আমার প্রিয় পোস্ট

কবর

২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৫৭

শেয়ারঃ
0 0 0

কবর আমার খুব পছন্দের একটা কবিতা

কবর
জসীমউদদীন

এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গঁ ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচিছ পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস না­ হেস না­ মোন দাদু, সেই তামাক মাজন পায়ে,
দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
পথ পানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝম নিরালা!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু,আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদরি তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।

তারপর এই শূন্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে যাহারে জঢ়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত কাফনের, শত কবরের অঙ্ক হদয়ে আঁকি,
গণিয়া গণিয়া ভুল করে গণি সারা দিনরাত জাগি।
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে মিশায়ে বুক,
আয়-আয় দাদু, গলাগলি ধরি কেঁদে যদি হয় সুখ।

এইখানে তোর বাপজি ঘুমায়, এইখানে তোর মা,
কাঁদছিস তুই? কী করিব দাদু! পরাণ যে মানে না।
সেই ফালগুনে বাপ তোর এসে কহিল আমরে ডাকি,
বা-জান, আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি।
ঘরের মেঝেতে সপটি বিছায়ে কহিলাম বাছা শোও,
সেই শে ওয়া তার শেষ হবে তাহা কী জানিত কেউ?
গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
তুমি যে কহিলা বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে?
তোমার কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে,
সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে গেল দুখে!

তোমার বাপের লাঙল-জোয়াল দুহাতে জঢ়ায়ে ধরি,
তোমার মায়ে যে কতই কাঁদিতে সারা দিনমান ভরি।
গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।
আথালে দুইটি জোয়ান বলদ সারা মাঠ পানে চাহি,
হাম্বা রবেতে বুক ফাটাইত নয়নের জলে নাহি।
গলাটি তাদের জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিত তোমার মা,
চোখের জলের গহীন সায়রে ডুবায়ে সকল গাঁ।

ঊদাসিনী সেই পল্লী-বালার নয়নের জল বুঝি,
কবর দেশের আন্ধারে ঘরে পথ পেয়েছিল খুজি।
তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিল সাঁঝ,
হায় অভাগিনী আপনি পরিল মরণ-বিষের তাজ।
মরিবার কালে তোরে কাছে ডেকে কহিল, বাছারে যাই,
বড় ব্যথা র’ল, দুনিয়াতে তোর মা বলিতে কেহ নাই;
দুলাল আমার, যাদুরে আমার, লক্ষী আমার ওরে,
কত ব্যথা মোর আমি জানি বাছা ছাড়িয়া যাইতে তোরে।
ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি গন্ড ভিজায়ে নয়ন­জলে,
কী জানি আশিস করে গেল তোরে মরণ­ব্যথার ছলে।

ক্ষণপরে মোর ডাকিয়া কহিল­ আমার কবর গায়
স্বামীর মাথার মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।
সেই যে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
পরাণের ব্যথা মরে নাকো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে এইখানে তরু­ছায়,
গাছের শাখারা স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে গায়।
জোনকি­মেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয় আলো,
ঝিঁঝিরা বাজায় ঘুমের নূপুর কত যেন বেসে ভালো।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, রহমান খোদা! আয়;
ভেস্ত নসিব করিও আজিকে আমার বাপ ও মায়!
এখানে তোর বুজির কবর, পরীর মতন মেয়ে,
বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে।
এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
খবরের পর খবর পাঠাত, দাদু যেন কাল এসে
দুদিনের তরে নিয়ে যায় মোরে বাপের বাড়ির দেশে।
শ্বশুর তাহার কশাই চামার, চাহে কি ছাড়িয়া দিতে
অনেক কহিয়া সেবার তাহারে আনিলাম এক শীতে।
সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে ফোটে না সেথায় হাসি,
কালো দুটি চোখে রহিয়া রহিয়া অশ্রু উঠিছে ভাসি।
বাপের মায়ের কবরে বসিয়া কাঁদিয়া কাটাত দিন,
কে জানিত হায়, তাহারও পরাণে বাজিবে মরণ­বীণ!
কী জানি পচানো জ্বরেতে ধরিল আর উঠিল না ফিরে,
এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু! ধীরে।

ব্যথাতুরা সেই হতভাগিনীরে বাসে নাই কেহ ভালো,
কবরে তাহার জড়ায়ে রয়েছে বুনো ঘাসগুলি কালো।
বনের ঘুঘুরা উহু উহু করি কেঁদে মরে রাতদিন,
পাতায় পাতায় কেঁপে উঠে যেন তারি বেদনার বীণ।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়।
আমার বু­জীর তরেতে যেন গো বেস্ত নসিব হয়।

হেথায় ঘুমায় তোর ছোট ফুপু, সাত বছরের মেয়ে,
রামধনু বুঝি নেমে এসেছিল ভেস্তের দ্বার বেয়ে।
ছোট বয়সেই মায়েরে হারায়ে কী জানি ভাবিত সদা,
অতটুকু বুকে লুকাইয়াছিল কে জানিত কত ব্যথা!
ফুলের মতন মুখখানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে,
তোমার দাদির ছবিখানি মোর হদয়ে উঠিত ছেয়ে।
বুকেতে তাহারে জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা,
রঙিন সাঁঝেরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা।

একদিন গেনু গজনার হাটে তাহারে রাখিয়া ঘরে,
ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায় পথের পরে।
সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে।
কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে।
আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি,
দাদু! ধর­ধর­ বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।
এইখানে এই কবরের পাশে আরও কাছে আয় দাদু,
কথা কস নাকো, জাগিয়া উটিবে ঘুম­ভোলা মোর যাদু।
আস্তে আস্তে খুঁড়ে দেখ দেখি কঠিন মাটির তলে,

ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে,
অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িত বড় সাধ আজ জাগে।
মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুরে,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃতু­ব্যথিত প্রাণ।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৪২ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:০৩
সাতিয়া মুনতাহা নিশা বলেছেন: আমারও খুব প্রিয় কবিতা এটি!পড়তে গিয়ে চোখে পানি চলে আসে.....
পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ।
২. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:০৭
তাজুল ইসলাম মুন্না বলেছেন: কবিতাটা আমারও খুব পছন্দের। পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ ও ৫। পোস্টটাকে কোনক্রমেই কাটবেননা। এটাকে "আমার প্রিয় পোস্টে" রেখে দেব।
৩. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:১১
ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন: সবার মত আমারও প্রিয় কবিতাটি...।
সুমি'কে অসংখ্য ধ ন্য বা দ।

৪. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:১৩
সুমি বলেছেন: ধন্যবাদ ---
ঠিক আছে----
থাকবে অনন্ত কাল----
৫. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:২০
সুমি বলেছেন: ভাস্কর ভাইয়া
ধন্যবাদ আপনাকেও-----
৭. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:২৭
সুখী মানুষ বলেছেন: সুমি আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো! সুন্দর পছন্দ আপনার, আমার ধারনা আপনি মানুষ হিসাবেও ভালো। আপনিকি জানেন, জসিমউদ্দিন স্কুলে থাকা অবস্থায় এই কবিতাটি ছাপা হয়। এবং তিনি যখন কলেজের ছাত্র তখন তার লেখা কবিতাই তাকে পাঠ্য কবিতা হিসাবে পড়তে হয়েছিল। আমি জানিনা, বাংলা সাহিত্যে আর এত বিরল গৌরবের ঘটনা আছে কিনা। ৫!
৮. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৩০
সুমি বলেছেন: এবং আমি জানি
না নাই-------
ধন্যবাদ আপনাকেও-----
১০. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৩৫
সাতিয়া মুনতাহা নিশা বলেছেন: আর আমি যতদূর জানি এই বিরল ঘটনা পৃথিবীতে একজনের ক্ষেত্রেই ঘটেছে...
১২. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৫০
সুমি বলেছেন: মৃন্ময় ভাইয়া
লেখাটা তো নাই-----
১৩. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৫২
সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন বলেছেন: সুমির মতোই কাজ করেছো তুমি।
খুব প্রিয় কবিতা।
পোস্টটি আমার প্রিয় লিস্টে যোগ করলাম।
১৪. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৫৩
মৃন্ময় আহমেদ বলেছেন: ওহ!! লিংকের শেষের শূন্য বাদ গেছে:(
আবার দিলাম: এখানে
১৫. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১১:৫৬
সুমি বলেছেন: সুমন ভাই
ধন্যবাদ

ধন্যবাদ মৃন্ময় ভাইয়াকেও
১৬. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:০২
সিঁদুরে মেঘ বলেছেন: আমার প্রিয় পোষ্ট এটাও হলো।খুব সুন্দর হয়েছে।।৫
১৭. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:০৭
নাদান বলেছেন: সুমি, অনেক অনেক ধন্যবাদ আপু। প্রিয়তে এ্যাড করে রাখলাম।
১৮. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:০৯
সুমি বলেছেন: সিঁদুরে মেঘ ----
সুন্দর তো হবেই এটা যে আমাদের পল্লী কবির লেখা তাই---
ধন্যবাদ আপনাকে ----
১৯. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:১০
সুমি বলেছেন: নাদান ভাই ----
তুমি আসলেই নাদান না---
ধন্যবাদ ভাইয়া তোমাকে ----
২০. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:১১
মৈথুনানন্দ বলেছেন: আমার প্রিয় নক্সী-কাঁথার মাঠ। আর এটা এই প্রথম পড়ছি।
২১. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:১৯
সুমি বলেছেন: নক্সী-কাঁথার মাঠ পোষ্ট করার আশা থাকলো ভাইয়া-
২২. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:৩১
বিহংগ বলেছেন: এক সময় পুরো কবিতা মুখস্থ ছিলো। এখন অনেকটা ভুলে গেছি। অনেকদিন পর ,পড়ে ভালো লাগলো।
২৩. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১২:৩৯
সুমি বলেছেন: আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমি আনন্দিত হলাম--
২৪. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১:১৪
মৈথুনানন্দ বলেছেন: নক্সী-কাঁথার মাঠ ক্লাস নায়নে পাঠ্য ছিল। সে সব ইশকুলের বই কবেই বিক্রী হয়ে গেছে, সুতরাং বুঝতেই পারছো, কেন কবিতাটা দিতে পারলাম না - যদিও তোমার মতো পুঁচকি এক্টা বোনকে এভাবে ফিরিয়ে দিতে খুউব খারাপ লাগছে।হয়তো
মৃন্ময় তোমাকে সাহায্য করতে পারবেন। তবে ঐ নক্সী-কাঁথা-স্টায়লে অনেক বছর আগে ( ৯৯ - ০০ )
!@@!2102240 এক্টা লেখার চেষ্টা করেছিলুম বটে।
২৫. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ২:১৫
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আমার প্রিয় একটি কবিতা।
২৬. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:১০
আহমেদ শারফুদ্দীন বলেছেন: মনে করাইয়া দিছ তো আমাকে কলেজ জীবনের কথা। কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের বাংলা ক্লাস প্রথম শুরু হইছিল "কবর" কবিতা টা দিয়ে। -- ৫
২৭. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ২:১৮
সুমি বলেছেন: ধন্যবাদ মৈথুনানন্দদা------

ধন্যবাদ আবদুল্লাহ ও শারফুদ্দীন ভাইকে
২৮. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৮:৫৪
শীখা বলেছেন: আমি যতবার পড়ি ততবার চোখ ভিজে ওঠে....

২৯. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৯:১৪
সুমি বলেছেন: সত্যি তাই-----
শীখা আপি ধন্যবাদ তোমায়---
আমার তোমার আগমনে----
৩০. ৩০ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ৯:২৬
পরোপকারী বলেছেন: সুমি এতদিন পর কোথা থেকে আপনার আগমন হল? দীর্ঘদিন আপনার লেখার অপেক্ষায় ছিলাম আর তা পেয়ে বুঝতেই পারছেন! খুশী না হয়ে পারলাম না।
ধন্যবাদ।
৩১. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৫:৫১
চতুরভূজ বলেছেন: সুমি কেমন আছো?
খুব প্রিয় একটি কবিতা আমার। পড়তে গেলেই চোখ ভিজে যায় আমারও।
৩২. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:৩২
সুমি বলেছেন: পরোপকারী--
আকাশে ছিলাম----


আপুনি ভাল আছি---
তবে জ্বর ক দিন ধরে
ধন্যবাদ দিয়ে তোমাকে গুলিয়ে ফেলতে চাই না---
ভাল থেকো---
৩৩. ০৮ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:১০
নবনীতা বলেছেন: ভালো কবিতা সবসময়ই ভালো।
কোন দিনই কবিতাটি পুরোটা পড়তে পারিনি। আজো হলো না। চোখ জলে ভিজে উঠেছে। ঝাপসা ঝাপসা ঝাপসা সব কিছু। কেউ কি আমায় পড়ে শুনাবে?
৩৬. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:১৩
সবুজ আরেফিন বলেছেন: 'ভালো বাসি সখী ভালোবাসি তোরে...., দোহাই লাগে, এ জনমে ভিখারী করিসনা মোরে...'

আপনার পছন্দকে তারিফ না করে পারছি না। আমার মনে হয় জসীমউদ্দিনকে শুধু পল্লী কবি অভিধা দেওয়াটা ঠিক হয়নি। তার বিষয়ের বিচরন আরো বিভিন্ন দিক থেকে বিচার করার সুযোগ রয়ে গেছে।

৩৮. ১৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৮
ভোরের কুয়াশা...ফয়সাল বলেছেন: বাহ বাহ বাহ............ দারুন ,তবে নিজে লিখুন
৪০. ১৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৪৫
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: এই কবিতাটা কেন পড়া হইলো না, বুঝতেছি না!

তখন মনে হয় আমার ব্লগ অনশন চলছিলো!

জব্বর হইছে!
৪১. ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৭
শত রুপা বলেছেন: এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গঁ ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচিছ পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস না­ হেস না­ মোন দাদু, সেই তামাক মাজন পায়ে,
দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
পথ পানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝম নিরালা!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু,আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদরি তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।

তারপর এই শূন্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে যাহারে জঢ়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত কাফনের, শত কবরের অঙ্ক হদয়ে আঁকি,
গণিয়া গণিয়া ভুল করে গণি সারা দিনরাত জাগি।
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে মিশায়ে বুক,
আয়-আয় দাদু, গলাগলি ধরি কেঁদে যদি হয় সুখ।

এইখানে তোর বাপজি ঘুমায়, এইখানে তোর মা,
কাঁদছিস তুই? কী করিব দাদু! পরাণ যে মানে না।
সেই ফালগুনে বাপ তোর এসে কহিল আমরে ডাকি,
বা-জান, আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি।
ঘরের মেঝেতে সপটি বিছায়ে কহিলাম বাছা শোও,
সেই শে ওয়া তার শেষ হবে তাহা কী জানিত কেউ?
গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
তুমি যে কহিলা বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে?
তোমার কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে,
সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে গেল দুখে!

তোমার বাপের লাঙল-জোয়াল দুহাতে জঢ়ায়ে ধরি,
তোমার মায়ে যে কতই কাঁদিতে সারা দিনমান ভরি।
গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।
আথালে দুইটি জোয়ান বলদ সারা মাঠ পানে চাহি,
হাম্বা রবেতে বুক ফাটাইত নয়নের জলে নাহি।
গলাটি তাদের জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিত তোমার মা,
চোখের জলের গহীন সায়রে ডুবায়ে সকল গাঁ।

ঊদাসিনী সেই পল্লী-বালার নয়নের জল বুঝি,
কবর দেশের আন্ধারে ঘরে পথ পেয়েছিল খুজি।
তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিল সাঁঝ,
হায় অভাগিনী আপনি পরিল মরণ-বিষের তাজ।
মরিবার কালে তোরে কাছে ডেকে কহিল, বাছারে যাই,
বড় ব্যথা র’ল, দুনিয়াতে তোর মা বলিতে কেহ নাই;
দুলাল আমার, যাদুরে আমার, লক্ষী আমার ওরে,
কত ব্যথা মোর আমি জানি বাছা ছাড়িয়া যাইতে তোরে।
ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি গন্ড ভিজায়ে নয়ন­জলে,
কী জানি আশিস করে গেল তোরে মরণ­ব্যথার ছলে।

ক্ষণপরে মোর ডাকিয়া কহিল­ আমার কবর গায়
স্বামীর মাথার মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।
সেই যে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
পরাণের ব্যথা মরে নাকো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে এইখানে তরু­ছায়,
গাছের শাখারা স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে গায়।
জোনকি­মেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয় আলো,
ঝিঁঝিরা বাজায় ঘুমের নূপুর কত যেন বেসে ভালো।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, রহমান খোদা! আয়;
ভেস্ত নসিব করিও আজিকে আমার বাপ ও মায়!
এখানে তোর বুজির কবর, পরীর মতন মেয়ে,
বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে।
এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
খবরের পর খবর পাঠাত, দাদু যেন কাল এসে
দুদিনের তরে নিয়ে যায় মোরে বাপের বাড়ির দেশে।
শ্বশুর তাহার কশাই চামার, চাহে কি ছাড়িয়া দিতে
অনেক কহিয়া সেবার তাহারে আনিলাম এক শীতে।
সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে ফোটে না সেথায় হাসি,
কালো দুটি চোখে রহিয়া রহিয়া অশ্রু উঠিছে ভাসি।
বাপের মায়ের কবরে বসিয়া কাঁদিয়া কাটাত দিন,
কে জানিত হায়, তাহারও পরাণে বাজিবে মরণ­বীণ!
কী জানি পচানো জ্বরেতে ধরিল আর উঠিল না ফিরে,
এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু! ধীরে।

ব্যথাতুরা সেই হতভাগিনীরে বাসে নাই কেহ ভালো,
কবরে তাহার জড়ায়ে রয়েছে বুনো ঘাসগুলি কালো।
বনের ঘুঘুরা উহু উহু করি কেঁদে মরে রাতদিন,
পাতায় পাতায় কেঁপে উঠে যেন তারি বেদনার বীণ।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়।
আমার বু­জীর তরেতে যেন গো বেস্ত নসিব হয়।

হেথায় ঘুমায় তোর ছোট ফুপু, সাত বছরের মেয়ে,
রামধনু বুঝি নেমে এসেছিল ভেস্তের দ্বার বেয়ে।
ছোট বয়সেই মায়েরে হারায়ে কী জানি ভাবিত সদা,
অতটুকু বুকে লুকাইয়াছিল কে জানিত কত ব্যথা!
ফুলের মতন মুখখানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে,
তোমার দাদির ছবিখানি মোর হদয়ে উঠিত ছেয়ে।
বুকেতে তাহারে জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা,
রঙিন সাঁঝেরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা।

একদিন গেনু গজনার হাটে তাহারে রাখিয়া ঘরে,
ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায় পথের পরে।
সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে।
কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে।
আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি,
দাদু! ধর­ধর­ বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।
এইখানে এই কবরের পাশে আরও কাছে আয় দাদু,
কথা কস নাকো, জাগিয়া উটিবে ঘুম­ভোলা মোর যাদু।
আস্তে আস্তে খুঁড়ে দেখ দেখি কঠিন মাটির তলে,

ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে,
অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িত বড় সাধ আজ জাগে।
মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুরে,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃতু­ব্যথিত প্রাণ।



৪২. ২৩ শে জুন, ২০১০ রাত ৮:১৯
তৃণ বলেছেন: অনেকদিন পর পড়লাম এ কবিতা!

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬১৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
পৃথিবীর সব কিছুর বদলে আমি মা কে চাই-
তেমনি বাবাকে।
মা কে যেমন ভালবাসি তেমনি ভালবাসি দেশকে- যে মাটিতে আমার জম্ম, আমার...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ