আমার প্রিয় পোস্ট

"বিহারী"একটি অভাগা বীষবৃক্ষের নাম

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৪২

শেয়ার করুন:                   Facebook

সেই ১৯৮৫ সাল। বাবার চাকরি সুত্রে সৈয়দপুরে অস্থায়ী নিবাস। যথারীতি সেবারও বছরের মাঝে খানে নতুন স্কুলে ভর্তি ও এক গাদা পিচ্চিপাচ্চার সাথে নতুন করে দোস্তালী পাতানো। তো সেবার ভর্তি হলাম সৈয়দপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুলের ক্লাস ২ ডালিয়া সেকশনে। প্রথম দিন যে ছেলেটির সাথে পরিচয় হলো সেই ছেলেটির নাম মনে নেই। তবে এটা মনে আছে ছেলেটি ছিল বিহারী ও বিহারীদের সেই বিখ্যাত নেতা নাসিম খানের নাতি। পরে শুনেছি ছেলেটি পাকিস্তানে চলে গিয়েছে।

সৈয়দপুর থাকার সময়ই প্রথম বিহারীদের কথা শুনেছিলাম। সেসময় শহরের বেশীর ভাগই ছিলো বিহারী। আসলে অনেক কারনেই সৈয়দপুরের কথা বেশী মনে পরে আমার। সেখানেই সর্বপ্রথম কোরআন পড়া শুরু করেছিলাম, ওস্তাদ ছিলেন একজন বিহারী। উনার কাছে আমি উর্দু পড়তে ও বলতে শেখাও শুরু করেছিলাম। ভাঙা ভাঙা উর্দুও বলতে পারতাম সেসময়।

বাবার পেশার সুবাদে অনেক বিহারীর সাথে পরিচয়ও হয়েছিলো। বেশীর ভাগই অনেক ধনী ছিলো। দেখেছি স্বাধীনতার ১৩ বছর পরও ওই সব বিহারীদের আর্থিক বা সামাজিক অবস্থা ছিলো অটুট। তবে সেটা ছিলো পয়সার অপর পিঠ। শহরের এক কোনায় জেনেভা ক্যাম্পে গেলে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যেতো। গাদাগাদি করে হাজার হাজার মানুষ থাকছে। একবারতো আগুনে সারা ক্যাম্প পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। সে সময় শহরের সেই ধনী বিহারীরা এগিয়ে না এলেও বাঙালীরাই এগিয়ে এসেছিলো তাদের পাশে।

শহরের ঠিক মাঝ দিয়েই ডাঃ জিকরুল হক সড়ক। ৭১ এ ডাঃ জিকরুল ছিলেন আওয়ামী লিগ হতে নির্বাচিত এমপি। ২৫শে মার্চের কালো রাতে অনেকে পালিয়ে যেতে পারলেও ডাঃ জিকরুক হক পারেন নি এবং উনি পালিয়েও যানও নি। উনাকে বিহারীরা ৭ টুকরো করে শহরে চার রাস্তার মোড়ে দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রেখেছিলো। সৈয়দপুরের রেলওয়ের কারখানার ফার্নেসে শত শত বাঙালী কর্মচারীকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিলো সে সময়, অথচ খুনীরা ছিলো এই বাঙালীদেরই প্রিয় সহকর্মি। সে সময় শহরে অনেক হিন্দিভাষী মারওয়ারী ব্যবসায়ী ছিলো। একবার তাদের ভারতে নিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রেনে ভরে শহরের পাশে নিয়ে কচুকাটা করে ট্রেন লাইনের পাশে ফেলে দেয়া হয়, লুট করে নেয়া হয় তাদের সব কিছু। প্রায় ৪০০ মারওয়ারীকে সেবার ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়, খুনিরা ছিলো তাদেরই বিহারী কর্মচারী।

মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় সৈয়দপুর ছিলো একটি মৃত্যুকুপ। শত শত বাঙালীকে হত‌্যা করা হতো স্রেফ জবাই করে। ৮৫ সালে যখন সৈয়দপুরে ছিলাম তখনও মাঝে মাঝেই মাটি খুরে মানুষের হাড় গোড় পাওয়া যেতো।

১৬ ডিসেম্বরের প্রায় প্রারম্ভে যখন সৈয়দপুর মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আসে সে সময় কার চিত্র ছিলো পুরোপুরি উল্টো। আশে পাশের শহর যেমন দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁ থেকে সব বিহারীরা এসে জোরো হয়েছিলো সৈয়দপুরে। পাকিস্তানী সেনারা এক রাতে এই সব বিহারীদের ফেলে রংপুর ক‌্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নেয়। ভারতীয় সেনাদের জন্য বড় কোন ম্যাসাকার হতে পারেনি , সৌভাগ্য সেই সব বিহারীদের। শান্তাহারের বিহারীদের অবশ্য সেই সৌভাগ্য হয়নি। শোনা যায় প্রায় ২০ হাজার বিহারী মারা হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধের শুরু ও শেষ সময়টুকুতে। আমার নিজের শহড় ঠাকুরগাঁতেই অসংখ্য বিহারীকে মারা হয়েছিলো। আমার চাচার এক বন্ধু, নাম জুয়েল। উনার পরিবারে উনি ছাড়া আর কেউ বাঁচতে পারেনি। এটাই নোংরা সত্য।

মুক্তিযুদ্ধ শেষ হবার পর যেসব বিহারী ধনী ছিলো তারা তাদের সম্পত্তি পুরোপুরি ফেরত না পেলেও অনেকটুকুই পেয়েছিলো এবং সেটা ছিলো সে সময়কার রাজনৈতিক দলগুলোর সাহায্যেই। ডাঃ জিকরুল হককে হত্যা করার জন্য যে বিহারীকে দায়ী করা হয় ১৯৮৫ তে সেও ছিলো শহরের একজন সম্মানিত ব্যাক্তি। ধনী বিহারীদের তেমন সমস্যা না হলেও বড় সমস্যা হয়েছিলো মুলত গরীব বিহারীদের। এরা না পেরেছিলো পাকিস্তানে ফেরত যেতে , না পেরেছিলো ভারতে ফেরত যেতে। সহায় সম্বল হাড়িয়ে এদের জায়গা হয়েছিলো ক্যাম্পে ক্যাম্পে। ম্যাসাকারের সম্মুখিনও হতে হয়েছিলো অনেক সময়। ইতিহাসে অবশ্য এসবের জায়গা হয়নি। সময়টিই ছিলো বদলা নেবার।

স্বাধীনতার ৩৭ বছর পর এই ৩/৪ লাখ বিহারীদের অবস্থা আসলেই করুন। গাদা গাদি করে ক্যাম্পে থাকছে এরা। ইউএনইচসিআর বা রাবিতার টাকায় এদের জীবন চলে। এরা না পায় সরকারী চাকরি না পায় ভোটাধিকার। ছোটো খাটো কাজ করে এদের জীবন চালাতে হয় বেশিভাগকেই। নিজেদের পাকিস্তানী পরিচয় ভুলে বর্তমান প্রজন্ম বাংলাদেশী হতে চায়, সেটাও এরা পায় না। পাকিস্তানি শাসকরা আশার মুলো ঝুলিয়ে রাখছে কিন্তু পাকিস্তানে যাবার স্বপ্ন আর তাদের পূরন হয় না।

বেশ ক বছর আগে সৈয়দপুর গিয়েছিলাম। দেখলাম ২৩ বছর আগের সেই ধনী বিহারীদের অনেকেই পাকিস্তানে চলে গিয়েছে বা তাদের সন্তান সন্ততিদের পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু মোড়ের সেই বৃদ্ধ বিহারী মুচি এখনো জুতো সেলাই করে যাচ্ছে ও প্রতিটি রাতে ক্যাম্পের ছোট্ট ঘরে শুয়ে পাকিস্তানে যাবার স্বপ্ন দেখছে।

বিহারী যাদের আরেক নাম "আটকে পড়া পাকিস্তানী" প্রতি আমার অনুভূতি অনেকটুকুই করুনা ও ঘৃনা মেশানো। একজন বাঙালী হিসেবে আমি তাদের পাপ ও অপরাধের জন্য ঘৃনা করলেও একজন মানুষ হিসেবে সেটা করতে পারি না। করুনা করলে হয়তো সেটা হয়তো অন্যরকম একটা ব্যাপার হয়ে যায়। তবে আসলেই কি সেটা করুনা ? নাকি অন‌্য কিছু ?
--------
লেখাটি একজন ব্লগারকে উৎসর্গ করে। তার নাম উল্লেখ করছি না সংগত কারনেই। ভালোলাগা-মন্দলাগা সেই মানুষটির বেদনা বোঝার চেস্টা থেকেই কিছু লেখার চেস্টা করেছি।
লেখাটি পুরোপুরি নিজের অনুভূতিকে কেন্দ্র করে লেখা, ইতিহাসের চুলচেড়া বিচার করতে যাইনি ইচ্ছে করেই।

 

 

  • ৩৫ টি মন্তব্য
  • ৪৯২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৪ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৮
comment by: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: সেইটাই ... সেই ঘুরেফিরে বিপদ/অত্যাচার সব গরীবের ঘাড়ে
২. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৯
comment by: চির সবুজ বলেছেন: আপনার অভিজ্ঞতার সাথে আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার মিল রয়েছে। বাবার চাকুরী সুত্রে ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত ঈশ্বরদীতে ছিলাম। ওখানে বড় হয়েছি। বাবা চাকুরী করতেন বাংলাদেশ রেলওয়েতে। ঈশ্বরদীতে প্রচুর বিহারী আছে। অনেক বন্ধুও আছে আমার তাদের মধ্যে। আপনি নিশ্চঃই ঈশ্বরদীর কথা জানেন। জংশন।

আপনার সাথে পরিচিত হতে পারলে ভালো হতো। অপেক্ষায় থাকলাম।

ধন্যবাদ।
১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০৪

লেখক বলেছেন: ইনশাল্লাহ পরিচয় হবে। একটা মেইল করিয়েন আমাকে, সেখানেই বিস্তারিত আলাপ হবে।
ইশ্বরদি চিনি ভালো করেই, তবে থাকা হয়নি কখনোই।

৩. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০১
comment by: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: ভাল লেখা। ভাবায়। এটা নিয়ে আবার রাজাকারগুলা ব্লগ রাজনীতি শুরু না করে।
১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০৩

লেখক বলেছেন: বস, একটা আশংকা আছে। রাজাকার গুলা করবে এটা জেনেই লিখেছি। দেখা যাক। ইতিহাস তো ইতিহাসই।

১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬

লেখক বলেছেন: রাজাকার গুলা ব্লক আছে আমার ব্লগে, ২/১ টা খোয়ার ভেঙে ঢুকে পরলে ব্লক ও কমেন্ট ডিলিট করবো। ঐসব ছাগলদের আটকাতে এটাই করি আজ কাল।

৪. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬
comment by: মো: খায়রুল বাসার বলেছেন: ৭১ এ চট্টগ্রামে বিহারীদের তান্ডব আমি দেখেছি । তাদের দেওয়া লিষ্ট অনুযায়ী পাক হানাদাররা ডাঃ মুকবল আহমেদকে নিয়ে যায় । তারপর আর ঊনাকে পাওয়া যায় নাই ।
সেই বিহারীদের জন্য ডঃ কামালের মেয়ের (নাম মনে নাই) উথলা দেখে সত্যিই দুঃখ হয় ।
৫. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০৬
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: কে কি ভাবলো... কি মনে করল... এত ভাইবা চলবে না... আপনি আপনার মত লিখতে থাকুন..

ভাল লিখা... ধন্যবাদ ..
৬. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:১৬
comment by: শিয়া বলেছেন: http://www.somewhereinblog.net/blog/shiablog
৭. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২১
comment by: আরিফ জেবতিক বলেছেন: বেশ তথ্য পাওয়া গেল বলে শোকেসে ঢুকিয়ে রাখলাম ।
৮. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৮
comment by: gladiator বলেছেন:
পোস্টের মুল বক্তব্য পরিস্কার নয়, কি বলতে চেয়েছেন তা অস্পষ্ট
৯. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:০৬
comment by: আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন: হুমম।সত্যিই তারা হতভাগা!
১০. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৪৩
comment by: নেমেসিস বলেছেন:
এরা না পায় সরকারী চাকরি না পায় ভোটাধিকার।

>>> তথ্য দুইটা কি সঠিক ?? বর্তমান অবস্থা জেনে বলছেন ???
১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৩

লেখক বলেছেন: ১)ভোটাধিকারের ব্যাপার টা এখনো ঝুলে আছে উচ্চ আদালতে ( আপিল বিভাগে )
২) সরকারী চাকুরি আইনত বিহারীরা পায় না (যারা করছে টারা পরিচয় গোপন করেই বা টাকার বিনিময়েই করছে )। কারন সরকারী চাকুরি শুধু মাত্র বাংলাদেশের নাগরিকরা পেয়ে থাকে, যেহেতু বিহারীরা বাংলাদেশের নাগরিক নয় সেহেতু তার পায় না কিন্তু পরিচয় গোপন করে থাকলে কি করা যাবে ?

আর হাঁ, বর্তমান অবস্থা জেনেই বলছি।

১১. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৪৮
comment by: নেমেসিস বলেছেন:

আরও ২ টা অসংগতি ঠিক করুন প্লিজ ।

১/ বীষবৃক্ষ = বিষবৃক্ষ

২/


:P
১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:০০

লেখক বলেছেন: ছবি পরিবর্তন করেছিলাম কিন্তু ছবির ইতিহাস পরিবর্তন করতে ভুলে গিয়ে ছিলাম ;) সঐতো বলে এতো বাচ্চাকালে বিয়ে করলাম কোথা হতে!

১২. ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৫৭
comment by: এস্কিমো বলেছেন: বেশ তথ্যমুলক লেখা। ভাল লাগলো।

তবে কয়েকটা পয়েন্ট লক্ষ্য করার মতো -

বিহারীদের অবস্থার জন্যে বিহারীরাই কিন্তু দায়ী।
আর একটা বিষয়

"নিজেদের পাকিস্তানী পরিচয় ভুলে বর্তমান প্রজন্ম বাংলাদেশী হতে চায়, সেটাও এরা পায় না।"

- বাংলাদেশী হওয়ার সুযোগ ওরাই নেয়নি। যুদ্ধের পর ওরা নিজেদের পাকিস্তানী হিসাবে ঘোষনা করেছে এবং আশা করেছে ওদের পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ওদের সাথে বেঈমানী করেছে। সেই একটা লম্বা ইতিহাস।

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৮

লেখক বলেছেন: বর্তমান প্রজন্মের বিহারী বা আটকে পড়া পাকিস্তানী যে নামেই ডাকি না কেনো তাদের কথা বলছি। মূলত এরাই বাংলাদেশের নাগরিত্বের ব্যাপারে বেশী আগ্রহী যেহেতু এরা বুঝে গেছে পাকিস্তান তাদের নেবে না।
তবে একটা ব্যাপর কি জানেন, লুকিয়ে এখনো অনেক বিহারী পাকিস্তানে চলে যাচ্ছে (মুলত যাদের আত্মীয়-স্বজন পাকিস্তানে আছে)। কিন্তু যাদের কেউ নেই তাদের অবস্থা একটু ভাবুন।
মানবিক দৃস্টিতে দেখলে অনেক কিছুই অন্যভাবে দেখা যায়।

বিহারীদের এ অবস্থাড় জন্য বিহারীরাই দায়ী তবে এ দায়ী ভাবের জন্য আর কতকাল এদের দুর্দশা ভোগ করতে হবে ? এরাও কিন্তু মানুষ।

১৩. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১:৫০
comment by: স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন: ভালো পোষ্ট++
১৪. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:০২
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: অনেক কিছু জানা গেলো । ধারণা ছিল চ্যাপ্টা খেয়ে গলা কমেছে , কিন্তু তাকে দেখে বুঝলাম , বিহারীরা কীটই থাকবে , মানুষ হবে না
১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১:০০

লেখক বলেছেন: বিহারীরাও মানুষ।

১৫. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:২২
comment by: সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
তথ্যবহুল লেখা । ক্ষমতাবানদের দুষ্কর্মের প্রতিফল ভোগ করতে হয় একই গোষ্ঠীর দরিদ্র ও ক্ষমতাহীন দের । এখনো ঢাকায় অনেক বিহারী আছে, যাদের আচরনে একটু ও মনে হবে না, তাদের ভূমিকা ৭১ এ কি ছিল । হম্বিতম্বি, হাকডাক আগের মতই । একটু ও লজ্জিত নয় ।
১৬. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ ভোর ৪:৫০
comment by: রাশেদ বলেছেন: ধন্যবাদ অনেক নতুন তথ্য জানানোর জন্য।
১৭. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৩৯
comment by: হাবীব ইমন বলেছেন: তথ্যবহুল ।
ধন্যবাদ।
১৮. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:১৫
comment by: অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: প্রান্তিকের প্রান্তিক হইল এই....ননলোকেটেড মালেরা। যেমনটা সকল জাতি রাষ্ট্রে ভিন্ন জাতিসত্তা ও রেফিউজিরা।
প্রিয় পোস্ট।
১৯. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪
comment by: নেমেসিস বলেছেন:
লেখক বলেছেন: ১)ভোটাধিকারের ব্যাপার টা এখনো ঝুলে আছে উচ্চ আদালতে ( আপিল বিভাগে )

>>> ঝুলে থাকলে বারের এতো কড়াকড়ির মাঝেও কিভাবে ভোটার তালিকাতে এরা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ?? আমি থাকি মিরপুর - পল্লবী অন্চলে। যখানে উললেখযোগ্য সংখ্যায় বিহারীদের অবস্থান । অবাক হয়ে দেখলাম যারা এমনকি বাই বর্ন বংলাদেশী নয় তারাও দিব্যি এবার ভোটার হচ্ছে । অভিযোগ করলাম । কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিরব ।

২) সরকারী চাকুরি আইনত বিহারীরা পায় না (যারা করছে টারা পরিচয় গোপন করেই বা টাকার বিনিময়েই করছে )।

>>> ঠিক । পরিচিত দুএকজনকে দেখেছি বেশ ভাল ধরনের সরকারি পদে আছে । গড নোজ সঠিকপরিচয় কেউ ফাঁস করে দিলে সরকারের কি হবে :)
২০. ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:৪৭
comment by: ফাহমিদুল হক বলেছেন: খুব ভালো লাগলো।
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ফাহমিদ ভাই।
আপনাদের মতো ব্লগারের ছোট্ট একখান কমেন্ট আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।

২১. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:৫৫
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: খুব ভাল লাগল। প্রিয় পোষ্ট এ ঝুলল।
২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:২২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২২. ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ১১:০৯
comment by: রাসেল ( ........) বলেছেন: কইতে পারো ল্যাঞ্জার টানেই ভিতরে ঢুকলাম। আমার ল্যাঞ্জায় বিহারী ট্যাগ লাগানোর কৃতিত্বটা কার ছিলো জানি না, তবে হঠাৎ করেই একদিন জানতে পারলাম আমি নাকি মাউরা আছি।
অবশ্য মাউরা থাকলেও আমার কিছু যায় আসে না, আমি আছি এইটাই বড় সত্য, য্যামতেই থাকি।
যাউকা বিহারীরা লোক ভালা না, খালি বাঙ্গালিগো কচুকাটা করছে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করছে, হ্যারা বাঙ্গালী আছিলো না, আছিলো বাঙ্গালীগো দুশমন, সেই হিসাবে আসলে ঠিকই আছে ।
ভাগ্যবিড়ম্বিত সীমানাবিহীন মানুষগুলার জন্য সমবেদনা ঠিক আছে।
যাউকগা ল্যাঞ্জার টানে আইছিলাম, ল্যাঞ্জাটা কাটা পড়বো না, তয় তোমার সিডনীবাসী পাব্লিকরে কইয়ো আমার স্বভাবটাই এমন গাঁটকাটা, এইটার জইন্যে আসলে আমার ম্যান্ডেলের বংশগতি, সামাজিক ঘৃনা আর প্রতিরোধ কাজে আসে নাই।
তয় প্রান্তিকগো মইধ্যে প্রান্তিক হইয়া থাকনের আনন্দই আলাদা। ভালা থাইকো।
আর একটা কতা কও সইত্য কইরা, আমার চাঁনবদন দেখছো তুমি??
২৪ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:২২

লেখক বলেছেন: রাসেল ভাই,
আমি যখন কিছু লিখি ( সেটা যথারীতি আদা খেঁচরা লেখাই হয় সব সময়) তখন নিজের মতো করেই লিখি, কারো প্রভাবান্বিত না হয়েই লিখি। এ লেখাটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
সিডনীর পাব্লিকের সাথে ভালো পরিচয় থাকলেও তার সাথে মতাদর্শগত আকাশ পাতাল ফারাক আছে আমার, কোন সময়ই তার কোন কথা বা আচরন বা উপদেশ আমার উপর প্রভাব ফেলে না। আশা করি বুঝাতে পারছি আপনাকে।

উপরের যে বিষয়টি নিয়ে লিখেছি সেটা আমার মাথার মধ্যে ঘুরে ফীরে ছোট বেলা থেকেই। আমি যে জুয়েল কাকার কথা বলেছি তাকে চিনেন কিনা জানি না, হতেও পারে। দিনাজপুরে উনার অনেক আত্মীয় ছিলেন বা আছেন। উনাকে দেখে, সৈয়দপুরে বা মোহাম্মদপুরে থেকে, উর্দুভাষী বন্ধু থাকাতে। ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে বের হয়ে নিরেপক্ষভাবে লেখার চেস্টা ও বোঝার চেস্টা করেছি । এ লেখাটি সেই সব ভাবনার একটি ক্ষুদ্র অংশ।

আপনার চাঁনবদন দেখতেই পারি , আবার নাও পারি। জিনিটা রহস্য হয়েই থাকুক না কেনো! সর্বশেষ দেখেছি আপনার ছবি। চর্মচক্ষুতে সেটা যুগেরও অতীত। আবার নাও দেখতে পারি। কে জানে ;)

তবে রাসেল ভাই, কিছু কিছু জিনিস মানুষের মনে সব সময় গেঁথে থাকে, এ লেখার বিষয়টি সেই রকম। আমার বোঝার চেস্টা থেকেই লেখাটি। অন্যকিছু না। ৭১ এ বাঙালীরা যুদ্ধে জেতাতে বিহারীরা অপরাধী, বাঙালীরা পরাজিত হলে বাঙালীরা অপরাধী হতো। এটাই সব জায়গাতেই হয়ে থাকে। বিজয়ীদের ইতিহাসই ইতিহাস। কতকিছুই যে প্রকাশিত হয় না :(

২৩. ০৯ ই মে, ২০০৮ রাত ১:০৭
comment by: যূঁথী বলেছেন: প্রিয় পোস্ট করলাম।
২৪. ১৯ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:১০
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: ঢাকা, মে ১৮ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)-- বাংলাদেশের ১১৬ টি ক্যাম্পে বসবাসরত ১ লাখ ৬০ হাজার উর্দূভাষী আটকেপড়া পাকিস্তানীর মধ্যে যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় নাবালক বা এর পরে জন্ম নিয়েছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

আইন অনুযায়ী তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তিসহ নাগরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলেও অভিমত দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি রিটকারী ১১ আটকেপড়া পাকিস্তানী নাগরিককে সরাসরি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার বিচারপতি এম এ রশিদ ও বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ মিরপুর-১১ নম্বর সেক্টরের ক্যাম্পের সংগঠন 'স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানী ইয়ুথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট'-এর সভাপতি সাদাকাত খানসহ ১১ আটকেপড়া পাকিস্তানীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়।

আদালত রায়ে বলেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ২০০৭ সালের ১৪ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া এক পত্রে ক্যাম্পে বসবাসরত উর্দূ ভাষাভাষীদের ভোটার করার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ১১৬ টি ক্যাম্পে বসবাসরত ১ লাখ ৬০ হাজার উর্দূভাষাভাষী অবাঙালীর মধ্যে যাদের ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পরে জন্ম হয়েছে এবং যারা ওই সময় নাবালক ছিল তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়া, ভোটার পরিচয়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।

রিটকারী সাদাকাত খান হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, "আমরা এদেশে জন্ম নিয়েছি। কিন্তু এদেশের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলাম। কোন চাকরি পেতাম না। ছেলে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করতে পারতাম না। আজ আমরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেলাম। এতদিনের সমস্যার এখন সমাধান হলো।"

রিটকারীর কৌসুলী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে যারা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে বসবাস করতেন ও এর পরে যাদের জন্ম হয়েছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি হাইকোর্ট কর্তৃক নাগরিক ঘোষিত অবাঙালীর সংখ্যা প্রায় তিন লাখ বলে উল্লেখ করেন।

ব্যারিস্টার রফিক আরও বলেন, আদালতের এই রায়ের ফলে ভোটার হওয়া, ভোটার পরিচয়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়াসহ ২২টি নাগরিক সুবিধা পাবেন এসব মানুষ।

মোঃ সাদাকাত খানসহ ১১ আটকেপড়া পাকিস্তানীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গতবছরের ২৬ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর রুলনিশি জারি করেছিল। আদালত তাদের কাছে জানতে চেয়েছিল কেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাসকারী এসব মানুষকে ভোটার তালিকাভূক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হবেনা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এটি/এসকে/১৯৩৪ঘ.
২৫. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫১
comment by: সাইফুর বলেছেন: প্রিয় পোষ্টে

 



 


এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥

আমার তড়িৎ ঠিকানাঃ
sumon.5554@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৪০২৪