আমার প্রিয় পোস্ট
- মিসেস মেহবুবা জুবায়ের, যাস্ট শাট আপ... - মুনশিয়ানা
- শোকের রাজনীতি পার্ট টু - কৌশিক
- সচলায়তনে কমিউনিটি ফ্যাসিজম : ব্লগারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ আছে - ফিউশন ফাইভ
- ভার্চুয়াল ও ননভার্চুয়াল ক্ষেত্র থেকে সামহোয়ারইনব্লগ কর্তৃপক্ষের ব্লগ রূপরেখা এবং এর ব্লগ, ব্লগার ও ক্রমঃবিবর্তিত পরিচালন পদ্ধতি - কৌশিক
- খিস্তি ঠাটে ত্রিতাল ভৈরবের জঙ্গনামা: সামহোয়ার নিয়ে আরো কিছু ভণিতা - রিফাত হাসান
- সামহোয়ারনামাঃ একটি ব্লগীয় ক্যাচাল সৃষ্টি এবং আধিপাত্য বিস্তারের হীন প্রকল্প - শিরোনাম
- সুমন রহমান এর 'সামহোয়্যারনামা ৪' এর প্রেক্ষিতে কিছু কথা (ত্রিভুজ) - ত্রিভুজ
- কাস্পারস্কাই ইন্টারনেট সিকিউরিটি-২০০৯ এর ভ্যালিড কি- 7/11/09 পর্যন্ত!!! - স্বাধীন_০৮
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি (পশ্চিমা) জ্ঞানের (বাংলা) বিতরণ কেন্দ্র ?সুমন রহমানের লেখার প্রতিক্রিয়া - আহসান হাবিব শিমুল
- শেষ লেখা: হাঃ হাঃ, ডিয়ার কর্তৃ, গরুর জন্য ঘাস। - ব্রাত্য রাইসু
- লোকালটক, আনাল হক ও মনসুর হাল্লাজ - অমি রহমান পিয়াল
- ছোটগল্পঃ আমাদের এক বন্ধু পাহাড় বিক্রি করতো - মোস্তাফিজ রিপন
- লিজাইলাম - কৌশিক
- লেখকের মৃত্যু, পুরান মালের আড়ত আর জলেস্থলেঅন্তরীক্ষে একই কুমীরশিশুর প্রদর্শনী - আসিফ রহমান
- গল্পঃ জলের রঙে জলছবি - মোস্তাফিজ রিপন
- আমি যেদিন নিজের হাতে খুন হয়েছিলাম - আকাশচুরি
- তারার ফুল (কল্পগল্প) - (অ)গাণিতিক
- গানের প্রতিযোগিতা তিন চাকা ও কিছু ফাও গল্প - শওকত হোসেন মাসুম
- ছেলেকে না-বলা রূপকথা - সুমন রহমান
- ভাস্কর্য বিতর্ক: আরো কিছু নোট - রিফাত হাসান
- গরিবি অমরতা - সুমন রহমান
- কমিউনিষ্ট চীনের পুঁজিতন্ত্র ও মেলামাইন - পি মুন্সী
- কার্ল মার্কস ও তথাকথিত প্রকৃতি বিজ্ঞান (Natural Science) - পি মুন্সী
- মৃত্যুর মন্থর রিহার্সেল - বৃশ্চিক
মনোগ্যামির ভুত
২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:২৯
ভদ্রলোকেরা শুনলে আশ্চর্য হৈবেন, মাত্র পনের বছর বয়সে আমার ‘অভিষেক’ হয়। সেইটা কবুল করে আমারই দুই বান্ধবী, পিঠাপিঠি দুই বোন সুলেখা আর জুলেখা। ওরা আমার সাথে একই কাশে পড়ত, নিজেদের কমনরুমের দরজায় দাঁড়ায়া দাঁড়ায়া আমারে বর্ম বানায়া আগ্রাসী পোলাপানের সাথে লাগাতার টাংকি চালাইত, আর একান্তে আমারে ‘আব্বা’ কৈয়া ডাকত। আমি দুইজনারেই সমান স্নেহ করতাম, হস্তমৈথুনকালে এদের নিয়া ভাবনার পালাক্রম কোনোদিনও ভাঙতাম না। তবে মনে মনে আমারও ছিল মনোগ্যামাস হৈবার ঝোঁক। কিন্তু কী এক অদ্ভুত নৈতিকতার কারণে ততটুকু ভাববার সাহস হৈত না। তাই আমি ভাবতাম একটা মিরাকলের কথা, একটা দমকা ঝড়, যেটা এই দায়িত্ববোধ ও যৌনমমতার ত্রিভুজ ভাইঙ্গা আমারে হয় সুলেখা না হয় জুলেখা’র সাথে একটি সার্বজনীন পরিবারপ্রথার প্রশ্রয়ে সেফটিপিন দিয়া আটকায়া দেবে। এসব-ই ভাবতাম আমি ঘাড় নোয়াইয়া, কলেজ থিকা বাড়ি ফিরবার সারাটা হাঁটা-পথে।
সুলেখা আর জুলেখা বছরের পর বছর হারমোনিয়াম বাজায়া স্টেজে গান গাইত ; ঠাকুরের ‘শ্যামা’ নাইচা প্রাইজ পাইত ; কাশে পালাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় হৈত ; সিগারেট, ব্রা-প্যান্টি ও প্যাড শেয়ার করত ; একে অপরের প্রক্সি হৈয়া লম্বা লম্বা সব প্রেমপত্র রিসিভ করত। আমি তাদের জীবনে আসলাম দারুণ এক ক্যামোফ্লাজের সম্ভাবনা লৈয়া। আমি যেন সুলেখাদের পানের বরজে একটা সবুজ ঢোঁড়াসাপ, যেন জুলেখাদের খড়ের গাদার মধ্যে একটা সোনালি সূঁই, যেন-বা কলেজের মহিলা হোস্টেলের ডাইলের মধ্যে শুকনা মরিচের বেশে মরা-আরশোলা, অথবা সুলেখাদের মামা আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের পাবলিক রিলেশন্স অফিসারের মত কর্পোরেট নিঃস্পৃহা!
একটা দুর্দান্ত গরিবি ছিল আমার চেহারার প্লাসপয়েন্ট। বিরল কিছু ভাঁজ ছিল মুখমন্ডলে, ক্রমাগত অপ্রস্তুত থাইকা থাইকা সেইগুলা অর্জন করেছিলাম আমি। তাতে আমারে নিশ্চয়ই খচ্চরের মত সম্ভাবনাহীন দেখাইত! নইলে, মধ্যদুপুরে আমিসমেত সুলেখাদের শোবার ঘরের দরজা বন্ধ হৈয়া গেলেও সুলেখাদের মা’র ভাতঘুমে তিলমাত্র ব্যাঘাত হৈবে না কেন? বরং সেফসাইডে থাইকা অনেকখানি ‘লিবারাল’ প্রতিবেশ মেয়েদের জন্য নিশ্চিত করার শান্তিতেই যেন তিনি সারা বিকাল নাক-ডাকা ঘুম ঘুমাইতেন। জানতাম, আমার গরিবি-ই আমার শক্তি; যে কারণে ছেলে-সহপাঠীরা আমায় ‘কোদাইল্যা দাঁত’ বৈলা ডাকত, ঠিক সেইখানেই আমার সম্ভাবনা। আপাতত আমার রিপ্লেসমেন্ট নাই। অংশত এ কারণে, আর অংশত হয়ত ‘হাবা’ শব্দের প্রণোদনা থিকা আমারে ওরা ‘আব্বা’ ডাকত। আর পুরুষের পলিগ্যামির উত্তেজনায় দুই বোনের সৌহার্দ্য আরো ঘন হৈয়া উঠত।
এভাবেও চলতে পারত অনেকদিন। এইরকম লম্বা একটা ইনট্রো’র মধ্যে এই গল্পটা চিরকালের জন্য আটকায়া থাকতেও পারত।
কিন্তু থাকল না। একদিন আমি মোঃ জালালউদ্দিন, পিতামৃত দবিরউদ্দিন, সাকিন ঘোড়াকান্দা, ভৈরববাজার তিন ভাইবোনের বয়োজ্যেষ্ঠতাসহ সুলেখা বা জুলেখার সামনে নিজেই আস্ত একটা মনোগ্যামি হৈয়া গেলাম। বলাবাহুল্য, সেই বদ্ধ পুকুরে ঝাঁপ দিবার প্রস্তুতি সুলেখা বা জুলেখা কারোরই ছিল না। প্রথম প্রথম ওরা খেয়ালই করল না যে, আমার হাঁটু কাঁপতেছে, কম-কম যাইতেছি তাদের বাড়িতে, গেলেও ঘন-ঘন বারান্দায় যাইতেছি, সিগারেটে বেমক্কা টান দিয়া নাকেমুখে কাশতেছি। ওরা জানলই না যে, আমার হস্তমৈথুন ব্যাহত হৈতেছে, আয়নামোড়া হেয়ারকাটিং সেলুনঘরে গেলে আমার লজ্জা-লজ্জা লাগে, আর আমার ছোট বোন ডলি’র সখের ফেয়ার এন্ড লাভলী’র কৌটা নির্ধারিত সময়ের আগেই খালি হৈয়া যাইতেছে !
বুঝল খালি একজন, আমার মা।
: কি রে, সন্ধ্যাবেলা কী ধুইতেছস ?
: শার্ট, মা।
: কালকা ও তো ধূইছিলি ? ডেলি ডেলি শার্ট ধোয়া ক্যান?
: কেরাসিনের গন্ধ করে, মা।
পিঠাপিঠি ছোট ভাই আলাল বাজারে কেরোসিন বেচে। দুই ভাই এক চৌকিতে ঘুমাই।
: কেরাসিন বেচয়ার গতরে কি আতরের গন্ধ করব নাকি, হারামির পোলা ?
আমি কথা কই না। কাপড়ে সাবান ঘষতে থাকি।
: কিছু একটা হৈছে তোর। চামড়া য্যান ফর্সা ফর্সা লাগে!
: কী যে কও মা ?
আমার সারাশরীর কাঁপতে আরম্ভ করে। মনে হয়, যে চিঠি আমি এখনও লেখি নাই, বা যে চিঠির চেহারা কেমন হবে এখনও ভাইবা শেষ করতে পারি নাই, মা যেন সেই চিঠি পড়ার চেষ্টা করতেছে। মা যেন সেই অস্ফূট চিঠির সামনে আমারে হ্যান্ডকাফ পরায়া দাঁড় করায়া দিতেছে। এরপর থিকা কী এক শংকায় মা অপ্রতিরোধ্য হৈয়া উঠে, পুলিশের মত হানা দিতে আরম্ভ করে আমার একা-একা-থাকা ভাবনার মুহূর্তগুলার মধ্যে।
: কী করস ?
: কিছু না, মা।
: তয় বই খুইলা উপরের দিকে চাইয়া রইছস ক্যান ?
: ঘাড় ব্যথা করতেছে।
আমার মা, চিরকাল ঘাম-না-শুকানো মা, পেঁয়াজের গন্ধ-ভরা মা আইসা পাশে দাঁড়ায়। ঘাড়ে হাত রাখে। কী যেন শোঁকে। হাত সরায়া দেই।
: ঘাড় ভাইঙ্গা ফালামু হারামির পোলা। মিছা কথা কৈছস। হৈছে কি তর? কি হৈছে, কস না বা’জান?
বাড়ি থিকা বাইর হৈয়া নদীপারের বোল্ডারের ওপর বৈসা থাকি। বোল্ডারের ফাঁকফোকড় দিয়া সুড়ুৎসুড়ুৎ কৈরা চিকন সাপ পালায়। এইসমস্ত সাপের হাবভাব রূপকথার সুতাশঙ্খের মত হৈলেও বিষ নাই একফোঁটাও। বোল্ডারের চিপার মধ্যে ঘর বানায়া থাকে, বাইর হৈলে কাউয়াকুলি ঠোকরায়, বদমাইশ পোলাপানে লেজে ধৈরা চরকিঘুরান দিয়া নদীতে ছুঁইড়া মারে। তবু তারাও সাপ। নদীপারে থাকে। আর নদীটারে দেখতেও কত শান্তসুবোধ লাগে, যেন তার কোনোই জিজ্ঞাসা নাই। যেন তার মাংস খাওয়ার দাঁত কবেই সে সাগরে ভাসায়া দিছে! কিন্তু তারও যে অলিতে গলিতে কত মেশামেশি! কত কত প্রকাশ্য ও গুপ্ত প্রণয়!
এইরকম একটা নদীর সামনে নিজেরে কিন্তু খুব যে হিপোক্র্যাট লাগে, এমন না। কিন্তু সারাণ একটাই ভাবনা আমার: কার সাথে প্রকাশ্য হৈতে চাই আমি? সুলেখা না জুলেখা? সুলেখা আমারে ঠোঁটে চুমু খাইতে দেয় না ঠিক, কিন্তু যখন আশ্লেষে জড়ায়া ধরে তখন পূর্বাপর ভুইলা যাই। আবার জুলেখা যদিও বক্ষবন্ধনী না খুইলাই বক্ষবন্দিত হৈতে আদেশ করে -- কিন্তু রাস্তা যখন নিঝুম হৈয়া যায়, তখন বিকাল সাড়ে-তিনটার বারান্দায় অপেক্ষমান জুলেখার কি কোনো তুলনা হৈতে পারে এই জগতে? মনের মধ্যে কে বেশি প্রকাশ্য হৈয়া উঠতেছে? সুলেখা, নাকি জুলেখা?
: ক'স না বা’জান, কী হৈছে তর ? ডাক্তার দেখামু ?
মা’র অপ্রতিরোধ্য উদ্বেগ। মটকা মাইরা থাকি, যেন ঘুমায়া গেছি। পাশে আলাল আইসা শোয়। শুইয়াই ঘুমায়া পড়ে। ঘুমের মধ্যে হাবিজাবি নানাকিছু কয়। ওর গা থিকা বাইর হওয়া কেরোসিনের গন্ধে আমার পেট ফুইলা ঢোল হৈয়া ওঠে। দূরে পাহারাদার হাঁকডাক দেয়। রেলস্টেশনের লোহার পাতে ঢং ঢং ঘণ্টি বাজাইতে বাজাইতে রাত ফুরায়। গলির মোড়ের কাছে দুয়েকটা কুকুর বিরতি দিয়া-দিয়া সারারাতই ঘেউ ঘেউ করে। আর ভ্রাম্যমাণ পতিতার সাথে খদ্দেরের ফিসফিস সমঝোতার আলাপ আমাদের বেড়ার ঘরের পাশ দিয়া কাছেই কোথাও থিতু হৈয়া যায়।
চোখ লাল নিয়া কাশে যাই। পরপর তিনটা ক্লাশটেস্টে ফেল করি। ফিজিক্সের ম্যাডাম এই সুযোগে আমার গরিবিরে খোঁচা দিয়া নানান কটু কথা বলেন। আমার কোদাইল্যা দাঁত নিয়া বলেন, এমনকি কেরোসিনের ব্যবসা নিয়া পর্যন্ত। সুলেখা ও জুলেখা যথারীতি উজ্জ্বল। যথারীতি ফার্স্ট ও সেকেন্ড। মৌমাছির মত একে অপরের পরীক্ষার খাতার মধু খায়। দেইখা আমার কী যে তৃপ্তি হয়, ম্যাডামের কথা আরেক কান দিয়া বাইর হৈয়া যায়। কিন্তু কমনরুমের দরজায় আর দাঁড়াই না। টিফিন পিরিয়ডে নদীপারে বৈসা থাকি। দেখি, নদীর অলিতে গলিতে কত মেশামেশি! কত কত প্রকাশ্য ও গুপ্ত প্রণয়!
নদীপারে বৈসা থাকতে থাকতে সন্ধ্যা হৈয়া যায় কোনো-কোনো দিন। ঘাটে নোঙর-করা কার্গোলঞ্চগুলার আনলোড চলতেই থাকে। এর মধ্যেই মাস্টার-ব্রিজের ছাদে উইঠা সারেং মাগরিবের নামাজ পড়ে। কার্গোর পিছনের ঝুলন্ত টয়লেট থিকা পানির মধ্যে ঝুপ ঝুপ কৈরা গু পড়ে, নাতিদীর্ঘ একটা আলোড়ন হয় নিচে প্রায়ান্ধকারে, সান্ধ্যকালীন মৎস্যসমাজে। তারপর আস্তে আস্তে নদী আবার নিস্তরঙ্গ হৈয়া যায়। বুঝি, আজ এইটুকই তার প্রকাশনা। জগত প্রকাশ্য হৈবার গতি এত ধীর -- দেইখা বিস্ময় লাগে! গর্ভিনীর মত স্নেহে আর যত্নে ঐ বিস্ময়টারে বাড়ি নিয়া যাই আমি। সেদিন রাতে ভাল ঘুম হয়, স্বপ্ন দেখি আমার নিজের একটা ড্রয়ার হৈছে -- তালা দেয়া যায়। খালি ড্রয়ারে তালা লাগায়া রাস্তাঘাটে আতিপাঁতি কৈরা গোপন জিনিস খুঁজতেছি। ড্রয়ারে রাখার জন্য। কিন্তু কোথাও কোনো গোপন জিনিস পাওয়া যাইতেছে না। শেষে মিউনিসিপ্যালিটির ড্রেনের ধারে বৈসা পেশাব করতেছি আর হু হু কৈরা কাঁদতেছি। নিজের জন্য গোপন একটা জিনিস খুঁইজা না-পাওয়ার শোকে।
: কী হৈছে তোমার?
সুলেখা ও জুলেখা একদিন জিগায়। এম্নিতেই। রুটিন জিজ্ঞাসা।
: ক্যান? কী হৈব?
আমার রুটিন উত্তর।
: কম কম আসো ক্যান?
: আসি তো!
: উহু...কিছু একটা হৈছে।
: না না।
: আমার বুকে হাত রাইখা কও।
: না।
: ক্যান?
সুলেখা চমকায়। চমকায় জুলেখা। শোয়া থিকা উইঠা বসে সে।
: ক্যান? না করলা ক্যান?
: ভাল্লাগে না।
: ভাল্লাগে না! ওরে? নাকি আমারে?
আমি নিরুত্তর।
: কারে ভাল্লাগে না? কও?
আমি অধোমুখ।
অপমানে হাউমাউ কৈরা কাঁদে সুলেখা, জুলেখার কাঁধে মাথা রাইখা। জুলেখাও কাঁদে, তার মাথা রাখার জন্য আমি আমার নিজের কাঁধ বাড়ায়া দেই। কিন্তু সে মাথা সরায়া নেয়, দেখি চোখ দিয়া আগুন ঠিকরাইতেছে। যেন সে জুলেখা নয় -- যেন জোহরা, আর আমিই সেই ইব্রাহিম কার্দি, তার পিতার বুকে ছুরি বসায়া দিছি! জুলেখা তার বোনেরে পরম মমতায় আগলায়া রাখে, তারপর দ্বিতীয় দফায় জড়াজড়ি কৈরা দুইবোনে অনেকক্ষণ কাঁদে। এই রক্তাক্ত প্রান্তরে যথার্থ ট্র্যাজিক নায়কের মতই আমি মাথা নিচু কৈরা থাকি, মনে মনে খুব ভারমুক্ত লাগে। সেই শয়তানটা আজ গর্ত থিকা বাইর হৈতেছে তাইলে? কল্পনায় আমার স্বপ্নের ড্রয়ারটার হ্যান্ডেলে হাত বুলাই।
: শোনো, তুমি আমাদের বাসায় আর কোনোদিন আসবা না। কোনোদিন না। আর কাউরে যদি কিছু কও, তাইলে ধৈরা আইন্যা কাইট্যা ফালাইব বাবায়। আমার বাপে কিন্তু খুব খারাপ মানুষ!
একরকম কোরাসেই বলে তারা। নাক কোঁচকায়া রাখে, বুঝিবা আমার গা থিকা এই প্রথম কেরোসিনের গন্ধ পাইল। আস্তে কৈরা বাইর হৈয়া যাই। খুব ফূর্তি লাগে আমার তখন, রাস্তায় রাস্তায় হাঁটি আর হাঁটি। খুব হালকা লাগে। জগতের সবচেয়ে সুখী মানুষের মত বাকিতে একটা ফেয়ার এন্ড লাভলী ক্রিম কিনি -- বোনের জন্য। আর বাড়িতে ঢুকবার পথে ঠিক বুঝতে পারি, আমাকে আরো যাইতে হৈবে ঐ বাড়িতে। আরো আরো অনেকবার।
আমি যাইতেই থাকি। প্রতিদিন একবার কৈরা।
ওরা আমার সাথে ওদের সাক্ষাৎ ড্রয়িং রুমে শিফ্ট করল। তবু আমি যাইতেই থাকি। এক গ্লাস শরবত দিয়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসায়া রাখল একা একা। তবু আমি যাইতেই থাকি। ভিতরে থাইকাই কাজের মেয়েলোক দিয়া ‘বাসায় নাই’ বৈলা দিল পত্রপাঠ বিদায় দিল অনেকবার। তবু আমি যাইতেই থাকি। গিয়া, প্রবেশাধিকার পাইলে, চুপচাপ বৈসা থাকি। ওরা আমায় কিছুই জিজ্ঞেস করে না। আমিও বলি না কিছু। কিন্তু আমি যাইতেই থাকি। কে জানে, আমারে দেখলেই হয়ত বোঝে ওরা। ভুতে পাইছে আমারে। মনোগ্যামির ভুত।
একদিন সুলেখা-জুলেখাদের পাড়ার রোমিওরা আমার পথ আগলায়া দাঁড়াইল। খুচরা চড়চাপড় দিল, শার্টের কলার ধৈরা ঝাঁকাইল, ঘাড়ে চুন লাগায়া দিল।
: কী মামু, আপনেরও খাড়ায় নাকি?
: খুব রাস্তা চিন্যা ফালাইছস, হওরের পোলা!
: ধর। বিচি কাইট্টা খাসি কৈরা দে হালারে।
: ঐ ... কেরাসিনের লিটার কত রে!
আমি তাদের দিকে শূন্যদৃষ্টিতে তাকায়া থাকি। কথা ফুরাইলে পিছন দিক ফিরা হাঁটা দেই। পিছন পিছন ধাওয়া করে সমবেত হাসির হুল্লোড়। ঐ হুল্লোড়ের মাঝ থিকা আমি সুলেখার আর জুলেখার হাসি ঠিক ঠিক চিনতে পারি। কিন্তু চমকাই না, ঘাড়ও ফিরাই না। এই প্রকাশ্য মহড়ায় আমার এখন কী যায় আসে? আমার তো জানতে হবে কে প্রকাশ্য হৈতেছে আমার ভিতরে। খালি ড্রয়ারটা যে তালাবদ্ধ হৈয়া হা হা করতেছে!
বাড়িতে ফিরার পথে আলাল আমারে থামায়।
: ভাইজান, কৈ থিকা আসছ? জুতা কৈ তোমার? শার্ট ছিঁড়লা কেম্নে?
আমি কিছু কওনের আগেই মা আইসা আমারে বেড় দিয়া ধৈরা আগলায়া ফেলে। মা’র হাতের ফাঁকফোকড় দিয়া আলালের তেড়ে-তেড়ে আসা নিস্ফল আগ্রাসন দেখি:
: ছাড় মা... ছাইড়া দেও! পুঙ্গির পুতের পাগলামি আজগা ছুটামু। নিজের রক্ত পানি কৈরা লেখাপড়া করাইতেছি বড়লোকের মাইরধর খাওনের লাইগা? ঐ...তুই না বড়ভাই! শরম করে না তর? তর কারণে মাইনষে যে আমারে মারল, আমার দোকান উঠায়া দিল!
আমি বিড়বিড় কৈরা কী যেন বলি। মা মাতম শুরু করে বুক চাপড়ায়া। আমার মাথার চুলে পুরা দুইকোশ হিমসাগর তেল দিয়া চুবা-চুবা কৈরা দেয় ডলি। মা’র মাতম চলতেই থাকে।
: কেডা আমার এই সর্বনাশটা করল? কোন্ পেট-লাগানি আমার বাপ-মরা সিধা পোলাটার মাথা খাইল গো! কেডা রে , বাপ?
সেইটাই তো আমি জানতে চাইতেছি, মা!
সেপ্টেম্বর ২০০৫
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:৩৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাঙা মীয়া বলেছেন:
যৌবনজ্বালায় গিয়া চটি বিভাগে পোস্ট করেন। অসুবিধা হইলে সা.ইনে তাদের এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ করলেও হবে।
রাজীব আহমেদ বলেছেন:
ভাল লাগলো... অনেকদিন পর ভাল লেখা পড়লাম....
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব আহমেদ।
ফিউশন ফাইভ বলেছেন:
রাঙা মীয়া @ আপনার মন্তব্যটি আপত্তিকর। সুমন রহমানের লেখার সঙ্গে আপনার পরিচয় নেই বলে এভাবে বলতে পেরেছেন। মন্তব্যটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।
লেখক বলেছেন: আমি সিরিয়াসলিই ভেবেছিলাম। প্লেবয়-তে অনেক উচ্চমানের সাহিত্য পড়েছি একদা। এই গল্পটাই আমার একমাত্র লেখা, যা কি না জনৈক সাহিত্য সম্পাদক "অশ্লীল" বিবেচনায় ছাপতে চাননি। রাঙা মীয়ার আর কি দোষ!
অচেনা সৈকত বলেছেন:
ভাল লাগল। সত্যিকারের ভাল লেখা।
লেখক বলেছেন: শুকরিয়া।
রাঙা মীয়া বলেছেন:
@ফিউশন ফাইভ ---ধন্যবাদ আপনাকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের জন্য। মন্তব্যের পর আমিও কিছুটা দ্বিধাদন্দে ভুগছিলাম এবং বারবার পোস্টে আসছিলাম। মন্তব্য করার আগে পোস্টের অংশবিশেষ পড়ে এ ধরনের ভুল হয়ে গেছে।আসলে ব্লগের কিছু পোস্টও এর জন্য অনেকাংশেই দায়ী। যেমন-গতকাল রাতের নগ্ন ছবিযুক্ত পোস্ট ও কিছুক্ষন আগের আলমগীর মোল্লার পোস্ট।
পরিশেষে আমার প্রথম মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিলাম।
লেখক বলেছেন: হা হা হা... ভুলে হয়ে গেছে বললেন? আমি তো আপনার কথামত যৌবনজ্বালার চটিবিভাগের খোঁজে গুগলসার্চ দিতে শুরু করেছিলাম!
...অসমাপ্ত বলেছেন:
এই লেখাটায় কমেন্ট করার জন্য লগিন করলাম। ....খুব শক্তিশালী লেখনির লেখাটা ...চমৎকার লাগল।
...জীবণের সত্যিগল্পটা খুব সুন্দর করে লিখেছেন। ...অবশ্যই প্রিয়তে।
লেখক বলেছেন: চমৎকার লেগেছে জেনে চমৎকৃত হলাম।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ কাক ভুষুন্ডি।
লেখক বলেছেন:
সত্যি?
ওয়ার হিরো বলেছেন:
চমৎকার লেখা। জয় গুরু। ডাইরেক শোকেসে লইয়া গেলাম। আরো অনেকবার পরমু, বারবার পড়মু।
লেখক বলেছেন: আপনারও জয় হোক গুরু!
জটিল বলেছেন:
সুন্দর গল্প ভাললাগল
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
ভোরের তারা বলেছেন:
জটিল!!লেখার হাত অতি উচ্চ মানের। কিন্তু নায়ক এমন আত্মঘাতি কেন বুঝলাম না। আপনার মত করে যদি লিখতে পারতাম।
লেখক বলেছেন: আত্মঘাতি?
আমার মত কেন? আপনার মতই লিখুন আর তাতেই আমি জনমভর ঈর্ষা করবো আপনাকে ![]()
রাঙা মীয়া বলেছেন:
@কাক ভুষুন্ডি----ধন্যবাদ। আমিতো ভাই সমালোচনা ও ভুলের উর্ধে নই। অবশ্যই সমালোচনা করবেন। আপনাকে ধন্যবাদ।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
অসাধারণ !
@রাঙামিয়া,
পুরো গল্প না পড়ে হুটহাট মন্তব্য করে ফেলাতো বোকামী, না ?
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শিপন।
লেখক বলেছেন: ![]()
কাক ভুষুন্ডি বলেছেন:
ওক্কে নো হার্ড ফিলিংস। আপ্নার ১নং কমেন্ট দেখে আমি ঐ কথাটা বল্ছিলাম।@রাঙা মীয়া
নষ্ট মাথার দুষ্ট বালিকা... বলেছেন:
অদ্ভুত লেখনী...কয়েক জায়গায় আটকেছি...বার বার পড়লাম কিছু অংশ...আপনার থেকে আরো এরকম ভাল লেখা চাই...
লেখক বলেছেন: আটকালেন কেন?
ভালো থাকুন।
মনির হাসান বলেছেন:
এই বিস্ময়টারে বাড়ি নিয়া যাইতেছি আমি ... তালামাইরা শোকেসে রাখমু ...ল্যাখোক ভাই ... ক্ষুধার্ত পোলাপাইন আমি খুব ভালা পাই । ঘোষনা দিয়া ... হাংরী জেন" শেষ হওয়ার কথা ছিল মাগার ... কি তেলেস্মাতি ... ক্ষিদা আর'ও বাইড়া গ্যালো পুলাপাইনের ...
ভালা থাইকেন .... ক্ষুধার্ত থাইকেন ..
ক্ষুধার্তের জয় হোক ...
লেখক বলেছেন: হা হা হা.... পোষ মানাইয়া ফালান, তাইলে আর তালা মারা লাগব না!
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ মাহবুব লীলেন।
ওয়ার হিরো বলেছেন:
ব্যাপক লেখা , ব্যাপক
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
মন্দ না - অনেকটা নায়ট অন আর্তের ( NIGHT ON EARTH ) রোম পর্বের মতো।
লেখক বলেছেন: আচ্ছা!
মুনশিয়ানা বলেছেন:
মুগ্ধ হয়ে পড়লাম, এক নিঃশ্বাসে। অসাধারন লিখেছেন।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুনশিয়ানা।
প্রজ্ঞা তাসনুভা রূবাইয়াৎ বলেছেন:
ভালো লাগলো........................
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: মেলায় হয়ত আসবে, জানি না।
নুশেরা বলেছেন:
অসাধারণ! টানটান গতিময়তা, বর্ণনার ধার, বিশ্লেষণের সূক্ষতা সবকিছু নিয়ে দুর্দান্ত একটা গল্প।
লেখক বলেছেন: শুকরিয়া জানাই।
লেখক বলেছেন: চেষ্টা করছি, টাকা প্রয়োজন, সাহিত্য কি দেবে?
মাহবুব সুমন বলেছেন:
ব্লগে আপনে আমার অন্যতম প্রিয় লেখক। তবে একটা অভিযোগ হইলো, আপনে বস নতুন আনকোরা গল্প ব্লগে দেন না
গল্প ভালো লাগলো। অন্যরকম। মনে হচ্ছিলো সে গল্পের নায়ক মনে হয় আমিই।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাহবুব সুমন। নতুন আনকোরা গল্প লেখা হচ্ছে না, তাই পুরনো গল্প নিয়ে নাড়াচাড়া। এভাবে নাড়াচাড়া করে-করে নতুন লেখার জন্য নিজেকে তাগাদা দেয়া আরকি।
ভালো থাকুন মনোগ্যামির ভুত!
লেখক বলেছেন: শীর্ষেন্দু?
ধন্যবাদ আপনাকে।
পিন্টু-সুমন বলেছেন:
মুগ্ধ হলেম। পিন্টু-সুমনের পক্ষা থেকে শুভেচ্চা নিন
লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা আপনাকেও।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
পনেরোয় পলিগ্যামির মতো সাংঘাতিক অভিজ্ঞতা, গরিবির নিদারুণ ভবিতব্য এত সহজ করে বলতে পারা শক্তিমান কথকের পক্ষেই সম্ভব। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল এবসার্ড ব্যাপার-স্যাপার। পরে মনে হলো যার জীবনে এইসব অভিজ্ঞতা অবলীলায় এসেছে তার জন্য খুবই রিয়ালিস্ট। অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে, ফাহমিদুল।
অফ টপিক: বই পড়ছি একটা। Lotte Hoek এর লেখা Cut Pieces: Obscenity and the Cinema in Bangladesh. ইনি একটা কাটপিস-সম্বলিত ঢাকাই ছবির ওপর এথনোগ্রাফি ধরনে গবেষণা করেছেন। আপনার হয়ত জানা থাকতে পারে।
কৌশিক বলেছেন:
নিশ্বাস ফেলতে পারলাম না একবারও পড়তে গিয়ে। দূর্দান্ত, নাজিল হওয়া মনে হইলো। লিজাইলাম এর লিংক দিলাম Click This Link
লেখক বলেছেন: মন্তব্য ও লিংক দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ কৌশিক।
এম্নিতেই বলেছেন:
চমৎকার!!
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ মনে পড়ছে... তবে সেখানে সম্ভবত আপনার অন্য নিক ছিল ![]()
অনেক ধন্যবাদ অচেনা বাঙালি।
নুরুজ্জামান মানিক বলেছেন:
অসাধারণ, দুর্ধর্ষ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নুরুজ্জামান মানিক।
লেখক বলেছেন: আপনিও।
ফাহমিদুল হক বলেছেন:
লোটে হুকের সঙ্গে ঢাকায় পরিচয় হয়েছিল, আমাদের আয়োজিত সেমিনারে বক্তাও ছিলেন তিনি। সম্ভবত ২০০৫ সালে। বই বেরিয়ে গেছে জানতাম না। ওখানকার লাইব্রেরিতে পেয়েছেন, নাকি?
লেখক বলেছেন: লাইব্রেরিতে না। বইটা আসলে মনোগ্রাফ আকারে বেরিয়েছে লোটে-র ইউনিভার্সিটি থেকে। কথাশিল্পী শাহাদুজ্জামান এক কপি এনেছেন, তাই পড়ার জন্য পেলাম। উল্টেপাল্টে দেখছি, বেশ ইম্প্রেসিভ লাগছে।
রাজর্ষী বলেছেন:
অসম্ভব ভালো লাগলো। প্রিয় পোস্টে চলে গেলো।
লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন:
ভাল হইসে। অদ্ভূত সুন্দর। ঝরঝরে।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: লেখা হোক, দেবো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আন্দালীব।
পিন্টু-সুমন বলেছেন:
অনেকদিন দেখি না।আপ্নি কি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচিত্রে আগ্রহী? আমাদের বানানো কিছু আলোচিত হয়েছে
লেখক বলেছেন: কাকে বলছেন, বুঝলাম না।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
ঝাক্কাস। একদাম ঝাক্কাস।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শরৎ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ চীংখৈ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও লাপাডাস শুভেচ্ছা!
লেখক বলেছেন: আমার ফাইলিং সিস্টেমের হাল দেখুন ![]()
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
ভালো লাগল। প্রিয়তে। ++++শুভকামনা।
বস
আমার ব্লগ টা একবার ঘুইরা যাইয়েন প্লিজ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শিমুল সালাহউদ্দিন। যাবো আপনার বাড়ি।
শিমুল সালাহ্উদ্দিন বলেছেন:
প্রিত হবো খুব। আমার কবিতারা আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় নির্ঘুম টানা টান চোখে জেগে বসে আছে। শুভকামনা।
আতিক একটেল বলেছেন:
আপনাকে দেখি অনেকেই চেনে আমি ছাড়া শুধু। আপনার এই লেখা বিশ্বমানের হয়ে গেল যে! যেভাবে খেললেন ভাষা আর উপমা নিয়ে সেটা পড়ে অভিভুত আমি। মনোদৈহিক ব্যাপার যে এত বাস্তবভাবে বর্ণনা করা যায় আমার কাছে অজানা ছিল। এতদিন এই ব্যাপারগুলো অব্যক্তই ভাবতাম।
এস এম শাহাদাত হোসেন বলেছেন:
অসাধারণ !!
শুভাশীষ দাশ ববি বলেছেন:
ভালো লাগলো পড়ে।
বাকী বিল্লাহ বলেছেন:
ভাষা নেই! ভালো নাড়া খাইছি।
কাকপাখি ২ বলেছেন:
কিছু জিনিস আছে অনেক দামি, কমবখতরা দামি জিনিসের দাম দিতে জানে। কিছু জিনিস আছে অমূল্য, কমবখতরা অমূল্য জিনিসের দাম দিতে জানে না। কমবখতদের হিসাব নিকাশ সব টাকার অংকে হয়।
কাকপাখি ২ বলেছেন:
+++++++++++++
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















