আমার প্রিয় পোস্ট

গল্পঃ অহিদর ডাকাতের দীর্ঘ নিঃশ্বাষ

২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:১১

শেয়ার করুন:                   Facebook

"সেগুন কাঠের দুইখান বিশাল আলমাড়ি, আলমারি ভরা দামি শাড়ি, কাজ করা বিশাল বিশাল খাট, ঘর ভর্তি ফার্নিচার, দামি দামি জিনিস, , দুইখান বড় ফ্রিজ, বিশাল একখান টিভি, কম কইরা হইলেও লাখ দশেকের জিনিসতো হইবোই। আরো কত কিছু যে রাইখা আসছি বউ, কি আর কমু। এর পর থেইকা ট্রাক নিয়া যাইতে হইবো" বলে অহিদর বউয়ের দিকে তাকায়। বলেই একটা একটা দীর্ঘ নিঃশাষ ফেলে।

বাবা নাম রেখেছিলো অহিদর রহমান। সময়ে সেটাই অহিদর ডাকাত। ভেতরগড়ের অহিদর রহমানের মুল পেশা ডাকাতি, একসময় চোরাচালানী করতো। তেমন কিছু না, ওপার থেকে এপারে মাল নিয়ে আসা। বিডিআরের লাঠির বাড়ি আর সহ্য হয় না। তার উপর বিএসএফ যখন চাচাতো ভাই কামালকে গুলি করে মেরে ফেল্লো , সে কান ধরে প্রতিগ্যা করেছে, আর চোরাচালানী না। মাঝে কিছুদিন ঢাকায় রিক্সা চালালেও শরীরে পোষায় নাই। এলাকায় এসে কিছুদিন দিনমজুরি করলেও ৫০ টাকা দিন, সেটায়ও পোষায় না। চালের দামও ২৬ টাকা কিলো। শুধু ভাতে তো আর পেট ভরে না। তেল লাগে, নুন লাগে, ডাল লাগে।

গ্রামের করিম গাজি কইলো মিয়া এই সব করলে হইবো না, আমাগো লাইনে আসো। করিম মিয়া ২ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন মেম্বার।
করিম চাচার কথা প্রথমে অহিদর শুনতে চায় নাই। বাপে কইছিলো ' বাজান, মইরা গেলেও অসৎ পথে যাইবা না'। করিম গাজি হেসেছিলো অহিদরের কথা শুনে।
এক কার্তিকে মেয়েটারে যখন থানার হাসপাতালে নিতে হইছিলো তখন টাকার জন্য যখন সবার কাছে হাত পাতছিলো তখন করিম চাচা আইসা কইলো ' এই টাকা গুলা নেও, মেয়েটার চিকিৎসা করো'। অহিদর টাকাটা নিয়ে ফেলফেল কইরা তাকিয়ে করিম গাজিকে বলেছিলো ' চাচা, আপনার টাকা আমি যত তাড়াতাড়ি পারুম শোধ দিমু'। করিম গাজি হাসে। সে টাকা আর দেয়া হয় নাই। শেষ মেশ করিম গাজির দলে যোগ দেয়। গত বৈশাখে করিম গাজি জেলে যাবার পর অহিদর এখন দলের সর্দার।

প্রথম প্রথম গ্রামের স্যালো মেশিন ডাকাতি, গরু চুরি বা গ্রামের গৃহস্থের ঘরে ডাকাতি করতো। মানুষ আজকাল ঘরে টাকা পয়সা রাখে না, সোনা দানাও ব্যাংকে রাখে। আর গ্রামের গরীব গৃহস্থের ঘরে ছেঁড়া কাঁথা, ২ টা হালের বলদ, আর দুইবস্তা ধান ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। লাঠির বাড়ি দিলে হয়তো চৌকির নিচ থেকে ৫০০ টা টাকা বের করে দেয়।

গত বৃহস্পতিবার বালিয়াডাঙি বাজারে চাচাতো ভাই শফিয়ারের সাথে দেখা। শফিয়ার বলে "ভাইজান, থানায় নতুন এসি ল্যান্ড আসছে, ঘর ভরা জিনিস। দেখবা নাকি একবার"। প্রথমে ইতস্থতা করলেও অহিদর ভাবে এতদিনতো গরীব লোকের বাড়ী ডাকাতি করলো, এবার না হয় বড়লোকের বাড়ী ডাকাতি করি।
কিছুদিন খোঁজ খবর নিয়ে গত রাত ৩টায় এসি ল্যান্ডের বাড়ীতে দল নিয়ে ঢুকে। "বুঝলা বউ, বন্দুকটা সাহেবের দিকে ধরতেই ব্যাটা কাঁপতে কাঁপতে আলমারি খুইলা দিলো। শাড়ির মাঝ থেইকা যখন ক্যাশ টাকা গুলান বাহির কইরা দেয় তখন যদি দ্যাখতা। দুই মনি একটা জিন্দা লাশ থর থর কইরা কাঁপতাছে দেইখা হাসিই আসছিলো।" বলেই ভাগের টাকাগুলা বউকে দেখায়, পাঁচশ টাকার ৪ টা বান্ডিল।
"এর পর দেখি বউটার হাতে বড় বড় সোনার বালা, একেকটা ২ ভড়িতো হইবোই। সাহেবকে দুইটা বাড়ি দিতেই সুরসুর করে বউটা হাতের বালা খুলে দেয়, এর পর আলমারি থেইকা গয়নার বাক্স। এই বালাটা পছন্দ হয়?" বলেই অহিদর হাহা করে হাসে। বউ অবাক হয় , লোকটা কি পাগল হয়ে গেলো?
" বুঝলা বউ, দশ বচ্ছর ধইরা ডাকাতি করি, একটা ভালো চৌকিই বানাইতে পারি নাই, তুমারে একটা বালাও বানায় দিতে পারি নাই। আর ওই সাহেব ৪ বছর চাকরি কইরাই এতো কিছু কইরা ফেলাইলো ! কত টাকা বেতন পায় ?"
---------------
অনেক আগে এরকম একটি গল্প পড়েছিলাম। স্মৃতি থেকে তার কিছুটা এবং নিজের আশ পাশ থেকে কিছুটা নিয়ে গল্পটা লেখার চেস্টা করলাম।

 

 

  • ২৯ টি মন্তব্য
  • ৩২৩ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৭ জনের ভাল লেগেছে, ১ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩
comment by: ফয়সল নোই বলেছেন: এটা কি কবিতা?:)
২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪

লেখক বলেছেন: এইটা উপন্যাস

২. ২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫
comment by: ভবঘুরে বলেছেন: ওসমান গনি সাহেবকে উৎসর্গ করেন!!
৩. ২২ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৯
comment by: প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন: ফয়সল নোই বলেছেন: এটা কি কবিতা? ;)
৪. ২২ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৯
comment by: যীনাত বলেছেন: ভালই লাগল।
+
৫. ২২ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩৩
comment by: ফয়সল নোই বলেছেন: এক ডাকাতের গল্প শুনলাম গতকালই।ওই শাখামৃগটা ডাকাতি করতে গিয়ে ভুত দেখে ভয় পেয়েছিল:)
২২ শে জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৯

লেখক বলেছেন: হুমম

৬. ২৩ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৬
comment by: ফয়সল নোই বলেছেন: হুমমম!
৭. ২৩ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৮
comment by: ফয়সল নোই বলেছেন: আপনার গল্পটি আজ পড়লাম।দারুণ হয়েছে।পড়ে ভাল লেগেছে।লেখার জন্য ধন্যবাদ।
২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: ওরাং ওটাং , প্রথমবার কি না পড়েই ! ;)

মন মেজাজ ভালো ছিলো না তখন , তাই হুমম বলেছিলাম ;) মাইন্ড কইরেন না দোস্ত

৮. ২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৩০
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: আগেই পড়েছিলাম।
জানিনা কবে এই বেতনের প্রহসন শেষ হবে.... :(
২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৫

লেখক বলেছেন: পড়াশোনা শিখে, বড় ডিগ্রি নিয়ে মানুষ কি ভাবে ঘুষ খায় সেটাই ভাবতে নিজের কাছেই খারাপ লাগে।

৯. ২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৮
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: সেটা তো আছেই নৈতিকতার দারিদ্র, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনযাত্রার খরচের তুলনায় বেতন কাঠামোটা দেখেন। একটা সরকারি চাকুরে পাচ্ছেন ১৫০০০, বেসরকারি একজন হয়তো পাচ্ছেন ৭৫০০০।

কাজ তো কাজই, জীবনও তো জীবনই...
২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৪

লেখক বলেছেন: নিষ্ঠুর ও নোংরা বাস্তবতাটা জানি, কিণ্তু এটা দ্বারা ঘুষ খাওয়াটাকে জাস্টিফাই করা যায় না।

১০. ২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:৫০
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: জাস্টিফাই করার তো প্রশ্নই আসেনা, কিন্তু আমি এটাকে প্রথমে দোষ দিতে চাই। কারন বিশাল অংশকে ভারসাম্যহীন অবস্হায় রেখে কিভাবে তাদের কাছে মানসিক স্হিরতা আশা করা যায়।
আর বাংলাদেশি হিসাবে আমার মনে হয়, আমরা অনেক জাতির থেকেই মানসিক দিক দিয়ে এখনো উপরে যেতে পারিনি। এটা আমাদের সামস্টিক ব্যর্থতা।
২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:০২

লেখক বলেছেন: আমার বাবা যে বেতন স্কেল হতে অবসর গ্রহন করেছেন সেই একই বছরে আমার ছোট ভাই তার তিন গুন বেতনে বেসরকারী চাকুরি শুরু করে অথচ বয়স বাবার চাইতে ৩ ভাগের ১ ভাগ। ১টা উদাহরন দিলাম। বাস্তবতাটা জানি। আমার বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয়দেরকেই দেখেছি, ঘুষের জন্য তারা এহেন কাজ নাই যে করতে পারে না। ডিগ্রি দ্বারা দেখাতে গেলে তাদেরকে অনেক বড় বলতে হবে, চাকুরিতেও । কিন্তু মানুষ হিসেবে?
ক্যাডার সার্ভিসে তো সবাই একই বেতন পায় এন্ট্রি লেভেলে। কিন্তু পুলিশ প্রথম পছন্দ হয় কেনো ? জনসেবা না ঘুষের লোভ ?

১১. ২৪ শে জুন, ২০০৮ দুপুর ১:০৯
comment by: আসিফ আহমেদ বলেছেন: পঁচতে পঁচতে যারা পঁচে গেছে তারা তো পঁচা জিনিস খুঁজবেই।

আমরা প্রায় প্রতিটা ভাবনায় শর্টকাট ওয়ের দিকটাই আগে ভাবি, কারন আমাকে ওর বা তার মতো হতে হবে এবং তা যতো দ্রুত হওয়া যায়।

আশা করি এ অবস্হা থেকে আস্তে আস্তে আমরা বের হয়ে আসবোই।

১২. ২৭ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৪
comment by: অরুনাভ বলেছেন: মামা জীবনের তাগিদে কোন কিছুই ঠিকমত করা হয় না...... মাইন্ড কইরো না আমার উপর.......।

লেখাটা পছন্দ হয়েছে......

ভালো থেকো....
০৮ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৮

লেখক বলেছেন: মাইন্ড একটু করেছি

১৩. ৩০ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:০৮
comment by: ফয়সল নোই বলেছেন: অহিদ ডাকাতকে নিয়েঅভিজাত বাহীনি রেপিড এ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের সদস্যরা গল্পের লেখককে খুজতে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সংঘবদ্ধ ওহিদ-সুমন বাহীনির সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর আক্রমন করলে....বাকিটাও সবার জানা:)
০৮ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৭

লেখক বলেছেন: বাকিটা পত্রিকার রসালো সম্পুর্ন রঙিন খবর।

১৪. ০৩ রা জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৫
comment by: সাইফুর বলেছেন: ভালো লাগলো....
১৫. ০৪ ঠা জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:৪১
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: ডায়েরি কই বস?
০৮ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৫

লেখক বলেছেন: লেখার কিছু পাচ্ছি না ফারহান :( এ জন্য লিখছি না। লেখায় কিছুটা বিরক্তিও চলে এসেছে।

১৬. ০৭ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১২:০১
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: ডিং
১৭. ০৮ ই জুলাই, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪০
comment by: পথিক মানিক বলেছেন: আপনিতো মশাই দারুন লেখেন.......:)
০৯ ই জুলাই, ২০০৮ দুপুর ১:৩১

লেখক বলেছেন: কি যে বলেন :(

১৮. ২২ শে জুলাই, ২০০৮ ভোর ৪:১৮
comment by: রাশেদ বলেছেন: ভালো লাগচে টাকিলা কাক্কু।
১৯. ০৭ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪২
comment by: েজবীন বলেছেন: ভালো লাগছে গল্পটা.....:)

 



 


এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥

আমার তড়িৎ ঠিকানাঃ
sumon.5554@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৫৪০২৩