(একটা টেলিফোন বাজছে। সোফায় বসে থাকা মেয়েটার চোখ টিভির দিকে।ও কিছু দেখছে না ,কিছু শুনছে না। ওর জড়সড় বসে থাকার মধ্যে একটা ভয়। ওর চোখের পাতা স্হির হয়ে আছে। পলকহীন এই তাকিয়ে থাকার মাঝেই ফোনটার অবিরত রিং।
এক সময় খুট করে এ্যানসারিং মেশিন টা অন হয়ে যায় কি ! )
আছো তুমি ওপাশে নায়লা?
শুনতে পাচ্ছো?
আমি জিসান।
৭৪ ঘন্টা ২০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড তোমার সাথে কথা হয়নি আমার।
জানো আমি মেঘের উপর ভেসে ভেসে তোমার সাথে কথা বলছি ?
আমার শরীর জুড়ে মেঘের নীল রং পোশাক।
এত সুন্দর মেঘের দেশটা
এখানে আসতে হবে জানলে তোমাকে সংগে আনতাম।
দু'জনে মিলে হাত ধরাধরি করে মেঘের দেশে ঘুরতাম ।
এত সুন্দর আকাশ আজ।
কেনো যে সেদিন হঠাৎ অমন বৃষ্টি নেমেছিলো।
আমি প্লেনটাকে পাখীর মত উড়াচ্ছিলাম।
হঠাৎ আকাশ কালো করে সে কি তুমুল বৃষ্টি।
আমি কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছিলাম না সামনে।
হঠাৎ প্লেনের পাখা অচল হয়ে গেলো।
সেকেন্ড ,মিনিটগুলো এত দ্রুত কাটতে পারে।
তোমার চোখ দু'টো মনে এলো শুধু।
মুখটাও ভাবা হলো না।
পলকেই ঘটে গেলো সব।
এখন যখন সবাই প্লেনটাকে খুঁজবার জন্য ঘুরছে।
আমি মেঘের উপর বসে আছি।
কেমন টুপ করে মেঘের বাড়ী চলে এলাম কে জানে!
(ওদিকে নায়লার নীরবতায় কোন শব্দ ছুঁয়ে যাচ্ছে না।ওর কানদুটোতে গত তিনদিন কোন শব্দ যায়নি।সেই যে একটা ফোন এলো। একটা প্লেন হারিয়ে গেছে বৃষ্টিতে পাহাড়ের নীচে কোথাও। যেখানে জিসান ছিলো। তারপর থেকে ওর অনুভব গুলো সব জমাট বেঁধে আছে ।
জীবনের এ কোন সীমানায় ও দাঁড়িয়ে আজ?
ওর কানে যে আগুনের মত কিছু নেমে গেলো।
ভিতরে সব কিছু পুড়ে গেলো তা তে?)
(জিসান কথাই বলছে)
নায়লা আমি জানি পৃথিবীর কোন শব্দ তোমার কানে যাচ্ছে না।
তুমি নীরব নীথর হয়ে আছো
অথচ আমি খুব চাইছি তুমি নড়ে ওঠো।
তোমার হাত ধরে পৃথিবীর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়াবার কথা ছিলো
তোমার চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখতে দাও ।
আমি জানি তুমি একদিন খুব ভালো এক বন্ধু পাবে তোমার পাশে চলার
যার সাথে তুমি আমার কথা বলবে
তার কছে তুমি হাসবে। কাঁদবে।
তোমাদের দুইটা মেয়ে হবে পলা আর মিলা।
আর ছেলেটার নাম হবে মেঘ।
ওদের সাথে তুমি সবুজ ঘাসের উপর লুটোপুটি খেয়ে খেলবে।
মেঘের দিকে তাকালেই কেনো যেনো তোমার আমাকে মনে পড়বে খুব।
নায়লা যখন তোমার বয়স ৭৭ হবে বা আরো বেশী।
যখন তোমার খুব একলা হওয়া সময়।
আসবে আমার কাছে?
আমি তোমার জন্য মেঘের বাড়ী বানাবো।
একটা ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে তোমাকে মেঘের পালকিতে বসাবো।
আমি পাশে হেঁটে যাবো আর তোমার সাথে গল্প করবো।
নায়লা আমি তোমাকে ৫৭ বছরের ছুটি দিলাম।
তুমি ঘুমাও।
ঘুম থেকে উঠে দেখবে একটা নতুন পৃথিবী তোমার জন্য অপেক্ষায় আছে।
(এ্যানসারিং মেশিনটা খুট করে বন্ধ হয়ে গেলো বোধহয়)।
সোফায় বসে থাকা নায়লার দু'চোখে ঘুমের ব্ন্যা। অনেক ঘুমাবে ও।
একটা বিশাল ঘুম থেকে নায়লা যেদিন জেগে উঠে.....ওর চেতনায় ঘিরে থাকে অপেক্ষা..।৫৭ বছর এর অপেক্ষা? কে জানে!.......।
একটা ঘোরের মধ্যে ও ঘুরে বেড়াতে শুরু করে ও।বেঁচে থাকলে কত কিছু যে সয়ে যেতে হয়!
শেষকথা:
(শেষ নাহি যে শেষ কথা কে বলবে)
পৃথিবীতে কত অবাক বিস্ময় যে ঘটে।
নায়লা জিসানের জীবনটা অন্যরকম হতে পারতো।
কিছুই কি চাওয়ার মত ঘটে?
ভালোবাসার তুমুল বন্যায় ভাসানো যায় তো জীবন।
তাহলে কেনো চলে যায় কাছের মানুষ দুরে?
চোখের আড়ালে ঘটে যাওয়া ঘটনায় মন কেমন করে। আর যা কিছু খুব কাছে থেকে দেখা। পরিচিত মানুষের জীবনে ঘটে যায়। আমরা কেমন কষ্ট পাই।
কারো কারো জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায়। খুব আচমকা।
দুঃস্বপ্নের মত যা তাড়া করে বেড়ায়।
অথবা খুব মুগ্ধ কিছু সময় ধরে রাখে হৃদয়। সবটাই যার যার নিজস্বতায় মাখানো।
আর এই সব নিয়ে লেখা হয় কত গল্প। কত কবিতা। কত নাটক।
সেই গল্পর মধ্যে কেমন জড়িয়ে যাই আমরা । আমি,তুমি এবং সবাই।
কি করে যেনো সেইসব গল্পের চরিত্র বনে যাই।
নায়লার মত।
জিসানের মত)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

