somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক বৃষ্টি রাতে নায়েগ্রাতে.........

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বেশ কয়েক বছর ধরে প্রতি বছর সামারেই কোন না কোন ভাবে নায়েগ্রা যাওয়া হয়ই।দেশ থেকে কেউ আসলে নাহলে নিজেরাই।
শুনেছি সমুদ্রের টান আছে। শুধু সমুদ্র না প্রকৃতির ভীষন ভীষন টান আছে। মানুষেরই মত। বড় ভাই ওয়াটার লু'তেই সেটেল হলেন ।এই সামারে ব্যক্তিগত কারনে তেমন কোথাও যাওয়া না হলেও অগাস্টে ২ বার ওয়াটার লুতে যাওয়া হলো। আর এত কাছে নায়েগ্রা ,ওখানেও যাওয়া হলো তিনবার।
প্রথমবার হলো হঠাৎ।
বিকাল সবাই বসে চা খাচ্ছি। আমি খুব মজা করে মুড়ি আর চানাচুর মাখালাম । টমেটো ,কাঁচামরিচ,ধনিয়াপাতা,সরিষার তেল দিয়ে। বড়ভাই খুব খুশী হলেন। বললেন দেশ থেকে আসার পর এমন মজা করে মুড়িমাখা খাননি। যাইহোক সবাই বেশ আড্ডা হচ্ছে।
আকাশটা এত সুন্দর নীল মেঘে ভরে আছে। পিছনের বাগানে বসে চা মুড়ি খাচ্ছি আর আকাশ দেখছি। গল্প ও হচ্ছে। রাইয়ান দোলনায় দুলছে।

রাশীকের বাবা বললো চলো নায়েগ্রাতে যাই। বলে কি? এই বিকাল বেলা ? যেতে যেতে সন্ধ্যা হবে। বলে পরশু তো যাচ্ছি ।সারাদিন কেটে যাবে ম্যারিনল্যান্ডে। আজ রাতের নায়েগ্রা দেখে আসি। বুঝলাম ওকে টানছে নায়েগ্রা। রাশীর আর রাইয়ান সারাদিন ঘুরে ক্লান্ত।
আমরাই রওনা দিলাম। ওয়াটার লু থেকে নায়েগ্রা যেতে দেড় ঘন্টার কম সময় লাগে।

(পথে হ্যামিলটনের কাছে আকাশটা এমন হয়ে ছিলো)

নায়েগ্রা যখন পৌছুলাম।বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।
এত মানুষ । আমাদের নায়েগ্রার সামনে নামিয়ে দিয়ে ও গাড়ি পার্ক করতে চলে গেলো।যেখান থেকে মেইড অব দ্য মিস্ট এর জাহাজটা ছাড়ে। এই জাহাজে চড়াটা রাশীকের বাবার খুবই পছন্দ। দিনের বেলা আসলে ওটায় চড়তেই হয়। জাহাজগুলো সব থেমে ছিলো। বিকাল পর্য্যন্ত ওগুলো চলে।

আমরা যেখানে দাঁড়ালাম সেখান থেকে আমেরিকার দিকের ফলস্‌টাই বেশী চোখে পড়ে। অন্ধকার বেশ গাঢ় হতে লাগলো। মানুষের ঢল দেখছি। কত বিচিত্র মানুষ।

ছবি তুললাম অনেক। কিন্তু ফলস ছাড়া মানুষের ছবি তেমন ভালো এলোনা। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন রং এর আলো ফলস্‌ এর উপর দেয়া হয়। কখনো লাল।কখনো নীল।

কখনো রংধনু সাত রং এর।


ওর জন্য অপেক্ষা করতে করতে পায়ে ব্যাথা। ও যে অন্য দিকটায় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে বুঝিনি। ফোনে কথা বলার পর বললাম আমরাই আসছি । হাঁটছি আর ছবি তুলছি।
টুপটাপ বৃষ্টি শুরু হলো।
এক জায়গায় দেখি ঘিরে রেখেছে। ওখান দিয়ে কাউকে যেতে দিচ্ছে না। সুতরাং ঘুরে মেইন রাস্তা দিয়ে যেতে হলো। কারন জানতে চাইলে একজন বললো একটু পর ফায়ার ওয়ার্কস শুরু হবে। বুঝলাম এতক্ষনে এমন অস্বাভাবিক ভীড়ের কারন।
চার বছর আগে আমরা এখানে ফায়ার ওয়ার্কস দেখেছিলাম। সেদিন অনেকে ছিলাম। টরন্টো থেকে তুহিন ভাই ,উনার ভাই ,বাংলাদেশ থেকে উনাদের মামা অভিনেতা মাসুদ আলী খান এসেছিলেন। আমরা নায়েগ্রার পাশে একটা পার্কে বার বি কিউ করেছিলাম।
হাঁটছি আর কত কথা ভাবছি।সবখানেই স্মৃতি জমে জমে পাহাড় হয়ে আছে। পথ ফুরাচ্ছে না। হঠাৎ এমন বৃষ্টি নামলো।দৌড়াবার কোন উপায় নেই, চাইছিও না। তাকিয়ে দেখি গন্তব্য এখনো অনেক দুর। অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে যাচ্ছি।বড়ভাই আর উর্মিও কিছুটা দৌড়ে পরে হাঁটতেই থাকলো।
বৃষ্টিতে ভিজা আর হয় কই!
খুব ভালো লাগলো।
অনেক বছর আগে আমরা যখন হলি ফ্যামিলির ডক্টরস কোয়ার্টারে থাকতাম।এমন ঝুম বৃষ্টি এলে ছাদে যেয়ে ভিজতাম। আবার কখনো নীলক্ষেতে রিকশা নিয়ে যাচ্ছি,এমন ভিজেছি বহুবার।বৃষ্টি এমনি কোথায় থেকে কোথায় যে নিয়ে যায় নিমেষেই।

ওর কাছে যখন পৌছুলাম ।ও শুধু ভিতর বাহির করছিলো ।ওর মাথাও ভিজে সারা। আমাদের দেখে খুব হাসলো।আমি ওড়নাটা তখন গামছার মত ব্যবহার করছি। ও খুব মজা পাচ্ছিল আমাদের দেখে।বলছিলো কই তেমন তো ভেজোনি। আমাদের কথার ফাঁকেই ফায়ারওয়ার্কস শুরু হলো। কিছু মানুষ বৃষ্টির মধ্যেই বের হয়ে গেলো। হয়তো তাদের অনেকই প্রথম নায়েগ্রায় এসেছে।আমি ছবি তোলার চেষ্টা করলাম না আর। কিছুক্ষন ভিডিও করার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম।
কাঁচের দেয়ালের কারনে সম্ভব হলোনা...

কফি খেয়ে আবার ফেরা !
ভেবেছিলাম পথে কোথাও থামা হবে রাতের খাবারের জন্য।
আমি বললাম আজ খিঁচুড়ী বানাবো ফিরে।সাথে আলু ভর্তা আর ডিমভাজি।সবাই যে কথাতেই রাজি।

দারুন সব গান শুনতে শুনতে , সারাপথ বৃষ্টি দেখতে দেখতে যখন আমরা ফিরলাম......তখন নিজের ভিতরটাই কেমন অন্যরকম লাগছিলো।
নায়েগ্রা দেখে।বৃষ্টিতে ভিজে নাকি অন্যকোন কারনে।
মনে ভাবছিলাম মানুষের ভালোলাগা বোধগুলো কেমন করে যে বুকের গভীরে থেকে যায়। এক একটা ঘটনায় তা বেড়িয়ে পড়ে।
সেদিনকার সেই বৃষ্টিতে ভেজা খুব দরকার ছিলো।
ওকে বলছিলাম সেকথাটাই বারবার!

(নায়েগ্রা ,ম্যারিনল্যান্ড আর নায়েগ্রা অন দ্য লেক সিটতে বেড়ানোর গল্প লিখবো আবার সহসাই কখনো।)





সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ৭:২৭
৭৮টি মন্তব্য ৭৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×