আমার প্রিয় পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: পক্ষ-বিপক্ষ ২

২০ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১২

শেয়ার করুন:                   Facebook

৪.
বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ না।
৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ যে কোনোক্রমেই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিলো না সেটা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি (জামাত ও অন্যান্য ইসলামজীবি দল) ছাড়া অন্য সবাই স্বীকার করবেন।

জামাত যেমন ইসলাম কে ব্যবহার করে তাদের হীন, নোংরা স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় এবং পাপ ঢাকতে চায় তেমনি কিছু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ ইসলামের সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গুলিয়ে ফেলেন। তাদের অনেকের কাছেই কাছে মনে হয় ইসলামের বিরোধীতা করা মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শক্তিশালী করা।

ধরা যাক, একজন ষাটোর্ধ মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মভীরু, ইসলামে বিশ্বাস করেন ও তা পালন করেন বা চেষ্টা করেন। এই ধর্মে বিশ্বাস করা বা পালন করার কারনে কি তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ বলা যাবে?

৫.
মুক্তিযুদ্ধে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কোনোরকম ম্যানিফেস্টো ছিলো না এবং ধর্ম সেখানে মুখ্য কোনো বিষয় ছিলো না। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনে বিশ্বাসী জামাত-এ-ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামজীবি দলগুলোর ( নেজামে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও অন্যান্য কিছু ভুঁইফোর দল) ক্ষুদ্র অংশের বিরোধীতা সত্বেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দেশ স্বাধীন করার চেতনায় একতাবদ্ধ হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলো।

এই ধর্মান্ধ গোস্ঠী এখনো তত্পর, প্রকারন্তরে আরো শক্তিশালী, আশার বিষয় তা তৃনমূল পর্যায়ে নয়। এই অপশক্তি অতীত ও বর্তমানে ইসলামকে ব্যবহার করে এসেছে। এদের সাথে যোগ হয় কিছু পীর নামক ব্যবসায়ী। শীতকালে ওয়াজ বা ওরশ নামের নোংরা উত্সবে মানুষের ঢল দেখে এদের মনে হয় যে বাংলার মানুষ তাদের পক্ষে। তবে নির্বাচনের সময় এদের গো-হারা প্রমান করে দেয় এদের অজনপ্রিয়য়তা।
এর মাধ্যমে এটাই কি প্রমান করে না যে মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসি হতে পারে তবে ধর্মান্ধ নয় !

এটার মধ্য দিয়ে আমি বলতে চাই যে একজন ধর্মভীরু মানুষ ( সে যে ধর্মেই বিশ্বাসী হোক না কেনো) ধর্মান্ধ নাও হতে পারেন । এ কারনে ইসলামকে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ বলে গুলিয়ে ফেলেন তাদের এ গুলিয়ে ফেলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐক্যকেই দূর্বল করে দেয়।

৬.
একজন মানুষ ধর্মভীরু হতেই পারেন । সেটা তার অধিকার। মুক্তিযুদ্ধের মুল লক্ষে গুলোর একটি ছিলো সব ধর্ম ও মতের সমান অধিকার ও পালন করার স্বাধীনতা অর্জন। একজন মানুষ ইসলামের কথা বল্লেই সোজাসুজি তাকে পাকিস্তান পন্থি বা জামাত পন্থি বলে দেয়া যায় না ঠিক যেমন যায় না একজন মানুষের হিন্দুত্বের সাথে ভারতের দালাল বলে দেয়া।

আজকাল দেখা যায়, একজন মানুষ দাড়ি-টুপি রাখলেই তাকে জামাত পন্থি বলে দেয়া হয়। তার সে লেবাস তার ধর্মীয় ভাবধারা থেকে আসতে পারে , তার মানে এই না যে সে একজন রাজাকার।

এ প্রসংগে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটা পোস্টারের কথা বলতে চাই। সে পোস্টারে একটি কুকুরের মাথায় টুপি পড়িয়ে তাকে রাজাকার-জামাতী বলা হয়েছিলো। সেই পোস্টারকে পূঁজি করে জামাতী ও বিএনপি প্রচার করেছিলো আওয়ামী লীগ ইসলাম বিরোধী যা গ্রাম ও শহরের সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলো খুব সহজেই।

এ উদাহরনের মাধ্যমে বলতে চাচ্ছি, এ ধরনের রাজাকার বানানোর ব্রান্ডিং আখেরে ক্ষতিই টেনে আনে।

বেগম সুফিয়া কামাল একজন প্রবল ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তবে চেতনায় ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সৈনিক।
তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও পালন তার চেতনাকে দূর্বল কি করে দিয়েছিলো ?

ইসলাম পালন ও বিশ্বাস করলেই তাকে ধুম করে রাজাকার বা জামাত বলে দেয়া যায় না, এটা বুঝতে হবে অনেককেই।

 

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ২৭২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ২ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২০ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:১৮
comment by: সুধাসদন বলেছেন: আজকাল দেখা যায়, একজন মানুষ দাড়ি-টুপি রাখলেই তাকে জামাত পন্থি বলে দেয়া হয়। তার সে লেবাস তার ধর্মীয় ভাবধারা থেকে আসতে পারে , তার মানে এই না যে সে একজন রাজাকার।

এ প্রসংগে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটা পোস্টারের কথা বলতে চাই। সে পোস্টারে একটি কুকুরের মাথায় টুপি পড়িয়ে তাকে রাজাকার-জামাতী বলা হয়েছিলো। সেই পোস্টারকে পূঁজি করে জামাতী ও বিএনপি প্রচার করেছিলো আওয়ামী লীগ ইসলাম বিরোধী যা গ্রাম ও শহরের সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলো খুব সহজেই।

এ উদাহরনের মাধ্যমে বলতে চাচ্ছি, এ ধরনের রাজাকার বানানোর ব্রান্ডিং আখেরে ক্ষতিই টেনে আনে।

সহমত। সুমন সাহেব।
২. ২০ শে জুন, ২০০৭ রাত ৮:০২
comment by: মাহিরাহি বলেছেন: ব্লগ পন্ডিতদের কাছ থেকে কিছু শুনতে চাই।
চমত্কার লেখার জন্য ৫
৩. ২০ শে জুন, ২০০৭ রাত ৮:৫৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: হুমমম,
৪. ২০ শে জুন, ২০০৭ রাত ৮:৫৭
comment by: স্বপ্নের ফেরিওয়ালা বলেছেন: একমত...৫ ।
~
৫. ২০ শে জুন, ২০০৭ রাত ৯:৪১
comment by: আরশাদ রহমান বলেছেন: [ধরা যাক, একজন ষাটোর্ধ মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মভীরু, ইসলামে বিশ্বাস করেন ও তা পালন করেন বা চেষ্টা করেন। এই ধর্মে বিশ্বাস করা বা পালন করার কারনে কি তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ বলা যাবে?]
অবশ্যই না এবং বাংলাদেশের মানুষ তা মনে করে বলেও আমি মনে করিনা।
ধর্ম লেবাসে নয় ধর্ম মনের ব্যাপার। ইসলামী রাষ্ট্র মানে এই না যে সেই দেশর সব পুরুষ দাড়ি রাখে বা টুপি পড়ে। যদিও নারীর ক্ষেত্রে অন্য আচরণ দেখা যায় অনেক দেশেই।
দাড়ি-টুপী মানেই যেমন ধর্মান্ধ এবং রাজাকার না তেমনি দাড়ি-টুপি মানেই ধার্মিক নয়।

যদি কোন নাটক, চলচ্চিত্র, চিত্রকর্ম কিংবা যে কোন প্রচার মাধ্যমে রাজাকার কিংবা মৌলবাদি ধর্মান্ধে কে দাড়ি-টুপি পড়ানো হয় তার মানে এই না যে সব মুসলমানকে বোঝানো হচ্ছে। আমরা যদি ইংরেজদের অত্যাচারের ছবি ফুটিয়ে তুলতে চাই নীল চাষের কথা ফুটিয়ে তুলতে চাই তখন কিন্তু আমরা ইংরেজেদের যে পোষাক ছিলো তাই দেখাবো। তার মানে এই নয় যে সব ইংরেজ খারাপ। এবং এই পোষাক না দিলে ইতিহাস যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করা হবেনা। ৭১ এর একজন রাজাকারের ভূমিকা কোন নাটকে দেখাতে হলে তাঁকে নিশ্চয়ই বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মীয় লেবাসে কিংবা হাওয়াইন পোষাকে দেখালে চলবে না। সুতরাং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির উপরে নির্ভর করবে আমরা একটা নাটক চলচ্চিত্র কিংবা চিত্রকর্মে রাজাকার অথবা কোন ধর্মান্ধের ছবি কি ভাবে দেখছি।

আপনি বলেছেন [বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ না] এটা কতটা সত্যি তা ভেবে দেখার বিষয়। ধর্মভীরু তা মানি কিন্তু আসলে কতটা ধার্মিক বা ধর্মপরায়ণ তা ভাবা উচিত। আমি মনে করি আমাদের পিছিয়ে থাকার কারণ আমাদের অশিক্ষা ( নিরক্ষর হয়েও একজন শিক্ষিত হতে পারে) , অসচেতনতা এবং ধর্মান্ধতা।
৬. ২০ শে জুন, ২০০৭ রাত ১০:৩৪
comment by: ধূসর ছায়া বলেছেন: আপনার কথার সাথে একমত । আবার এটাও ঠিক যে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই আওয়ামীলীগ এবং ভারতের দালাল নয় ।
৭. ২১ শে জুন, ২০০৭ রাত ১:০৮
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ সবাইকে
৮. ২১ শে জুন, ২০০৭ সকাল ৯:৪৭
comment by: মানবী বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্ত্র হাতে মরনপন লড়াই করেছেন পাকসেনাদের বিরুদ্ধে, নামাজের সময় হলে অস্ত্র পাশে রেখে নামাজ পড়েছেন- এমন উদাহরন ও কিন্তু প্রচুর আছে!
ভালো লিখেছেন মাহবুব সুমন। ধন্যবাদ আপনাকে।
৯. ২৮ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:২৪
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: ধর্ম আমার বিশ্বাস
মুক্তিযুদ্ধ আমার চেতনা...

দুটোই আলাদা ... ধর্ম আর মুক্তিযুদ্ধকে এক সাথে গুলিয়ে ফেলা... কোন মানে হয় না...
১০. ২৮ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৪:০৯
comment by: অচেনা বাঙালী বলেছেন: "ধর্ম আমার বিশ্বাস
মুক্তিযুদ্ধ আমার চেতনা... "

জটিল প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব !
কমেন্টের জন্য ৫ খামছা

 



 


এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥

আমার তড়িৎ ঠিকানাঃ
sumon.5554@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৪০১৬