somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ের জন্য

২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অভি প্রায় রাতেই খুব করে কাঁদতো। একেবারে গভীর রাতে। সবাই যখন ঘুমিয়ে যায় অভি তখন কাঁদে। ওর কান্নার শব্দ আমার ঘুমকে হত্যা করেছে বহুরাত। মাঝে মাঝে আমিও ওর সাথে কান্নায় শরীক হয়েছি। অবশ্য আমার অংশগ্রহণ ওকে বুঝতে দিই নি। ও আমার খুব কাছের বন্ধু। গত বছর সামার ভ্যাকেশনে ওদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। ওর মায়ের আদর-যত্ন আর আতিথেয়তা আমাকে স্তব্ধ করেছিলো। অভি খুব ভালো গান করতে পারতো। রাতের বেলা আমরা ওর গান শুনতাম। ওর অধিকাংশ গানই ছিলো মাকে নিয়ে। আমি যে আমার মাকে কম ভালোবাসি তা নয়। জীবন দিয়ে ভালোবাসি। কিন্তু মায়ের প্রতি অভির ভালোবাসা দেখে নিজেই দ্বিধান্বিত হই- আমি কি তাহলে আমার মাকে অভির চেয়ে কম ভালোবাসি? রাতের বেলা সবাই যখন মোবাইল ফোনে প্রেমে মত্ত, তখন অভি ওর মায়ের সাথে সারাদিনের কর্মকান্ডের বর্ণনা শুনাতো। বাসার খুঁটিনাটি খবর নিতো। ওর বাবা দীর্ঘদিন আগেই মারা গেছেন। ওদের সংসারের অবস্থা খুবই নাজুক। বাসায় শেলাইয়ের কাজ করে যে টাকা হয় তা দিয়েই কোনো রকমে চলতো ওদের সংসার। অভি তিনটা টিউশনি করাতো। খুব কষ্ট করে চলতো। বাসা থেকে কোনো টাকা নিতো না। আমি বাসায় গিয়ে আমার মায়ের কাছে অভি ও তার মায়ের কথা অনেকবার বলেছি। অভি মাঝে মাঝে বলতো ইস্ আমার যদি মোবাইল ফোন থাকতো তাহলে মায়ের সাথে পেটপুরে কথা বলতাম। আমার দীর্ঘদিনের জমানো টাকা দিয়ে ওকে আর ওর মাকে দুটো অল্পদামের মোবাইল সেট কিনে দিয়েছিলাম। খুশিতে অভি সেদিন কেঁদেছিলো।
সবচেয়ে মজার বিষয় ও একবার বাসায় গেলে আর ক্যাম্পাসে ফিরতে চাইতো না। ক্লাসে উপস্থিতির হারটাও তাই খুবই গরীব। বাসায় গেলে ওর মাও ওকে ছাড়তে চাইতো না।
বেশ কিছুদিন থেকেই খেয়াল করছিলাম অভি ১০/২০ টাকা করে একটা বাক্সে রাখছে। কারণ জিজ্ঞেস করলে ও বলেছিলো ওর মায়ের চোখের ভীষণ সমস্যা। ভালোমতো দেখতে পান না। সেলাইয়ের কাজ করতে করতে মাঝে মাঝেই ওর মা নাকি মাথা ব্যথায় ছটফট করে। তাই জমানো হাজার খানেক টাকা জমিয়ে ওর মাকে একটা ভালো ডাক্তার দেখাবে আর একটা চশমা কিনে দেবে।
ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে প্রায়ই অভি ঢুকে পড়তো চশমার দোকানে। পকেটে টাকা নেই; তারপরও অনেকক্ষণ ধরে ওর মায়ের জন্য চশমার ফ্রেম খুঁজতো।
একদিন মেসে এসে দেখি অভি নেই। কাউকে কিছু না জানিয়েই কোথায় যেনো গেছে। আমি ওর নম্বরে এবং ওর বাসার নম্বরে কল করলে মোবাইল বন্ধ পাই। সপ্তাহ খানেক কেটে গেলো। ওর কোনো খোঁজ-পাত্তাই পেলাম না। ফাইনাল পরীক্ষা চলার কারণে ওদের বাসায়ও যেতে পারিনি।
একদিন সন্ধ্যায় আমি ঘরে বসে পড়ছি। পেছন থেকে অভি আমার ঘারে হাত রাখলো। ওর চেহারা দেখে আমি ভয় পেয়ে গেলাম। একি হাল হয়েছে ওর। অভি ব্যাগ থেকে একটা সোনালী ফ্রেমের চশমা বের করে আমার হাতে দিয়ে বললো, পরীক্ষা শেষে বাসায় যাবার সময় এটা নিয়ে যাস। খালাম্মাকে দিবি। বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। এরপর মোবাইল সেট দুটো আমাকে ফিরিয়ে দিলো। আমি নিতে না চাইলেও কেঁদে-কেটে খুব জোর করে আমার ড্রয়ারে সেটদুটো ভরে দিলো।
এরপর প্রতি রাতেই শুনি করুণ কান্নার কণ্ঠস্বর। এ কান্নাটা শুধুই ওর মায়ের জন্য। যিনি অকালে ওকে ছেড়ে গেছেন। আমিও কাঁদি। না কেঁদে থাকতে পারি না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:২৯
১৬টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×