সরকারি নীতিমালা ছাড়াই পরিচালিত মাল্টি লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি (এমএলএম) ডেসটিনির অর্থের উৎস, আইনবহির্ভূত অর্থ লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অনুসন্ধানের জন্য অভিযোগ গ্রহণ করেছে দুদক। অভিযোগের বিষয়ে দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত সেলের মতামত সাপেক্ষে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। এরই মধ্যে ‘ইউনিপে টু ইউ’ এবং ‘ইউনিগেট’ নামের দুটি এমএলএম কোম্পানিসহ আরও অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ শেষ করেছে দুদক। ইউনিপেট টু ইউ এবং ইউনিগেটের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার অর্থ পাচার, গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ‘ইউনি রুট’ নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহে মামলা হতে যাচ্ছে।
ডেসটিনির কার্যক্রম তদন্তে দুদক থেকে এবারই প্রথম উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর বাইরে সরকারিভাবে গৃহীত কিছু কিছু তদন্ত কাজও হচ্ছে। স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ২৪ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ডেসটিনির প্রতারণা ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে একটি গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে দুদকের অনুসন্ধান। দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, এ জাতীয় যেসব ঠকবাজ এমএলএম কোম্পানি দেশের নিরীহ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বেআইনিভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ অব্যাহত থাকবে। অনুসন্ধানে যার বিরুদ্ধেই প্রতারণা, বেআইনিভাবে অর্থ আদায় ও অর্থ পাচারের অভিযোগ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেনে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ আজ বেশি লোভী হয়ে পড়েছে। এ লোভের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে এমএলএম কোম্পানিগুলো।
ডেসটিনি আইনবহির্ভূতভাবে কিভাবে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ৩১ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডেসটিনির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পায়। সদ্য বিদায়ী বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুখ খান বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংককে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বলে। অভিযোগকারী খুরশিদ আহমেদ খান মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগে ডেসটিনি লিঃ ২০০০ এর বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহসহ বিভিন্ন রকম প্রতারণার অভিযোগ আনেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারদের বিরুদ্ধেও আনা হয় অভিযোগ। তাতে বলা হয়, ডেসটিনির মূল কর্ণধার মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও তার সহযোগী সয়ীদ-উর রহমান ও গোফরান গোপনে অস্ট্রেলিয়ায় ৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন। ডেসটিনির মূল একাউন্ট থেকে এই টাকা সরানো হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়। দুদক এই অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য একটি টিম গঠন করতে যাচ্ছে বলেও আভাস পাওয়া গেছে।
এর আগে ২৪ অক্টোবর ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের প্রতারণামূলক কার্যক্রম খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে এক নোটিশের জবাবে তিনি এই আশ্বাস দেন। সংসদ সদস্য এনামুল হক জানান, তার নির্বাচনী এলাকা বাগমারায় ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড সরলপ্রাণ মানুষকে ফুসলিয়ে তাদের বিভিন্ন মুনাফা ও সুবিধার লোভ দেখিয়ে কোম্পানিতে ভর্তি করাচ্ছে এবং কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ডেসটিনির এসব কাজে যারা সহযোগিতা করছে তাদেরও সাময়িক সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতারণার অভিযোগে তার নির্বাচনী এলাকায় একটি মামলাও হয়েছে। এনামুল হক আরও বলেন, মানুষ ডেসটিনির কাছে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির কাজ সমাজের স্থিতিশীলতার পরিপন্থী। তিনি ডেসটিনির এই অশুভ কার্যক্রম বন্ধের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সেই সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের মতো এমএলএম কোম্পানি ইউনিপে টু ইউসহ অন্য যেসব কোম্পানি নামে-বেনামে প্রতারণা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


