আমার প্রিয় পোস্ট
- ১০ বিষয়ে সেরা ১০ ছবির তালিকা: মুভি প্রেমিকদের জন্য অবশ্য পাঠ্য - শওকত হোসেন মাসুম
- সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা (১৯৭৫-১৯৮১) একটি প্রামাণ্য দলিল - শওকত হোসেন মাসুম
- বাউলের মূর্তি সরানোয় মুসলমানি সাফল্য: আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের পুনর্পাঠ, পর্ব ৪ - ফাহমিদুল হক
- আমার মন যখন জাগলো নারে মনের মানুষ এলো দ্বারে- উতসর্গ বাতাসি - লালমোহন ওরফে জটায়ু
- ভুল মানুষের ডেরায় ০২ - রাসেল ( ........)
- বিশ্বাস, কিভাবে? - শাহানা
- জীবন যখন থমকে দাঁড়ায় - নাদান
- ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আর রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধের মধ্য দিয়া মানবিকতার মুক্তি ঘটে... - জামাল ভাস্কর
- স্লো ইনিংসে অবশেষে ডাবল সেঞ্চুরী (দুইশ নাম্বার পোস্টে স্মৃতিচারণ) - জ্বিনের বাদশা
- আমার মায়ের সাতটি মিথ্যা কথা - প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব
- জীবন জয়ী হবে: সরদার ফজলুল করিমের সাথে কথোপকথন - ফাহমিদুল হক
- একজন রবীন্দ্রনাথ আর বিদ্যমান বাস্তবতার বিবরন - জামাল ভাস্কর
- এক দিন লেইখা ছিলাম রে: ইরানী ছবি ও আমার কিছু চলচ্চিত্র ভাবনা - লাল দরজা
- নেপালে মাওবাদীদের নির্বাচনী বিজয়, বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মিথ এবং কিছু জরুরী ভাবনা - দিনমজুর
- ফ্যাশন ভিকটিম/ ট্রু কস্ট অব চিপ ক্লথস (দুই খণ্ড যুক্ত করে রিপোস্ট) - দিনমজুর
- আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা - সামী মিয়াদাদ
- বাক বাকুম বাক স্বাধীনতা - দিনমজুর
- নারীর সমানাধিকার নীতি, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও বাঙালি মুসলমানের গৃহবিবাদ - মাহবুব মোর্শেদ
- নাইল্যাকাডার সূচিপত্র ও প্রাপ্তিস্থান (নাইল্যাকাডা এখন ফরিদপুরে) - দিনমজুর
- বুটের তলায় দেখি ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল - সামী মিয়াদাদ
- আমাদের পাঠশালা'র নববর্ষ র্যালী - কৌশিক
- সাম্প্রতিক খাদ্য সংকট ও আমাদের কৃষি - দিনমজুর
- পাকিস্তানের জামাতে ইসলামীর খায়েস ও তার বাস্তবায়নে বাংলাদেশে জামাতের সম্ভাব্য ভূমিকা - তীরন্দাজ
- কার কার বই বের হচ্ছে? - মাহবুব মোর্শেদ
- আমি তো সুখে থাকবই - মানব মানিক
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: পক্ষ-বিপক্ষ ২
২০ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১২
৪.
বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ না।
৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ যে কোনোক্রমেই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিলো না সেটা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি (জামাত ও অন্যান্য ইসলামজীবি দল) ছাড়া অন্য সবাই স্বীকার করবেন।
জামাত যেমন ইসলাম কে ব্যবহার করে তাদের হীন, নোংরা স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় এবং পাপ ঢাকতে চায় তেমনি কিছু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ ইসলামের সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গুলিয়ে ফেলেন। তাদের অনেকের কাছেই কাছে মনে হয় ইসলামের বিরোধীতা করা মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শক্তিশালী করা।
ধরা যাক, একজন ষাটোর্ধ মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মভীরু, ইসলামে বিশ্বাস করেন ও তা পালন করেন বা চেষ্টা করেন। এই ধর্মে বিশ্বাস করা বা পালন করার কারনে কি তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ বলা যাবে?
৫.
মুক্তিযুদ্ধে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কোনোরকম ম্যানিফেস্টো ছিলো না এবং ধর্ম সেখানে মুখ্য কোনো বিষয় ছিলো না। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনে বিশ্বাসী জামাত-এ-ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামজীবি দলগুলোর ( নেজামে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও অন্যান্য কিছু ভুঁইফোর দল) ক্ষুদ্র অংশের বিরোধীতা সত্বেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দেশ স্বাধীন করার চেতনায় একতাবদ্ধ হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলো।
এই ধর্মান্ধ গোস্ঠী এখনো তত্পর, প্রকারন্তরে আরো শক্তিশালী, আশার বিষয় তা তৃনমূল পর্যায়ে নয়। এই অপশক্তি অতীত ও বর্তমানে ইসলামকে ব্যবহার করে এসেছে। এদের সাথে যোগ হয় কিছু পীর নামক ব্যবসায়ী। শীতকালে ওয়াজ বা ওরশ নামের নোংরা উত্সবে মানুষের ঢল দেখে এদের মনে হয় যে বাংলার মানুষ তাদের পক্ষে। তবে নির্বাচনের সময় এদের গো-হারা প্রমান করে দেয় এদের অজনপ্রিয়য়তা।
এর মাধ্যমে এটাই কি প্রমান করে না যে মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসি হতে পারে তবে ধর্মান্ধ নয় !
এটার মধ্য দিয়ে আমি বলতে চাই যে একজন ধর্মভীরু মানুষ ( সে যে ধর্মেই বিশ্বাসী হোক না কেনো) ধর্মান্ধ নাও হতে পারেন । এ কারনে ইসলামকে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ বলে গুলিয়ে ফেলেন তাদের এ গুলিয়ে ফেলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐক্যকেই দূর্বল করে দেয়।
৬.
একজন মানুষ ধর্মভীরু হতেই পারেন । সেটা তার অধিকার। মুক্তিযুদ্ধের মুল লক্ষে গুলোর একটি ছিলো সব ধর্ম ও মতের সমান অধিকার ও পালন করার স্বাধীনতা অর্জন। একজন মানুষ ইসলামের কথা বল্লেই সোজাসুজি তাকে পাকিস্তান পন্থি বা জামাত পন্থি বলে দেয়া যায় না ঠিক যেমন যায় না একজন মানুষের হিন্দুত্বের সাথে ভারতের দালাল বলে দেয়া।
আজকাল দেখা যায়, একজন মানুষ দাড়ি-টুপি রাখলেই তাকে জামাত পন্থি বলে দেয়া হয়। তার সে লেবাস তার ধর্মীয় ভাবধারা থেকে আসতে পারে , তার মানে এই না যে সে একজন রাজাকার।
এ প্রসংগে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটা পোস্টারের কথা বলতে চাই। সে পোস্টারে একটি কুকুরের মাথায় টুপি পড়িয়ে তাকে রাজাকার-জামাতী বলা হয়েছিলো। সেই পোস্টারকে পূঁজি করে জামাতী ও বিএনপি প্রচার করেছিলো আওয়ামী লীগ ইসলাম বিরোধী যা গ্রাম ও শহরের সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলো খুব সহজেই।
এ উদাহরনের মাধ্যমে বলতে চাচ্ছি, এ ধরনের রাজাকার বানানোর ব্রান্ডিং আখেরে ক্ষতিই টেনে আনে।
বেগম সুফিয়া কামাল একজন প্রবল ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তবে চেতনায় ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সৈনিক।
তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও পালন তার চেতনাকে দূর্বল কি করে দিয়েছিলো ?
ইসলাম পালন ও বিশ্বাস করলেই তাকে ধুম করে রাজাকার বা জামাত বলে দেয়া যায় না, এটা বুঝতে হবে অনেককেই।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
হুমমম,
আরশাদ রহমান বলেছেন:
[ধরা যাক, একজন ষাটোর্ধ মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মভীরু, ইসলামে বিশ্বাস করেন ও তা পালন করেন বা চেষ্টা করেন। এই ধর্মে বিশ্বাস করা বা পালন করার কারনে কি তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ বলা যাবে?] অবশ্যই না এবং বাংলাদেশের মানুষ তা মনে করে বলেও আমি মনে করিনা।
ধর্ম লেবাসে নয় ধর্ম মনের ব্যাপার। ইসলামী রাষ্ট্র মানে এই না যে সেই দেশর সব পুরুষ দাড়ি রাখে বা টুপি পড়ে। যদিও নারীর ক্ষেত্রে অন্য আচরণ দেখা যায় অনেক দেশেই।
দাড়ি-টুপী মানেই যেমন ধর্মান্ধ এবং রাজাকার না তেমনি দাড়ি-টুপি মানেই ধার্মিক নয়।
যদি কোন নাটক, চলচ্চিত্র, চিত্রকর্ম কিংবা যে কোন প্রচার মাধ্যমে রাজাকার কিংবা মৌলবাদি ধর্মান্ধে কে দাড়ি-টুপি পড়ানো হয় তার মানে এই না যে সব মুসলমানকে বোঝানো হচ্ছে। আমরা যদি ইংরেজদের অত্যাচারের ছবি ফুটিয়ে তুলতে চাই নীল চাষের কথা ফুটিয়ে তুলতে চাই তখন কিন্তু আমরা ইংরেজেদের যে পোষাক ছিলো তাই দেখাবো। তার মানে এই নয় যে সব ইংরেজ খারাপ। এবং এই পোষাক না দিলে ইতিহাস যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করা হবেনা। ৭১ এর একজন রাজাকারের ভূমিকা কোন নাটকে দেখাতে হলে তাঁকে নিশ্চয়ই বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মীয় লেবাসে কিংবা হাওয়াইন পোষাকে দেখালে চলবে না। সুতরাং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির উপরে নির্ভর করবে আমরা একটা নাটক চলচ্চিত্র কিংবা চিত্রকর্মে রাজাকার অথবা কোন ধর্মান্ধের ছবি কি ভাবে দেখছি।
আপনি বলেছেন [বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ না] এটা কতটা সত্যি তা ভেবে দেখার বিষয়। ধর্মভীরু তা মানি কিন্তু আসলে কতটা ধার্মিক বা ধর্মপরায়ণ তা ভাবা উচিত। আমি মনে করি আমাদের পিছিয়ে থাকার কারণ আমাদের অশিক্ষা ( নিরক্ষর হয়েও একজন শিক্ষিত হতে পারে) , অসচেতনতা এবং ধর্মান্ধতা।
ধূসর ছায়া বলেছেন:
আপনার কথার সাথে একমত । আবার এটাও ঠিক যে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই আওয়ামীলীগ এবং ভারতের দালাল নয় ।
মাহবুব সুমন বলেছেন:
ধন্যবাদ সবাইকে
মানবী বলেছেন:
মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্ত্র হাতে মরনপন লড়াই করেছেন পাকসেনাদের বিরুদ্ধে, নামাজের সময় হলে অস্ত্র পাশে রেখে নামাজ পড়েছেন- এমন উদাহরন ও কিন্তু প্রচুর আছে!ভালো লিখেছেন মাহবুব সুমন। ধন্যবাদ আপনাকে।
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
ধর্ম আমার বিশ্বাসমুক্তিযুদ্ধ আমার চেতনা...
দুটোই আলাদা ... ধর্ম আর মুক্তিযুদ্ধকে এক সাথে গুলিয়ে ফেলা... কোন মানে হয় না...
মুক্তিযুদ্ধ আমার চেতনা... "
জটিল প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব !
কমেন্টের জন্য ৫ খামছা



















এ প্রসংগে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটা পোস্টারের কথা বলতে চাই। সে পোস্টারে একটি কুকুরের মাথায় টুপি পড়িয়ে তাকে রাজাকার-জামাতী বলা হয়েছিলো। সেই পোস্টারকে পূঁজি করে জামাতী ও বিএনপি প্রচার করেছিলো আওয়ামী লীগ ইসলাম বিরোধী যা গ্রাম ও শহরের সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলো খুব সহজেই।
এ উদাহরনের মাধ্যমে বলতে চাচ্ছি, এ ধরনের রাজাকার বানানোর ব্রান্ডিং আখেরে ক্ষতিই টেনে আনে।
সহমত। সুমন সাহেব।