somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নায়েগ্রার বাটারফ্লাই কনজারভেটরী

২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নায়েগ্রার সামনে পার্কিং থেকে গাড়ী নিয়ে বের হয়ে উত্তর এ গেলে(যেদিক দিয়ে নায়েগ্রা অন দ্য লেইক সিটিতে যায়) সেই পথে হাতের বায়ে পড়ে Butterfly Conservatory.

রাশীক,রাইয়ান আর আমি যাচ্ছি। ওদের বাবা গাড়ীতে বসে রেস্ট করবে। ভালো কথা! আমরা তিনজনে টিকিট কেটে ঢুকে পড়লাম।



রাইয়ান তো প্রজাপতির নাম শোনার পর থেকে ছুটছে শুধু।
রাইয়ানের একটা ছবি তুললাম লোহার রড দিয়ে বানানো প্রজাপতির সামনে।
রাশীক প্রথম থেকে তটস্হ। পোকা,মাকড়,মশা,মাছি দেখলে ওর গা চুলকানো শুরু হয়। রাইয়ান অনায়াসে সব ধরতে ,ছুঁতে পারে। গেট দিয়ে ধুকতেই একরাশ বর্ণিল প্রজাপতি উড়ে গেলো চোখে সামনে দিয়ে.....
দারুণ তো!
গান গেয়ে উঠার কথা ছিলো।
"প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙীন পাখা?"



ছবি তোলা শুরু করলাম। প্রজাপতির ছবি তোলা.......।? ভীষণ কঠিন। এক জায়গায় বসছে না কেউই......কখনো ফুলে ,কখনো পাতায় উড়ছে শুধু।


রাশীক এর দিকে যতবার তাকাই দেখি টি শার্ট ঝাড়ায় ব্যস্ত। রাইয়ান খুবই ব্যস্ত......ছুটছে প্রজাপতির পিছনে। মানুষ ও বেশী.......
ছবি তোলার সুযোগ করে নিতে হচ্ছে.....

একটা প্লেটের উপর কমলালেবু কেটে রাখা ,অনেক গুলো প্রজাপতি বসে খাচ্ছিল। এই প্রজাপতি গুলো একটু জংলী দেখতে।

জায়গাটা বেশী বড় না.......। ২০ থেকে ২৫ মিনিটেই ঘুরে শেষ করা যায়। কিন্তু সময় নিয়ে ছবি তুললাম তাই অনেকক্ষন থাকতে তো হলোই।
একটা ছেলের দেখি হাতে প্রজাপতি বসেছে,ওর সাথের মেয়েটি ভয়ে ভয়ে হাত বাড়াচ্ছে। ওদের সম্মতি নিয়ে ছবি তুললাম । কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। খুব সুন্দর হবে জানতাম ছবিটা।


আর একটা মেয়ে দেখি হাতে প্রজাপতি নিয়ে ঘুরছে। আমি ছবি তুলতে চাই বুঝতে পেরে হাতটা বাড়িয়ে দিলো......। খুব সুন্দর একটা মেয়ে......মুখটা মনে থাকলো। হাতের ছবিটাই তুললাম। অদ্ভুত একটা মুহূর্ত।


কটা প্লাস্টিক এর ঘরের মধ্যে অনেক শুয়াপোকা........প্লাস্টিক টায় গোল গোল গর্ত করে.........যেখান থেকে প্রজাপতি বের হয়ে আসে।
ভিতরে ছোট্ট একটা ঝর্ণা। অজস্র গাছপালার ভিতর একরাশ প্রজাপতিরা উড়ছে। আমি ঘুরছি ওদের পিছনে...। নিজেকে ছোটবেলার সাজি মনে হচ্ছে। একটা ঘাস ফড়িং এর পিছনে কত বিকাল কাটিয়েছি।শুধু উড়িয়ে দেয়া। ধরতাম না। যদি পাখাটা ভেঙে যায়।

আমি ঘুরছি। রাইয়ান টা পিছনে ছুটছে। ছবি তুলতে গেলেই ফু দিয়ে প্রজাপতি উড়িয়ে দিচ্ছে।


রাশীক এর তাকিয়ে হাসি পেলো। তখনো হাত পা চুলকানো নিয়ে ব্যাস্ত। ওর ছবি তুলতে গেলাম ,হেসে দিলো। আমার ছবি তুলতে বললাম,কোনমতে কয়েকটা ছবি তুললো। বললাম আর একটু পর ই বের হচ্ছি।

একটা নীল প্রজাপতি উড়ে এসে বসলো একটা পাতায়। এত সুন্দর।
কোনমতেই আর উড়লো না।অনেকক্ষন চেষ্টা করলাম। ফু দিলাম। নাহ্‌ কিছুতেই আর পাখা মেললো না।
আবিদার গাওয়া দারুণ গানটা শোনাব নাকি?
গুন গুন করলাম........
"প্রজাপতিটা যখন তখন
উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে
রাঙা মেঘের মতন।
বসে আমার আকাশ জুড়ে........."



নাহ কিছুতেই হলো না। আবিদাটা যদি কখনো আসতো এখানে। প্রজাপতি দেখে মুগ্ধ হতো। ওকে এত ভালো লাগে। ওর কথা বলা ,গান গাওয়া ,হাসি ..।সবই খুব ভালো লাগে। ওর বয়সটাতে নিজেকে ভাববার চেষ্টা করি। দিনগুলো চোখের পলকে হারিয়ে গেলো। ঐ বয়সে আমার ভালোলাগা, ভাবনা গুলো এখনো চোখ বন্ধ করলে যেনো ছুঁতে পাই।


রাশীক রাইয়ান কে নিয়ে ভাবনার সাগর থেকে বেড়িয়ে একসময় বেড়িয়ে এলাম।
ওদের বাবা বলে ,"তোমাদের পর কত মানুষ গেলো আসলো।"
ও জানতো ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলাম। রাশীক হালকা অনুযোগ করলো কি! আমরা আবার পার্কের আশে পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম ।

বিকাল এর দারুণ আলোতে চারিদিক ঝলমলে।কখনো এমন বিকালে নায়েগ্রা ছেড়ে যাইনি........এবার বললাম চলো ........রাইয়ান কটাদিন বাইরে বাইরে থেকে বাসায় যাবার জন্য অস্হির। ওর প্রিয় খেলনা ,ওর নিজের জগত ওকে টানছে..........
রাশীক ও বললো চলো ফিরি।

বেশ ক'বার থেমে থেমে কফি খেয়ে, রাতের খাবার খেয়ে ......রাখী পূর্ণিমার চাঁদটাকে দেখতে দেখতে ........কত গল্প,কত গান শুনে নিজেদের শহরে যখন পৌছুলাম ,ঘড়িতে তখন রাট ২ টা প্রায়। রাইয়ান সারাপথ ঘুমালো। রাশীক বিকালেই একটু ঘুমিয়েছিলো তাই জেগে থাকলো।
আমাদের গল্প কথায় সুর মেলালো..........
এভাবেই শেষ হলো আমাদের এবারকার নায়েগ্রা বেড়ানো।

আর এই বেড়ানোতে এখন সাথে থাকবার জন্য সবাইকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা .........
মনে হলো নাতো শুধু আমরা চার জন.......।মনে হলো সবাই মিলে ঘুরে এলাম।:)


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:৫৭
৩৩টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×