somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কাঁটাতারের সীমান্তে দাঁড়িয়ে অজস্র নদীনালা ,খালবিল
নদীতে উধাও বেহিসাবী ভাবুক মন।

যাকে খুব প্রয়োজন ছিলো।
তার জন্য সীমান্তের দিকে তাকিয়ে
বুকের মধ্যে অহর্নিশ বাজছিলো করুণ বেহালা।

একটা আনন্দঘন সময়ের হাত ধরে
তার আলোকিত চলে আসা।
কাঁটাতারের ভিতরে সেই জনের সাথে দেখা।

একটা উজ্জ্বল মোহনীয় সময়ের
মুখোমুখি বসে দুজনের মাঝে
কোন সে মহাকাল জেগেছিল।

আগুনের লেলিহান শিখায়
পুড়ছিলো সব শেকড় বাকড়।
বুকের ভিতরের কাঁকড়া বিছার কষ্টের দাপাদাপি।

পৃথিবী যাপনের কতসব দিনরাত্রি
কি করে সব একাকার হয়ে গেলো
এই একটা মাত্র অভিলাষী দিনে।

একটা বিশাল না এর মোহনায় এসেও
সবকিছু কেমন মোহনীয় হয়ে গেলো !
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28872068 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28872068 2008-11-21 12:28:15
স্মৃতির নামাজ গড় কতদুর ?................. হেঁটে গিয়েছিলাম আমরা।
মায়ের তখন মধ্যাহ্ণ বেলা।

একটা গলি
দুইটা গলি
অজস্র গলি পথ চোখের সামনে মিলায়।

মায়ের ছাঁয়া লম্বা হতে হতে
গাছের মত দীর্ঘ হয়ে যায়
সেই ছায়া দেখে দেখে
বহুদুর পথ।

নামাজ গড়ের মোড়ে এসে
মা থামেন। দোকানীর সাথে সাধারন কথোপকথন।
প্রয়োজনীয় কেনা কাটা।
মার হাতে রাখি হাত।
কি করে পারো মা...।
কি করে এতটা পথ হাঁটি !

মা বলেন,"এই তো আর দুই মিনিটের পথ।"
ঠনঠনিয়ার মোড় থেকে নামাজ গড়
কে জানে কত দুর পথ!

বাহারী খড়মে পায়ের ফোস্কায় জমে পানি।
হাতে তুলে নিয়ে ছুটতে থাকি মায়ের পিছনে।
মা হামিদা বাগ কত দুর?
সেই সুলতান গন্জ পাড়া? নানি বাড়ি?

আজো পথ হাঁটি।
কত দুর দুর পথ।
হাঁটতেই থাকি.......।
পথ পেড়িয়ে পথ যায়।
খুঁজে ফিরি মায়ের সে হাত।
ভাই এর দেয়া বাহারী খড়ম।
ফোসকা পড়ে না আর পায়ে
তবু পায়ের সেই ক্ষতটা বুকে জমা হয়।

মা আবার কখনো একবার কি
যেতে পারি সেই নামাজ গড়?
মা হাসেন।
বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মা বলেন,"হাটতে পারি না
আগের মত।"
আমি বলি এবার না হয় আমি তোমার হাত মুঠোয় ধরে থাকবো।

শুধু চলো মা আবার যাই.......
সেই নানী বাড়ি....হামিদা বাগ
সেই বাতাবী লেবুর গাছ!

ঠনঠনিয়ার মোড় থেকে
নামাজ গড় মনে হয় খুব কাছে চলে এসেছে মা।
মা অবাক চোখে তাকান।
স্বপ্নে আমি বহুবার ও পথে হেঁটে গেছি।
আমি যত বড় হয়েছি।
পথ তত ছোট হয়ে গেছে।

অপেক্ষায় থাকি।
একদিন এক সকালে আমরা ঠিকই যাবো
সেই চেনা পথে।
কোন এক সুরভীত সকালের জন্য
তুমি এক আঁচল বকুল নিয়ে অপেক্ষায় থেকো মা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28871385 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28871385 2008-11-19 22:15:18
বিশ্বায়নের স্রোতে ভেসে আমরা সবাই........ মানুষ আমরা পণ্য হতে হতে একদিন
ভুলুন্ঠিত হয়ে যাবো ।
হয়তোবা
এভাবেই পৃথিবীর পথে পথে
থেমে যাবে চলাচল।

কাক কোকিলের গল্পের মত
একদিন কে কাকে পৃথিবী দেখাবে?
মানুষের পরম প্রিয় মানুষই হবার কথা।
অথচ
প্রানীকুলের দিকে ঝুঁকবে সবাই।

বিশ্বাস হীনতার কবলে
হারাবে কত সকাল,দুপুর
এবং রাত।

সকালের সূর্য্যটা যখন চোখ মেলবে।
প্রগতিশীল মানুষ তখন ঘুম চোখ কচলাতে কচলাতে
দৌড়াতে থাকবে।

মানুষ হবার হাজার বছরের ইতিহাস
একদিন শুধু কাগজের বুকে ইতিহাস হবে।
অজস্র ভালোর দিকে তাকিয়ে
অবাক হবে কেউ কেউ....

আকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
মানব মানবীর না বলা ভালোবাসা
কেমন নীল রং বেদনা ছড়াবে।

খুব বিস্মিত চোখে দেখবে সবাই
একদিন পৃথিবীতে
সুনিবিড় সুখময়তা ছিলো.......।

আকাশে খুঁজে পাওয়া মানুষ
আকাশেই বাঁধতো ঘর......
দেখা হতো বেলা অবেলায়।

দেখা হতো।
কথা হতো।
শুধু ছুঁয়ে দেখা হয় নি কাউকে ......

বিশ্বায়নের বাজারে
টাচ ইন সার্ভিস এ কত কিছু হয়ে গেলো।
শুধু মানুষ ছোঁয়া হলো কই?

সময়ের দুর্বিপাকে এইভাবে কত শ'বছর
হারালো
মানুষ
কাক
অথবা
প্রানীকূলের একত্রিত চিৎকারে?



ছবির লিন্ক:
Click This Link




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28870173 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28870173 2008-11-17 12:20:48
বিমূর্ত হয়ে থাকি যখন চাঁদ হাসে........ তুমি এবং আমি
চাঁদটার দিকে তাকিয়ে থাকি।

তুমি বললে জ্যোছনায় পা ডুবাতে নেই
আমি পা দু'টো শুন্যে ভাসিয়ে
পরী হয়ে যাই নিমেষে।

তুমি আমার পিছনে আসে দাঁড়াও।
আমার ঘাড়ের পিছনে তোমার
নিঃশ্বাসের ছোঁয়া।

তুমি এবং আমি
এভাবেই
বিমূর্ত প্রতীক হই বেঁচে থাকার।
যখন চাঁদ হাসে।

সুখ পাখি হয়ে হাসি।
কখনো জ্যোছনায় মিশে মিশে
কখনো শুন্যে ভেসে
কখনো বা
খুব মুখর কোন সংলাপের বাগানে

যখন তুমি ফুলের বনে গন্ধ খুঁজে বেড়াও
হ্য়তোবা কৈশোরের কোন বেলী ফুল প্রেয়সী
আর এখন আমি বেলী হয়ে
সুরভী ছড়াই
তোমার চারিপাশে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28868342 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28868342 2008-11-13 00:14:42
আমার প্রিয় এক মানুষের কথা যে চোখের ডাক্তার কিন্তু নিজেকে কবি ভাবতে ভালোবাসে মানুষ হই

দেয়ালে হাত দিয়ে
প্রাচীরের বাঁধা অনুভব করে
অতিক্রম করার শক্তি
অর্জন করতে চাই।
প্রিয় মানব ও মানবী
আমাদের একটি পৃথিবী
একটাই রক্তের ধর্ম লাল
কারা কি করে তুলে দিলো
এতোটা দেয়াল,পৃথিবীময়?
কি করে
মানবের তরে প্রাক্বতিক এইসব
পাহাড় পর্বত নদ নদী
দ্বীপ চর আর
অভিন্ন পৃথিবী
হয়ে গেলো এক একটি মুক্ত স্বদেশ!
এতোগুলো দেয়াল,পাসপোর্ট ,ভিসা
ভৌগলিক সীমারেখা ভুলে,
জাতি ,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে
কি করে আমাদের এক হওয়া
যাবে?
হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে উঠে
কে দু'হাত তুলে জানাবে
সমস্ত দেয়াল ভেঙ্গে,
এসো আমরা সবাই
মানুষ হই।

কবিতাটা যার লেখা ।যার কাছে আমার লেখালেখির হাতে খড়ি যার কাছে তার কথা প্রায়ই লিখবো ভাবি।
চিঠি বিষয়ক কিছু কথায় তার কথা লিখেছি।


আমার ভাইজান। যার তারুণ্যে সে চাঁদের হাট করতো। লালমনিরহাটে একটা পাঠাগার করেছিলো। আমাদের বাসার সমস্ত বই নিয়ে সেখানে দিয়েছিল।আমাদের কোন চোখের পানি আটকাতে পারেনি তাকে।(আমাদের প্রিয় সব বইগুলো এক সময় অন্যদের শো কেসে শোভা পেতো) ভাইজান তখন ঢাকা মেডিকেলে পড়তে গেছে। আমি তখন সবে স্কুলে যাচ্ছি মনে হয়....ভাইজানরা একটা দেয়ালিকা বের করলো....বৃষ্টি ঝরা মেঘ। আমার জীবনের প্রথম ছড়া লিখলাম। বহুবছর আমাদের বাসায় খাটের নীচে একটা ট্রাংকে সেটার অনেক গুলো কপি ছিলো।
আমি যখন স্কুলের বড় ক্লাসে যাই,মাঝে মাঝে খুলে দেখতাম......ছড়ার নাম মনে নেই ।চারটা লাইন মনে আছে....

"যেতে পথে দেখি আমি থুড় থুড়ে এক বুড়ো।
সব শুনে বুঝলাম তার নাই কোন যে কুড়ো।
সর্বনাশা বানের জল নিয়েছে সব কাড়ি
যত ছিল নাতি পুতি যত টাকা কড়ি।"

লেখাটা আমি কি লিখেছিলাম এভাবে ছন্দে ? নাকি মেজো বোন সুন্দর শব্দে,ছন্দে সাজিয়ে দিয়েছিলো ? কে জানে!
সেই তো শুরু.....

আর ভাইজান ,যার অনুপ্রেরণায় বই পড়া, ডাইরী লেখার মত দারুণ অভ্যাসগুলো....যে ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে আসলে ব্যাগ ভরে বই আনতো.....নিজের টাকা বাঁচিয়ে। সেই আনন্দ আজ এত কাল পরে বসে ও পাচ্ছি।
স্মৃতি গুলো এতটাই কাছাকাছি মনে হচ্ছে......চাইলেই হাত বাড়িয়ে ছুঁতে পাচ্ছি সেইসব দিন।
নিজের জন্য ভাইজান আনতো ঈদসংখ্যা বিচিত্রা । নিজের বইগুলো রেখে ছুটির ক'দিন লুকিয়ে ভাইজানের বইগুলো পড়তাম। একদিন ভাইজানের বন্ধু দিলীপ দা এসে বলেন," কি রে তুই নাকি উপন্যাস পড়িস?"
পালিয়ে গেছিলাম ধরা পড়ে। ভাইজান কি করে বুঝলো আমি বিচিত্রার উপন্যাস গুলো গিলছি তখন।
ঈদের আনন্দে বন্ধুরা যখন ছুটে বেড়াচ্ছা আর আমি খাটের কোনায়,বারান্দার কোনায় বসে বুঝে না বুঝে শেষ করছি শওকত ওসমান,সেলিনা হোসেন, সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ, সৈয়দ শামসুল হক সহ আরো কত বরেণ্য লেখকদের লেখা।

মা খুব অনুযোগ করতেন ভাইজান বাড়ী আসলে ....।পড়ার বই এর মধ্যে লুকিয়ে গল্প বই পড়তাম এক সময়। ভাইজান শুনে বলতো ,"বই তো পড়ছে। আর ছাপানো হলে যে কোন বই হোক না কেনো ভালো কিছু তো শিখাবেই। আর ও বুঝে নেবে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ।"
মনটা এত বড় হয়ে যেতো।

এই হলো আমার ভাইজান।
যার কাছে সারাজীবন উপহার বলতে পেয়েছি শুধু বই....।গত বছর ভাইজান যখন আমার এখানে বেড়িয়ে গেলো। ভাবীর পাঠানো শাড়ী কাপড়ের পাশে দেখি একটা প্যাকেট। ভাইজান আমাকে দিলো ।শাড়ি কাপড়ের আনন্দে যখন মশগুল আমি। এ একটা অদ্ভুত উপহার আমার জন্য। সাতকাহনের দুই খন্ড। দেশে গিয়ে প্রতিবারই কিছু করে বই এনেছি। এই বইটা কেনো যেনো আনা হয় নি।আনন্দে কাঁদলাম অনেকক্ষন নিজের ঘরে যেয়ে।
এই পৃথিবী সমান সুখ আমি কি করে বোঝাই । কাউকে ?

মন চাইছিলো ভাইজানকে জড়িয়ে ধরে বলি কি করে তুমি জানলা ঠিক এই বইটার জন্য আমার মন কেমন করতো? এই দীপাবলী চরিত্রটা পড়ে আমার তারুণ্যে কত উদ্দীপিত হয়েছি। নিজের নাম নিজে দিয়েছি দীপাবলি। বইটা পড়ে জলপাইগুড়ির সেই মেয়েটি আর লালমনিরহাটের রেলওয়ের সাহেব পাড়ায় বড় হওয়া আমি কেমন এক হয়ে যেতাম।

সেই ভাইজান নিজের পেশাগত কারনে অনেকদিন লেখালেখি থেকে দুরে ছিলেন( লেখালেখি থেকে দুরে কি করে বলি ! ছাপাছাপি থেকে আসলে। লিখে গেছেন) । নিজে চোখের ডাক্তার হওয়ায় অনেক ব্যস্ততা । অন্ধদের নিয়ে একটা প্রশিক্ষন স্কুলের দ্বায়িত্বে আছে ও।

গাছ খুব ভালোবাসে ও.....ঢাকা মেডিকেলে পড়ার সময় ভাইজানের নাম দেয়া হয়েছিলো মালি। নিজের খরচের টাকা বাঁচিয়ে,এর কাছে ওর কাছে টাকা নিয়ে ভাইজান গাছ লাগাতো।
ফজলে রাব্বি ছাত্রাবাস থেকে শুরু করে বকশী বাজারের অনেক গাছই আমার ভাইটার লাগানো।অনেক কৃষ্ণচূড়া রাঙায় পথঘাট।

ভাইজান পেশগত জীবনের সমান্তরালে এই যে প্রক্বতি প্রেম। এই যে লেখালেখি। মানুষের প্রতি প্রবল দ্বায়িত্ববোধ..........।কেমন আটকে গেছে ও। এর মাঝে দুইটা বই ছাপানো হয়েছে ।
কবিতা সমগ্র ১
কবিতা সমগ্র ২

যারা ওকে চিনেছে।
তারা তো চিনেছেই । খেপা মানুষ। যা ভালো লাগছে তাই করছে।
ভাইজানের জীবনের মনে হয় কোন না নেই......অনুতাপ নেই।
অকাতরে মানুষের জন্য করে গেছে। যাচ্ছে।আব্বা নেই অনেক বছর। আব্বার অসমাপ্ত কাজ গুলো ও করে যাচ্ছে। আব্বার আত্মা আশাকরি শান্তি পাচ্ছেন তার সফল উত্তরাধিকার এর কারনে।

যারা ওকে বুঝতে পারে তাদের কাছে ও অসাধারন একটা মানুষ।
আর দু'জন মানুষ হলো আমার মা এবং আমার ভাবী....যারা ছায়ার মত ভাইজানের এই সব সৃষ্টিশীলতায় পাশাপাশি আছে। আরো আছে আমার দুই বোন।কাছে দুরে থেকেও যারা ভাইজানের সব কাজে জড়িয়ে আছে।
ভাইজানের জন্য শুভ বোধ রাখছে।

ভাইজানের কথা লিখতে বসে আজ কত কথা মনে আসছে........সারাজীবন কিছুই তো করি নি ওর জন্য। গতবার ও যখন আমার এখানে আসলো মনে হচ্ছিল সব,সব ভালোলাগা জায়গাগুলোয় ওকে নিয়ে যাই। সব ভালো ভালো রান্না করে খাওয়াই। ১০ দিন ছিলো ....প্রতিদিন ঘুরেছি। এত ভালো লাগতো। আমার বিদেশ জীবনের শ্রেষ্ঠ ক'টাদিন গেছে । খুব প্রিয় একটা মানুষ নিয়ে নায়েগ্রা ফলসের পাশে দাঁড়িয়ে আছি। যার দেয়া বই পড়ে পড়ে পৃথিবীর কত দেশ মহাদেশ ঘুরেছি। যেই নায়েগ্রা ফলসের সামনে গেলে আগে চোখ ভেসে যেতো জলে। মনে হতো প্রিয় সব মানুষদের নিয়ে সব সুন্দর দেখি।

সেই প্রিয় ভাইজান আমাদের পাশে। ঘুরছে কথা বলছে। ঘাসের উপর শুয়ে রাইয়ান ওয়াসীদের সাথে খেলছে। আছে। কে জানে ওর ভাবনায় তখন কি ঘুরে বেড়াচ্ছে।
আমার ছোটছেলে রাইয়ান সারাক্ষন ট্রেন নিয়ে ঘুরতো।
এখান থেকে চলে যাবার পর ভাইজান লিখেছিলো ,চলে এসেছি অনেকদিন।অথচ রাইয়ানের সেই ট্রেনের শব্দ কানে শুনি।

রাশীক চুপচাপ স্বভাবের হলেও রাইয়ান খুব অস্হির বলে আমি চিন্তা করছি দেখে ভাইজান বললো দেখিস ও খুব ভালো ছেলে হবে।
সেই কথা মনে ধরে আছি।ওর সব দুষ্টামী ছাপিয়ে ভাইজানের কথাটাই বিশ্বাস করি। অবাক হয়ে দেখি রাইয়ান ও বদলে যাচ্ছে। গুনগুন করে গান গেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সারা বাড়ী।
ভাইজান এর ছোটবেলায় কেমন ছিলো দেখি নি......রাইয়ান এর ছবি দেখে ভাইজান বলেছিলো ও নাকি ভাইজানের মত .......খুশীতে উত্তাল হয়েছি।
ভাইজানের পেশগত ব্যস্ততা এত বেশী ।এর পাশে ভলান্টিয়ার কাজ তো আছেই।
শুনেছি....ওদের সোনালী পার্কে শুরু হয়েছে লালমনিরহাটের ডায়েবেটিক হাসপাতাল। যেটা একটা বৃদ্ধাশ্রমের স্বপ্ন দিয়ে শুরু হয়েছিলো....

আমার কবি ভাইটার জন্য অভিনন্দন।

যে দু'টো হাত দিয়ে অপারেশন করে ও শত শত মানুষের দৃষ্টি ফিরে পেতে সাহায্য করে। যার হাতে লেখা হয় মানবতার কবিতা। ভালোবাসার কবিতা। তার জন্য একটা কবিতা পাঠিয়েছি কাল জন্মদিনে......কিন্তু মনে হলো আর ও তো পারি।

বলতে তো পারি ভাইজান তুমি আমার সারাজীবনের অহংকার হয়ে থেকো।
সব খানে। তোমার কথা বলতে গেলে এমন করেই যেনো খুশীতে ভাসি।
আমাদের জীবন শুরু হয়েছিলো যেই শ্রেষ্ঠ মায়ের জঠরে.......তার জন্য আমাদের ভালোবাসা তো রইলোই।শ্রদ্ধা সেই বাবাকে যে আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছিলো।

ভাইজানের জন্মদিন ছিলো কাল।(৯ নভেম্বর)।
ওর জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা।
আল্লাহ যেনো ওকে দীর্ঘজীবি করেন।

যারা আমার এই এত্ত বড় লেখাটা পড়লেন কষ্ট করে তাদের জন্য অগ্রিম ভালোবাসা।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28867597 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28867597 2008-11-11 10:11:37
আশীর্বাদের বৃষ্টি ঝরুক .................. বৃত্তবন্দী হয়ে পড়বার আগে খুব দীর্ঘ কোন পথের দিকে ছুটতে থাকে সবাই। কোলাহলের খেয়ালী মিছিলে হেঁটে যেতে যেতে বুকের মধ্যে শব্দের ঝংকার হয়। মৌনতার সমাবেশে শুধু সবার নিঃশ্বাসের শব্দ বাতাসে মাখামাখি করে থাকে। দম আটকে আসার আগেই সবাই সরব হয়।

আর কি আশ্চর্য্য ! তখনি আকাশ থেকে নামে বৃষ্টি।

সবাই একসাথে সেই বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে। সবার ভিতরের ঋণাত্মক বোধগুলো ঝরে যেতে থাকে। খোলস ছেড়ে একে একে বের হয়ে আসে সবাই শুদ্ধ হয়ে।

গলা ফাটানো চিৎকার।
একের প্রতি অন্যের অনুযোগের বিরাট তালিকানামা। কিছুরই প্রয়োজন হয় না।

একটা বৃষ্টিই পারে বদলে দিতে তাদের কে।

এবং অতঃপর তাহারা সুখে বসবাস করিতে থাকে.......এমন একটা স্লোগানে পর্দা নেমে যায় মঞ্চে......

(এমন একটা আশীর্বাদের বৃষ্টির অপেক্ষায় আছে সবুজের বুকে লাল পতাকার দেশের স্বপ্ন বিলাসী মানুষ গুলো।)


ছবির লিন্ক:
Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28866873 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28866873 2008-11-09 21:54:23
শীতার্ত সকালে মেয়েটির চাওয়ায় উষ্ণ দু'টি হাত........... বুকের ভিতরে নলম পেলবতা।
হাত দুটো খুঁজছে উষ্ণতা.....

গ্লভস্‌ দুটো পেতে না পেতেই
প্রথম বাস।
ঘুম জাগা চোখে বাস ড্রাইভারের
উষ্ণ সম্ভাষণ।

শহরটা ধোঁয়ার মত
জুবু থুবু হয়ে থাকে।
পথের ধারের শীর্ণ গাছগুলো
শীত ঘুমে মগ্ন।

শুধু দু'একটা কাঠবিড়ালী
হঠাৎ খেয়ালে বেড়িয়ে পড়ে পথে।
সূর্যটা আজ আলো দেবে কি না
আকাশ ও জানে না।

বাস এর মন্হরতায়
মেয়েটার হাত দুটোয়
হীম শীতলতা।

দু'টো গ্লভস্‌ নাকি
দু'টো উষ্ণ হাত চাই ওর
এই শীতার্ত দিনে?



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28866541 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28866541 2008-11-09 01:13:58
উড়ে যায় পাখি,ফেলে যায় পালক তার, একটা সাদা এবং একটা কালো উড়ে যায় পাখি,ফেলে যায় পালক তার একটা সাদা এবং একটা কালো

একটা কালো পাখী
নিরন্তর ডেকে যাচ্ছিল।
যদিও ভাষার প্রকান্তর হবার কথা ছিলো।
অথচ শিশুদের সেই আদি এবং অকৃত্তিম ডাক
মা এর মত পাখিটি ও একই সুরে ডাকছিলো শুধু।

চারিদিকে পাতাঝরার মওশুম ।
পথ দিয়ে হেঁটে গেলে
বর্ণালী পাতাদের শব্দাবলী।

চলে যাওয়া সূর্যের দিকে
তাকিয়ে থাকে সবাই।
সবারই অপেক্ষায় নতুন সূর্য এক।

মাথার মধ্যে কুসংষ্কার এর দীর্ঘ তালিকা।
অসময়ের পাখীর ডাকে
কত কিছু হতে পারে.....
ঝড়,ভূমিকম্প বা মহামারীর মত কিছু।

পাখীটার ডাকে তাকিয়ে থাকে সবাই।
সেই পাখীটি আজ সুখের প্রতীক হয়ে উঠে।
কুসংষ্কার ছাপিয়ে
নতুন সংষ্করণ আসে।
পাখিটার কালো চোখে জগত ভাসে।

("Free at last! free at last! thank God Almighty, we are free at last!")
পাখীটা গেয়ে উঠে।
পাখিটা আর কেউ নয়.....
মার্টিন লুথার কিং।
পাখিটা উড়ে চলে যায় দিগন্ত থেকে দিগন্তে।
পড়ে থাকে পালক তার....একটা সাদা এবং একটা কালো।
(Barack Obama আর Joe Biden)

এবং পৃথিবীর মানুষ নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে।
এক নতুন সূর্য দেখবে বলে
সবাই পৃথিবীর পথে হাঁটতে থাকে.......


ছবির লিন্ক:
Click This Link

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28865387 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28865387 2008-11-06 10:11:30
নীল ছায়া মেঘ এবং নীল নীল নীলাঞ্জনা..............। মনে পড়ে তাকে।
নীল।নীল।
নীলাঞ্জনাকে।

"দু'চোখে ধূসর ছায়া ।
আকাশে উড়ন্ত পাখী।
পাতাগুলো ঝিরঝির।
বাতাস শুধু কাঁপে।
পৃথিবীটা বড্ড সুন্দর"...........বলেছিলো সে।

ওদের বসন্তদিনে
ফুলেরা ছিলো।
আগুন ঝরানো অনুভব ছিলো।
দু'চোখে টুপ্‌টাপ্‌ বৃষ্টি ছিলো।

মন চেয়েছিলো বলে
ওরা হয়েছিলো মনে মনে পরবাসী।
দেশ থেকে দেশ
কত মহাদেশ
শুধু ভাবনাতেই উড়ে উড়ে ভালোবাসাবাসি।

ঘাসের উপর হুটোপুটি খেলায়
চলে যেতো কত ধূপছায়া ক্ষন।
নীল।নীল।নীলাঞ্জনা ........
ডাকটা শুনবার জন্য কত লুকোচুরি দিন।

কত নামে ডাকাডাকি।
কত নতুন গানের সুর।
সব কিছু কত দুরের হলো
ভেসে গেলো সব সুরাসুর।

অবেলার ডাকে চলে যাওয়া নীল
দু'চোখে নদী হয়ে যায়।
হাতের মুঠোয় একটা উষ্ণ অপেক্ষার চাবি
নিয়ে ঘুরে বেড়ায় সে।

কোন মেঘে তার বাড়ি.......
কোন নীল ছায়া মেঘ?
খুঁজে পেলে
ছায়া দেখে একদিন সে ও ......



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28864719 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28864719 2008-11-04 22:02:12
ছায়ার সাথে মগ্ন খেলা........... ঝিম ধরা বুকের মাঝে নিঝুম দুপুর বেলায়।
দু'চোখে আলোর মত খেলা করে
পাখি যুগলের নিবিড় সময়।

দেয়ালের গহীন গোপন গহ্বর থেকে
উঠে আসে গভীর মগ্নতা।
লঘুচাপের মত থিতু হতে থাকে যা।

মাথা থেকে হৃদয় অবধি যেতে যতখানি পথ
এর মাঝে বেজে উঠে ঝড়ের বিপদ সংকেত।
এক
দুই
তিন করে
নয় নম্বর এর মুখোমুখি ।

ছুটে যাওয়া এক তারার দিকে তাকিয়ে
প্রার্থনায় পাখির সকাল।
বুনো উষ্ণতায় মাখা ।

সাদা দেয়ালের নীলছায়া গোপন কুঠরী থেকে
উঠে আসা ছায়া নীরবে এসে দোল খায়
দোলানো চেয়ারে।

মাথার মধ্যে পাতা বিছানো পথে
ছায়ার হুটোপুটি খেলা।
বিজন ঘরের আঙিনা থেকে
ডেকে যায় ডাহুক এক।

খুব তাড়িত করে হৃদয়কে ছায়ার সাথে মগ্ন খেলায়।
আর আসন্ন ঝড়ের সম্ভাবনা তো থেকেই যায়!



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28863865 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28863865 2008-11-03 08:34:19
আমার পথে পথে তুষার ছড়ানো কবি গুরু কি দারুণ অনুভবে বলেছিলেন যে ,আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে।
বাংলাদেশের আষাঢ় মাস এমনই.......। মানুষকে কবি বানিয়ে ছাড়ে। যে মানুষ কোনদিন গান গায় নি সেও জানালার ধারে দাঁড়িয়ে গুন গুন করে। প্রকৃতি এমনই।
আর আমরা বাংলাদেশের মানুষরা পৃথিবীর যে প্রান্তে পড়ে থাকি না কেনো.....ষড়্ঋতুর সেই অদ্ভুত ব্যাপারগুলো ভুলতে পারি কই......

গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহে.......গাছতলায় পথিকের বিশ্রাম।
বর্ষার বৃষ্টিঝরা দিনে....কদম ফুলের সুবাস।
শরতের ঝলমলে আকাশ..... সকালের শিউলী ফুল।
হেমন্তের ভোরের শিশির........ধান কাটার গান।
শীতের হিমেল হাওয়া......পিঠে খাওয়ার ধুম।
বসন্তের উত্তাল দিনে.......গাছে গাছে ফুল আর ফুল।

এইতো আমাদের বাংলাদেশ।অনেক গুলো বছর পার হয়ে গেলো.....সেই ষড়ঋতু শুধু অনুভবের আঙিনায় ঘুরে বেড়ায়। কখনো আনমনে সিক্ত করে চোখ......
চারটা ঋতুর এই দেশ কানাডাটাতে অনেক দিন হয়ে গেলো....
Fall
Winter
Spring
Summer
ক্যালন্ডারে শীত আসার অনেক দেরী থাকলেও এবার শীত খুব তাড়াতাড়ি পড়ে গেলো মনে হয়।
সবারই মন খারাপ........এবার সামারটা কেমন বৃষ্টিতে কেটে গেলো।
অটোয়াতে খুব বৃষ্টি হয়েছে এবার। সামারে ছেলেদের দুই মাসের ছুটিতে প্রতি উইকেন্ডে কোথাও না কোথাও ঘুরতে গেলাম.........কিন্তু সবখানেই ঠান্ডা আর মেঘলা দিন ছিলো।

কাল সকাল থেকেই সবাই বলছিলো স্নো পড়বে.....বিশ্বাস হচ্ছিল না......গাছে গাছে পাতারা এখনো দুলছে....পথে বের হলেই পাথা ঝরা দেখি......গাছেদের উদাস ভংগীতে দাঁড়িয়ে থাকা দেখি.....আর ভাবি গাছেদের মত হওয়া দরকার......কেমন যুদ্ধ করে বাঁচছে প্রকৃতির সাথে............
কাল আবহাওয়া চ্যানেল গুলো বারবার বলছিলো রাত থেকে স্নো পড়া শুরু হবে। ২৫ সেন্টিমিটার। .......পড়বে সকাল পর্যন্ত........
বাসায় তখন দেশ থেকে আসা মামাতো বোন রুনীর হাজবেন্ড আহসান......।ও এয়ারফোর্সের একটা কোর্সে এসেছে.....।ওর চোখে মুখে কি যে আনন্দ। তুষার পাত দেখবে.......আমরা বলি বরফ <img src=" style="border:0;" />......
ওর মুখে তুষার শুনে কি ভালো যে লাগলো....
ছোটবেলায় টিভিতে ম্যুভি অফ দ্য উইক ইংরেজী ছবিতে তুষার পাত দেখে কেমন আপ্লুত হতাম।অনেক দিন পর্যন্ত খুব ইচ্ছে করতো ছুঁয়ে দেখতে সেই তুষার......।
আজ অনেকদিন পর সেই রকম খুব উদ্ভসিত একটা মুখ দেখলাম......ও কে বললাম যখন আকাশটা লাল হয়ে উঠবে তখন শুরু হবে তুষার পাত.....ও বার বার জানালার কাছে যাচ্ছে.....।
এক ফাঁকে আমাদের ভিডিও করলো........দেশে গিয়ে রুনীকে দেখাবে.....।
আমরা কিভাবে থাকি........।
ওর জন্য কর্ন স্যুপ আর নুডলস করেছিলাম বিকালে । মুড়ি আর চানাচুর মাখলাম পিঁয়াজ ,মরিচ ,টমাটো দিয়ে।.....চা মুড়ি খেতে খেতে দেশের গল্প। বারবার জানালার কাছে গিয়ে দেখছে......আমি বললাম ,"তুমি ভাগ্য নিয়ে আসছো আহসান।তুষারপাতকে এই দেশীরা খুব পছন্দ করে।" আমাদের দেশে যেমন বৃষ্টি আসাকে শুভ ধরা হয় ,এখানে তুষারপাতকে...।

আমাদের আলোচনার মধ্যে একজনের আবার টেনশন.......গাড়ীর উইন্টার টায়ার লাগানো হয়নি.....। কি দরকার এত তাড়াতাড়ি বরফ আসার...<img src=" style="border:0;" />
যাই হোক ওরা বাইরে গেলো ......টিম হর্টনে আড্ডা দিতে আর কফি খেতে আর আমি ব্লগে বসলাম...
রাশীক ঘুমাতে গেলো টেনশন নিয়ে..ওকে সকালে পাবলিক বাস ধরে স্কুলে যেতে হবে.....ছোটটার স্কুল বাস আসে..দেখা যাক......।
মনে মনে ভাবলাম বেশী স্নো পড়লে কাল আর স্কুলে দেবো না.....।

ব্লগে বসে লেখা পড়ছিলাম....।
আর একটু পর পর জানালার কাছে দাঁড়াচ্ছিলাম......
সবসময়ই এই সময়টা দারুন লাগে......আকাশ থেকে ঝিরঝির করে সাদা সাদা তুলার মত তুষার গুলো পড়ছে........
রাশীকের বাবাকে ফোন করলাম। ও বললো আহসান ছবি তুলছে মোবাইল দিয়ে....।
ওরা বাসায় আসলো।খেতে বসে একই গল্প।রাশীকের বাবার রান্না করা গরুর মাংস আর ডাল খেয়ে ও তো মুগ্ধ।

রাত বারোটার দিকে নাসিমার ফোন মন্ট্রিয়ল থেকে.......
বলে ,অভিনন্দন.......সেকেন্ডের মধ্যে বুঝলাম কেনো.........
বললাম কি স্নো ফল দেখলা এখন??
হেসে বলে হ্যা।
জানতোই না....।
একটু আগে জানালার কাছে যেয়ে অবাক হয়ে গেছে..।চারিদিক সাদা......সাথে সাথে আমাকে ফোন।বন্ধুত্ব একেই বলে.......

সকালে রাশীক স্কুলে যাবার পড়েই.....।রাইয়ান উঠলো।
আস্তে ধীরে নাশতা দিলাম....।স্কুলে দিচ্ছি না ওকে....বাস চলে যাবার টাইমের ১০ মিনিট না যেতেই চিৎকার সে স্কুলে যাবে......কি আর করা.....রেডী হয়ে রাখতে গেলাম.....
পথে গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে কেমন যে লাগলো.......

গুন গুন করলাম আমার পথে পথে তুষার ছড়ানো.....
তাইতো তোমার বানী বাজে ঝর্ণা ঝরানো।।......কবি গুরু সবখানেই এমন মনে পড়ে যায়........উনি এমন তুষার দেখলে
আমার পথে পথে পাথর ছড়ানো না গেয়ে
আমার মত করেই বলতেন..............আমার পথে পথে তুষার ছড়ানো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28861919 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28861919 2008-10-30 08:43:11
হৃদয়ের বর্ষাকাল নিয়তঃ বৃষ্টি ঝরায়..... ঝুমবৃষ্টি নেমেছিল।
আকাশ কালো করা মেঘেরা
উড়ে বেড়াচ্ছিল ।

তুমি ভোর রাতে বৃষ্টির শব্দে
জেগে উঠেছিলে।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে
বৃষ্টি দেখছিলে।

তোমার বাড়ীর সামনের পিচঢালা পথটায়
বৃষ্টি পড়ছিলো ঝম ঝম করে।
বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে
আমাকে তোমার মনে পড়ছিলো ভীষন।

অন্তত সাতষট্টিবার তুমি আমার নামটা ধরে ডেকেছো।
বিদ্যুতের ঝলকানির মত
তোমার মনের কোন সে গহীন থেকে বের হয়ে এসে
বৃষ্টিতে ভিজলাম আমি।

আমার হাসির শব্দে তুমি
অবাক হচ্ছিলে খুব।
বারবার মুখটা চেপে ধরছিলে শুধু।
জ্বরজারি ,নিউমোনিয়া শব্দগুলো....
বৃষ্টির শব্দে হারিয়ে যাচ্ছিল।

আমার মুখটা ভীষন ফ্যাকাসে দেখাচ্ছিল।
হাঁটুতে উঠানো কালো জিন্স।
গায়ের সাদা শার্ট টা তখন ভিজে একাকার।
তোমার ভেজা চুলের পানিতে ভিজছিল আমার চোখ।

দুর থেকে একটা রিকশা টুংটাং করে এলো।
আমি বললাম চলো শহরটা ঘুরে বেড়াই।
রাস্তার পাশে বিলবোর্ডগুলোতো
তখন শুধু তুমি আর আমি......
শহর ময় তিনটা মানুষ শুধু ঘুরছি .....।

বৃষ্টি এলেই এই রকম আমি।
আকাশ ছাপিয়ে।
দেশ ছাপিয়ে।
সমুদ্র ছাপিয়ে।
খুব প্রিয় শহরের প্রান্তে
তোমার সাথে আজো ঘুরে বেড়াই নিরবধি।

বৃষ্টির কথাতেই অনুভবের সিঁড়িতে চুপ বসে থাকি।
Rod Stewart এর গান শুনি.......
First Cut is the Deepest - ....
জীবনে এমন বৃষ্টিদিন কেনো যে আসে!
ভাসিয়ে দেয় শহর।
মানচিত্র ছাপিয়ে ভাসিয়ে দেয়
অন্য দেশ অন্য মানুষ।
দু'চোখের বর্ষাকালকে কি করে ঠেকাই বলো তো!
কি করে ভুলি সেইসব বৃষ্টি দিন রাখাল ছেলে!



First Cut is the Deepest :Rod Stewart
http://www.youtube.com/watch?v=6lZYAaQoks8

First Cut is the Deepest :Sheryl Crow
http://www.youtube.com/watch?v=6lZYAaQoks8]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28860667 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28860667 2008-10-27 21:08:08
নুয়ে থাকে নম্রতা প্রশ্নের কাছে শব্দের ঝাঁকুনিতে
বেশ বড়সড় ঝড় বয়ে যায়।

নুয়ে থাকে নম্রতা।
ভুল সময়ের ভুল ইতিহাস!

সবাই বলেছিলো তাকে
ভালোবাসা ভুলে যেতে।
নিজের ভিতর
লালিত সেই ভালোবাসার ভ্রুণ
ওকে পৃথিবীর কাছে
অপরাধী করলো।

অথচ ও জেনেছিলো
সহজ একটি কথা।
রক্তের রং লাল
সব মানুষের।
আর তাই ভালোবাসা হয়ে গেলো।

অথচ নিষ্ঠুর হলো মানুষেরা।
নম্রতার ভালোবাসায়
মসজিদ ,মন্দির,গির্জায় ভ্রুকুটি।

তাহলে ভালোবাসাকে মহান কেন বলেছিল?
কেন বলেছিল মানুষকে ভালোবাসো?




Question Mark Butterfly:
Click This Link]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28859234 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28859234 2008-10-24 23:05:52
বেঁচে থাকা কেনো দারুণ ব্যাপার...সাজি ছোটবেলায় আমাদের লালমনিরহাট সাহেব পাড়ার বাসার পাশের বাসায় মুক্তা আপার ফুফাতো একটা বোন থাকতো,মীনা আপা ........উনার বিয়ের পর একটা ছোট্ট মেয়ে রেখে উনি মারা যান....ক্যানসারে ভুগে। উনার শোকে উনার স্বামী সেই যে ঘর ছেড়েছিলেন আর কোনদিন ফিরে আসেন নি। বড় হয়ে যখন এই গল্প শুনতাম খুব অবাক লাগতো।
উনাদের মেয়েটা বড় হয় নানা নানীর কাছে জলপাইগুড়িতে । মেয়েটা একবার লালমনিরহাটে এসেছিলো.........ওর দু'চোখে সব হারানোর যে কষ্ট দেখেছিলাম...আজো মনে পড়ে।
এরপরে

দিনে দিনে এই শব্দটা নানান ভাবে কানে এলো..........
কিন্তু কে জানতো একদিন নিজেদের জীবনেও !

২০০১ এর প্রথম থেকেই আমার কাছের মানুষটার শরীর খারাপ হতে শুরু করলো....
খুব সাদামাটা কিছু উপসর্গ......
১)খেতে ভালো লাগছে না।
২)খেতে বসে প্রতিদিন কিছু খাবার ফেলছে।
৩)পেটে একধরনের অস্বস্তিকর ব্যথা।
৪)রাতে ঘুমানো সময় শরীরের ভিতর আনকমফোর্ট
৫)এবং দ্রুত ওজন কমছে।
৬)খাওয়ার পর পরই বাথরুমে যাওয়ার অনুভূতি
(খালি পেটে থাকলে অস্বস্তিটা থাকে না.....খেলেই সমস্যা)

ডাক্তার এর কাছে যাচ্ছে প্রায়ই। ডাক্তার ছোট্ট দু একটা টেস্ট করাচ্ছেন.....
গ্যাসট্রিক এর ওসুধ দিচ্ছেন।
দিন যাচ্ছে ,মাস যাচ্ছে...........ওর চেহারায় কালি পড়ছে।
যে দেখে চমকে যায়।
আমি ওকে না জানিয়ে ডাক্তার এর সাথে দেখা করি। বলি ওর কষ্টের কথা। খেতে না পারার কথা।ডাক্তার বলেন ও ভালো আছে......
ও কে নিয়ে আবার যখন যাই.....।
ওর পেটে ব্যথাটার কথা বলতেই ,পেটে একটা গুতা দিয়ে বলেন......"Do you think you have Cancer?.................."
ওর মুখটা মলিন হয়ে যায়।
ডাক্তার বলেন .......................চিন্তা কোরনা।তুমি অনেক ইয়ং।
ওর মুখের ভয়টা সরে যায়।
রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানান ওর ..Thalassaemia।
Click This Link
বাসায় এসে দেশে ভাই ভাবীকে জানাই(ডাক্তার) .....রিপোর্টাও স্ক্যান করে পাঠাই।
ভাইজান বলে চিন্তা করিস না ........। বাংলাদেশের অনেক মানুষই থ্যালাসেমিয়াতে ভুগে।

ওকে বলি চিন্তা কোর না.........
এর মাঝে দেশে ঘুরে আসি......
ভাবি দেশে গেলে যদি ভালো লাগে। দেশে গিয়ে ওর ওজন একটু বাড়ে।
কিন্তু ওর চোখের ক্লান্তি........রাতের বেলা গায়ে জ্বর চলতেই থাকে।
ফিরে আসার পর আবার ও টেস্ট শুরু...........
প্রথমে endroscopy
Click This Link

এখানে কিছু ধরা পড়েনা........।
এবার ডাক্তার করতে দেন colonoscopy...........

Click This Link

তারিখটা পাওয়া যায় ৩/৪ মাস পর.............
আবার সেই অপেক্ষা...... দিনে দিনে ওর অবসন্ন হওয়া......
প্রচুর ঘুরতাম সেই সব দিনে......কোথাও গেলে যদি ওর ভালো লাগে।
অবশেষে সেপ্টেম্বর আসে.....
মন্ট্রিয়ল ঘুরে আসি। হেলাল দের বাসায় খুব আনন্দ করি সবাই। ফিরে আসার সময় বলে জানো অনেকদিন পর মীরার হাতের রান্না খেতে পারলাম।
(সেই সব দিনে ও শুধু খাবার এর কথা ভাবতো। কি খেলে ওর ভালো লাগবে।)

Colonoscopy এর আ্যাপোয়ন্টমেন্ট।
ও একা যায়।রাইয়ান ঘুমাচ্ছিল..ও বললো
আমি রান্না করতে করতে ভাবি ...ও এসে কি বলবে.......
বলবে জানো আমার না ইয়া বড় একটা অসুখ হয়েছে.......ও খুব নাটক করতে পারে......এরপর আমি কি বলবো.....। এইসব ভাবতে থাকি।
ঘড়ির কাঁটা চলতেই থাকে........সময় যাচ্ছে না নাকি খুব দ্রুত যাচ্ছে.......ঘড়ির দিকে তাকাতে থাকি.....।
ও গাড়ী নিয়ে যায়নি।
বাসে আসতে একটু দেরী হতে পারে.....
অপেক্ষার সময়টা পেরিয়ে ও আসে......
দরজা খুলে দাঁড়াই.....
আমি জানি ও কি বলবে।আমি ওর দিকে তাকাই.........খুব হাসি হাসি একটা মুখ নিয়ে......ও হাসে না....কোন নাটকের সংলাপ.......খুব নাটকীয় কিছু......।
কিছুই বলে না.....
সোজা ঘর থেকে বেলকনিতে গিয়ে একটা চেয়ারে বসে.....।
আমি বলি কি কিছু বলছো না যে!
ও তাকায়।
হাসিহীন একটা মুখ।
পৃথিবীর এ যাবতকালের ভয়ংকর সেই শব্দটা শুনি।
ক্যানসার।
কোলন ক্যানসার।
Colon Cancer http://coloncancer.about.com/od/cancerprevention/a/Cancer_Symptoms.htmআমার চিৎকার টা কি আকাশ ছাপিয়ে গেছিলো।
কেমন করে এই শব্দটা ও আমাকে বললো। কেমন করে
আজকের নাটকটা সত্যি হয়ে গেলো!

ও কি করে এতটা পথ আসলো।ডাক্তার যখন ওকে কথাটা বললো......ও কি করে সেটা সহ্য করলো?
রাইয়ান ঘুমিয়ে ছিলো বলে আমাকে ও নিলো না আজ।
আর আজই শুনতে হলো এই খবর....।
একটা কাগজ বাড়িয়ে দিলো.........
ওয়েব সাইট.....।
এত কমন একটা অসুখ।
অথচ কোনদিন জানিনি......শুরু হলো আমাদের রিসার্চ.......সারাদিন ইন্টারনেট এ বসে থাকি।
ও যা খুঁজে পায় আমি পড়ি।আমি যা খুঁজে পাই ও পড়ে..........বান্ডিল বান্ডিল ইনফরমেশন।
আমাদের ফ্যামিলি ডাক্তার কে ফোন করে বললাম...........একদিন তুমি ফান করে যা বলেছিলে তাই সত্যি হলো......ডাক্তার অবাক হয়ে যায়......বলে আমি ভাবিনি এমন ইয়ং একজন ছেলের তেমন কিছু হতে পারে.......
আমি বলি সমস্ত সিম্পটম গুলো ছিলো.....
সে সাধারন শব্দটা বলে...........Sorry।
আমি শুধু ভাবি ওর কস্টের কথা.........২ টা বছরের কি ভীষন যন্ত্রনা।

খুব তাড়াতাড়ি সব ঘটে যায়.......
ইমারজন্সী ব্যাপারটা এখানে খুব ভালোই ঘটে.....।সিনেমার চেয়েও তাড়াতাড়ি......
৫/৬ ঘন্টার অপারেশন।
সার্জেন বলেছিলো ৪ ঘন্টা।
কিন্তু অপারেশন এর সময় প্রচুর ব্লিডিং হওয়ায় রক্ত দিতে হয় ।তাই সময় বেশী লাগে।
ছোট্ট দুইটা ছেলে নিয়ে আমি পারি দেই সেই সব দিন........।আল্লাহর অসীম রহমতে মা বাবা ,সবার দোয়ায় ও ভালো হয়ে ওঠে।
যে ছেলেটা ডাক্তার এর কাছে যেতে সবচেয়ে অপছন্দ করতো।
কাউকে হাসপাতালে দেখতে যেতে চাইলে বলতো তোমাকে নামায় দেই......সে হাসপাতালের সাদা চাদরে বসে শুয়ে কাটালো অনেকগুলো দিন......।

এরপর ছয় মাস Chemotherapy
সে এক অসম্ভব কষ্টের দিন............
এক একটা দিন যেনো এক একটা যুগ.....

আমাদের জীবনে সুখ স্মৃতিগুলো এত উত্তাপ ছড়ায় যে দুঃখদিন গুলো ভুলে থাকি ।
কত মানুষ এসেছিলো...কাছে দুরের কত মানুষের শুভাশীষ।
কত রকম ভাবে মানুষকে চিনতে শেখা.....।

আজকে সকালে হঠাৎ কেমন জানি লাগলো।
জটিলের পোস্ট টা পরে মনে হলো আসলেই সচেতনতার প্রয়োজন আছে।
জটিলের লিন্ক:

Click This Link
কে জানে আমার লেখাটা পড়ে অন্তত কিছু মানুষ যদি সচেতন হয়।
সে কারনে সব ইনফরমেশন গুলো দিলাম........
কোন অসুখই পুষে রাখতে নেই........।
যখন হাইপ্রশার ,ডাইবেটিস এর জন্য সচেতনতা বাড়ছে। মানুষ কথা বলছে। তাহলে ক্যানসার নিয়ে তো নিয়ে সচেতনতার সময় এসেছে।
একদিন টিবি,যক্ষায় মানুষ চলে যেতো.....
তার প্রতিষেধক বের হয়েছে......
প্রার্থনা করি একদিন ক্যানসার এর প্রতিষেধক বের হবে।
এই শব্দটার ভয়াবহতা মানুষ ভুলে যাবে............

কানাডার মত উন্নত দেশে থেকেও আমাদেরকে কি এক কঠিন সময় পাড়ি দিতে হয়েছে...উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্হার কারনে ফলোআপ ট্রিটমেন্ট গুলো ভালো হয়েছে।
পাঁচ বছর ফলোআপ টাইম পার হয়ে গেলো এ মাসেই.......
ও ভালো আছে.....।
আমাদের জীবনের আনন্দ হলো আমরা সুস্হতায় আছি......
সবার কাছে দোয়া চাইছি।
সবার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

আশ্চর্যজনক ভাবে দেখলাম যে সামহোয়ার ইন এ আমার একবছর পূর্ণ হলো ২ ঘন্টা আগে......সেজন্য একটা লেখা লিখছিলাম বেশ কিছুদিন ধরে.....সেই লেখাটা পরে কখনো শেয়ার করবো.......।



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28858357 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28858357 2008-10-22 23:15:19
ভাটিতে পড়ে থাকে এক পা ওয়ালা বকের মত দুঃখগুলো ভাটিতে পড়ে থাকে এক পা ওয়ালা বকের মত দুঃখগুলো

ক্রীতদাসের মত হাঁটুর কাছে বসে একদিন
চেয়েছিলে হাত দু'টো।
শুধু হাত দু'টো ধরবার প্রার্থনাই বারবার ।
এবং বলেছিলে
চোখ দু'টো জমা রেখে গেছো আমার কাছে
যেনো মনে রাখি !

কাগজে কলমের ছোপে ভরে যায়
হৃদয়ের ভাবাবেগ যত !
ইচ্ছে করে কবি হাসনা হেনার মত
দারুণ একটা কবিতা লিখি !
নিজের ভালোলাগাগুলো উজার করে দেই
সেই কবিতায়।
কতটুকু অনুভব,কতটুকু ইচ্ছাদের নিয়ে
ধাবিত তোমার প্রতি।
সব কথা বলে দেই সবখানে।
ইথারে ইথারে।
কাগজের বুকে।
বাতাসের কানে কানে।

অজস্র না এ ভরা জীবন তখন।
একটা বিড়ালের মৃত্যু দিয়ে শুরু হয়েছিল
জীবনের প্রথম ক্ষত।এরপর কানের দুল,গলার মালা।
প্রিয় কবিতার বই।
প্রথম হাত ঘড়ি।
প্রথম প্রেমের চিঠি।
সবকিছু একে একে না এর কাছে সমর্পিত।
দু'চোখের কান্নাকে ভুলাবার কার সাধ্যি তখন!
কেঁদে কেঁদেই ব্যাকুল সুখ।

আমার আকাশে তারা হয়ে যদি আসো কোনদিন।
কিংবা বাতাসের গায়ে চেনা গন্ধ হয়ে।
আমি খুব আপন আলোর মত
তোমার হৃদয়ের খুব কাছে দাঁড়াবো একদিন
বলেছিলাম আমি।

ভালোবাসার ধূসর পায়রাটা কি করে হারালো
অপেক্ষার ৬১৪ টি রাত
বলে যাবো ডেকে
ভালোবাসার অযুত নিযুত অদেখা প্রহরের অভিলাষ
হবে নাতো শুধুই শুভংকরের ফাঁকি!

বিজন জ্যোছনায় বসে হিসাব নিকাশের
একটা মিছিল না হয় হলো
যার স্লোগান জুড়ে
ভালোবাসার উতল নদীতে ভেসে বেড়ানোর
অজস্র দাবী।
স্রোতে ভেসে ভেসে যা শুধু উজানেই বায়।
ভাটিতে পড়ে থাকে আমার
এক পা ওয়ালা সাদা বকের মত দুঃখগুলোন !




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28857273 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28857273 2008-10-20 11:20:08
শুধু তোমার জন্য শুধু তোমার জন্য

আকাশ থেকে সমস্ত জ্যোছনারাশি
নেমে এসেছিলো ঝাউবনে।
শুধু তুমি এসেছিলে বলে।

গাংচিলেরা মগ্নতায় বিভোর।
ঘুমহীন চোখ আমার তোমারই জন্য।
শুধু তুমি আসবে বলে।

বৃহস্পতি গ্রহ
কিংবা শুক্র
কোনটাতেই কি কেউ ছিলো তোমার মতন?

পৃথিবীকে কি দারুণ যে লাগে।
সব দুঃখ কষ্ট অবসাদ ভুলে যাই
শূধু তুমি আছো বলে।

শরীরের মধ্যে শরীর জেগে থাকে ।
উষ্ণতার বোধটুকু বুঝে নিতে নিতে
অপেক্ষার বসতি গড়ি শুধু তোমারই জন্য।

সমুদ্রের যতগুলো ঢেউ বেলাভূমিতে আসে
ততগুলোই ফিরে ফিরে যায় মধ্য সমুদ্রে।
ঠিক এমনই ফিরে ফিরে যাওয়া শুধু তোমারই দিকে।

সূর্যোদয়,সূর্যাস্তের আলোকরাশি যখন
আকাশকে রক্তিমতায় মাখিয়ে দেয়।
ধাবিত দু'চোখ শুধু তোমার দিকে চেয়ে থাকে।

বুকের মধ্য যতবার শব্দের মত বেঁচে থাকা।
ঢিপঢিপ করা নিঃশ্বাসগুলোকে সাজাতে ইচ্ছে করে
শুধু তোমার কাছে থাকবো বলে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28856314 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28856314 2008-10-18 10:16:25
মন ছুঁয়ে যায় যাকে মন ছুঁয়ে যায় যাকে

অস্পস্ট চেতনার আলোকে
ফিরে দেখা সময়।
ব্যাকুল ডাকে ভিতরের আর্তনাদ।

লম্বা করিডোরের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা
অসংখ্য অচেনা মুখের সাড়ি।
এমন দিন কি কখনো এসেছিলো?
জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা
নির্ভুল ভাবে মনে পড়া কি একেই বলে?

সাদা বিছানার চাদরে ডুবে থাকে সে।
আমার আপন জন।
নিবিড় মমতায় তাকে ছুঁই।
আসি বলে চলে আসি ।

কেন এমন ধূসর সকাল আসে?
স্মৃতিতে ,মননে,জাগরণে।
চারিদিকে যত মানুষ,
যত কোলাহল।
সবার দিকে তাকাই
কেউ কি জানে
আমার ভিতরে কিসের প্রলয়?

প্রার্থনার চাদরে ডুবে থাকি অনন্তকাল।
কিছুই ছোঁয়না আর হৃদয়কে।
ক্ষধা ,তৃষ্ণা ,ঘুম কোথায় যে হারায়!

একটানা অনেক লম্বা প্রহরের প্রতীক্ষা পেড়িয়ে
সে আসে।
সাদা চাদরে নীল কাপড়ে
ওকে দেখে ভীষন কষ্ট হয় আমার!
পরম নির্ভরতায় দুজনে দুজনার হাত ধরি
বুকের ভিতরে তখন পাহাড় ভাঙার শব্দ।

অজস্র নিঃশ্বাসের কারচুপিতে কান্না ঢাকি।
ওর দু'চোখের বেদনাকে বুকে নিয়ে বসি ।
ও বলে ,"আমার কেনো এমন হলো?"
কেনো মানুষের অসুখ হয় সুখের আবাহনে?

লম্বা করিডোরের মেঝের টাইলস গুলো
প্রতিদিন ঝকঝকে করে মোছে ওরা
অনেকদিন ওখানেও ওর সাথে হাঁটা হাঁটি।

নানান বয়সী সবার মাঝে ভীষন নবীন যুবক এক।
ওর সেরে উঠায় প্রতিদিন আকাশ হাসে ।

দিন গড়ায়।
মাস গড়ায়।
বছর গড়ায়।
একটা লাল কার্ডের বাধ্য বাধকতা ওকে আটকে রাখে
পাঁচটি বছর।
যার থেকে মুক্তি মেলে কাল।
ওর মু্ক্তি আমাকেও পাখীর মত উড়ায়।
দুজনের হাতে হাত
ও বলে সত্যিই বেঁচে থাকাটা কি দারুণ ব্যাপার।
আমাদের ভালোবাসার নিবিড় ছোঁয়ায়
সকালটা হাসতে থাকে
আসলেই তাই
বেঁচে থাকা খুবই দারুণ ব্যাপার!


কিছু কথা:

(মানুষের জীবনে যত ঘটনা বলী........।সব কি লেখা সম্ভব কবিতায়?
আমার যা কিছু লেখালেখি ,আকাশ কুসুম ভাবনারা ,কখনোবা যাপিত জীবনের নানান কিছু চলে আসে কবিতার মোড়কে........

এই লেখাটায় আমার আর আমার প্রিয় মানুষের জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা বলেছি।।একটা দমকা হাওয়ার মত একদিন শুনেছিলাম ওর একটা অসুখের কথা.......আমার সেদিনকার সেই চিৎকার কি আকাশ শুনেছিলো......কেঁপেছিলো আকাশ?
খুব দ্রুত ঘটে যায় সবকিছু ....
অপারেশন।
পরবর্তি চিকিৎসা
এবং তারপর ফলোআপ......
এবং সেই ফলো আপ সময় শেষ হলো ২ দিন আগে।
আল্লাহ ওকে সুস্হ রাখুক.....।
আমরা যেনো অজস্র সকাল দেখি একসাথে এই পৃথিবীর পথে.....
আমাদের আজকের বিশেষ একটা দিনে এই প্রার্থণা.....
আজ ১৬ অক্টোবর......
আমাদের পথচলা শুভ হোক)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28855451 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28855451 2008-10-16 12:30:16
গাছের সাথে যুদ্ধ গাছের সাথে যুদ্ধ

ছাদের কার্ণিশ বেয়ে উঠে যাওয়া
কুড়িয়ে পাওয়া গাছটা
প্রতিদিন একটু একটু করে
দখল করছে আমার নিজস্ব জায়গা টুকু।

হসন্তের মত একটা দরকারী বোধ
খুব আক্রোশে জমা হয় হৃদয়ে।
কখনো কখনো খুব প্রয়োজনীয় যা
যা থাকলে শব্দাবলীর উচ্চারন দৃঢ় হয়
তেমনি এই জায়গাটুকুর প্রভাব।

বারান্দায় ঝুলে থাকা গাছটির
পাতাদের অহংকারী দোলা
আর দেয়ালের ইটের শরীরে ওদের শিকড় বাকড়
নিয়তঃই মনে হয়
ওরা সাম্রাজ্যবাদের ফর্মূলায়
গ্রাস করে নিচ্ছে আমার
একান্ত একা হওয়ার জায়গাটুকু।

দুরের আকাশটার দিকে তাকিয়ে
অজস্র বিকেলের ভাবনাকেগুলোকে
গুছানো তো ওইখানে বসেই।

এই জায়গাটুকুর দখলদ্বারিত্ব ছেড়ে দিতে
দু'চোখ ঝাপসা হয় ।
কত অসহায় হলে মানুষ ছাড়ে আপন ঘর
ছাড়ে আপন দেশ!
একটা যুদ্ধ মানুষকে যেভাবে ঘর ছাড়া করে
আমি ও তেমন করেই
ছাদের ঝুলানো দোলনাটাকে ছেড়ে দেই
গাছটির কাছে।

নিজের হাতে বোনা গাছটি
একদিন এমন করে গ্রাস করে নেবে আমার
একা হবার জায়গাটুকু
কোনদিন ও ভাবি নি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28854479 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28854479 2008-10-14 08:58:53
জনাকীর্ণ রুমে একা সময় জনাকীর্ণ রুমে একা সময়

কতক্ষন ধরে বসে আছি
সময় দেখিনি।
কানের কাছে কথা বলছে যারা
শব্দগুলো ঝংকারিত হচ্ছে শুধু।
আমি একবার এদিকে
আর একবার ওদিকে চোখে ফেরাচ্ছি।
নাহ্‌ ওদের মুখায়বে শব্দের কোন অনুভূতি
খেলা করছে না।

ওদের দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখ করে থাকবো?
না কি দুঃখবোধ?
কঠিনতম ভাষা বুঝে আমার কাজ নেই ।
বলুক ওরা চাইনীজ না কি ক্যান্টনীজ যা কিছু ইচ্ছা।
তার চেয়ে ভালো বই পড়ি।
কিংবা রিডার্স ডাইজেস্ট।
যেখানে লেখা হয় নানান যোদ্ধাদের খবর।
জীবনের নানান ঘাত প্রতিঘাতে
কি করে জয়ী হয় মানুষ।
তাদের সচিত্র বিবরণ।

সেক্রেটারী মেয়েটি পাশে এসে দাঁড়ায়।
আমার পিছনের জানালার দিকে তাকিয়ে বলে
কি দারুণ রোদেলা দিন।
মাথা নাড়ি ।
ও বলে হাঁটবার জন্য উপযুক্ত দিন।
আমি বলি হলুদ আর বর্ণালী সব পাতাদের আনন্দ দিন।

ডাক্তার এর চেম্বারে এলে
কত রকম বয়সের মানুষ দেখি।
কত বিচিত্র তাদের কথাবলা।
কার রক্তে গ্লুকোজ কত
কার রক্তচাপ কেমন।
কার কোলেষ্টোরেল বাড়লো কত
এইসবই চিন্তার কারন।
খাদ্যাভাস পরিবর্তনের লিস্ট কারো হাতে।

এখানে এলেই বুকের মধ্যে দিড়িম দিড়িম
তিড়িং তাক করে হৃদকম্পন হয় আমার।
অনেক দিন আগে এক ডাক্তার বলেছিলো
আমার নাকি হোয়াইট এপ্রোন ডিজিজ আছে।
উনাদের দেখলেই রক্তচাপ উঠানামা করে।

৮০ -৯০ বছর বয়সী মানুষের দিকে তাকাই।
কারো হাতে কারুকার্য শোভিত লাঠি।
কারো কারো নিঃশ্বাসে শব্দে সচকিত সবাই।
কারো কারো মুখের চামড়ায় কথা বলে নিরুদ্দেশ সময়।

এখানে এলেই আমার ভাবনাগুলো কোথা থেকে
কোথায় যে যায়!
শতায়ু হবার বাসনা বোধ ছড়াতে থাকে
একটা কারুকার্য শোভিত লাঠির জন্য
নাকি মুখের অজস্র ভাঁজের জন্য
কে জানে!
কে জানে মন কেনো উন্মনা হয়!

হাতের রেখায় কি জীবন লেখা থাকে?
হাতের দিকে তাকাই
কোনটা আয়ু রেখা?
সেটা কি বাড়ছে?
শতায়ু হবার ইচ্ছা পুরণের
নিবিড় বাসনায়?

জনাকীর্ণ রুমে নানা বয়সী মানুষের ভীড়ে
নিমেষেই একা হয়ে যাই ।
এইসব খেয়ালী ভাবাবেগে ভেসে ভেসে।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28853303 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28853303 2008-10-11 10:14:41
শিউলী তোকে চিঠি জানিস ,খুব ইচ্ছে করে একদিন তিস্তা নদীর পারে শিমুল গাছটার নীচে যাই।
মনে পড়ে একবার শীতে খুব ভোর সকালে শীতের কুয়াশামাখা তিস্তা নদীর পাশে আমরা?
ভোরের ট্রেন ধরেছিলাম সবাই.......।
তিস্তা ষ্টেশনে নেমে সবাই মিলে রেল লাইনের উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে নদীর ধারে পৌছেছিলাম......।
শিমুল গাছটার নীচে বসেছিলো সবাই....।
তুই আর আমি গল্প করতে করতে তিস্তা ব্রীজের উপর দিয়ে হাঁটলাম.....দু'পাশ দিয়ে কোন ট্রেন আসার কোন সম্ভাবনা ছিলো না বলে আমাদের যেতে দিয়েছিলো।
কত রাজ্যের গল্প করছিলাম আমরা.....অসম্ভব মায়াবী একটা মেয়ে ছিলি তুই।তুই একজনের গল্প করছিলি যাকে তোর খুব ভালো লাগে....যার জন্য তুই অপেক্ষায় থাকিস ।
কি আশ্চর্য্য সেই ছেলেটি আমাকে তার ভালোলাগা জানিয়েছিলো এর ক'দিন আগেই।
সেটা যে শুধু ভালোলাগাই ছিলো তা জানতে বেশীদিন লাগেনি......(কৈশোর ভালোলাগা গুলো এমনি.....।এত মায়া ,এত টান ...।অথচ ঘুড়ির সুতার মত হুট করে ছিড়ে যায়।) সেই মূহুর্তে আমি ও সেই ভালোলাগার আবেশে কেমন বুঁদ হয়েছিলাম....
তোকে কিছু লুকাইনি।
সব জেনে তুই নিশ্চুপ ছিলি কিছুক্ষন।তোকে হারানোর ভয়ে তোর হাত দুটো চেপে ধরেছিলাম।
তুই আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলি...."সব কিছু ছাড়তে পারি তোর জন্য।সব ভালোলাগা ,সব কিছু।"
দু'জনে ব্রীজটার উপর ঠায় দাঁড়িয়েছিলাম অনেকক্ষন।

আজ অনেক অনেক বছর পরেও বন্ধুত্বের নির্মল ভালোবাসায় আজো তুই হৃদয়ের খুব কাছে। যে কোন আনন্দ ,যে কোন সুখ ,যে কোন দুঃখ অনায়াসে ভাগ করি আমরা........দুরত্ব কোন ব্যাপার না আমাদের কাছে।
যুগ পার হয়ে যুগ এগোয়......তুই আমি আগের মতন দুই শালিখ বন্ধু।
অথচ সেই ছেলেটা যার ভালো বাসা পাসনি বলে তুই চোখের জল ফেলেছিলি।
আর যার ভালোবাসা পেয়ে আমি চোখের জলে ভেসেছিলাম.....সে হারিয়ে গেলো পৃথিবী থেকে। অকালে।
শুনেছি মাথায় টিউমার ছিলো।
প্রিয়তমা নারী,সন্তান ফেলে ও সেই কবেই হারিয়ে গেছে .......

তিস্তা পারে আমাদের খুনসুটি, আমাদের প্রানোচ্ছল ভালোবাসার সেইসব দিন এখনো চাইলেই চোখের তারায় ফিরে আসে.....
আমাদের আর বন্ধু সান্তনা আমাকে চিঠিতে লিখেছিলো.........
"যে যেখানে যতদুরেই থাকি না কেনো।যোগাযোগ থাক বা নাই থাক।দেখা হোক বা নাই হোক....যেনো বেঁচে থাকি।অকালে হারিয়ে যায় না যেনো কেউ........।
কারো কথা মনে পড়লে যেনো ভেবে আশ্বস্ত হই ,সে ভালো আছে।"
ভালো থাকিস বন্ধু আমার........।
আমাদের বন্ধুত্বের অমল ধবল দিন গুলো সারা জীবন সজীব হয়ে থাক......।
আমার যত দুরে থাকি না কেনো......
আমাদের বন্ধুত্বের নদীতে যে ভালোবাসা বয়ে যায়...........তা যেনো সংক্রামিত করে তাদেরকে যারা আমাদেরকে ভালোবাসে.........। যারা বন্ধুদেরকে ভালোবাসে।
তোর মনা

(এই চিঠির ভালোবাসা ছড়িয়ে যাক সবখানে........।
অনেক দিনের বন্ধু দীনা,লুলু,শান্তু,মেরীনা,দিপ্তী,তনা,মনো,নাজু,রানু,শেলী,অনুপমা ,টুটু,পারু এবং আরো অনেকেই যারা যে যেখানে আছে ..বিশ্বাস করি ভালো আছে,সুস্হ আছে।
ওদের সবাইকে বলতে ইচ্ছা করে..................
"আমি একা বসি সন্ধ্যা হলে আপনি ভাসি নয়নজলে ,
কারন কেহ শুধাইলে নীরব হয়ে রই..............
ওলো সই,ওলো সই,
আমার ইচ্ছা করে তোদের মত মনের কথা কই।)"
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28852581 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28852581 2008-10-09 10:16:49
ঝরা পাতা এবং আমার চলে যাওয়া বোধেরা লুকোচুরি খেলে ঝরা পাতা এবং আমার চলে যাওয়া বোধেরা লুকোচুরি খেলে

পথ দিয়ে হেঁটে গেলে
দু'চোখে লুকোচুরি খেলে মেঘেরা।
আলো ছায়া রোদেরা
ডানপিটে বড় বেশী।
কাঠবিড়ালীরা এ গাছ থেকে ও গাছে
হুটোপুটি খেলায় মাতে।

পাতাদের বাহারী সব রং
চোখ রাখি মুগ্ধতায়।
ঝরে পরা পাতাদের সাজানো বিছানা ।
এর মাঝে পথ চলি আমি,
বাতাসে ঝরে পড়া পাতাদের বৃষ্টিতে ভিজে।
কোন পাতা ঝরে গেলো কার আগে
কে তার খবর রাখে!

বাতাসে উড়তে থাকা পাতারা
এলোমেলো দোলায় মাতে।
সময়টাকে পিছনে ফেলে রেখে
ঝরা পাতাদের হাট বসে।
চলে যাওয়ার মত বিড়ম্বিত দুঃখবোধ
পাতাদের থাকে না নাকি?
কে জানে!

তবে
গাছেরা জানে
পাতারা জানে
ফুলেরা জানে
পাতা ঝরার বেলা শেষ হতে না হতেই
আসবে বরফ ছাওয়া হিমেল দিন
এবং
তারপর
সেই বসন্ত।
গাছে গাছে ফুল ,পাতাদের হাসি খুশী।
প্রকৃতির নিয়মেই।

শুধু আমি চলে যাই যদি
ঝরা পাতাদের মতন।
চলেই যাবো ।
আর ফেরা হবে নাতো
তোমাদের চোখের জলে ভেসেও।
এভাবে
কখনো কখনো
পথে হেঁটে হেঁটে যেতে যেতে
ঝরা পাতা এবং আমার চলে যাওয়া বোধেরা লুকোচুরি খেলে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28851635 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28851635 2008-10-06 20:48:29
উল্টোরথের নিবিড় উত্তাপে উল্টোরথের নিবিড় উত্তাপে

ঘাস ফড়িং এর উড়োউড়ি দিনগুলি
সজনে গাছের ঝিরিঝিরি পাতায় পাতায়
আতা গাছের জড়াজড়ি আত্মীয়তায়
বিন্দুবাসিনীর মত দীর্ঘশ্বাস ফেলে ।

বেহিসাবী দিনগুলো
নামতায় গুনে গুনে
কমপক্ষে নয় নয় একাশিবার
কখনোবা
বারো বারোয় এক'শ চুয়াল্লিশবার
মনে পড়ে যায়।

মায়ের চুলের বিনুনীর ফাঁকে
এক একটা বিকালের লুকোচুরি দিন ।
বাড়ির পিছনের নিম গাছটার নীচে
মালিদের বউ দের পূজার আয়োজন।
সন্ধ্যা নামার একটু আগেই
মুখ দিয়ে উলুধ্বনি দেয় তারা।
কুপির সলতেতে দপ্‌ দপ্‌ আগুন ।
ধুপের গন্ধে বাতাস মাতে।

মাগরিবের সময় শেষ হতে না হতেই
লোডশেডিং সন্ধ্যা এসে পড়ে ।
জ্যোছনা কিংবা অমাবস্যা সবসময়েই
কিশোর কিশোরীদের পড়ার ঐচ্ছিক ছুটি হয়ে যায়।

এভাবেই অনেকগুলো আকাশ ছোঁয়া দিন
উল্টোরথের মত পাশে পড়ে থাকে।
কত না পড়া গল্প উপন্যাস আর কবিতারা
কত অজানা গল্প তারকাদের।

বুকের গহীনে জ্বলে জ্বলে যায় জোনাকীরা।
গভীর দুঃখে বিলাপরত কথা বলা মানুষেরা
বলে ফেলে একটা জীবনের আদিপাদ্য।
দুঃখ কি কমে তাতে?

নাকি ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ এর দিকে তাকানো
মানুষ এর মত
মনোবেদনার নীরব উপস্হাপন ঘটে....।
যাতে সবাই প্রতিদিন
কি দারুণ অভিনয় করে যাই
উল্টোরথের নিবিড় উত্তাপে ভোলা হয় কই
চলে যাওয়া ক্ষয়ে যাওয়া সেইসব বিলাসী দিন?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28850564 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28850564 2008-10-03 06:15:31
অনেকদিন পর ঈদ ঈদ অনুভব (সবাইকে ঈদ মুবারক..........
যে যেখানে আছি যেভাবে আছি.....শুভ বোধ ছড়িয়ে যাক সবখানে।)

ক'দিন থেকেই ইচ্ছে করছে ঈদ নিয়ে কিছু লিখি.....। কিন্তু মন গুছিয়ে বসা হচ্ছে কই। আর ঈদের কথাই বা কি লিখবো। ঈদ মানেই তো দেশের দিন গুলো। সবাই মিলে কি আনন্দ। এখানে এবার উইক ডে তে ঈদ। কারো কাজ। কারো স্কুল। উইকেন্ড আসলে তারপর সবাই মিলে ঈদ টুগেদার। সুতরাং ঈদের আনন্দটা তেমন বোঝা যাচ্ছে না।

প্রতিদিন সন্ধ্যার পর লিখতে বসবো ভাবি,হয় কই! ছোট ছেলে রাইয়ান গ্রেড ওয়ান এ যাচ্ছে সেপ্টেম্বর থেকে........হঠাৎ করে তার পড়ালেখার চাপ বেড়ে গেছে স্কুলে।
গত দু'বছর বেশ হেসে খেলে গেলো। সুতরাং তার ভালো লাগছে না...। নিয়মিত লেখা পড়া....। লিখতে পড়তে বসার চেয়ে তার খেলতেই ভালো লাগে।ট্রেন তার প্রিয় খেলা......ইদানিং wii game খেলে.......বলিং,টেনিস,বক্সিং সব কিছুতেই আমরা তার কাছে হেরে যাই.....
তার বড় ভাই রাশীক তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করে বলিং খেলার সময় রাইয়ান রিমোট টা কোন ষ্টাইলে এ ধরে। এত ভালো স্কোর সে কিভাবে করে। অথচ লিখতে বসলে রাইয়ানের হয় হাত এ ব্যথা না হয় হাই তোলে......এই সব নিয়ে তেলেসমাতি তে আছি।
এই নিয়ে কেটে যাচ্ছে ,গেলো সেপ্টেম্বর মাস......
রাশীক বলে মাম্‌মা চিন্তা কোর না...রাইয়ান অনেক স্মার্ট। গ্রেড ওয়ান এ নাকি ও নিজেও এত স্মার্ট ছিলো না।এই তো কয় বছর আগের কথা।

রোজার মাসটা অন্য মাসের চেয়ে মনে হয় তাড়াতাড়ি পার হয়ে যায়। ইফতার নিয়মিত না বানালেও মাঝে মাঝে বানাতাম.....।ভাজাভাজি কেউ তেমন খেতে চায় না.........
ইফতারের আমার বাসায় একদিন বললাম কয়েক জনকে।
সারাদিন ধরে রান্না .......নতুন একটা জিনিস বানালাম এবার । জিলাপী।
একদম গাওছিয়া মার্কেটের দোকান গুলোর মত। নিজে বানায় নিজেই মুগ্ধ।
বিদেশে এসে আর যাই হোক রান্না শিখলাম অনেক।
দেশ থাকলে রসগোল্লা,দই,রসমালাই কিনেই খেতাম......এখানে এসে বানানো শিখলাম.......।দেশ থেকে যারাই আসে বানিয়ে খাওয়ালে অবাক হয়।
আসলে সব কিছু এত ভালো পাওয়া যায়......।মনে আছে প্রথমবার দেশে গিয়ে ভাবলাম সবাইকে রসগোল্লা বানিয়ে খাওয়াই।
মিল্কভিটা এনে জাল দিলাম ছানা বানাবো বলে.....ভিনেগার দেবার পর ছানা এত কমে গেলো মিষ্টি বানানোর আইডিয়া বন্ধ।<img src=" style="border:0;" />
অথচ এখানে চার লিটার ৩.২৫% দুধ দিয়ে কমপক্ষে ৩০ টা মিষ্টি বানানো যায়....

গত শনিবার ইফতারের দাওয়াত ছিলো মিনুর বাসায়....।সারাদিন শরীর টা এত খারাপ ছিলো ভাবছিলাম যেতেই পারবো না......।কিন্তু না গেলে কিভাবে হয়....সবাই মিলে ইফতার করার আনন্দ আলাদা। তার উপর শনিবারের আড্ডা বলে কথা! বেশ রাত করে গল্প আড্ডা চলে।
ইফতার শেষে আরিফা বসলো সবাইকে মেহেদী দিতে.....মিনুর মেয়ে মারিশা,মিথুনের মেয়ে ইজুয়ানী দুহাতে মেহেদী পড়লো.....আমাদের আলোচনায় বিষয় তখন বাবা মার জন্য ছেলে মেয়েদের মধ্যে কারা বেশী অনুভব করে..........নানান উদাহরণে প্রমাণিত হলো.....মেয়েরা সারাজীবন মা বাবার জন্য অনুভব করে এবং বাস্তবে অনেক করে।কিন্তু ছেলেরা বিয়ের পর অজানা কারণে মা বাবার ব্যাপারে নির্লিপ্ত হয়ে যায়.......।এই অজানা কারণ আর কিছু না .....বউটি।
অনেক বউ বিয়ের পর স্বামীকে এমন ভাবে চালানোর চেস্টা করে যে ছেলেটা ভুলে যায় তার একটা পরিবার ছিলো।তার অনেক দ্বায়িত্ব ছিলো।আরিফা বললো না এখানে ছেলেটাকে স্রীক্ট থাকা উচিত।ম্যান শুড বি লাইক এ ম্যান।<img src=" style="border:0;" />
এটা করতে গিয়ে অনেক ছেলেকে অসুখী জীবনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
তাই অনেক সময়ই ছেলেরা পাল্টে যায়...।নিজেকে বদলে ফেলে.....।
যাইহোক আমাদের হৈচৈ কথা শুনছে আর ওদের হাতের চলছে আঁকি বুঁকি...আমার আর আরিফার মেয়ে নেই......আমরা মন খারাপ করে ভাবছি সত্যিই তো ছেলেরা বদলে যাবে একদিন। তাহলে এই যে এত ভাবনা চিন্তা কষ্ট....
আমি বললাম ছেলে বা মেয়ে বলছো কেনো মায়া দিয়ে বড় করলে সবার জন্যই সমান লাগবার কথা........বললাম মারিশা ,ইজুয়ানীকে বলো আমাদেরকে বুড়ো বয়সে যেনো দেখতে টেখতে আসে.......এত আদর করে মেহেদী পড়ায় দিচ্ছো।
ওদের কে কথাটা বলতেই মাথা নেড়ে বলে ঠিক আছে দেখতে আসবো।

বানীরা আসলো আর এক বাসায় দাওয়াত খেয়ে একটু দেরী করে......।
জানালো আমাদের এখানকার একমাত্র বাংলাদেশী কাপড়ের দোকান থেকে ও শাড়ী কিনেছে.....। নতুন শাড়ী এসেছে।
একটু আগেই মিনু গুনগুন করতেছিলো ,চলেন মহাজনে যাই।মহাজন একটা ইন্ডিয়ান মহিলার হোম বুটিক। প্রায় ৪০ মিনিটের ড্রাইভ। ওর উৎসাহতে কেউ সাড়া দেইনি।
ফিউশন বুটিক নাকি আজ রাত ১১ টা পর্যন্ত খোলা। আর যায় কোথা.......।
সব হই হই।
রাত প্রায় দশটা।
রাশীক রাইয়ানকে বাসায় নামিয়ে দিলাম।
আমার বাসার কাছেই দোকানটা.........
তারপর সব মিলে শাড়ীর দোকানে.....।
শাড়ী এসেছে অনেক.....। কোন নাম জানি না। মন মত রং হলে যাই দেখি তাই ভালো লাগে। মিনু আমি আর আরিফা ২ সপ্তাহ আগে ঘুরে গেছিলাম।
তেমন কিছু পছন্দ হয় নি.....।

আজ যেনো কিনতেই হবে সবার।হাতে মেহেদীর রং,নতু শাড়ী চাই ই চাই।
রাশীকের বাবা আমাকে কটাদিন জ্বালাচ্ছে মাস ভরে রোজা করলা আর ঈদ এ শাড়ি কিনবা না......কথা দিয়েছি আজ ভালো লাগলে কিনবো।
নাহলে কাল মন্ট্রিয়লে যেতে হবে শাড়ী কিনতে....ওর ইচ্ছা।
শাড়ী আর কি কিনবো।
এ আসে ও আসে ,কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে গল্প।
নিজেদের হাহা হি হি।
এত ভালো লাগছিলো......
আমার খুব ভালো লাগলো রাজশাহী সিল্ক একটা.....
কিন্তু ঈদের শাড়ী অনেক ভালো হওয়া চাই...।কি আর করা..........

আমাদের কথার ফাঁকে রাশীকের বাবা এসে হাজির......
বাইরে মুন্না ভাই,মিঠুভাই,রহমান আর মনিরকে দেখে ও বুঝেছে আমরা এই দোকানের ভিতরে।

ওর পছন্দে কিনলাম আমার ঈদের শাড়ীটা.......রাত এগারটায় যখন বের হলাম দোকান থেকে সবার মধ্যে কেমন ঈদ ঈদ আনন্দ.......অনেকদিন এমন করে ঈদ এর কেনা কাটা হয়নি......আমাদের হই চই কথায় মনে হচ্ছিল আমরা দেশে গাওছিয়ায় শপিং করে বের হলাম।
আমাদের আনন্দ হৈ চৈ শাড়ীর জন্য না যতটুকু.....তার চেয়ে বেশী এমন মুখরিত সময়ের জন্য.........বহুদিন পর যা আমাদের ভরিয়ে দিলো।

(ঈদ যে কবে হবে।
ক্যালেন্ডার বলছে আজ নতুন চাঁদ ।সেই হিসাবে কাল ঈদ হবার কথা।
কোনদিন কি আসবে যখন সবাই একসাথে একটা দিনে ঈদ করা হবে?
শুনছি কাল ঈদ করবে অনেকে।আমরা যে কি করি!)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28849605 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28849605 2008-09-30 05:59:52
শোন, বলছি তোমার কানে কানে শোন, বলছি তোমার কানে কানে

শোন ,আজ বাড়ি ফিরে
ই-মেইলের ইনবক্সে একটা দারুণ ই-মেইল চাই।
যেখানে লেখা থাকবে আজ রাতে
নদীর কাছে যাবে নাকি
শহরের আলোকিত সমুদ্রে,
যেখানে হাত ধরাধরি করে সবাই
মনের সুখে ঘুরে বেড়ায়।

আজ চুলে শ্যাম্পু করবে।
সাথে সেই সুরভিত কন্ডিশনার।
পিঠ ছাপানো তোমার ভেজা চুল।
নদীর কাছে যেতেই হয় যদি!
বৃষ্টি নামুক আর নাই নামুক
তোমার ভেজা চুলের পানিতে
ভেজাব দু'চোখ।

লাল শাড়ীটায় সবুজ পাড়।
ওটাই পড়া চাই।
কপালে সিঁদুরের লাল টিপ।
(অন্য প্রান্তে চুপচাপ শোনে কেউ)

শোন,বাসায় তেল নাই,পেপার টাওয়েল নাই।
ছেলেমেয়েদের স্ন্যাকস্‌ নাই।
(এ প্রান্তে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কেউ)

রাত বেড়ে যখন গভীর হয়।
ছেলেমেয়েরা ঘুমে মগ্ন।
টিভির রিমোট হাতে ক্লান্ত মানুষটির দুচোখ বোঁজা।
হঠাৎ ছোঁয়ায় চোখ খোলে সে।
পাশে তার প্রিয় নারী
লাল শাড়ীতে সবুজ পাড়ে।
বলে ,শোন
আজ না হয় নদীর ধারেই চলো।

ঘুমিয়ে দেখা কোন স্বপ্ন নাকি?
ভাবে সে আনমনে।
হঠাৎ মুখের উপর ভেজা চুলের পানি পড়ে

দুজনেই জানে।
ভালোবাসা কমে না।
দিনে দিনে বাড়েই শুধু নির্মল উত্তাপে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28848350 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28848350 2008-09-27 01:12:26
দু'চোখ পুড়ে যায় দু'চোখ পুড়ে যায়

দু'চোখ পুড়ে যায়।
কি যেনো ঝাপসা করে দেয় দৃষ্টিকে।
আলোর মত কিছু কোন কিছু।
বকুল গন্ধে বন্যার মত সুষমা ছড়ায়
স্মৃতির সুখপাখি।

মনের বিজন ঘরে অর্গল তুলে দেয় কে যেনো!
আত্মার মত আপন কেউ কি!
সুরের মূর্ছণায় ছুঁয়ে যায় সে
এক ,দুই ,তিন করে অজস্রবার মনের ঘর।

জানালার বাইরে যতটুকু আকাশ
নীল সাদা মেঘেদের দল উড়ে উড়ে যায়।
জানালার পাশে পড়ে থাকা দু'চোখ
তাতে অপেক্ষার নিঝুম বসতি।

ধোঁয়ার কত উড়ে আসে কত কিছু।
ঝাপসা হয়ে যায় চোখের তারা।
আকাশের দিকে তাকাতেই কার জন্য যেনো
অভিমান ফিরে ফিরে আসে।

একটা ঘুঘু ডাকে অবিরাম দুর বহুদুর থেকে
উদাসী মনে কিসের কাঁপন।
কে যে কার প্রতীক্ষায় থাকে।
ঘুঘু নাকি বন্ধ দরজার ভিতর কেউ!

নির্জন দুপুর ছুঁয়ে জানালার পাশে
বসে থাকে যে ।
অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়ায় তার
দু'চোখ পুড়ে যায়।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28846798 http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28846798 2008-09-23 09:41:27
হারিয়ে যাওয়া দুপুর এবং পড়শীর নাকফুল হারিয়ে যাওয়া দুপুর এবং পড়শীর নাকফুল

হৃদয়ের আঙিনা খুললেই
ঝিম ছায়া দুপুর চলে আসে।
দুরে কোথাও থেকে ভেসে আসে
একটানা করাতের শব্দের মত কিছু।
ঘুনে পোকার মত শব্দও হয়
টিউ টিউ করে ।

মোড়ের দোকানে নাকি অন্য কোথাও
কেউ রেডিও তে ফুল ভলিউ্যমে গান শোনে ।
"যার ছায়া পড়েছে মনের আয়নাতে
সে কি তুমি নও ,ওগো তুমি নও।"

দরজায় দাঁড়িয়ে
দুপুরের অলস সময়কে দুরে সরিয়ে রাখে কেউ কেউ।
একজন সদ্য বিবাহিতা নারী
সারাক্ষন তার কলকল কথার কলতান
পড়শীর সাথে।
সুখী সুখী প্রগলভতায়
তাকে বেশ দেখায়।
দুপুরের নিঝুম মূর্ছণায় মিশে সে
কি দারুণ শিল্পকলা যে হয়ে যায়।

দুর থেকে আসতে থাকা
রিকশার টুংটাং
এবং দুইজন নারীর হাসি গল্পের ফাঁক গলে
হঠাৎ বিকাল এসে পড়ে।

আর তখুনি মাঠে মাঠে কোলাহল হয়
উৎসবের মত কিশোর কিশোরীরা
মুখরিত হয়।
বৈকালিক প্রসাধন সারবে বলে
সেই নারী গা ধুতে যায়
(সে আসবে বলে)।
পড়শী নারী বিষণ্নতায় ও হাসে।
এমন দিন তারও গেছে।
সবারই চলে যায়।

দুপুর রোদ্দুরে ভিজে বিকেল এগোয়।
প্রশান্তির মত রোদছায়া মিশে থাকে সবখানে।
বিকালের বয়ে চলায় শুনশান দুপুরটা
টুপ করে হারিয়ে যায়।
সেই পড়শী নারীটির নাকফুলের মত।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sultanashirinshaziblog/28845453 http://www.somewhereinblog.net/bl