আমার প্রিয় পোস্ট

গল্পঃ সাদা কালো

১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

-- ভ্রাতা তোমার কাছে কি অতিরিক্ত ১ ডলার হইবে? ট্রেনের টিকিট কিনিবার জন্য কিছু ডলার কমতি পড়িয়া গিয়াছে।
এই সাত সকালে মুখ হতে ভক ভক করে বিয়ারের গন্ধ বেরুচ্ছে। বিরক্ত ভংগিতে তাকাতেই দেখে এক এবরোজিনি হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে নাফিজের দিকে।
'তোমার ভগ্নির সহিত উপগত হইতে চাই' মনে মনে একটা গালী দেয় নাফিজ।
ভাগ্যিস মানুষ মনের কথা পড়তে পারে না।
-- না, ভ্রাতা আমার কাছে তোমাকে দেবার মতো অতিরিক্ত ডলার নেই।
পকেটে অবশ্য কিছু ভাংতি আছে। ভাবছে দেবে না কি ১ ডলার!
-- নো ওরিস মাইট।
--ভ্রাতা তুমি কি ভারতবর্ষ হইতে আগমন করিয়াছ?
'শালার কাউলা' বলে মেন মনে আরেকটি গালী দেয়। আজকাল গালী দেবার বদঅভ্যাস হয়ে গিয়েছে।
-- না ভ্রাতা, আমি বাংলাদেশ হইতে এই পান্ডববর্জিত দেশে আগমন করিয়াছি।
-- এটা কোথায় ?
অবাক হয় না নাফিজ। বাংলাদেশ নামক ছোট্ট দেশটিকে চেনার দরকার নেই এদের, চিনতেও পারে না।
-- ভ্রাতা, তোমাকে দেখিতে তো আমাদের মতোই মনে হয় ?
কাউলা বলে কি ! নাফিজ একটু অবাক হয়। সে কি দেখতে এবরোজিনিদের মতো দেখতে? সবাইতো বলে ও নাকি অনেক ফর্সা। আয়নায় আজ ভালো করে দেখতে হবে। তার নাকটা একটু মোটার দিকে তাই বলে এবরোজিনিদের মতো এতো বদখত না।
নাফিজকে অবাক হতে দেখে লোকটি একটু হাসে।
-- ভ্রাতা আমি এলেক্স। আমাকে দেখিয়া কি মনে হইতেছে যে আমি মাতাল?
বলেই মুখ বাড়িয়ে হো হো করে হাসা শুরু করে। আশে পাশের মানুষ অবশ্য অবাক হয় না। রেডফার্ন ষ্টেশনে এরকমটি প্রায়শই দেখা যায়।
-- বুঝিয়াছো ভ্রাতা, আমি এক জারজ এবোরিজিনি। আমার বাবা ছিল এক জারজ সাদা। আমার মার সাথে উপগত হইয়া আমাকে পৃথিবীতে আসার সুযোগ করিয়া উনি ধন্য হইয়াছিলেন। তার পর আমাকে বাহ্য পদার্থের মতো আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করিয়া উনি নরকবাসী হইয়াছেন। রক্তে আমি সেই আজো জারজ সাদা রক্ত বহন করিয়া চলিয়াছি, মৃত্যতক বহন করিবো।
নাফিজ এলেক্সের দিকে তাকায়। একটু অবাক হয়। এলেক্সকে একটু অন্যরকম লাগছে তার।
-- সি ইয়া মাইট, অনেক ভালো লাগিলো তোমার সাথে গল্প করিতে। দেখি অন্য কারো কাছ হইতে কিছু ডলার পাওয়া যায় কি। আজ আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। মায়ের কবরে ফুল দিতে যাইবো। কিন্তু ট্রেনের টিকিট কিনিতে পারিতেছিনা। তোমাকে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
পকেটে হাত দিতে গিয়েও থেমে যায় নাফিজ।
-- সি ইয়া।
এলেক্সকে দেখে আরকজনের কাছে হাত পেতে ডলার চাইতে।

ট্রেন আসছে দেখে নাফিজ সামনে এগিয়ে যায়। ট্রেনে উঠার পর ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজের কাজে। আশে পাশে সবাই ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। পেছনের সিটে এক ছেলের কথা শুনে কান পাতে। মনে হচ্ছে বাংলাদেশীই হবে, খুব সম্ভবত ছাত্র।

অফিসে ঢুকতেই দেখে তার প্রজেক্ট ম্যানেজার নতুন বিএ মেয়েটির সাথে আলাপচারিতায় ব্যস্ত। এ লোকের কাজই হচ্ছে অফিসে নতুন কেউ জয়েন করলে তাকে নিয়ে বিছানায় যাবার চেস্টা চালানো। অথচ সে ২ বাচ্চার বাবা একজন সংসারী মানুষ।
-- হাই নাফিজ, কেমন চলিতেছে চ্যাম্প?
-- ভালোই চলিতেছে ঠিক যেমনটি তুমি আশা করিতেছ।
হাহাহা করে হেসে পিএম বলে নাফিজ ডিফেন্সের নতুন এক বিশাল প্রজেক্ট আসিয়াছে। সামনে কঠিন সময়, যন্ত্রে তেল দাও।
কঠিন সময় ! হুহ্ ডিফেন্সের কাজ মানেইতো এক গাদা মিটিং, এক গাদা ট্যুর। আর তার ভাগে এক গাদা বিরক্তিকর ডকুমেন্টশন, মাথা গরম করা সব এনালাইসিস।
সিগারেটের তৃষ্ণা পেয়েছে খুব। পেছনের বেলকনীতে সিগারেট ধরিয়ে জানালার কাঁচে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে চমকে উঠে। এলেক্স দাঁড়িয়ে আছে ! ধুর !! সিগারেটে জোরে কয়েকটা টান দিয়ে ভাবছে পিএম এর কথা। শালা ওকে এবারো প্রজেক্টের ফোকাসে আনবে না। তাকে দিয়ে সব কাজ করাবে কিন্তু নাম হবে নতুন বিএ মেয়েটির।
কাঁচে আবার নিজের প্রতিবিম্ব দেখে। তার রঙটাকি সাদা হলে সুবিধে হতো?

 

 

  • ৩১ টি মন্তব্য
  • ৩২৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৫ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: লেকাডাতো ভালাই লাগচে
পেলাচ
২. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪০
comment by: মানুষ বলেছেন: প্লাসাইলাম
৩. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৩
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

ওরে ! নতুন ধারার গল্প মনে অয়তেছে !
৪. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৩
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: সেই পুরোনো কথাটা মনে হলো
রক্তের রঙ লাল...
৫. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৮
comment by: মদন বলেছেন: চমৎকার +
৬. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:০৩
comment by: নাজিম উদদীন বলেছেন: আইডেন্টিটি ক্রাইসিস, বিদেশে বাঙালীরা সম্ভবত বেশী ভুগে।

আরেকটু বড় করতে পারতেন। ব্লগের কারণে হয়ত পোস্ট ছোট রাখার একটা তাগিদ কাজ করে ।
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:৩৫

লেখক বলেছেন: বড় করা উচিৎ ছিলো, কিন্তু ব্লগে পোস্ট ছোট করার একটা চাপ কাজ করে :( শেষের দিকটা একটু বিস্তারিত করার প্লান ছিলো কিন্তু হলো না। তবে গল্পটাকে আরেকটুকু বড় করার প্লান আছে। তখন বড় করবো বলে ভাবছি।

১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:৪১

লেখক বলেছেন: আইডিন্টিটি ক্রাইসিস ! হুমমমম............তা ঠিক।
তবে কর্পোরেট কালচারে যে আবছা বর্নবাদী থাকে সেটা দেখাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দেখাতে পারি নাই। :(
আরেকটি জিনিস দেখাতে চেয়েছিলাম সেটা হলো সবার মধ্যেই কম বেশী বর্নবাদী মনোভাব থাকে। সেটা বাঙালী হোক না ভিয়েতনামী হোক বা ককেশীয়ান হোক।

৭. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:০৯
comment by: ফেরদাউস আল আমিন বলেছেন: কোথায় আছেন? আমি শিকাগোতে আপাততঃ
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:৩৬

লেখক বলেছেন: ক্যানবেরা @ অস্ট্রেলিয়ায়, স্বেচ্ছা নির্বাসিত

৮. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:১১
comment by: সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: ভালো লাগলো।সুন্দর লিখেছেন।
শুভেচ্ছা.........
৯. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:১৬
comment by: সুর বাংলা বলেছেন: পেলাচ!
১০. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:২০
comment by: মুকুল বলেছেন: ভালো হইছে। আরেক্টু বড় করা যাইতো!

*****
১১. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:৩৬
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: আবারো পড়চি:)
১২. ১৫ ই জুন, ২০০৮ রাত ৩:৪৯
comment by: একাকী বালক বলেছেন: ভাল লেখছেন।
১৫ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১৩. ১৭ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:৩৬
comment by: ঝড়ো হাওয়া বলেছেন: অনেকদিন পর ব্লগে আসলাম।
পোষ্ট টা দারুণ লাগছে ...
১৪. ১৭ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:৪৭
comment by: ইরতেজা বলেছেন: ভালো লেগেছে।
১৫. ১৮ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:২৭
comment by: দখিনা বাতাস বলেছেন: Bus er Passenger der jonno ekti oti common oviggota(boideshe vikkhabrittir udahoron)..........misro manusher eii deshe.......

Sundor lekha.............
১৮ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:৫৫

লেখক বলেছেন: আশা করি ভবিষ্যতে বাংলায় কমেন্ট করবেন। আমার ব্লগে আমি বাংলা আশা করি।
বাংলা টাইপ করে কিন্তু বেশ সহজ।

১৬. ১৮ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:৩৫
comment by: পথিক মানিক বলেছেন: চমৎকার আপনার উপস্হাপনা ।
ভাল লাগা রেখে গেলাম।
১৭. ১৯ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:২৭
comment by: কাজ করে খাই বলেছেন: দারুন! বিশ্লেষন ভালো গেলেছে। আইডেন্টিটি ক্রাইসিস কোথায় নেই, কার নেই?
১৮. ২০ শে জুন, ২০০৮ ভোর ৬:৪০
comment by: দূরন্ত বলেছেন: ভালো লাগলো।
১৯. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০
comment by: দখিনা বাতাস বলেছেন: dukkhito aber banglay na lekhar jonno.............english lekhar issa thakle evabe bangla likhtam na monehy. .....

anywy thanx.................
২০. ২২ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৫
comment by: যীশূ বলেছেন: দারুন লিখেছেন!
২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

২১. ২৪ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১১:৪৬
comment by: মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: দারুণ দারুণ
২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ধন্যবাদ

২২. ২৭ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:২৩
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: তা কিসু আসি আমরা বর্ণবাদী,২-১টা সাদা চামড়া পিটাইতে পারলে ভালই লাগত।
২৩. ২৭ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:২৪
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: গল্প বড় করেন ভাই,দরকারে ২ পর্বে দেন,পড়মু। ব্লগের চাপে মূল লেখার সাথে আপোষ কইরেন না।
২৪. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:২১
comment by: রাশেদ বলেছেন: ভাল লাগছে। আসলেই আরেকটু বড় করলে ভালো হইতো।

 



 


এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥

আমার তড়িৎ ঠিকানাঃ
sumon.5554@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৪০১৩