আমার প্রিয় পোস্ট
- ফিরে দেখা ১৯৭১ - বাংলাদেশ : একটি জাতির জন্ম : স্বাধীনতা পূর্বাপর গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার দলিলসমূহ - ১২ - মিরাজ
- ফেসবুক : বন্ধুত্বের হাতছানি পেরিয়ে আরো কিছু - রিজভী
- নভেম্বর রেইন, আমার প্রিয় দুঃখ গান - লাল দরজা
- আমার প্রিয় পোস্টের লিঙ্ক - মুকুল
- আহাজারি থেমে যাওয়া, কান্না শুকিয়ে যাওয়া সহস্র অসহায় চোখ আর ক্ষুদ্র এই আমি... - জানা
- ছবি ব্লগ : গর্বের এবং বীরত্বের মুক্তিযুদ্ধ - মিরাজ
- আজ কোরআনকে একটু বুকের কাছে নিয়ে দেখি তো! - নূরে আলম
- বৃষ্টিতে দুজনে - সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন
- খুঁজি সেই ছেলেবেলা - কৃষ্ণকলি
- ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা : বিশ্বকে রক্ষার বিনিময়ে নিয়ত মৃত্যুই যেখানে নিয়তি (Nature এ প্রকাশিত গবেষণা) - মিরাজ
- কবিতা সমগ্র : উৎসর্গ নীলাঞ্জনা - অমি রহমান পিয়াল
- কে বা কারা যুদ্ধাপরাধী সেটা কীভাবে নির্ণয় করা যাবে-একটি অনবদ্য বিশ্লেষন!!! - চে
- ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের ১১টি সেক্টর। - কোবরা
- বাঙাল গরব ১ - অচেনা বাঙালি
- হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি/সারওয়ার চৌধুরী - সারওয়ারচৌধুরী
- সান্তনা নয় প্রার্থনা ,বলে অস্ফুটে কানে কানে - সিঁদুরে মেঘ
- পাকি আইয়ুবের বাঙালি র্দশন - ফুলস্টপ
- মা..! আমার মা..!(উত্সর্গ- মানবী ! আপনার জন্য পুনঃ পোষ্ট)! - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- এক সানকির ইয়ার - শিলা
- বন্ধু - সন্ধ্যাবাতি
- সারেন্ডারের আগে ও পরে - অমি রহমান পিয়াল
- আমার বাবা ও মুক্তিযুদ্ধ - নাদান
- রাজাকার প্রজন্মের প্রতি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের আহবান- এসো সত্য ও ন্যায়ের পথে - অমি রহমান পিয়াল
- সেই আত্মসমর্পনের দলিল... 16 ডিসেম্বর, 1971 - অমি রহমান পিয়াল
- হৃদয় গহনে বসন্ত গাঁথা - কৃষ্ণকলি
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গনহত্যার ভিডিও দেখুন - অমি রহমান পিয়াল
- 'দেশে যুদ্ধাপরাধী নেই দাবি করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল' - এস্কিমো
- আসুন যুদ্ধাপরাধীদের "না" বলি - ভাস্কর চৌধুরী
- সমস্যা যখন চুল পড়া - জান্নাতুল ফেরদাউস
- শৈশব যেন বিক্রি না হয়... (স্যালুট টু "লিটল স্পার্টাকাস") - মনের কথা
- ফিরি ফিরি গান ডাউনলোড - মইন
- রাজাকারের তালিকার ওয়েব সাইট [ বর্তমান অবস্থা সহ ] - স্বাধীন বাংলা
- নীরবে কাদে ইতিহাস - ১ - পদ্মা মেঘনা যমুনা
- একুশের প্রথম কবিতা,"আমি কাদতে আসিনি,আমি ফাসির দাবী নিয়ে এসেছি" ১ - আরিফুল হোসেন তুহিন
- সেই সব মা জননীদের আমাদের প্রনাম - ইরতেজা
- আমিও বিশ্বাস করি শেখ মুজিব জাতির পিতা: কর্নেল রশীদ - মিসকল মফিজ
- বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে জিয়া তাহের জড়িত ! কর্নেল খন্দকার - ভাস্কর চৌধুরী
- অনিন্দিতা'র চিঠি - ১,২ - কালপুরুষ
- জীবন যেখানে লানছিত(দয়া করে পড়ুন) - ইমির
- ভালোবাসা কিংবা ভেতরে বাহিরে মূর্ত বহু বর্ণিল মায়া (সারওয়ার চৌধুরী) - সারওয়ারচৌধুরী
- এভাবেই ওরা হত্যা করেছিলো, এভাবেই এরা বেঁচে আছে... থাকে... থাকবেও ? - সৈয়দ দেলগীর
- একজন পাকিস্তানির দৃষ্টিতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ-২: রাজাকার-আলবদর বাহিনীর নানা কাহিনী - শওকত হোসেন মাসুম
- আমার-ভালো-থাকা, এবং সেই ছোট নদী - মৃন্ময় আহমেদ
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা - মাহমুদ রহমান
- বিএনপি-জামাতীদের কর্তৃক পবিত্র কোরআন শরীফে অগ্নি সংযোগ - স্বাধীন বাংলা
- বর্ষার বিষাদ মাখা বাদলও দিনের ফুল..(চতুরভূজ) - চতুরভূজ
- পূর্ব পাকিস্তান সরকারের ৭১ এর গোপন দলিল: মন্ত্রী নিজামী, মুজাহিদ মুক্তিযুদ্ধ প্রতিহত করতে ততপর ছিলেন - শওকত হোসেন মাসুম
- ভালবাসার অমৃতকুম্ভ - কালপুরুষ
- উততর: ধর্ম বিষয়ে জানতে চাই -১ - আওরঙ্গজেব
- কাফনের পতাকা উড়ে পত্পত্ - মৃন্ময় আহমেদ
- প্রিয় বল্গারদের জন্য গল্প ও একটি মোরাল,(প্লিজ গল্পটি পড়ুন,আমি আপনাদের ৫টি মিনিট চেয়ে নিলাম) - বিহংগ
- অমনিবাস : আমার কিছু পংতিমালা - আইরিন সুলতানা
- রম্য ছড়াঃ নারী নিকের ব্লগার যারা - কালপুরুষ
- সব বাবারা দেখতে এক রকম! - মানবী
- যেই হাসিতে প্রাণটা জুড়ায় সেই হাসিটা চাই আমরা, সেই হাসিটা চাই - মাহমুদ রহমান
- চতুরভূজের অর্থহীন ডায়েরীর নিষ্প্রাণ পাতায় - - চতুরভূজ
- আমার প্রিয় গানগুলো - বাংলা - হাসিন
- এক মধুর বিদায় ও কিছু ছবি.....। - আশিক হাসান
- সন্ধ্যা আমাকে কিছু অস্পষ্ট অন্ধকার দেবে - সারওয়ারচৌধুরী
- প্রিয় গড যদি কিছু মনে না করেন। - বিহংগ
- আমি মারা যেতে চাই - চতুরভূজ
- একাত্তুরের যুদ্ধে বাবা পা দু'টি হারিয়েছেন - শাপলা
- তোমাকে ভালবাসি, হ্যাঁ ভালবাসি তাই মেনে নেই সব। হারাতে চাই না তবে এটা দূর্বলতা নয়। - মনের কথা
- কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই - মোসতফা মনির সৌরভ
- অদ্ভুত আঁধার এক - নীলাঞ্জনা
- আমি তোমার নাম লইয়া কাঁদি.... - মানবী
- মনের বাঁধন - কালপুরুষ
- বন্ধুত্বের সেরা দশ বই এবং অন্যান্য - একরামুল হক শামীম
- বন্ধুত্ব বিষয়ক বাণী - একরামুল হক শামীম
- বন্ধুত্বের গান - একরামুল হক শামীম
- ফিরে দেখা '৭১ : আল-বদর বাহিনী (শেষাংশ) - এস্কিমো
- স্বপ্ন যেন সত্যি না হয়! - কালপুরুষ
- মাকে ভালেবাসি ... কেন ভালেবাসি ?? - বাউন্ডুলের বউ
- বাংলা উইকিপিডিয়ায় লিখুন - বেলায়েত
- কি লিখি আমি - শ্যাজা
- আসুন স্মরন করি তাদের যাদের জীবনের বিনিময়ে পেয়েছি স্বদেশ! - এস্কিমো
- অপেক্ষা - খুশবু
- বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচার কি অসম্ভব? - অমি রহমান পিয়াল
- ক্লান্ত আমি - মানচুমাহারা
- বাবা তোমায় ভালোবাসি - একরামুল হক শামীম
- ইতি তোমার মা - মৃন্ময় আহমেদ
- মাকে মনে পড়ে - একরামুল হক শামীম
- তিতাস কোন নদীর নাম নয় - শ্যাজা
- বাংলা কবিতার ওয়েব সাইট খুঁজছি - অনিশ্চিত
- ভাবনার বনে উড়ে চলা ঘাসফড়িং - সময়ের প্রান্তরে
- একাত্তরের গনহত্যা: আসল নায়ক কে? (১) - সচলায়তন
- পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ, রক্তে জল ছলছল করে... - তারেক রহিম
- ৩০ লক্ষ বাঙালির মৃত্যু পশুদের ঘৃণা করতে শেখায়। - তারেক রহিম
- কি গান শুনছেন এখন? কি গান শুনছি? - তারেক রহিম
- বাবা দিবস : বাবার প্রতি ভালোবাসা জানানোর দিন - একরামুল হক শামীম
- তুমি কি একবারের জন্য একটু আসতে পার... - নওরীণ সুলতানা
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শ্লোগান - অমি রহমান পিয়াল
- জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরোনো শকুন - অমি রহমান পিয়াল
কবর
২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:৫৭
কবর আমার খুব পছন্দের একটা কবিতা
কবর
জসীমউদদীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গঁ ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচিছ পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস না হেস না মোন দাদু, সেই তামাক মাজন পায়ে,
দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
পথ পানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝম নিরালা!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু,আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদরি তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।
তারপর এই শূন্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে যাহারে জঢ়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত কাফনের, শত কবরের অঙ্ক হদয়ে আঁকি,
গণিয়া গণিয়া ভুল করে গণি সারা দিনরাত জাগি।
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে মিশায়ে বুক,
আয়-আয় দাদু, গলাগলি ধরি কেঁদে যদি হয় সুখ।
এইখানে তোর বাপজি ঘুমায়, এইখানে তোর মা,
কাঁদছিস তুই? কী করিব দাদু! পরাণ যে মানে না।
সেই ফালগুনে বাপ তোর এসে কহিল আমরে ডাকি,
বা-জান, আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি।
ঘরের মেঝেতে সপটি বিছায়ে কহিলাম বাছা শোও,
সেই শে ওয়া তার শেষ হবে তাহা কী জানিত কেউ?
গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
তুমি যে কহিলা বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে?
তোমার কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে,
সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে গেল দুখে!
তোমার বাপের লাঙল-জোয়াল দুহাতে জঢ়ায়ে ধরি,
তোমার মায়ে যে কতই কাঁদিতে সারা দিনমান ভরি।
গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।
আথালে দুইটি জোয়ান বলদ সারা মাঠ পানে চাহি,
হাম্বা রবেতে বুক ফাটাইত নয়নের জলে নাহি।
গলাটি তাদের জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিত তোমার মা,
চোখের জলের গহীন সায়রে ডুবায়ে সকল গাঁ।
ঊদাসিনী সেই পল্লী-বালার নয়নের জল বুঝি,
কবর দেশের আন্ধারে ঘরে পথ পেয়েছিল খুজি।
তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিল সাঁঝ,
হায় অভাগিনী আপনি পরিল মরণ-বিষের তাজ।
মরিবার কালে তোরে কাছে ডেকে কহিল, বাছারে যাই,
বড় ব্যথা র’ল, দুনিয়াতে তোর মা বলিতে কেহ নাই;
দুলাল আমার, যাদুরে আমার, লক্ষী আমার ওরে,
কত ব্যথা মোর আমি জানি বাছা ছাড়িয়া যাইতে তোরে।
ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি গন্ড ভিজায়ে নয়নজলে,
কী জানি আশিস করে গেল তোরে মরণব্যথার ছলে।
ক্ষণপরে মোর ডাকিয়া কহিল আমার কবর গায়
স্বামীর মাথার মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।
সেই যে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
পরাণের ব্যথা মরে নাকো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে এইখানে তরুছায়,
গাছের শাখারা স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে গায়।
জোনকিমেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয় আলো,
ঝিঁঝিরা বাজায় ঘুমের নূপুর কত যেন বেসে ভালো।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, রহমান খোদা! আয়;
ভেস্ত নসিব করিও আজিকে আমার বাপ ও মায়!
এখানে তোর বুজির কবর, পরীর মতন মেয়ে,
বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে।
এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
খবরের পর খবর পাঠাত, দাদু যেন কাল এসে
দুদিনের তরে নিয়ে যায় মোরে বাপের বাড়ির দেশে।
শ্বশুর তাহার কশাই চামার, চাহে কি ছাড়িয়া দিতে
অনেক কহিয়া সেবার তাহারে আনিলাম এক শীতে।
সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে ফোটে না সেথায় হাসি,
কালো দুটি চোখে রহিয়া রহিয়া অশ্রু উঠিছে ভাসি।
বাপের মায়ের কবরে বসিয়া কাঁদিয়া কাটাত দিন,
কে জানিত হায়, তাহারও পরাণে বাজিবে মরণবীণ!
কী জানি পচানো জ্বরেতে ধরিল আর উঠিল না ফিরে,
এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু! ধীরে।
ব্যথাতুরা সেই হতভাগিনীরে বাসে নাই কেহ ভালো,
কবরে তাহার জড়ায়ে রয়েছে বুনো ঘাসগুলি কালো।
বনের ঘুঘুরা উহু উহু করি কেঁদে মরে রাতদিন,
পাতায় পাতায় কেঁপে উঠে যেন তারি বেদনার বীণ।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়।
আমার বুজীর তরেতে যেন গো বেস্ত নসিব হয়।
হেথায় ঘুমায় তোর ছোট ফুপু, সাত বছরের মেয়ে,
রামধনু বুঝি নেমে এসেছিল ভেস্তের দ্বার বেয়ে।
ছোট বয়সেই মায়েরে হারায়ে কী জানি ভাবিত সদা,
অতটুকু বুকে লুকাইয়াছিল কে জানিত কত ব্যথা!
ফুলের মতন মুখখানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে,
তোমার দাদির ছবিখানি মোর হদয়ে উঠিত ছেয়ে।
বুকেতে তাহারে জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা,
রঙিন সাঁঝেরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা।
একদিন গেনু গজনার হাটে তাহারে রাখিয়া ঘরে,
ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায় পথের পরে।
সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে।
কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে।
আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি,
দাদু! ধরধর বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।
এইখানে এই কবরের পাশে আরও কাছে আয় দাদু,
কথা কস নাকো, জাগিয়া উটিবে ঘুমভোলা মোর যাদু।
আস্তে আস্তে খুঁড়ে দেখ দেখি কঠিন মাটির তলে,
ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে,
অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িত বড় সাধ আজ জাগে।
মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুরে,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃতুব্যথিত প্রাণ।
তাজুল ইসলাম মুন্না বলেছেন:
কবিতাটা আমারও খুব পছন্দের। পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ ও ৫। পোস্টটাকে কোনক্রমেই কাটবেননা। এটাকে "আমার প্রিয় পোস্টে" রেখে দেব।
বইপাগল বলেছেন:
৫
সাতিয়া মুনতাহা নিশা বলেছেন:
আর আমি যতদূর জানি এই বিরল ঘটনা পৃথিবীতে একজনের ক্ষেত্রেই ঘটেছে...
সালাহউদ্দীন মুহম্মদ সুমন বলেছেন:
সুমির মতোই কাজ করেছো তুমি।খুব প্রিয় কবিতা।
পোস্টটি আমার প্রিয় লিস্টে যোগ করলাম।
৫
সিঁদুরে মেঘ বলেছেন:
আমার প্রিয় পোষ্ট এটাও হলো।খুব সুন্দর হয়েছে।।৫
সুমি বলেছেন:
সিঁদুরে মেঘ ----সুন্দর তো হবেই এটা যে আমাদের পল্লী কবির লেখা তাই---
ধন্যবাদ আপনাকে ----
সুমি বলেছেন:
নক্সী-কাঁথার মাঠ পোষ্ট করার আশা থাকলো ভাইয়া-
বিহংগ বলেছেন:
এক সময় পুরো কবিতা মুখস্থ ছিলো। এখন অনেকটা ভুলে গেছি। অনেকদিন পর ,পড়ে ভালো লাগলো।
সুমি বলেছেন:
আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমি আনন্দিত হলাম--
হয়তো মৃন্ময় তোমাকে সাহায্য করতে পারবেন। তবে ঐ নক্সী-কাঁথা-স্টায়লে অনেক বছর আগে ( ৯৯ - ০০ )
!@@!2102240 এক্টা লেখার চেষ্টা করেছিলুম বটে।
উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন:
আমার প্রিয় একটি কবিতা।
আহমেদ শারফুদ্দীন বলেছেন:
মনে করাইয়া দিছ তো আমাকে কলেজ জীবনের কথা। কলেজের ফার্স্ট ইয়ারের বাংলা ক্লাস প্রথম শুরু হইছিল "কবর" কবিতা টা দিয়ে। -- ৫
পরোপকারী বলেছেন:
সুমি এতদিন পর কোথা থেকে আপনার আগমন হল? দীর্ঘদিন আপনার লেখার অপেক্ষায় ছিলাম আর তা পেয়ে বুঝতেই পারছেন! খুশী না হয়ে পারলাম না। ধন্যবাদ।
সুমি বলেছেন:
পরোপকারী--আকাশে ছিলাম----
আপুনি ভাল আছি---
তবে জ্বর ক দিন ধরে
ধন্যবাদ দিয়ে তোমাকে গুলিয়ে ফেলতে চাই না---
ভাল থেকো---
নবনীতা বলেছেন:
ভালো কবিতা সবসময়ই ভালো।কোন দিনই কবিতাটি পুরোটা পড়তে পারিনি। আজো হলো না। চোখ জলে ভিজে উঠেছে। ঝাপসা ঝাপসা ঝাপসা সব কিছু। কেউ কি আমায় পড়ে শুনাবে?
লুৎফর রহমান আশু বলেছেন:
আমারো পছন্দ
সবুজ আরেফিন বলেছেন:
'ভালো বাসি সখী ভালোবাসি তোরে...., দোহাই লাগে, এ জনমে ভিখারী করিসনা মোরে...'আপনার পছন্দকে তারিফ না করে পারছি না। আমার মনে হয় জসীমউদ্দিনকে শুধু পল্লী কবি অভিধা দেওয়াটা ঠিক হয়নি। তার বিষয়ের বিচরন আরো বিভিন্ন দিক থেকে বিচার করার সুযোগ রয়ে গেছে।
রুবেল শাহ বলেছেন:
বার বার পড়ি ----
ভোরের কুয়াশা...ফয়সাল বলেছেন:
বাহ বাহ বাহ............ দারুন ,তবে নিজে লিখুন



















পোস্ট করার জন্য ধন্যবাদ।