(এই লেখাটা '৯৭ এর বাবা দিবসে "যায় যায় দিন" এর বাবা দিবস সংখ্যায় ছাপা হয়েছিলো।ডাইরীর পাতা থেকে নেয়া।পত্রিকাতে একটু আধটু পরিবর্তন ছিলো।ইচ্ছে হলো সবার সাথে শেয়ার করি।লেখাটা ৮ মে' ৯৭ এ লেখা)
বাবা দিবসে বিশ্বের সকল বাবাকে সশ্রদ্ধ সালাম ও ভালোবাসা।
আমার আব্বা আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন ১৩ই এপ্রিল/৯৭ এ।খবরটা ফোনে ভাইজান যখন জানালো...।মনে হয়েছিলো কানটা জ্বলে গেলো....।
একটা চলতে ফিরতে থাকা প্রাণবন্ত একটা মানুষ চলে গেলো।হঠাৎ করেই।
দিনে দিনে আব্বা নেই একথাটা মেনে নিতে হয়েছে,
আব্বার অভাবে মা ও খুব একা হয়ে পড়েছেন।ভাবতে খুব খারাপ লাগে সখন দেশে যাবো আব্বাকে পাবোনা।
কত স্মৃতি আব্বাকে নিয়ে মনে পড়ে যায়।আব্বা আদর করে বুড়ি ডাকতেন আমাকে।বাসায় রুগীরা যারা আসতো,অনেকে এই নাম এ ডাকতো।
আব্বা আমাদের বাসার সবার কাছে একটা মুখোশ এঁটে চলতেন।হয়তোবা সেটার দরকার ছিলো।
সেই আব্বা দিনে দিনে সহজ হলেন।ভাইজান,আপা,আপুর ছেলেমেয়েদের সংগে আব্বার দারুণ বন্ধুত্ব ছিলো।আব্বা বেড়াতে খুব পছন্দ করতেন।কিন্তু পেশাগত ব্যাস্ততার কারনে ঘুরতে পারেননি তেমন।মাঝে মাঝে আব্বার মটরসাইকেলের পিছনে চেপে রুগীর বাড়ী যেতাম।এমন গ্রামে গেছি আব্বার সাথে যেখানে অনেক মানুষ নাকি জীবনে কখনো রেলগাড়ী দেখেনি।
আব্বার সাথে আমি বহু জায়গায় বেড়াতে গেছি।আদিতমারী,চাঁপার হাট,রাজশাহী ,পাবনা,সিরাজগন্জ।একবার আব্বার সাথে সিরাজগন্জ হয়ে ভুয়াপুর হয়ে ঢাকায় এসেছিলাম।
আব্বার টেবিলের ড্রয়ারে কত ডাইরী যে থাকতো।আর বাহারী কলম।ঔষধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভদের দেয়া।আমি জানি যখন দেশে যাবো,জানি আব্বার রেখে যাওয়া কলম,ঘড়ি,চশমা সব কিছু ছুঁতে পারবো,দেখতে পারবো..শুধু আমার আব্বাটাকে আর পাবোনা।
যখন ব্যাস্ত থাকি..জাগতিকতায় ভুলে থাকি।
একা হলেই স্মৃতিরা হুমড়ী খেয়ে পড়ে।
আব্বা যেমন চেয়েছিলেন তেমন করে বেঁচেছেন।এত কর্মঠ মানুষ আমি আমার জীবনে কম দেখেছি।আব্বা সবসময় বলতেন উনি চলতে ফিরতে চলে যেতে চান......আব্বা সেভাবেই চলে গেছেন......কথা বলতে বলতে।
ভাইজান একটা চিঠিতে লিখেছে...."আব্বার চলে যাওয়ার মাঝে একটা হিরোইজম আছে।"
এইকথা ঠিক।আব্বা মানুষটা চিরকাল হিরোর মত বাঁচলেন।
আব্বার মনটা ছিলো ছোট মানুষের মত।নিজে ডাক্তার হলে কি হবে,একটু জ্বর হলেই কান্নাকাটি শুর করতেন।আর ইনজেশন দেবার দরকার হলে তো কথাই নাই! অথচ অন্য কাউকে ইনজেকশন দেবার সময়টায় অন্যরকম মানুষ উনি।
আব্বাকে নিয়ে লিখতে বসলো অজস্র কথা মনে পড়ে যায়।
দেশে যাবার অস্হিরতায় দিন কাটে।কিন্তু আমার দু'চোখ কি তৃপ্ত হবে?
ছোট্ট রাশীক যখন ছবিতে দেখা মানুষদের দেখে একে একে নাম বলে চিনে নেবে।তখন কোথা থেকে এনে দেবো ওর নানাকে...আমাদের প্রিয় বাবাকে?
রোজার ঈদের দিন আব্বার সাথে ফোনে শেষ কথা হয়েছিলো।বলেছিলাম আব্বা সবাইকে ঈদের কাপড় কিনে দিয়েছেন........আমারটা কই?
আব্বা শিশুর মত বলেছিলেন....."মাগো তুমি তো কাছে নাই।তোমার কতগুলো জামা লাগবে?"এভাবে আর কেইবা বলতে পারে?বাবার মত?
মন খারাপ হলে যখন কাঁদতে থাকি।ছোট্ট রাশীক আমার চোখ মুছিয়ে দেয়,বলে মাম্মা তুমি কেঁদোনা।এইতো আমি তোমার বাবা.....ডাঃ ওমর আলী।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



