কিচ্ছু ভালো লাগেনা আজো।
তুমি যত দুরে যাচ্ছিলে কাল।
ততই তোমার কাছে হচ্ছিলাম আমি।
পথের দু'ধারের গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে
আমাকে তোমার মনে পড়ছিলো ভীষন।
৪১০ নং এক্সিটটার কাছে থামবে বলেছিলে।
একটা কফি শপে ঢুকে একটা মিডিয়াম ডবল্ ডবল্।
এরপর দুরের জানালার কাছের গিয়ে বসলে।
কানের কাছে তখনো কথা বলছি আমি।
বললে দুরে গাছগুলো কেমন বর্ণার্লী হয়ে আছে।
লাল ম্যাপেল অনেক সেখানে।
বললে ,"তুমি এলে কত ভালো হতো।
একটা স্মল কফি নিতাম চিনি ছাড়া তোমার জন্য।"
বললে সামনে বসা এক যুগলের কথা।
দুজনেরই বয়স আশির উপরে।
হাতে হাত রেখে কথা বলছেন আর কফিতে সময়।
বললে একদিন আমরাও আশি হবো,নব্বই হবো একশো হবো।
আমি বললাম ,হতেই হবে............একশো বছর।
তোমার দীর্ঘ পথযাত্রায় অনেকবার কথা হলো।
গাড়ীর স্পিডোমিটার এর কাঁটা কখন কত তাও জেনেছিলাম আমি।
এমনকি সিডিতে কখন কি গান।
নুসরাত ফতেহ আলী খানের সেই বিখ্যাত সেই গজল
বার বার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শুনছিলে।
মনে পরে অনেক বছর আগে ছুটিতে বাড়ি যেতাম যখন।
তুমি ক্যাসেট ভরে কত কথা বলে দিতে।
সারাপথ ওয়াকম্যানের হেডফোনে সেই কথাগুলো
আমাকে ভুলিয়ে দিতো তোমাকে ছেড়ে দুরে যাবার দুঃখ।
আমিও ক্যাসেটের ফিতায় ভরে দিতাম গাওয়া গান যত।
তখন কত আকাশ ,পাতাল কথা ছিলো আমাদের।
প্রিয় বই,প্রিয় কবিতা,প্রিয় সব কিছুই থাকতো।
এমনকি জানালার পাশের সেই গাছগুলো।
আর বারান্দায় লুটোপুটি খাওয়া চড়ুইগুলোও।
কাল রাতে অনেকদিন পর আবৃত্তি করলাম।
আমার সেই বৃষ্টিতে কবিতাটা।
কেমন এক অনুভূতির খেলা হচ্ছিল হৃদয়ে।
কিছুই ভোলে না মানুষ জানো? শুধু ভুলে থাকে।
ভাবোতো মানুষ আমরা কত বিচিত্র রকম জীবন যাপন করি।
কিছু শব্দ,কিছু অনুভব সাজিয়ে মালা গাঁথি
কৈশোরের শিউলী ফুলের মতন।
আজ সকালে তোমাকে খুব বলতে ইচ্ছে করছিলো কিছু কথা।
প্রিয় কবির মত করে....
"কাল রাতের বেলা গান এলো মোর মনে
তখন তুমি ছিলে না মোর সনে।"
অথবা
"তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে।
আমায় শুধু ক্ষনেক তরে।"
তোমার হিংসুটে চেহারাটা দেখতে পাচ্ছিলাম।
অথচ জানো রাখাল যাকে তুমি ঈর্ষা করো
যাকে তুমি বুড়ো বলে গালি দাও।
সেই কেমন করে কাছে এসে দাঁড়ায়
আমার একলা সময়ে ।
সে না বললে আমি কি বলতে জানতাম তাঁর মত করে?
........"তোমায় নতুন করে পাব ব'লে হারাই ক্ষণে- ক্ষণ।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

