প্র: দিনাজপুর শহরে পৌঁছে সেখানকার অবস্হা কি দেখলেন ?
উ: দিনাজপুর তখন বিদ্রোহী ইপিআর বাহিনীর দখলে। আমরা দিনাজপুরে এসে দেখি শহরে লোকজন প্রায় নেই। অল্প কিছুসংখ্যক লোক। আমরা যেখানে রিকশা থেকে নেমে ছিলাম সেখানে দিনাজপুরের কোনো রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে দেখলাম না। আমি দিনাজপুরের কিছু নেতা কর্মীকে অবশ্য চিনতাম। বগুড়া-শেরপুরে যেমন সংগ্রাম কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বা ছাত্রলীগের ছেলেপেলেরা ছিলো, এখানে তেমন কিছু চোখে পড়লো না। আমরা অবশ্য খুবই অল্প সময় দিনাজপুরে ছিলাম। এই সময়ের মধ্যে দিনাজপুরের সার্বিক পরিস্হিতি আমাদের জানা সম্ভব ছিলো না।
যাহোক,রিকশা আমাদের যেখানে নামিয়ে দিলো- সেখানে ঘোরাফেরার সময় একটা ছোট রেস্টুরেন্ট খোলা আছে দেখলাম। আমরা সেই রেস্টুরেন্টে নাস্তা করলাম। তারপর দু’টা রিকশা ভাড়া করে আবার ঠাকুরগাঁও রওনা হলাম। দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত ভাড়া ৩০ টাকা ঠিক হলো। এই রিকশায় আমরা সামনে এগুতে থাকলাম। পথে দশ মাইল বলে একটা জায়গা আছে। এই স্হানটি থেকে সড়ক পথে বিভিন্ন জায়গায় যাবার সুযোগ রয়েছে। ঐ জায়গায় এসে দেখি আমাদের পক্ষের সেনা সদস্যরা দাঁড়িয়ে আছে। ওখানে তারা প্রতিরোধ সৃষ্টি করেছে। এরা সব ইপিআর। তাদের কাছে একটা টু অথবা ফোর পাউন্ডের কামানও দেখলাম। আর কোনো ভারী অস নেই। এর বাইরে সৈয়দপুর-রংপুর- পলাশবাড়ি পর্যন্ত সড়ক পাকিস্তানি আর্মির নিয়নণে। এটা ৮ই এপ্রিল তারিখের কথা। পাকিস্তানি বাহিনীকে বাধা দেয়ার জন্যই ইপিআরদের এই প্রতিরোধ। কিন্তু আমরা যারা আর্মির লোক তারা জানতাম যে,এই অল্প অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না। যাহোক, বিকেল বেলা আমি ঠাকুরগাঁও পৌছলাম। কিন্তু বাসায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে সন্ধ্যে হয়ে গেলো। এখানেই আমাদের বাড়ি। আমার ছোট ভাই ওখানে থাকে। বাড়িতে এসেই জিজ্ঞেস করলাম বাবলু কোথায় ? বাবলু আমার ছোট ভাই। ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আমাকে জানালো,বাবলু এম.পি. ফজলুল করিম এবং আরও কয়েকজনের সঙ্গে একত্রে বর্ডারে গেছে। এম. পি. ফজলুল করিম ছিলো আমার বাল্য বন্ধু। সে বর্ডারে গেছে শুনে একটু আশ্বস্ত হলাম। ঠাকুরগাঁও থেকে ভারতের বর্ডার হলো ১৫ মাইলের মতো। দিনাজপুরের পশ্চিমেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ইসলামপুর থানা। তার সাথেই হলো বিহার প্রদেশ। বিহারের চীফ মিনিস্টার কর্পুরী ঠাকুর-এর কাছে তারা অস্ত্র শস্ত্র চান। সে জন্য আমাদের লোকেরা তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতে গেছেন বলে জানতে পারলাম।
প্র: ১৯৭০-৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান এয়ারফোর্সের বিন্যাস কেমন ছিলো ?
উ: তখন ঢাকায় মাত্র একটা ফাইটার স্কোয়াড্রন ছিলো। এক স্কোয়াড্রনে ১২টা থেকে ১৬টা বিমান থাকে। এখানে ১২টা বিমান ছিলো। সব এফ-৮৬। এটাকে স্যাবর জেটও বলা হতো। এগুলো সে সময় খুব ভালো ফাইটার প্লেন ছিলো। রেসকিউ পারপাসের জন্য ছিলো একটা হেলিকপ্টার।
প্র: ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চের আগে ঢাকায় পাকিস্তান এয়ারফোর্সের শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছিলো কি ?
উ: না,১৯৭১ সালে ঢাকায় পাকিস্তান এয়ারফোর্সের স্ট্রাকচারে পুনর্বিন্যাস করলেও তারা কোনো শক্তি বৃদ্ধি করেনি। যা বাড়ানোর তা শুধু পদাতিক বাহিনীতেই বাড়িয়েছে।
চলবে............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



