আমার প্রিয় পোস্ট

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

২৭ শে জুন, ২০০৭ রাত ১:১৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

তখন খুব ছোট্ট আমি,
বয়স কতো আর হবে সেটাও মনে নেই,
মফস্বলের ছোট্ট একটি শহরে থাকি তখন।
জন্মদিনে আম্মু একটি বই কিনে দিলেন আমাকে,
"একাত্তরের দিনগুলি - জাহানারা ইমাম ",
তবে প্রচন্ড এক উত্সাহে বইটি পড়েছি সেটা মনে পরে।

ঢাকা তখনো দেখেনি। ছোট্ট একটি শিশুর চোখে ঢাকাকে কল্পনা করতাম।কিভাবে গেরিলারা একশনে যাচ্ছে, ঢাকার কোথায় কোথায় একশন হলো, রুমি-জামীর গল্প, এলিফ্যান্ট রোডের গল্প, সন্তানের জন্য একজন অসহায় মাতার ছুটোছুঁটি,কতো যে গল্প......... ।
ভাবতাম, ইস ... আমি যদি রুমির মতো হতে পারতাম !

বইয়ের পাতায় পাতায় ছিলো মুক্তিযুদ্ধ ও একজন মাতার কথা।
বইটি এখনো আছে আমার কাছে। হয়তো বহু পড়া জীর্ন মলাট ! প্রিয় কিছু বইয়ের অন্যতম।

১৯৯২ সালে যখন শহীদ জননী ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি গঠন করলেন, গন আদালত তৈরি করলেন তখন ১৪ বছরের এক কিশোর আমি। হোস্টলের কঠিন বেড়া ডিঙিয়ে যাওয়া হয়নি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সেই ঐতিহাসিক উদ্যানে । বিশাল একটি আক্ষেপ রয়েই গেলো সারাটা জীবনের জন্য।

এলিফ্যান্ট রোডের তাঁর বাসায় যখন যেতাম তখন কল্পনার চোখে ভাবতাম , এই এই বাসায় থাকতেন শহীদ জননী !! এই পোর্চে উনি হেঁটে হেঁটে বাহিরে যেতেন !! এই বেড রুমে উনি ঘুমাতেন !! এই রান্না ঘরে উনি শহীদ রুমির জন্য বার্গার বানাতেন !!

দেখা হয়নি তাঁর সাথে। তখন তিনিআমাদের ছেড়ে অনেক দূরে। এখনো এলিফ্যান্ট রোড দিয়ে যাবার সময় মনে পরে যায় তাঁর কথা। মনে হয় এই রোড দিয়ে একসময় শহীদ জননী হেঁটে যেতেন!!

গতকাল ২৬ জুন ছিলো তাঁর মৃত্যু বার্ষিকী।
১৩ টি বছর, ১৩ টি বছর............
মা ও মা.....তোমায় আজ খুবি দরকার। কেনো তুমি চলে গেলে? কেনো ? কেনো ??
তুমিও নেই সেই আন্দোলনও নেই।
আজ তোমাকে খুবই দরকার ছিলো আমাদের।খুবই...

আজ সেই ঘাতক দালাল ঘুলো লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে গাড়ি হাঁকায়। আমি চেয়ে চেয়ে দেখি। কিছুই করতে পারি না। অক্ষম এক মানুষ আমি। ক্ষমা করো আমাকে। ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারি না আমি।
---------
ছবিঃ মুফতি মুনির (
http://www.adhunika.org )

 

 

  • ১৪ টি মন্তব্য
  • ৩৪৬ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৯ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৭ শে জুন, ২০০৭ রাত ২:৪০
comment by: রুবেল শাহ বলেছেন: আমার প্রিয় এক জন মানুষ--
মা ও মা.....তোমায় আজ খুবি দরকার। কেনো তুমি চলে গেলে? কেনো ? কেনো ??
২. ২৭ শে জুন, ২০০৭ সকাল ৮:৩৫
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: দেখলেন?
হৈ-হুল্লোড়ের মাঝে শহীদ জননীর মৃত্যুদিবসটাও মিস করলো সমহোয়ার ...
শ্রদ্ধা জানাই তাঁকে
৩. ২৭ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১০:১০
comment by: উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: তাকে শুধু শ্রদ্ধা জানালে সে শুধুই আক্ষেপ করবে!
এখনও কি বোধহয় সময় হয়নি তার স্বপ্নপূরন করার!

সে কি এ জাতির কাছে খুব কঠিন কিছু চেয়েছিলো?
এত বড় বড় খুনের বিচার হয়ে গেলো, শাস্তির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে নেয়া গেল, কিন্তু তার এই সামান্য আবদার জাতি পূরণ করতে পারিনি। কপাল উনি পন্চ্ঞ ভূতে পাড়ি জমিয়েছেন না হলে প্রতিটা বিবেক বান থুক্কু শিক্ষিত বাঙ্গালীর লজ্জা পেতে হত প্রতি সকাল!
৪. ২৭ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:০৫
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: ক্ষমা চাই আমাদের ব্যার্থতার জন্য, তবে সংগ্রাম চলবেই চলবে। ঘাতক দালালের বিচার হবে বাঙলার মাটিতেই। বিচার করবোই আমরা।
৫. ২৭ শে জুন, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৫০
comment by: ইরতেজা বলেছেন: আমিও আছি সুমন ভাই।
তিরিশ লক্ষ স্বজন হত্যার বিচার চাই
৬. ২৮ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:২১
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: তাই যেন হয়...
৭. ২৮ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৩:৩০
comment by: রাহা বলেছেন: স্বশ্রদ্ধ সালাম ।
শহীদ জননী
৮. ০১ লা জুলাই, ২০০৭ রাত ৯:৩৯
comment by: ঝড়ো হাওয়া বলেছেন: গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি ।
৯. ০২ রা জুলাই, ২০০৭ রাত ১২:৩৬
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: ধন্যবাদ ঝড়ো হাওয়া, ইরতেজা, প্রত্যু , রাহা
১০. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:৩৬
comment by: মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন: সুমন ভাই, অনেক পরে দেখছি লেখাটি। তাই কমেন্টও দেরীতে করলাম।
আমি যখন প্রথম পড়ি এই বইটি তখন সম্ভবত আমি ৩য় শ্রেণীতে পড়ি। এত ভাল লেগেছিল বইটি যে পরবর্তীতে আমাদের বাসার বিশাল বই নিয়ে "জাহানারা ইমাম গ্রন্থাগার" করেছিলাম।রুমী ছিলেন আমার শৈশবের হিরোদের মধ্যে একজন, এখনও তাই। মৃত্যুকে কাছে থেকে দেখেও জীবন ভিক্ষা চাননি। তারচেয়েও বড় ব্যাপার হল - জাহানারা ইমামের ত্যাগটি। নিজের ছেলের খারাপ অবস্থা দেখেও একটি মায়ের মন এতকিছুর পরও প্রাণ ভিক্ষা চাননি। তাঁদের সেই ত্যাগের কারনেই আজকের বাংলাদেশ। অনেক কথা বলার আছে তাঁকে নিয়ে। সামনে পোস্ট দিব একটি।
ওহ, আরেকটি কথা - হয়ত জানেন, তারপরও বলছি। বইটিতে "চিশতী" বলে জাহানারা ইমামের একজন বোনের কথা রয়েছে। সেটি কিন্তু রেসিডেন্সিয়ালের চিশতী ম্যাডাম। সিনিয়র অনেক, আপনারা আশা করি পেয়েছেন, আমরাও পেয়েছিলাম কিছুদিনের জন্য।
শ্রদ্ধা শহীদ জননী'র জন্য।
১১. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:১১
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: চিশতি টিচার জিনিওর উইং এ ছিলেন, আমি সিনিয়র উইং এ ছিলাম বলে পাইনি তবে উনাকে চিনতাম।
জাতীয় পর্যায়ে বহুল পরিচিত খুব কম মানুষকেই শ্রদ্ধা করি অন্ধ ভাবে, শহীদ জননি জাহানারা ইমাম সেই সব অন্ধভাবে শ্রদ্ধার মানুষ।
১২. ২৭ শে নভেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১২:২৬
comment by: অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ৫
১৩. ২৩ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৯:০৫
comment by: কাকতারু্য়া বলেছেন: +
১৪. ০৩ রা মে, ২০০৮ দুপুর ২:১১
comment by: ইরতেজা বলেছেন: শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিনে তার জন্য অনেক অনেক শ্রদ্ধা...

 



 


এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥

আমার তড়িৎ ঠিকানাঃ
sumon.5554@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৪০১২