ঠিক নতুন বাজার পার হয়ে সিএনজি গড়বড় করে থেমে গেল। শীতকালে রাত আটটা মানে অনেক রাত। রাস্তাঘাট ফাঁকা। যে জায়গাটায় গাড়ি থামল সেখানটা আরো ফাঁকা। দুয়েকটা পরিত্যক্ত টিকিট কাউন্টার ফুটপাতে ফেলে রাখা। ঢোঁক গিললাম। তাইলে আমিও অবশেষে বমাল ধরা খাইলাম?
সিএনজি ওলা গভীর অভিনিবেশসহ গাড়ি স্টার্ট দেয়ার চেষ্টা করছে। তারপর উঠে এসে বলল, কার্বুরেটরে ময়লা জমছে মনে হয়। এইগুলাই বলে. পত্রিকায় পড়েছি, ভূক্তভোগী বন্ধুরাও বলেছে। বাইরে তাকালাম। দুজন লোক ধীরে সুস্থে এদিকেই হেঁটে আসছে। চিকন ঘাম দিচ্ছে শরীরে, টের পেলাম।
মানিব্যাগে টাকা বেশি নাই, কিন্তু একটা ডেবিট কার্ড আছে। ঐটাই নেট লস হবে। মোবাইলটা এমনিতেই বদলাবার অজুহাত খুঁজতেছিলাম। যাক, কষ্ট করে আর খুঁজতে হবে না। চকিতে চারদিক দেখে নিলাম। ফুটপাত ধরে দক্ষিণে প্রায় দু'শ গজ হাঁটার পর হাতের বাঁয়ে দোকান মিলবে একটা। এর মাঝে ইলেকট্রিকের খাম্বা আছে একটা, খেয়াল রাখতে হবে। ম্যাপিং করে নিচ্ছি, কারণ মলম-মাখা চোখ তো আর কিছুই খুঁজে পাবে না।
কিন্তু যদি চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয়? বা যদি রাস্তার মাঝের আইল্যান্ডে নামিয়ে দেয়? পকেটে টাকা বেশি নেই, কাজেই সম্ভাবনা তো আছে। আগেই বিহিত একটা করতে হবে।
আমার ইচ্ছা, তাকে বলবো যা আছে সব এমনিতেই দিয়ে দিতে এক পায়ে খাড়া আমি। ফুটপাতে নামিয়ে দিলেই হবে। এমন সামান্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য পুলিশ ডাকার মত খারাপ লোক আমি না। আর মলম না দিলে তো আরো ভাল। ইত্যাদি ইত্যাদি। বলার জন্য তৈরি হলাম।
গলা খাঁকারি দিলাম, ড্রাইভারকে ডেকে বললাম, ভাই আপনে কি অজ্ঞান পার্টির লোক?
ড্রাইভার শুনল বলে মনে হল না। আবার বললাম।
ড্রাইভার এবার আমার দিকে তাকাল। রাগত স্বরে বলল, তিনপুরুষ ধরে আওয়ামী লীগ করি। অজ্ঞান পার্টি করুম ক্যান? এই পার্টি ইলেকশনে খাড়াইছে নাকি?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



