(এক)
ছেলেবেলায় মার সাথে
শহর থেকে একটু দুরে দাদাবাড়ী যেতাম।
মা তখন মধ্য বয়সী এক প্রাণবন্ত নারী।
মা হাঁটতে হাঁটতে অনেক দুর এগিয়ে গিয়ে
একটু ফিরে তাকাতেন।
আমি পথের দু'ধারের গাছগুলো দেখেতে দেখতে
পিছিয়ে পড়তাম।
মা ডাকলেই একটু দৌড়ে মার কাছে চলে যেতাম।
মা কথা বলতেন আর হাঁটতেন।
রেলওয়ের ইনস্টিটিউট টা পার হতেই
মাটির পথ শুরু হতো।
সাতপুকুর এর পরে
একটু সামনেই একটা কাঠের ব্রীজ।
বামে শশ্মান ঘাট।
একটা ঘর ছাড়া কিছু ছিলো না সেখানে।
মার হাতে ধরে ওইটুকু পথ পাড়ি দিতাম।
বুকটা একটু ঢিপঢিপ।
মা বুঝতেন।
ভোলাবার জন্য
দুরে আকাশের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলতেন
ওই যে নৈঋত কোন।
ওদিকেই হেঁটে গেলে দাদা বাড়ী।
চারটা দিক তখন মাথায় ঠিকমত কাজ করতোনা।
মাথা হেলিয়ে তবু বুঝেছি এই ভাবটুকু।
পথে পড়তো বিরাট একটা বটগাছ।
ওখানে বসতাম।মা আর আমি।
গাছের শিকড়ের উপর বসে থাকতাম অনেকক্ষন।
মা ফ্লাস্কে ভরে আনা চা খেতেন।
আর আমি নাবিস্কো বিস্কুট।
শুনশান রোদময় দুপুরের নীরবতা ভেংগে
একটা পাখী ডাকতেই থাকতো।
আমাদের মনো জগতের ভাবনা গুলো এক হয়ে যেতো।
দুই প্রজন্মের দুই নারীর।
(দুই)
আজ একটা আলোকিত দুপুর এসেছিলো।
নরম রোদের শুনশান দুপুর।
শহরের কোলাহল ছাপিয়ে
একটু দুরে।
হাইওয়ে ধরে দুর এক পথে।
নদীর পারে গিয়ে
পাথরের উপর বসে পানিতে পা ডুবিয়ে
বসে থাকলাম অনেকক্ষন।
একটু দুরে পানিতে শিকড় ছড়ানো
গাছটার দিকে তাকিয়ে
মাকে মনে পড়ছিল খুব।
গাছ,শিকড়,আকাশ
এমনকি দুপুর গুলো এখনো আগের মত ।
আমিই শুধু বদলে গেলাম।
এখন আমার পাশে বসে আকাশ দেখে অন্য কেউ।
যাকে আমি দিক শেখাই।
এভাবেই হাত বদলে যায়।
এভাবেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

