somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... তুমি তো আসোই না, ফিরবে কী করে? দেখে যাই পূরনো বৃক্ষের গায়ে স্মৃতির ক্ষত, রেখে যাই ভালোবাসা
যতোটা পারি এখনো অবিরত
দীর্ঘশ্বাসের তোড়ে উড়ে যায় শুকনো পাতার দল। চোখের জলের
মুক্তাদানায় শিশিরকন্যা সাজে দূর্বাঘাসের বন। প্রতিদিনই আমার পা
জড়িয়ে ধরে এই অরণ্যের গুল্ম-লতা, ওরা ফিরে যেতে দিতে চায় না
কিছুতেই। তবু আমি আসি আর ফিরে যাই
তুমি তো আসোই না, ফিরবে কী করে?


(প্রথম পাতায় না আসায় কবিতাটি রিপোস্ট করলাম।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28871351 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28871351 2008-11-19 20:59:20
মনভোলা সেই কবে আমার সাদাসিধে মনটাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে গেলে
ফেরত দেবার নামটিও মুখে আনলে না আর
মনহারা মরা মানুষ আমি; দিনরাত কাটে শবাধারে
শূণ্য দেহের খোলস বয়ে বেড়াই অন্ধকার পথে
শুনেছি অনেকগুলো মন জমা রেখেছো তোমার রূপের রূপোর থালায়
ভালো তো আর বাসলে না
মনটা শুধু ফেরত দিয়ো।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28868273 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28868273 2008-11-12 21:04:29
কানে ভাসে না তার পদধ্বনি হাতরে বেড়ায়। হোঁচট খায়। আমি পাইনা আমার ছোঁয়া
তুমি আছো তুলসি ধোয়া। অসীম সীমার ওপারে

ঘুটঘুটে অন্ধকার। নিঃস্ব আমি নিরাকার।
পথ দেখি না। তবু চলি
নিঃশব্দের শব্দ শুনি। পঁচা প্রত্যাশার প্রহর গুনি
কানে ভাসে না তার পদধ্বনি
কানে আসে না তার পদধ্বনি
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28866456 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28866456 2008-11-08 21:53:39
প্রতিশ্রুতির পুঁটলি আমি তো বসেই থাকি জীর্ণ ঘরটার মাঝে সারাক্ষণ
অপুষ্ট প্রতিশ্রুতির পুঁটলিটা
রেখে গেছো আমার মনের ডাস্টবিনে
তোমার ভেজা চুলের গন্ধটাও নাক থেকে সরছে না
নড়বড়ে বিছনার যেখানটায় বসেছিলে, ভুল করে ফেলে গিয়েছিলে
তোমার দেহের ছাইরঙা ছায়াটা।

একবার সময় করে এলে ক্ষতি কী?
নিশ্চিন্তে আসতে পারো; তোমাকে আটকাবার সাধ্য-আরাধ্য
কোনোটাই নেই আমার
কষ্ট করে এসে ভালোই ভালোই নিয়ে যেয়ো প্রতিশ্রুতির পুঁটলিটা
দিয়ে দিয়ো অন্য কাউকে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28865169 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28865169 2008-11-05 20:43:54
স্মৃতির ভাগাড় যেনো আস্ত এক জাদুঘর ফুরিয়ে আসে চিরন্তন গন্তব্যের পথ; ঝুর ঝুর করে
ঝরে পড়ে অস্থি-মজ্জার তেজ; শুণ্য হয়ে আসে শরীর ক্রমশই
শুধু শূণ্য হয় না মন, শূণ্য হয় না চোখ আর চোখের জল
বহুবিধ স্মৃতির ভাগাড় যেনো আস্ত এক জাদুঘর।

বছরগুলো আজ বয়েসী বৃদ্ধ
মহাকালের চুক্তি শেষে ওরা যেতে চায় মহাপ্রলয়ের
সীমানার ওপারে
আমার গায়ের লোম খসে খসে হয়ে যায় সময়ের খাদ্য
পুষ্ট চামড়ার চটিতে চপেটাঘাত খেয়ে কক্ষপথ-চ্যূত হতে চায় পৃথিবী
আমি বুঝি, কিছু বুঝি- আবার অনেককিছুই বুঝে উঠতে পারি না
শুধু তোমার জটিলতাকে বুঝি নিরেট স্বচ্ছ গ্লাসের মতো।

বছরগুলো যেনো ষড়যন্ত্র করছে দিনরাত
এতোকিছু ঝরে যাচ্ছে, মরে যাচ্ছে, নষ্ট হয়ে পঁচে যাচ্ছে
তবু দেখতে পাচ্ছি না বুকের কষ্টগুলোর শবযাত্রা
নিজেকে দেখতে আয়নার সামনে যাতোবার দাঁড়িয়েছি- ততোবার তোমাকেই দেখেছি।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28864663 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28864663 2008-11-04 20:32:28
এই চোখ অন্ধকারের পর্দা ছিঁড়ে ছিঁড়ে কতোবার বেঁধেছি এই চোখ
কানামাছি ভোঁ ভোঁ খেলেছি ভালোবাসার সাথে
আর ক্রমেই চলে গেছি নিকষ অন্ধকারের অতল তলে।
এখন কালোবাসার বৃত্তে বন্দী আমি
সন্ধি করি সুবিধাবাদী সময়ের সাথে
প্রত্যাশার পাপড়িগুলো মরে গেছে আলোকের অভাবে
আর হামাগুড়ি দিয়ে পালিয়ে বেঁচেছে দুর্ভাগা স্বপ্নের দল।

এই চোখ
ভালো করে তাকিয়ে দেখ
এই চোখ
যেখানে আত্মহত্যা করেছে আলপনা আঁকা আত্মবিশ্বাসের রেনুগুলো
যেখান থেকে চলে গেছে সারি সারি কল্প-লাশের গাড়ী
তোমার হাতছানি? কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না
ঠিক যেনো হিংস্র হায়েনার ডাক
রক্তাক্ত হই আঘাতে আঘাতে; বিরক্ত হই না কখনোই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28863669 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28863669 2008-11-02 22:00:02
আমি যেনো কোথায় ছিলাম? এতোদিন এতোরাত এতোদুপুর এতোপ্রভাত
তোমার মনের বারান্দায়
বসে বসে, হেঁটে হেঁটে
নীরবে নীরবে, চিৎকারে চিৎকারে
শিৎকার দিয়ে কাঁদলাম, হাসলাম
গুনগুন করে গাইলাম; তবু টের পেলে না আমার উপস্থিতি?

আমি যেনো কোথায় ছিলাম?
কোথায় যেনো ছিলাম?
আমি ছিলাম তোমাতেই; সেই থেকেই
ফিরে আসার সাহস পাই নি কখনো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28863182 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28863182 2008-11-01 23:14:40
পুড়েই যাবে সংশয়ের সব সমুদ্র এই রাতে আর কতোবার সরিয়ে রাখবে তোমার সংকুচিত রুক্ষ ঠোঁট?
কীভাবে উপেক্ষা করবে তুমি আমার লাল চোখের আকুতি?
সবুজ ঘাসের মতো আঙুলগুলো আর কতোক্ষণ গুটিয়ে রাখবে শাড়ির আঁচলে?
তুমি কি অন্ধ হয়ে গেছো, নাকি অমূলক পঙ্গুত্ব লালন করছো নিজেই?
একবার...অন্তত একবার হেঁটে দেখো আমার মনোপ্রান্তরে?
কতোভাবে আর সিদ্ধান্তহীনতার শেকলে বন্দি হবে?
শেকলটা ছিঁড়তে না পারো, সামান্য একটু টান দিয়ে দেখো।

ইতিহাসের আবরণ খুলে রাখো বর্তমানের বৃত্তে
দুঃখের জলে ভেজা আঁচলে পাল তোলো এই নুতন নৌকায়
কতো সময় আর স্থবীর থাকবে এটি তীরে শুয়ে?
বুকে একবার মাথা তো রাখো- আলিঙ্গণ নাইবা করলে
কতো রাত আর নির্ঘুম চোখে চেয়ে থাকবে ঘূর্ণায়মান পাখার দিকে?
তোমার জীবন যে ঘুরছে ঘুনে ধরা অপবিশ্বাসের চরকিতে, বুঝো না?
পাথরতা ভেঙে তরল হয়ে যাও
বৃষ্টির ধারার মতো ঝির ঝির করে ঝরে পড়ো আমার হৃদয়ের বারান্দায়
বিশ্বাস করো অদ্ভুত এক উষ্ণতায় জ্বলে উঠবে তুমি
পুড়ে যাবে- পুড়েই যাবে সংশয়ের সব সমুদ্র।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28860712 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28860712 2008-10-27 22:42:10
অলস অলস লাগে অযথাই সময়কে ঝুলিয়ে রাখি অসময়ের ময়লা হ্যাঙ্গারে
চোখের পাতায় তুলে দিই ওজনদার ঘুম
সারাজীবন ঘুমাতে ঘুমাতে ঘুমগুলোও হয়ে গেছে কেমন যেনো
স্বপ্ন আসে, দুঃস্বপ্ন আসে
আরো কতো কে আসছে যাচ্ছে; শুধু তুমিই আসছো না
তুমিও অলস হয়ে গেছো- ঠিক আমার মতো
ঠিক সময়ের মতো; ঠিক আমাদের জরাজীর্ণ ভালোবাসার মতো
অলসতার খোলস ত্যাগ যেনো দুস্কর কর্ম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28859648 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28859648 2008-10-25 20:09:47
আর তো মাত্র কয়েকটা বছর আমরা কেউ আর গেঁয়ো থাকবো না
ইটপাথরে ভরে যাবে কালোজলা ডোবার বুক
টুনটুনি আর বাবুইগুলো উঠে যাবে কোনো কনক্রিটের কোঠরে
চৌদ্দপুরুষের মাটির ঘর মিশে যাবে মাটিতে
গড়ে উঠবে সুউচ্চ ইমারত
শতবর্ষী বটগাছটির শবদেহ হবে আমাদের সুদৃশ্য ফার্ণিচার

আর তো মাত্র কয়েকটা বছর
কেউ আর কাউকে চাষার বাচ্চা বলবে না
দো-আঁশ মাটির বুকে শুয়ে যাশে শত শত কলকারখানা
কালো ধোঁয়ায় আরো কালো হবে শুভ্র মেঘ
রাসায়নিক বর্জ্যরে ছোঁয়ায় নদীও পালিয়ে যাবে সাগরে
বরশির ছিপ, খেয়াজাল আর ডিঙ্গি নৌকার স্থান হবে শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত জাদুঘরে

আর তো মাত্র কয়েকটা বছর
বাংলা বলতে চাইবে না কেউ
এখানে-ওখানে গড়ে উঠবে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল
রফিক, শফিক, বরকত চলে যাবে জরাগ্রস্ত ইতিহাসের গহীন পাতায়
আর তো বেশিদিন নয়-
ঘন্টার পর ঘন্টা পুকুরে ডুবে চোখ লাল করবে না কোনো অবুঝ শিশু
বরষার কাদা-জলে লুটোপুটি খাবে না ওরা
মাটির গন্ধ শুষে নেবে পোড়া ইট
দিগন্তজোড়া পাকা ধানের ক্ষেতে খেলা করবে না উচ্ছ্বল দোয়েল-শালিক
কোথাও দাঁড়িয়ে থাকবে না কাকতাড়ুয়ার ভূত

আর তো মাত্র কয়েকটা বছর
আমরা কেউ আর গেঁয়ো থাকবো না
পাড়ায় পাড়ায় বসে যাবে নাইটক্লাব-ডিস্কো-বার
মসজিদের মিনার ডিঙিয়ে আকাশে উঠে যাবে মোবাইল ফোনের টাওয়ার
কোনো মা আর শহরে পড়তে যাওয়া ছেলের চিঠির প্রতীক্ষা করবে না
কোনো ছেলে আর খেতে চাইবে না ডালের বড়া
ওদের হাতে থাকবে অত্যধুনিক উত্তেজক সামগ্রী

আর তো মাত্র কয়েকটা বছর
আমরা কেউ আর গেঁয়ো থাকবো না
যেদিকেই তাকাবো শহর, শুধুই শহর
কম্পিউটার, ইন্টারনেট আর মুঠোফোনের ছড়াছড়ি হবে পথে-ঘাটে
কিন্তু কেউ কারো খোঁজ নেবো না, কাউকে মনে করে রাত্রী হত্যা করবো না
প্রিয়জনের নির্মম মৃত্যুতে আসবে না চোখে কোনো জলের কণা
আর তো মাত্র কয়েকটা বছর...
মাত্র কয়েকটা বছরের ব্যাপার-স্যাপার
আমরা কেউ আর মানুষ থাকবো না
আমরা কেউই আর মানুষ থাকবো।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28858116 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28858116 2008-10-22 13:57:19
হাঁটছি সকলেই হাঁটছি
হাঁটতে হাঁটতে হাঁপিয়ে উঠছি
থামছি না
কারো পায়ে জুতো, কারো ছেঁড়া স্যান্ডেল, কারো পা খালি
কারো আবার পা-ই নেই । তবু হাঁটছি, সবাই মিলেই হাঁটছি
গন্তব্য সবার একটাই
যেখানে কেউ কখনো যেতে চায় না
যাওয়ার চিন্তাও চাষ করে না মগজে
কী আশ্চর্য! সেদিকেই চলেছি
আমি, তুমি, আপনি, তুই; সবাই।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28857878 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28857878 2008-10-21 21:47:08
সুখ-সন্ধান ওই মুখে আর হাসি ফোটে না
ঝরে কান্নার কীর্তন
সুখের কী কাজ এখানে ?

প্রকৃতি?
কি যেনো পাপে পুড়ে গেছে সে
বারুদের গন্ধ মেখে হয়ে গেছে এসিডদগ্ধ নারী
সুখ কি এখানে থাকার কথা ?

কাশফুলের ঝোপে ঘোরে গোখরার বংশধর
শরতের শুভ্রতা পালিয়েছে শ্রাবণের বানে
দুঃখরা হাঁটিহাঁটি পাপা করে আসছে এদিকে

মেঘেদের বুকেও ক্ষোভের আগুন
বাতাসের উস্কানিতে ওরা জড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষে
তপ্ত আলোর ঝলকানিতে পুড়িয়ে দেয়
সুখের বাষ্প।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28851929 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28851929 2008-10-07 15:48:13
মরে গেছি বলে বাঁচার স্বপ্ন দেখবো না ? তাই বলে বাঁচার স্বপ্ন দেখবো না ?
আমি তো আজো হাঁটি মৃত্যুকূপের চারপাশে
লাল ইটের সুরকিতে শুঁকি জীবনের সুগন্ধ
অবাক হয়ে দেখি মরা কূপের মৃত্যুক্ষুধা
মাঝে মাঝেই উঁকি দিই যমদূতের পানশালায়
মনে মনে মেপে দেখি
জীবন থেকে মরণের দৈর্ঘ্য
বেঁচে নেই ; পঁচেও গেছি ঠিক
তবে কি পারি না মরার স্বাদ আস্বাদন করতে পূনঃবার?

আমার দেহে মাংসপঁচা দুর্গন্ধ
মৃত্তিকার ক্ষুধার কাছে হার মেনেছে শরীরের হাড়গোড়
ক্ষয়ে ক্ষয়ে ক্ষীণ হয়ে গেছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বল্গা হরিন
তবু ওরা ছুটে বেড়ায় জীবনের সন্ধানে
মৃত ? তো হয়েছেটা কী ?
মৃত বলেই তো জানি জীবনের মূল্য
না বাঁচি কখনো; দেখলামই নাহয় বাঁচার স্বপ্ন!
না দেখা হলো জীবনের মুখ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28851544 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28851544 2008-10-06 15:22:27
বাবলির জন্য... কয়েকদিন নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে পোস্টারে লেখা দেখলাম 'বাবলির জন্য'।
এটি একটি টেলিভিশন এ্যাডভার্টাইজমেন্ট। ভেবেছিলাম হয়তো এই এ্যাডভার্টাইজটি বিশেষ চমক দিতে যাচ্ছে। দুঃখের বিষয় হলো এমন পঁচা বিজ্ঞাপন আমার জীবনে আর দেখিনি।

আপনাদের কেমন লাগছে বিজ্ঞাপনটি ??]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28850952 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28850952 2008-10-04 20:48:38
কেউ ভোলে নি তোমায় আমি ভুলি কী করে?
তোমার ভেজা চোখের জলছাপ
পড়ে আছে আমার দৃষ্টিরেখায়
পোড়া শামুকের চুন আর পানপাতার উগ্রগন্ধ
কিছুতেই দূর করতে পারে না তোমার পাতলা ঠোঁটের সুগন্ধ

তোমার নীরবতার নিয়ন আলো
এখনো থামিয়ে দেয় আমার অন্ধকার আত্মার শোরগোল
কামরূপ কামাক্ষা কিংবা তন্ত্রমন্ত্রের পানিপড়া
ক্ষণিকের জন্যও ভুলিয়ে দেয় না তোমার আলিঙ্গনের অগ্নিমুহূর্ত

পঁচা সময়ের ছুটোছুটি
ছুটোতে পারে না আমাকে; ছুটোবে কি করে- আমি তো বাঁধা তোমাতে
কাশবনের ঘাস ফড়িঙের দল এখানো ডেকে ডেকে
জিজ্ঞেস করে তোমার কথা
কেউ ভোলে নি তোমায়, বিশ্বাস করো কেউ না
আমি ভুলি কী করে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28848657 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28848657 2008-09-27 21:03:57
হাতের মধ্যে তোমার হাত তবু অতৃপ্ত আত্মার মিছে সুখের হাঁসফাস
এই চোখের মধ্যে মধ্যে একজোড়া চোখ ; কতো নদী হাঁটে নিরবধি
কতো গল্পের ফানুস উড়ে বেড়ায়
অস্পষ্টতার অভিশাপ কাঁধে করে
তবু থামে না মিথ্যাচারের মাতামাতি; মোমের মতোই
গলে পড়ে উষ্ণতার জল
গরম হাত ক্রমশই নরম হয়, সাদাচোখ হয়ে যায় লাল
ঘামে ভেজা শরীর। হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করতে চাই
মনের ভেতরে; ব্যর্থ প্রয়াসের ইতিহাস সৃষ্টি শুধু শুধু
হাতের ভেতর থেকে যায় তোমার ওই হাত
ক্লান্ত আমি রয়ে যাই মনপ্রাচীরের ঠিক ওপারে
যেনো হাত দিয়ে সযত্নে সরিয়ে রেখেছো আমাকে
তোমার মনের দুয়ার থেকে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28845395 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28845395 2008-09-19 21:32:27
রাত ঘুমিয়ে গেছে রাতের কোলে আমি শুধু তলিয়ে যাই অন্ধকারের অতল তলে
নেশাতুর চোখ, কম্পিত হাত, হাতরে বেড়ায় কোনো এক রমনীকে
যার কোলে বন্দি আমার ঘুম।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28844210 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28844210 2008-09-17 02:02:07
সময়ের হাতে যেদিন আর সময় থাকবে না তুমি আমি।
ভুলে চলি ক্রমেই কালের কলঙ্ক যতো
ঢুলে ঢুলে মাড়িয়ে যাই দু'জন দু'পথ
তবু জানি দেখা হবে
চোখ ভরা কথা রবে
অপ্রকাশিত বাক্যাঞ্জলির বন্যায় ডুবে যাবে
ক্ষোভের পাহাড়
ঘৃণার ঘুঙরুগুলো টুংটাং শব্দে ঝরে ঝরে
আত্মহত্যা করবে পুরনো প্রেমের পায়ে

সময়ের হাতে যেদিন আর সময় থাকবে না
লুকানোর আর জায়গা পাবো না
ভুল করে তুমি লুকোবে আমার চোখে
আর আমি তোমার বুকে
সেদিনের লুকোচুরি লাল কার্ড দেখাবে
পঁচা অতীতকে
তুমি হবে সবুজ শস্য ক্ষেত
আর আমি ?
আমি হবো গ্রাম্য-সরল কৃষক
তোমাতে চাষাবাদ করবো, নিড়ানি দেবো
আর ফসল ফলাবো আগামীর।

হেঁটে যাও বিপরীতে
ছুটে যাও বিপরীতে
যতো পারো সরে যাও আমার থেকে
আমিও যাচ্ছি দূর থেকে সুদুরে
আমিও যাচ্ছি পথকে হত্যা করতে
সময় যেদিন বেড়ি পরাবে দুজনের পায়ে
তুমি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকো এই
লাল চোখে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28841835 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28841835 2008-09-11 23:21:08
বীরত্বের বিশুদ্ধ প্রশান্তি গন্ধ শুঁকে বেড়ায় ওরা আয়োডিনের
এক সময় থেমে যায় সময়
স্রোতে ভেসে চলে যায় ওরা মহাকালের ভাগাড়ে
জৈব সার হয়ে উর্বরতা বৃদ্ধি করে নতুন শতাব্দির।

গরম জলের সাগরে সাঁতার কাটতে চায় ক্ষুদি পোকা
শীতলতার আশায় প্রাণ হারায় ওরা হামেশাই
মাকড়সার জালে মরে শান্তি নেই ওদের
ক্ষুদি পোকাদের আত্মাগুলো ক্ষুদিরামের বিদ্রোহ-মোহী মন্ত্রে জেগে ওঠে
দল বেঁধে ওরা চলে যায় উন্মুক্ত বাতির আগুনে
হারিকিরি করে লাভ করে ওরা বীরত্বের বিশুদ্ধ প্রশান্তি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28839664 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28839664 2008-09-06 22:31:18
যেনো অন্য এক মানবী আন্তরিকতায় আপ্লুত দেহরেখা
ওই হাসির জোয়ারে মরে যায় অতিদীর্ঘ সব মরুভূমি
যখন তুমি কথা বলো ফিটফাট চেহারার হদমূর্খ কোনো এক
কসমেটিক্সের দোকানীর সাথে
সত্যিই কষ্টে জ্বলে ওঠে আমার বুক
পাশাপাশি থেকে, ভালোবেসে, মনজয়ের কতো
মন্ত্রই না পড়েছি দিনে ও রাতে
একটু আন্তরিকতা ও সুন্দর ব্যবহার পাবার জন্য
তবু কোনো যেনো কসমেটিক্সের দোকানীদের অতিক্রম করতে পারি না।

তুমি যেনো এক অন্য রমনী
উদ্বেলিত অঙ্গ-প্রতঙ্গ
ওই উলঙ্গ নৃত্যের ঘুঙরুর ঝংকারে কেঁপে কেঁপে আত্মহত্যা করে চক্ষু-লজ্জা
যখন তুমি আলাপ করো মাঝ-বয়সী কোনো এক
অন্তর্বাস বিক্রেতার সাথে
হিংসে হয় ওই অন্তর্বাস বিক্রেতার প্রতি
সারাজীবন নেচে গেলাম তোমার কথায় অকথায়
আমার জন্য একটি বারও দুলে ওঠেনি তোমার ওই দেহতরী।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28837987 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28837987 2008-09-02 22:52:04
ওটার ঘুম ভাঙাতে চাই না রাখি বুকের সিন্ধুকে
দীর্ঘশ্বাসের গরম বাতাসে মিশ্রিত আগুনের হল্কায়
পুড়িয়ে পুড়িয়ে খাঁটি করি প্রেমকে
এ ভালোবাসা আর কারো নয়
এ প্রেম কাউকে দেবার নয়
অপমানের অপঘাতে
আহত ভালোবাসাকে আদরে আগলে রাখি বুকে
ওটাকে কারো কাছে লিজ দিয়ে আর কষ্ট পেতে চাই না
বিভ্রান্তির বিষ-জ্বালায়
উদভ্রান্ত প্রেমকে ঘুমপাড়ানি গান শুনাই রাতের নির্জনে
কারো হাতে তুলে দিয়ে ওটার ঘুম ভাঙাতে চাই না।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28835380 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28835380 2008-08-27 00:08:14
আমার ক্ষুধার্ত শকুনের সামনে এক টুকরো গো-মাংস
আমার প্রেম
সুখার্ত কোনো রাজকুমারীর কাছে একটা পোষা কুকুর
আমার মন
উচ্চাভিলাসী কোনো ছলনাময়ীর হাতে মাটির খেলনা
আমার চাওয়া
মরুভূমির কাছে একদীঘি জলের আবদার
আমার পাওয়া
হবে'র ফাঁদে পড়ে আছে দীর্ঘকাল
আমার বিশ্বাস
উড়ন্ত মেঘেদের সাথে সাঁতরে বেড়ায় এক আকাশ থেকে অন্য আকাশ।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28834701 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28834701 2008-08-25 12:42:54
মরে মরে বাঁচি স্বচ্ছ দীঘির মতো টলটলে ওই জলে কতো বিভ্রান্তি ছড়ানো
কতো বিষপোকার বসবাস
কতো খেয়ালীপনার খৈ-ফোটা ইতিহাস
আমি কিছুতেই অতিক্রম করতে পারি না
ওই অতি কাছের অতি অচেনা বৃত্তটাকে

ওই মায়াবী চোখে উড়ন্ত মেঘের বিষজলে
সাঁতার দিই সকাল-সন্ধ্যা
শত চেষ্টা করেও তলিয়ে যেতে পারি না
ওই জলাধারের তলায়, ডেড সী'র মতো ভেসে তোলো আমায়
জনসম্মুখে; সবাই দেখে এক ব্যর্থ ডুবুরির
অপমানে ভেজা লাল চোখ
তোমার চোখের পাতায় বসে বসে রৌদ্র স্নান করি
পুড়ে পুড়ে উড়ে যাবার আশায়
ঠুংকো জীবনটাকে ভাঙা তরিতে ভাসাই
মরে মরে বাঁচি বার বার।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28834059 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28834059 2008-08-23 20:52:24
ঘুরে মরি ঘুরে ঘুরে দূরে যাবার ভয় দেখাও
তোমার পথ সেতো উর্ধ্বগামী
মেঘে মেঘে মিলিয়ে যায় ওই পথের সীমারেখা
শুধু মিলিয়ে যায় নি কখনো আমাদের দূরত্বের দেয়াল
তবু চলে যেতে চাও দূরে
যেনো কতোকাল প্রেমাবেগে বুকে জড়িয়ে কাছে ছিলে
না হাসতে পারি না কাঁদতে
না ছুটতে পারি না হাঁটতে
কিছুই পারি না
কিছুতেই ছাড়ি না ভাবতে এটুকু তুমি আছো কাছে

তোমার মন সেতো উড়ন্ত বলাকা
কতো দ্বীপের বালি মেখেছো গতরে
কতো প্রেমের পরাগ তোমার অন্তরে
রাখো নি মনে আমাকে কখনো
তবু মাঝে মাঝে সাজতে চাও পবিত্র প্রেমাত্মা
মিছে অভিমানে চলে যেতে চাও দূরে
না পারি হাসতে না পারি কাঁদতে
ঘুরে মরি ঘুরে ঘুরে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28833706 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28833706 2008-08-22 21:15:24
স্মৃতির জাদুঘরে গলে যায় গন্তব্যের গতিরেখা
অতৃপ্ত মনুষ্য-শরীর ঘোরে-ফিরে পৃথিবীর বুকে
ভালোবাসা ক্ষয়ে যায়, তুমি-আমি রয়ে যাই
দূর থেকে অচীন সুদূরে
না সময় না নদী না সাগর
থেমে থাকে না কেউ
প্রকৃতি বদলে যায়, কালো চুল সাদা হয়
দুঃখগুলো দলপাকায়
আর স্বপ্নগুলো পড়ে রয় স্মৃতির জাদুঘরে।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28831567 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28831567 2008-08-16 18:06:46
অকারণ অনুভূতি অথর্ব ভালোবাসা তার উদ্দেশে
সে যে আমার নয় জেনেছি বহু আগে
তবু ক্ষুধার্ত শকুনের মতো মাঝে মাঝেই
ঢুঁ মারি কসাইখানার বারান্দায়
রক্তখোকো মাছিদের হাসি-ঠাট্টার খোরাক হয়ে যাই
নিজের অজান্তেই।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28830958 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28830958 2008-08-14 22:33:20
এক মুঠো কান্না স্মৃতির কষ্টরা দল বেঁধে সাঁতার কাটতে আসবে
চোখের সমুদ্রে, দুঃখের চাদর বিছিয়ে চন্দ্র স্নান করবো
প্রেম নামের অধুনালুপ্ত বালুকাময় সৈকতে
আর মরা বাতাসগুলো গায়ে মেখে গুনগুন করে গাইবো
কুৎসিত ঝংকারের ক্রন্দনগীতি।

সহস্র আলোকবর্ষ দূরে বসেও শুনতে পাবে তুমি
সেই কান্নার করুণ আওয়াজ
হয়তো মহাকাশ থেকে ঝরে ঝরে পড়বে
তোমার প্রেমানুভূতির পালকগুলো
ঠিক আমার চোখের সাগরে
ওগুলো সাঁতার দেবে
কষ্টদের সাথে
কান্নার মজুত শেষ হলে নেমে এসো পোড়া বুকে
শুনিয়ে যেয়ো বিষাক্ত কিছু বাণী
আবারো সঞ্চয় করবো কিছু কান্না রাতের জন্য
আবারো যাবো চন্দ্র স্নানে
আবারো কাঁদবো মনের সুখে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28825062 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28825062 2008-07-28 21:00:18
ফুটবলার আবুল
যেখানে যাই একই কথা। আবুল নাকি বড়ো ফুটবলার হয়েছে। কয়েক দিন ধরে বলে বেড়াচ্ছে পাড়ায় পাড়ায়। তার ফুটবল খেলা নাকি প্রায় প্রতিনদিনই রেডিও’র পেছনে দেখা যাচ্ছে। এমন কথা শুনে এক মুরুব্বি নাকি আবুলের গালে ঠাস করে একটা থাপ্পরও বসিয়ে দিয়েছিলো। তবু আবুল তার জবানে অটল। রেডিও-তে চাকরি করে এপাড়ার এক ভদ্রলোক। উনি বাসা থেকে সকালে বেরিয়ে যান আসেন রাতে। সাত সকালে উনি যখন হন্তদন্ত হয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন তখন সেখানে আগে থেকে দাঁড়িয়েছিলো পাড়ার লোকজন। উদ্দেশ্য অন্যকিছু নয়। উদ্দেশ্যটা নেহায়েতই আবুল বিষয়ক প্রশ্ন করা। ধুরমুর করে ভদ্রলোক রিকশায় উঠে পড়েছেন। এতো লোক যে তার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেদিকে তাকানোর কোনো ফুরসৎ নেই তার। হবে হয়তো কোনো বিশেষ কাজের তাড়া আছে। ওপাড়ার কালাই ঠাকুর ঠিক রিকশার সামনে দাঁড়াতেই ভদ্রলোক মুখে কিছুটা বিরক্তির ভাব নিয়ে বললেন, কিছু বলবেন?
নিমিষেই পাড়ার লোকজনে ভরে গেলো রিকশার চারদিক। সেখানেই এক সাথে কয়েকজন জিজ্ঞেস করলেন রেডিও’র পেছনে আবুলের ফুটবল খেলা দেখা যাবার কথা। ভদ্রলোক বললেন, হ্যাঁ, তাতো দেখা যায়ই। তবে ছেলেটা এখনো ভালো খেলতে পারে না। বলেই রিকশাঅলার পিঠে আলতো করে একটা টোকা মারলেন। রিকশা গড়গড় করে চলে গেলো। পাড়ার লোকজনের মুখে কোনো কথা নেই। যেনো বোবা সেজে গেছে সবাই। শুধু একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে হা করে থাকে তারা।
আমি তো বিষয়টিকে ফালতু বলে উড়িয়েই দিয়েছিলাম। যখন শুনলাম রেডিও’র ভদ্রলোকের উত্তরটা, তখন নিজেই একটু ভরকে গেলাম। পড়ে গেলাম গোলক-ধাঁধায়। টেলিভিশনে ছায়াছবি, নাচগান, খেলাধুলা দেখেছি। সময়ে অসময়ে রেডিওতে ধারাভাষ্যও শুনেছি। কিন্তু এমন বিদঘুটে ঘটনাটার কথা তো শুনিনি। আর এক বন্ধু আছে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ঢাকা বেতারে কাজ করে। এমন সমস্যায় পড়েছি ভয়ে ওকেও জিজ্ঞেস করতে পারছি না। এমন প্রশ্ন শুনে যদি আমাকে গাধা ভেবে বসে ? আবুল যেখানে খুশি ফুটবল খেলুক, যেখানে সম্ভব দেখা যাক; আমি এসবের মধ্যে আর নাই। অফিসের কাজে এমনিতেই আমার মাথা ঠিক নাই। গত দুই মাস বাইরে ছিলাম। গতকাল রাতেই ফিরেছি। আবুলের সাথে এখনো দেখা হয় নি। এসব আজব কথা শুনে ওর সাথে দেখা করার ইচ্চাটাও উবে গেছে। মাথাটা কেমন যেনো টলমল করছে।
অফিস যাবো। ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে গলায় টাই পড়ছিলাম। আয়নাতেই দেখতে পেলাম আবুলকে। রীতিমতো একজন ফুটবলার বেশে ঢুকে পড়েছে আমার রুমে। শরীরে জার্সি আর হাতে একটা ফুটবল। একরাশ বিরক্তি নিয়ে তাকালাম ওর দিকে। ও হেসে আমার কাছে এসে বললো, ভাইজান আপনে আসছেন মাগার আমার সাথে দেখা করলেন না।
একটা লম্বাদীর্ঘশ্বাস ফেলে আমি বললাম, তোর সাথে কি আর দেখা করা যায় রে ? তুই তো স্টার হয়ে গেছিস। রেডিও’র পেছনে তোর খেলা দেখা যায়, কম কথা তো নয়!
আবুল আমার টাই নাড়তে নাড়তে বললো, ভাইজান পাড়ার লোকজনের মতো আপনে আমারে ফালতু ভাবতাছেন ?
আমি বললাম, না না তোরে ফালতু ভাবতে যাবো কেনো ?
আবুল আমার খাটের বসে আঙুলের মাথায় বলটি বোঁ বোঁ করে ঘুরাতে ঘুরাতে বলে, যা-ই বলেন ভাইজান, ফুটবলের মতো খেলাই হয় না।
আমি ওকে একটু দ্বিধাগ্রস্ত মনে বললাম, তুই কি সত্যিই ফুটবল....
আবুল আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বললো, বুঝতে পারছি তুমিও পাড়ার লোকজনের মতো অঅমারে বিশ্বাস করতে পারতাছো না।
এরপর আবুলের সাথে কিছু কথা হলো। আবুল আজ বিকেলে পাড়ার লোকজনকে তার কথার সত্যতা প্রমাণ করে দেবে। পাড়ার লোকজন কয়েকটি রেডিও সাথে করে চলে এলো আবুলের বাড়ির সামনে। লোকজন মাঝে মাঝেই রেডিও’র পেছনে তাকাচ্ছিলো। নাহ ! কিচ্ছু তো দেখা যায় না। রীতিমতো হতাশ সবাই। আমিও যাচ্ছিলাম আবুলের বাড়ির সামনে। আমাকে দেখেই লোকজন রেগে গেলো। কোথায় আবুল। ওর পিঠের চামরা তুলে নেবো। ফাইজলামি পাইছে, তাই না? এমন সময় আবুলের বন্ধু মফিজ এলো। তার সাথে কয়েকটি রিকশা ভ্যান। ও ঈশারায় রিকশায় উঠতে বললো। সাত-পাঁচ না ভেবে কয়েকজন অতিউৎসাহী রিকশায় উঠে বসলো। আমি উঠলাম একটি রিকশাতে। কারণ উৎসাহ আমারও কম নয়। রিকশা চলেছে রেডও সেন্টারের দিকে। সময় যাচ্ছে আর কৌতুল আর রাগ বাড়ছে লোকজনের। রেডিও সেন্টারের সামনে এসেই থামলো রিকশাগুলো। এরপর যা ঘটলো তা আর বলার মতো নয়। সত্যিই রেডিও’র পেছনে আবুলকে ফুটবল খেলতে দেখলো সবাই। রেডিও সেন্টারের পেছনে একটা বিশাল মাঠ পড়ে আছে। ওখানে ছেলেপুলেরা বিকেল করে ফুটবল খেলে। আবুলও তাদের সাথে খেলে। আশপাশের বাসা ও রেডিও সেন্টারের ভবনের জানালা দিয়ে কর্মকর্তারাও মাঝে মাঝে খেলা দেখেন। পাড়ার লোকজনের চোখে-মুখে আগুন ঝরছিলো। আমি ওদের দিকে তাকাতেই ভয় পাচ্ছিলাম। কিন্তু আবুলের সেদিকে কোনো ভ্র“পেই নেই- ও খেলেই চলেছে। সত্যিই রেডিও’র পেছনে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28824005 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28824005 2008-07-25 11:31:49
আদ্রিতার পৃথিবী গার্মেন্টসে চাকরি করে ওর মা আফেলা। কাক ডাকা ভোর থেকে একেবারে রাত আটটা পর্যন্ত অবিরাম পরিশ্রম। ঘরে আছে অসুস্থ স্বামী শাবদুল আর বৃদ্ধ শ্বশুর। আফেলার কষ্টার্জিত সামান্য অর্থেই চলে ওদের ছোট্ট সংসার।
আদ্রিতার বৃদ্ধ দাদু দিনে দু'চার বার চক্কর দিয়ে আসে এবাজার থেকে ওবাজার। ফিরে এসে অসুস্থ ছেলের কাছে গল্প করেন- দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির গল্প, রাজনীতির গল্প, গণতন্ত্রহরণের গল্প, হাসিনা-খালেদার গল্প, এরশাদ-বিদিশার গল্প। শাবদুল তার বৃদ্ধ বাবার কাছে জানতে চায়, কারখানায় কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল হলো কি না?
যখন এসব গল্প চলে ঘরে। ছোট্ট আদৃতা তখন গাল ফুলিয়ে ছিঁড়তে থাকে গার্মেন্টসের ছাঁট কাপড়ের তৈরি বেঢপ পুতুলের হাত, পা, মাথা। ও শুনতে চায় না এসব গল্প। দাদু যখন ওকে কোলে তুলে নিয়ে বলে, আদ্রি কি হয়েছে রে তোর?
আগের মতোই গাল ফুলিয়ে চুপ করে থাকে সে।
দুদু আবার যখন বলে, জানিস, আমি যখন একটা চায়ের দোকানে বসে গল্প করছিলাম। একটা ইঁদুর আর একটা হুলো বেড়াল...। থাক, তুই যখন শুনতে চাস না আর বলবো না।
নিমিষেই আদ্রিতার গোমরা মুখে ফিরে আসে এক ঝাঁক চাঞ্চল্যতা। ঝরণার মতো ঝিরিঝিরি হাসি দিয়ে দাদুর গলা জড়িয়ে ধরে বলে, ওদাদু বলো না, বিড়াল আর ইঁদুর চায়ের দোকানে কি করছিলো?
দাদু ওর গালে চুমু দিয়ে বলে, কি আর করবে। সারাদিন ছুটোছুটি করে ওদের গলা শুকিয়ে গিয়েছিলো। তাই দোকানে চা খেতে এসেছিলো।
- ধুর দাদু, ওরা আবার চা খায় নাকি?
- খায় রে সোনা খায়।
- তা ওরা কয় কাপ চা খেলো?
- দুজনে মিলে চারকাপ চা খেলো আরকি ? আমিই খাওয়ালাম। তোর কথা বললাম।
- সত্যি বলছো দাদু?
- তোর কাছে মিথ্যে বলতে যাবো কোন্ দুঃখে। ওরা একদিন তোর সাথে দেখা করতে আসবে।
- যেদিন আসবে আমাকে আগে থেকে বলো কিন্তু। আম্মুকে দুধ আর চা আনতে বলবো সেদিন। আর লাল চুরি পরবো। আর তোমাকে পরিয়ে দেবো ট্র্যাংকে রাখা ইস্ত্রি করা সাদা পাঞ্জাবিটা। আব্বুকে যে কি পরিয়ে দিই ভাবতে হবে।
গালে হাত দিয়ে ভার-ভারস্ত মানুষের মতো ভাবতে থাকে আদ্রিতা। দাদু অদ্ভূত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ওর মুখের দিকে। এতো অভাব-অনটন, এতো কষ্ট, এতো বিরম্বনা; তারপরও ঘরে এসে এই ছ্ট্টো শিশুটার দিকে তাকালে, ওর সাথে দু’দন্ড গল্প করলে যেনো আত্মা শান্তি পায়। এই কুড়ে ঘরে যেনো একটি ছোট্ট সুখপাখি আদ্রিতা।
দাদুর চিন্তা-মগ্নতা ভাগিয়ে দেয় আদ্রিতা। ও বলে, ও দাদু, আব্বুর তো অসুখ করেছে- বিছানা থেকে উঠতে পারবে না। যেদিন ইঁদুর আর বিড়াল আসবে সেদিন নকশা আঁকানো কাঁথা জড়িয়ে দেবো আব্বুর গায়ে।
ওরা গল্প করছিলো বারান্দায় বসে। ঘর থেকে শাবদুল যখন 'আদ্রিতা' বলে ডাক দিলো, দাদুর কোল থেকে লাফিয়ে নামলো সে। দাদুকে উদ্বিগ্ন হয়ে বললো, ও দাদু আব্বুকে বুঝি ওষুধ খাওয়াতে হবে। ছোট ছোট পায়ে দৌড়ে যায় সে তার বাবার কাছে।
শহরের একপ্রান্তে বস্তি ওদের। একেবারে বুড়িগঙ্গার কোল ঘেঁষে। মরা-পঁচা বুড়িগঙ্গা। বস্তি থেকে কিছু দূরের মাঠে তবু দেখা যায় সবুজ ফসলের তে। আদ্রিতা মাঝে মাঝে দাদুর কাঁধে চড়ে কাকতাড়ুয়া দেখতে যায় সেখানে। দেখতে যায় সবুজ ঘাস আর ঘাস ফড়িঙের নাচ। প্রজাপতিও চোখে পড়ে কোনো কোনো দিন। ফসলের মাঠে একদিন বিষাক্ত সাপ দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গিয়েছিলো ওর দাদু। আদ্রিতার তো এখনো ঘাবড়ে যাওয়ার বয়স হয় নি- ভীষণ আনন্দ পেয়েছিলো বিষাক্ত সেই সাপের ফোঁস-ফোঁসানির আওয়াজে। সাপটাকে ধরে বাসায় নিয়ে যাওয়ারও আবদার করেছিলো সে। ওটাকে নিয়ে নাকি খেলবে সে।
মাতৃস্নেহ পাবার যে অধিকার রাখে একটি শিশু সেটা পায় নি আদ্রিতা। সংসার চালাতে গিয়ে আফেলার দুচোখ কোঠরাগত। শরীর শুকিয়ে কাঠি হয়ে গেছে। দু'বেলা দু'মুঠো ভাত স্বামী, শ্বশুর আর আদ্রিতার মুখে তুলে দেয়ার মাঝেই শান্তি খোঁজে আফেলা। অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে ওর। এতো পরিশ্রমের শরীর কাঠামো নয়। কিš‘ সংসার নামের ব¯‘টাকে টিকিয়ে রাখতে হলে শরীরের দিকে বার বার তাকালে তো চলবে না।
রাতে হাতে একটা টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে বাসায় ফিরলো আফেলা। অসু¯’্য স্বামী তার ঘুমে বিভোর তখন। শ্বশুর তখনো ফিরেন নি এবাজার ওবাজারের খবর নিয়ে। একটা টিমটিমে আলোর হারিকেনের আলোয় রঙ্গীন ছবিওয়ালা বইয়ের পাতায় রাজহাস, শেয়াল আর পাখীর ছবি দেখছিলো সে। আফেলাকে দেখামাত্র তার চোখে আনন্দ-রেখা ফুটে উঠলো। কান্ত মায়ের মুখে নরম হাতের পরশ বুলিয়ে সে বলে, আম্মু, আম্মু সেই শালিকা পাখিটার খবর কি? ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়েছে?
আফেলার গার্মেন্টসের ছয়তলার কার্ণিশে বাসা বেঁধেছে এক জোড়া শালিক। এসব বিল্ডিঙে সাধারণত শালিকরা থাকে না। সেদিন আফেলা কাজের ফাঁকে দেখেছিলো শালিকের বাসা। বাসায় কয়েকটি সাদা ডিমও দেখেছিলো সে। আদ্রিতার কাছে এ গল্প করার পর প্রতিদিন রাতেই সে তার মায়ের কাছে জানতে চায়- শালিক পাখীর বাচ্চা জন্মালো কি না?
আফেলা কোনো কথা বলে না। শুধু তাকিয়ে থাকে তার নাড়ী-ছেঁড়া ছোট্ট মেয়েটার দিকে। কিছুণ পরে হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ফিরে ওর বৃদ্ধ শ্বশুর। আদ্রিতার বাবা শাবদুলকে যে কারখানা থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে সেখানে শ্রমিক কিক্ষোভ হবে আগামীকাল। বাবার মুখে এমন কথা শুনে বিছানা থেকে লাফিয়ে ওঠে শাবদুল। অসুস্থ শরীরে যেনো আগুন লেগে যায় নিমিষেই। মালিকের শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেই যেনো রাগে কেঁপে ওঠে ওর মরচে ধরা দেহ।
যে আদ্রিতার মুখে সব সময় কথার খৈ ফোটে বাবার অগ্নিমুর্তি দেখে সে 'থ' মেরে যায়। তার বাবার এমন চেহারা কখনো দেখে নি সে। সেই রাতে আর সে শালিক পাখীর কথা জানতে চায় নি তার মায়ের কাছে।
সকালে বৃদ্ধ দাদুর কোলে বসে গল্প করে আদ্রিতা। ইঁদুর আর বেড়াল তো চায়ের দাওয়াত খেতে আজো এলো না। কেনো এলো না এই প্রশ্নটাই বার বার করছে দাদুর কাছে। দাদু কোনো উত্তর না দিয়ে শুধুমাত্র হুঁ-হ্যাঁ করে যাচ্ছে। কপালে তার গভীর উদ্বেগের রেখা। সকালে ছেলে শাবদুল গেছে কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিতে আর আফেলা গেছে গার্মেন্টসের কাজে।
আন্দোলনে উত্তাল হয় কারখানা এলাকা। পুলিশের এলোপাথারি গুলি চলে মিছিলে। মারা যায় বেশকিছু শ্রমিক। বস্তির পাশের চায়ের দোকানের রেডিওতে শাবদুলের বাবা জানতে পারেন মিছিলে গুলি বর্ষণের খবর। তার বৃদ্ধ বুকে জেগে ওঠে কি যেনো অচেনা, অজানা অনাকাক্সিত ব্যথা। ঘরে বসে একা একা পুতুলের বিয়ে দিচ্ছে আদ্রিতা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে। ঘরে আসতেই আদ্রিতা ওর দাদুকে জিজ্ঞেস করে কেনো তার বাবা এখনো ফিরছে না। দাদু কিছু বলে না। বলবেই বা কি। জানেই তো কারখানায় কে মরলো আর কে বাঁচলো। কিছুণ পর বিষণ্ন মনে ঘরে ফিরে শাবদুল। গায়ে রক্তের দাগ। আদ্রিতার বৃদ্ধ দাদু যেনো তার ছেলের ফিরে আসাটাকে বিশ্বাসই করতে পারছে না। বুকে জড়িয়ে ধরে ভিজিয়ে দেয় অসুস্থ ছেলের বুক। ছেলেকে পেয়ে চাকরি থাকলো কি থাকলো না, এসব কিছুই জিজ্ঞেস করে নি বৃদ্ধ বাবা।
আদ্রিতা তার বাবার শার্টে হাত দিয়ে বলে, আব্বু তুমি এই লাল রঙ কোথায় পেলে। আমাকে একটু দাওনা। আমার পুতুলকে সাজিয়ে দেবো। আজ যে পুতুলের বিয়ে আব্বু।
শাবদুল মেয়েকে কোলে নিয়ে বলে, এগুলো রঙ নয় মা- রক্ত। মানুষের রক্ত।
এরইমাঝে উদ্ভ্রান্তের মতো কাঁদতে কাঁদতে ছুটে আসে আফেলা। গায়ে তার আগুন-পোড়া গন্ধ। গার্মেন্টসে অগ্নিকান্ডে সব পুড়ে ছাই। কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে এসেছে আফেলা। কারখানায় গোলাগুলি কিংবা মানুষ মরার খবর তখনো জানে না সে। স্বামীর গায়ের রক্ত দাগ দেখেও তার কিছু মনে হয় নি। নতুন কর্মসংস্থান কোথায় হবে? কিভাবে শ্বশুর-স্বামী আর আদরের আদ্রিতার মুখে খাবার তুলে দিতে পারবে; এই চিন্তাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর এই অশিক্ষিত নারীর মনে। গার্মেন্টসে আগুন লাগার কথা শুনে ছোট্ট আদ্রিতা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। আফেলার কাছে জানতে চায় গার্মেন্টসের ছয়তলার কার্ণিশে বাসা বাঁধা শালিকের খবর। জানতে চায় শালিকের বাসা, ডিমগুলোও পুড়ে গেছে না কি? শালিক জোড়া উড়ে যেতে পেরেছে নাকি মরে গেছে?

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28823473 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28823473 2008-07-23 21:25:17
মহাপ্রলয়ের প্রতীক্ষা আর ভেজা চোখের দু'ফোঁটা জল
মমি করে রেখে যাবো তোমাদের জন্য
মহাকালের জাদুঘরে
সেখানে আমিও থাকবো সহস্র বছরের
পূরনো মাকড়সার জালে পেঁচিয়ে মরা মাছি হয়ে
তোমরা যারা প্রেমিক হতে যাচ্ছো
একবার দেখা করে যেও মমিকৃত কঙ্কাল আর
চোখের জলের সাথে
কান পেতে শুনতে পারো ওদের
অসীম বেদনার আর্তনাদ

এরপর প্রেমিক হতে পারো
প্রিয়ার চোখে দেখতে পারো পৃথিবী
আবারো দেখা হবে আমাদের
সহস্র বছরের পূরনো সেই মাকড়সার জালে
মাছি হয়ে ঝুলবো আর প্রতীক্ষা করবো মহাপ্রলয়ের।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28821666 http://www.somewhereinblog.net/blog/sumonmcblog/28821666 2008-07-18 22:03:35