৪.
বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ না।
৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ যে কোনোক্রমেই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিলো না সেটা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি (জামাত ও অন্যান্য ইসলামজীবি দল) ছাড়া অন্য সবাই স্বীকার করবেন।
জামাত যেমন ইসলাম কে ব্যবহার করে তাদের হীন, নোংরা স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায় এবং পাপ ঢাকতে চায় তেমনি কিছু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ ইসলামের সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে গুলিয়ে ফেলেন। তাদের অনেকের কাছেই কাছে মনে হয় ইসলামের বিরোধীতা করা মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শক্তিশালী করা।
ধরা যাক, একজন ষাটোর্ধ মুক্তিযোদ্ধা, ধর্মভীরু, ইসলামে বিশ্বাস করেন ও তা পালন করেন বা চেষ্টা করেন। এই ধর্মে বিশ্বাস করা বা পালন করার কারনে কি তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ বলা যাবে?
৫.
মুক্তিযুদ্ধে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কোনোরকম ম্যানিফেস্টো ছিলো না এবং ধর্ম সেখানে মুখ্য কোনো বিষয় ছিলো না। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনে বিশ্বাসী জামাত-এ-ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামজীবি দলগুলোর ( নেজামে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও অন্যান্য কিছু ভুঁইফোর দল) ক্ষুদ্র অংশের বিরোধীতা সত্বেও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দেশ স্বাধীন করার চেতনায় একতাবদ্ধ হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলো।
এই ধর্মান্ধ গোস্ঠী এখনো তত্পর, প্রকারন্তরে আরো শক্তিশালী, আশার বিষয় তা তৃনমূল পর্যায়ে নয়। এই অপশক্তি অতীত ও বর্তমানে ইসলামকে ব্যবহার করে এসেছে। এদের সাথে যোগ হয় কিছু পীর নামক ব্যবসায়ী। শীতকালে ওয়াজ বা ওরশ নামের নোংরা উত্সবে মানুষের ঢল দেখে এদের মনে হয় যে বাংলার মানুষ তাদের পক্ষে। তবে নির্বাচনের সময় এদের গো-হারা প্রমান করে দেয় এদের অজনপ্রিয়য়তা।
এর মাধ্যমে এটাই কি প্রমান করে না যে মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসি হতে পারে তবে ধর্মান্ধ নয় !
এটার মধ্য দিয়ে আমি বলতে চাই যে একজন ধর্মভীরু মানুষ ( সে যে ধর্মেই বিশ্বাসী হোক না কেনো) ধর্মান্ধ নাও হতে পারেন । এ কারনে ইসলামকে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষ বলে গুলিয়ে ফেলেন তাদের এ গুলিয়ে ফেলা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঐক্যকেই দূর্বল করে দেয়।
৬.
একজন মানুষ ধর্মভীরু হতেই পারেন । সেটা তার অধিকার। মুক্তিযুদ্ধের মুল লক্ষে গুলোর একটি ছিলো সব ধর্ম ও মতের সমান অধিকার ও পালন করার স্বাধীনতা অর্জন। একজন মানুষ ইসলামের কথা বল্লেই সোজাসুজি তাকে পাকিস্তান পন্থি বা জামাত পন্থি বলে দেয়া যায় না ঠিক যেমন যায় না একজন মানুষের হিন্দুত্বের সাথে ভারতের দালাল বলে দেয়া।
আজকাল দেখা যায়, একজন মানুষ দাড়ি-টুপি রাখলেই তাকে জামাত পন্থি বলে দেয়া হয়। তার সে লেবাস তার ধর্মীয় ভাবধারা থেকে আসতে পারে , তার মানে এই না যে সে একজন রাজাকার।
এ প্রসংগে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একটা পোস্টারের কথা বলতে চাই। সে পোস্টারে একটি কুকুরের মাথায় টুপি পড়িয়ে তাকে রাজাকার-জামাতী বলা হয়েছিলো। সেই পোস্টারকে পূঁজি করে জামাতী ও বিএনপি প্রচার করেছিলো আওয়ামী লীগ ইসলাম বিরোধী যা গ্রাম ও শহরের সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলো খুব সহজেই।
এ উদাহরনের মাধ্যমে বলতে চাচ্ছি, এ ধরনের রাজাকার বানানোর ব্রান্ডিং আখেরে ক্ষতিই টেনে আনে।
বেগম সুফিয়া কামাল একজন প্রবল ধার্মিক মানুষ ছিলেন। তবে চেতনায় ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সৈনিক।
তার ধর্মীয় বিশ্বাস ও পালন তার চেতনাকে দূর্বল কি করে দিয়েছিলো ?
ইসলাম পালন ও বিশ্বাস করলেই তাকে ধুম করে রাজাকার বা জামাত বলে দেয়া যায় না, এটা বুঝতে হবে অনেককেই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

