somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"বাবা", যে মানুষটিকে নিয়ে আমার কখনোই লেখা হয়নি

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্যাতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাষ না করলেও 'বৃষ-বৃষ' সংঘাত কথাটি আমি সব সময়ই বলে থাকি। বাবার রাশি ও আমার রাশিতে মিল থাকাতেই নাকি সব সময় দুজনের মাঝে খিটমিট লেগে থাকে, মা মজা করে বলেন শিং-শিং এ যুদ্ধ। রাজনীতি নিয়ে তর্কতো খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। আওয়ামী বিরোধী বাবার সাথে কত যে তর্ক হয়েছে সেটা মনে পড়লে মাঝে মাঝে হাসিই পায়। ঘটনা যাই হোক, বাবার সাথে আমার মত ও অন্যান্য অনেক অমিল না থাকলেও আজকাল আবিস্কার করতে পারছি দুজনের মাঝে অনেক অনেক মিল, মা তো বলেন বাপের ফটোকপি।

বাবার জীবনের অনেক কিছুই আমাদের অজানা। হয়তো নিজের কস্ট-সংগ্রামের কথা বলে সন্তানদের কস্ট দিতে চান না বলেই সবকিছু নিজের মাঝে চেপে রাখেন।
বাবা-মা হতে শত মাইল দূরে জায়গীর থেকে এসএসসি পাশ করেন। গ্রামের জায়গীর থাকার কস্ট যে থেকেছে সেই শুধু জানে। খুব সকালে উঠে গরু ছাগলকে খাবার দিয়ে- বাজার সদাই করে তবেই নিজের পড়াশোনা, খাবারের বেলায় হয়তো সবার খাবারের পর যা বেঁচে থাকে সেটাই জুটে।

২৩ বছর বয়সেই জীবন সংগ্রাম শুরু। এর মাঝেই মুক্তিযুদ্ধের শুরু। যুদ্ধ শেষে পুলিশে যোগদান। তখনো আমার জন্ম হয়নি। বাবার কাছে সে সময়কার ঘটনা জানতে চাইলে অনেক কিছুই বলতে চান না।
সারদার ক্যাডেট জীবন, সর্বহারা পার্টির হামলা থেকে বাঁচার জন্য স্টেনগান নিয়ে ঘুমানো, রক্ষিবাহিনীর অনেক কিছু দেখেও না দেখার অভিনয়, আওয়ামী লিগের চরম অরাজক শাষন, ৭৪' দূর্ভীক্ষ্, ৭৫' বংগবন্ধু হত্যা পরবর্তী অবস্থা , সামরিক শাষনের সময়কার আর্মিদের ধমকা-ধমকি, ৮১' জিয়া হত্যা, ৯ বছরে এরশাদীয় সামরিক- একনায়ক শাষন শেষে ৯০ এর গনঅভ্যুত্থান, ৯১' খালেদার বিএনপির ক্ষমতা, ৯৬' হাসিনার আওয়ামী লীগের ক্ষমতা শেষ করে ০১' খালেদায় দ্বিতীয়বারের সরকার গঠন- দেশের রাজনীতির এই দীর্ঘ পরিক্রমার নিরব সাক্ষি বলা যেতে পারে বাবাকে। বাবার কাছে জানতে চাই মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কথা, দীর্ঘ চাকুরী জীবনের কথা, উনি হাসেন; বলতে চান না অনেক কিছুই। বাবার মতো আজকাল অনেকেই মনে হয় মুচকি হেসে কিছুই বলতে চান না। ইতিহাস লেখা হয় তাদের হাত দিয়ে ইতিহাসে যাদের কোনো অবদানই নেই।

মাঝে মাঝে বাবাকে জিগ্যেস করতে ইচ্ছে হয় পুলিশে চাকুরি করে কি পেলে ! ৯০ দশকের কোনো এক বছরে শিবিরের গুলিতে ঝাঁঝরা-আহত বাবাকে রাজশাহীতে যখন দেখতে গিয়েছিলাম তখনো প্রশ্নটা করতে ইচ্ছে হয়েছিলাম। দীর্ঘ চাকুরী জীবন শেষে অবসর যাবার পর প্রশ্নটা আবার করতে চেয়েছিলাম। করা হয়নি কখনোই। প্রশ্ন করতে পারি না যেখানে উত্তরটা আগে থেকেই জানা; পেনশনের কিছু টাকা-ধাতব কিছু পদক - হাসিনার দেয়া কচুর লতি, খালেদার দেয়া লটকন - বিদায় সংবর্ধনায় পাওয়া একটা ক্রেস্ট - অনেক অপরাধীর ঘৃনা- অনেক অনেক মানুষের ভালোবাসা, আর আমরা -- উনার সন্তানেরা। আমার বাবা-মা অনেক কস্ট করে আমাদের মানুষ করেছেন। পুলিশের লাখো দূর্নীতির মাঝেও আমরা অনেক কস্ট করে মানুষ হয়েছি, সৎ টাকায় সৎ জীবন যাপনের আপ্রান চেস্টা করেছি। আমরা মানুষ হয়েছি এটাই উনার সবচাইতে বড় প্রাপ্তি।

বেশ কদিন আগে বাবার সাথে কথা বলছিলাম। কথার শুরুতেই দুস্টুমি করে ৩ ওয়ে কনফারেন্সিং চালু করে চমকে দিলাম বাবাকে। আমেরিকা-বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া একই সাথে কথা বলছি আমরা ভাই-বোন-বাবা/মা। বাবাকে বল্লাম ভালো করে 'আম্রিকা' দেখতে, এর পর অস্ট্রেলিয়া ঘুড়ে যেতে। বাবাকে শিশুর মতো আনন্দিত হতে দেখে আমার চোখে কি একটু পানি এসেছিলো ?

আমাদের বাবা-মারা আমাদের জন্য তাদের জীবনটাকে শেষ করে ফেলেন, নিজেদের জন্য কিছুই রাখেন না। সন্তানদের মানুষ করবার জন্য নিজেদের অবসর সময়টুকুও ব্যয় করে ফেলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন সন্তানরা বড় হয়ে যায় তখন বড্ড একাকী হয়ে পরেন আমাদের বাবা-মারা। বাবা দিবস- মা দিবস পালন করে হয়তো আমাদের অনেকেই একদিনের জন্য হলেও তাদের শুভকামনা জানাই। ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের দিবস পালন না করলেও আজ বলছি " আব্বু, হ্যাপি ফাদার্স ডে "

বাবাকে নিয়ে অনেকে কিছুই লেখার ছিলো, অনেক কিছুই লেখা হলো না।

(অস্ট্রেলিয়ায় সেপ্টেম্বরের প্রথম রবিবার " বাবা দিবস " পালন করা হয়। দিবসটির ভুলে থাকতে চাইলেও টিভি এডের কল্যানে ভুলে থাকা সম্ভব হয় না। বাবার জন্য এটা-সেটা কতো কিছু যে কেনার আছে সেটা মনে করিয়ে দেবার জন্য আপ্রান চেস্টা। গাড়ি থেকে শুরু করে স্ক্রু ড্রাইভার - তবে দারুন ব্যবসা।)
২৪টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×