিশোরীর এমন মৃত্যু নিয়ে। আর আমরা? ভেতরের পাতায় এক কলামের একটি সংবাদ ছেপে ফেলানীর শেষকৃত্যানুষ্ঠান সেড়ে ফেলেছি।
খবরের কাগজে কয়েকদিন ধরেই খবর আসছে গত বছরে সীমান্ত এলাকায় ৭৪ জন বাংলাদেশীকে গুলি করে মেরেছে বিএসএফ। এবছর সেই মিছিলে প্রথম আর্তনাদ ফেলানীর। বিয়ে বাড়িতে মৃত্যুর ৩০ ঘন্টা পর ফেলানীর লাশ পৌঁছেছে। কুড়িগ্রামের সেই বাড়িটির দৃশ্য কল্পনা করুন। বেশি সময় নিবেন না কল্পনা করতে। কারণ, ওই কান্নার আওয়াজ বাতাসে মিলিয়ে যাবার আগেই রাজশাহী সীমান্তে দুই যুবকের পরিবারে উঠেছে কান্নার রোল। ফেলানীর মিছিলে ওরাও যে আর্তনাদের স্লোগান তুলেছে গত শনিবার রাতে। জানিনা এই মিছিল আরো কত লম্বা হবে। আরো কত ফেলানীর বিয়ের রক্তরং আলতা হাতে-পায়ে না লেপে ছিটকে পড়বে বুকে। ততদিন লাশ ফিরিয়ে দেয়ার মতো ন্যুনতম মানবিকতা থাকবে তো ওপারের সীমান্ত রক্ষীদের?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29304729 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29304729 2011-01-10 00:24:22
...ধরা খেতে হয়...
Click This Link

Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29284223 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29284223 2010-12-05 19:12:00
শাশ্বত চিকিৎসার জন্য ভারত যাচ্ছে বৃহস্পতিবার আমাদের স্বপ্ন আজ পূরণের পথে। ২০০৮ সালে যে স্বপ্ন বুকে লালন করে আমরা শাশ্বত সত্যকে বাঁচাতে নেমেছিলাম রাস্তায়। ৩৫ লাখ টাকা ছিলো আমাদের লক্ষ্য। গত ২৬ সেপ্টেম্বর আমরা সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছি। প্রথম ধাপে ১৫ লাখ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ-এই মোট ৩৫ লাখ টাকা আমরা শাশ্বতর জন্য সংগ্রহ করেছি। আর হয়তো সামান্য কিছু টাকাই লাগবে আমাদের। তবে তার আড়েই আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য ভারতের ভেলোরে যাচ্ছে শাশ্বত সত্য। আমাদের স্বপ্ন শুরুতে সামহয়ার ইন ব্লগ ও এর ব্লগাররা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, শাশ্বতর জন্য নেমেছিলেন রাস্তায়। ব্লগ কর্তৃপক্ষ ও সেই বন্ধুপ্রাণ ব্লড়ারদের আন্তরিক ভালবাসা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা কমিটি যে লিখিত তথ্য উপস্থাপন করে সেটি হুবুহু তুলে ধরা হলো। এর মধ্য দিয়ে এই ব্লগে শাশ্বত সত্যর ইতিহাস নিয়ে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে।


শাশ্বত সত্য চিকিৎসা সহায়তা : দ্বিতীয় পর্যায়ের চিকিৎসার জন্য চেক প্রদান
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী শাশ্বত সত্য বাঁচার তীব্র আকুতি জানিয়েছিল সবার কাছে। হাড় ক্ষয়ে যাওয়া সেই দুরারোগ্য অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস রোগে যখন তার জীবন ধীরে ধীরে ক্ষয়ে আসছিল তখন এ বিভাগ থেকে নেওয়া হয় নানা পদক্ষেপ। সেই ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন- দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তার ব্যয়বহুল চিকিৎসার টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়। এগিয়ে আসেন এ বিভাগের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী। পাশে এসে দাঁড়ায় আরো বহু মানুষ। সারা দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে অনেক প্রথিতযশা মানুষের সহায়তায় ধীরে ধীরে সংগৃহীত হতে থাকে শাশ্বত সত্যের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় টাকা। স্বনামধন্য নাট্যব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্র পরিচালক নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, শিমুল ইউসুফ, আসাদুজ্জামান নূর, মামুনূর রশিদ, ইমদাদুল হক মিলন এর মতো সাংস্কৃতিক-সাহিত্যিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এগিয়ে আসেন।

তবে প্রথম দফায় শাশ্বতের চিকিৎসার জন্য প্রায় পনের লাখ টাকা সংগৃহীত হলেও চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায়নি। প্রথম দফায় ২০০৮ সালের শেষের দিকে তাকে ভারতের ভেলরে ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ড. দেবাশীষ দণ্ড-এর তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। ডা. দণ্ড শাশ্বতের পুরো চিকিৎসার জন্য ৩৫ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান। সংগৃহীত টাকা দিয়ে অস্ত্রোপচারপূর্ব চিকিৎসা চলে, কথা ছিল ছয় মাসের মধ্যে বাকি জোগাড় করে তার অস্ত্রোপচার করা হবে। মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিসি'তির অবনতির কারণে ক্যাম্পাস বন্ধসহ নানা কারণে চিকিৎসার বাকি টাকা সংগ্রহে ছেদ পড়ে। ফলে অস্ত্রোপচার আর হয়নি।

এ অবস্থয় দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে আবার চেষ্টা করা হয় টাকা জোগাড়ের জন্য। এবার সাহায্যের জন্য উদারভাবে হাত বাড়িয়ে দেন রাজশাহীর মেয়র জনাব খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি নানা জায়গা থেকে একাই সাড়ে সাত লাখ টাকা জোগাড় করে আমাদের হাতে তুলে দেন। তার এই বড় অঙ্কের সাহায্য আমাদের অনেক সাহসী করে তোলে। এর পর আমরা নানা সূত্র ধরে বিভিন্ন ব্যাংকে আবেদন করতে থাকি এবং বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করতে সক্ষম হই। জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, এবি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইউসিবিএল ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক থেকে এক লাখ করে মোট ৭ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে দেড় লাখ এবং পূবালী, আইএফআইসি, ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড থেকে ৫০ হাজার টাকা করে দুই লাখ ৫০ হাজার এবং একটি এনজিও থেকে এক লাখ টাকা পাই। এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যা পাওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ-ছাড়া পূর্বের চিকিৎসার পর ফাণ্ডে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা জমা ছিল। এর কিছু অংশ কনসার্ট করার জন্য শিল্পীদের অগ্রিম সম্মানী হিসেবে দেওয়া হয়। কনসার্ট বাতিল হওয়ার পর তা থেকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। এ-সংক্রান- খরচ বাবদ টাকা বাদ দিয়ে আরও ৬০ হাজার টাকা ফাণ্ডে ফেরত আসার কথা রয়েছে। গত ডিসেম্বরে বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলে তা থেকে ২৫ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়। এগুলো মিলিয়ে আজ মোট ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক শাশ্বত’র বাবার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ইতোপূর্বে পাসপোর্টের ডলার এনডোর্স করার জন্য ৫০ হাজার টাকা তাঁকে নগদ দেওয়া হয়েছে। যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অস্ত্রোপচারের লক্ষ্যে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে আমরা শাশ্বতকে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করব।

যেহেতু শাশ্বতের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা লাগবে, তাই এ টাকাসহ আরও কয়েক লাখ টাকা আমাদের পরে সংগ্রহ করতে হবে। মেয়রের প্রতিশ্রুত আরও দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। মেয়র আগামীকাল সোমবার শাশ্বতের বাবাকে তার দপ্তরে ডেকেছেন। আশা করি, তিনি তার প্রতিশ্রুতির বাকি টাকা সংগ্রহ করে দেবেন। এতে আমাদের বাকি কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। চিকিৎসা চলাকালীন এ টাকা সংগ্রহ করে শাশ্বত’র বাবার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
যেসব ব্যাংকের নাম উল্লেখ করেছি সেগুলো থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে যাদের আন-রিক সহযোগিতা ছিল তাঁরা হলেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন, বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, শাশ্বত সত্যের বাবা অরুণ সত্যের গ্রামের মানুষ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম নির্বাহী পরিচালক সীতাংশু কুমার রায় প্রমুখ। এখানে বলে রাখা ভালো, শাশ্বত সত্যের চিকিৎসার টাকা সংগ্রহের প্রতিটা পদক্ষেপে আমরা গুণী মানুষ নাসিরউদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুর যে আন্তরিক সহায়তা পেয়েছি তা কখনো ভুলবার নয়।

এই প্রচেষ্টায় আমরা নানা সময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এম আব্দুস সোবহান স্যারকে অনেক বিরক্ত করেছি। দফায় দফায় প্রায় ৪০টি আবেদনে উপাচার্য মহোদয় সুপারিশ করে দেওয়ার ক্লানি-কর কাজটি করে দিয়েছেন সানন্দচিত্তে। উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম নুরুল্লাহ স্যারসহ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সজল, অধ্যাপক মলয় কুমার ভৌমিক, অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র, অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা স্যার আমাদের এতোভাবে সহায়তা করেছেন যা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। বিভাগের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শাশ্বতের চিকিৎসার টাকা সংগ্রহে দিন-রাত অক্লান- পরিশ্রম করেছেন। তাদের সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এ-উদ্যোগে আরো অনেকের অবদান রয়েছে যা এখানে হয়তো উল্লেখ করা গেল না।

পরিশেষে আমরা, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শাশ্বত সত্য ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া, আশীর্বাদ কামনা করছি যাতে শাশ্বতের চিকিৎসা সফল হয় এবং সে সুস' দেহে দেশে ফিরে আবার পড়ালেখায় মনোনিবেশ করতে পারে; দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিবেদন করতে পারে এবং চূড়ান- সফলতা পায় আমাদের সকল উদ্যোগ।

বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29246577 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29246577 2010-09-28 16:42:25
পুলিশের ভাষ্য তাই বলে পুটি মাছ আমরা তো খাইনা।

পেয়েছি গো তরতাজা ভার্সিটি ছাত্র
দেহের এই আড়মোড়া উড়িয়েছি মাত্র।

পেটে-পিঠে-বুকে হাতে লাথি ছুড়ে মেরেছি
মেধাবীর মাথাটাতে পা খানিতো রেখেছি?

ক্যাম্পাসে দেখেছি কত শত ছাত্রী
জানি ওরা হবে না যে মাদের পাত্রী।

হাত নেই তাতে কি লাঠিখান আছে তাই
সুযোগের ব্যবহার কখনই ছাড়ি নাই।

মায়েদের জাত তবু দুটো বাড়ি মেরেছি
দুধের এই স্বাদটুকু ঘোলেতেই পেয়েছি।

আমাদের দোষ কী গো সব বড় কর্তায়
তাই করি তারা যা ঠিক ঠিক বর্তায়।



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশী নির্যাতনের নিন্দা জানাই। রাজশাহী, ০৩ আগস্ট ২০১০ ছবিটি সমকাল থেকে নেয়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29214427 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29214427 2010-08-03 20:14:31
কাম হবে না কাম কাম হবে না কাম,
নাক খত দাও কিংবা পড়ো
আলিফ মিম ও লাম।

নাহমাদুহু যতই বলো
কাম হবে না কাম
তোমার ওয়াজ ভেজাল ভরা
নাই কোন তার দাম।

ফুলটা নিয়ে যতই দাঁড়াও
কাম হবে না কাম
শহীদ মিনার মারবে লাথি
ভুইলা যাবা নাম।

দেশকে যতই স্বাধীন বলো
কাম হবে না কাম,
এই ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে
সাক্ষ্য ডান আর বাম।

একাত্তরের 'মহান' স্মৃতি
কাম হবে না কাম,
ব্যাথার জন্য যতই লাগাও
টাইগার কা বাম।

রাজশাহী : ২৬ জুলাই ২০১০ ছবিগুলো গুগল থেকে ধার করা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29207941 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29207941 2010-07-26 16:52:25
ফাঁস করেছে ফাঁস ফাঁস করেছে ফাঁস,
মন্ত্রী-সচিব অফিস ঘরে
কাটছে বসে ঘাস।

খুড়তে কেঁচো বেরিয়ে এলো
কিলবিলানো সাপ,
এখন সবার টনক নড়ে
চেঁচায় বাপরে বাপ।

ফাঁসের সাজা ফাঁস কি হবে
কেউ জানেনা কেউ,
ওদের নাকি বাঁচিয়ে দেবে
সব ক্ষমতার ঢেউ।

ওদের জালে বগলদাবা
চাকরি যাদের আজ,
তাদের ধরে দাও সাজিয়ে
ক্লিব লিঙ্গের সাজ।

দুদিন পরেই আরেকখানি
চাকরি নামের খেল,
এই খেলাতে ফাঁস করতে
চুঁইছে নাকি তেল।

সেই তেলকে কন্টেনারে
তুলতে যদি পারো,
শুক্রবারে তবেই ঘরে
প্রশ্নপত্র ছাড়ো।

নইলে আবার ফাঁসের তোড়ে
মেধার গলায় ফাঁস-
পড়বে এবং কাটতে হবে
অশ্ব-হাতির ঘাস।

রাজশাহী, ২৫ জুলাই ২০১০।

(প্রসঙ্গ : চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29207247 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29207247 2010-07-25 17:41:53
শাশ্বত সত্যকে নিয়ে কিছু অসত্য প্রসঙ্গের ময়নাতদন্ত
আমার পোস্টটিতে লুকার নামের একজন ব্লগার প্রথম অসত্য প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি তার মন্তব্য তিনটি প্রসঙ্গ তোলেন। যথা-১. শাশ্বত সহায়তার জন্য যে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি আমাদের শিক্ষক আ-আল মামুন স্যারের। ২. মামুন স্যার শাশ্বতর প্রথম ধাপে যোগার করা অর্থ সাহায্যের টাকা হাপিস (লোপাট) করেছেন এবং ৩. মামুন স্যার জামায়াতপন্থী শিক্ষক। বিষয়গুলো একটু পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায় লুকার সাহেবের রাগ শাশ্বতর টাকা `লোপাট' নয়, মামুন স্যারকে নিয়ে। তাকে যে মিথ্যাগুলো কেউ শিখিয়ে দিয়েছেন তা বোঝা যায় লুকার সাহেবের `শুনেছি' বলে এসব মিথ্যার তথ্যসূত্র দেয়া থেকেই। তো যাই হোক, লুকার সাহেবসহ সবার অবগতিতে জানাই, শাশ্বতর সহায়তার জন্য যে দুটো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আমরা শুরু থেকে ব্যবহার করছি, সে দুটে মামুন স্যারের ব্যক্তিগত নয়। বিভাগ থেকে দুই জন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থী যৌথভাবে অ্যাকাউন্ট দুটি পরিচালনা করছেন শুরু থেকেই।

লুকারের বলা দ্বিতীয় মিথ্যাটির জবাব এই পোস্টের একটি ছবি থেকে পাওয়া যাবে। যাতে দেখা যাচ্ছে প্রথম ধাপের চিকিতসার ১৩ লাখ টাকা ভারতের ভেলোরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রধম ধাপে যে ১৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল তার মধ্যে ১৩ লাখ টাকা প্রথম ধাপের চিকিতসার জন্য ও প্রায় ১ লাখ টাকা ভারতে থাকা-খাওয়াসহ আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য দেয়া হয় শাশ্বতর বাবার হাতে। তো লুকার মহোদয়, মামুন স্যার যদি ৫ লাখ বাদ দিয়ে বাকি টাকা হাপিসই করেবন তাহলে ওই ১৩ লাখ টাকা কি আপনি ফেরেশতা মারফত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন? অবশ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিন্তু তা স্বীকার করবে ন, কারণ তারা বাংলাদেশের কোন ব্যাংক থেকে টাকাটা পেয়েছে তার প্রাপ্তিস্বীকারও করেছে। আমার পোস্টে শুধু লুকার সাহেব একাই নন, শাশ্বতর চিকিতসা সহায়তার প্রথম ধাপে কর্মব্যস্ত ব্লগারেদর একজন কালপুরুষ নিজেও এই টাকা লোপাটের কথা বলেছেন। দুঃখ হয় ভদ্রলোকের জন্য। কবি মানুষ, তাই তার মিথ্যার উল্টোপিঠে কঠিন কোন কথা শোনাতে পারলাম না। শুধু তাকে বলবো, এই পোস্টে ব্যবহৃত ছবিগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখুন এবং নিজের চুল (মাথার) ছিঁড়ুন।

এবার আসি লুকার সাহেবের তৃতীয় প্রসঙ্গটির ব্যাপারে। তিনি মামুন স্যারকে জামায়াতপন্থী বলেছেন। এতে তাল মিলিয়েছেন কবি কালপুরুষও। কপাল ভালো তাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এই কথাটি পাড়েন নি তারা। তাহলে কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের জন্য আমাদের দ্রুত রাজশাহীর সাহেব বাজার কাপড় পট্টিতে দৌড়াতে হতো। আ-আল মামুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রগতিশীল শিক্ষক। বাম ধারার শিক্ষক হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত রাজশাহীসহ সারাদেশে। জরুরি অবস্থার সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে সেনা সদস্যর সঙ্গে ছাত্রদের যে সংঘাতের সূত্রপাত তার বিরুদ্ধের মাঠে নামার কারণে ওই সরকার আমাদের যে ৭ শিক্ষককে জেলে রেখেছিলো তাদের মধ্যে মামুন স্যার। আজ জামায়াত-শিবিরও যদি শোনে মামুন স্যার জামায়াতপন্থী তাহলে সেই মন্তব্যকারীকে তারাও পাবনায় পাঠানোর জোর সুপারিশ করবে বোধকরি। মামুন স্যার প্রসঙ্গে লুকার, ক্যামেরাম্যান ও কালপুরুষ যে সব কথা বলেছেন সেগুলোতে তারা `শুনেছি' `ধারণা করি' `বিশ্বস্ত সূত্র' ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে প্রমাণ করেছেন তাদের পায়ের নিচে মাটি নাই (মানে তাদের কথা ভিত্তি নেই।) যদি থাকে তাহলে তারা প্রমাণ হাজির করে দেখাক, আমরা খুব উন্মুখ হয়ে আছি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন জামায়াতি শিক্ষকের কীর্তন শোনার জন্য।

শাশ্বত সত্যর চিকিতসার জন্য যেদিন বিভাগ কাজ শুরু করে, তারপর থেকে সমস্ত খরচের হিসেব আমাদের বিভাগীয় কমিটি ও শাশ্বতর বাবার কাছে আছে। মিথ্যে তথ্য উপস্থাপন করে যারা বিষয়টিকে ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছেন, তাদের বলবো যদি পানি ঘোলা করে না খেতে হয় তাহলে রাজশাহীত আসেন বিশুদ্ধ পানি পান করাবো সব কাগজ আপনাদের চোখের সামনে রেখে।

আমরা লুকার, ক্যামেরাম্যান ও কালপুরুষের এসব মিথ্যাচারের যার পর নাই হতাশ। তাদের জন্য আফসোস করা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই। একটি মহত উদ্যোগকে বানচাল করতে তারা এমন অসত্য বলছেন-এমন ভয়ঙ্কর ধারণা করতেও আমরা ভয় পাচ্ছি। শুধু বলবো, কাউকে বাঁচাতে না পারেন, তাকে একাই বাঁচতে দিন-দয়া করে মারতে আসবেন না। যদিও অপ্রিয় কিছু প্রমঙ্গ নিয়ে এই লেখা তবু আরেকবার আহ্বান জানাই শাশ্বত'র সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: ১.
শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ৩৪২৬০৪৯৮, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, রাজশাহী।

২.
Saswota Chikitsa_Sohayota' AC no: 135-101-33705, Swift Code: DBBL BD DH 100, Dutch-Bangla Bank Lomited.

আমার সেই পোস্ট, যাতে এসেছে মিথ্যাচারগুলো-
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29175607 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29175607 2010-06-12 20:35:27
কীসের দিকে এগুবে শাশ্বত-জীবন নাকি মৃত্যু?
বলছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাশ্বত সত্য'র কথা। আমাদের শাশ্বত'র কথা। অবশ্য এখন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ছাপিয়ে শাশ্বত হয়ে গেছে দেশের সবার। এই ব্লগের অনেকেই হয়তো চিনতে পারছেন শাশ্বতকে। ১৯৯৮ সাল থেকে মরনব্যাধি অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস ক্রমেই ক্ষয়ে ফেলছে ওর শরীরের সমস্ত হাড় আর হাড়জোড়গুলো।

শাশ্বতকে নিয়ে যারা এই ব্লগে বহুবার ভালোবাসার কান্নায় ভেসেছেন, ওর বর্তমান অবস্থা জানলে হয়তো আঁতকেই উঠবেন তারা। অন্যরাও বাদ যাবে না শঙ্কা থেকে। গতকাল (১০.০৫.২০১০) দুপুরে ওর বাসায় গিয়েছিলাম। ওর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে শত অভাবেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি কাজলার অক্ট্রয় মোড়ে বাসা ভাড়া নিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক অরুণ সত্য আর একমাত্র পুত্রসন্তানের জন্য দিন দিন দুশ্চিন্তার অন্ধকারে ডুবে যাওয়া মা শিখা সত্য। শাশ্বতর অকৃত্রিম বন্ধু রুপম বাসার দরজায় নক করতেই ভেতর থেকে শাশ্বতর গলা ভেসে উঠে-`মা, দ্যাখো তো কে যেন এসেছে?' মা কাছেপিঠে হয়তো ছিলেন না। রুপম আরেকবার কড়া নাড়তেই যেন তেঁতে উঠে শাশ্বত-`কেউ কি বাসায় নাই? কে যেনো ডাকছে এতক্ষণ ধরে?' একটু পরে ঘরের পর্দা ঠেলে হুইল চেয়ারে বসা একজোড়া পা চোখে পড়লো আমার। পদা সরতেই ওর মলিন মুখ। শাশ্বতকে ক্র্যাচ ছাড়ানোর শপথে কাজে নেমেছিলাম আমরা। সেই ওকে হুইল চেয়ারে দেখবো ভাবি নি। কড়া নাড়ার শব্দের বিছানা ছেড়ে একাই চলে এসেছে ও। পেছন পেছন ছুটে এসেছেন মা। দেরিতে দরজা খোলায় তখনো চেহারায় বিরক্তির ছাপ শাশ্বতর।

অনেক কষ্টে হুইল চেয়ার থেকে বিছানায় গেলো শাশ্বত। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, `সুজন ভাই আপনার চেহারা এত নষ্ট হয়ে গেল কেন?' আমি কোন জবাব দিলাম না। শাশ্বতকে এভাবে দেখার কোন কল্পনাই ছিল না আমার। সর্বশেষ মাস দুয়েক আগে ওকে ক্র্যাচ হাতে দেখেছিলাম। বললাম, `আমার কথা বাদ দাও, তুমি কেমন আছ?' বেশ মলিন সুরে বলল, `ভালো নেই, সুজন ভাই।' জানলাম, কয়েকমাস হলো ওর হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে গেছে। ফুলে গেছে হাঁটু। দিনরাত কোন সময়েই দুচোখ জুড়ে নেই একফোঁটা ঘুম। হিপজয়েন্টের হাড়গুলো আগের চেয়ে নড়বড়ে হয়ে গেছে। গত শনিবার (০৮.০৫.২০১০) পরীক্ষা করে দেখা গেছে ওর শরীরে রক্তের হিমোগ্লোবিসন কমে গেছে, অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে রক্তচাপও। প্রতিদিন একটি করে ইঞ্জেকশন দিতে হচ্ছে ওকে। খেতে হচ্ছে দিনে প্রায় ১৮টি ওষুধ। এছাড়া প্রতি বৃহস্পিতবার ওকে খেতে হয় একটি করে ওরাল কেমোথেরাপির ওষুধ। সব মিলিয়ে একবাক্যে বলতে পারি-একমদই ভালো নেই আমাদের শাশ্বত।

খুব অল্প কথায় লিখে ফেলা গেলো শাশ্বতর বর্তমান অবস্থা। কিন্তু ওর আর ওর পরিবারের কষ্টের বোঝা যে দিনদিন ভারি হয়ে উঠছে তা বোঝানোর মত শব্দ আমার জানা নেই। শুধু ওর মায়ের কথাটা কারে বাজছে- `বাবা আমি তোমাদের কাছে এখনো দাবি করছি আমার ছেলেকে বাঁচাও তোমরা। ও হাঁটতে না পারুক, শুধু বেঁচে থাকার মতো সুস্থ্য করে দাও, বাবা।'

আজ আবার আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি আমরা। ওর চিকিৎসা বাবদ এখনো যে ২৫ লাখ টাকা দরকার তার জন্য সহায়তা দরকার আপনাদের সবার। একটি কনসার্ট যদি আমরা করতে পারি তাহলে একটি বড় অঙ্কের টাকা হয়তো আসবো। পাশাপাশি আপনাদের সহায়তা আবার সাহস জোগাবে আমাদের, জোগাবে অর্থও। প্লিজ, আমরা হারতে চাই না।

বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে, তবু বলি। শাশ্বত সেদিন ওর মাকে বলেছে, `মা টাকা তো আর জোগাড় হলো না। আমি তো আর বাঁচবো না। মারা যাবার পর লাশটি প্রথমে আমার সাংবাদিকতা বিভাগে নিয়ে যাবে। তারপর অন্য কোথাও।' গতকাল কথাগুলো আমাকে জানাতে গিয়ে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারেন নি মা। পারি নি আমিও। হয়তো চোখের কোন ভিজে উঠেছে আপনাদেরও।

জোর গলায় কিছু বলতে পারি নি দুখিনী মাকে। মনের ভেতর শুধু প্রশ্ন জাগে-কীসের দিকে এগুবে শাশ্বত-মৃত্যু নাকি জীবন? মনে মনে শুধু বলি-লাশ হয়ে নয়, ক্র্যাচ হাতে নয়-মতিহারের সবুজ চত্ত্বরে নিজ পায়ে দাঁড়ানো শাশ্বতকে দেখতে চাই আমরা। আসুন না সবাই মিলে আবারো এই স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে নামি। আসবেন? প্লিজ...


শুরুর কথা : ২০০৮ সালের মে মাসে গণযোগাযোগ এ সাংবাদিকতা বিভাগ শাশ্বতকে বাঁচাতে শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা কমিটি গঠন করে। সেসসময় এই ব্লগে ওকে বাঁচানোর আহ্বান জানাই আমি। তাতে মেলে অভূতপূর্ব সাড়া। ব্লগাররা একটি ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে জোগাতে থাকেন শাশ্বতকে বাঁচানোর অর্থ। পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষক আর ছেলে-মেয়েরাও চষে বেড়াতে থাকে পথ-ঘাট। সবার লক্ষ্য একটাই-শাশ্বতকে বাঁচাবই।

২০০৮ সালের অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ শাশ্বত'র তহবিলে প্রায় ১৫ লাখ টাকা জমা পড়ে। এর মধ্যে সেসসময় সামহয়্যার ইন ব্লগের ব্লগারদের কর্মতৎপরতা আমাদের জোগান দিয়েছিলো ৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা।

২০০৮ সালের শেষ নাগাদ চিকিৎসার প্রথম পর্যায় শুরু করতে ভারতের ভ্যালোরে নিয়ে যাওয়া হয় শাশ্বতকে। সেখানে ওর ঝুড়ঝুরে হয়ে যাওয়া হাড়গুলোকে অপারেশনের জন্য কিছুটা সবল করতে দেয়া হয় ৪টি ইঞ্জেকশন (ইনফ্লিক্সিম্যাব রিকম্বিন্যান্ট) সহ আরো কিছু চিকিৎসা। বেশ সফলতার সঙ্গেই প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করে ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে আনা হয় শাশ্বতকে। ভ্যালোরের চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, ২০০৯ সালের নভেম্বরের মধ্যেই শাশ্বতর নষ্ট হয়ে যাওয়া দুটে হিপ জয়েন্ট বদলানোর অপারেশন অবশ্যই করাতে হবে। কিন্তু এরপর আর তেমন একটা এগুতে পারি নি আমরা।

ওর নষ্ট হয়ে যাওয়া দুটো হিপ জয়েন্ট আর হাঁটুর জয়েন্ট বদলানোসহ তখন (২০০৯ সালের শুরুতে) ওর চিকিৎসার পরবর্তী খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখে। আর ওর প্রথম পর্যায়ের চিকিৎসা শেষে ওর সহায়ত তহবিলে তখন আর ২ লাখ টাকার বেশি নেই। আবারো মাঠে নামি আমরা। টার্গেট নিই কনসার্ট করার একাধিকবার উদ্যেগ নিলেও বারবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অনির্ধারিত ছুটির ফাঁদে পড়লেই আমরা সফল হই না। এরইমাঝে ওর বেঁচে থাকার তাগিদে আরো প্রায় দেড়লাখ টাকা খরচ করে ভারত থেকে ওর জন্য বোনিস্টা (প‌্যারাথাইরয়েড হরমোন) নামের ইঞ্জেকশন আনা হয়েছে। আজ (১১.০৫২০১০) জানা গেলো ওর চিকিৎসা তহবিলে আর মাত্র ৫০ হাজার টাকা রয়েছে।

সহায়তা পাঠনোর ঠিকানা:
১.
শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা
অ্যাকাউন্ট নম্বর: ৩৪২৬০৪৯৮, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, রাজশাহী।

২.
Saswota Chikitsa_Sohayota' AC no: 135-101-33705, Swift Code: DBBL BD DH 100, Dutch-Bangla Bank Lomited.


শাশ্বতকে নিয়ে যারা আরো জানতে চান, জানতে চান কত ভালোবেসেছিল এই ব্লগ সপ্রতিভ ছেলেটিকে- তাদের জন্য আমার ১৫ টি পোস্টের লিঙ্ক দিলাম নিচে-

প্রথম লেখা :
Click This Link

দ্বিতীয় লেখা :
Click This Link

তৃতীয় লেখা :
Click This Link

চতুর্থ লেখা :
Click This Link

পঞ্চম লেখা :
Click This Link

ষষ্ঠ লেখা :
Click This Link

সপ্তম লেখা :
Click This Link

অষ্টম লেখা :
Click This Link

নবম লেখা :
Click This Link

দশম লেখা :
Click This Link

একাদশ লেখা :
Click This Link

দ্বাদশ লেখা :
Click This Link

ত্রয়োদশ লেখা :
Click This Link

চতুর্দশ লেখা :
Click This Link

পঞ্চদশ লেখা :
Click This Link

ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কিছু সময় পোস্টটি স্টিকি করা যায় কি না-দয়া করে বিবেচনা করবেন।
বি.দ্র. পোস্টে ব্যবহৃত শাশ্বত'র ছবিটি পুরনো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29153603 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29153603 2010-05-12 13:11:32
শাশ্বত সত্যকে বাঁচাতে হলে...
আপনারা জেনে খানিকটা আনন্দ পাবেন যে, শাশ্বতর প্রথম পর্যায়ের চিকিৎসা বেশ সফলতার সঙ্গেই সম্পন্ন হয়েছে। এরপর আবার থমকে যেতে হয়েছে আমাদের। যে অর্থ সংগ্রহ হয়েছিলো তা প্রায় নিঃশেষ প্রথম পর্যায়ের চিকিৎসাতেই। সেই থেকে থমকে আছে শাশ্বতর বাকি চিকিৎসাও।

কিন্তু আমরা তো শপথ নিয়েছিলাম শাশ্বতকে বাঁচানোর। তাই আজো থামিনি আমরা। গত ১৫ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর গ্যালারিতে আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু করেছি তিনদিনের চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রথম দিন ২টি ও আজ ১৬ ডিসেম্বর ৪টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর প্রদর্শিত হবে আরো দুটি।

আমরা হতাশ হইনি এই দেখে যে, আজো কারো ভালোবাসা ম্লান হয়নি শাশ্বতর জন্য। প্রতিটি চলচ্চিত্রে এত দর্শক সমাগম হয়েছে যে, স্থান সংকুলানের অভাবে অনেককে চলচ্চিত্রের টিকিট দেয়া সম্ভব হয়নি।

এখানেই সব অর্থ যোগাড় হবে না। ওর পরবর্তী চিকিৎসার জন্য দরকার আরো প্রায় ২০ লাখ টাকা। তাই জানুয়ারিতে বড় তারকাদের আয়োজনে বড় একটি কনসার্টের প্রম্তুতি চলছে। সেইসঙ্গে দরকার আরো সহায়তা। আমরা আবারো চেয়ে আছি আপনাদের দিকে। তাই এখনো সচল আছে শাশ্বতকে সহায়তা করার দুটো ব্যাংক হিসাব। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা আমাদের শপথ রক্ষা করতে সক্ষম হবো সবার সহযোগিতায়, যে কোন মূল্যে বাঁচাবোই শাশ্বত সত্যকে।

সহায়তা পাঠনোর ঠিকানা: ১. শাশ্বত চিকিৎসা সহায়তা অ্যাকাউন্ট নম্বর: ৩৪২৬০৪৯৮, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, রাজাহী। ২. Saswota Chikitsa_Sohayota' AC no: 135-101-33705, Swift Code: DBBL BD DH 100, Dutch-Bangla Bank Lomited.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29060151 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29060151 2009-12-16 21:09:05
কার্টুনিস্ট আরিফের জেল এবং আগের একটি পোস্ট
আমি জানতাম এসব ঝামেলা অনেক আগেই চুকে বুকে গেছে। যার ফাল দিয়ে উঠেছিলেন সেসময় ধর্মকে মাথায় নিয়ে তারা ধুপ করে চুপচাপও হয়েছিলেন। কিন্ত আজ বুঝলাম-ব্যাপারটা আমার হিসেবেন সঙ্গে মেলে না। ওরা আজো থামেনি। আছে ওত পেতে।

যে ঘটনায় আজ আরিফের জেল হলো তারপর আমার একটি পোস্ট এই ব্লগে প্রকাশ পেয়েছিলো। ওসব নিয়ে আজ কথা বলব না। শুধু আপনাদের জন্য সেই পোস্টের লিঙ্কটা দিলাম। সময় পেলে দেখে নেবেন আরিফ কতখানি দোষী ছিলেন এবং এই অপরাধে তার নামটি তালিকার কত নম্বরে। আলপিনের আগে শিবিররে পত্রিকা বিষয়ক পোস্ট ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29042389 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29042389 2009-11-12 17:36:44
আমার পত্রজীবন-২ আমার পত্রজীবন-২ (হারনো রাজিব ও প্রথম কোন মেয়ের চিঠি)

মাঝখানে পাক্কা দুটি বছর চলে গেছে। আমার পত্র জীবন নিয়ে দ্বিতীয় কিস্তি লেখা হয়ে ওঠেনি। অলসতা প্রথম পর্যায়ে আর চূড়ান্ত পর্যায়ে ভুলে যাওয়া রোগ আমার জীবনের স্বর্ণালী এই অংশ থেকে আমাকে বিরত রেখেছে। আজ ইচ্ছে করছি দ্বিতীয় কিস্তিটি লেখার। দেখা যাক স্মৃতিশক্তি কতটা শক্তি যোগায় আমাকে।

রাজিব ফেরদৌস মানিকের সঙ্গে আমার চিঠি বিনিময় খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ২০০২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ধারাবাহিক ছিলো। ওই বছরের ৩০ জুন গিয়েছিলাম সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে রাজিবের বাড়িতে। তারপর ফিরে এসে দুয়েকটা চিঠি বিনিময় চললেও পরে রাজিব ঢাকায় চলে যাবার পর আর যোগাযোগ হয়নি। আমার মনে পড়ে ২০০৪ সালের শেষদিক পর্যন্ত মাঝে মাঝে ওর বাড়ির ঠিকানায় চিঠি দিতাম ওর নতুন ঠিকানা বা ওকে পাবার জন্য। জানতাম ও ২০০২ এর আগস্টে ঢাকায় চলে গেছে পড়তে। তাই প্রতি ঈদের আগে চিঠি ছাড়তাম যাতে ও বাড়ি এসে অন্তত চিঠি পায় আমার। কিন্তু আজো সেই বন্ধুটির কোন খোঁজ পাইনি। এখনো অবসরে পুরনো ফাইল ঘাটতে গিয়ে রাজিবের সুন্দর হাতের লেখা চিঠি চোখে পড়ে, সঙ্গে বাতেনেরও। বাতেন সিরাজ রাজিবের ঘনিষ্ট বন্ধু। তার সঙ্গেও আমার পত্রযোগাযোগ ছিলো। তাকেও হারিয়েছি সময়স্রোতে।

২০০২ সালের এপ্রিল মাসের দিকে জীবনে প্রথম কোন মেয়ের চিঠি পেলাম। পাবনায় বাড়ি তার। লিখেছে দৈনিক করতোয়া আমার প্রকাশিত লেখাগুলো খুব ভালো লাগে তার। আমাকে আর পায় কে! অনেক বড় বড় লেখকরা ভক্তদের চিঠি পাবার গল্প লেখে। কিশোর আমি তখন যেনো তখন সেই লেখকদের কাতারে বসে বসে বাদাম চিবুচ্ছি। উল্লাসে ফেটে পড়ে একদৌড়ে (ভায়া সাইকেল) বাড়ি গিয়েই উত্তর লিখতে বসলাম। ব্যস, পাল্টাপাল্টি চিঠি। আমি লিখি সে লিখে। সে কী ভাষা। মনে পড়তেই আজো পুলকিত হই। আমার চিঠি না পেলে তার পেটের ভাত নাকি হজম হতো না। কোন উপায়ে সেই ভাত পেট থেকে বের করা গেলে নাকি চাল হয়ে বেরুতো। বুঝতে পারছিলাম, কিশোরিটি দিল্লিকা লাড্ডু খাবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বাধা দেইনি। হাজার হোক-আবগের স্বর্ণসময় ছিলো তো সেটি। যদিও শেষতক গোলপোস্টের ধারে আসা হয় নি তার। তার আগেই লালকার্ড।

ওই বছরের আগস্টের শেষদিকে শেষ হয়েছিলো তার সঙ্গে আমার পত্রালাপ। কপাল বলতে হয় বেচারির। তার মামার হাতে পড়ে গেলো চিঠিখানা। কিশোর বয়সের আবেগ জড়ানো ভাষা। (তবে এটুকু নিশ্চিত যে প্রেমপত্র ছিল না সেটি)। পরের চিঠিটি সেই কিশোরীর চোখের জলে লেখা। তার মামা নাকি তাকে বলেছে আমার সঙ্গে চিঠি চালাচালি করলে তাকেসহ আমাকে কাজী অফিসে চালান করে দেবে। আমি আর এগুই? কিশোরীকে লিখে দিলাম-ধরে নিও বন্ধু আমি মরে গেছি। সনে কী ধরে নিয়েছিলো, নাকি আদৌ সেই চিঠি তার হাতে পড়েছিলো-আর জানা হয়নি। কখনো জানতে পারবোও না হয়তো।
(চলবে)

প্রথম কিস্তি এখানে

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29038835 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29038835 2009-11-06 20:12:38
হায়রে সাধের দিনবদল হায়রে সাধের দিনবদল,
রাত্রি-সকাল রইলো একই
হইলো পদের রদবদল।

যে হাত ছিলো চাঁদার এবং
যে হাত ছিলো বখরাতে,
সে হাত ছেড়ে অন্য হাতেই
নাচছে আগের গোখরাতে।

আগের মতো এই গোখরাও
তুলছে ভয়াল বিষফণা,
এই বদলের জন্যে বুঝিই
এততো কঠিন দিনগণা?

বদল শুধুই ঘড়ির কাঁটায়
এবং টাকার থলেতেই,
দিনবদলের শ্লোগান বুঝি
যাচ্ছে আগের জলেতেই।

নতুন করে দিনবদলের
ইশতেহারে চোখ রাখো,
নিজের মাথার চুল ছিড়ে নাও
নয়তো লাজে মুখ ঢাকো।


রাজশাহী, ০৬ নভেম্বর ২০০৯।

ছবিটি গুগল থেকে নেয়া।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29038810 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29038810 2009-11-06 19:08:23
আসুন না একজন মা-কে বাঁচিয়ে তুলি
ওই নাটকের পর থেকেই রাস্তাঘাটে দেখা হলে 'জেলার সাব' বলে ডাকতে শুরু করি তাকে। মিস্টি হেসে জাহিদ ভাইয়ের উত্তর; কী খবর? কয়েকদিন আগে কাজলা মোড়ে বাপ্পী জানালো মিস্টি হাসির এই মানুষের কষ্টকথা। শুনলাম জাহিদ ভাইয়ের মা অসুস্থ। ভীষণ অসুস্থ। দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে তার। চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা দরকার। আমাদের আর দশটা মধ্যবিত্ত পরিবারের মতো এখানেও তাই হতাশা।

কিন্তু বাপ্পীরা হতাশ হতে দেয়নি জাহিদ ভাইকে। এস্ সদলবলে তাদের প্রিয় কর্মী জাহিদ সরোয়ারের পাশে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করছে কিছু একটা করার। ৫ থেকে ৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনে তারা আয়োজন করেছে তাই চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর।

কিন্তু এই আয়োজন খুব বেশি আর্থিক সহায়তা হয়তো দেবে না। একজন মা-কে বাঁচাতে তাই এগিয়ে আসা দরকার আমাদের সব সন্তানকে। সবাই এগিয়ে এলে হয়তো সন্তানদের মুখে হাসি ফুটিয়ে বেঁচে উঠবেন একজন মা, জাহানারা জানি। আসুন না সবাই মিলে বাঁচিয়ে তুলি একজন মা-কে। অন্তত চেষ্টা করে তো দেখি।

সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা: এ্যাসোসিয়েশন ফর কালচার এন্ড এডুকেশন-এস্ সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৩৪২০১৫৭৬, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, রাজশাহী। অথবা জাহানারা জানি সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ১৪৭৮৫, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, বিডিআর পিলখানা শাখা, ঢাকা-১২০৫। মোবাইল নম্বর: ০১৯১১ ১৬৭০৪০ (এবিএম আমিরুল লতিফ বাপ্পী, সাধারণ সম্পাদক-এস্, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29037166 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29037166 2009-11-03 20:29:24
এগিয়ে চলো রাজশাহী তাহলে আসুন, সবাই কন্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি-এগিয়ে চলো রাজশাহী, এগিয়ে চলুক বাংলাদেশ।]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29031286 http://www.somewhereinblog.net/blog/sujonmcblog/29031286 2009-10-24 20:27:00