somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যানবেরা খেরোখাতা ৬

০৫ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দিনগুলো যেনো রেসের ঘোড়া, রেসকোর্সের সেই পাগলা ঘোড়ার মতো দৌড়ুচ্ছেই তো দৌড়ুচ্ছেই, থামতে চাইলেও থামতে পারছে না। সপ্তাহ যে কিভাবে কেটে যায় সেটা বোঝার আগেই নতুন সপ্তাহ শুরু হয়ে যায়। এ সপ্তাহের তাজা খবর হলো আমি আধেক বেকার হলাম। পুরো বেকার হবার অভিগ্যতা অতীতে হয়েছে তবে এবারেরটা একটু অন্যরকম, 'আধেক বেকার'। সপ্তাহ শেষে দুটো বড় বড় প্রেজেন্টেশন দেবার পর মনে হলো দুটো বিশাল বোঝা কাঁধ হতে নেমে গেলো, মনে হচ্ছিলো অনেক কিছুই শেষ হলো। কিন্তু শেষ হলো আরেকটি শুরু হবার দরজা, আরেক পর্ব শুরু হবার পালা। সেই নতুন দরজা দিয়ে নতুন জীবন শুরু করার অপেক্ষার প্রহর গুনছি।


‌ব্যক্তিগত ভাবে আমি খুব একটা বন্ধু বৎসল নই। বেছে বেছে মানুষের সাথে মিশতেই পছন্দ করি। হয়তো এজন্যই বন্ধুর সংখ্যা হাতে গোনা। ক্যানবেরা এসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। মনের মিল না হলে বন্ধু বানাবার অভিনয় আমি করতে পারি না। ক্যানবেরায় আমার একজন বড় ভাই আছেন। উনি হয়তো জানেন না উনাকে আমি দারুন পছন্দ করি। বয়সে অনেক বড় হলেও একজন মানুষ মনের দিক থেকে কি সুন্দর ভাবে তরুন থাকতে পারেন তার একটা উদাহরন হতে পারেন উনি। একবার উনার বাসায় যাবার কথা ছিলো, উনি রান্না করে আমাদের অপেক্ষায় বসে ছিলেন , কিন্তু আমাদের যাওয়া হয়নি। এ লজ্জা-ভয়ে উনাকে অনেকদিন ফোন করতেই সাহস করিনি। বলা হয়নি ট্যাক্সি করে যাবার টাকা ছিলো না বলেই যাওয়া হয়নি। ঠিক করেছি আগামি সপ্তাহে একবার বিরক্ত করবো উনাদের সবাইকে।


বিয়ে করার পর থেকেই সংসার চালানোর আনন্দ-কস্ট-জ্বালা হাড়ে হাড়ে অনুভব করছি। সেদিন আলুর ডাল রান্না করলাম, হঠাৎ করেই । যখন দেশে ছিলাম তখন মাঝে মাঝেই আমাদের পরিবারে বিশাল অর্থসংকট চলে আসতো। তখন মাকে দেখতাম সেই রকম পরিমান ঝোল দিয়ে তরকারী রাঁধতে। আলুর ডাল একম এক আইটেম। আলু সিদ্ধ করে ভেঙে সেটাকে তরকারীর মতো ঝোল ঝোল করে রান্না, মাঝে সাজে সেখানে ডিম ভাজির স্লাইস। বিশাল পরিবারের জন্য উপযুক্ত তরকারী। পরিবারের আকৃতি বড় থাকায় সব তরকারীতেই ঝোল বেশী দেয়া হতো। এ কারনেই হয়তো ভুনা খাবারের প্রতি আমার আগ্রহ কম। আমার বউ অবশ্য আলুর ডালের কথা আগে শুনেনি। আমার এ মুহুর্তে অর্থসংকট নেই তবে মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় আলুর ডাল খেতে। আজ ব্লগে একটা গাছের ছবি দেখলাম। অনেক বছর আগের কথা, তখন আমরা রংপুরে । সেখানে সেই কাঁটাওলা বুনো গাছটিকে কি ভাবে তরকারী হিসেবে খাওয়া হয় সেটা জেনেছিলাম, মা রান্নাও করতেন, কিছুটা শখে কিছুটা অর্থ সাশ্রয়ের জন্য। ভাবছি ৭৪ এর দূর্ভীক্ষের সময় রংপুরের মানুষ সেটাকে ডাটার বদলে তরকারীতে ব্যবহার করতো, হয়তো আজো করে। দেশ স্বাধীন হবার অনেক বছর হয়েছে কিন্তু সেই গরীব মানুষগুলো গরীবই রয়ে গেছে। বাজারে চালের যে দাম, সেখানে ডাটা কেনা ! সেই বুনো কাঁটাওলা গাছই হয়তো একমাত্র সম্বল।


বাংলাদেশ হাইকমিশন অনেক দিন পর একজন নতুন হাইকমিশনার পাচ্ছে। লে. জে. জহিরুল আলম। ক্ষমতার বলয় হতে বিচ্যুত, স্বর্গ হতে বহিঃস্কৃত একজন মানুষ আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে এই ক্যাঙারুর দেশে আসছেন শুনে পুলকিত হতে পারছি না। সচারচর সামরিক বাহিনী হতে আসা এসব মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রতি সন্দেহ আছে আমার। বেশ ক বছর আগে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়েছিলাম। অভ্যর্থনা কক্ষে তাক ভর্তি ইনকিলাব দেখে মনে হয়েছিলো দেশে মনে হয় সেটাই একমাত্র পত্রিকা। আশা করি উনি অন্তত এ ধারা হতে বের হয়ে আসতে পারবেন এবং সেই সাথে হাইকমিশনের সেই দেশীয় চালে কাজকর্মের একটু পরিবর্তন আনতে পারবেন। উনার কাছে এর চাইতে বেশী এ মুহুর্তে আশা করতে পারছি না।


গত ২ জুন থেকে ক্যানবেরার পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমে বিশাল পরিবর্তন করা হয়েছে। বাসের রুট নাম্বার, প্লাট ফরম, টাইম টেবিল সব কিছুই নতুন করে সাজানো হয়েছে। সিটি সেন্টার ইন্টারচেন্জে গিয়ে দেখতে পেলাম অনেক মানুষ পথ হারানো শিশুর মতো এলোমেলো ঘুরে বেড়াতে, আমিও তাদের একজন। হয়তো প্রথম দিন বলেই সব কিছু এলোমেলো লাগছিলো। এতো কিছুর মাঝেও সবাইকে শান্তভাবে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখলাম। আমাদের দেশ হলে হয়তো প্রধানমন্ত্রির গায়ের চামড়া তুলে নেবার আগুন গরম শ্লোগান দিয়ে কিছু বাস ভাঙচুর হয়ে যেতো। তবে ঢাকায় বলাকা বাসে ঝুলে যাবার অভিগ্যতা থাকায় এখানে সিটে বসতে পেরে গর্ববোধ করি।


একটা ব্যস্ত সপ্তাহ গেলো। আরেকটি ব্যস্ত সপ্তাহ শুরু হলো। দেশে যেতে খুবই ইচ্ছে করছে, কিন্তু যাওয়া হবে না। কস্ট, শুধুই কস্ট।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:০১
২৬টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×