৬৭) এক বৃষ্টি ভেজা দিনে
ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকাতেই
মনটা খারাপ হয়ে গেলো।
বলেছিলে ঠিক দুইটায় আসবে।
এখন চারটা বেজে দশ।
ধুলো রোদ্দুরে দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে আছি।
ভ্যাপসা গরম।
আকাশে কালো মেঘেদের উড়োউড়ি।
বৃষ্টি হচ্ছে কি কোথাও?
আমি চলে যাবো যাবো করেও যেতে পারছিনা।
যদি তুমি আসো।
যদি মহাখালী চৌরাস্তায় আটকে থাকো।
কিংবা হঠাৎ বাড়িতে চলে আসা কোন অতিথী আপ্যায়ন।
রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে বহুবার হাটলাম।
আসো ।আসো ।আসো।
জপতে থাকলাম।
হঠাৎ আলোর ঝলকানি হয়ে তুমি এলে।
বললে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছিলো তোমাদের ওখানে।
রিকশা ,ট্যাক্সি কিছুই পাচ্ছিলে না।
হাতটা বাড়িয়ে দিলে
তোমার পাশে বসতেই বুঝলাম কাঁপছো।
ব্যাগ থেকে নীল ছোট্ট টাওয়ালটা দিয়ে
চুল মুছছিলে শুধু।
তোমার সবুজ শাড়ীটা ভিজে আরো সবুজ
অপেক্ষার অভিমান ভুলে তোমাকে দেখলাম।
সবুজ শাড়ী আর লাল ব্লাউজ এ তোমাকে
বাংলার মত লাগছে বলতেই
হাসলে দুলে দুলে।
আকাশের দিকে তাকালাম।
রিকশা পান্হপথে যেতে না যেতেই
বৃষ্টি শুরু হলো।
রিকশাওয়ালার দেয়া পর্দাটা কাজে আসছিলো না কোন।
শাহবাগ এর মোড়ে এসে তুমি বললে,
চলো হাটি।
ঝম ঝম বৃষ্টিতে ভিজে বেড়ালাম দুজন।
হাতে হাত রেখে গাইলাম....
"এসো শ্যমল সুন্দর
আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা
বিরহিনী চাহিয়া আছে আকাশে।"
তুমি বললে
আচ্ছা এমন বৃষ্টিতে কি ভিজেছিলেন
আমাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর?
বললাম হয়তোবা।
কি ভালো যে লাগছিলো আমার ।
তোমাকে বললাম জানো মেয়ে
তোমার জন্য অনন্তকাল অপেক্ষা করতে পারি।
তোমাকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে
হেটে যেতে পারি বহুদুর পথ।
তুমি শুধু চিরটাকাল আমার জন্য
এমন সবুজ হয়ে থেকো।
বাংলার মত।
পাবলিক লাইব্রেরীর সিড়িতে
তুমি ঠিক আমার মুখোমুখি বসলে
বললে,
ভাবতে পারো আমাদের এই দারুন বৃষ্টি ভেজা দিন
অনেক দিন
নাকি আর ও পর কোনোদিন
স্মৃতির পাতায় ঝড়াবে বৃষ্টি?
এভাবেই কেটে গেলো আমাদের স্মৃতিময়
আর একটি ঝলমলে দিন।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



