somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কেমন আছেন সবাই পোষ্ট না দিলেও মাঝে মাঝে এসে লেখা পড়ে যাই। অনেকের কথা মনে পড়ছে এ মহুত্বে। কেমন আছেন সবাই ?]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28854315 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28854315 2008-10-13 20:25:46 সবাই কে আমার নব বর্ষে শুভেচ্ছা----- ? দীর্ঘ দিন অসুস্থ থাকায় ব্লগে আসতে পারিনি----------- আজ দুদিন হল বাসায় এসেছি। দেশে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

এখন মোটামোটি সুস্থ আপনাদের সবার দোয়া কামনা করছি।
ডাক্তারকে অনকে বার অনুরোধ করার করেছিলাম, নব বর্ষের দিন ল্যাপটপটা ব্যবহার করবো --- ডাক্তার উল্টো খবরের কাগজ পড়াই বন্ধ করে দিল, আসার সময় বলে এসেছি -- Uncle Please give me u’r mail id
ডাক্তার কাকা শুধু হেসে বলেছিল তোমার আই ডি দাও আমিই তোমাকে এড করে নেব ?

নব বর্ষটা প্রথম দিন কাটিয়েছি হাসপাতালে-- না তেমন খারাপ লাগেনি। ঠিক ১২টার সময় আমার ডাক্তার কাকা এবং নার্সরা চকলেট ও ফুল নিয়ে হাজির আমি তখন ঘুমে ছিলাম, তখন তাদের ডিউটি ছিলনা তারপরেও তারা হাসপাতালে এসেছিল আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে।
সাবাই ছিল অত্যান্ত আন্তরিক-- নার্সরা সাবাই ফিলিপাইনের। তার পরেও কত আন্তরিক।

কম্পিউটার ব্যবহার করা নিষেধ মা কে অনেক বলে কয়ে কিছুক্ষনের জন্য ব্লগে আসলা।

অনেক অনেক লেখা মিস করেছি, যার তালিকাও হয়তো করা সম্ভব না।
মেঘ আপনি আমার চিঠি পেয়েছেন কিনা জানান নি.
রিসভী ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

সবাই কে আমার নব বর্ষে শুভেচ্ছা----- ?



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28757089 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28757089 2008-01-06 00:43:06
বড্ড আফসোস হচ্ছে --- ঔ পোষ্টার না কেনাতে
অনেক কিছু শেখা হল, অনেক অজানা জানা হয়েছে----

ফিরে আসার সময় আমি বেশ কিছু স্বারক কিনেছি-----
বাই,মগ, সিডি, চাবির রিং, পোষ্টার -----

আজ বড্ড আফসোস হচ্ছে --- ঔ পোষ্টার না কেনাতে
ঔ পোষ্টার টি ছিল একটি ইংরেজী কবিতার ----
অনেক বড় কবিতা---- ভুলে কেনা হয়নি হয়তবা খেয়াল ছিল না ,------

কেউ কি সেই পোষ্টারটার খোজ দিতে পারেন,-----
শুধু ট্রেক্স চাই----- আমি প্রিন্ট করে নিব।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28747758 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28747758 2007-11-26 19:51:20
আপনার সংগ্রহ করা ১কেজি চাউলই বা কম কিসের ---- বলার অবকাশ নেই ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের দেশের যে ক্ষতি হয়েছ,
তারচেয়ে বড় কথা ---
স্বজন হারানোর ব্যথা,-------- এই ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে মরণ অবধি, যাদের সবা হারিয়েছে তাদের কি দিয়ে স্বান্তনা দিবেন---?

আমি যে আকরণে এই পোষ্ট দিচ্ছি সিডরে আক্রান্ত মানুষদের সমবেদনা জানানোর জন্য নয়, তাদের হয়ে কিছু কথা বলতে।

প্রথমেই ধন্যবাদ জ্ঞপন করছি "সামহোয়্যার ইন.. এবং সেভ দ্য চিল্ড্রেন" কে।

আমাদের এই ব্লগ জগতে সিডর নিয়ে যত লেখা লেখি করেছি তা দিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত মানুষদের কোন কাজে আসলো কিনা জানিনা, এবং আসবে কিনা তাও কেউ বলতে পরবেন না,

যে মানুষটি ঘূর্ণিঝড়ে আঘাতে সব হারিয়ে নিঃশ্ব হয়ে গেল ---
আজ তার চোখ দিয়ে আর অশ্রু ঝরে না,---
তাকে আজ আবার নতুন আরেক সিডর হয়ে লড়তে হচ্ছে বেচে থাকার জন্য অন্য জোগাড় করতে।

আমার কথা হল ----
আসুন আমারা কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হই,

আসুন আমারা যে যার অবস্থান থেকে কাজ করি,
তা হল আপনি যদি আপনার বাড়ীর আশপাশ হতে যা পারেন তা সংগ্রহ করতে চেষ্টা করুন সাথে সথে আপনার পরিচিত জনদের কে এমনি ভাবে এগিয়ে আসতে বলুন----

আপনার সংগ্রহ করা ১কেজি চাউলই বা কম কিসের ----
আমি গত তিন দিন ধরে এমনি ভাবে সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি--- অনেক বাঙালীদের বাসায় গিয়েছি, এমনো বাসা পেয়েছি গৃহিণী কাছে নগদ টাকা নেই আমি বলেছি অসুবিধা নাই আপনার যদি দেওয়ার ইচ্ছা থাকে তাহলে চাউল দিতে পারেন, আমি এ ভাবে বিদেশে বিভুয়ে সামান্য কিছু সংগ্রহ আজ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে জাতিয় ত্রাণ তহবিলে-----

আপনি ও পারেন কিছু করতে ----
আপনার মহল্লায়, শুধু আপনার বিলিং থেকেই তুলুন কিছু --- যা দেয়- শীতের কাপড় ও কিন্তু জরুরী -----
আপনার বন্ধু সহ মহল্লার সবাই মিলে করতে পারেন----
মহল্লার দোকানদারদের থেকে নিতে পারেন----
নামাজ শেষে মসজিদে মুসুল্লিদের কে বলতে পারেন সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য - ----

সংগ্রহ পৌচে দিন ঢাবি অথবা রেড ক্রিসেন্টর তহবিলে---

এতে আপনার ছোট হবার কোন অবকাশ নেই---- নিজের মনের কাছে প্রশ্ন করুন----- আপনা সংগ্রহ করা জামাটি হয়তো কোন শিশু পরম মমতা তার গায়ে জড়াবে ---- সেই হাসির ঝিলিক আপনার হৃদয় আলোকিত করার জন্য খোদার আরশ কে আলোকিত করেব-----

এক জন বৃদ্ব যখন আপনার সংগ্রহ করা চাউলে এক মুঠো ভাত খেয়ে প্রশান্তি ভরা হৃদয়ে যে দোযা আসবে তা আপনি কোথায় পাবেন-----

এক সময় যাদের সব ছিল আজ তাদের অনেকের দুমোঠো খাবার এর জন্য হায়াকার করতে হয় ------
আসুন আমরা কথা না বড় হয়ে কাজে বড় হই-----

সত্যিই আমরা দেশ কে অনেক ভালবাসি আজ সেই ভালবাসার ভাল লাগার মাতৃ ভূমি সহজ সরল লাখো মানুষ বড্ড বিপদে --
আসুননা আমরা যে যা পারি তাদের জন্য করার চেষ্টা করি---

আসুন আমরা সবাই মিলে হাতে হাত রাখি ----
বলি আমরা করবো জয়----

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28747334 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28747334 2007-11-24 19:53:17
মাঠখানি আজ শূনো খাঁ খাঁ, পথ যেতে দম আঁটে, পল্লী কবির নকশী কাঁথার মাঠ--০৪
চার
কানা দেযারে, তই না আমার ভাই,
আরো ফুটিক ডলক(বৃষ্টি) দে, চিনার ভাত খাই।
----- মেঘরাজার গান।


চৈত্র গেল ভীষণ খরায়, বোশেখ রোদ ফাটে,
এক ফোঁটা জল মেঘ চোঁয়ায়ে নামল না গাঁর বাটে।
ডোলের বেছন(বীজ) ডোলে চাষীর, বয় না গরু হালে,
লাঙল জোয়াল ধুলায় লুটায় মরজা ধরে ফালে।
কাঠ-ফাটা রোদ মাঠ বাটা বাট আগুন লযে খেলে,
বাউকুড়াণী(ঘূর্ণিবায়ু) উড়ছে তারি ঘূর্ণী ধূলি মেলে।
মাঠখানি আজ শূনো খাঁ খাঁ, পথ যেতে দম আঁটে,

জন্ মানবের নাইক সাড়া কোথাও মাঠের বাটে;
শুকনো চেলা কাঠের মত শুকনো জাহান্নামের খোলা।
দরগা তলা দুগ্ধে ভাসে, সিন্নী আসে ভারে;
নৈলা গানের ঝষ্কারে গাঁ কানছে বারে বারে
তবুও গাঁয়ে নামলা না জল গগলখা ফাঁকা;
নিঠুর ণীলের বক্ষে আগুন করছে যেন খাঁ খাঁ।

উচ্চে ডাকে বাজপক্ষি আজরাইলে’র ডাক.
খর-দরজাল আসছে বুঝি শিঙায় দিযে হাঁক


নৈলা গান= বৃষ্টি নামাইবার জন্য আগে গ্রামে এক ধরণের গানের প্রচলন ছিল, যে গান শুধু যারা মা বাবার এক মাত্র সন্তান তারা গাইতে পারতো।
ডলক= বৃষ্টি, বেছন= বীজ,
বাউকুড়াণী = ঘূর্ণিবায়ু,
খর-দরজাল = প্রলয়ের দিনে ইনি বেহেস্ত ও দোযখ মাথায় করিয়া আসিবেন ( খাড়া দর্জাল )
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28747015 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28747015 2007-11-22 19:33:24
সাজু গাঁয়ের লক্ষী মেয়ে,--- বলে কি লোকে সাধে ?
তিন
চন্দনের বিন্দু বিন্দু কাজলের ফেঁটা,
কালিয়া মেঘের আড়ে বিজলীর ছটা।
---- মুর্শিদা গান

ওই গাঁখানি কালো কালো, তারি হেলান দিয়ে,
ঘরখানি যে দাঁড়িয়ে হাসে ছোনের ছানি নিয়ে;
সেইখানি এক চাষীর মেয়ে নামটি তাহার সোনা,
সাজু বলেই ডাকে সবে, নাম নিতে যে গোনা।
লাল মোরগের পাখার মত ওড়ে তাহার শাড়ী,
ভোরের হাওয়া যায় যেন গো প্রভাতী মেঘ নাড়ি।
মুখখানি তার ঢলঢল ঢলেই যেত পড়ে,
রাঙা ঠোঁটর লাল বাঁধনে না রাখলে তার ধরে।
ফুল ঝর-ঝর জন্তি গাছে জড়িয়ে কেবা শাড়ী,
আদও করে রেখেছে আজ চাষীদেও ওই বাড়ী।
যে ফুল ফোটে সোনের খেতে, ফোটে কদম গাছে,
সকল ফুলের ঝলমল গা-ভরি তার নাচে।
কচি কচি হাত পা সাজুর, সোনায় সোনার খেলা,
তুলসী-তলায় প্রদীপ যেন জ্বলছে সাঁঝের বেলা।
গাঁদাফুলের রঙ দেখেছি, আর যে চাঁপার কলি,
চাষী মেয়ের রূপ দেখে আজ তাই কেবল বলি ?
রামধুকে না দেখিলে কি-ই বা ছিল ক্ষোভ,
পাটের বনের বউ-টুবাণী, নাইক দেখার লোভ।
দেখেছি এই চাষীর মেয়ের সহজ গেঁয়ো রূপ,
তুলসী-ফুলের মঞ্জরী কি দেব-দেউলের ধূপ !
দু-একখানা গয়না গায়না গায়ে, সোনার দেবালয়ে,
জ্বলছে সোনার পঞ্চ প্রদীপ কার বা পূজা বয়ে!
পড়শীরা কয়---- মেয়ে ত নয়, হলদে পাখির ছা,
ডানা পেলেই পালিয়ে যেত ছেড়ে তাদেও গাঁ।

এমন মেয়ে --- বাবা ত নাইরে , কেবল আছেন মা,
গাঁওবাসীরা তাই বলে তায় কম জানিত না।
তাহার মতন চেকন, নেওই, কে কাটিতে পারে,
নক্শী করা, পাকন পিঠায়, সবাই তারে হারে।
হাঁড়ির উপর চিত্র করা শিকেয় তোলা ফুল,
এই গাঁয়েতে তাহার মত নাইক সমতুল।
বিয়ের গানে ওরই সুরে সবারই সুর কাঁদে,
সাজু গাঁয়ের লক্ষী মেয়ে,--- বলে কি লোকে সাধে ?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746808 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746808 2007-11-21 20:00:18
পল্লী কবরি নক্সী কাঁথার মাঠ --- ১,২ একত্রে আজ ২য় কিস্তি দিলাম----
আপনাদের ভাল লাগলে পরের কিস্তি লিখবো-----

আপনাদের ভাল লাগলে পরের কিস্তি লিখবো-----


এক
বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে নদী,
উইড়া যাওয়ার সাধ ছিল, পাঙ্খা দেয় নাই বিধি।
- রাখালী গান।

এই এক গাঁও, ওই এক গাঁও---- মধ্যে ধু ধু মাঠ,
ধান কাউনের লিখন লিখি করছে নিতুই পাঠ।
এ-গাঁও, যেন ফাঁকা ফাঁকা, হেথায় হেথায় গাছ;
গেঁয়ো চাষীর ঘরগুলি বেঁধে বনের কাজল কায়া,
ঘরগুলিরে জড়িয়ে ধরে বাড়ায় ঘরের মায়া।

এ-গাঁও, যেন ও-গাঁর, দিকে, ও-গাঁও এ-গাঁর পানে,
কতদিন যে কাটবে এমন, কেইবা তাহা জানে !
মাঝখানেতে জলীর বিলে জ্বলে কাজল-জল,
বক্ষে তাহার জল-কুমুদী মেলেছে শতদল।
এ-গাঁও ও-গাঁর দুধার হতে পথ দুখানি এসে,
জলীর বিলের জলে তারা পদ্ম ভাসায় হেসে !
কেইবা বলে - আদ্যিকালের এই গাঁর এক চাষী,
ওই গাঁর এক মেয়ের প্রেমে গলায় পরে ফাঁসী;
এ-পথ দিয়ে একলা মনে চলছিল ওই গাঁয়ে,
ও-গাঁর মেয়ে আসছিল সে নূপুর-পরা পয়ে!

এই খানেতে এসে পথ হারায়ে হায়,
জলীর বিলে ঘুমিয়ে আছে জল – কুমুদীর গায়।
কেনবা জানে হয়ত তাদেও মাল্য হতেই খসি,
কাপলা-লতা মেলছে পরাগ জলের উপর বসি।

এাঠের মাঝে জলীর বিলের জোলো রঙের টিপ,
জ্বলছে যেন এ-গাঁর ও-গাঁর বরিহেরি দীপ !
বুকে তাহার এ-গাঁ ও-গাঁ হরেক রঙের পাখি,
মিলায় সেথা নূতন জগৎ নানান সুরে ডাকি।
সন্ধ্যা হলে এ-গাঁর পাখি ও-গাঁও পানে ধায়,
ও-গাঁর পাখি এ-গাঁয় আসে বনের কাজল-ছায়।
এ-গাঁর লোকে নাইতে আসে, ও-গাঁর লোকও আসে
জলীর বিলের জলে তারা জলের খেলায় ভাসে।

এ-গাঁও ও-গাঁও মধ্যে ত দূও - - শুধুই জলের ডাক,
তবু যেন এ-গাঁয় ও-গাঁয় নাইক কোন ফাঁক।
ও-গাঁর বধূ ঘট ভরিতে যে ঢেউ জলে জাগে,
কখন কখন দোলা তাহার এ-গাঁয় এসে লাগে।
এ-গাঁ চাষী নিঘুম রাতে বাঁশের বাশীর সুরে,
ওননা গাঁয়ের মেয়ের সাথে গহন ব্যথায় ঝুরে !
এসাঁও হতে ভাটীর সুরে কাঁদে যখন গান,
ও-গাঁর মেয়ে বেড়ায় ফাঁকে বাড়ায় তখন কান।
এ-গাঁও ও-গাঁও মেশামেশি কেবল সুরে সুরে;
অনেক কাজে এরা ওরা অনেকখানি দূরে।

এ-গাঁর লোকে দল বাঁধিয়া ও-গাঁর লোকের সনে,
কাইজা ফ্যাসাদ করেছে যা জানেই জনে জনে।
এ-গাঁর লোকও করতে পরখ ও-গাঁর লোকের বল,
অনেক বারই লাল করেছে জলীর বিলের জল।
তবুও ভাল, এ-গাঁও ও-গাঁও, আর যে সবুজ মাঠ,
মাঝখানে তার ধুলায় দোলে দুখান দীঘল বাট ;
দুই পাশে তার ধান-কাউনের অথই রঙের মেলা,
এ-গাঁর হাওয়ায় দোলে দেখি ও-গাঁয় যাওয়ার ভেলা।


দুই
এক কালা দাতের কালি দ্যা কলম লেখি,
আর এক কালা চক্ষেও মণি, যা দ্যা দৈনা দেখি,
---- ও কালা, ঘরে রইতে দিলি না আমারে।
---- মুর্শিদা গান

এই গাঁযৈর এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল,
কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল !
কাঁচা ধানের পাতার মত কচি-মুখের মায়া,
তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া।
জালি লাউয়ের ডসার মত বাহু দুখার সরু,
গা খানি তার শাঙন মাসের যেমন তামাল তরু।
ঊাদল-ধোয়া মেঘে কেগো মাখিয়ে দেছে তেল,
বিজলী মেয়ে পিছলে পড়ে ছড়িয়ে আলোর খেল।
কচি ধানের তুলতে চারা হয়ত কোনো চাষী,
মুখে তাহার জড়িয়ে গেছে কতকটা তার হাসি।

কালো চোখের তারা দিয়েই সকল থরা দেখি,
কালো দাতের কালি দিয়েই কতোব কোরাণ লেখি।
জনম কালো, মরণ কালো, কলো ভুবনময়;
চাষীদেও ওই কালো ছেলে সব করছে জয়।

সোনায় যে-জন সোনা বানায়, কিসের গরব তার,
রঙ পেলে ভাই গড়তে পারি রামধণুকের হার।
কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন,
তারির পদ-রজের লাগি লুটায় বুন্দাবন।
সোনা নহে, পিতল নহে, নহে সোনার মুখ,
কালো-বরণ চাষীর ছেলে জুড়ায় যেন বুক।
যে কালো তার মাঠেরি ধান, যে কালো তার গাঁও !
সেই কালোতে সিনান করি উজল তাহার গাও।

আখড়াতে তার বাঁশের লাঠি অনেক মানে মানী,
খোলার দলে তার নিয়েই সবার টানাটানি।
জারীর গানে তাহার গলা উঠে সবার আগে,
শাল – সুনদঅ - বেত ” য়েন ও, সকল কাজেই লাগে।
বুড়োরা কয়, ছেলে নয় ও, পাগল ( ইস্পাত ) লোহা যেন,
রূপাই যমেন বাপের বেটা কেউ দেখেছে হেন ?
যদিও রূপা নয়কো রূপাই, রূপার চেয়ে দামী,
এক কালেতে ওরই নামে সব গাঁ হবে নামী।




]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746598 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746598 2007-11-20 19:36:44
এই গাঁযের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল, নক্সী কাঁথার মাঠ-- ০২ আজ ২য় কিস্তি দিলাম----
আপনাদের ভাল লাগলে পরের কিস্তি লিখবো-----



দুই
এক কালা দাতের কালি দ্যা কলম লেখি,
আর এক কালা চক্ষেও মণি, যা দ্যা দৈনা দেখি,
---- ও কালা, ঘরে রইতে দিলি না আমারে।
---- মুর্শিদা গান

এই গাঁযের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল,
কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল !
কাঁচা ধানের পাতার মত কচি-মুখের মায়া,
তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া।
জালি লাউয়ের ডসার মত বাহু দুখার সরু,
গা খানি তার শাঙন মাসের যেমন তামাল তরু।
ঊদল-ধোয়া মেঘে কেগো মাখিয়ে দেছে তেল,
বিজলী মেয়ে পিছলে পড়ে ছড়িয়ে আলোর খেল।
কচি ধানের তুলতে চারা হয়ত কোনো চাষী,
মুখে তাহার জড়িয়ে গেছে কতকটা তার হাসি।

কালো চোখের তারা দিয়েই সকল থরা দেখি,
কালো দাতের কালি দিয়েই কতোব কোরাণ লেখি।
জনম কালো, মরণ কালো, কলো ভুবনময়;
চাষীদেও ওই কালো ছেলে সব করছে জয়।

সোনায় যে-জন সোনা বানায়, কিসের গরব তার,
রঙ পেলে ভাই গড়তে পারি রামধণুকের হার।
কালোয় যে-জন আলো বানায়, ভুলায় সবার মন,
তারির পদ-রজের লাগি লুটায় বুন্দাবন।
সোনা নহে, পিতল নহে, নহে সোনার মুখ,
কালো-বরণ চাষীর ছেলে জুড়ায় যেন বুক।
যে কালো তার মাঠেরি ধান, যে কালো তার গাঁও !
সেই কালোতে সিনান করি উজল তাহার গাও।

আখড়াতে তার বাঁশের লাঠি অনেক মানে মানী,
খোলার দলে তার নিয়েই সবার টানাটানি।
জারীর গানে তাহার গলা উঠে সবার আগে,
শাল – সুনদঅ - বেত ” য়েন ও, সকল কাজেই লাগে।
বুড়োরা কয়, ছেলে নয় ও, পাগল ( ইস্পাত ) লোহা যেন,
রূপাই যমেন বাপের বেটা কেউ দেখেছে হেন ?
যদিও রূপা নয়কো রূপাই, রূপার চেয়ে দামী,
এক কালেতে ওরই নামে সব গাঁ হবে নামী।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746548 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746548 2007-11-20 14:32:30
ওননা গাঁয়ের মেয়ের সাথে গহন ব্যথায় ঝুরে ! নক্সী কাঁথার মাঠ-- ০১ এর বাকী অংশ জলীর বিলে ঘুমিয়ে আছে জল – কুমুদীর গায়।
কেনবা জানে হয়ত তাদেও মাল্য হতেই খসি,
কাপলা-লতা মেলছে পরাগ জলের উপর বসি।

মাঠের মাঝে জলীর বিলের জোলো রঙের টিপ,
জ্বলছে যেন এ-গাঁর ও-গাঁর বরিহেরি দীপ !
বুকে তাহার এ-গাঁ ও-গাঁ হরেক রঙের পাখি,
মিলায় সেথা নূতন জগৎ নানান সুরে ডাকি।
সন্ধ্যা হলে এ-গাঁর পাখি ও-গাঁও পানে ধায়,
ও-গাঁর পাখি এ-গাঁয় আসে বনের কাজল-ছায়।
এ-গাঁর লোকে নাইতে আসে, ও-গাঁর লোকও আসে
জলীর বিলের জলে তারা জলের খেলায় ভাসে।

এ-গাঁও ও-গাঁও মধ্যে ত দূও - - শুধুই জলের ডাক,
তবু যেন এ-গাঁয় ও-গাঁয় নাইক কোন ফাঁক।
ও-গাঁর বধূ ঘট ভরিতে যে ঢেউ জলে জাগে,
কখন কখন দোলা তাহার এ-গাঁয় এসে লাগে।
এ-গাঁ চাষী নিঘুম রাতে বাঁশের বাশীর সুরে
ওননা গাঁয়ের মেয়ের সাথে গহন ব্যথায় ঝুরে !
এসাঁও হতে ভাটীর সুরে কাঁদে যখন গান,
ও-গাঁর মেয়ে বেড়ায় ফাঁকে বাড়ায় তখন কান।
এ-গাঁও ও-গাঁও মেশামেশি কেবল সুরে সুরে ;
অনেক কাজে এরা ওরা অনেকখানি দূরে।

এ-গাঁর লোকে দল বাঁধিয়া ও-গাঁর লোকের সনে,
কাইজা ফ্যাসাদ করেছে যা জানেই জনে জনে।
এ-গাঁর লোকও করতে পরখ ও-গাঁর লোকের বল,
অনেক বারই লাল করেছে জলীর বিলের জল।
তবুও ভাল, এ-গাঁও ও-গাঁও, আর যে সবুজ মাঠ,
মাঝখানে তার ধুলায় দোলে দুখান দীঘল বাট ;
দুই পাশে তার ধান-কাউনের অথই রঙের মেলা,
এ-গাঁর হাওয়ায় দোলে দেখি ও-গাঁয় যাওয়ার ভেলা।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746423 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746423 2007-11-19 20:04:42
নক্সী কাঁথার মাঠ-- ০১ আজ প্রথম কিস্তি দিলাম----
আপনাদের ভাল লাগলে পরের কিস্তি লিখবো-----


এক
বন্ধুর বাড়ি আমার বাড়ি মধ্যে নদী,
উইড়া যাওয়ার সাধ ছিল, পাঙ্খা দেয় নাই বিধি।
- রাখালী গান।

এই এক গাঁও, ওই এক গাঁও---- মধ্যে ধু ধু মাঠ,
ধান কাউনের লিখন লিখি করছে নিতুই পাঠ।
এ-গাঁও, যেন ফাঁকা ফাঁকা, হেথায় হেথায় গাছ;
গেঁয়ো চাষীর ঘরগুলি বেঁধে বনের কাজল কায়া,
ঘরগুলিরে জড়িয়ে ধরে বাড়ায় ঘরের মায়া।

এ-গাঁও, যেন ও-গাঁর, দিকে, ও-গাঁও এ-গাঁর পানে,
কতদিন যে কাটবে এমন, কেইবা তাহা জানে !
মাঝখানেতে জলীর বিলে জ্বলে কাজল-জল,
বক্ষে তাহার জল-কুমুদী মেলেছে শতদল।
এ-গাঁও ও-গাঁর দুধার হতে পথ দুখানি এসে,
জলীর বিলের জলে তারা পদ্ম ভাসায় হেসে !
কেইবা বলে - আদ্যিকালের এই গাঁর এক চাষী,
ওই গাঁর এক মেয়ের প্রেমে গলায় পরে ফাঁসী;
এ-পথ দিয়ে একলা মনে চলছিল ওই গাঁয়ে,
ও-গাঁর মেয়ে আসছিল সে নূপুর-পরা পয়ে! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746268 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746268 2007-11-19 00:06:16
ফেরার সময় ভাবছিলাম আমি যদি আজ --- অপু হতাম, ইস---- তার পরেও আজ লিখছি--- ঢাকায় গিয়ে এমনি লেখা লিখতে হয়েছিল আমায়---

তারিখটা মনে নেই কেননা কয়েক দিনের ডাইরী এক সাথে লিখেছিলাম তাই---

ঢাকায় অনেক বপণি বিতান হয়ছে ----- কোথাও ক্রেতার কমনতি দেখিনি----- কিছু কিনা কাটা করার জন্য সম্ভবত শান্তিনগরে গিয়েছিলাম ---- কনর্কড টাওয়ার হবে হয়তো চিনিনাই--- অনেক দিন পর ঢাকায় গেলাম তো তাই---

যাক এবার লেখা তুলে ধরি-----

ছেলেটা উজ্বল মুখে বলেছিল " সরি !!!
ধাক্কা খাওয়াটাই ওর উদ্দেশ্য ছিল কিনা জানিনা।

বিপনি বিতান গুলোতে গিয়ে মনে হয়েছিল ---
কোথাও হয়তো জেয়াবত হচ্ছে-----
মানুষ আর মানুষের সমারহ তাই-----

জনাকীর্ন ভিড়ের ভেতর হতে এক চঞ্চল উচ্ছল " ভ্লাদিমির নভোকব !!
হুমড়ি খেয়ে পড়লো গায়ে-------
আবারো সেই সরি-------

ফেরার সময় ভাবছিলাম আমি যদি আজ --- অপু হতাম,
ইস----]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746225 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746225 2007-11-18 20:08:09
ব্লগের ব্যনারে কালো পতাকা উত্তলন করা হউক----
শুধু সঞ্জীব দা না গত কাল প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাদের জীবন গাড়ী বন্ধ হল---

কত জনই না সেই গাড়ীর যাত্রী ছিল---
ছিল কত প্রাপ্তি সোনা মনিরা---- যার ধুলো মাখা হাত আর কখনোই মাকে বাবা আদর করতে চাইবে না----
কোলো নিয়ে কপোলে চুমু দিতে আসবে না অনেক বাবা মা--

আপু বলে ডাকবে না অনেক ভাই-----
ভাইয়ারে বলে আর আবদার করবে না বোন তার----

আমরা এত জীবনে বিনিময়ে এ দেশ ভালবাসি---
আমাদের প্রাণের চেয়ে-----

আজ আমি অবাক হলাম-----ব্লগ কতৃপক্ষ সমহত তাদের ব্যনারে অন্তত কালো পতাকা উত্তলন করা দরকার ছিল--

উত্সর্গ তোমাদের যারা আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছ প্লিজ এভাবে চলে যেওনা ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746044 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28746044 2007-11-17 21:31:28
দেশে আজ শত শত প্রাপ্তি সোনারা নিরবে শুয়ে আছে ঘুমের দেশে ---- সপ্রতি ব্লগে দেখেছি নানান বিষয়ে ব্লগের ব্যনার পরির্বতন করতে----- অথচ দেশে এত বগ একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগে হল তার জন্য ব্লগের ব্যনারে শোগের কোন ছায়া দেখলা না,

প্রাপ্তি সোনা কো নিয়ে লেখা পোষ্টটা দেখেছি দিনের পর দিন ষ্টিক করে রাখা হয়েছে------

দেশে আজ শত শত প্রপ্তির সোনা নিরবে শুয়ে আছে ঘুমের দেশে ---- তার আর কোন দিন জেগে উঠবেনা, মুখুর হবে তাদের খেলার জায়গাটা, ফিরে আসবে না মায়ের কোলে আর,

প্রিয় কর্তৃপক্ষ কে বলছি----
আপনারা তো পারতেন অন্তত একটা পোষ্ট দিয়ে সমহত হতে,

আপনারা তো পারতেন ---
সিডারের আপডেড নিউজ দিতে----
আমরা সোজা জানতে চাই----?

আমি ব্লগের ব্যনারে কালো পতাকা তুলে দিলাম-------]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745944 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745944 2007-11-17 13:37:58
যে ভাষা পেতে আমাদের বাব ভাই মা বোনদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, সে ভাষাকে আমরা যেনো ২১ এর মাঝ, বৈশাখের... জানেন আপনি----- একটি অ এর জন্য 6122৫ জনের বুকের তাজা রক্ত এবং প্রায় ৫১০৩ জন্য মা হতে হয়েছে চরম ভাবে লঞ্ছিত ----
এ হিসাব টা শুধু ৭১এর ---
৫২ থেকে ৭১ পর্যন্ত আরো কত জীবন গেছে তা হয়তো আমাদের জানা নেই-------

আর আমারা সেই ভাষাকে গুলিয়ে ফেলছি বাংলিশে---
আপনি ইংরেজীতে কথা বলুন এটা কোন দোষের কিছু না--
তখনই নিজেকে চরম আপমানিত বোধ করি যখন দেখে বাংলার মাঝে বাংলাশ বলছে--- হু কিছু কিছু শদ্বের বাংলা বলা দুরুহ তাই আপনি সেগুলো ইংরেজীতে বলতেই পারেন ----

এখন কার নাটক গুলোতে বাংলিশের যে ছড়া ছড়ি দেখতে আর রুচিতে আসেনা, এসব শিল্পীরাই আবার ২১ এলে নানান স্বপ্নের কথা আমাদের শোনান-----

আসুন যে ভাষা পেতে আমাদের বাব ভাই মা বোনদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে, সে ভাষাকে আমরা যেনো ২১ এর মাঝে ---
বৈশাখের পান্তা খাওয়ার মত বেধে না ফেলি----

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745776 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745776 2007-11-15 21:34:42
জেমস এর গাওয়া ভিগি ভিগি সি হি রাত কেউ কি বলতে পারেন---?]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745762 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745762 2007-11-15 19:48:28 রাজাকারদের নামে আপনি আপনার বাসার টয়লেটটির অথবা কুকুরটির নাম করন করুন---- http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745587 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745587 2007-11-15 00:44:21 অন্তত করুনা করে হলে আপনি আপনার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখাটার লিংক দিন আমায়----
আমি শ্রদ্ধার সাথে সবাই ধন্যবাদ জানাছি---

অন্তত করুনা করে হলে আপনি আপনার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখাটার লিংক দিন আমায়----

সামহয়ারইনের ব্লগারদের কাছে আমি করজোর হাতে বলছি--

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745582 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745582 2007-11-15 00:17:47
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ব্লগে একটি প‌্যনেল গঠন করা হউক
যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে এযাবৎ পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অনিহা প্রকাশ করেছেন এবং যারা যুদ্ধাপরাধীদের সহায়তা করেছিল এবং করছে।

আমি এই প‌্যনেলে তাদের বিচার চেয়ে আবেদন করলাম।

বাকী কাজ আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম-------
যরা যুদ্ধাপরাধীদের চাইছেন---
আমার সাথে যারা এক মত তারা আওয়াজ তুলুন----
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ব্লগে একটি প‌্যনেল গঠন করা হউক ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745097 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28745097 2007-11-13 00:50:35
সবাই দেখতে পারেন আমার বাংলা মায়ের রূপের ছটা----

আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ----
তাই তো কবিরা লিখেগেছেন ---

সকল দেশের রাণী তুমি আমার জম্ম ভূমি----

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28744501 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28744501 2007-11-11 00:03:46
স্বাধীনতার ৩৬ বছর পর আজও বাংলার ঘরে ঘরে হাজার হাজার আজাদের মা, রুমির মা, জুয়েলের মায়েরা নিভৃতে চোখের পানি ফেলে। লেখাটা ইরতেজা ভাইয়ার----
লেখাটা পড়ে আমি কেদেছিলাম-----
যেমনি আমার মা আজো কাঁদে ৭১এর ছবি দেখে ----

লেখাটা এ কারনে আমি ইরতেজা ভাইয়ার কাছ থেক অনুমতি নিয়ে আমি পোষ্ট করলাম যাতে অনেকই পড়েন তাই----

এই লেখাটার পূর্ন প্রসংশা পাবার দাবীদার ইরতেজা ভাইয়া----
আপনি চাইলেই নিচের লিংকে গিয়ে মূল পোষ্টটা পড়ে আসতে পারেন-----

১৯৫২ ভাষা আন্দোলনে শহীদ বরকতের মা হাসিনা বিবি থাকতেন সেই সময় থাকতেন ভারতে । তার ছেলে বরকত ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হন। আমাদের দেশে স্থায়িভাবে বাসবাস না করেও প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারীতে শহীদ মাতা ছুটে আসতেন ঢাকাতে ছেলের আজিমপুর কবরস্থানে ছেলের কবরের সামনে শ্রদ্ধা জানাতে। শহীদ মাতা হাসিনা বিবিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। ৬৮-৬৯ সালে তাকে জোর করে দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি তার পাসপোর্ট আটক করে রাখা হয়। এক মাকে তার ছেলের জন্য প্রাথনা করতে দেয়া হয়নি।১৯৮২ সালে তিনি বরকত বরকত করতে করতেই ইন্তেকাল করেন।

মিরপুরে কবি মেহেরুনি্নসাকে তার বৃদ্ধা মায়ের সামনেই হত্যা করা হয়। পাকিন্তানিরা এক মায়ের সামনে তার স্নেহের দুই ছেলেকে আর তার তরুনী মেয়েকে শক্ত করে রশি দিয়ে বাধা হয়। এক বৃদ্ধা মায়ের আকুতি মিনতি, পায়ে ধরে বিলাপ কিছুতেই ওই পশুদের মন গলে নি। সেই সব ভয়ন্কর পিশাচরা ভয়ন্করভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে এক মায়ের চোখের সামনে তার সন্তানদের তিল তিল করে ছুরিকাবিদ্ধ করে হত্যা করল। আর সেই অসহায় জননীর তীক্ষ্ন আর্তনাদে সেদিন বুঝি মীরপুরের ধুসর আকাশের বুক চিরে গিয়েছিল, কিন্তু এতটুকু কাঁপেনি সেই প্রতিবেশী অবাঙালি পশুদের বুক।

ভাষা শহীদ আরমা গুনকে যখন ধরার জন্য মিলিটারীরা তাদের বাসা ঘিরে ফেলে তখন উনি তার মায়ের কাছে গিয়ে আনুরোধ করেন "আমাকে হয়ত এখানেই গুলি করে মারবে। আমার বিশেষ অনুরোধ, তোমরা আমার লাশটা বারান্দায় ফেলে রেখো যাতে সকলে আমার মৃতদেহ দেখে মনে মনে সাহস পায় বিদ্রোহ করার জন্যে।"

মুক্তিযুদ্ধের এক দিনে সেক্টর কমান্ডার রফিক ভিতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। চারিদিকে গোলাগুলি, বোমা পড়ছিল। তখন তিনি দেখতে পেলেন কয়েকজন মহিলা দৌড়াচ্ছেন। একজন কিশরের দ্বিখন্ডিত দেহ পরে থাকতে দেখে উনি থামলেন। একজন মা খুব শান্ত ভাবে সেই মৃত ছেলের লাশের দিয়া একমনে চেয়ে আছেন। সেই দুঃখি মা চোখ মুছে তাকে দেখে জিগাসা করলেন "তোমরা কারা?তিনি উত্তর দিলেম "মা, আমরা আপনার ছেলে”। ছেলের দ্বিখন্ডিত দেহের সামনে তখন তার মা আল্লার কাছে হাত তুলে মোনাজাত করল "আল্লাহ আমার প্রানপ্রিয় ছেলেটিকে নিয়ে গেচ্ছিস সে জন্য আমার কোন অভিযোগ নেই, আমার ছেলের প্রানের বিনিময়ে আমি এখন শুধু এই ছেলেটার জন্য দোয়া চাইছি যারা এই দেশের স্বাধিন তার জন্য যুদ্ধ করছে”। এই কথাটা তাদের সাহস মনোবল অনেক বৃদ্ধি করেছিল। পরে মুক্তিযোদ্ধা রফিক যখন গুলিবিদ্ধ হল তখন তিনি বলছিলেন আল্লার তুমি এক দুঃখি মায়ের মায়ের দোয়া কবুল কর।

শহীদ আজাদে ছিলেন ঢাকা শহরের সেই সময় সব থেকে ধনী ইউনুশ আহমেদের একমাত্র পুত্র। বিপুল অর্থবিত্তের ভিতর বড় হলেও আজাদ জীবনে তার মাকে নিয়ে অনেক কষ্ট করেছে। শহীদ আজাদ ঢাকায় গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহন করেন। তাকে তার বাসা থেকে তার মায়ের সামনে মারতে মারতে থানায় নেয়া হয়। আজাদ,শহীদ জুয়েল ধরা পরার পর টর্চার সেলে মিলিটারীদের প্রচন্ড মারে তাকে সিলিং ফেনের সাথে উলটা করে সারা দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। সারা শরীরে বেল্ট দিয়ে পিটানো হয়। তার সারা গা রক্তাক্ত হয়ে যায় মুখ থেকে রক্ত পরছে কিন্তু তারা কিছুই ফাঁস করেনি।

আজাদের মনবল ভাঙ্গার জন্য মোহাম্মদ কামজ্জামান( জামাতের উর্ধতন নেতা) সাথে করে আজাদের মাকে সামনে নিয়ে আসে। রমনা থানায় তার মাকে বলা হয় আজাদকে তার সিদ্ধিরগঞ্জ আর রাজারবাগ অপারেশনের অংশ নেয়া বন্ধুদের নাম ঠিকানা বলতে আর অস্র কোথায় লুকিয়ে রেকেছে তা বলতে। কিন্তু তাদের সামনেই আজাদের মা পুত্রকে সাহস দিয়ে বলে "বাবা রে, যখন মারবে, তুমি শক্ত হয়ে থাকো। সহ্য কোরো। কারো নাম যেন বলে দিও না।

আজাদ সেই রাতে থানায় মাকে বলল, "মা, ভাত খেতে ইচ্ছা করে, দুই দিন ভাত খাই না। কালকে ভাত দিছিল , আমি ভাগ পাই নাই” আজাদের মা পরের দিন টিফিন ক্যারিয়ারে করে ভাত, মাংস, আলুভর্তা, বেগুনভাজি হাতে নিয়ে মা সারা রাত থানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। কিন্তু তাকে জানান হয় আজাদ রমনা থানায় নেই । উনি সারা রাত এক থানা থেকে আরেক থানা, এমপি হোষ্টেল, কেন্টরম্যান্ট খুজেও কোথাও আজাদকে পাওয়া যায় নি। আজাদকে আর কখনও খুজে পাওয়া যায় নি।

স্বাধীনতার যে ১৪ বছর আজাদের মা সাফিয়া বেগম বেঁচে ছিলেন তিনি সারা দিন দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ডাকপিয়ন আসলে দৌড়ে যান তার ছেলের কোনও চিঠি আছে নাকি দেখতে। একটু শব্দ হলে তার বুক কাঁপত। তখন শেষ বার সেলে আজাদকে দেখেছিলেন আজাদ মাটিতে শুয়ে ছিল। মাটিতে খালি একটা পাটি ছিল কোন বালিশ ছিল না। আজাদের মা ওই দিনের পর থেকে কোন দিন বিছানায় ঘুমান নি। উনিও মাটিতে পাটি বিছিয়ে ঘুমাতেন। আজাদ মৃত্যুর আগে ভাত খেতে পারে নি তাই তার মা বাকি জীবনে কোন দিন ভাত খাননি। সুদীর্ঘ ১৪ বছর খালি রুটি খেয়েছেন দুইবেলা কখনো একবেলা শুধু পানিতে চুবিয়ে। ৩১সে আগষ্ট,১৯৮৫ আজাদের ধরা পরার সেই দিনেই এই রত্নগর্ভা নারীর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। তার কবরে তার ইচ্ছা অনুযায়ি খালি একটা লাইন লিখা, শহীদ আজাদের মা।

গত ৩ তারিখ ছিল শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন। রুমি যখন তার মায়ের কাছে এসে মুক্তিযুদ্ধে যেতে চাইল তখন তার মা বলেছিল "যা তোকে দেশের জন্য কোরবানী করে দিলাম।এই শেষ কথাটার জন্য জাহানারা ইমাম সারা জীবন আফসোস করেছেন। আল্লাহ মনে হয় কোরবানী কথাটি কবুল করে নিয়েছেন। উনি কেন বললেন না, যা রুমি যুদ্ধ করে বীরের বেশে স্বাধীন দেশে ফিরে আয়।তাহলে হয়তবা তার ছেলে রুমি ফিরে আসত ১৬ ডিসেম্বর।

স্বাধীনতার ৩৬ বছর পর আজও বাংলার ঘরে ঘরে হাজার হাজার আজাদের মা, রুমির মা, জুয়েলের মায়েরা নিভৃতে চোখের পানি ফেলে। পৃথিবীর সব কষ্ট হয়ত সময়ের সাথে সাথে হালকা হয়ে যায় কিন্তু সন্তান হারাবার কষ্ট কি কোন দিন কমে। জীবনের প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত সেই ছেলে হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে তারা বেঁচে থাকে। মায়ের কাছে সন্তান বিদায় নিয়ে দূরে কথাও চলে গেছে। সেই শহীদ মায়েরা তাদের ছেলের মুখ আর কোন দিনও দেখতে পাবে না, তাদের ছেলেরা বর্ষার তুমুল বর্ষণে মায়ের হাতের আদরে মাখা খিচুরী খাবে না, ঘোমটার ফাঁক গলে চেয়ে থাকা মায়ের দৃষ্টি নিয়ে শরতের আকাশে ঘুড়ি উড়াবে না, কনকনে শীতের রাতে মায়ের বুকের উষ্ণতা নিবে না, ক্লান্ত হয়ে বাসায় এসে মায়ের শাড়ির আঁচলে মুখ মুছবে না, গ্রীষ্মের উত্তপ্ত দুপুরে মায়ের খোলা শীতল পিঠে কচি শরীর লেপটে ঘুমাবে না, মায়ের অনেক আদরের মানুষটি কখনই মাকে নিয়ে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেকে দেখতে পাবে না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28744467 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28744467 2007-11-10 21:40:41
মাগো, ওরা বলে তেমনি আমার পিসিতে আমার ফেভারিট লিষ্ট করা কিছু কবিতা আছে-- যা আমি পিসি খুললেই পড়বার চেষ্টা করি---
তেমনি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কবিতা-------

মাগো, ওরা বলে

কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পরেছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি ডালের বড়ি শুকিয়ে রেকেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
কবে ছুটি?
চিঠিটা তার পকেটে ছিল ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা।
মাগো, ওরা বলে সবার কথা কেড়ে নেবে।
তোমার কোলে শুয়ে গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা, তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরি হচ্ছে।
তোমার জনে কথার ঝুরি নিয়ে তবেই না বাড়ি ফিরবো।
ল‍হ্মী মা, রাগ করো না, মাত্রতো আর কটা দিন।
পাগল ছেলে,মা পরে আর হাসে,
তোর ওপরে রাগ করতে পারি !
নারিকেলের চিড়ে কোটে,
উরকি ধানের মুড়কি ভাজে,
এটা-সেটা আর কত কী
তার খোকা বাড়ি ফিরবে ক্লান্ত খোকা।
কুমড়ো ফুল শুকিয়ে গেছে,
ঝরে পরেছে ডাঁটা,
পুঁই লতাটা নেতানো
খোকা এলি ?
ঝাপসা চোখে মা তাকায়
উঠানে উঠানে
যেখানে খোকার শব শকুনীরা ব্যবচ্ছেদ করে।
এখন মার চোখে চৈত্রের রোদ পুরিয়ে দেয় শকুনীদের।
তারপর দাওয়ায় ব’সে মা আবার ধান ভানে,
বিন্নি ধানের খই ভাজে,
খোকা তার কখন আসে কখন আসে
এখন মার চোখে শিশির
ভোর স্নেহের রোদে ভিটে ভরেছে।


এই কবিতাটার আবৃৎতি যদি কারো কাছে থাকে তাহলে বলবেন দয়া করে,]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28743490 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28743490 2007-11-07 19:45:59
কিন্তু কেন যে ওরা ফেরত দেয়না----
কলম টা আজো আছে!
শুধু লেখা হয়না ওটা দিয়ের
অধেক কালি আর অধেক ফাঁকা

" ওয়েষ্টাণ ফ্রন্টের " কথা প্রায় ভুলে যাচ্ছি-
'পল বোমার ' এখন স্বপ্নেও আসেনা,
;স্কার লেট; কে যেন নিয়ে গেছে--

বড় দুঃখ! 'শেষ রুপকথা' শাহিদ
কে দিলাম পড়বে,
কিন্তু কেন যে ওরা ফেরত দেয়না,

আচ্ছা তুমিই বল একবার পড়ে কেই
কি আজীবন মনে রাখতে পারে --
অমন কাহিনী--।
আমি তো আমার কাহিনীই ভুলে যাই--।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28743401 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28743401 2007-11-07 13:56:27
তুলনামূলক হাত ------

তুলনামূলক হাত --- নির্মলেন্দু গুণ

তুমি যেখানেই স্পর্শ রাখো সেখানেই আমার শরীর
তোমার চুলের ধোয়া জল তুমি যেখানেই
খোঁপা ভেঙ্গে বিলাও মাটিকে
আমি এসে পাতি হাত, জলভারে নতদেহ আর
চোখের সামগ্রী নিয়ে ফিরি ঘরে, অথবা ফিরি না ঘরে
তোমার চতুর্দিকে শূন্যতাকে ভরে থেকে যাই
তুমি যেখানেই হাত রাখো, যেখানেই কান থেকে
খুলে রাখো দুল, কন্ঠ থেকে খুলে রাখো হার
সেখানেই শরীর আমার হয়ে ওঠে রক্তজবা ফুল
তুমি যেখানেই ঠোঁট রাখো সেখানেই আমার চুম্বন
তোমার শরীর থেকে প্রবল অযত্নে ঝরে যায়৷
আমি পোকা হয়ে পিচুটির মতো
তোমার ঐ চোখের ছায়ায় প্রতিদিন খেলা করে যাই
ভালোবেসে নিজেকে কাঁদাই
তুমি শাড়ির আঁচল দিয়ে আমাকে তাড়িয়ে দিলে
আমি রথ রেখে পথে এসে তোমারই দ্বৈরথে বসে থাকি
তোমার আশায়৷ তুমি যেখানেই হাত রাখো
আমার উদগ্রীব চিত্র থাকে সেখানেই৷ আমি যেখানেই
হাত পাতি সেখানেই অসীম শূন্যতা, তুমি নেই
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28743255 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28743255 2007-11-07 00:27:54
তুমি বেশ বদলে গেছো পুরনো সৈকতে আর পানশি ভেড়াও না,
জানি না কোন সাগরের ঝিনুক থেকে একটিবারও পলক ফেরাও না...

বিকেলের সোনা যেমন ঝিলের জলে,
প্রণয়ের রং ছড়িয়ে ছন্দ তোলে,
তেমনি চাওয়ার ছিলো তোমার কাছে,
সাগর তলের তেমন কোনো পান্না হীরেও না....

তুমি বেশ বদলে গেছো
পুরনো সৈকতে আর পানশি ভেড়াও না....

যে ঘাটে নোঙর ফেলে নিজের হাতে
দুচোখে স্বপ্ন নিয়ে দিন কাটাতে
সে ঘাটের রংমহলায় খিল দিয়ে আজ
পোষ মানানো পাখির ডাকেও একটু তাকাও না....

তুমি বেশ বদলে গেছো
পুরনো সৈকতে আর পানশি ভেড়াও না,
জানি না কোন সাগরের ঝিনুক থেকে একটিবারও পলক ফেরাও না....


গানটা আমার কাছে দারুন লাগে ফাতেমার কন্ঠে---]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28743251 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28743251 2007-11-07 00:10:19
আমি তাদের বিচার চাই যারা ৩০ লক্ষ শহীদের লাশের উপর দাঁড়িয়ে ---
আমি মুক্তিযোদ্বার সন্তান হয়ে প্রতিবাদ না করে আমিও থাকতে পারলাম না।
তাই আমিও ছোট একটা পোষ্ট দিলাম-----

৩৬ বছর আগের এই ছবি গুলো আমার মা দেখলে আজো কাদে। আজ শুধু এতটুকু বলবো ৭১এ যে গণহত্যা হয়েছিল তারাই অস্বীকার করতে পারেন যাদের রক্তে তাদেরই যারা পাকিদের সাহায্য করেছিল ৩০ লক্ষ বাঙগালী হত্যা করতে।

আমি যুদ্ধাপরাধদের আর বিচার চাই না।
আমি তাদের বিচার চাই যারা ৩০ লক্ষ শহীদের লাশের উপর দাঁড়িয়ে ২.৫ লক্ষ মায়ের বুকে মুখ গুজে আজ বলছে এসব নিয়ে বাড়াবাড়ীর করার সময় নেই----

এখনো অনেক কাজ বাকী এসব নিয়ে পরেও ভাবলেও চলবে---
আমি আজ থেকে তাদের বিচার চাই যারা আমার ভায়ের রক্তে রাঙ্গানো লাল সবুজের পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জন্য অনিহা প্রকাশ করছে আমি তাদের বিচার চাই--

মইনুল হোসেন এই ছবি গুলো কিভাবে অস্বীকার করলেন---
নরপশু মুজাহিদী সব কথাই বলতে পারেন -----
কিন্তু স্বাধীন বাংলায় ৩০ লক্ষ শহীদের লাশের উপর দাঁড়িয়ে ময়নুল, খালেদা, হাছিনা, ফ উদ্দিন কেন নিরব ছিলেন----

এই ছবি গুলো কি আপনার মনে একটুও দাগ কাটে না----]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28742748 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28742748 2007-11-05 00:37:13
কর্তৃপক্ষ দয়া করে বলবেন কি আপনরা নিরব কেন? আমার এই লেখাটা আমার একার কথা নয় আমাদের জন্য স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে যারা নিজের বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছেন আমি তাদের হয়ে লিখছি----


আমরা শুধু ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাই না চাই ৭১ পরর্বতী সময়ে যারা যুদ্ধাপরাধীদের সহযোগিতা করেছে তাদের বিচার ও চাই এটা আমাদের প্রাণের দাবী। যেমন ছিন ৫২ ভাষা আন্দলোনের পর স্বাধীনতার দাবী।

আমি এই ব্লগের অতি নগন্য একজন ব্লগার হিসেবে বলতে চাই-
এটা আমারদেশ হিসেবে আমি যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাওয়াটা আমার নীতিগত অবস্থান।

৩০ লক্ষ শহীদ ২.৫ লক্ষ নারী যারা অপমাণিত করলো আজ ৩৬ বছর পর এসেও কি আমরা এসব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাইতে পাবোনা ?

স্বাধীনতার ৩৬ বছর পরও আজো আমারদেশে ৭১এর মত নব বাংলাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীকারিদের এই ব্লগে দেখা যায়।
তার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়া পোষ্ট গুলোর বিপক্ষে পোষ্ট দেয়----

হতাশ হই কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণে--
যারা নীতিগতভাবে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে পোষ্ট দেন বা দিয়েছেন এটা কি স্বাভিকভাবে ব্লগেরনীতির বাইরে পরে না।
তাহলে প্রশ্ন হল কর্তৃপক্ষ কেন আমাদের স্বাধীনতা নিয়ে এহেন আচরনে মেতে উঠছেন----?

অতিসাধারন বিষয়ে দেখেছি অনেকে ব্যন হয়েছেন তাহলে প্রশ্ন আমাদের অস্তিত্বে যারা আঘাত হানলো তাদের ব্যপারে কর্তৃপক্ষের এহেন উদাস কেন?

কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণে আমার কি কর্তৃপক্ষের কাছে এতটুকু জানতে চাইতে পারি না-- ?

কর্তৃপক্ষ দয়া করে বলবেন কি আপনারা নিরব কেন?
দয়া করে আপনাদের অবস্থান আমাদের কাছে স্পষ্ট করুন?
তা না হলে এই প্রিয় ব্লগটি এদিন পরিনত হবে কোন বধ্যভুমিতে প্রজম্ম থেকে প্রজম্ম জানবে । ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28742541 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28742541 2007-11-04 13:04:04
লালন তোমার আরশী নগর আর কত দূর বাংলা গানের এক কিংবদন্তী ফকির লালন শাহ।
তার গানের ভেতর আছে মানব মুক্তির দর্শন। এই গায়কের গাওয়া গান নিয়ে বিদেশীরা গবেষণা করছেন, অথচ আমাদেও দেশের অনেকেই আজ অবজ্ঞা করেন।
লালন হিন্দু না মুসলমান তা নিয়ে বির্তকে না গিয়ে---
শ্রদ্ধা জানাই তার সৃষ্টিকে----

লালন শাহের জন্মস্থান যশোর ঝিনাইদাহ মহকুমার হারিশপুর গ্রামে

লালনের কিছু গান---

সব লোকে কয় লালন কি জাত

সব লোকে কয় লালন কি জাত এ সংসারে।
লালন বলে জাতের কি রূপ দেখলেম না এ নজরে।।
কেউ মালা কেউ তসবী গলে
তাইত রে জাত ভিন্ন বলে
যাওয়া কিম্বা আসার বেলায়
জাতের চিহ্ন রয় কারে।।

ছুন্নত্ দিলে হয় মুসলমান
নারীর তবে কি হয় বিধান
বামন চিনি পৈতেয় প্রমাণ
বামনী চিনি কি প্রকারে।।

জগত্ বেড়ে জাতের কথা
লোকে গল্প করে যথা তথা
লালন বলে, জাতের ফাত্ না
ডুবিয়েছি সাধ বাজারে।।


********************

আমি এক দিন না দেখিলাম তারে

আমি এক দি না দেখিলাম তারে
আমার বাড়ির কাছে আরশী নগর
এক পড়শী বসত করে
গেরাম বেড়ে অগাধ পানি
ও তার নাই কিনারা নাই তরণী পারে।
আমি বাঞ্ছা করি দেখব তারে
আমি কেম্ নে সে গাঁয়ে যাইরে।।
কি কব সেই পড়শীর কথা
তার হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা নাইরে।
ও সে ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
আবার খনেক ভাসে নীরে।
পড়শী যদি আমায় ছুঁতো
আমার যম যাতনা যেত দূরে।
আবার সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে।।


********************

খাঁচার বিতর অচিন পাখি

খাঁচার বিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়।
তারে ধরতে পারলে মন বেড়ি দিতাম তাহার পায়।
আট কুঠুরি নয় দরজা আঁটা
মধ্যে মধ্যে ঝলকা কাটা
তার উপর আছে সদর কোঠা
আয়না মহল তায়।
মন তুই রইলি খাঁচার আশে
খাঁচা যে তোর তৈরি কাঁচা বাঁশে
কোনদিন খাঁচা পড়বে খসে
লালন কয় খাঁচা খুলে সে পাখি কোনখানে পালায়

ছবি ---- উইকিপিডিয়া থেকে --]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28741903 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28741903 2007-11-01 23:56:42
আমার সোনার বাংলা আমার সবচেয়ে প্রিয় কবিতা-----
স্বদেশ --- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে---
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো---
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে---
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি॥
তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিলে রে,
তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি।
তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে,
মরি হায়, হায় রে---
তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও মা, তোমার কোলে ছুটে আসি॥
ধেনু-চরা তোমার মাঠে, পারে যাবার খেয়াঘাটে,
সারা দিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে,
তোমার ধানে-ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে,
মরি হায়, হায় রে---
ও মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ও মা, তোমার রাখাল তোমার চাষি॥
ও মা, তোর চরণেতে দিলেম এই মাথা পেতে--
দে গো তোর পায়ের ধূলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।
ও মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,
মরি হায়, হায় রে---
আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ ব'লে গলার ফাঁসি॥ ।।

স্বরবিতান ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28741888 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28741888 2007-11-01 22:56:09
বল বীর
বল বীর -
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি - নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!
বল বীর -
বল মহা বিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
ভূলোক দ্যুলোক গোলোক ভেদিয়া,
খোদার আসন আরশ’ ছেদিয়া,
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশ্ব বিধাত্রীর!
মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
বল বীর-
আমি চির উন্নত শির।

আমি চিরদুর্দ্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস,
মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস,
আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর!
আমি দুর্বার,
আমি ভেঙ্গে করি সব চুরমার!
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি দলে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল!
আমি মানি না কো কোন আইন,
আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
আমি ধুর্জ্জটী, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর!
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সূত বিশ্ব-বিধাত্রীর!
বল বীর-
চির-উন্নত মম শির!

আমি ঝঞ্ঝা, আমি ঘূর্ণি,
আমি পথ-সমুখে যাহা পাই যাই চূর্ণি।
আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ,
আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনান্দ।
আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল,
আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি' ছমকি'
পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি'
ফিং দিয়া দিই তিন দোল্‌;
আমি চপলা-চপল হিন্দোল।
আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা',
করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা,
আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা!
আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর;
আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ণ চির-অধীর।
বল বীর-
আমি চির-উন্নত শির!

আমি চির-দূরণ্ত দুর্মদ,
আমি দুর্দম, মম প্রানের পেয়ালা হর্দম্‌ হ্যায় হর্দম ভরপুর মদ।

আমি হোম-শিখা, আমি সাগ্নিক জমদগ্নি,
আমি যজ্ঞ, আমি পুরোহিত, আমি অগ্নি।
আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি লোকালয়, আমি শ্মশান,
আমি অবসান, নিশাবসান।
আমি ইন্দ্রানী-সুত হাতে চাঁদ ভালে সূর্য
মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য;
আমি কৃষ্ণ-কণ্ঠ, মণ্থন-বিষ পিয়া ব্যাথা-বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
বল বীর-
চির- উন্নত মম শির!

আমি সন্ন্যাসী, সুর-সৈনিক,
আমি যুবরাজ, মম রাজবেশ ম্লান গৈরিক।
আমি বেদুইন, আমি চেঙ্গিশ,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ!
আমি বজ্র, আমি ইশান-বিষানে ওঙ্কার,
আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা-হুঙ্কার,
আমি পিনাক-পানির ডমরু ত্রিশুল, ধর্মরাজের দন্ড,
আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড!
আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য,
আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব।
আমি প্রাণ-খোলা হাসি উল্লাস,-আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস
আমি মহা-প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু-গ্রাস!
আমি কভু প্রশান্ত,-কভু অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী,
আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী!
আমি প্রভঞ্জনের উচ্ছ্বাস, আমি বারিধির মহাকল্লোল,
আমি উজ্জ্বল আমি প্রোজ্জ্বল,
আমি উচ্ছল জল-ছল-ছল, চল-উর্মির হিন্দোল দোল!

আমি বন্ধন-হারা কুমারীর বেণী, তন্বী-নয়নে বহ্নি,
আমি ষোড়শীর হৃদি-সরসিজ প্রেম উদ্দাম, আমি ধন্যি!
আমি উন্মন মন উদাসীর,
আমি বিধবার বুকে ক্রন্দণ শ্বাস, হা-হুতাশ আমি হুতাশীর!
আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির-গৃহহারা যত পথিকের,
আমি অবমানিতের মরম-বেদনা, বিষ-জ্বালা, প্রিয়-লাঞ্ছিত বুকে গতি ফের!
আমি অভিমানী চির-ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা, ব্যথা সুনিবিড়,
চিত- চুম্বন-চোর-কম্পন আমি থর-থর-থর প্রথম পরশ কুমারীর!
আমি গোপন-প্রিয়ার চকিত চাহনি, ছল ক’রে দেখা অনুখণ,
আমি চপল মেয়ের ভালবাসা, তা'র কাঁকন চুড়ির কন্ কন্।
আমি চির-শিশু, চির-কিশোর
আমি যৌবন-ভীতু পল্লীবালার আঁচর কাঁচলি নিচোর!
আমি উত্তর-বায়ু, মলয়-অনিল, উদাস পূরবী হাওয়া,
আমি পথিক-কবির গভীর রাগিণী, বেনু-বীণে গান গাওয়া।
আমি আকুল নিদাঘ-তিয়াসা, আমি রৌদ্র-রুদ্র রবি,
আমি মরু-নির্ঝর ঝর-ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি।
আমি তুরীয়ানন্দে ছুটে চলি এ কি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি সহসা আমারে চিনেছি, আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধ!

আমি উত্থান, আমি পতন, আমি অচেতন-চিতে চেতন,
আমি বিশ্ব-তোরণে বৈজয়ন্তী, মানব-বিজয়-কেতন।
ছুটি ঝড়ের মতন করতালি দিয়া
স্বর্গ মর্ত্য-করতলে,
তাজী বোর্‌রাক্‌ আর উচ্চৈঃশ্রবা বাহন আমার
হিম্মত-হ্রেষা হেঁকে চলে!

আমি বসুধা-বক্ষে আগ্নিয়াদ্রি, বাড়ব-বহ্নি, কালানল,
আমি পাতালে মাতাল অগ্নি-পাথার-কলরোল-কল-কোলাহল!
আমি তড়িতে চড়িয়া উরে চলি জোর তুড়ি দিয়া দিয়া লম্ফ,
আমি ত্রাস সঞ্চারি ভূবনে সহসা সঞ্চারী' ভুমিকম্প।

ধরি বাসুকির ফনা জাপটি-
ধরি স্বর্গীয় দূত জিব্রাইলের আগুনের পাখা সাপটি'।
আমি দেব-শিশু, আমি চঞ্চল,
আমি ধৃষ্ট, আমি দাঁত দিয়া ছিঁড়ি বিশ্ব-মায়ের অঞ্চল!
আমি অর্ফিয়াসের বাঁশরী,
মহা- সিন্ধু উতলা ঘুম্-ঘুম্,
ঘুম্ চুমু দিয়ে করি নিখিল বিশ্বে নিঝ্‌ঝুম্
মম বাঁশরীর তানে পাশরি
আমি শ্যামের হাতের বাঁশরী।
আমি রুষে উঠে’ যবে ছুটি মহাকাশ ছাপিয়া,
ভয়ে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ নিভে নিভে যায় কাঁপিয়া !
আমি বিদ্রোহ-বাহী নিখিল অখিল ব্যাপিয়া!

আমি শ্রাবণ-প্লাবন-বন্যা,
কভু ধরণীরে করি বরণীয়া, কভু বিপুল-ধ্বংস-ধন্যা-
আমি ছিনিয়া আনিব বিষ্ঞু-বক্ষ হইতে যুগল কন্যা!
আমি অন্যায়, আমি উল্কা, আমি শনি,
আমি ধূমকেতু-জ্বালা, বিষধর কলা-ফণী!
আমি ছিন্নমন্তা চণ্ডী, আমি রণদা সর্বনাশী,
আমি জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!

আমি মৃন্ময়, আমি চিন্ময়,
আমি অজয় অমর অক্ষয়, আমি অব্যয়!
আমি মানব দানব দেবতার ভয়,
বিশ্বের আমি চির-দুর্জয়,
জগদীশ্বর-ঈশ্বর আমি পুরুষোত্তম সত্য,
আমি তাথিয়া তাথিয়া মথিয়া ফিরি এ স্বর্গ পাতাল-মর্ত্য!
আমি উন্মাদ, আমি উন্মাদ!
আমি চিনেছি আমারে, আজিকে আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাঁধা!!
হাবিয়া দোজখ-সপ্তম নরক, এই নরকই ভীষনতম।


আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার,
নিঃক্ষত্রিয় করিব বিশ্ব, আনিব শান্তি শান্ত উদার!
আমি হল বলরাম-স্কন্ধে,
আমি উপাড়ি' ফেলিব অধীন বিশ্ব অবহেলে নব সৃষ্টির মহানন্দে,

মহা- বিদ্রোহী রণ-কাল্ত,
আমি সেইদিন সব শান্ত,
যবে উত্পীড়িতের ক্রন্দণ-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না
অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।

আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দিই পদ-চিহ্ন;
আমি স্রষ্টা-সুদন; শোক-তাপ হানা খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন।
আমি বিদ্রোহী ভৃগু, ভগবান বুকে এঁকে দেবো পদ-চিহ্ন!
আমি খেয়ালী বিধির বক্ষ করিব ভিন্ন।

আমি চির-বিদ্রোহী-বীর-
আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির!

[অগ্নি-বীণা]


আবৃতি শুনুন----
এই লিংকে------ Click This Link)---কাজী-সভ্যসাচী

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28741666 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28741666 2007-11-01 00:49:39
"আমি বাংলায় গান গাই" গানটি বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গানের মধ্যে অন্যতম । "আমি বাংলায় গান গাই" গানটি বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গানের মধ্যে অন্যতম তা আজ অনস্বীকার্য। এই গানটি তাঁকে গানের জগতে অমরত্বের
স্থানে বসিয়ে দিয়েছে।

কবি এই কথা গুলো আমাদের দেশের আরেক সনাম ধন্য গুণী শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবুর কন্ঠেও এসেছে---
সত্যিই দুজনেই অসাধারন গেয়েছেন ----
কবি প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সাথে আরো একটি নামটা উঠে আসবে মাহমুদুজ্জামান বাবুর। এই দু শিল্পী কন্ঠে গাওয়া গান বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গান হয়ে থাকবে। নিঃসন্দেহে বাবুর উদাত্ত কন্ঠে গাওয়া গানটাও অমর হয়ে থাকবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গানের মধ্যে অন্যতম হয়ে এতে কোন সন্দেহ নেই----

আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই,
আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, আমি বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটা দূর
বাংলা আমার জীবনানন্দ বাংলা প্রাণের সুখ
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।

আমি বাংলায় কথা কই, আমি বাংলার কথা কই
আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি, বাংলায় জেগে রই
আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় চিত্কার
বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান ক্ষিপ্ত তীর ধনুক,
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।

আমি বাংলায় ভালবাসি, আমি বাংলাকে ভালবাসি
আমি তারি হাত ধরে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আসি
আমি যা'কিছু মহান বরণ করেছি বিনয় শ্রদ্ধায়
মেশে তেরো নদী সাত সাগরের জল গঙ্গায় পদ্মায়
বাংলা আমার তৃষ্ণার জল তৃপ্ত শেষ চুমুক
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ।


কৃতজ্ঞ---
মিলন সাগার--
গিয়াসউদ্দিন ভাইয়া-
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28741294 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumeblog/28741294 2007-10-30 19:23:34