এত সুন্দর একটা চিঠি। মাঝে মাঝেই ঘুরে ফিরে পড়ি। উত্তর লেখা হয় না।
অনেকদিন এমন সুন্দর চিঠি আসেনা....।মেইল বক্সে তো না।
ইমেইলে ও না।
ফেরারী পাখী তোমার চিঠি।
তোমার জানতে চাওয়ায় আমার জীবন যাপন।
আমার ছেলেদের গল্প।
ওরা কি বাংলা জানে কি না........
চিঠির শেষে আমাকে নিয়ে তোমার ভাবনাদের কথা।
আমাকে নিয়ে অনুভবের কথা।
আমার লেখা নিয়ে কথা।
শুধু প্রশংসা.....এত ভালোবাসার উত্তর কি করে দেই?
আজ অনেক দিন পর তোমার সাথে মেসেন্জারে কথা হলো।
বললে লেখা দিচ্ছো না কি। বললাম আজ তোমার চিঠির উত্তরটা না হয় দেবো ব্লগেই।
আগেও চিঠি দিয়েছি তোমাকে। তোমার জন্মদিনে লেখা চিঠিটা এমন ছিলো।
"কেমন আছো শাপলা?
শুভ জন্মদিনে?
জীবনের সুন্দর দিন গুলো কি দ্রুত হারাচ্ছি না আমরা?
খুব অবাক লাগে ....এই তো সেদিন.......মৈত্রী হলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কত রাত গল্প....বিকালে ছাদে ঘোরাঘুরি.......
পিছনের বিডিআর এর লেকটায় পাখিরা আসতো শীতের.....।
গেটের দারোয়ান গুলোর চেহারা এখনো স্মৃতিতে.........।
ক্যাফেটেরিয়ায় মামুর বানানো পরোটার জন্য লাইন.............।
আমার রুমমেট বিউটি চায়ে চিনি কম খেতো...........।
ছেলেটা বলতো ৩ টা চা ,হুগগা চিনি কম.........মানে একটায় চিনি কম.......
কি মজা যে লাগতো।
দেশে গেলাম ২ বার ..........ইচ্ছা থাকলেও যাওয়া হয় নো কোথাও।
সবাই হয়তো অবাক হয়ে তাকাতো যদি যেতাম............
আমার আর এক রুমমেট মিতুল........।যা মজার মিষ্টি একটা মেয়ে.......।
খুব মনে পড়ে সবাইকে।
মনে পড়ে হলের জি এস বান্ধবী নিপুকে.......
তোমার তো বিউটি ,মিতুল ওদের চিনবার কথা..........
২ টা বিউটি ছিলো.....।
খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড।
ভালো থেকো.....।
সারাজীবন প্রিয়জনদের জন্মদিন মনে রেখেছি.............
তোমরা তো এখন কাছে থাকো.......।তোমাদেরকে মনে রাখবো না?
ভালো বাসা নিও।
মেয়ে কেমন আছে?
তোমরা ভালো থেকো। তোমাদের ছবি পাঠিও।
শুভেচ্ছা থাকলো.....।তোমারা দুজন ভালো থেকো। মেয়েকে আদর দিও।
আমার নানিবাড়ি কিন্তু বগুড়া।
সাজি আপু"
আমরা দুইজনে একই হল এ ছিলাম। আমি যখন বের হয়ে গেছি।তুমি তখন হলে ঢুকেছো। একই পথ দিয়ে দিনের পরদিন তুমি হেঁটেছো যেখানে আমি হাঁটতাম।যে কৃষ্ণচূড়া আমাকে ভাবাতো.........যার নীচ দিয়ে নিত্যদিন আনাগোনা।
সেখানেই ছিলে তুমি ও।
দিন গুলো চলেই গেলো ......।
ফেরারী পাখির মতই।
আর ফিরে আসবেনা।
তবু এই যে খুঁজে পাওয়া......এই আনন্দ মনটাকে কেমন আনমোনা করে।
অনেক ভালো থেকো।
স্মৃতির আলমারীতে ভরে রাখা স্মৃতিরা উপছে পড়ে .....তোমার মত কাউকে দেখলে।
আমাদের এই যে ব্লগিং এর জানালা........
একটা বাড়ীর বিভিন্ন ঘরে আমাদের মনের বসতি।
ভাবতে খুব অবাক লাগে।
আমরা সবাই এত কাছের হয়ে গেছি।
এক এক সময় মনে হয় ছুঁতে পারছি কাউকে কাউকে......
ভালোবাসার অমল বোধগুলো আসলে পাল্টায় না.......।
যতই পাল্টাক না কেনো জায়গা।
আগে মানুষের দেখা শোনা হতো রেলগাড়ীর কামরায়।
বাসের জানালার পাশে। হয়তোবা এয়ারপোর্টের লাউন্জে......
কত সম্পর্ক ,কত বন্ধুত্ব।
কত ভালোবাসা ।
এই আধুনিক বিশ্বের অন্যতম আবিস্কার এই ইন্টারনেট।
নিমেষেই অনুভূতিগুলোকে পৌছে দিচ্ছে কোথায় থেকে কোথায়.....
মানুষকে একটু দেখার ইচ্ছাটুকুই যথেষ্ট........নিমেষেই ইচ্ছাপূরণ।
ছোটবেলায় রুপকথার বই এ পড়া সোনের কাঠি রুপার কাঠি মনে আজ আমাদের হাতেই......
কি জানি এত জানায় মানুষের প্রতি মানুষের আগ্রহ কি কমছে শুধু?
আমাড় ছেলের ফেইস বুকে বন্ধু তালিকায় ২৫০ বন্ধু।
আমাকে বলে তোমার এত কম?
আমি হাসি।
বন্ধু তালিকায় থাকলেই কি বন্ধু হওয়া যায়?
আমার ছেলের বয়সে আমার অনেক বন্ধু ছিলো।
যাদের অনেকের সাথে আজোবধি যোগাযোগ থেকে গেছে।
ওদের জীবনে এইটুকুই অনেক..........
কে জানে হয়তো ওরাই ঠিক।
আমি হয়তো শুধু বোকার মতে খুঁজে ফিরি বন্ধুদের।যাদের জীবনের নানান বাঁকে ফেলে এসেছি। হ্য়তোবা এটাই জেনারেশন গ্যাপ........
আমার ছেলে আর আমি বসে ভাবনার ঘুড়ি উড়াই.......।
ওদের ভাবনার ঘুড়িকে ছুঁতে পারি না...........
আমার ভাবনার ঘুড়ি শুধু মাটি ছুঁতে আসে.......
ভালো থেকো শাপলা.......
অনেক কথা বলা হয়ে গেলো এলোমেলোতায়।
সুন্দর একটা ভোর হবে একটু পর।আজ অনেক অনেকদিন পর রাত জাগলাম....
স্মৃতিতে রইলে তুমি এবং কিছু সুন্দর সময়...এবং অপেক্ষা।
ভালোবাসা নিও।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

