কন্যাকুমারির শেষ শিলাখন্ডের কথা অনেক ভেবেছি
আরশোলার লাল চাঁদোয়া-ঢাকা কোনো গ্রামে শুয়ে থেকে
এভাবে ভাবনাশূন্য হয়েছি। বোবা হয়ে গেছি
ভরা বর্ষার হাওড়ে
শেষরাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী মাস্তুলে আটকে-থাকা নক্ষত্রগুলোর মত
ভেবেছি নক্ষত্রের কথা
মুহূর্তের অগ্নিশিখায় ছাই হয়ে গেছে কত অজস্র উল্কা
এই ভূ-ত্বকে ফুটে থাকা সন্ধ্যামালতিগুলোর প্রশংসা না করেই
আপন আনন্দে ওরা দগ্ধ হয়ে গেছে
প্রতিটি সমাপ্তিরই বর্ণমালা ও নিজস্ব কোলাহল থাকে
মাস্তুল থেকে দড়িদড়া খুলে নেয়ার দিনগুলোতে আমার
যেরকম মনে হয়েছিল -- কোনোরকম দুঃখবোধ না করেই ভেবেছিলাম
মাঝিরা এবার থেকে ভাটিয়ালি বিক্রি করে কিনবে মবিল
আরো দশটি বন্দরের মাটি নখে নিয়ে যে স্টীমার সমুদ্রে যাবে
তার ঢেউ পৌঁছাল কামারের নিভন্ত চুল্লীতে -- ওয়েল্ডিং এর শিখা
জ্বলল যত্রতত্র -- অসংখ্য প্রপেলার আর অধীর হয়ে ওঠা
শিশুনোঙ্গরগুলো -- যেন বর্ষার বিস্তীর্ণ জলাভূমির নিঃসীমে কোথাও
কোনো শৈলতীর থেকে ওদের জন্য সিঁড়ি নামিয়ে রেখেছে কন্যাকুমারি!
১৯৯৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


